সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রিয়ান রেফারি ওল্টারম্যানের ম্যাচ শেষের বাঁশি। বাংলাদেশের ডাগ আউট থেকে ফুটবলার, কোচিং স্টাফরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করলেন। মাঠে থাকা ফুটবলাররা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ উদযাপন করলেন। সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা জয় উদযাপনে বিভোর। স্বাগতিক সান মারিনোকে ১-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।  সান মারিনো ফিফা র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নিচের দল। তারা ইউরোপের দেশ হওয়ায় জার্মানি,স্পেনের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে খেলেন। তাই সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ অনেক। কারণ ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ও জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও ম্যাচটি জিততে পারেনি। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।  আজ বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন তিনি। দুটি গোলই হেডে করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভুইয়া উঠে যাওয়ার পর তপুর হাতে ছিল আর্মব্যান্ড। বাংলাদেশের ইউরোপের দলের বিপক্ষে প্রথম জয় এনে দিয়েছেন তপু।  প্রথমার্ধে ১-১ সমতা ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম,জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে নামান। জায়ান ও সামিত নামার পর খেলার গতি বাড়ে। বাংলাদেশ একটি গোল বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিট আগে বিশ্বনাথ ঘোষকে নামান ডুলি। বিশ্বনাথ ফুলব্যাক খেললেও আজ তাকে রাইট উইং খেলানো হয়েছে। জয়সূচক গোলে বিশ্বনাথের অবদান রয়েছে। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্তে হামজা চৌধুরীর ফ্রী কিক থেকে বিশ্বনাথ ভলি নেন। তপু বর্মণ মাটিতে পড়েছিলেন। উঠার সময় তার মাথায় বল লেগে গোল হয়।  চতুর্থ রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। সান মারিনো গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইন ক্রসও করেছিল। পুরোপুরি অতিক্রম না করায় বাংলাদেশ গোল হজম থেকে রক্ষা পায়। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।  সান মারিনো ইতালির মধ্যেই ক্ষুদ্র একটি দেশ। ইতালিতে বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী বসবাস করেন। রোম,ভেনিস অনেক শহর থেকে সান মারিনোতে হামজাদের খেলা দেখতে যান। গ্যালারি প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের সমর্থকদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও হোম ম্যাচের আবহই বিরাজমান।  এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শুরুটা খানিকটা নড়বড়ে ছিল। সান মারিনো বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল। দশ মিনিট পর বাংলাদেশ গুছিয়ে উঠে। ১৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পায়। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে শেখ মোরসালিন ডান প্রান্ত থেকে ক্রস করেন তপু বর্মণ হেডে সান মারিনোর জালে বল পাঠান। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।  বাংলাদেশের এই আনন্দ ১৪ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। গোলদাতা তপু বর্মণের ভুলেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। বেরাদিকে ফাইনাল চার্জ করলেও তাকে রুখতে পারেননি তপু। এরপর বেরাদি কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় দাড়িয়ে নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়লেও বল তার হাতে লেগেই জালে প্রবেশ করে।  বাংলাদেশ আবার এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ পেয়েছিল। এবারও বলের যোগানদাতা ছিলেন শেখ মোরসালিন। তার বাড়ানো বল সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের উপরে শট নেন। 

২ মিনিট আগে
পদত্যাগ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম

  কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) মেয়র হিসেবে দীর্ঘ আট বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন ফিরহাদ হাকিম।  ২০১৮ সালে যখন তিনি কলকাতার মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন শহরের একটা বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে টালিনালা সংলগ্ন টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্ট, বেহালার একাংশ এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকাগুলো মারাত্মক পানীয় জলের সংকটে ভুগছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই সংকট দূরীকরণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন।  সে সময় টালিগঞ্জ-যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত ২০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ২৪.৩ মিলিয়ন গ্যালন ভূগর্ভস্থ জল তুলতে হতো। ভূগর্ভস্থ জলের ওপর এই নির্ভরশীলতা আগামী দুই বছরে ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পৌরসংস্থা। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কেএমসি জল বৃদ্ধির বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে।  যদিও কাজটি এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি, তবে এই বিশেষ প্রকল্পের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নাগরিকদের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে মেয়রের উদ্যোগে ধাপা জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং গড়িয়ার ঢালাই ব্রিজে একটি নতুন জল শোধনাগার নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্টের বাসিন্দারা যাতে এই প্রকল্পের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে এই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৪০টি সেমি-আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং ক্যাপসুল ওয়াটার বুস্টার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।  বিদায়লগ্নে নিজের এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি নাগরিকদের, বিশেষ করে যারা এখনো ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়ার জন্য নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন যে প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ শেষ করে যেতে না পারলেও ধাপা এবং ঢালাই ব্রিজের জল শোধনাগার দুটি প্রায় সমাপ্তির পথে এবং অদূর ভবিষ্যতেই নাগরিকরা এর সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন। পানীয় জলের পাশাপাশি কলকাতার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলমগ্নতা’ বা ওয়াটারলগিং সমস্যা দূরীকরণেও বিদায়ী মেয়র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ তহবিল এনে গত তিন বছরে কলকাতার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেছে কেএমসি-র ড্রেনেজ বিভাগ। খিদিরপুর-একবালপুর অঞ্চলের মানুষকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ইতোমধ্যে একবালপুরের নবাব আলী পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তারাতলা, গার্ডেনরিচ এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটে আরও তিনটি পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে। তবে বিদায়ের মুহূর্তে ফিরহাদ হাকিম তার স্বপ্নের প্রকল্প ‘হৃষিকেশ পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন’-এর উদ্বোধনকালে মেয়র পদে থাকতে না পারায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ঠনঠনিয়া, সুকিয়া স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং কলেজ স্ট্রিটের বাসিন্দাদের তীব্র জল জট থেকে মুক্তি দিতেই তিনি আমহার্স্ট স্ট্রিটে এই পাম্পিং স্টেশনটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি জানতে পেরেছিলেন যে কলকাতার তৎকালীন মেয়র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জলমগ্নতা থেকে মুক্তি দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাই এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি নিজে এই ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়েও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র। কলকাতার একমাত্র বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড ধাপার আধুনিকীকরণের প্রস্তাব তিনি অনুমোদন করে গেছেন। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা থেকে যাতে সম্পদ তৈরি করা যায়, তার জন্য একটি ‘নতুন ধাপা’ গড়ে তুলতে রাজ্য অর্থ দপ্তরের কাছে তহবিল বরাদ্দের চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।  পৌরসংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যে আবর্জনাকে সার, কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) এবং প্লাস্টিকের আসবাবে রূপান্তরিত করার বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই ধরণের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে ধাপার পাশেই আরও একটি বড় জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কলকাতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। জনমুখী উদ্যোগ, ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি নাগরিক সংযোগ এবং কলকাতার পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের এই আট বছরের মেয়াদ কলকাতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

৫ মিনিট আগে
কৌশলগত অংশীদারি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি কৌশলগত স্তরে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারির প্রতিফলন ঘটিয়ে বন্ধুভাবাপন্ন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের দ্বারা পরিচালিত। এই নীতিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে এটি আমাদের এই বিশ্বাসকেও ধারণ করে যে, সীমান্তের বাইরে আমাদের বন্ধু ও অংশীদার রয়েছে, কোনো প্রভু নয়। উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে যে, এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই আলোচনার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ। খলিলুর রহমান জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও তুরস্ক একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। খলিলুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন, হাকান ফিদানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা, যৌথ প্রয়াস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরো গভীর করবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারির নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচনে সহায়তা করবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচিকে পাঠানোর জন্য তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ায় তুরস্কের সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে হাকান ফিদানকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশকে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। ফিদান বলেন, বেশ কয়েকটি খাতে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে ফিদান বলেন, উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতামত ব্যক্ত করেছে এবং এর অনেকগুলোতেই অভিন্ন ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ফিদান বলেন, তুরস্ক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। তিনি বন্ধুভাবাপন্ন এই দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আঙ্কারার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানবিক কারণে ১০ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং মায়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আঙ্কারার অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা এর প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করি এবং রোহিঙ্গা জনগণের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। ফিদান জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় টিকিয়ে রাখতে তুরস্ক নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গাজা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নৃশংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, তুরস্ক আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়ে ফিদান আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে। তিনি নৌ-পথে কৌশলগত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন এবং উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় থাকা পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

৮ মিনিট আগে
পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন), চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল  জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারায় অংশ নিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষও। লাঠিসোঁটা, বাঁশি ও শক্তিশালী টর্চলাইট নিয়ে রাতভর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও টহল ও নজরদারিতে সক্রিয় রয়েছেন। অনেককে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিতে দেখা গেছে। তিন দিক দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত বেষ্টিত মেহেরপুর জেলার মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এবং বাকি সীমান্ত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন। বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সকল বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এবং একটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে প্রতিদিন টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে লোকসমাগমের তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির দাবি, যেসব এলাকা দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থানে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো নিভিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল, পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কাথুলী সীমান্তের বাসিন্দা রনি বলেন, দেশ সবার, তাই দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদেরও দায়িত্ব। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে আমরা বিজিবিকে সহায়তা করছি। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সারারাত পাহারা দিচ্ছি। সহড়াতলা সীমান্তের বাসিন্দা সুজন বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমান্তবাসী সবসময় সচেতন। প্রতি রাতেই সাধারণ মানুষ বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি করছেন। সীমান্তের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা বিজিবির পাশে আছি। কোনোভাবেই যেন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পাহারায় অংশ নিয়েছি। কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. অছিকুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ নিয়ম না মেনে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই করে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে অবৈধভাবে লোকজনকে সীমান্ত পার করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল আহসান বলেন, সীমান্ত রক্ষা শুধু বিজিবির নয়, সবার দায়িত্ব। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টার তথ্য পাওয়ার পর আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মেহেরপুর সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকা আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। বাকি অংশ চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির আওতাধীন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাটক্ষেত থাকায় দূর থেকে পর্যবেক্ষণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত সংলগ্ন আবাদি জমির কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার বা পুশইন যাতে না হয়, সেজন্য স্থানীয়রা দলে দলে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় যোগ দিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

১২ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে গেলেও প্রাণহানি হয়নি : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।   শুক্রবার (৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এস বি পরিবহনের একটি বাস সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাসটি ফেরিতে প্রবেশের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে বিপরীত পাশের র‌্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কোনো যাত্রীর প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।   দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।   উদ্ধার অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।   নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ফেরিতে ওঠার আগে যানবাহনের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
গুলশানে স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, আটক ২৮ জন

রাজধানীর গুলশান এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।   বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গুলশান-২ এলাকার দুটি পৃথক স্পা সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত ও সংশ্লিষ্ট মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্পা সেন্টারের আড়ালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে অভিযান পরিচালনা করা হয়।   গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।   তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও ওয়েলনেস সেন্টারের নামে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   পুলিশের দাবি, নগরীতে বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আমিরাত

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয়।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   আলোচনায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, স্বয়ংক্রিয় সাব-স্টেশন স্থাপন এবং জ্বালানি খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, বিশেষ করে গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সরকার শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়।   রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।   সূত্র: বাসস।

ছবি : সংগৃহীত
চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর চামড়ার বাজার বৃহস্পতিবার থেকে বসেছে কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মার্কেট এলাকার মোরগ মহালে। বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এখানে দাম মিলছে না পশুর চামড়ার। সরকার নির্ধারিত গরুর চামড়ার মূল্য প্রকারভেদে প্রতি ফুট ৬২-৬৭ এবং ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা ঘোষণা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০-৩০ টাকা দরে। এছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ এবং বকরির ২২ থেকে ২৫ টাকা সরকার নির্ধারিত মূল্য হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। ট্যানারিশিল্পসংশ্লিষ্ট শক্তিশালী সিন্ডিকেট চামড়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করায় তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাজার। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা কিশোরগঞ্জের পশু চামড়া বাজারের মৌসুমি ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা। চোখের জল ফেলে তারা বলছেন, এতে বিনিয়োগ করা পুঁজি ওঠা দূরের কথা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহণ খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়েছে, তাও পাচ্ছেন না তারা।   বিশাল পশু চামড়ার হাটটি ঘুরে দেখা যায়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ পশুর চামড়া নিয়ে এ হাটে এসেছেন মৌসুমি ব্যাপারীরা। কিন্তু ট্যানারি মালিকসংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম দাম বলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন এ চামড়ার হাট পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবহণ খরচ ও লবণ দিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়াজাতকরণের যে ব্যয়, তার ভয়ে পানির দরে ট্যানারি মালিকদের হাতে চামড়া তুলে দিয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ফিরছেন বাড়ি। হবিগঞ্জ জেলা থেকে ১২০০ পশুর চামড়া নিয়ে আসা আজিজ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভোর থেকে এসব চামড়া নিয়ে বসে আছেন তিনি। কিন্তু দুপুর নাগাদ কোনো ট্যানারি কারখানার মালিক কিংবা প্রতিনিধি কেউ কোনো দাম বলেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৮শ চামড়া নিয়ে আসা আবদুল কদ্দুস জানান, সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়ে তার এসব চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা ফুটের স্থলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তার অন্তত তিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৩ হাজার পিস পশুর চামড়া নিয়ে আসা কবীর উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো ট্যানারি কারখানার মালিক চামড়া কিনতে প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা বাইরে থেকে কিছু দালাল ও সিন্ডিকেটের লোকজন পাঠিয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের হাতেই এখন জিম্মি ঐতিহ্যবাহী এই বিশাল চামড়ার হাট। যে চামড়া কিনতে সব মিলিয়ে তার ৪৫ টাকা ফুট খরচ পড়েছে, সেই চামড়া এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করছেন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিনও বরাবরের মতো এবারও ২ হাজার ৫শ চামড়া নিয়ে এ হাটে এসেছেন। এখন পর্যন্ত তার চামড়া বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ‘সরকার পশুর চামড়ার ভালো দাম বেঁধে দিয়েছে। এমনকি ট্যানারি কারখানাগুলোকে চামড়া কিনতে ঋণ দিয়েছে। কিন্তু তারা দালালচক্র ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পানির দরে নামমাত্র কিছু চামড়া কিনে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করে মুনাফা লুটছে। আর আমরা চামড়া নিয়ে এখন পথে বসেছি।’ জানা যায়, আগামী বৃহস্পতিবারও এখানে পশুর চামড়ার হাট বসবে। তাই অনেকেই শেষ হাটে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জেলেনস্কির

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক খোলা চিঠিতে তিনি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।   চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আলোচনার সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকরেরও প্রস্তাব দেন। তবে এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কি যদি সরাসরি বৈঠকে বসেন, তবে তা যুদ্ধের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কির পাঠানো খোলা চিঠি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবহিত করা হবে।   দীর্ঘ ওই চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের মানবিক বিপর্যয়, প্রাণহানি এবং রাশিয়ার সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।   ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে যে সম্ভাব্য বৈঠকটি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজন করা যেতে পারে।   অন্যদিকে পুতিন জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এর জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। ইউক্রেন অবশ্য নিজেদের কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সূত্র: বিবিসি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : সংগৃহীত
জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব খারিজ করলেন পুতিন
মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৫, ২০২৬

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখছি না।   শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন জেলেনস্কির সাম্প্রতিক খোলা চিঠির প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন। চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুতিন বলেন, তিনি বহুবার যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, তবে এখন এমন বৈঠকের বিশেষ কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, প্রকাশ্যে চিঠি লেখার এই পদ্ধতি আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কার্যকর সমঝোতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে না। তিনি বলেন, টেকসই চুক্তির ভিত্তি আগে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি যুদ্ধ বন্ধে একটি নির্দিষ্ট তারিখে বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং আলোচনা চলাকালে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ করেন। চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আমাদের দুজনের সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়েও আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। তবে পুতিন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি কেবল তখনই জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যখন একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি প্রস্তুত হবে এবং সেটি স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছাবে। একই অনুষ্ঠানে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রেখেছে এবং সামনের সারির প্রায় পুরো অংশজুড়েই তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।   উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।   সূত্র : আল জাজিরা

ছবি : সংগৃহীত
লেবাননকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৫, ২০২৬

ইরান ও তার লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আলোচনায় লেবাননকে দাবার ঘুঁটি বা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।    ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এটিই প্রেসিডেন্ট আউনের এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা, যা লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ইরানের নিজস্ব স্বার্থের কারণে লেবাননের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই অন্তহীন যুদ্ধে লেবাননের মানুষ এখন পুরোপুরি ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনায় লেবাননকে এভাবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যখন মার্কিন ও ইসরাইলি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ তিন মাসেরও বেশি সময় আগে এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। ১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দ্বারা গঠিত শিয়া মুসলিম সংগঠন হিজবুল্লাহর এই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই ভালোভাবে নেয়নি লেবাননের অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো। লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার বণ্টন নীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আউন একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান এবং দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার আগে তিনি লেবানন সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি হিজবুল্লাহকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা হিজবুল্লাহর ঘোষিত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। চলমান এই আঞ্চলিক সংকটে ইরান শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। এদিকে, ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানিজ ও ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা চুক্তি হলেও বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হিজবুল্লাহ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে এবং তাদের যোদ্ধাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।   হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটনের ওই চুক্তিটি লেবাননের জনগণের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাসেমের এই দাবির জবাবে প্রেসিডেন্ট আউন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, লেবাননের সাধারণ মানুষ আপনার নিজস্ব জনগণ নয়।  লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেই সাথে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স।

ছবি : সংগৃহীত
বিহারে মিলল বিপুল বিরল খনিজ, তৈরি হতে পারে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র
মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৫, ২০২৬

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আবহে আশার আলো দেখাচ্ছে বিহার (Bihar Rare Minerals)। সেই বিহার, যে রাজ্যটাকে পছন্দ করেন না অনেকেই! তবে নানান কারণে বারবার আলোচনায় উঠে আসে বিজেপি শাসিত এই রাজ্য। এবার সেখানেই প্রথমবারের মতো মিলল বিরল খনিজ সম্পদ। জানা যাচ্ছে, বিহারের মাটির নিচে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ উত্তোলনের জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হবে খনন কাজ। মূলত কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় বিহারের গয়া, রোহতাস এবং ঔরঙ্গবাদ অর্থাৎ তিনটি প্রধান জেলায় বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই সবটাই এবার তোলা হবে। শীঘ্রই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে নিউজ 18 এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ জায়গাগুলিতে খুব শীঘ্রই খনন কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ভূতাত্বিক সমীক্ষা ও খনি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রথাস জেলার অধীনে কাইমুর পাহাড়ে উচ্চমানের গ্লুকোনাইটের বিশাল মজুদ পাওয়া গিয়েছে। একই সাথে গয়া এবং ওরঙ্গবাদের সীমান্ত এলাকাগুলিতে ভ্যানাডিয়াম সহ ম্যাগনেটাইট এমলেনাইটের বিরল উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। আন্তর্জাতিকভারতপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিখেলাবিনোদনটেকচাকরিজ্যোতিষটাকা পয়সাঅফবিটধর্মব্যবসারাশিফলসেরা দশ বাংলা ক্যালেন্ডার আপনার রাশিফল Newসোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম গ্যাসের দাম ভারত তৈরি হবে যুদ্ধবিমান থেকে অস্ত্রশস্ত্র, বিহারে প্রথমবার মিলল বিপুল বিরল খনিজ সম্পদ বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আবহে আশার আলো দেখাচ্ছে বিহার (Bihar Rare Minerals)। সেই বিহার, যে রাজ্যটাকে পছন্দ করেন না অনেকেই! তবে নানান কারণে বারবার আলোচনায় উঠে আসে বিজেপি শাসিত এই রাজ্য। এবার সেখানেই প্রথমবারের মতো মিলল বিরল খনিজ সম্পদ। জানা যাচ্ছে, বিহারের মাটির নিচে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ উত্তোলনের জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হবে খনন কাজ। মূলত কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় বিহারের গয়া, রোহতাস এবং ঔরঙ্গবাদ অর্থাৎ তিনটি প্রধান জেলায় বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই সবটাই এবার তোলা হবে। শীঘ্রই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে নিউজ 18 এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ জায়গাগুলিতে খুব শীঘ্রই খনন কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ভূতাত্বিক সমীক্ষা ও খনি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রথাস জেলার অধীনে কাইমুর পাহাড়ে উচ্চমানের গ্লুকোনাইটের বিশাল মজুদ পাওয়া গিয়েছে। একই সাথে গয়া এবং ওরঙ্গবাদের সীমান্ত এলাকাগুলিতে ভ্যানাডিয়াম সহ ম্যাগনেটাইট এমলেনাইটের বিরল উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। Advertisement মূলত বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল এই আবিষ্কার। না বললেই নয়, একটানা 10 বছর এই অঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালানোর পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরেই অবশেষে জায়গাগুলিতে বিরল খনিজ সম্পদের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আর তারপরেই চারটি প্রধান ব্লকের জন্য দরপত্র বা টেন্ডার ডাকা হয়। যা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহতাসে যে বিপুল পরিমাণ গ্লুকোনাইট পাওয়া গিয়েছে তা পটাশ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে দেশে কৃষিকাজের জন্য সারের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলেই আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও গয়া এবং ঔরঙ্গবাদে পাওয়া ভ্যাননডিয়াম ও ম্যাগনেটাইট পুনঃবিকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এ প্রসঙ্গে, বিহারের খনি ও ভূমি উপাদান মন্ত্রী প্রমদ কুমার সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, বিহারে যে পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়া গিয়েছে তা রাজ্যের গোটা ছবিটাই বদলে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার বিহারের মোট 14টি জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ ব্লক চিহ্নিত করেছে। আগামী দিনেও এর নিলাম অব্যাহত থাকবে। বলা হচ্ছে, বিহারে হদিশ পাওয়া বিরল খনিজ সম্পদগুলি উত্তলোনের জন্য খনন কাজ শুরু হলে 100টিরও বেশি গ্রামের যুবক সরাসরি উপকৃত হবেন। আসলে এই কাজের জন্য প্রচুর সংখ্যক লোক লাগবে। সেই সূত্র ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে স্থানীয়দের।

ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সীতাকুণ্ডে ভাঙা হচ্ছে না ‘মেমেই’
মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৫, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভাঙার উদ্দেশ্যে আনা ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করায় সেটি আর সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে না। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।   জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। পরে সীতাকুণ্ডের একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নেওয়ার কথা ছিল। তবে ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ‘মেমেই’ জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। জানা গেছে, প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি আমদানি করেছিল এসএন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ডিসকো শওকত’ নামে পরিচিত।   প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই মালিকানাধীন ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, পালাউ পতাকাবাহী ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) একটি ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন, দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার।   ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি