বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। দেশজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট সামাল দিতেই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সরকারকে। এর পরই আসন্ন রমজান মাস, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে গিয়ে নতুন সরকারকে হিমশিম খেতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ বছর পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিপুল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধ। অন্তর্বর্তী সরকার এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় নতুন সরকারকে এই বিশাল আর্থিক দায়ভার কাঁধে নিতে হবে। এসব বকেয়া পরিশোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
এরই মধ্যে দেশে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রমজান মাসে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২১ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল আন্তমন্ত্রণালয় সভায় পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয় যে, অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, আবাসিক খাতে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ খুবই কম। তিতাসের দৈনিক চাহিদা ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ পাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি, এলপিজি ও ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখতে গিয়ে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ২০৩০ সালের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এতটাই কমে যাবে যে বাণিজ্যিকভাবে তা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং পুরোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাত তীব্র সংকটে পড়তে পারে।
চলতি বছর সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। গ্রীষ্মকালে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। রমজান মাস এ সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আসন্ন রমজান, জাতীয় নির্বাচন, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। এই ভর্তুকি না পেলে আগামী মাস থেকেই দেশজুড়ে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং শুরু হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে গরম ও রমজানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে বাস্তবে এর অর্ধেক বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাস সংকট এ সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে।
দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। ব্যাংক ঋণের সুদ ও সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসানাত বলেন, একেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকের ছয় থেকে সাত মাসের বিল সরকারের কাছে বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ না হলে জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা সম্ভব হবে না। এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের ৬৪ জেলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি এই পে স্কেল বাস্তবায়ন। বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সারাদেশে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে প্রণীত পে কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ওই সময়ে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিলের ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি আরও বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি, যদিও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করলেও এখনো তার সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন জারি করে পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারত বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের ওপর এ দায়িত্ব বর্তেছে বলেও উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে অন্তত আংশিক বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। বর্তমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন পেট্রল, ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে। এছাড়া ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। ডিজেল নিয়ে কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি এবং এপ্রিলেও কোনো সংকট হবে না। ডিজেল পাচার রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি বিক্রির জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করছে সরকার, যা এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আজ সন্ধ্যার মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ডিপো থেকে পাম্পে তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন। গতকাল সোমবার সারা দেশে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল।
মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক নিবন্ধন সনদ নবায়নে সতর্ক করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কীকরণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ও বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২১ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, নিবন্ধন সনদ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক নিবন্ধন সনদ নবায়ন ব্যতীত কোনো ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা আইনসিদ্ধ নয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক ব্যবসা পরিচালনাকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হতে জরুরিভিত্তিতে নিবন্ধন সনদ নবায়নের আবেদন দাখিল করার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ব্যতীত এবং নিবন্ধন সনদ নবায়ন ব্যতীত যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগির আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।