জয়পুরের সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামের নতুন এলইডি ফ্লাড লাইট নিয়ে খুশি নন রাজস্থান রয়্যালসের কোচ কুমার সাঙ্গাকারা। রাজস্থান রয়্যালস-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে বেশ কিছু ক্যাচ মিস করেছেন ফিল্ডাররা। রাজস্থান কোচের অভিযোগ, নতুন ফ্লাড লাইটের কারণেই সমস্যা হচ্ছে ফিল্ডারদের। আইপিএলের এবারের আসর শুরুর আগে এই স্টেডিয়ামে নতুন ফ্লাড লাইট লাগানো হয়েছে। অত্যাধুনিক এই ফ্লাড লাইটই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন ফ্লাড লাইটে মাঠে আলোর পরিমাণ বেড়েছে। উজ্জ্বল আলোয় দৃশ্যমানতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ নতুন এই আলোই সমস্যার কারণ বলে অভিযোগ সাঙ্গাকারার। তিনি বলেছেন, 'স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ নতুন লাইট লাগিয়েছেন। দারুণ কাজ করেছেন। জয়পুরে এলইডি লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য স্টেডিয়ামগুলোয় এলইডি লাইট নেই। পার্থক্য অনেকটাই। এলইডি লাইট অনেক বেশি উজ্জ্বল হলেও ক্রিকেটারদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। সবাই স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না। উজ্জ্বল আলোয় উঁচুতে ওঠা বল দেখতে সমস্যা হচ্ছে।' কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়? এমন প্রশ্নে সাঙ্গাকারা বলেছেন, 'আমরা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। অনুরোধ করেছি, লাইটের দিক সামান্য পরিবর্তন করতে। এমন ভাবে করা হোক যাতে মাঠে পর্যাপ্ত আলো থাকবে অথচ সরাসরি চোখে পড়বে না। বিভিন্ন রকম লাইটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। সমস্যা হয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির যে লাইট জয়পুরের স্টেডিয়ামে ব্যবহার করা হচ্ছে, আমি তার বিরুদ্ধে নই। উন্নয়নের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।' আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাজস্থান। ১০টি ম্যাচ খেলে ৬টি জিতেছে রিয়ান পরাগের দল।
জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না লিটন দাস। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে স্লিপে আজান ওয়াইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর আর মাত্র ১ রানই যোগ করতে পেরেছেন তিনি। আজান যখন ক্যাচটা এক হাতে তালুবন্দি করছিলেন তখন বলটি মাটি স্পর্শ করে। তবে ফিরতি ওভারেই লিটনকে আউট করেছেন আব্বাস। এতে করে ৩৩ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের ইনিংস। তবে ইনিংসটি খুব বড় না হলেও ঠিকই একটা কীর্তিতে নাম তুলেছেন লিটন। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। তার রান এখন ২০০৯। এই কীর্তি গড়তে ৫৫ ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম হলেও সবমিলিয়ে ৩১তম ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন লিটন। তার পরেই দলের হয়ে এই কীর্তি গড়ার খুব কাছে আছেন মুশফিকুর রহিম (১৮৭৬ রান)। অন্যদিকে সবমিলিয়ে সবার ওপরে আছেন ৬৪৮০ রান করা ইংল্যান্ডের ব্যাটার জো রুট।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনেই নতুন কীর্তি গড়লেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে আউট করে এই ইতিহাস গড়েন শাহিন। জয়ের উইকেটটি ছিল ডব্লিউটিসিতে তার শততম শিকার। সব মিলিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেট পাওয়া বোলারদের তালিকায় তিনি বিশ্বের ১৯তম ক্রিকেটার। পাকিস্তানের হয়ে ডব্লিউটিসিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় শাহিন এখন শীর্ষে। তার পরেই আছেন নোমান আলী, যার উইকেট ৯০টি। ৬৩ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সাজিদ খান, আর নাসিম শাহ নিয়েছেন ৬০ উইকেট। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যাচে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনে ৪ উইকেটে ২৯০ রান তোলে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি করেন, আর মুমিনুল হক ফেরেন ৯১ রান করে। মুশফিকুর রহিমও তখন অর্ধশতকের পথে ছিলেন।
দ্বিতীয় নতুন বল এখনও বেশ তরতাজা। উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা তো আছেই। দ্বিতীয় দিন সকালে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়ছেন না পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মাদ আব্বাস। বাংলাদেশ দলও তাকিয়ে ওই প্রথম ঘণ্টাতেই। মুমিনুল হকের ধারণা, প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে কাটিয়ে দিতে পারলে ৫০০ রানও করতে পারে তাদের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ তুলেছে ৪ উইকেটে ৩০১ রান। সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ৯১ রানের ইনিংস খেলেছেন মুমিনুল হক। তাদের দুজনের জুটি ছিল ১৭০ রানের। অথচ টস জিতে বোলিং নিয়েছিল পাকিস্তান। মিরপুরের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ছোবল দেবেন পাকিস্তানি পেসাররা, এমন আশাই ছিল অধিনায়ক শান মাসুদের। দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে শুরুটাও ভালো ছিল তাদের। কিন্তু দিনের ওই প্রথম ঘণ্টা ছাড়া বাকি সময়টা ছিল কেবলই বাংলাদেশের। সারাদিনে কেবল চারটি উইকেট মিললেও দিনটিকে খুব খারাপ মনে করছেন না মোহাম্মাদ আব্বাস। পাকিস্তানের পেসার কিছুটা দায় দিলেন ভাগ্যকে। আশা নিয়ে তাকিয়ে তিনি দ্বিতীয় দিনের সকালে। আমার মনে হয় না দিনটা হতাশাজনক ছিল। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। হ্যাঁ, কিছু কিছু সময়ে আমরা ভালো বোলিং করতে পারিনি, কিন্তু অন্য সময়ে আমরা সত্যিই খুব ভালো বোলিং করেছি এবং কিছুটা দুর্ভাগা ছিলাম। অনেকবার ‘প্লে অ্যান্ড মিস’ (একটু জন্য ব্যাটের কানায় বল স্পর্শ না করা) হয়েছে দিনজুড়েই। খুব ভালো ক্রিকেটীয় পিচ এটি এবং এবং যেহেতু আমাদের হাতে এখন নতুন বল, আশা করি আগামীকাল ফিরে এসে শুরুতেই উইকেট তুলে নেব এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ইনিংস শেষ করে দেব। মুমিনুলের চাওয়া স্বাভাবিকভাবেই এর উল্টো। তার আশা, ক্রিজে থাকা ব্যাটসমানরা প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে পার করে দিতে পারবে। কালকে সকালের এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট না হারিয়ে ওই সময়টা পার করতে পারলে ৪০০-৫০০ রান হতে পারে। বল নতুন আছে। উইকেটে এখনও অনেক কিছু হচ্ছে, তাই প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেলাটা জরুরি। বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে আছেন মুশফিকুর রহিম। ৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গী লিটন কুমার দাস। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই কিপার-ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং গড় ৬১, সেঞ্চুরি করেছেন দুটি।
জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন দুই রান, সেঞ্চুরির জন্য ফিন অ্যালেনের দরকার ছক্কা। মুকেশ কুমারের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে খেললেন অ্যালেন। বল উড়ে যেতে দেখেই উচ্ছ্বাসে হাত উঁচিয়ে ধরলেন উইকেটে তার সঙ্গী ক্যামেরন গ্রিন। ছক্কা হতেই ডাগআউটে লাফিয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিং। অন্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরাও তখন হাততালিতে মুখর। গ্রিন হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন অ্যালেনকে। তখন পর্যন্ত নির্লিপ্ত অ্যালেন এবার হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন। এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় অনেক আগেই। অ্যালেনের সেঞ্চুরি হয় কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। তার বিস্ফোরক ইনিংসে বিশাল জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লি ক্যাপিটালসকে শুক্রবার ৮ উইকেটে হারায় তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা ২৮ বল বাকি থাকতে। ১০ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ অ্যালেন। আইপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি, আর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম। এর তিনটিই করলেন তিনি এই বছরে। গত জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশে ৫৩ বলে ১০১ ও মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালেন। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেন। আইপিএলে শতক করা দেশটির দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ২০০৮ সালে উদ্বোধনী আসরের প্রথম ম্যাচে কলকাতার হয়ে ও ২০১৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এই স্বাদ পেয়েছিলেন। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। ম্যাককালামের দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ আসরে ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও পরের বছর সুনিল নারাইন করেছিলেন শতক। তবে আগের তিন জনের কেউ অ্যালেনের (৪৭) চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি। ভেঙ্কাটেশ ও নারাইনের লেগেছিল ৪৯ বল, ম্যাককালামের ৫৩। অ্যালেন তাণ্ডব চালান মূলত দিল্লির স্পিনারদের ওপর। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে যেখানে তিনি ১৬ বলে করেন ২৭ রান, সেখানে স্পিনের বিপক্ষে ৩১ বলে ৭৩! এবারের আসরে নিজের আগের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই পাওয়ার প্লের মধ্যে আউট হয়েছিলেন অ্যালেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল প্রথম ম্যাচের ৩৭, তিনটিতে যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। এবার দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে দলের ইনিংস শুরু করতে নেমে তিনি পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন ১৭ বলে ২০ রান করে। এরপরই শুরু হয় তার তাণ্ডব। লেগ স্পিনার ভিপরাজ নিগামকে মারেন পরপর চার ও ছক্কা। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের ওভারেও একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি। ওই ওভারে একটি সুযোগও দিয়েছিলেন অ্যালেন, কিন্তু কঠিন ছিল বেশ, বল মুঠোয় জমাতে পারেননি ফিল্ডার ট্রিস্টান স্টাবস। কলকাতার জয়ের জন্য যখন দরকার ৪৮ বলে ৩৯ রান, অ্যালেনও তখন সেঞ্চুরি থেকে ৩৯ রান দূরে। পরের ওভারে নিগামকে টানা তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। কুলদিপকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে গ্রিন এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন অ্যালেনকে। পরের বলে ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সী ওপেনার। আইপিএলে এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কখনও পাননি অ্যালেন। এবার কলকাতার হয়ে অভিষেক হয় তার। আগের ম্যাচগুলোতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারলেও এবার তিনিই জয়ের নায়ক।
ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটছে মুমিনুল হকের। পরপর চার ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন তাকে কেন সত্যিকারের টেস্ট ক্রিকেটার বলা হয়। তবে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে অর্ধশতকের বৃত্ত ভেঙে তিন অংকের ম্যাজিকেল ফিগার স্পর্শ করার দারুণ সুযোগ এসেছিল মুমিনুল হকের সামনে। কিন্তু বিধিবাম। এবারও তীরে এসে তরী ডুবল তার। কাঁটা পড়লেন নড়বড়ে নব্বইয়ে। বারবার সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটারের তা নিয়ে মোটেও আফসোস নেই। তবে আছে স্ত্রীর গালি খাওয়ার ভয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন ৯১ রানে আউট হন মুমিনুল। প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘না আক্ষেপ হয়নি। এত দিন হয়নি। আজ একটু হয়েছে। তাও বউয়ের কারণে। বউ হয়ত একটু গালি দিবে। এটাই আরকি।’ তবে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর কিছুক্ষণ সত্যিই মন খারাপ হয়েছিল মুমিনুলের, ‘আসার পর দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল আরকি। একশর চেয়ে আমার কাছে নিয়মিত রান করা বেশি ইম্পরট্যান্ট, সিরিয়াসলি বলতে গেলে।’ কেন বারবার বড় ইনিংস খেলার পরও সেঞ্চুরি ধরা দিচ্ছে না, সেই কারণ খুঁজছেন সাবেক এই অধিনায়ক নিজেও। জানালেন, ‘মানসিক হতে পারে। এখনও ধরতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ ধরে ফেলব। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, একশ করব এই চিন্তাই করি না। হয়ত আরেকটু চিন্তা করতে হবে। আমি ভাবি চার-পাঁচ সেশন ব্যাট করতে হবে। ওটাই এভাবে ভাবতে হবে- ৪-৫ সেশন ব্যাট করলে একশ-দেড়শ হয়ে যাবে।’ সেঞ্চুরি না করলে আফসোস নেই, এমন প্রসঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেঞ্চুরি চাই। সেঞ্চুরি কে না চায়? মোটিভেশন শুনতে তো ভালো লাগে না। আমি এত বছর টেস্ট খেলেছি। যেহেতু ব্যাটিং উপভোগ করি, এটাই চেষ্টা করছি। খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করে। রান কীভাবে করতে হয় মোটামুটি জানা আছে। সেভাবেই খেলার চেষ্টা করি। খুব বেশি মোটিভেশন নেই। নিয়মমাফিক খেললেই রান আসবে।’ মুমিনুলের ‘মাইন্ডসেট’ একটাই—নিয়মিত রান করতে হবে। ২০১৮ সালের পর থেকে তার পরিচয় শুধুই টেস্ট ক্রিকেটার। ওয়ানডে আর টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি দর্শক। তার মানে তো বুঝতেই পারছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে হয় তাকে। খেলাটার প্রতি নিবেদন ধরে রাখতে নিজেকেই হতে হয় নিজের অনুপ্রেরণা। মুমিনুল হকের মতে, ‘আমি যেভাবে টেস্টের ব্যাটিংটা উপভোগ, সত্যি বলতে কি, শুধু এটাই চেষ্টা করি। খুব বেশি চিন্তাভাবনা করি না। আর কীভাবে রান করতে হয়, ওইটা মোটামুটি একটু জানা আছে তো; ওইভাবেই খেলার চেষ্টা করি। আমি আমার মাইন্ডসেট নিয়ে থাকার চেষ্টা করি। নিয়মিত রান করতে হবে, এটাই আমার মোটিভেশন। আমার যে পরিকল্পনা রুটিন থাকে, ওইভাবে কাজ করলে রান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ মুমিনুল কথা বলেছেন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্যের কথাও। তিনি বলেন, ‘কাল সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন বলে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে। সকালে যদি এক ঘণ্টা আমরা উইকেট না হারিয়ে খেলতে পারি, তবে আমার মনে হয় ৪০০-৪৫০ পার হয়ে যাবে। তবে এটা নির্ভর করছে আমাদের প্রথম এক ঘণ্টার ওপর। কারণ, এখন উইকেটে অনেক কিছু হচ্ছে।’
শুরুর ধাক্কা সামলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে দুই উইকেটে শতরান পার করেছে টাইগাররা। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০১ রান। তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও মুমিনুল মিলে গড়েছেন অপরাজিত ৭০ রানের জুটি। ৯৫ বলের এই জুটিতে দুজনই সাবলীল ব্যাটিং করেছেন। শান্ত ৫০ বলে ৩৯ এবং মুমিনুল ৫৭ বলে ৩১ রান নিয়ে বিরতিতে যান। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮ বলে তিনি করেন ৮ রান। জয়ের উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের প্রথম পেসার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন আফ্রিদি। সবমিলিয়ে এই কীর্তি গড়া তিনি ১৯তম বোলার। এরপর হাসান আলি আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ফেরান আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামকে। স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩০ বলে ১৩ রান করেন সাদমান। তখন মাত্র ৩১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শান্ত ও মুমিনুল। পাকিস্তান প্রথম সেশনে পাঁচজন বোলার ব্যবহার করলেও এই জুটি ভাঙতে পারেনি। এমনকি পার্ট-টাইম স্পিনার সালমান আগা ও বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলিকেও আক্রমণে আনা হয়। তবে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে উইকেট আগলে রেখে ধীরে ধীরে রান বাড়িয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার।
ছয় মাস পর টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানও ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে খেলছে সাত মাস পর। মিরপুরে আজ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন তাইজুল ইসলাম। মিরাজ মিডল অর্ডারে কার্যকরী ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পেস আক্রমণে গতিতারকা নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। সাদা বলের ক্রিকেটে তাসকিন নিয়মিত হলেও টেস্টে ১৭ মাস পর ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। আজ মিরপুর টেস্টের আগে সবশেষ ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে তাসকিন খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংসটনে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। উইকেটরক্ষকের গ্লাভস পরবেন লিটন দাস। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে উইকেট ব্যাটিংবান্ধব মনে হচ্ছে। টসের সময় তিনি বলেন, ‘উইকেটটা বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। আপনি যদি শেষ কয়েকটি ম্যাচের দিকে খেয়াল করেন, বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে, তাহলে এটা ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো উইকেট। এর কৃতিত্ব আমি টমিকেই দেব। আমার মতে পেসাররা ভালো ছন্দে আছে। তাসকিন আহমেদ দলে ফিরেছে। সে অনেক অভিজ্ঞ। নাহিদ রানা ভালো ফর্মে আছে আর ইবাদতও দলে ফিরে এসেছে।’ পাকিস্তান আজ দুই ক্রিকেটারকে অভিষেক করিয়েছে। আব্দুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস—দুই ক্রিকেটারই টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আওয়াইসের চার সেঞ্চুরি রয়েছে। টপ অর্ডারে আছেন ইমাম উল হকও। উইকেটরক্ষকের গ্লাভস থাকবে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। বাংলাদেশের একাদশ নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক) , মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা পাকিস্তানের একাদশ শান মাসুদ (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল, আব্দুল্লাহ ফজল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), শাহিন শাহ আফ্রিদি, সালমান আলী আগা, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম উল হক, মোহাম্মদ আব্বাস, নোমান আলী
আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচে যেন নিজের দেওয়া পরামর্শেই ফাঁদে পড়লেন বিরাট কোহলি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই তারকা ব্যাটার ১ হাজার ১১০ দিন পর আইপিএলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। আর তাকে ফিরিয়ে দেওয়া তরুণ পেসার প্রিন্স যাদব ম্যাচ শেষে জানালেন, এই উইকেটের পেছনে ছিল খোদ কোহলিরই পরামর্শ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) উত্তর প্রদেশের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন কোহলি। ১৪০.৪ কিলোমিটার গতির ইনসুইং ডেলিভারিতে তার অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন ২৪ বছর বয়সী প্রিন্স যাদব। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢুকে যাওয়া বলটি ব্যাট-প্যাডের মাঝের ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে দেয়। আউট হওয়ার পর কিছুক্ষণ বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে প্রিন্স জানান, আগের ম্যাচের পর কোহলির সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন ভারতীয় তারকা তাকে বলেছিলেন, বল সুইং করলে শুধু সঠিক লেংথ ধরে রেখে বোলিং চালিয়ে যেতে। সেই পরামর্শই কাজে লাগান তিনি। প্রথমে একটি আউটসুইং ডেলিভারি করে পরের বলেই ইনসুই করান; আর তাতেই আসে বড় উইকেটটি। আইপিএলে গত তিন বছরে এই প্রথম শূন্য রানে আউট হলেন কোহলি। সবশেষ ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার ১ হাজার ১১০ দিন পর আবারও ‘ডাক’ দেখলেন আইপিএলের অন্যতম সফল এই ব্যাটার। রান তাড়ায় কোহলির সর্বশেষ শূন্য রানের ইনিংস ছিল ২০১৭ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে বেঙ্গালুরু মাত্র ৪৯ রানে অলআউট হয়েছিল, যা এখনও আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এদিকে এই শূন্য রানটি আইপিএলে কোহলির ক্যারিয়ারের ১১তম ডাক। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ডেও এখন শীর্ষে তিনি। আরসিবির হয়ে ২৭৭ ম্যাচে ১১ বার শূন্য রানে ফিরেছেন কোহলি। তার পরে রয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও এবি ডি ভিলিয়ার্স, যাদের দুজনেরই রয়েছে ৮টি করে ডাক। ম্যাচের আগে অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন কোহলি। এবারের আসরে আগের ৯ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৩৭৯ রান। তিনটি ফিফটির পাশাপাশি সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮১ রানের। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটি পরে ১৯ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। আগে ব্যাট করে মিচেল মার্শের ৫৬ বলে ১১১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে লখনউ তোলে ২০৯ রান। তার ৯টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। জবাবে শুরুতেই কোহলি ও জ্যাকব বেথেলের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বেঙ্গালুরু। পরে রজত পাতিদারের ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং টিম ডেভিড, ক্রুনাল পান্ডিয়া ও রোমারিও শেফার্ডের লড়াই ম্যাচে উত্তেজনা ফেরালেও শেষ ওভারে দিগ্বেশ রাঠির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৯ রানের জয় নিশ্চিত করে লখনউ সুপার জায়ান্টস।
ঢাকা টেস্টে টসে জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামছে বাংলাদেশ। ৩ পেসার ২ স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী এবং নাহিদ রানা। সাথে ২ স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং অলরাউন্ডার হিসেবে একাদশে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একাদশে জায়গা হয়নি অফ স্পিনার নাঈম হাসানের। পাকিস্তানের একাদশে নেই বাবর আজম। চোটের কারণে ঢাকা টেস্টে খেলা হচ্ছে না এই তারকা ব্যাটারের। স্পিন বিভাগে সাজিদ খানকে একাদশে রাখেনি পাকিস্তান, আছেন নোমান আলী। সাথে ৩ পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস এবং হাসান আলী। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮ মে সকাল ১০টায় মাঠে গড়াচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামী ১৬ মে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। তবে সিরিজ শুরুর আগে বিশাল এক ধাক্কা খেল সফরকারীরা। অনুশীলনে বাঁ হাঁটুতে চোট পাওয়ায় মিরপুরে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম। আজ রাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসক দল বাবর আজমের চোটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তার সর্বশেষ পরিস্থিতি পরে জানানো হবে। বাবরের জায়গায় পাকিস্তানের একাদশে কে ঢুকতে পারেন, সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি পিসিবি। ধারণা করা হচ্ছে, আবদুল্লাহ ফজল অথবা আজান আওয়াইশের টেস্ট অভিষেক হতে পারে। তারা দুজনই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার।
আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ দলের জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জোহাদ রেজা চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। দুই দলের খেলা শুরুর আগে উভয় দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর রীতি ক্রিকেটে চলছে বেশ আগে থেকেই। সেই নিয়ম মেনে আসন্ন টেস্টেও বাজবে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান দুই দেশের জাতীয় সংগীত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিকেটারদের সাথে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায় জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের। বাংলাদেশে সেই চল ছিল না তেমন। তবে এবার নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, কোচিং, সাপোর্ট স্টাফের সাথে জোহাদ রেজার কণ্ঠেও বাজবে ‘আমার সোনার বাংলা’। নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেট সমর্থক এবং গায়ক জোহাদের ভক্তদের জন্য স্মরণীয় এই মুহূর্ত হতে যাচ্ছে এটি। একনজরে দুই দলের স্কোয়াড : বাংলাদেশ (ঢাকা টেস্ট) : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান। পাকিস্তান : শান মাসুদ (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ ফজল, এমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, মোহাম্মদ আবাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ গাজী ঘরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আঘা, সাউদ শাকিল ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।
অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের। একই দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাও। এ বিষয়ে রায় দেওয়া হবে আগামী ১০ জুন। আজ (৬ মে) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক এই তারিখ ঠিক করেন। শুনানিতে নাসিম-তামিমার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করে বাদীপক্ষ। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে। আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা করেন তামিম সাবেক স্বামী রাকিব হাসান। এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে সেই নারীর সম্মতি সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে তা হবে ব্যভিচার। এর শাস্তি ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। এ ছাড়া ৪৯৮ ধারায় ২ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান আছে। আদালত চাইলে এই সাজা একসঙ্গে দিতে পারেন আবার একের পর এক দিতে পারেন।’ অন্যদিকে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন জসীম বলেন, ‘নাসির বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন স্বনামধন্য খেলোয়াড়। নাসির ও তামিমা বৈধভাবে বিয়ে করেছেন। তাদের কাছে যেসব কাগজপত্র আছে, সবই বৈধ। নাসির ও তামিমার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে।’ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক নাসির ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমাকে বিয়ে করেন। রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়। ১০ দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব মামলা করেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা। মামলাটি তদন্ত করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দুজনকে আসামি করে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। অবশেষে এই মামলার রায় হতে যাচ্ছে।
আইপিএলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, শিরোপাধারী দলের মাঠেই পরবর্তী আসরের ফাইনাল আয়োজন করা হয়। তবে গত দুই মৌসুমে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে না। এবারও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনাল না হয়ে ম্যাচটি হবে অহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। গত আসরেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। তখন চ্যাম্পিয়ন ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিন্তু ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল অহমেদাবাদে। এবারও আয়োজক সক্ষমতার ঘাটতির কারণ দেখিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো আইপিএলের ফাইনাল আয়োজন করতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। বুধবার এক বিবৃতিতে আইপিএলের প্লে-অফ পর্বের সূচি প্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘোষিত সূচিতে বেঙ্গালুরু কোনো ম্যাচই পায়নি। সাধারণত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালের পাশাপাশি আরও একটি প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেয়ে থাকে, কিন্তু এবার সেই নিয়মও অনুসরণ করা হয়নি। বিসিসিআই জানিয়েছে, ফাইনাল আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রোটোকল অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থা এবং প্রশাসনের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল, তা সময়মতো পাওয়া যায়নি। এ কারণেই ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনাগত ও যাতায়াতসংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে প্লে-অফের ম্যাচগুলো মাত্র তিনটি ভেন্যুতে সীমিত রাখা হয়েছে বলেও জানায় বোর্ড। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে ২৬ মে ধর্মশালায়। ২৭ মে মুল্লানপুরে হবে এলিমিনেটর ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। আর ৩১ মে অহমেদাবাদে গড়াবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল।
এই ৮৭ কি সেঞ্চুরিই চেয়েও ভালো?’, প্রশ্নটি শুনে মুচকি হাসলেন সাঞ্জু স্যামসন। ইনিংসটি তারা দেখেছেন, তারা হয়তো প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিমত করবেন না। তবে হাসির রেখা ঠোঁটে ঝুলিয়ে স্যামসন সৎ উত্তরই দিলেন, নাহ, সেঞ্চুরি মানে সেঞ্চুরিই, সবসময়ই তা স্পেশাল। শতরানের জন্য ছোটার ইচ্ছেও যে মনে উঁকি দিয়েছিল, চেন্নাই সুপা কিংসের ব্যাটসম্যান লুকালেন না সেটিও। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের মাইলফলকের জন্য স্বার্থপর হতে চাননি তিনি। আইপিএলে মঙ্গলবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের ৮ উইকেটের জয়ে ৫২ বলে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্যামসন। চলতি মৌসুমে দুটি সেঞ্চুরি আগেই করে ফেলেছিলেন তিনি। তিন নম্বরটির হাতছানি ছিল এ দিন দিল্লিতে। দলের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ১৯ রান, তার শতরানের জন্য লাগে তখন ১৬ রান। তবে এরপর তিনি রান কেবল ৩ রান যোগ করেন, আরেক প্রান্তে ছক্কা-চার মেরে ১৫ বল বাকি রেখেই খেলা শেষ করে দেন কার্তিক শার্মা। ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার নিয়ে স্যামসন বললেন, তিন অঙ্ক তার দৃ্ষ্টিতে ছিল, কিন্তু দলের জয় নিশ্চিত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। হ্যাঁ, ভাবনা এসেছিল (শতরানের)। তবে এরপর মনে হয়েছিল, এটা (শতরান) করতে হলে একটু বেশিই স্বার্থপর হতে হবে আমাকে। কাজেই মনে হলো, ম্যাচটি ভালোভাবে জেতা নিশ্চিত করা যাক। আমার সঙ্গীও ভালো ব্যাট করছিল এবং তাকে বলতে চাইনি যে, ‘সিঙ্গল নিয়ে আমাকে স্ট্রাইক দাও, শতরান করতে চাই।’ আমার তা বলতে ইচ্ছে করেনি। স্যামসনের সেই সঙ্গী ছিলেন কার্তিক শার্মা। যে তরুণকে আইপিএলের নিলামে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল চেন্নাই। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘সিরিয়াল সিক্স হিটার’ নামে পরিচিত ২০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচে অপরাজিত ৫৪ রান করার পর এ দিন অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৪১ রান করে। দুজন যখন জুটি বেঁধেছিলেন, সপ্তম ওভারে চেন্নাইয়ের রান ছিল ২ উইকেটে ৪৫। দিল্লি ম্যাচে ছিল ভালোভাবেই। কিন্তু ৬৬ বলে ১১৪ রানের অপরাজিত জুটিতেই শেষ হয়ে যায় খেলা। এই ম্যাচে সেঞ্চুরি না পেলেও স্যামসন অবশ্য আশা ছাড়ছেন না সামনের ম্যাচগুলিতে। আমার মনে হয়, খেলা শেষ করতে আসতে পারার তৃপ্তি আরও বেশি। সেটিই উপভোগ করেছি। আরও কিছু ম্যাচ বাকি আছে। দেখা যাক, আবার তিন অঙ্ক ছুঁতে পারি কি না। আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দলবদলে ১৮ কোটি রুপিতে রাজস্থান রয়্যালস থেকে চেন্নাইয়ে নাম লেখানোর পর মৌসুমের শুরুটা খুব ভালো ছিল না স্যামসনের। তবে ক্রমেই নিজেকে ফিরে পান তিনি। ১০ ম্যাচে তার রান এখন ৫৭.৪২ গড়ে ৪০২, স্ট্রাইক রেট ১৬৭.৫০। দুটি সেঞ্চুরি, এই ৮৭ ছাড়াও আরেকটি ম্যাচে ৪৮ রান করেছেন তিনি। এই চার ম্যাচেই জিতেছে চেন্নাই। যে ছয় ম্যাচের চারটিতে আউট হয়েছেন তিনি দু অঙ্ক ছোঁয়ার আগে, দুটিতে ফিরেছেন ১১ রানে। এই ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে তার দল।
জাতীয় দলের পাইপলাইন মজবুত করতে বড় ভূমিকা পালন করে হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগ। যে কারণে প্রতি বছরই এইচপি বিভাগের জন্য খেলার সূচি আলাদা করে সাজানোর চেষ্টা ও পরিকল্পনা থাকে বিসিবির। আসন্ন মৌসুমেও এইচপি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের। এর অংশ হিসেবে এইচপির প্রধান কোচ হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। জাতীয় দলে কাজ করা এই কোচের ওপরই পরের মৌসুমের জন্য ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথাও হয়েছে সালাউদ্দিনের। আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়বেন সালাউদ্দিন এমনটি জানা গিয়েছে। এ ছাড়া এবারের এইচপি বিভাগে থাকছে না কোনো বয়সের মানদণ্ড। সবমিলিয়ে সাদা এবং লাল বল মিলিয়ে ক্রিকেটার থাকবেন ৩৫ জন। কোচ হিসেবে আরও থাকছেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ ও তালহা জুবায়েররা। সবকিছু ঠিক থাকলে এইচপির প্রথম সিরিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাউদ্দিনরা। জানা গেছে, আগামী ১ জুন শুরু হবে সিরিজের ক্যাম্প। জুন মাসের ৩ তারিখ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি বিভাগের সঙ্গে খেলতে আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে। এরপর দুটি চারদিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। পরবর্তীতে জুলাইয়ে বাংলাদেশ এইচপি দল সফর করবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে তারা তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবে বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স বিভাগ। এবারও সেখানে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির পরে দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে তারা। এ ছাড়া ইমার্জিং এশিয়া কাপেও এইচপি থেকে ক্রিকেটারদের খেলানোর কথা রয়েছে।
গত বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের হয়ে পুরো মৌসুমে খেলেছেন নাসুম আহমেদ। ১২ ম্যাচ খেলে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেন তিনি। তার দারুণ পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত খেলে সিলেট। কিন্তু দলকে সাফল্য এনে দিয়েও হতাশ হতে হয়েছে নাসুমকে। এখনো তিনি পারিশ্রমিকের ৩৫ লাখ টাকা পাননি বলে দাবি করছেন এই স্পিনার। কিছু দিন আগে প্রথমবার যখন গণমাধ্যমে এ বিষয়টি উঠে এসেছিল তখন নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিল সিলেট। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দাবি করেছিল, নাসুমকে পাওনা সকল টাকা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে। এবং নাসুম যে দাবি করছেন সেটা অযৌক্তিক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সিলেট বলেছিল, 'বিপিএল ২০২৫-২০২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত বিষয়টি গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে চূড়ান্তভাবে সুরাহা হয়েছে। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী, ক্রিকেটার নাসুম আহমেদের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লক্ষ টাকা (বি-ক্যাটাগরি), যার সম্পূর্ণ অংশ সিলেট টাইটান্স ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উক্ত ক্রিকেটারের কোনো বকেয়া পাওনা প্রতিষ্ঠানের নিকট অবশিষ্ট নেই।' তবে আজকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন নাসুম। যেখানে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে আরো ৩৫ লাখ টাকা তার পাওনা আছে বলে দাবি করছেন এই ক্রিকেটার। প্রমাণ হিসেবে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো একটি চুক্তি পত্রও দেখিয়েছেন তিনি। যেখানে ৭০ লাখ টাকায় তার সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ্য আছে। নাসুম লিখেছেন, 'হ্যালো টাইটান্স। আমার ৩৫ লাখ টাকা তো দিয়েছেন, সরাসরি চুক্তির বাকি ৩৫ লাখ টাকা কি দিবেন? নাকি মরার পর চল্লিশার সময় দিবেন? দিলেও সেটা আমাকে জানাবেন দয়া করে, যেন আমি আমার ফ্যামিলিকে বলে যেতে পারি সিলেট টিম মালিক মাহিদুল ইসলাম সামি আমার টাকা দিবে আমি মরার পর।' সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফাহিম আল চৌধুরীকে সামনে এনে নাসুম লিখেছেন, 'ফাহিম ভাই, আপনাকে সালাম। আমি জানি আপনি ব্যস্ত। একটু সময় হলে দয়া করে ভয়েসগুলো শুনবেন-আপনাকে নিয়ে আমি কী কী কথা বলেছি, আর তারা আমার সঙ্গে কী কথা বলেছে। আপনার কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই। আপনি আমাদের এলাকার মানুষ, বড় ভাই হিসেবে আপনি একটা দল গড়ে তুলেছিলেন-সেই জায়গা থেকে ছোট ভাই হিসেবে আপনাকে জানালাম।' 'ভাই, আমার টাকাগুলো যেন পাই-এই বিষয়ে একটু দেখবেন। আমার কথা বলার মতো কেউ নেই। আল্লাহর শুকরিয়া, আপনার নাম্বারটা পেয়েছি, দুই মিনিট কথা বলতে পেরেছি। আপনার সময় নেই বলে বেশি কথা হয়নি। তবে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই যে আপনি দুই মিনিট হলেও আমাকে সময় দিয়েছেন।'-যোগ করেন তিনি।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের প্রেমিকাদেরও হরহামেশাই দেখা যায় স্টেডিয়াম কিংবা টিম হোটেলে। এবারের আইপিএলে যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে। একাধিক ম্যাচে ক্রিকেটারদের বান্ধবীকে মাঠ ও টিম হোটেলে দেখা গেছে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নড়েচড়ে বসছে বিসিসিআই। এবার ‘গার্লফ্রেন্ড কালচার’ নিয়ে কঠোর হচ্ছে ভারতীয় বোর্ড। চলতি আইপিএলে হার্দিক পাণ্ডিয়া, যশস্বী জয়সওয়াল, ঈশান কিশান, আর্শদীপ সিংসহ বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে তাদের বান্ধবীদের সঙ্গে ঘন ঘন দেখা গিয়েছে। যা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, দলের শৃঙ্খলা ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে বোর্ড। তাই ‘গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতি’ নিয়ে নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিকেটারদের এই প্রবণতাকে ঘিরে উদ্বিগ্ন বিসিসিআই। যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে বিরোধ এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের ঘটনাও বিসিসিআইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছে বোর্ড। একজন উচ্চপদস্থ বিসিসিআই কর্তা বলছেন, এখনই যদি এর রাশ টানা না হয় ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমরা দেখছি টিম বাস পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হচ্ছে, এমনকী অনেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই হোটেলে থাকছেন। তিনি আরও বলেন, আমি বুঝতে পারছি না এই নিয়ম কোথা থেকে এলো? বিসিসিআইয়ের নীতিমালায় তো এমন কোনও নিয়ম নেই। শুধু স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরই নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় অনুমতি দেওয়া হয়। সুতরাং কে এই অনুমোদন দিয়েছে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারাই কিছু ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বোর্ডের উদ্বেগ, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি ম্যাচ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সূত্রের খবর, বোর্ডের আগামী বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। আইপিএলসহ ভারতীয় দলের বিদেশ সফরেও নতুন নিয়মাবলি জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় বোর্ডের। এ ছাড়া অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকেও এই বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হতে পারে।
ম্যাচের ভীষণ উত্তেজনাকর মুহূর্তে আউট হওয়ায় মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি নিগার সুলতানা। ক্ষোভে ব্যাট ছুঁড়ে মারেন মাটিতে। এমন আচরণের দায়ে শাস্তি পেলেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক। আচরণবিধির ২.২ ধারা ভাঙার অপরাধে নিগারকে তিরস্কার করেছে আইসিসি। সঙ্গে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। এই ধারায় ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেটের সরঞ্জাম বা পোশাক, মাঠের সরঞ্জামের অপব্যবহারের’ কথা বলা হয়েছে। সিলেটে গত শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে এই ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির বাধায় ৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে যখন দলের প্রয়োজন ১৪ রান, প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিগার। আউট হয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে ব্যাট ছুঁড়ে মারেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। নিজের অপরাধ স্বীকার করে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানি দাসের দেওয়া শাস্তি মেনে নেন নিগার। তাতে আনুষ্ঠানিক কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি। ম্যাচটি ৩ রানে হেরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশড হয় বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আচরণবিধি ভাঙার দায়ে শাস্তি পান বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন সুলতানা। দুজনকেই ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয় এবং তাদের নামের পাশে যোগ হয় একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খুব বেশি ম্যাচ না খেলেও পেশোয়ার জালমির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোলার হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দলটির ফাইনালে তাকে ফেরানোই প্রমাণ করে—তার উপস্থিতি কতটা প্রয়োজনীয় ছিল। মাত্র ২৩ বছর বয়সী নাহিদ টি–টোয়েন্টিতে এখনো খুব বেশি অভিজ্ঞ নন। তবু পেশোয়ার তাকে আবার উড়িয়ে নিয়েছে শুধু ফাইনাল ম্যাচের জন্য। বিসিবি শুরুতে অনুমতি না দিলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দেয়, যা এই ম্যাচের গুরুত্বই তুলে ধরে। কেন এত গুরুত্বপূর্ণ নাহিদ? নাহিদের গুরুত্ব বোঝাতে একটাই শব্দ যথেষ্ট—গতি। এই টুর্নামেন্টে বেশিরভাগ পেসারের গতি যেখানে ১৩৫–১৪০ কিলোমিটার, সেখানে নাহিদ ধারাবাহিকভাবে ১৪৫–১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন। এমনকি ১৫১ কিলোমিটার গতির বলও করেছেন তিনি—যা এবারের আসরের দ্রুততমগুলোর একটি। এই বাড়তি গতি ও বাউন্স মিলিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘নাহিদ ভীতি’। উইকেট সংখ্যা (৪ ম্যাচে ৭টি) খুব বেশি না হলেও তার প্রভাব ছিল অনেক বড়। ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ: নাহিদের বল শুধু দ্রুতই নয়, লম্বা বাউন্সও তৈরি করে। করাচির বিপক্ষে এক ম্যাচে ২০টি ডট বল দিয়ে তিনি চাপ তৈরি করেছিলেন। তার স্পেলে ব্যাটসম্যানরা সহজে রান তুলতে পারেননি। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমলও বলেছেন, নাহিদ তাদের ব্যাটিং দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছেন। পেশোয়ারের বোলিং শক্তি বাড়ানোর অস্ত্র: পেশোয়ারের পেস আক্রমণ খুব শক্তিশালী নয়। খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ বাসিত ও অ্যারন হার্ডির মতো বোলাররা খেললেও একজন ভয়ঙ্কর গতির বোলারের অভাব ছিল। নাহিদ সেই জায়গাটিই পূরণ করছেন। স্পিন বিভাগে সুফিয়ান মুকিম ভালো করলেও পেস আক্রমণে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে নাহিদের গুরুত্ব আলাদা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন: ২০১৭ সালের পর আর শিরোপা জিততে পারেনি পেশোয়ার। কয়েকবার রানার্সআপ হয়ে এবার আবার ফাইনালে উঠেছে দলটি। তাই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে তারা সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছে নাহিদ রানাকে। সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে নয়—গতি, বাউন্স আর মানসিক চাপ তৈরি করার ক্ষমতা—এই তিন কারণেই পেশোয়ার জালমির কাছে ফাইনালে নাহিদ রানা হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়।
স্বপ্নের মতো অভিষেক হলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি চেন্নাই সুপার কিংসের পেস বোলিং অলরাউন্ডার রামকৃষ্ণ ঘোষের জন্য। প্রথম ম্যাচ খেলেই গুরুতর চোটে পড়ে এবারের আইপিএল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। গত শনিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচে আইপিএলে অভিষেক হয় রামকৃষ্ণের। ম্যাচের শুরুতেই নজর কাড়েন তিনি—পয়েন্ট বাউন্ডারিতে দারুণ এক ডাইভিং ক্যাচে উইল জ্যাকসকে ফেরান। পরে বল হাতেও দেখান নিজের সামর্থ্য; ১৩৩ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে আউট করেন সূর্যকুমার যাদবকে। তবে ম্যাচ চলাকালেই ডান পায়ে আঘাত পান এই তরুণ পেসার। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার পায়ের হাড়ে চিড় ধরেছে। ফলে চলতি মৌসুমে আর মাঠে নামা হচ্ছে না তার। ২০২৫ সালের মেগা নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে চেন্নাই দলে ভিড়িয়েছিল রামকৃষ্ণকে। তবে গত আসরে খেলার সুযোগ পাননি। এবারে দলে জায়গা পেয়ে অভিষেক ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণের ইঙ্গিত দিলেও চোটে থেমে গেল তার যাত্রা। চেন্নাই শিবিরে চোটের মিছিল যেন থামছেই না। এর আগে নাথান এলিস, আয়ুশ মাত্রে ও খলিল আহমেদও ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন। রামকৃষ্ণকে নিয়ে চলতি মৌসুমে চারজন খেলোয়াড় হারালো দলটি। বর্তমানে ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। তাদের পরবর্তী ম্যাচ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।