ক্রিকেট

উইকেট লাভের পর পাকিস্তান শিবিরে উদযাপন। ছবি : পিসিবি
অপমানের ‘প্রতিশোধ’ এভাবেই নিল পাকিস্তান!

তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ১১১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। তাতেই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতে অজিদের হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিকরা। সেই সঙ্গে সফরকারীদের লজ্জার রেকর্ডও উপহার দিয়েছেন সালমান আগারা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটা অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। এর আগে ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ১০০ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এতদিন এটাই ছিল তাদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আজ সেই রেকর্ড ছাপিয়ে আরও বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা উপহার দিল পাকিস্তান। অথচ, এই পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া এমন এক দল পাঠিয়েছে, যা রীতিমতো অপমানের সামিল! কেননা, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া ৭ খেলোয়াড়কে নিয়ে পাকিস্তানে খেলতে আসে অজিরা। যাকে অস্ট্রেলিয়ার ‘বি’ দল বলা হয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক সিরিজে এমন দুর্বল দল পাঠানোকে অপমানজনক হিসেবে দেখছে খোদ পাকিস্তানের ক্রিকেটবোদ্ধারাই। ক্রিকেট বিশ্লেষক ও লেখক ওমাইর আলাভি তো বলেই দেন যে, আমি এটাকে পাকিস্তান ক্রিকেট ভক্তদের জন্য অপমানজনক হিসেবে দেখছি। তবে সেই অপমানের প্রতিশোধটাই যেন আজ দারুণভাবে নিয়ে নিলেন বাবর-আফ্রিদিরা। লাহোরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা। শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ১০ রানে থামেন ফখর জামান। পরের উইকেটে নেমে মাত্র ৫ রান করেন দলনেতা সালমান আগা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৬৯ রান। মাত্র ৩৭ বলে ৫৬ রানে আউট হন সাঈম আইয়ুব। এরপর খাজা নাফি ১২ বলে ২১, শাদাব খান ১৯ বলে ৪৬ ও মোহাম্মদ নেওয়াজ ৪ বলে ৫ রান করেন। আর শেষ পর্যন্ত খেলে যান বাবর আজম। অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। ৪ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন ফাহিত আশরাফ। আর পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ২০৭ রানে। ২০৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে এক মোহাম্মদ নেওয়াজের কাছে ধরাশয়ী অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রানের খরচায় একাই ৫ উইকেট নেন নেওয়াজ। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন মার্কাস স্টোয়নিস। ২২ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। আর ১৪ রান আসে জশ ফিলিপসের ব্যাট থেকে। বাকি ব্যাটারদের কেউই দশের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে মাত্র ৯৬ রানে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ভারত দল। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের জন্য দুঃসংবাদ

ছেলেদের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্য আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইকে ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। শ্রীলঙ্কায় খেলা হবে তিনটি ভেন্যুতে। এর মধ্যে দুটি কলম্বো ও পাল্লেকেল্লে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৮ মার্চ আহমেদাবাদের ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে এই টুর্নামেন্ট। পূর্বের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। এই চুক্তি হয়েছে বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে—যাতে দুই দেশ একে অপরের আয়োজিত বহুজাতিক টুর্নামেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। পাকিস্তান যদি আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় দুঃসংবাদ পেল ভারত। আঘাতটা দিয়েছে আবার তাদেরই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তান। আজ সব ধরণের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাল পাকিস্তান। আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি তারা খেলবে না। গ্রুপ পর্বে ভারতের ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঘা-বাবর-আফ্রিদিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দেশটির সরকারের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের সরকার আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিচ্ছে।’ একই সঙ্গে বিবৃতিতে যোগ করা হয়, ‘…তবে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’ পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলের বিবৃতি উল্লেখ করে খবরটি প্রকাশ করেছে ডন ও জিও নিউজসহ একাধিক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমও। এর মাধ্যমে কঠিন এক সিদ্ধান্তই নিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। এর ফলে এশিয়ার দুই পরাশক্তির লড়াই দেখার সুযোগ পাচ্ছে না এবার। যা ভারতের জন্য নিশ্চিতভাবেই অনেক বড় দুঃসংবাদ বলে মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। শুধু যে ক্রিকেটীয় বিষয়টি এমন নয়? বরং অর্থনৈতিকভাবেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কিংবা ভারতের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভক্ত-অনুরাগীদের দেখার অপেক্ষা এখন আইসিসি কেমন সিদ্ধান্ত নেয়।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করছে পাকিস্তান

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এ বিষয়ে ঘোষণা আসার কথা থাকলেও রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে, বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   এ পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য বাস্তব হয়েছে। বিশ্বকাপে না যাওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের এখন কোনো কাজ নেই। তাই তাদের জন্য আড়াই কোটি টাকার ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ইতোমধ্যেই অধিনায়ক ও কোচের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সালমান ও বাবরের মতো তারকা ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে পিসিবি তাদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করছে। সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপে না গেলে লাহোরে চার দলের অংশগ্রহণে একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তিন দলের ঘরোয়া লিগ আয়োজন করছে।   পিসিবির চারটি দল হবে ‘দ্য পাকিস্তান’, ‘শাহিন্স’ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দল। খেলোয়াড়দের ভাগ করে এই দলগুলো অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশও একই পথে হেঁটেছে; তাদের তিন দলের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্টেডিয়ামে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি, নতুন নীতিমালা কার্যকর করল বিসিবি

শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রবেশে নতুন ও কঠোর নীতিমালা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকেই এই সংশোধিত প্রবেশব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আগে যেভাবে নিয়মিত ও তুলনামূলকভাবে সহজে সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে কাজ করতে পারতেন, সেই সুযোগ আর থাকছে না। বিসিবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে চলমান নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সংশোধিত প্রবেশ নীতিমালা এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং এটি শুধু সাধারণ দর্শনার্থী নয়, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাংবাদিকরা আর যেকোনো সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতেই মিডিয়ার প্রবেশাধিকার থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—ম্যাচের দিন, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন, বিসিবির সরাসরি আমন্ত্রণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বোর্ডের পক্ষ থেকে পূর্বঘোষিত নির্দিষ্ট অনুশীলন বা ট্রেনিং সেশন। এসব সময় ছাড়া অন্য কোনো দিন বা সময়ে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকছে না। এর আগে দীর্ঘদিন ধরেই শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সুবিধা ব্যবহার করে সাংবাদিকরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করতেন। অনুশীলন চলাকালীন বা ম্যাচের বাইরের দিনগুলোতেও স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ কিংবা বোর্ড সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাটা ছিল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিসিবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সে কারণেই প্রবেশব্যবস্থায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বোর্ড আরও জানিয়েছে, এই নীতিমালা সাময়িক নয়; বরং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে আপাতত সাংবাদিকসহ স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সবাইকে এই নতুন নিয়ম মেনেই চলতে হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আড়াই কোটি টাকার নতুন টুর্নামেন্টের কোচ-অধিনায়ক যারা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফলে দেশের ক্রিকেটাররাদের এখন কোন কাজ নেই। এই সময়ে তাদের খেলার মধ্যে রাখতে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। দেশের সেরা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপ ২০২৬। টুর্নামেন্টে তিনটি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। যেখানে ধুমকেতু একাদশের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। দুর্বার একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দুরন্ত একাদশের নেতৃত্বে থাকবেন আকবর আলি। এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও পুরস্কার মিলিয়ে সর্বমোট খরচ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোচিং বিভাগেও রয়েছে তারকা সব কোচরা। ধুমকেতু একাদশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তার সহকারী হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দুর্বার একাদশের কোচিং প্যানেলে প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও সহকারী কোচ তুষার ইমরান। আর দুরন্ত একাদশের প্রধান কোচ হান্নান সরকার, সহকারী কোচ হিসেবে আছেন রাজিন সালেহ আলম। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম, যা ম্যাচের কৌশল ও পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে বিসিবি। টি–টোয়েন্টি কাপের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো, আর ৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন ম্যাচের আগে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে পরিবেশনা, এরপর সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে দিনের খেলা। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ইস্টার্ন গ্যালারির জন্য ১০০ টাকা, নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ডের ২০০ টাকা, ক্লাব হাউসের টিকিট ৫০০ টাকা এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ১,০০০ টাকা।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
উইকেট লাভের পর ইমনের উদযাপন। ছবি : বিসিবি
জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান সমাপ্তি

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে আড়াইশ পার করা পুঁজি দাঁড় করায় জুনিয়র টাইগাররা। বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে যুবারা। এর ফলে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের জয় দিয়েই সমাপ্তি ঘটলো। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ২০ রান তোলেন রিফাত বেগ এবং জাওয়াদ আবরার। ১৪ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন রিফাত। এরপর ক্রিজে আসেন আজিজুল হাকিম তামিম। বেশ সংগ্রাম করে এগিয়েছেন তামিম এবং আবরার। ৪৮ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে আবরার বিদায় নেন। তবে দারুণ লড়াকু ব্যাটিংয়ে চাপের মুখে ফিফটি হাঁকান তামিম। ৮৭ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন তিনি। তামিম ছাড়াও লড়াকু ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেছিলেন রিজান হোসেন। ফিফটির আগেই থেমেছেন যদিও। ৬৮ বলে ৪৭ রান করে বিদায় নেন রিজান। মাঝে টপাটপ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় বাংলাদেশ। আড়াইশ তো দূর, ২৪০ করতে পারলেই মনে হচ্ছিল সন্তুষ্ট থাকা যাবে। তবে ঠিকই আড়াইশ পার করেছে বাংলাদেশ। শেষ দিকে শাহরিয়ার আহমেদের ১১ বলে ১৫ রানের ক্যামিওর সাথে ১৩ বলে ২৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন আল ফাহাদ। শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তোলে বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে আসে ৩৯ রান, শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৭৯ রান। ইকবাল হোসেন ইমন ২ বলে ৮ রান করে টিকে ছিলেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন টাটেন্ডা চিমুগোরো, শেলটন মাজভিটোরেরা এবং মাইকেল বিলগনাট। বোলিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন ইকবাল হোসেন ইমন। জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে দলের ৬ রানের মধ্যে ফিরিয়েছেন তিনি। তিনে নামা কিয়ান বিলগনাটকে বিদায় করেছেন আল ফাহাদ। ১৫ রানের মধ্যে হাওয়া ৩ উইকেট। এরপর আরও ২ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। যদিও মাঝে একটা জুটি হয়েছে। অধিনায়ক সিমবারাশা মুদজেনগেরেরের সাথে লিরয় চিওয়াউলার জুটিতে এসেছে ২৭ রান। লিরয়কে বোল্ড করে জুটি ভেঙেছেন সেই ইমন। পরে মাইকেল বিলগনাটকেও ফেরান ইমন। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি টাইগার পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। পরে ব্রেন্ডন এনদিওয়ানিকে ফেরান রিজান হোসেন। ৩৭ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিয়েছেন ব্রেন্ডন। অধিনায়ক সিমবারাশা অবশ্য টিকে ছিলেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংসকে টানতে থাকেন তিনি। সুযোগ বুঝে বের করছিলেন বাউন্ডারিও। রানও বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। নিজে চলে যান ফিফটির কাছাকাছি। আরেক প্রান্তে টাটেন্ডা চিমুগোরো বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১২ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তাকে ফেরান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম, দারুণ স্টাম্পিং করেছেন ফরিদ হাসান। ১১ বলে ২ রান করা পানাশে মাজাইকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন ইমন। শেষ দিকে বাংলাদেশের জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। অধিনায়ক সিমবারাশা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন, তুলেছেন ফিফটিও। শেষ দিকে সিমবারাশার ব্যাটে চড়েই এগিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১২১ বলে ৭০ রান করে দলের ১৭৩ রানের মাথাতে আউট হন অধিনায়ক। তাকে ফিরিয়েছেন আল ফাহাদ। শেলটন মাজভিতোরে ৪২ বলে ৪২ রান করে টিকে ছিলেন। ১৭৯ রান করে থেমেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ২ উইকেট তোলেন আল ফাহাদ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন রিজান হোসেন এবং আজিজুল হাকিম তামিম। বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই আসরের সমাপ্তি টানল টাইগাররা। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতল ইকবাল হোসেন ইমন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাব দিয়ে উগান্ডার পোস্ট- ‘পাসপোর্ট গরম’

পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মহসিন নাকভি দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে পোস্ট দিয়ে জানান, ‘আইসিসির বিষয়’ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা সোমবার জানানো হবে।   এরই মধ্যে ভারতকে ম্যাচ খেলতে না চাওয়ার কারণে বাংলাদেশ বাদ পড়ায় তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে স্কটল্যান্ডকে। যদি পাকিস্তানও সরে দাঁড়ায়, তাহলে সেই শূন্যস্থান পূরণে আইসিসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে উগান্ডা তাদের প্রার্থিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা লিখেছে, ‘প্রিয় আইসিসি, যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো জায়গা খালি হয়, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত—ব্যাগ গোছানো এবং প্যাড পরা। পাসপোর্টগুলোও প্রস্তুত। কোনো বেকারকে ওভেনে রাখতে হবে না বা কোনো জাহাজকেও মাঝপথে ইউ-টার্ন নিতে হবে না। গরম, শোরগোল বা চাপ? আমরা আমাদের সাহসী কিট (জার্সি) নিয়েই আসব।’   ধারণা করা হচ্ছে, উগান্ডা বোঝাতে চাইছে, শেষ মুহূর্তে আইসিসি যদি তাদের বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব দেয়, তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে। সম্প্রতি আইসল্যান্ড ক্রিকেটের একটি পোস্টকে ইঙ্গিত করে উগান্ডা এমন ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছে। পাকিস্তান না খেললে আইসল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, পরে তারা নিজেদের সরিয়ে নেয়।   উগান্ডা লিখেছে, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ঘোষণা করছি, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে আমরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হইনি। আমাদের হার উগান্ডার জন্য অর্জন, পাকিস্তানকে শুভ কামনা।’ এর মধ্যেও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই তাদের স্কোয়াড কলম্বো পাঠানোর দিন নির্ধারণ করেছে। তারা ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে পৌঁছাবে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান

পাকিস্তান আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আসরের শুরু মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান আবারো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে ভাবছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।   পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হবে। মূলত এই ম্যাচের টসের পরই পাকিস্তান জার্সি উন্মোচন করার কথা ছিল। তবে এখন সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো কারণ জানিয়েছে না।   পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, আগামী সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।   গত ২৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নাকভি। সেখানে দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের এই বিশ্বকাপ খেলা সম্পূর্ণভাবে দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসিসি ও ক্রিকেটার সংগঠনের সংঘাত তীব্র

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নতুন এক ঝামেলায় পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) আইসিসিকে তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; এবার ডব্লিউসিএ ও আইসিসি মূলত ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অধিকার, ছবি ও তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, ২০২৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে যে নতুন শর্ত পাঠিয়েছে, তা ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে মিলে না। সংগঠনটির মতে, নতুন শর্তগুলো অনেক বেশি ‘শোষণমূলক’ এবং খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট গত ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো এক মেমোতে আটটি ক্ষেত্রে আইসিসির অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার, বাণিজ্যিক লাইসেন্স এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, আইসিসি ও সদস্য বোর্ডগুলো খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সুরক্ষাগুলো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এমনকি তাদের ‘মালিকানা’ দাবি করছে। প্রথম চুক্তিতে বলা হয়েছিল, সব বিষয়ে খেলোয়াড়রা নিজেরা বা সংগঠনের মাধ্যমে দর-কষাকষি করতে পারবেন। কিন্তু আইসিসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, বোর্ড যা বলবে তা-ই কার্যকর হবে এবং খেলোয়াড়দের সম্মতির প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার নিয়ে নতুন শর্ত বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আইসিসি চায়, কোনো তৃতীয় পক্ষ খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহার করতে পারবে এবং বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তা বাণিজ্যিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ডব্লিউসিএ এর বিরোধী, বলছে তথ্যের মালিকানা খেলোয়াড়ের এবং তাদের অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা যাবে না। আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তি কেবল আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য। এই আট বোর্ড হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলার শর্ত মেনে না নেওয়ায় এই তালিকায় নেই। বাকি ১২টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও আরব আমিরাতের বোর্ড ডব্লিউসিএকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এসব দেশের খেলোয়াড়রা সংগঠনের সদস্য নয়। অন্যদিকে ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার খেলোয়াড়রা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কোনো শর্তাবলি পাননি। মোফাট জানিয়েছে, ডব্লিউসিএ বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চায় না। তবে আইসিসির শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর ভিন্ন শর্ত চাপানো দুঃখজনক। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টই আয় করার প্রধান উৎস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কম বেতন পাওয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড়দেরই এই শোষণমূলক চুক্তির লক্ষ্য করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইসিসি ডব্লিউসিএর পরবর্তী চিঠির জবাব দেয়নি। ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদনের প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই দ্বন্দ্ব বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিতর্ক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও বোর্ড উভয়ের জন্যই চাপ এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
পাকিস্তান ক্রিকেট দল । ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর সময় পেরিয়ে গেছে

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এখন আর পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক সময় ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে এবং এখন পিসিবির পক্ষে বিশ্বকাপ বয়কট করা বাস্তবসম্মত নয়।   সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চাইলে পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। এই মন্তব্য আসে আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার পর, যখন নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে প্রায় ২০ দিন ধরে আলোচনা চলে। আইসিসির পক্ষ থেকে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে জানানো হয়, ভারতে বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে না সরায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ সি-তে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এই ঘটনার পর পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে। নাকভি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জানানো হয়, পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩০ জানুয়ারি বা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হতে পারে। তবে রশিদ লতিফ মনে করেন, এখন সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ আর নেই। ইউটিউব চ্যানেল কট বিহাইন্ডে তিনি বলেন, ‘এখন আর আন্দোলনের সময় নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি সঠিক সময় থাকে। যখন লোহা গরম থাকে, তখনই আঘাত করতে হয়। সেই সময়টা ছিল গত সপ্তাহে আইসিসি বৈঠকের সময়।’ এর আগে লতিফ নিজেও পিসিবিকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি ভিন্ন একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, পাকিস্তান চাইলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, এমনকি ফাইনাল হলেও। পাকিস্তান ও ভারত গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে এবং দুই দল মুখোমুখি হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোতে। গত বছর এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, যার সবকটিতেই জয় পায় ভারত। মাঠের বাইরেও তখন হ্যান্ডশেক না করাসহ নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে নীরবতা ভাঙল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে চলমান বিতর্ক প্রায় তিন সপ্তাহ পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।   প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরুতে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে নয়—এমন যুক্তিতে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনার পরপরই এই আবেদন করা হয়।   আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেয়। নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। বাংলাদেশের জায়গায় বাছাইপর্বে ব্যর্থ দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ র‍্যাঙ্কধারী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   এ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি ওঠে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবতে পারে অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পুরো পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নীরব ছিল শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় কলম্বোর নীরবতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না তার দেশ। তিনি জানান, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিরোধে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং এই তিন দেশই তাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলে, যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলছে। সে কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটিও রয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে জানান, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এবার অস্ট্রেলিয়াও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে আসন্ন এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।   পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিএনএন এইচডি-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিকে কেন্দ্র করেই এই অবস্থান নিয়েছে দেশটি। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার জানিয়েছেন, তারা পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত পরিস্থিতির ওপর অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। আপাতত অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান প্রোটোকল পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটি। এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও অস্ট্রেলিয়া এখনই নিজেদের বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেনি। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপা ভাইরাস করোনাভাইরাসের তুলনায় আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিপা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সতর্কতা আরও জোরালো হচ্ছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের অবস্থানের পর ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশও ভারতে গিয়ে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এরই মধ্যে পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ দলের এই আসরে মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি ৩৫টি ভারতে হওয়ার কথা ছিল।   তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
গাজী সোহেল ও শরফদৌল্লা । ছবি : সংগৃহীত
লিটনরা না থাকলেও বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাচ্ছেন দেশের দুই আম্পায়ার

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ দল। ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে দল না থাকলেও ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে বিশ্বকাপে থাকছেন বাংলাদেশের দুই আম্পায়ার। আইসিসির ঘোষিত ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন গাজী সোহেল ও শরাফউদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা এই দুই আম্পায়ার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বকাপের জন্য মনোনীত ম্যাচ রেফারিদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ডিন কস্কার, ডেভিড গিলবার্ট, রঞ্জন মাদুগালে, অ্যান্ড্রু পাইক্রফট, রিচি রিচার্ডসন এবং জাভাগাল শ্রীনাথ। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের জন্য বিস্তৃত আম্পায়ার প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে রয়েছেন কুমার ধর্মসেনা, ক্রিস গ্যাফানি, রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ, রিচার্ড কেটলবরো, নিতিন মেনন, পল রেইফেল, রডনি টাকার, অ্যালেক্স ওয়ার্ফসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আম্পায়াররা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন শরাফউদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ও গাজী সোহেল।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
টানা ছয় জয়ে বাংলাদেশ নারী দল

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলাদেশ নারী দল জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নেপালের কীর্তিপুরে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও মজবুত করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে দল। ওপেনিংয়ে দিলারা আক্তার ২৮ বলে ৩৯ রান করেন, আর জোয়াইরিয়া ফেরদৌস খেলেন ২২ রানের ইনিংস। তিন নম্বরে নেমে শারমিন আক্তার ১০ বলে ১৫ রান করে রানআউট হন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারির ১০০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি হয়। ঝোড়ো ব্যাটিং করেও সোবহানা ৪৭ রান করেন। অন্যদিকে নিগার অপরাজিত ৫৬ রান করে দলের জয়ের মূল ভিত্তি গড়েন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড কখনোই ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বাংলাদেশের বোলারদের তোপে তারা ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায়। শেষ পর্যন্ত পিপা স্প্রাউলের অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংসের ফলে স্কটিশরা ৯ উইকেটে ১০১ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন, আর স্বর্ণা আক্তার শিকার করেন ১৩ রানে ২ উইকেট। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশ নারী দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও মজবুত করেছে। এর আগে টানা পাঁচ জয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী দল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙল শ্রীলঙ্কা

নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো লঙ্কান ভূমিতে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছিল। আইসিসি সেটা তো মানেই-নি, উলটো বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ডাকা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশে এই বিরোধের পুরো সময়জুড়ে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নীরব অবস্থান বজায় রেখেছে।   অবশেষে দীর্ঘ সময় পর মুখ খুললেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে। এ প্রসঙ্গে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কলম্বো। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, সে বিষয়ে আমরা নিরপেক্ষ থাকছি। এই তিন দেশই আমাদের বন্ধুপ্রতিম। তবে অনুরোধ জানানো হলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্যই শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত।’ বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে দাবি করে তারা না অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আগামীকাল (শুক্রবার) কিংবা সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির। সবমিলিয়ে সালমান-বাবরদের খেলা দোলাচালে। তবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার আয়োজন করছে অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। এ প্রসঙ্গে লঙ্কান ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা বলছেন, ‘টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই সব অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে।’   আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হওয়ার কথা। সেই ম্যাচের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান বয়কটের পর বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী আইসল্যান্ড

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ অনিশ্চয়তার মাঝে একটি মজার প্রস্তাব সামাজিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের জায়গায় খেলতে প্রস্তুত আইসল্যান্ড। এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবার অথবা সোমবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আইসল্যান্ড ক্রিকেট রসিকতার সুরে জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি ২ ফেব্রুয়ারি আগে সরে দাঁড়ায়, তারা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য রওনা দিতে প্রস্তুত। তবে ৭ ফেব্রুয়ারির আগে কলম্বো পৌঁছানো কঠিন হবে, তাদের ওপেনার আবার ঘুমাতে পারবে না। তারা এমনকি কেফলাভিক থেকে কলম্বো পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছে, যা শেষ মুহূর্তের ঝামেলার উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর আগে আইসিসি নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। বাংলাদেশ ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ২০ দলের এই বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে যে দল খেলেছে, প্রায় একই দল রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান খেলবে কি না, তা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
অ্যারন জোন্স। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দলে বড় ধাক্কা এলো। অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুর্নীতিবিরোধী বিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ ওঠায় তাকে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।   আইসিসি জানিয়েছে, জোন্সের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ক্যাম্পে থাকা ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দল গঠনের কথা ছিল। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত সেই দলে জোন্সের থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। আইসিসির তথ্যমতে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বড় অংশই ২০২৩–২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত বিম-১০ (Bim10) টুর্নামেন্টকে ঘিরে, যা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি দুটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংশ্লিষ্ট, যা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের আওতায় পড়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, এই মামলা একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর অ্যারন জোন্স যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছেন ৫২টি ওয়ানডে ও ৪৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও নিয়মিত ছিলেন তিনি—ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), বিপিএল ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) খেলেছেন জোন্স। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে জোন্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘গৃহযুদ্ধ’!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেজন্য ইতোমধ্যেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বৈঠক করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী নেবে সেটা জানা যায়নি। তবে আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেটে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। বোর্ডকে তারা নাকি কড়া বার্তা দিচ্ছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টিকে ভালোভাবে ভাবারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ় জানান, পাকিস্তানকে বিশ্বকাপের জন্য দল পাঠাতে। পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ ও সচিব আরিফ আলি আব্বাসি জানান, তারা বিশ্বকাপে দল না পাঠানো নিয়ে কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। আব্বাসি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করছে। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে ওরা বিশ্বকাপে দল পাঠাবে না বলছে? এটা করলে আইসিসি’র সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে।’ আরিফ আলি আব্বাসি অতীতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অংশ ছিলেন। তিনি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর পক্ষে। কারণ পাকিস্তান বিশ্বকাপে দল না পাঠালে শ্রীলঙ্কা আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকিস্তানের সাবেক মাহমুদের পরামর্শ, বাংলাদেশকে একমাত্র পাকিস্তান সমর্থন করেছে। এছাড়া, অন্য কোনও বোর্ড বাংলাদেশকে সমর্থন করেনি। একই সুর পাকিস্তানের সাবেক নির্বাচক ও টেস্ট ক্রিকেটার মহসিন খানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভারতের সমস্যা রয়েছে তাই আমরা আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছি। তা হলে কেন পিসিবি দল পাঠাচ্ছে না? এটা ক্রিকেটের জন্য খারাপ।’ সাবেক অধিনায়ক ইনজ়ামাম উল হক এবং মোহাম্মদ ইউসুফও পিসিবিকে পরামর্শ দেন দলকে বিশ্বকাপে পাঠানোর জন্য। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর এখন গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সুর নরম আইসিসির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। এরই মাঝে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও বিশ্বকাপের সংবাদ কাভারের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে নিজেদের অবস্থানে যেন সুর নরম করতে যাচ্ছে আইসিসি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশনের অনুরোধ বাতিল হয়েছে দাবি করার পর আবেদন প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে আইসিসি। সংস্থাটির সূত্র বলছে, ‘আবেদনের সংখ্যা ও সূচিতে পরিবর্তন আনার পর থেকে পুনরায় (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়া চলছে। যথাক্রমে অ্যাক্রেডিটেশন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ৮০-৯০ জন সাংবাদিক মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদন করেছে। যদি তাদের দল আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণও করে, তবুও সবার অনুমতি মিলবে না। সূত্রের বরাতে পিটিআই বলছে, ‘প্রতিটি দেশের জন্য একটা নির্দিষ্ট কোটা থাকে। ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে কার্ড দেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি সাংবাদিক আবেদন করেছেন। প্রত্যেককে দেওয়া যাবে না। কাদের কার্ড দেওয়া হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর তাদের অনুমতি দেওয়া হবে।’ এদিকে, সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভারেজের সুযোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে আইসিসির কাছে মেইল করেছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সিদ্ধান্তটা এসেছে। এরপর আমরা জানতে চেয়েছি, ব্যাখ্যা চেয়েছি। ওটা ভেতরের গোপনীয় বিষয়, কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে (তার দেশ) অংশ্রগ্রহণ করতেই হবে। (২০১৩) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন কাভার করতে। এ ছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের দল কখনো অংশ নেয়নি কিন্তু সাংবাদিকরা নিয়মিত যান কাভার করতে।’ এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত আইসিসি কেমন সিদ্ধান্ত নেয়।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
রিশাদ ও বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ সাকলায়েন মুশতাক। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন সাকলায়েন মুশতাক

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আইসিসি বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এমন সিদ্ধান্তে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া রীতিমতো তোলপাড়। এ ব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি সরব পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। ওয়াসিম আকরাম-শহীদ আফ্রিদিসহ আরও অনেকেই এ নিয়ে কথা বলেছেন। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দেশটির সাবেক অফ স্পিনার সাকলায়েন মুশতাক। খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়—পুরোনো কথাটিই নতুন করে বললেন সাকলায়েন মুশতাক। বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড়, সেই সময়ে প্রসঙ্গটা তুললেন পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নয়, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ। সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলেছেন ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়া, বিভাজন তৈরি করা নয়। ভারত ও পাকিস্তান সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ২০১২–১৩ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। টি-টুয়েন্টি সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকে মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আর ক্রিকেট মাঠে দেখা হয়নি দুই দলের। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবসমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’ সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি কিংবা সংঘাত নয়, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যমই হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাকলায়েন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ক্রিকেটের ময়দানে বাংলাদেশ-ভারতের ‘গুলিবিহীন যুদ্ধ’

পৃথিবীতে নানা ধরনের মিথ্যা কথা অপ্তবাক্য হিসেবে জনপ্রিয়। তবে একটি অপ্তবাক্য এতোটাই মিথ্যা যে তা রীতিমত হাস্যকর। বাক্যটি হচ্ছে খেলাধুলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না। বিরাজনীতিকরণের অদ্ভুত উন্নাসিকতা থেকে উৎসারিত এই বাক্যটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা ভুলে যান যে, আন্তর্জাতিক খেলাধুলা মানেই রাজনীতি। শুধু রাজনীতিই নয়, কেউ কেউ মনে করেন, হাজার হাজার বছর ধরে দেশ দখল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের লক্ষে দেশে দেশে যে যুদ্ধ হতো, তার আধুনিক রূপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার যে শিকারী প্রবণতা, খেলার মাঠে তা কেবল অবদমন করা হয়। আধুনিক যুগে মরণঘাতী যুদ্ধের অভাব রাষ্ট্রগুলো খেলার ময়দানে পূরণ করে।   এই কারণেই জর্জ ওরওয়েল আন্তর্জাতিক খেলাধুলাকে বলেছিলেন, ‘ওয়ার মাইনাস দ্য শুটিং’। এবং সেই নাম ধরে মার্কিন ক্রীড়ালেখক মাইক মারকুইসি ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার রাজনীতি, কূটনীতি এবং এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। ঠিক ৩০ বছর পর, উপমহাদেশে আরেকটি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ক্রিকেট কূটনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী—বাংলাদেশ ও ভারত। এই ঘটনার নানাদিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ক্রিকেট কূটনীতি শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্ক এবং আরও নানা বিষয়কে প্রভাবিত করে। ঘটনার বিস্ফোরণ ঘটে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। ৯ কোটি রুপির বেশি টাকায় তাকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়া হলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাকে দলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বোর্ডের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে দলে রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনের কারণ, ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দলের এক নেতা হুমকি দিয়েছিলেন যে, মুস্তাফিজ আইপিএলে খেললে কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলটির মালিক শাহরুখ খানকেও দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শাহরুখ ভারতের সুপারস্টার হলেও তিনি মুসলমান। মুস্তাফিজও মুসলমান। বিজেপির শাসনে তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বাংলাদেশি মুসলমানদের উপর বহু হামলার নজির রয়েছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী শাসনে অহিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য জীবনযাপন অনিরাপদ। চলমান জাতিগত বিদ্বেষ ও হত্যাকাণ্ডের ধারা দেশে ভয়ঙ্কর মাত্রা পেয়েছে। তবে, সেই বিজেপি দাবি করছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন চলার পর হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণহত্যার চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশটিতে বাংলাদেশকেও প্রায় একই ধরনের সম্পর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা চলছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ঘৃণার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদের প্রভাব জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গত দেড় বছর ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অক্ষমতার কারণে মাজার ভাঙচুর ও মব আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অমুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে। তবে, ভারতের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বিপুল মাত্রায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়নি। বিরোধী মতের ওপর চাপ দিয়ে, স্বৈরশাসক হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারত সরকার পরিস্থিতিকে বিদ্বেষপূর্ণ করতে চায়। হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কঠোর করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শিথিলতা সীমিত। মোদির আমলে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদের খেয়াল রাখে না। মোদির শাসনে আক্রমণাত্মক কূটনীতি ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করে। মুস্তাফিজের ঘটনায় ভারত সরকারের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক ও অন্যদের তুচ্ছ করার মনোভাব থেকে উদ্ভূত। তবে তারা ভুলে গেছে, এর প্রতিউত্তর আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এটি একটি কৌশলগত সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ আসন্ন এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে দলকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত করা সম্ভব। ভারত হয়তো ধারণা করতে পারেনি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। কারণ, আইপিএল বিশ্বকাপের পরে শুরু হবে। তখন মুস্তাফিজের প্রতিহিংসা করলে বাংলাদেশের পক্ষে সীমাবদ্ধতা থাকবে না। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ বিরোধিতা ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় কার্ড। ধর্ম ও ক্রিকেটকে ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরি করা সহজ। প্রশ্ন হলো, মুস্তাফিজ অন্য কোনো অঞ্চলের দলে খেললে কি এমন প্রতিক্রিয়া হতো? রাজনীতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষকে ঘৃণার মাধ্যমে পরিচালনা করা রাজনীতিবিদদের জন্য ফলপ্রসূ। মোদি বা ট্রাম্পের বিজয় তা প্রমাণ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায়। তবে এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাশ কাটিয়ে পরবর্তী সরকারের সঙ্গে করতে চায়। দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এই ধরনের শীতল সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। ভারত বরাবরই পাপেট সরকার বসাতে চেয়েছে। হাসিনার শাসনামল সেই চেষ্টার উদাহরণ। গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন যেকোনো সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। লোকরঞ্জনবাদের যুগে রেটোরিক ও উত্তেজনা রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশের মানুষও প্রায়শই এই উত্তেজনায় আবদ্ধ। “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান যেমন প্রচলিত, তেমন বাস্তব নীতি নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি কীভাবে স্বনির্ভর হবে, ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে—এ নিয়ে কোনো দৃঢ় পরিকল্পনা নেই। অর্থনীতিবিদ মাহা মির্জা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হাসিনার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা, জ্বালানি খাতের চুক্তি—এসব মোকাবিলার জন্য স্বনির্ভর অর্থনীতি ও নীতি প্রয়োজন। মুখে “ঢাকা ঢাকা” বললে জনতুষ্টি হয়, কিন্তু আধিপত্যবাদ ঠেকানো যায় না। ক্রিকেট কূটনীতিতে লক্ষ্য ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। লুজ বলের মতো সুযোগ মিস করলে খেলার সুবিধা হারায়। ভারত লুজ বল দিয়েছে, বাংলাদেশ সুচিন্তিতভাবে ছক্কার মাধ্যমে তা ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের কৌশল ও প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। ভারতকে দেখাতে হবে যে, গুণ্ডামির জবাব দেওয়া যায়। ক্রিকেট বোর্ড নিয়ম মেনে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল পাঠানো হতো না। আয়োজক দেশের জন্য, বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের জন্য, এটি অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ সরকারও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। একদিকে মববাজি, অন্যদিকে ব্যর্থ সরকারের জন্য ভারতবিরোধী কৌশল হলো শক্তিশালী হাতিয়ার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সময় নিজেদের স্কোর বাড়াতে চায়। ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য কী? এক্সিট প্ল্যান কী? বাংলাদেশ কি সম্পর্ক বন্ধ করবে, নাকি দরকষাকষি করে সম্মান নিশ্চিত করবে? বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ হলো ভারতের ভুলকে কাজে লাগানো, দরকষাকষি করা, আইসিসিতে প্রভাব খাটানো। ১৯৯৬ সালে অ-এশীয় ব্লক শ্রীলংকা বয়কট করেছিল। আজহারউদ্দিন ও ইমরান খানের নেতৃত্বে দল খেলে, আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। রাজনৈতিক ব্লকের শক্তি না থাকায় কেনিয়া হারায়। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বেশি এগোয়নি। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই কূটনৈতিক স্বার্থে সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশের বার্তা হবে কেবল ক্রিকেট নয়—তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা, সীমান্ত হত্যা—এসবেও ভারতকে সতর্ক করতে হবে। বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সার্কের মতো সংগঠনের পুনর্জাগরণও প্রয়োজন। কূটনীতি হলো ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতি। ছোট দেশের জন্য বড় দেশের সঙ্গে কৌশলী, একতাবদ্ধ ও বাস্তববাদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওপারের বিজেপি ও ঘৃণাবাদীরা রিয়েল পলিটিকে আগ্রহী নয়। তারা ধর্ম ও উগ্র জাতীয়তাবাদের কার্ড ব্যবহার করে উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চায়। বাংলাদেশ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ একপেশে সম্পর্ক, নতজানু অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা জনগণের দাবি। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া মানসিক ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে পরবর্তী চালগুলো কৌশলী হতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সম্পর্ক বন্ধ করাও চাই না। সমতার কূটনীতি ও সম্মান নিশ্চিতকরণের রাজনীতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শুধু জাতীয়তাবাদী হাতিয়ার না বানিয়ে সত্যিকারের ধারালো করতে হবে। বিশ কোটি মানুষের দেশের বাজার শক্তি অর্জন করতে হবে। মুস্তাফিজের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শক্তি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ব্যবহার করতে হবে। রুডইয়ার্ড কিপলিং বলেছিলেন, হোয়্যাট শ্যুড দে নো অফ ইংল্যান্ড হু অনলি ইংল্যান্ড নো? শুধুমাত্র ইংল্যান্ড জানলেই কি সাম্রাজ্য বোঝা যায়? অনুরূপভাবে, সিএলআর জেমস বলেছেন, হোয়্যাট ডু দে নো অফ ক্রিকেট হু অনলি ক্রিকেট নো? কেবল স্কোর, রান, অ্যাভারেজ মিলে ক্রিকেট বোঝা যায় না; ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, শ্রেণি ও রাজনীতি না বোঝা পর্যন্ত ক্রিকেট বোঝা যায় না।   ক্রিকেট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার। বাংলাদেশের অর্জন প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে হলেও, এটি ভবিষ্যতে ন্যায্যতার লড়াই শুরু করতে পারে। ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0