চলমান অ্যাশেজ সিরিজের সিডনি টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার উসমান খাজা। দেড় দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানতে অ্যাশেজের মঞ্চকেই বেছে নিলেন তিনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এসসিজির সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার তার ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান।
অজিদের হয়ে ৮৭ ম্যাচে ৬ হাজার ২শ' ৬ রান করেন খাজা। ১৬ সেঞ্চুরির বিপরীতে তার অর্ধশতকের সংখ্যা ২৮টি। যে সিডনিতে শুরু হয়েছিল তার ক্যারিয়ার, সেই প্রিয় মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার জার্সি পরবেন তিনি।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বর্ণবাদের শিকারও হন তিনি। সেই ক্ষোভ মনে পুষেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে স্বার্থপরতার অভিযোগ করলেও উসমান খাজার দাবি নিজের জন্য দলে থাকছিলেন না এই ব্যাটার।
খাজার এই বিদায় বেলায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের (সিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টড গ্রিনবার্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গ্রিনবার্গ বলেন, গত দেড় দশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে খাজার অবদান অপরিসীম। তিনি খাজাকে অন্যতম স্টাইলিস্ট ও সহিষ্ণু ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তার সামাজিক কাজেরও প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগেই অ্যাশেজ সিরিজ জয় নিশ্চিত করে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। খাজার শেষ ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান ঘটাবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি আপাতত স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই দল পরিচালনা বিভাগকে পরবর্তী করণীয় জানানো হবে। একই সঙ্গে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়। সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবির মতে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান না হয়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ নতুন করে বিবেচনা করবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এই বিষয়ে তারা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। তাদের ভাষায়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ ‘যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য’। বোর্ডের অভ্যন্তরে এ মতও উঠে এসেছে যে, আয়োজন বা অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো দেশকে চাপ দেওয়া বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়। এর আগে ১১ জানুয়ারি পিসিবি জানায়, শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু সংকট দেখা দিলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে আগ্রহী। বোর্ড দাবি করেছে, পাকিস্তানের সব ভেন্যুই বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ এবং আইসিসি নারী বাছাইপর্ব সফলভাবে আয়োজনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। এদিকে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দিলেও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড তা নাকচ করে দেয়। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করা হবে না এবং তারা শ্রীলঙ্কাতেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। ঢাকায় আইসিসি ও বিসিবির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় বৈঠকে বিসিবি জানায়, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী, তবে ভারত ছাড়া অন্য কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ খেলতে চায়। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার নাম প্রস্তাব করা হয়। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করা হবে না। বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে। প্রথম ম্যাচ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। পরের দুটি ম্যাচও একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শেষ গ্রুপ ম্যাচ হবে মুম্বাইয়ে। আইসিসি বিসিবিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে বাংলাদেশ যদি ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, সে ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে ২১ জানুয়ারির মধ্যে, জানাচ্ছে ক্রিকইনফো। আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় এই সময়সীমার কথা বিসিবিকে জানানো হয়েছে। শনিবার ঢাকায় আইসিসি ও বিসিবির বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বিসিবি আবারও আইসিসিকে জানিয়েছে যে তারা বিশ্বকাপে খেলতে চায়। তবে তারা ভারতে খেলতে রাজি নয়। বিসিবির দাবি, নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ আছে। তাই তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চায়। শ্রীলঙ্কা এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। আইসিসি এখনো মূল সূচি বদলাতে রাজি হয়নি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে। এই গ্রুপের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ভারতে। আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। আইসিসির পাঠানো নিরাপত্তা প্রতিবেদনে ভারতের সামগ্রিক ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি থেকে কিছুটা বেশি বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের জন্য আলাদা হুমকির কথা উল্লেখ নেই। সূচি অনুসারে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি হবে কলকাতায়। পরের দুই ম্যাচও কলকাতায়। শেষ গ্রুপ ম্যাচ হবে মুম্বাইয়ে। বিসিবি চেয়েছিল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদল করতে। আয়ারল্যান্ড তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি, জানিয়েছে ক্রিকবাজ। আইসিসি এখন বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। এই বিরোধের শুরু হয় আইপিএল ২০২৬ নিয়ে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপে নিরাপত্তার অজুহাতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। এরপর বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে সরকার। এরপরই বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না। সেই অবস্থানেই এখনো রয়েছে বিসিবি।
ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে উইকেট লাভের পর নিউজিল্যান্ড শিবিরে উচ্ছ্বাস। ছবি : এক্স অবশেষে ওয়ানডে সিরিজে ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানোর অপেক্ষা ঘুচলো নিউজিল্যান্ডের। আজ রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ভারতকে ৪১ রানে হারিয়েছে কিউইরা। আর তাতেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। এই জয়ের মাধ্যমেই ভারতের মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জেতার রেকর্ড গড়ল নিউজিল্যান্ড। এর আগে ১৬ বারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবার ১৭তম প্রচেষ্টায় ভারতের মাটিতে রোহিত-কোহলির হারানোর গৌরব অর্জন করল নিউজিল্যান্ড। ইন্ডোরে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৩৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ২৯৬ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ৩৩৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামলে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। সবচেয়ে বেশি হতাশা করেছে স্বাগতিকদের মিডলঅর্ডার। তবে নিতিশ কুমার রেড্ডি ও হারশিত রানাকে নিয়ে জেতার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নামা বিরাট কোহলি। কিন্তু সেঞ্চুরি তুলে নিলেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। সিরিজে দ্বিতীয় ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা তার ৮৫তম শতক। তার ইনিংস থামে ১২৪ রানে। মাত্র ১০৮ বলে খেলা কোহলির এই অনবদ্য ইনিংসটি ১০টি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। এছাড়া অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন নিতিশ ও হারশিত। ৫৭ বলে ৫৩ রান করেন নিতিশ। আর ৫৩ বলে ৫২ রান করেন হারশিত। এছাড়া শুবমান গিল ১৮ বলে ২৩, রোহিত শর্মা ১৩ বলে ১১, শ্রেয়াস আইয়ার ১০ বলে ৩, লোকেশ রাহুল ৬ বলে ১, রবীন্দ্রো জাদেজা ১৬ বলে ১২, মোহাম্মদ সিরাজ ১ বলে ০, কুলদীপ যাদব ৩ বলে ৫ ও অর্শদীপ সিং ২ বলে ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন জ্যাক ফোলকস ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক। দুটি উইকেট পেয়েছেন জেইডেন লেনক্স। আর একটি উইকেট নেন কাইল জেমিসন। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডেরও। দলীয় ৫ রানের মাথায় সাজঘরের পথ ধরেন দুই ওপেনার। ১ বলে ০ রানে সাজঘরের পথ ধরেন হেনরি নিকোলস। আর ৪ বলে ৫ রান করেন ডেভন কনওয়ে। শুরুর চাপ সামলে নেন উইল ইয়াং ও ড্যারেল মিচেল। তবে জুটিটা বড় করা হয়নি। ৪১ বলে ৩০ রানে থামেন ইয়াং। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করতে থাকেন ড্যারেল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। এসময় দুজন মিলে গড়েন ২১৯ রানের বিশাল জুটি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় কিউইরা। এই দুই ব্যাটারই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। মাত্র ৮৮ বলে নয়টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ১০৬ রান করেন ফিলিপস। আর ১৩১ বলে ১৫টি চার ও পাঁচটি ছয়ে ১৩৭ রান করেন মিচেল। শেষদিকে মিচেল হে ২, জ্যাকস ফোলকস ১০ ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ১১ রান করেন। আর দলনেতা ব্রেসওয়েল ২৮ রানে ও জেমিসন ০ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হযে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন অর্শদীপ সিং ও হারশিত রানা। আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন মোহাম্মহ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব। সিরিজের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটাও নিজের শোকেসে তুলেন।