ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নেতৃত্বের’ কারণে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অভিযানের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম স্থল ও জলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় পরিবহন করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে সংগৃহীত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই পদক্ষেপকে একটি ‘পুনরুদ্ধারকৃত ও নবায়িত’ ভেনেজুয়েলার সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের বিতর্কিত নির্দেশের পর কারাকাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প বর্তমানে মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনি খাত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পুনরায় চালু হয়েছে মার্কিন দূতাবাস। তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই মাখামাখি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা বিপুল তেলের মজুদ থাকা এই দেশটির সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যুগের সম্ভাবনা দেখছেন, অন্যদিকে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে সমঝোতা করা হতাশাজনক। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই অর্জন নেহাতই নগণ্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
সাহা এক্সপো ২০২৬-এ তুরস্ক তাদের প্রথম দেশে তৈরি মিনি-সাবমেরিন জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে। ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ভিত্তিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ডাটাম সাবমেরিন টেকনোলজিস এই মাইলফলক অর্জনের ঘোষণা দেয়। গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে কারামুরসেল উপকূলে যানটির সফল প্রথম ডাইভ ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অফ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগিতায় তৈরি এই 'মাল্টি-পারপাস মিনি সাবমেরিন' সেফাইন শিপইয়ার্ডে সংযোজন করা হয়। কারামুরসেল উপকূলে এর প্রথম চালকবিহীন ডাইভ পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন প্রতিরক্ষা শিল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তুর্কি লয়েড সার্ভেয়াররা। এই প্রকল্পটি তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ গৌরব বহন করছে, কারণ এটিই প্রথম সাবমেরিন প্রকল্প যা দেশটির নিজস্ব মেরিটাইম ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি 'তুর্কি লয়েড' থেকে গুণমান ও নিরাপত্তা সনদ লাভ করেছে। ডাটাম-এর তথ্যমতে, সাবমেরিনটির ৮০ শতাংশের বেশি উপাদান স্থানীয়ভাবে তৈরি। এর প্রেশার হাল (চাপ নিরোধক কাঠামো) তৈরি করেছে ইয়াকুত কাজান, মোটর তৈরি করেছে ফেমসান ডিসি মোটর ফ্যাক্টরি এবং প্রোপেলার তৈরি করেছে এরিশ পারভানে। ১০০ শতাংশ দেশীয় নকশায় তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত বিদেশী সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব শিল্প সক্ষমতা গড়ে তোলার তুর্কি প্রচেষ্টারই অংশ। ডাটাম কেবল একটি একক যান তৈরি করেনি, বরং তারা একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্মের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তুর্কি নৌবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিশেষায়িত সাবমেরিন তৈরি করা সম্ভব। এই সিরিজের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সংস্করণ হলো 'সিনারিত'। এটি একটি বিশাল আকৃতির চালকবিহীন ডুবোযান (ইউইউভি), যাকে ডাটাম-এর চেয়ারম্যান ডঃ মুনির কানসিন ওজডেন “পানির নিচের পিকআপ ট্রাক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এর বিশেষত্ব হলো- এটি স্ট্যান্ডার্ড কার্গো কন্টেইনারে ফিট হয় এবং এ৪০০এম সামরিক বিমানে পরিবহন যোগ্য। চালক না থাকায় এতে ৩.৮ মিটারের মডুলার পেলোড বে রয়েছে, যেখানে মিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী ১২টি ভিন্ন কনফিগারেশন ব্যবহার করা যায়। এটি বায়কার ড্রোন ব্যবহার করে ঝাঁক বেঁধে ইউএভি হামলা চালাতে পারে, ১২টি মালামাল স্মার্ট মাইন স্থাপন করতে পারে এবং আকিয়া ও ওরকা টর্পেডো নিক্ষেপ করতে পারে। এছাড়া এতে আসেলসান মেরকান ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর, মেটেকসান সোনার এবং রকেটসান-এর আটমাকা ও চাকির মিসাইল ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এটি পানির নিচে এতটাই নিঃশব্দ যে একে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এটি তুরস্কের স্পেশাল আন্ডারওয়াটার অ্যাসল্ট কমান্ড বা এসএটি কমান্ডোদের জন্য তৈরি। এটি ছয়জন অপারেটরকে তাদের সরঞ্জামসহ ৪০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত গোপনে পৌঁছে দিতে পারে। এতে দুটি ভারী টর্পেডো টিউব এবং ১০টি মাইন বহনের সুবিধা রয়েছে, যা একে একটি শক্তিশালী গুপ্ত হামলার প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। এই সাবমেরিনটি সমুদ্রতলের অবকাঠামো যুদ্ধের জন্য বিশেষায়িত। এটি সমুদ্রের তলদেশের কেবল কাটা এবং পাইপলাইন বা বন্দর স্থাপনায় নাশকতা চালাতে সক্ষম। ২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে এ ধরণের সাবমেরিনের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ডাটাম একটি সাবমেরিন পার্সোনেল রেসকিউ ভেহিকেল (উদ্ধারকারী যান) তৈরি করেছে। তুরস্কের নৌ-ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা 'ডুমলুপিনার'-এর মতো ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এর লক্ষ্য। অবসরপ্রাপ্ত সাবমেরিনারদের অভিজ্ঞতায় তৈরি এই উদ্ধারকারী যানটি দ্রুত তুর্কি নৌবাহিনীর রেসকিউ আন্ডারওয়াটার কমান্ডের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের এই নতুন অগ্রগতি দেশটির নিজস্ব সাবমেরিন কর্মসূচির অধীনে তৈরি হতে যাওয়া বিভিন্ন সাব-সিস্টেম পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করবে।তথ্যসূত্র: ডিফেন্স ব্লগ
হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য। শনিবার ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগনকে এ অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। যাতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া যায়। খবর রয়টার্সের। বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন এই ডেস্ট্রয়ারটি মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়েছিল সাইপ্রাস রক্ষার সহায়তায়। এর আগে ফ্রান্সও তাদের বিমানবাহী রণতরী নেতৃত্বাধীন নৌবহর দক্ষিণ লোহিত সাগরে মোতায়েন করে। বাণিজ্যিক নৌপথে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রতিরক্ষামূলক পরিকল্পনায় লন্ডন ও প্যারিস একসঙ্গে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এই পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এইচএমএস ড্রাগনকে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি অনুকূল হলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের ভিত্তি গড়ে তুলতে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে এবং ইতোমধ্যে অন্তত এক ডজন দেশ এতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যটক ভিসায় পর্তুগালে যাওয়ার পর দেশটির ভেতর থেকেই পেশাগত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে বসবাসের অনুমতি নেয়ার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশটির সরকার। বাংলাদেশসহ সকল দেশের জন্য এটি কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে বসবাসের অনুমতি পেতে হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশের পর্তুগিজ দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আগেই প্রয়োজনীয় ভিসা নিতে হবে। ফলে পর্তুগালে প্রবেশের পর পর্যটক ভিসা পরিবর্তন করে শিক্ষাভিত্তিক রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করা যাবে না। খসড়া আইনটি এখন সংসদে পাঠানো হবে। সংসদে অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিয়ারিও ডি নোটিসিয়াসের (ডিএন) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক ভিসায় পর্তুগালে এসে পরে পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে বৈধভাবে থাকার আবেদন করছিলেন। সরকার মনে করছে, এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে ‘মেনিফেস্টাসাও ডি ইন্টারেস্ট’-এর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ভারত, নেপালসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা পড়াশোনা, কাজ ও বসবাসের উদ্দেশ্যে পর্তুগালে যান। নতুন এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন থেকে পর্তুগালে পড়াশোনা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে যেতে হলে নিজ দেশ থেকেই সঠিক ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি হবে।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত ১২৮টি ফ্লাইটে মোট ৫০ হাজার ১১১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা পর্যন্ত ১২৮টি ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১২ জন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী রয়েছে। হজযাত্রীদের ১০ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা গেছেন। বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯৮৭ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে চিকিৎসা পেয়েছেন ১৩ হাজার ১১ জন হজযাত্রী। পরিচালক জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। এয়ারলাইন্স ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫৯টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৫৬৩ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৪৭টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৯২ জন এবং ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ২৮ হাজার ২৬২ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১ টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ অফিসের তথ্যমতে, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৩৭৩টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯১৯টি ভিসা দেওয়া হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬শে মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
পশ্চিম লিবিয়ার জাওইয়া শহরের কর্তৃপক্ষ অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ‘ব্যাপক অভিযান’ শুরু করেছে। শুক্রবার তারা এ কথা জানিয়েছে। এই শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ও বড় একটি তেল শোধনাগার রয়েছে। এই অভিযানের সময় শহরজুড়ে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সকাল থেকে রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের এই শহরজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি ও গ্রেফতার কার্যক্রম চালিয়েছে।’ কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অভিযান ‘হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের’ মতো ‘গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত’ ‘অপরাধীদের আস্তানা ও পলাতক ব্যক্তিদের’ বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি। জাতিসংঘ লিবিয়া সহায়তা মিশন (ইউএনএসএমআইএল) পরে এক বিবৃতিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ‘বেসামরিক হতাহতের উদ্বেগজনক খবরের’ নিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মিশন বলেছে, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার ও নির্বিচার গুলি চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।’ তারা আরও বলেছে, ‘বেসামরিক অবকাঠামোকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না। সকল পক্ষকে অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা ও শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সের কাছাকাছি সংঘর্ষ চলছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা ফোনে এএফপিকে জানান, ‘শুক্রবার ভোরে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়।’ তিনি শহরজুড়ে ‘বিস্ফোরণের শব্দ’ শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন। স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, মানুষ মসজিদে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যার এই শহরে বহুবার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো থাকার পাশাপাশি জাওইয়া শহরটি জ্বালানি ও অন্যান্য চোরাচালানের জন্য তিউনিসিয়ার সীমান্তঘেঁষা একটি কুখ্যাত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিরতার কারণে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি এখনও বিভাজন ও অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার ও প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত পূর্বাঞ্চলের মধ্যে বিভক্ত রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তার পিঠ চাপড়ে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আনন্দবাজার লিখেছে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। তারা কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা ঘোষণা করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জয়ী হয়েছেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী হয়েছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা। বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী হয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু এবং কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জয়ী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। এর আগে ছাদ খোলা গাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন মোদী। তিনি শপথ মঞ্চে উঠেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর দেশটির জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন—বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী দলের ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করে শুভেন্দুকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করেন বিজেপি নেতা অমিত শাহ। নিয়ম অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পরিষদীয় দলনেতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। ভারতের যে কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হয়। গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভায় প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান মুখ। রাজ্যে সন্ত্রাস, ‘অনুপ্রবেশ’, অবৈধ অভিবাসী, দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে ‘ঝাঁঝালো’ মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু প্রার্থী হয়েছিলেন ২০০৭ সালে কৃষক ‘বিদ্রোহের’ জন্য বিখ্যাত নন্দীগ্রাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ভবানীপুর আসনে। দুটি আসনেই জিতেছেন তিনি। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতার বিরুদ্ধে লড়ে জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। অর্থাৎ, পরপর দুইবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে হারিয়ে শুভেন্দু নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ভোটের ফল জানা গেছে গত ৪ মে। এর মধ্যে ২০৭টিতে জিতে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তৃণমূল ৮০টি আসনে জিতেছে এবং ৬টি আসন পেয়েছে বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলো। রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে মে ২১ পুনর্নির্বাচন হবে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিজেপির গেরুয়া সুনামিতে ভেসে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নীল দুর্গ। টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি।
ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন হামলার দাবিও করে গোষ্ঠীটি। এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, তিন নারী এবং একজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন। ওই হামলাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর প্রথম হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বড় ধরনের হামলা বা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে ইসরায়েল আত্মরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলটিতে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার তিনি বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করছেন। নির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফলাফলের দায় স্বীকার করে স্টারমার বলেন, আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেব না। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও লেবার পার্টি বড় ধাক্কার আশঙ্কায় রয়েছে। ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার বলেন, এটি অত্যন্ত কঠিন ফল। আমরা অনেক দক্ষ জনপ্রতিনিধিকে হারিয়েছি এবং এর দায় আমি নিচ্ছি। দুই বছর আগে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল জয় পেয়েছিল লেবার পার্টি। তবে এবারের স্থানীয় নির্বাচনে দলটির অবস্থান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে ৩৫০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, লেবার পার্টি হারিয়েছে ২৪০টিরও বেশি আসন। এ পরাজয়ের পর স্টারমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি অটল থাকবেন। এদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ফলাফলকে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ভুল নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার কারণে স্টারমার সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে।
সাজানো হয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। বিশাল মঞ্চ, হাজারো দর্শকের অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা। রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এসব আয়োজন করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে। আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) এই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেবেন নতুন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম সরকার গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু। আজকের শপথ অনুষ্ঠানে জাঁকজমকের কমতি রাখছে না বিজেপি। এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নিতিন নবীনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই। সেই সঙ্গে ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজকের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সব বিধায়ক বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধুতি–পাঞ্জাবি পরে আসবেন। খাবারেও থাকছে বাঙালিয়ানা। থাকছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ ঝালমুড়িও। অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে সংসদ সদস্য ও নতুন বিধায়কদের। কলকাতা ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা–কর্মীরা এরই মধ্যে কলকাতায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। ব্রিগেডের শপথ মঞ্চ ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। আরও আছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীসহ কেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজে কলকাতায় পৌঁছাবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর তিনি সোজা অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন। শপথ নেওয়া শেষে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যাবেন কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স ভবনে, রাজ্য সচিবালয়ের দপ্তরে। রাজ্য বিজেপি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, নতুন সরকার পরিচালিত হবে রাইটার্স ভবন থেকে। নবান্নে রাজ্য সচিবালয় থাকবে না। সে জন্য রাইটার্স ভবন নতুন করে সাজানো হয়েছে। একসময় রাইটার্স ভবন ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা এখানে বসতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বসেছিলেন। পরে মমতা ২০১৩ সালে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে হাওড়ার নবান্নে নিয়ে যান। এখন শুভেন্দু রাজ্য সরকারের সচিবালয় রাইটার্স ভবনে ফিরিয়ে আনছেন। সেখানে তিনি দোতলায় নয়, তিনতলায় অফিস করবেন। একটি কক্ষ সাজানো হয়েছে। রাজ্যপালের কাছে শুভেন্দু শুভেন্দু গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেছেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। এ সময় শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন। রাজ্যপালের অনুমতি সাপেক্ষে শপথ নেবে নতুন রাজ্য সরকার। শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। গতকাল কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ। এ সময় অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি এবার এই বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন দেখিয়ে প্রমাণ করেছে, বিজেপি হিংসা চায় না; শান্তি চায়। সন্ত্রাস চায় না; উন্নয়ন চায়। ভয় নয়; ভয়মুক্ত বাংলা গড়তে চায়।’
ছোট দলগুলোর সমর্থনে অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। থালাপতি বিজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিঃশর্ত সমর্থন’ জানিয়েছে দুই বাম দল ও ভিসিকে। এশিয়া নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,এর আগে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং কমিউনিস্ট পার্টি-মার্ক্সবাদী (সিপিএম-এম) একটি কার্যনির্বাহী বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে দুই বাম দলের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্রে উত্থান-পতনকে স্বীকার করে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক ভীরাপান্ডিয়ান বলেন, ‘জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ টিভিকে সিপিআই, সিপিআই(এম) এবং ভিসিকে-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমাদের দলীয় বৈঠক হয়েছিল। গণতন্ত্রে উত্থান-পতন থাকা স্বাভাবিক। তামিলনাড়ুর জনগণ টিভিকে-কে সমর্থন করে নির্বাচিত করেছে। আমরাও গণতান্ত্রিক উপায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে যোগ করেন এই রাজ্য কর্তা। এদিকে, তামিলনাড়ু সিপিআই(এম)-এর সম্পাদক শানমুগাম বলেছেন, রাজ্য সরকার গঠনে বিলম্বের সুযোগে রাষ্ট্রপতি শাসন করে। বিজেপি যাতে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দলগুলো টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছি। এদিকে, লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটি) দলের উচ্চ-পর্যায়ের কমিটির বৈঠক বর্তমানে জুম অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দলটি টিভিকে-কে সমর্থন করবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিপিআই, সিপিআই(এম) এবং ভিসিকে টিভিকে-কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ায়। দলটির চেন্নাই সদর দপ্তরের বাইরে কর্মী ও সমর্থকরা বাজি ফোটাচ্ছেন এবং মিষ্টি বিতরণ করছেন।
মিয়ানমারে ১১ হাজার ক্যারেটের একটি বিশাল রুবি পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে। মূল্যবান রত্নপাথরের জন্য বিখ্যাত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত পাওয়া বৃহত্তম রুবিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আজ শুক্রবার (৮ মে) মিয়ানমারের সরকারি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। মিয়ানমারের মোগোক এলাকা থেকে এই রুবিটি তোলা হয়েছে। দেশটির নতুন সামরিক সমর্থিত সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পাথরটি অস্বাভাবিকভাবে বড় ও বিরল এবং এটি খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশাল এই রুবিটি বেগুনি-লাল রঙের এবং এর মধ্যে কিছুটা হলদে আভা রয়েছে। রঙের মানদণ্ডে এটি অত্যন্ত উচ্চমানের বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে একই এলাকায় ২১ হাজার ৪৫০ ক্যারেটের একটি রুবি পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পাথরটি তার চেয়ে আকারে ছোট হলেও মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রঙের শ্রেষ্ঠত্ব, স্বচ্ছতা এবং সামগ্রিক গুণমানের কারণে এটি আগেরটির চেয়ে বেশি মূল্যবান। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো দাম উল্লেখ করা হয়নি। মান্দালয় অঞ্চলের মোগোক উপত্যকায় লুকানো অনন্য রঙের পাথরের দখল পেতে সম্রাট, রাজা এবং যুদ্ধবাজরা দীর্ঘকাল ধরে লড়াই করেছেন। মোগোকের রুবি বিশ্বের সবচেয়ে দামি রত্ন; উচ্চমানের কারণে পাথরগুলো কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়, যদিও এই শিল্পটি নিয়ন্ত্রণহীনতার জন্য কুখ্যাত।
ভারতের জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সংগীত 'জনগণমন'-র সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে নিখিল ভারত মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। বোর্ড এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং ভারতীয় সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা 'জাতীয় সম্মান অমর্যাদা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১' সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে 'বন্দে মাতরম' গাওয়ায় বাধা দেওয়া বা এর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এআইএমপিএলবির মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মূল চেতনা এবং গণপরিষদের ঐতিহাসিক ঐকমত্যকে লঙ্ঘন করে। তিনি বিশেষ করে গানটির সবকটি ছয়টি স্তবক সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করার রিপোর্টের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন। বোর্ড উল্লেখ করেছে যে, গানটির বেশ কিছু স্তবকে দেবী দুর্গা এবং অন্যান্য হিন্দু দেব-দেবীর বন্দনা রয়েছে, যা ইসলামের 'একেশ্বরবাদ' বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। ইলিয়াস ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে 'বন্দে মাতরম'-এর ধর্মীয় প্রকৃতির কারণে এর ব্যবহার কেবল প্রথম দুটি স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। "সবকটি ছয়টি স্তবক বাধ্যতামূলক করা ঐতিহাসিক ঐকমত্য থেকে বিচ্যুতি এবং একটি উস্কানিমূলক পদক্ষেপ," যোগ করেন তিনি। এআইএমপিএলবি সরকারকে অনুরোধ করেছে যাতে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য সংবেদনশীল ধর্মীয় ইস্যু ব্যবহার না করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা হয়। উত্তরাখণ্ড মাদরাসা বিল নিয়ে উদ্বেগ একই সাথে এআইএমপিএলবি, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ এবং জামায়াতে ইসলামী হিন্দসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন উত্তরাখণ্ডের প্রস্তাবিত মাদরাসা আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, সরকারি বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং পাঠ্যক্রমের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মুখে ফেলবে। এই বিল সংবিধানের ২৫, ২৬ এবং ৩০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে, যা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার প্রদান করে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন যে, মাদরাসাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সমাজসেবায় অবদান রেখেছে। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন এআইএমপিএলবি সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানি, মাওলানা আরশাদ মাদানি, মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি এবং সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি। সংগঠনগুলো নিশ্চিত করেছে যে, মাদরাসার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা সম্প্রদায়ের একটি যৌথ দায়িত্ব এবং ইতিমধ্যে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে এই বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসে জয় পেয়েছেন এসপায়ার পার্টির প্রার্থী লুৎফুর রহমান। আর নিউহামে বিজয়ী হয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি লেবার পার্টি থেকে নির্বাচনে লড়েছেন। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম, রেডব্রিজসহ ১৩৬ স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রার্থী হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে নির্বাহী মেয়র পদে ভোট গণনা শুরু হয়। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী জয় পান ফরহাদ হোসেন। তিনি পেয়েছেন মোট ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। যুক্তরাজ্যের মূলধারার কোনো বড় রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়লেন। ফরহাদ হোসেনের নিকটতম প্রার্থী নিউহাম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির কামরান মালিক পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আরিক চৌধুরী। গ্রিন পার্টির এই প্রার্থী পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। এই কাউন্সিলে মোট আটজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের ফলাফলে ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গ্রিন পার্টির হিরা খান আদেওগান। এই কাউন্সিলে আরও দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীসহ মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ও দলটির নেতা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি তাদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও ধাক্কা খাচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রিফর্ম ইউকে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রিফর্ম ইউকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ কাউন্সিল আসনে জয় পেয়েছে। লেবার পার্টি গত নির্বাচনে জয়ী হওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন হারিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের আবহে এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি বেইজিংয়ের। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিগুলোতে চীনা সমর-বিশেষজ্ঞদের সরাসরি উপস্থিতির কথা প্রথমবার সরকারিভাবে মেনে নিল চীন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনা যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি)-র ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তারা সশরীরে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছিলেন। এই প্রথম বেইজিং প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে ভারত-পাক সংঘাতের ময়দানে চীনা কর্মীরা নেপথ্যে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর পর কড়া পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি। পাল্টা প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ডেরা গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী, যাতে খতম হয় ১০০-র বেশি লস্কর ও জয়েশ জঙ্গি। সেই অভিযানের সময়কার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে চীনা ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং জানিয়েছেন, মে মাসের সেই অসহ্য গরমে যখন সাইরেনের শব্দ আর যুদ্ধবিমানের গর্জনে আকাশ-বাতাস কাঁপছিল, তখন তারা পাকিস্তানের ঘাঁটিতে বসে জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল চীনা প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানগুলো যেন যুদ্ধের কঠিন পরীক্ষায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে পারফর্ম করতে পারে। অপর এক বিশেষজ্ঞ সু দা-র মতে, এই বিমানগুলো তাদের কাছে সন্তানের মতো, যা যুদ্ধের ময়দানে ভারতের বিরুদ্ধে ‘অনিবার্য’ সাফল্য এনে দেবে বলেই তাদের বিশ্বাস ছিল। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকেও চীনের এই অশুভ আঁতাত নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। গত বছর জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের হাতে থাকা সমরাস্ত্রের ৮১ শতাংশই চীনা বংশোদ্ভূত। চীন কার্যত পাকিস্তানকে একটি ‘লাইভ ল্যাব’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে তারা ভারতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজেদের তৈরি আধুনিক ড্রোন, জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ থান্ডারের মতো যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে। এমনকি অভিযানের সময় ভারতের সামরিক গতিবিধির প্রতি মুহূর্তের আপডেটও বেইজিং ইসলামাবাদের হাতে তুলে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। আমেরিকার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) ২০২৫ সালের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত বর্তমানে চীনকেই তার প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করছে, যেখানে পাকিস্তান কেবল একটি সহায়ক সমস্যা মাত্র। চীনের এই নতুন স্বীকারোক্তি সেই আশঙ্কার পথকেই আরও প্রশস্ত করল। সূত্র: এনডিটিভি
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত শপথ নিতে পারছেন না অভিনেতা থালাপতি বিজয়। শনিবার (৯ মে) তার শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। শুক্রবার ফের রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। টানা তিন দিনের বৈঠকের পরও তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে জোট। তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন ২৩৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ের দল টিভিকে পায় ১০৮টি আসন। এরপর সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থন চাইতে শুরু করেন তিনি। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, অন্তত চারটি দল টিভিকেকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। সেই হিসাবে জোটের আসন সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণে দেখা দেয় জটিলতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাস্তবে বিজয়ের জোটের নিশ্চিত আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও দুই আসন দূরে রয়েছে টিভিকে। জানা গেছে, ভিসিকে এবং আইইউএমএল নামে দুটি দলের সমর্থনের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপালের কাছে ওই দুই দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র দেখাতে পারেননি বিজয়। পরে আইইউএমএল এক বিবৃতিতে জানায়, তারা টিভিকে সমর্থন দেবে না। অন্যদিকে টিটিভি নামের আরও একটি দলও সরকার গঠনে বিজয়কে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে তামিলনাড়ু।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি। এরই মধ্যে দপ্তর বন্টনে অভ্যন্তরীণ আলাপ-আলোচনা চলছে। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিজের হাতে রেখে দিচ্ছেন শুভেন্দু। বাংলাদেশের শীর্ষ সারির একটি জাতীয় দৈনিকের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, শুভেন্দু নিজের হাতেই রেখেছেন স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কাঠামো পুনর্গঠনের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভায় দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনিক শক্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা, এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, শিল্পাঞ্চল, কলকাতার ভদ্রলোক সমাজ এবং তফসিলি ও আদিবাসী প্রতিনিধিত্বকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরে আদিবাসী নেতৃত্বকে আনা হয়েছে। একইভাবে শিল্প ও নগরোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শহরমুখী মুখদের তুলে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামী শনিবার (৯ মে) শপথ নিতে যাচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিজেপির বিধায়কদের দলীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সবার সমর্থন আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করে অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি বিধায়ক দলের পক্ষ থেকে পাওয়া সব প্রস্তাবই শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে ছিল।’
চলমান ইরান যুদ্ধ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ এখন ভোজ্যতেল দিয়ে বিকল্প জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরির দিকে ঝুঁকছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নার তেলের ওপর। এফএও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বিশ্ব খাদ্য সূচক আগের মাসের চেয়ে ১.৬ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে সয়াবিন, সূর্যমুখী ও পাম তেলের দাম এক মাসেই প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এছাড়া সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর মাংসের দামও এখন রেকর্ড উচ্চতায়। তবে স্বস্তির খবর হলো, চাল, গম ও ভুট্টার মতো দানাদার শস্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। গত মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় এসব শস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা বাজারকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে প্রচুর ফলন হওয়ায় চিনির দাম গত মাসে কিছুটা কমেছে। জাতিসংঘ আশা করছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শস্যের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে প্রয়োজনীয় অনেক খাদ্যপণ্য। সূত্র: রয়টার্স।
টোকিওর এক রাস্তার মোড়ে, বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে থাকা একদল জাপানির হাতে দেখা যায় চুপসে যাওয়া কিছু প্ল্যাকার্ড। তার একটিতে মোটা হরফের জাপানি কাঞ্জিতে কেবলই দুটি শব্দ লেখা- ‘নো ওয়ার’। জাপান এখন কয়েক দশকের মধ্যে তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভগুলো দেখছে। গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে, বিদেশে জাপানের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বিস্তৃত করে দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরানোর চেষ্টায় মত্ত। তার সরকার বলছে, ‘আগ্রাসী’ চীন, অস্থির উত্তর কোরিয়া, কাছেই থাকা যুদ্ধংদেহী রাশিয়ার কারণে জাপানের আশপাশের অঞ্চলে ক্রমশ যেভাবে উত্তেজনা বাড়ছে তাতে এসব পদক্ষেপ খুবই জরুরি। টোকিওর মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপত্তায় জাপানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করছে। কিন্তু এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশটির অনেক বাসিন্দার কাছেই এসব পরিবর্তন আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে। জাপান যুদ্ধ-সক্ষম দেশে পরিণত হচ্ছে—এই ভয় বাড়তে থাকায় দেশটিতে বিক্ষোভও ক্রমশ জোরাল হচ্ছে, বলছে বিবিসি। প্রতিরক্ষা নীতি বদলাতে চান প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান তার সংবিধানে যে ধারা ৯-কে গ্রহণ করে নিয়েছিল, তাতে যুদ্ধকে দেশের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র বাহিনী গঠনেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। পরে ওই ধারার ব্যাখ্যা খানিকটা বদলে দেশটি আত্মরক্ষা বাহিনী বানানোর সুযোগ পায়। তাকাইচি-ই প্রথম নন, জাপানের অনেক রক্ষণশীল নেতাই সংবিধানের এ ধারা বদলের পক্ষে ছিলেন। এ তালিকায় শিনজো আবে-ও আছেন। ২০১৫ সালে আবে’র আমলেই জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটে পাস হওয়া নিরাপত্তা বিলে হামলার মুখে মিত্রদের সহায়তাসহ সীমিত আকারে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মারণাস্ত্র রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে দিয়ে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল দেশটির সরকার সংবিধানের ওই ধারা-৯ বিরোধী সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি নেয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে, এখনকার ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মিত্রদের অবশ্যই একে অপরের পাশে দাঁড়ানো দরকার। এ সিদ্ধান্তই অনেকের টনক নড়িয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা কী বলছেন বৃষ্টি থেমে রোদ উঁকি দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে হওয়া বিক্ষোভে ভিড় আরও বেড়ে যায়। কেবল বয়স্করাই নন, যোগ দেন ২০-৩০ এর ঘরের অনেক তরুণও। তেমনই একজন আকারি মায়েজোনোর হাতে ছিল উজ্জ্বল রঙে আঁকা কাগজের লন্ঠন। আমি ক্ষিপ্ত কারণ এসব পরিবর্তন জনগণের মতামত নেওয়া ছাড়া করা হচ্ছে, বলেছেন তিনি। টকটকে লাল রঙের ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানো বয়স্ক আরেক ব্যক্তি বলেন, যে কোনো মূল্যে জাপানের সংবিধানের ধারা ৯-কে রক্ষা করতে হবে। এই ধারাই জাপানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মতো আগের যুদ্ধগুলোতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। নাহলে এতক্ষণে আমরা যুদ্ধে ঢুকে যেতাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের হামলায় বেঁচে যাওয়া জাপানিরা দেশটিতে হিবাকুশা নামে পরিচিত। তাদেরই একজন জিরো হামাসুমি সম্প্রতি জাতিসংঘে বলেছেন, “পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কারণ আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আর যুদ্ধ নয়, আর হিবাকুশা নয়। দ্বিধাবিভক্ত দেশ তবে বিক্ষোভে কেবল একপক্ষের মতামতই মিলছে। জাপান এখন এই ধারা-৯ নিয়ে গভীরভাবে বিভক্ত। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও এ চিত্র ফুটে উঠছে। কেউ চাইছেন শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, অন্যরা এর কঠোর বিরোধিতা করছেন। যারা সংবিধানের ধারাটি বদলের পক্ষে, তাদের যুক্তি হল- জাপানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মৌলিক বদল ঘটে গেছে। বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর যে ধারা ৯ এসেছে, তা খুবই আপত্তিকর। জাপানকে অবশ্যই আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে, মিত্রদের সহযোগিতা করতে হবে এবং যেকোনো সঙ্কটের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, সামরিক বাহিনীকে আরও বৈধতা দেওয়ার মানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছুড়ে ফেলা নয়, এটি অস্থিতিশীল বিশ্বে টিকে থাকার চেষ্টা। যারা বিপক্ষে তাদের ভাষ্য হল- যেসব বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছে তা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার ধারাটিকে ফাঁপা, অন্তসারশূন্য করে ফেলবে। সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ ও বিধিনিষেধ শিথিল জাপানকে দেশের বাইরের সংঘাতে জড়াতে ধাবিত করবে। তাদের অনেকেই বলছেন, ধারা ৯ কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি সেই নৈতিক অঙ্গীকার যা গড়ে উঠেছে আগের সর্বনাশা সব যুদ্ধের ভেতর দিয়ে। টোকিওতে ওই বিক্ষোভ চলার সময় কাছেই একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের ক্যাশিয়ারের মুখ থেকে এল উল্টো কথা। তারা সবসময় এখানে আসে। এখন সময় হয়েছে নতুন জাপানের, বলেছেন বিরক্তি নিয়ে বিক্ষোভ দেখা এ ব্যক্তি। এমনই এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে জাপান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তনই আসে ধীরগতিতে। সেই দেশকে এখন হয় অতীতের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ পরিচয় ধরে রাখতে হবে, নতুবা মেনে নিতে হবে অস্থিতিশীল ভবিষ্যৎকে। কী সিদ্ধান্ত নেবে তার চেয়েও বড় যে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল—কত দ্রুত তারা সিদ্ধান্তটি নেবে।
সৌদি আরব তাদের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণপূর্বের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে রাজি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তড়িঘড়ি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পাহারায় তার নৌ অভিযান পরিকল্পনা স্থগিত করেন বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রোববার ট্রাম্প তার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমের’ ঘোষণা দিলে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররা বিস্মিত হোন। এরপর ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করলেও তার সম্মতি আদায় করতে পারেননি। ওয়াশিংটনের এ নৌ অভিযানের ঘোষণা সৌদি নেতাদের ‘বিস্মিত করেছিল’ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এক সৌদি সূত্র বলেছে, পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলাচ্ছে যে অবাক হওয়ার সুযোগই থাকছে না। এর জবাবে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, তারা রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন করতে দেবে না এবং এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য সৌদি আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেবে না বলে কর্মকর্তারা জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তাতে রিয়াদের ‘পুরোপুরি সমর্থন’ আছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজে তাদের অভিযানের বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার মিত্রদের আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু, ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরই ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানান ওমানের এক কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণাটি দেয়, পরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা হতাশ বা ক্রুদ্ধ নই। এদিকে ইরান বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যে কোনো বাণিজ্যিক নৌযানকে সামুদ্রিক, যান্ত্রিক বা মেডিকেল সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প তার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর তেহরানের এ ঘোষণা এল।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে রাজ্যে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো। ফলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারালেন। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি নোটিশে আর এন রবি জানিয়েছেন, আমি এতদ্বারা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি। নির্বাচনে বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে কয়েক দিন ধরেই পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে বিজেপি এই জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুট করা হয়েছে, যেখানে তাদের প্রার্থীরা গণনার শুরু থেকে এগিয়ে ছিলেন। ভারত সরকারের সাবেক সচিব জহর সরকার জানিয়েছেন, গতকালই রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাজ্যের দায়িত্ব সামলাবেন। এদিকে বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুক্রবার দুপুর ২টায় দলটির নবনির্বাচিত বিধায়করা বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা ও নাটকীয়তা চলছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যম গ্রামে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে। কী এই ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদ? ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ক্লজ অনুযায়ী রাজ্যপালকে বিধানসভা বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর উপধারা (এ) অনুযায়ী রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করতে পারেন এবং উপধারা (বি) অনুযায়ী তিনি পুরো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আইন বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারে থাকা অসাংবিধানিক। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি কোনও সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।