ভারত আন্তঃনগর যোগাযোগ উন্নত করতে ৭টি হাই-স্পিড রেল করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো শহরের যানজট কমানো, পরিবেশবান্ধব পরিবহন গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। নতুন এই রেল নেটওয়ার্ক বড় শহর ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে দ্রুতগতির ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত করবে, ফলে ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করিডরগুলো চালু হলে শহর ও গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। ছোট শহরগুলো বড় শহরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ হবে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎচালিত দ্রুতগতির ট্রেন, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং উঁচু ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে জমির ব্যবহার কমানো ও পরিবেশের ক্ষতি সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই নেটওয়ার্ককে গণপরিবহন, সাইকেল চলাচল ও পথচারীবান্ধব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত যাতায়াতের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং করিডরের আশপাশের এলাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং জনগণের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি টেকসই ও আধুনিক নগর পরিবহনের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তথ্যসূত্র : আরবান একরস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাস ছাড়িয়ে যাওয়া যুদ্ধে বড় এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধেই মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের এই সেনারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নামতে শুরু করেছে। দুই মার্কিনি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিশেষ সেনা ট্রাম্পের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণার পরই সেখানে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বিবেচনা করছেন। গত ১৮ মার্চ রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরে পর্যন্ত সেনা পাঠানোর বিকল্পও খোলা থাকবে। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ থেকে পরিচালিত এই প্যারাট্রুপাররা ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে পাঠানো হাজার হাজার নৌসেনা, মেরিন এবং স্পেশাল অপারেশন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে। গত সপ্তাহান্তে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় এই সেনাদের মোতায়েন করা হচ্ছে তা জানাননি। তবে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের কিছু অংশ, লজিস্টিকস ও অন্যান্য সহায়তা ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম। এখনও ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মোতায়েন করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়। এই সেনারা ইরান যুদ্ধে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এদের দিয়ে খার্গ আইল্যান্ড দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারেও ট্রাম্প তাদের ব্যবহার করতে পারেন। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে এই ধাক্কা সামলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরব লীগের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মিশরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি-কে সমর্থন দিয়েছেন সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রোববার অনুষ্ঠিত জোটের ১৬৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি সর্বসম্মত সমর্থন পান। আগামী আরব সম্মেলনে, যা সৌদি আরব-এ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিশরের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, ফাহমির প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন প্রমাণ করে যে আরব দেশগুলো এখনও আঞ্চলিক বিষয়ে মিশরের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। মনোনয়ন দেওয়ার জন্য মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফাহমি। একই সঙ্গে আরব লীগের সদস্য দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ফাহমি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায়, আরব লীগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন জোরদারে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। হেগসেথ বলেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যতে লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২০ মার্চের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। সেদিন ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। দ্বীপটি আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি আকাশেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যুক্তরাজ্য সরকারও নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। আগে ধারণা করা হতো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা এর চেয়েও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরান এই হামলার মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার হওয়ায় এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) বলছে, এই প্রথম কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এত দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অপরদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ইরান ক্রমাগত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, দেশটি বর্তমানে সরাসরি কোনো ঝুঁকিতে নেই। দূরত্বের হিসেবে তেহরান থেকে বার্লিন প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার, প্যারিস প্রায় ৪২০০ কিলোমিটার এবং লন্ডন প্রায় ৪৪০০ কিলোমিটার দূরে। এ হিসাবে ইউরোপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবে এত দূর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানা কঠিন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষক জানান, পাল্লা বাড়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা কমে যায়। অন্য গবেষকরাও মনে করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বাস্তবে ঝুঁকি এখনো কম। এর একটি বড় কারণ হলো, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বর্তমানে ইরানের কাছে স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই। সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও, ইউরোপের জন্য তাৎক্ষণিক বড় ধরনের হুমকির সম্ভাবনা এখনো কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে ন্যাটো ও পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।