ক্রিকেট

সংগৃহীত ছবি
শেফালি-স্মৃতির রেকর্ড জুটিতে ভারতের নারী এশিয়া কাপ জয়

ব্যাট হাতে শিরোপার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। এরপর বল হাতে সেই মঞ্চে জয়গান গাইলেন ভারতের বোলাররা।     ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত।     দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। তাদের ছুড়ে দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।       এ জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ।       এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।       এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লে তে লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৫৭ রান তুলে নেন এই দুই ব্যাটার।     এই ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ রান পেরোয় ভারত।         এরপরও চলতে থাকে ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি।     শেফালি ও স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় এক শ পেরিয়ে যায় ভারত।     নারীদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন এই দুজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের গড়া ছয়টি শতরানের জুটিকে স্পর্শ করেছেন তারা।       শেফালির পর ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি ফিরলে ভাঙে ১২৯ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।       শেফালি ও স্মৃতির ১২৯ রানের জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, কমপক্ষে পাঁচ দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটিও।       শেফালি ফেরার পরের ওভারেই ফিরে যান স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রানআউটের শিকার স্মৃতি। ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।       দুই ওপেনার ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন লঙ্কান বোলাররা। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন হারমানপ্রীত। রিচি ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। রানআউট হয়ে ফেরার আগে দিপ্তি শার্মা করেন ৭ বলে ৫ রান।       শেষদিকে গুণালন কমলিনীর পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ।       শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন।       ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।     ৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নেও আউট হন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।     ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত

শুরুতেই ধাক্কা, ৪৩ রানেই পাঁচ উইকেট নেই! সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবি মিলে আফগানিস্তানকে টেনে তুললেন। দুজনের ব্যাটে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পেল দলটি।     কিন্তু সেই পুঁজি নিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগান বোলাররা।     দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।     টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। নতুন বলে আর্শদীপ সিংয়ের দাপটে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় আফগানরা। পরে ওমরজাই-নবির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতের সামনে সেটি যথেষ্ট হয়নি।     ওমরজাই ও নবি মিলে ৫৬ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। নবি ২৭ বলে ৩৩ রান করেন, আর ওমরজাই ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।       শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। জাসপ্রিত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী নেন একটি করে উইকেট।     জবাবে ১৮ রানে সঞ্জু স্যামসানকে হারায় ভারত। তবে এতে থেমে থাকেনি ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং। আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২২ বলে তুলে নেন ফিফটি।       আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৮২ রান করেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল সমান ৭টি ছক্কা ও চার। অভিষেকের বিদায়ের পর জয়ের পথে কোনো সমস্যা হয়নি ভারতের।       ইশান কিশান ৩৩ বলে ৪২ রান করে ভারতের জয়কে সহজ করে দেন। তার আউটের পর বাকি কাজটুকু সারেন শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। ৩৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে ভারত।       এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। একই মাঠে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৮৪ রানের টার্গেট দিল ভারত

নারী এশিয়া কাপের ১০ম আসরের ফাইনালে ভারতের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করেছে ভারত।      জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে শ্রীলংকাকে। কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ফাইনালে এর আগে এত বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই।      রোববার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে উড়ন্ত সূচনা করে ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা ৭৭ বলে ১২৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার ভীত গড়েন তারা। এরপর মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন দুই ওপেনার।       ২৯ বলে ৯টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে ফেরেন শেফালি ভার্মা। ৩৯ বলে ৫টি চার আর তিনটি ছক্কার সাহায্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা।        টুর্নামেন্টের চলতি আসরে দুই গ্রুপে ৪টি করে মোট ৮টি দল অংশ নেয়। এ গ্রুপ থেকে পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ডকে টপকে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর বি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়াকে টপকে ফাইনালে খেলছে শ্রীলংকা।       সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠে যায় শ্রীলংকা।       টুর্নামেন্টের চলতি আসরের শুরু থেকে ফাইনালের আগ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলংকা কোনো ম্যাচে হারেনি। অপরাজিত থেকেই শিরোপার দুয়ারে দুই দল। আজ ফাইনালে কারা জিতবে তা সময়ই বলে দেবে।        ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় নারী এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ৬ আসরে টানা জয় পায় ভারত। তবে দুইবারের হ্যাটট্রিক জয়ী ভারতকে ২০১৮ সালে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।     এরপর ২০২২ সালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সবশেষ ২০২৪ সালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। এবার তারা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে। আর ভারত চায় অষ্টমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করতে। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দলের কোচ হতে প্রস্তুত সুজন

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে কখনই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশি কোচদের আনা হয়েছে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে। কিন্তু বিসিবির কোনো কোচিং প্যানেলে নেই সুজন।   সাবেক এই অধিনায়ক অবশ্য জাতীয় দলকে কোচিং করাতে প্রস্তুত। যদি বোর্ড প্রয়োজন মনে করে, তাহলে জাতীয় দলকে কোচিং করাবেন সুজন। আজ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আমি বলতে পারব না। যদিও আমার ব্রেড অ্যান্ড বাটার কোচিং। বোর্ড যদি মনে করে, আমি সামর্থবান, তারা যদি অফার করে আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।’   আপাতত বিসিবি তাকে যে পরামর্শকের দায়িত্ব দিয়েছে সেখানেই মনোযোগ সুজনের, ‘এখন তো একটা দায়িত্ব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট- গেম ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্ট। উনি হয়ত ভেবেছে, আমি এখানে অবদান রাখতে পারব। আমাকে যোগ্য মনে করার জন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করব। ফাহিম এখানে চেয়ারম্যান, তার সঙ্গেও আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে।’   মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে নাকি সুজনের সম্পর্ক ভালো নয়। সুজন অবশ্য এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘এটা তো মানুষ বলে। কী ঝামেলা? আমি আর সালাউদ্দিন তো এটা মনে করি না। ছোট বেলা থেকে দুজন দুজনকে ভালোভাবে চিনি, একসঙ্গে খেলেছি। এরপর দুজনই কোচিংয়ে এসেছি। ওর সঙ্গে সবসময় আমার সুসম্পর্ক।   ‘সে কোচ হিসেবে নিজেকে অনেক পরিণত করেছে, অনেক বড় পরিসরে কোচিং করাচ্ছে। আমার মনে হয় না তার সঙ্গে কখনও কোনো সমস্যা ছিল। সালাউদ্দিনই এটা বলবে। আমাদের সবসময়ই কথা হয়, ফোনেও কথা হয়। কোচিংয়ে দুজন দুই দলকে কোচিং করিয়েছি। কখনও সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কখনও আমি। এটার জন্য তো সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বরং সে ভালো করলে আমি খুশি হই।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টেস্টে সর্বাধিক ফিফটির রেকর্ড এখন রুটের, পেছনে ফেললেন টেন্ডুলকারকে

পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন জো রুট। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতক হাঁকানোর কীর্তিতে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি।   রান তাড়ার ম্যাচে দলের প্রয়োজনের সময় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। তার ৬২ রানের ইনিংসটি ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬৯তম ফিফটি।   টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ ম্যাচ খেলে ৬৮টি অর্ধশতক করেছিলেন টেন্ডুলকার। রুট অবশ্য তার চেয়ে ৩১টি ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ৬৬ রান করে টেন্ডুলকারের ৬৮ ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ইংলিশ ব্যাটার। এবার এজবাস্টনে আরও এক ফিফটি করে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন।   টেস্টে সর্বাধিক অর্ধশতকের তালিকায় রুটের পর আছেন টেন্ডুলকার (৬৮), শিবনারাইন চন্দরপল (৬৬), অ্যালান বর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) এবং রিকি পন্টিং (৬২)।   তবে ফিফটি প্লাস ইনিংসের হিসাবে এখনো রুটের ওপরে রয়েছেন টেন্ডুলকার। ৫১ সেঞ্চুরি ও ৬৮ ফিফটি মিলিয়ে টেন্ডুলকারের এমন ইনিংসের সংখ্যা ১১৯টি। রুটের রয়েছে ১১০টি—৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি নিয়ে। এই তালিকায় জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিং ১০৩টি করে এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯টি ফিফটি প্লাস ইনিংস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন।   এজবাস্টনে রুটের এই ইনিংসটি আরও দুটি মাইলফলক এনে দিয়েছে। প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই মাঠে টেস্টে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।   এজবাস্টনে ১১টি টেস্ট খেলে রুটের সংগ্রহ এখন ১ হাজার ১৮ রান। একই মাঠে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অ্যালেন কুক।   এ নিয়ে ইংল্যান্ডের চারটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্টে এক হাজারের বেশি রান করার কীর্তি গড়লেন রুট। এর আগে লর্ডসে ২ হাজার ২০৩, ম্যানচেস্টারে ১ হাজার ১২৮ এবং ওভালে ১ হাজার ৫০ রান করেছিলেন তিনি। বিশ্বের আর মাত্র দুই ব্যাটার—জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিং—চারটি ভিন্ন মাঠে এক হাজারের বেশি টেস্ট রান করেছেন।   বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে রুটের মোট রান ১৪ হাজার ২৭৮। শচীন টেন্ডুলকারের ১৫ হাজার ৯২১ রানের সর্বোচ্চ টেস্ট রানসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়েও এগিয়ে চলেছেন ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজাউল্লাহর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বদলে গেল হিসাব, সাইমের ফ্লাইট বাতিল

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট তিন দিনেই শেষ হবে—এমন হিসাব ধরেই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবকে ক্যারিবিয়ানে ফেরাতে বিমানের টিকিট কেটেছিল ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দল জ্যামাইকা কিংসমেন। তবে পাকিস্তানের ব্যাটার রাজাউল্লাহর দুর্দান্ত ইনিংস ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই ফ্লাইটে ওঠা হয়নি সাইমের।   তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সাইমের যুক্তরাজ্য থেকে বার্বাডোজে ফেরার কথা ছিল। এ জন্য জ্যামাইকা কিংসমেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনুমতিও নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাজাউল্লাহর রেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে ম্যাচ গড়ায় চতুর্থ দিনে। ফলে সাইমের নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়।   ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হলে সাইমকে ওই রাতেই ক্যারিবিয়ানে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল জ্যামাইকার। ম্যাচ চতুর্থ দিনে গড়ানোয় তার ফেরার সময় একদিন পিছিয়ে যায়।   জাতীয় দলের হয়ে হঠাৎ ডাক পাওয়ার আগে সিপিএলে জ্যামাইকার হয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন সাইম। পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে অপ্রত্যাশিতভাবে জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিবিয়ান ছেড়ে সরাসরি যুক্তরাজ্যে দলের সঙ্গে যোগ দেন।   তবে সাদা পোশাকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। বল হাতেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি।   এদিকে সাইমের ফ্লাইট পিছিয়ে গেলেও জ্যামাইকা কিংসমেন শেষ পর্যন্ত বার্বাডোজের কাছে পরাজিত হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের হয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাইমের অনুপস্থিতিতে দলটি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের কাছেও হেরেছিল।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রোটিয়াদের উড়িয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিন ম্যাচের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১ ওভার খেলে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতেই ভেস্তে গেছে। তাই তৃতীয় ম্যাচটিই ছিল সিরিজ নির্ধারণী। আর এই ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।   ১৮৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯২ রান। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় সফরকারীরা। দুই ওপেনারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। ৫৩ বলে ৬১ রান করেন সাইফ হাসান। আর ৭৭ বল খেলে ৬০ রান করতে পেরেছেন মোহাম্মহ নাঈম শেখ।   এদিকে আউট হওয়ার আগে পারভেজ হোসেন ইমন ১৭, নুরুল হাসান সোহান ১৬ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ৩ রান করেন। পরে রিশাদ হোসেনকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন আফিফ হোসেন। ৬ রানে আফিফ ও ৫ রানে রিশাদ অপরাজিত থাকেন।   ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। কিন্তু আলিস এবং রিশাদের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটাররা। আসা-যাওয়ার মিছিলে রিভালদো মুনসামি ১, সিনেথেম্বা ৫, ম্যাথিউ ডি ভিলিয়ার্স শূন্য, মিহলাই ৪ ও ডিয়ান ফরেস্টার ৬ রান করেন।   দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো ইনিংস খেলেন মার্কুয়েস অ্যাকেরম্যান ও ইমরান মানাক। ফিফটি পূরণের পর ৫৪ রানে থামেন অ্যাকেরম্যান। শেষদিকে ৪৩ রান করেন ইমরান। এছাড়া কাইল সিমন্ডস ১৫, মারেকি ৯ ও ওকুহলে চেলে ৪ রান করেন। ১৮২ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।   বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন। ৪৫ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তিনি। মাত্র ৩৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজে ধবলধোলাই পাকিস্তান

ইংল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যায় বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট দল।   সফরের শুরুতে গা গরম করার ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও আনুষ্ঠানিক সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি বাবর আজমরা।   লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। দুই ইনিংসে ১৭১ ও ১৩৫ রানের বেশি কারতে পারেনি বাবর আজমরা।   লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজে ফেরার প্রত্যয়ে মাঠে নেমে ১১০ ও ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে; পাকিস্তান হেরে যায় ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে।   বার্মিংহামে সদ্য শেষ হওয়া এজবাস্টন টেস্টে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া পাকিস্তান; শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে অলআউট হয়।   জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫টি ফিফটির সাহায্যে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড। ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চারটি ফিফটির সাহায্যে ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান।   শনিবার এজবাস্টন টেস্টের চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে ম্যাচসেরা মিরাজ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। স্রেফ ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ৪ উইকেট শিকারের সুবাদে জিতল গায়ানা। ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের ম্যাচে মিরাজ ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন। ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক গায়ানা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তোলে। ৪ ওভারে স্রেফ ২৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। পরে লক্ষ্য তাড়ায় ১৮.৪ ওভারে গন্তব্যে পৌঁছে যায় ইমরান তাহিরের নেতৃত্বাধীন গায়ানা। এর আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো শুরু পেয়েছিল। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তোলার পর তাদের প্রথম আঘাতটা দেন মিরাজ। ১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে দেন বাংলাদেশি তারকা। ২২ রান করা অ্যালেক্স হেলসকে থামান আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ বয়সে (৪৭) ফাইফারের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইমরান তাহির।  জাস্টিন গ্রিভস মাঝে ৩৭ বলে ৩৫ রান করেন। এ ছাড়া ত্রিনবাগোর আর কোনো ব্যাটারই দলের হাল ধরতে পারেননি। নিকোলাস পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করার পর জিড গুলি ও সুনীল নারিনকেও আউট করেছেন মিরাজ। ত্রিনবাগোকে ১২৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পথে টাইগার স্পিনার ৪টি এবং শামার জোসেফ ২ উইকেট শিকার করেন। পরে লক্ষ্য তাড়ায় গায়ানা দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় ৩৬ রানের মাথায়। এরপর শিমরন হেটমায়ার (৩৫ বলে ৪২) ও শাই হোপ (১৯ বলে ২৮) দলকে জয়ের পথে টেনে নিয়ে যান। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুই করতে পারেননি মিরাজ। ১৪ বল খেলে করেছেন স্রেফ ২ রান। তবে জয় পেতে অসুবিধা হয়নি গায়ানার। আগে থেকেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটির ৯ ম্যাচে পয়েন্ট ১৬। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে দুই নম্বরে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত
রিজওয়ান-ইমামের মোবাইল জব্দ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা

ঘোর দুঃসময় যাচ্ছে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের। ইংল্যান্ড সফর থেকে এই দুজনসহ সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জব্ধ করা হয়েছে মোবাইল। সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন দুজন। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা- এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল ইমাম ও রিজওয়ানের জন্য।   প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস টেস্ট করিয়ে তার প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু রিজওয়ান ও ইমাম তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় দলের সঙ্গে ফিটনেস টেস্টে অংশই নেননি। ফলে দুই খেলোয়াড়ই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না।   এদিকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবর, রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছে সেদেশের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)। তাদের   মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় দুজনকে।   আগেই তাদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার তারা সেই ফোন দুটি জমা দিয়েছেন এনসিসিআইএ’র কাছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় তাদের। জিও নিউজ জানায়, দুই ক্রিকেটারকে তলব করে এনসিসিআইএ। একটি তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। আরও এক ক্রিকেটার নোটিশ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।   ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তা খতিয়ে দেখা হবে। কেন ক্রিকেটারদের মোবাইল নেওয়া হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি বা এনসিসিআইএ। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এ দুই ক্রিকেটার।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছক্কার ঝড়ে পাকিস্তানকে বাঁচালেন রাজাউল্লাহ, ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে

পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পড়ল যখন, তারা ইনিংস হার এড়াতে পারবে কি না বা ইংল্যান্ড কত দ্রুত জিতে যাবে, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ তখন বেশি। তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার মঞ্চ তখনও প্রস্তুত। কিন্তু পাল্টে গেল সবার ধারণা। অভিষেকে পাল্টা আক্রমণে ছক্কার ঝড়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন রাজাউল্লাহ। ইনিংস হারের শঙ্কা এড়িয়ে ম্যাচ চতুর্থ দিনে টেনে নিল পাকিস্তান।   সিরিজের শুরু থেকে ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান এজবাস্টন টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে উপহার দিল দারুণ ব্যাটিং। সিরিজে আগের পাঁচ ইনিংসেই দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া দল এবার করল ৪৪৯ রান।   আজান আওয়াইসের ৫৯, শান মাসুদের ৯৫ ও বাবর আজমের ৭৬ রানের পরও একটা সময় পাকিস্তানের সাড়ে তিনশ হওয়া নিয়েই ছিল প্রবল শঙ্কা। রাজাউল্লাহ ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন যখন, দলের রান তখন ৭ উইকেটে ৩১২, ইনিংস হার এড়াতে তখনও প্রয়োজন ৮ রান, অষ্টম উইকেট পতনের সময় যা দাঁড়ায় ২ রানে।   সেখান থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চমকপ্রদ প্রদর্শনীতে নবম উইকেটে মোহাম্মাদ আব্বাসের সঙ্গে ১২৩ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ। যেখানে তার একার অবদানই ৭০।   পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৬৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন আব্বাস।   ৬৩ বলে ৮১ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহ। চারটি চারের সঙ্গে তিনি ছক্কা মারেন ৯টি, টেস্ট অভিষেকে কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড এটি।   ২০০৮ সালে অভিষেকে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস বোলিং পরামর্শক ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি। তার পাশে বসলেন রাজাউল্লাহ।   প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে পাকিস্তান যে সাত জনকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়, তাদের একজন রাজাউল্লাহ।   তার বীরত্বেই ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে চতুর্থ দিন রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামবে জো রুটের দল।   উইকেটে পেসারদের জন্য কিছুটা মুভমেন্ট থাকলেও, ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ। দ্বিতীয় দিন শূন্য রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন আজান ও মাসুদ। তৃতীয় দিন প্রথম ঘন্টায়ও ভাঙা যায়নি তাদের জুটি। সুযোগ যদিও এসেছিল, কিন্তু জশ টাংয়ের বলে মাসুদের ক্যাচ ছাড়েন বদলি ফিল্ডার থিও ওয়াইলি।   ৪০ রানে জীবন পেয়ে ৮১ বলে ফিফটি করেন মাসুদ। পানি পানের বিরতির পর আজান ফিফটি করেন ৭৮ বলে।   জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে পার্ট-টাইম স্পিনার ড্যান লরেন্সকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক রুট। কাজে লাগে তার কৌশল। অফ স্পিনারের দ্বিতীয় বলেই লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার আজান। যদিও ইংল্যান্ড উইকেটটি পায় রিভিউ নিয়ে।   ১২৫ রানে থামে জুটি। ১০ চারে ৮৪ বলে ৫৯ রান করেন আজান।   সিরিজে নিজের আগের তিন ইনিংসে দুই অঙ্কে যেতে ব্যর্থ বাবর এবার ইতিবাচক শুরু করেন। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। ৮৩ রান নিয়ে বিরতিতে যান মাসুদ।   বিরতি থেকে ফিরে সেঞ্চুরির পথেই ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু গাস অ্যাটকিনসনের বলে গালিতে লরেন্সের এক হাতে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরতে হয় তাকে মাইলফলক থেকে ৫ রান দূরে থাকতে। ১২ চারে গড়া তার ১৪৮ বলের ইনিংসটি।   বাবর ও মাসুদের জুটিতে আসে ৮৯ রান। বাবর এরপর আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন সাউদ শাকিলকে নিয়ে। ৭৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। দেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে দুই হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।   দীর্ঘ সেঞ্চুরি খরা কাটানোর সম্ভাবনা জাগিয়ে বাজে শটে আউট হন বাবর। টাংয়ের লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারিতে শেষ মুহূর্তে ব্যাট চালান তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নেন কিপার জর্ডান কক্স।   টেস্ট ক্রিকেটে বাবরের সেঞ্চুরি খরা পৌঁছে গেল টানা ৪০ ইনিংসে। সবশেষ তিন অঙ্কের দেখা পান তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, করাচিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।   জফ্রা আর্চারের শর্ট ডেলিভারিতে শাকিল বিদায় নেন ২৯ রান করে। নিজের পরপর দুই ওভারে গাজি ঘরি ও মোহাম্মাদ ইমরানকে কিপারের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন অ্যাটকিনসন।   তখন ৩১৮ রানে ৮ উইকেট হারানো পাকিস্তান সাড়ে তিনশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় রাজাউল্লাহ ‘শো।’   পরের ওভারে টাংকে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামা নিশ্চিত রাজাউল্লাহ। দুই ওভার পর অ্যাটকিনসের চার বলের মধ্যে আরও তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি।   পরে অলি রবিনসনকে ছক্কায় ওড়ান আব্বাস। আর্চারকে পরপর দুটি ছক্কার পথে রাজাউল্লাহ ফিফটি করেন ৪৩ বলে। চলতেই থাকে তার সেই ঝড়।   কিছুতেই জুটি ভাঙতে পারছিল না ইংল্যান্ড। অবশেষ মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন টাং, পয়েন্টে ধরা পড়েন আব্বাস।   পরের ওভারে লরেন্সের বলে নবম ছক্কা মেরে রেকর্ড স্পর্শ করেন রাজাউল্লাহ। এক বল পর এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে তাকে আউট দেন আম্পায়ার। এ যাত্রায় রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও, পরের বলেই বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তিনি। দিনের খেলাও শেষ সেখানেই।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৩ ইংল‍্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫৩ পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৯৬.৪ ওভারে ৪৪৯ (আগের দিন ৫২/২) (আজান ৫৯, মাসুদ ৯৫, বাবর ৭৬, শাকিল ২৯, ঘরি ১৬, ইমরান ৪, রাজাউল্লাহ ৮১, আব্বাস ৪২, আলি ৪*; রবিনসন ২৩-৮-৫৪-২, আর্চার ২২-১-১২০-১, অ্যাটকিনসন ২৪-৩-১০৯-৩, টাং ২২-১-১০৬-২, লরেন্স ৪.৪-০-১৭-২, ব্রুক ১-০-৪-০)

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এস্তেহেইজেনের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

আগের ম্যাচে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলা জর্ডান হার্মান এবার থামলেন অল্পেই। তবে জ্বলে উঠলেন আরেক ওপেনার কনর এস্তেহেইজেন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে তিনি উপহার দিলেন সেঞ্চুরি। সঙ্গে বাকিদের অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। ডুয়ান ইয়ানসেন ও ইথান বশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না নামিবিয়া।   উইন্ডহকে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৫৭ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৩৫ রানের পুঁজি গড়ে নামিবিয়াকে ১৭৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।   বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৯৯ রানে জেতে প্রোটিয়ারা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল তারা।   ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে এস্তেহেইজেন করেন ১১৯ রান। তার ১১০ বলের ইনিংসটি সাজানো ছয়টি ছক্কা ও আটটি চারে। প্রথম ম্যাচে সত্তর ছোঁয়া ইনিংস খেলা টনি ডি জর্জি এবার একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে করেন ৭৯ রান।   নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৬৮ রান করেন। দলটির আর কেউ ত্রিশ পার হতে পারেননি।   দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা ডুয়ান ইয়ানসেন ৩১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন। তিনি মার্কো ইয়ানসেনের যমজ ভাই। কর্বিন বশের ছোট ভাই ইথান ২৭ রান দিয়ে ৩ শিকার ধরেন।   টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন প্রথম ম্যাচে ১৫০ রান করা হার্মান। কিন্তু সপ্তম ওভারে লেগ সাইডে ক্যাচ দিয়ে বাজে তার বিদায় ঘন্টা। পরে ডি জর্জির সঙ্গে ১৮৩ রানের জুটি গড়েন এস্তেহেইজেন।   ৭৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এস্তেহেইজেন। দ্রুত রান বাড়ানো ডি জর্জির পঞ্চাশ আসে ৫৮ বলে। তাকে বিদায় করে জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন জ্যাক ব্রাসেল।   ফিফটির পর রানের গতিতে দম দেন এস্তেহেইজেন। এরাসমাসকে ছক্কায় উড়িয়ে ঠিক ১০০ বলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি। পঞ্চাশ থেকে একশ ছুঁতে তার লাগে ২৭ বল।   রুবেন ট্রাম্পেলমানের বলে মিড-অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে থামেন এস্তেহেইজেন। ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ৪ ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিও খেলেন ইথান।   বড় রান তাড়ায় নামিবিয়ার শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ১ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের কেউ রানের খাতা খুলতে পারেননি।   দলটির ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল চলতেই থাকে। ৫৯ রানে যায় তাদের ষষ্ঠ উইকেট। সেখান থেকে দলের রান একশ পা করেন এরাসমাস ও ইয়ান বাল্ট। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বাল্টকে রানআউট করে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন ব্রেভিস।   ৫৮ বলে ফিফটি করে ইনিংস বড় করতে পারেননি এরাসমাস। একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩০ রান করে ট্রাম্পেলমান।   দুই দলের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী রোববার।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৩৫/৯ (হার্মান ২০, এস্তেহেইজেন ১১৯, ডি জর্জি ৭৯, ব্রিটস্কি ৪, ব্রেভিস ৩৭, স্মিথ ১৮, ইথান ২৯, ইয়ানসেন ২, সুব্রায়েন ৪, পিটার ১*, মোকেয়ানা ৭*; ট্রাম্পেলমান ১০-১-৫৭-২, ব্রাসেল ১০-০-৬৪-৪, বাল্ট ১০-০-৭০-২, স্মিথ ৯-১-৫৬-০, লফটি-ইটন ৭-০-৫৪-১, এরাসমাস ৪-০-২৭-০)   নামিবিয়া: ৪১.৫ ওভারে ১৭৮ (ফন লিঙ্গেন ০, ক্রুগার ০, ফ্রাইলিঙ্ক ০, স্টিনক্যাম্প ১২, এরাসমাস ৬৮, লফটি-ইটন ৬, গ্রিন ১১, বাল্ট ২৬, ট্রাম্পেলমান ৩০, স্মিথ ১০, ব্রাসেল ২*; ইয়ানসেন ৯-২-৩১-৪, ইথান ৭.৫-১-২৭-৩, মোকেয়েনা ৭-০-৩১-১, স্মিথ ৪-১-১৪-১, সুব্রায়েন ৭-০-২৬-০, পিটার ৭-০-৪৭-০)   ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৭ রানে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: কনর এস্তেহেইজেন সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সেমিফাইনালেই শেষ বাংলাদেশের এশিয়া কাপ স্বপ্ন

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগের আসরের মতো আবারও ভারতের কাছে আটকে গেল বাংলাদেশ। নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফলে ৪০ রানের জয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে ভারত।   টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে দেন সুলতানা। তবে এরপর একাধিক ক্যাচের সুযোগ নষ্ট করে ভারতকে বড় সংগ্রহের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ।   শেফালি ভর্মার ৬৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফা, নাহিদা ও রাবেয়া।   জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই রান তোলার গতি ছিল ধীর। শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেলেও লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি তারা।   বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা আক্তার। এছাড়া দিলারা ২১, নিগার ১৯ ও সোবহানা ১৮ রান করেন। ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ৩টি এবং নন্দিনী ২টি উইকেট নেন।   ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ৪০ রানের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

দলে একের পর এক চোটের সমস্যায় বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হাই-লেভেল রিভিউ মিটিংয়ের পর টিম ইন্ডিয়ার প্রধান ফিজিও কমলেশ জৈনের চুক্তি বাতিল করেছে বোর্ড। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বর্তমানে নোটিস পিরিয়ডে রয়েছেন জৈন। খুব শীঘ্রই তার জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ করা হতে পারে।   ২০২২ সালে নীতীন প্যাটেলের কাছ থেকে টিম ইন্ডিয়ার প্রধান ফিজিওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন কমলেশ জৈন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বারবার চোটে ছিটকে যাওয়ার ঘটনায় চাপ বাড়ছিল তার উপর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দলের মেডিক্যাল সাপোর্ট ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিসিসিআই।   শুধু চোটের সমস্যা নয়, বোর্ডের মেডিক্যাল ব্যবস্থার উপরও আস্থা কমেছে বলে খবর। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে নিজস্ব মেডিক্যাল টিম থাকা সত্ত্বেও একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ মেডিক্যাল প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।   এর পাশাপাশি সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তনও দলের সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোম দেশাইয়ের বিদায়ের পর তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাড্রিয়ান লে রক্স। নতুন সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ক্রিকেটারদেরও কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে সূত্রের খবর।   সব মিলিয়ে টিম ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল ও ফিটনেস সাপোর্ট সিস্টেমে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। কমলেশ জৈনের পরিবর্তে নতুন ফিজিও নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই প্রথম ধাপ হতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ব্যর্থ পাকিস্তান, বড় লিড ইংল্যান্ডের

এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করেছে স্বাগতিকরা। ফলে প্রথম ইনিংসে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৯৭ রানে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচেও পাকিস্তানকে চাপে রাখার কাজটি প্রথম দিন থেকেই শুরু করে তারা। টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৩৩.৫ ওভারেই ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইংলিশরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডেরও ভালো হয়নি। ৩৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বেন ডাকেট ১১, জর্ডান কক্স ৪ ও অধিনায়ক জো রুট ৮ রান করে ফিরে যান। এরপর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুক। চতুর্থ উইকেটে ১০৪ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন দুজন। গে ১১৪ বলে ৬০ এবং ব্রুক ৯৭ বলে ৭৫ রান করেন। দুজনের বিদায়ের পর ড্যান লরেন্সও ৮২ বলে নয়টি চারে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। লাঞ্চে যাওয়ার আগে ইংল্যান্ডকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান জেমি স্মিথ। ৫৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার গ্যাস অ্যাটকিনসনকে সঙ্গে নিয়ে দলের লিড আরও বাড়ানোর পথে আছেন। অ্যাটকিনসন অপরাজিত আছেন ১৯ রানে। পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রাজানুল্লাহ। মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ ইমরান পেয়েছেন একটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সামনে পাকিস্তানের বোলাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ফলে ম্যাচে বড় লিড নিয়ে শেষ টেস্টেও জয় তুলে নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে ইংল্যান্ড।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আইসিসির আগস্টের সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে হাসান মাহমুদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে এবার আইসিসির মাসসেরার স্বীকৃতির দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। আগস্ট মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছেন তিনি।   ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা ছিল হাসানের। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন ডানহাতি এই পেসার।   পুরুষদের বিভাগে হাসানের সঙ্গে মাসসেরার লড়াইয়ে আছেন শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা ও ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন। আর নারীদের বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন থাইল্যান্ডের সুলেপোরন লাওমি, নান্নাপাত কোঞ্চারোয়েনকাই ও লুসি বার্নেট।   ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানের বিনিময়ে শিকার করেন আরও ৩ উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ৯ উইকেটের জয় পেয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই পারফরম্যান্সের সুফল পেয়েছেন আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়েও। পুরো সিরিজে ১৯.৭৭ গড়ে ৯ উইকেট নেওয়া হাসান বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়ে ৩৮ নম্বরে উঠে এসেছেন।   ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন দিনুশা: হাসানের পাশাপাশি মাসসেরার তালিকায় থাকা শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশাও আগস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাঁহাতি এই ব্যাটার করেন ৪২০ রান। গলে প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কা হারলেও দিনুশার ব্যাট থেকে আসে ১০০ ও ৮৪ রানের দুটি ইনিংস। এরপর কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ফলো-অনে পড়ার পর শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৩ রান করেন তিনি। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে ফলো-অনে পড়ার পর টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হওয়ার কীর্তি গড়েন দিনুশা।   রবিনসনেরও দুর্দান্ত মাস: ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসনও আগস্টে বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এই পেসার। প্রথম টেস্টে ৮০ রানে ৮ উইকেট এবং দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৩৫ রানে ৮ উইকেট নেন রবিনসন। তার বোলিংয়ের সুবাদে তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পুরো সিরিজে ৭.১৮ গড়ে ১৬ উইকেট শিকার করেন ইংলিশ এই পেসার। অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে র‍্যাঙ্কিংয়েও। টেস্ট বোলারদের তালিকায় ২২ ধাপ উন্নতি করে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার ইমরান তাহির।
সিপিএলে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট নিয়ে ইমরান তাহিরের বিশ্বরেকর্ড

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার ইমরান তাহির। সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।     তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের উপর ভর করেই সেন্ট লুসিয়াকে চার উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ জেতে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। বুধবার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ১১৯ রানে অলআউট করে দেয় গায়ানা। জবাবে ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ইমরান তাহির।     চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ৪৭ বছর ১৬৬ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির তৈরি করেন।       এর আগে এই রেকর্ড ছিল কুক আইল্যান্ডসের বোলার টোমাকানুটে রিতাভার দখলে। তিনি ২০২২ সালে ৪৬ বছর ২৯৯ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।       তাহির প্রথমে ৪৩ রান করা কামিল পুরানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। এরপর রস্টন চেজ, ম্যাকেঞ্জি ক্লার্ক, ম্যাথিউ ফোর্ড ও জশুয়া বিশপকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। জশুয়া বিশপ তার গুগলিতে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হন। রিভিউ নিলেও মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।       ম্যাচ শেষে ইমরান তাহির নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি অনেক দিন ধরেই এমন একটা পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় ছিলাম।       মাঝের ওভারগুলোয় রান আটকে রাখাই আমার কাজ। আমি সব সময় আক্রমণাত্মক বোলিং করতে ভালোবাসি। আমার ছেলে এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ও চায় আমার সঙ্গে খেলতে। এই জায়গায় পৌঁছতে আমি প্রচুর পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রমের ফল এভাবে পেলে খুব ভালো লাগে। ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবি না, সবটাই দলের জন্য।’ বয়স যে শুধু সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সেও তার লড়াই, ফিটনেস এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
মিচেল স্যান্টনার। সংগৃহীত ছবি
জাতীয় দলের জন্য বিগ ব্যাশ ছাড়লেন স্যান্টনার

বিগ ব্যাশ লিগে খেলার আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক হাতছানির চেয়ে দেশের ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।   নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এর ফলে তাঁরা বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। স্যান্টনারের সামনেও ছিল একই পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   বিগ ব্যাশের সময়েই নিউ জিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মৌসুম চলায় দেশটির ক্রিকেটারদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও জাতীয় দলের দায়িত্বের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। টিম সাইফার্ট, অ্যাডাম মিল্ন, লকি ফার্গুসন, ফিন অ্যালেন ও মার্ক চ্যাপম্যানের মতো ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তির পথে হেঁটেছেন। একই ধরনের চুক্তিতে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও।   নিউ জিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আর্থিক আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট অনেক ক্রিকেটারের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবে স্যান্টনার মনে করছেন, দেশের ক্রিকেটে তাঁর এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে স্যান্টনার বলেন, বিগ ব্যাশের প্রস্তাবটি সত্যিই আকর্ষণীয় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েই ভেবেছেন।   তিনি বলেন, ‘মিথ্যা বলব না, প্রস্তাবটি ভালো ছিল। তারা জানত, চুক্তির শর্ত এবং সামনে যা কিছু আসবে, সবকিছু বিবেচনায় রেখেও প্রস্তাবটি আকর্ষণীয় হতে হবে। আমিও বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের সামনে যা কিছু আছে, সেদিকে তাকালে মনে হয়, টেস্টে আমি প্রতিটি ম্যাচ না খেললেও দলে আমার একটি ভূমিকা থাকবে।’   সাদা বলের অধিনায়কত্বও তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে থেকেও নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটিকে উপযুক্ত মনে হয়নি স্যান্টনারের।   তিনি আরও বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাই না আমি। আমার জন্য তাই সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল। অবশ্য এমন আলোচনাও হয়েছিল যে, একটা পথ বের করা যেত। কিন্তু কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এই পর্যায়ে ঠিক হতো কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।’   সামনে নিউ জিল্যান্ডের জন্য ব্যস্ত সাদা বলের সূচি। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং তার পরের বছর দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দুটি টুর্নামেন্টেই দলের নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। স্যান্টনার বলেন, ‘আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। তার পরের বছর নিউ জিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি এসবের অংশ হতে চাই। তখনও যদি দলের নেতৃত্ব দিতে পারি, তাহলে দারুণ হবে।’   তবে সতীর্থদের ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন না স্যান্টনার। বরং নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের আর্থিক বাস্তবতা তিনি বুঝতে পারছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে মাইক হাসির সঙ্গে তুলনা বাশারের

অস্ট্রেলিয়ায় উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের রহস্যময় স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৯ দলের এই আসরে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। এরপর থেকে তাকে নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনা। যদিও ৩০ বছর বয়সী এই স্পিনারের ক্রিকেটে পদচারণা নতুন নয়!   রুবেল এখনও বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পাননি। তবে যেভাবে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন, যেন ডাক পাওয়া সময়ের ব্যাপার। তবে কথা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়াটা কেমন হতে পারে! এই প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মাইক হাসি’র উদাহরণ টেনেছেন।   ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাশার বলেন, ‘আমরা তাকে (রুবেল) গত বছরের বিপিএল থেকে নজরে রেখেছি। যে নিয়মিত মিস্ট্রি বল করে আসছে। এমনকি সে ভালো একজন ফিল্ডারও। যদিও সে অতটা তরুণ নয়, কিন্তু মাইক হাসিও আন্তর্জাতিক অভিষেক (২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে এবং দুই বছর পর টেস্ট) করেছিলেন বেশ দেরিতে। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত হন। রুবেলের ক্ষেত্রেও বয়স বাধা হবে না।   দেরিতে অভিষেক হওয়ার পর মাইক হাসি ৭৯টি টেস্ট ম্যাচে ৫১.৫২ গড়ে ৬২৩৫ রান এবং ১৯টি সেঞ্চুরি করেছেন। তার টেস্ট ব্যাটিং গড় সবসময় ৫০-এর উপরে ছিল। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার মোট রান ১২,৩৯৮ এবং সেঞ্চুরি ২২টি। ২০০৬ সালে তিনি বিশ্বের নম্বর ওয়ান ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হয়েছিলেন। এই ফরম্যাটে ১৮৫ ম্যাচে তিনি ৪৮.১৫ গড়ে ৫৪৪২ রান করেন হাসি। এ ছাড়া ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে করেন প্রায় ৩৮ গড়ে ৭২১ রান।   এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ইতিহাসগড়া জয় পায়, এর এক সপ্তাহ পরেই ‘টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে ওই ভেন্যুতে আলো ছড়ান রহস্যময় স্পিনার রুবেল। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এবং নতুন-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টে তিনি যথাক্রমে ১৮ রানে ৪, ২৫ রানে ৩, ১৫ রানে ৪, ৩০ রানে ৩, ২১ রানে ৫ এবং ১৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।   প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ঘরোয়া লিগে এবং জাতীয় দলের নেটে নিয়মিতই বল করতেন রহস্য স্পিনার রুবেল। গত বছর আচমকা এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করেন। পরে সুযোগ আসে লাল বলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও। সবশেষ বিপিএলে নাম লিখিয়ে পুরোপুরি আলোচনায় আসেন রুবেল। তিনি বল হাতে যেন সবসময় আলাদা, অন্যরকম তার অ্যাকশন এবং বিশেষত তার দুসরা ডেলিভারির কারণে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জরিমানার মুখে আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শাস্তির মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের ওপেনিং ব্যাটার গুল ফিরোজা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাকে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।   ম্যাচের পঞ্চম ওভারে হংকংয়ের বাঁহাতি স্পিনারের বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ফিরোজা। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ ব্যবস্থা না থাকায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে সাজঘরে ফেরার পথে ব্যাটের দিকে ইশারা করে তিনি ব্যাটে বল লেগেছে বলে জানান এবং আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করন।   ইসিসির আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ২.৮ (আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ দেখানো) লঙ্ঘনের অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ফিরোজার দ্বিতীয় অপরাধ। ফলে তার শৃঙ্খলা রেকর্ডে মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২-এ।   চলতি এশিয়া কাপে পাকিস্তান দলের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনি শাস্তির মুখোমুখি হলেন। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে শেফালি বর্মাকে আউট করে উইকেটের দিক ইশারা করে উদযাপন করায় পাক অধিনায়ক ফাতেমা সানাকেও ১০% জরিমানা ও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল।   হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে পাকিস্তান। সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শ্রীলঙ্কার, অন্যদিকে প্রথম সেমিফাইনালে লড়াই করবে বাংলাদেশ ও ভারত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে মাইক হাসির সঙ্গে তুলনা বাশারের

অস্ট্রেলিয়ায় উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের রহস্যময় স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৯ দলের এই আসরে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। এরপর থেকে তাকে নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনা। যদিও ৩০ বছর বয়সী এই স্পিনারের ক্রিকেটে পদচারণা নতুন নয়!   রুবেল এখনও বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পাননি। তবে যেভাবে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন, যেন ডাক পাওয়া সময়ের ব্যাপার। তবে কথা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়াটা কেমন হতে পারে! এই প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মাইক হাসি’র উদাহরণ টেনেছেন।   ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাশার বলেন, ‘আমরা তাকে (রুবেল) গত বছরের বিপিএল থেকে নজরে রেখেছি। যে নিয়মিত মিস্ট্রি বল করে আসছে। এমনকি সে ভালো একজন ফিল্ডারও। যদিও সে অতটা তরুণ নয়, কিন্তু মাইক হাসিও আন্তর্জাতিক অভিষেক (২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে এবং দুই বছর পর টেস্ট) করেছিলেন বেশ দেরিতে। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত হন। রুবেলের ক্ষেত্রেও বয়স বাধা হবে না।’   দেরিতে অভিষেক হওয়ার পর মাইক হাসি ৭৯টি টেস্ট ম্যাচে ৫১.৫২ গড়ে ৬২৩৫ রান এবং ১৯টি সেঞ্চুরি করেছেন। তার টেস্ট ব্যাটিং গড় সবসময় ৫০-এর উপরে ছিল। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার মোট রান ১২,৩৯৮ এবং সেঞ্চুরি ২২টি। ২০০৬ সালে তিনি বিশ্বের নম্বর ওয়ান ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হয়েছিলেন। এই ফরম্যাটে ১৮৫ ম্যাচে তিনি ৪৮.১৫ গড়ে ৫৪৪২ রান করেন হাসি। এ ছাড়া ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে করেন প্রায় ৩৮ গড়ে ৭২১ রান।   এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ইতিহাসগড়া জয় পায়, এর এক সপ্তাহ পরেই ‘টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে ওই ভেন্যুতে আলো ছড়ান রহস্যময় স্পিনার রুবেল। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এবং নতুন-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টে তিনি যথাক্রমে ১৮ রানে ৪, ২৫ রানে ৩, ১৫ রানে ৪, ৩০ রানে ৩, ২১ রানে ৫ এবং ১৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।   প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ঘরোয়া লিগে এবং জাতীয় দলের নেটে নিয়মিতই বল করতেন রহস্য স্পিনার রুবেল। গত বছর আচমকা এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করেন। পরে সুযোগ আসে লাল বলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও। সবশেষ বিপিএলে নাম লিখিয়ে পুরোপুরি আলোচনায় আসেন রুবেল। তিনি বল হাতে যেন সবসময় আলাদা, অন্যরকম তার অ্যাকশন এবং বিশেষত তার দুসরা ডেলিভারির কারণে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬