সর্বশেষ

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন

রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার ওই পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় কর্কশিট ও হার্ডবোর্ডের একটি গোডাউনে রাত ৭টা ৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ৭টা ৭ মিনিটে কুর্মিটোলা ও বারিধারা ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। রাস্তার যানজট ঠেলে ৭টা ২২ মিনিটে ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনের একটি তলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভবনের বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ, আহত ১২

নোয়াখালীর হাতিয়াতে ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ইটপাটকের নিক্ষেপে অন্তত ১২জন আহত হয়। তবে তাৎক্ষণিক আহতের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।     শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।     স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফেরি উদ্বোধনের খবরে বিএনপি ও এনসিপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মি নলচিরা ঘাট এলাকায় একত্রিত হন। ওই সময় ফেরি চালুর কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয় স্থানীয় দুই পক্ষের স্থানীয় সমর্থকেরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষ কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মিরা আবারো পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশ বেদম লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন অনুষ্ঠানে আসা হাজারো উৎসুক মানুষ দিকবিদিক ছুটে আত্মরক্ষা  করতে চেষ্টা করে।   নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ফেরি ননচিরার ঘাটে ভেড়ার সাথে সাথে শাপলাকলির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে সমর্থকরা। এক এক পর্যায়ে ধানের শীষ সমর্থকদের পাল্টা শ্লোগান দিতে দেখা যায়। তখন ফেরির ক্রেডিট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।     এদিকে সমর্থকদের ওপর হামলাকারীদের দুই ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। অন্যথায় তিনি নির্বাচনের মাঠ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন।   অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন, ফেরি চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এনসিপির সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”   এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখনো আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সিউল ও টোকিও থে‌কে ঢাকা কী‌ শিক্ষা নি‌তে পা‌রে

অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, জনঘনত্ব ও পরিবেশ দূষণে নাজুক হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। দিনে দিনে এ শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।  এ প্রেক্ষাপ‌টে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও জাপানের টোকিও শহর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই শহর প্রমাণ করেছে—উচ্চ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও একটি শহরকে কীভাবে কার্যকর, মানবিক ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব। সিউল বহু বছর ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী শহর। তবে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ১৯৭০-এর দশক থেকেই পরিকল্পিতভাবে সিউলের চারপাশে একাধিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলে দেশটির সরকার। এসব নতুন শহর মহাসড়ক, মেট্রোরেল ও দ্রুতগতির ট্রেনের মাধ্যমে সিউলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এতে মানুষ সহজে সিউলের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারে। একই সঙ্গে সিউলে শিল্পকারখানা ও সরকারি দপ্তরের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ঠেকাতে কড়াকড়ি নীতি নেওয়া হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সেজং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিটি। সিউল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এই শহরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীর ওপর প্রশাসনিক চাপ কমেছে। এতে দেশের অন্য অঞ্চলেও উন্নয়ন ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জাপানের রাজধানী টোকিও দেখিয়েছে, কীভাবে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি অতিঘন শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। টোকিওতে মেট্রো, ট্রেন ও বাসের এমন বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা আছে যে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রয়োজন অনেক কমে গেছে। অনেক এলাকাতেই প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করলেও শহরটি অগোছালো বা অসহনীয় মনে হয় না। টোকিওর পরিকল্পনায় আবাসন, অফিস, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও পার্ক—সবকিছু কাছাকাছি রাখা হয়েছে। ফলে মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে দূরে যেতে হয় না। হাঁটা ও গণপরিবহনই সেখানে প্রধান ভরসা। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়, পাশাপাশি দূষণও কমে। টোকিওর আরেকটি বড় শক্তি হলো নাগরিকদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই গণপরিবহন ব্যবহার করেন। নগরজীবনে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামগ্রিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার এ সংস্কৃতিই শহরটিকে টেকসই করেছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা। প্রায় সব প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীতেই। এতে গ্রাম ও ছোট শহর থেকে মানুষ ঢাকায় ভিড় করছে। চাপ বাড়ছে অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর। সিউল ও টোকিওর অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার জন্য তিনটি বিষয় শেখা জরুরি। প্রথমত, রাজধানীর চাপ কমাতে পরিকল্পিতভাবে সরকারি দপ্তর ও শিল্প অন্য শহরে সরিয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, গণপরিবহনকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা; এবং তৃতীয়ত, পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের কাছাকাছি রাখা। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনঘনত্ব কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা হয় তখনই, যখন সেটিকে পরিকল্পনা ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালনা করা হয় না। সিউল ও টোকিও দেখিয়েছে, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে ঘন শহরও হতে পারে নিরাপদ, কার্যকর ও মানুষের জন্য উপযোগী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের সমাবেশস্থল ঘুরে দেখলেন সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিন তদারকি করেন তিনি।    এসময় সিএমপি কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে মোতায়েনকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে তিনি সিসিটিভি মনিটরিং, টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।    এসময় সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে দলীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর তিনি চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান।    দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এদিকে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা। নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ওন অলিগলিতে ব্যানার–ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।   মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে রাখা হচ্ছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।   মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড।   মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরী রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।   তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপিতে রাজাকার বেশি: ডা. সুলতান

বরগুনা–২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ শনিবার বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা সাইক্লোন সেন্টারে এক নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিএনপিতে রাজাকারের সংখ্যা জামায়াতের চেয়ে বেশি এবং আওয়ামীলীগে এমন প্রার্থীও রয়েছেন যারা সংখ্যার দিক থেকে আরও এগিয়ে। ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময় সঠিক তথ্য জানাতে চাই। জনগণকে সচেতন করতে চাই যে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে রাজাকারদের উপস্থিতি বেশি। তিনি আরও জানান, জনগণকে অবশ্যই বুঝতে হবে কোন প্রার্থী দেশের স্বার্থে কাজ করবে এবং কোন প্রার্থী ইতিহাসের লঘু চিহ্ন বহন করছে। পথসভায় স্থানীয় ভোটাররা অংশগ্রহণ করেন এবং ডা. সুলতান তার নির্বাচনী ইস্যু এবং পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক এবং সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ফুল উৎসবে মারামারি, দর্শনার্থীর বাস ভাঙচুর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ডিসি পার্কে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পার্কে দর্শনার্থী নিয়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পার্কিং এলাকার ইজারাদারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। সূত্র জানায়, বাসটি পার্কিংয়ের ভেতরে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করানোর কারণে পার্কিংয়ের ইজারাদারের পক্ষের লোকজন বাসটিকে সরানোর নির্দেশ দেন। বাসের কর্মীরা জানান, পার্কের ভেতরে কয়েকজন দর্শনার্থী এখনও রয়ে গেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে সমাধানমূলক বৈঠকের জন্য ডেকে বসান। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং বাসটি গন্তব্যের পথে ছেড়ে দেওয়া হয়। মামলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় ছয়-সাতজন যুবক ডিসি পার্কের সামনে দাঁড়ানো বাসের কাচ ভাঙছেন। ডিসি পার্ক সূত্র জানিয়েছে, বাসটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পার্কিং থেকে বের হতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় দর্শনার্থীদের নিরাপদ এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট এড়াতে আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নিরাপত্তার শঙ্কায় জিডি করলেন হাদির ভাই

ঢাকার শাহবাগ থানায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। শনিবার রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় এ জিডি করা হয়। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “ওমর বিন হাদি নিজের ও হাদির সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে জিডি করেছেন। তবে জিডিতে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে নিজে ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে। হাদির খুনি চক্র এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় যেকোনো সময় ‘অপ্রীতিকর ঘটনা’ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর, ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে সার্জারি করা হলেও পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরে অনুমোদন পেল ১৮ হাজার পোস্টাল ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ফরিদপুরে ১৮ হাজার ভোটারের পোস্টাল ভোটের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট কারণে নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোট দিতে না পারা ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা ভোটের দিন নিজের স্থায়ী ঠিকানায় উপস্থিত থেকে ভোট দিতে পারবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে এই পোস্টাল ভোটের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে এবং নিরাপদভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পোস্টাল ভোটারদের জন্য পৃথক ব্যালট কিট পাঠানো হবে। এতে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, ব্যালট পেপার ও খাম। ভোটাররা ঠিক মতো ভোট প্রদান ও খাম সিল করার পর এগুলো সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে ফেরত পাঠাবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন এই পোস্টাল ভোটগুলোর গণনা স্থানীয় নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে একত্র করবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, “নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং যারা সরাসরি ভোট দিতে পারছেন না, তাদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নাশকতার আশঙ্কা : সিলেটে উচ্চ ক্ষমতার ভারতীয় বিস্ফোরকের চালান জব্দ

সিলেটে উচ্চ ক্ষমতার ভারতীয় বিস্ফোরকের একটি চালান জব্দ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ী রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাব সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত চালানে ছয়টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল এবং পাঁচটি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর পাওয়া গেছে। এসব বিস্ফোরক উচ্চমাত্রার শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, যা সাধারণত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব-৯ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুরমা থানার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় বিস্ফোরক মজুতের খবর পায় র‌্যাব। তথ্য পাওয়ার পরপরই র‌্যাব-৯ এর একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দক্ষিণ সুরমা থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের লাক্সজনপুর এলাকার শিববাড়ী রেললাইন সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত রেলওয়ের একটি পুরাতন ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধার হওয়া ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক ওই স্থানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় বিস্ফোরকগুলো কীভাবে সেখানে এসেছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানায় র‌্যাব।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রচারের প্রথম দিনেই আচরণবিধি লঙ্ঘন জামায়াতের,দুই প্রার্থীর জরিমানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিনেই নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। পৃথক দুটি অভিযানে মোট দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মনিরামপুর পৌর এলাকায় দাঁড়িপাল্লা ও কলস প্রতীকের পক্ষে আলাদা আলাদা গণমিছিল বের করা হয়। এসব মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, যা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের কলস প্রতীকের পক্ষে মনিরামপুর পৌরশহরে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন। ওই সময় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণমিছিল বের করা হয়। এতে আরও কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দ্বিতীয় মিছিল শুরু হলে মহাসড়কে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। ঘটনার পর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেনের পক্ষের এক প্রতিনিধির কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অন্যদিকে একই অভিযোগে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাস পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতিনিধি আহসান হাবীব লিটনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সড়কে যানজট সৃষ্টি ও জনদুর্ভোগের দায়ে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন সক্রিয় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইতিহাস গড়ছেন কারাবন্দিরা, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১২৯ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ১২৯ জন বন্দি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিরা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহী বন্দিরা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর এই নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি জানানো হলে শুরুতে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা, কারিগরি জটিলতা কিংবা অন্যান্য কারণে অনেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদন করতে আগ্রহী হননি। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ১২৯ জন বন্দি অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কারা সূত্র জানায়, পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর বন্দিরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে সংক্রান্ত তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে, যাতে তারা ভোট দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত বন্দিদের জন্য পৃথকভাবে ভোটের প্যাকেট পাঠাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত কাগজ এবং প্রয়োজনীয় খাম। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে তা নির্দিষ্ট খামে সিল করবেন। এরপর স্বাক্ষরসংবলিত কপিসহ ব্যালটের খাম আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ এসব খাম পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেবে। পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এসব ভোট যুক্ত করা হবে। কারা সূত্র আরও জানায়, যেসব বন্দি ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন, তারা যদি ভোট গ্রহণের আগেই জামিনে মুক্তি পান, তবুও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত দিনে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বুথে এসে ভোট দিতে হবে। ভোট প্রদান শেষে তারা পুনরায় কারাগার ত্যাগ করবেন। এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান বলেন, নিবন্ধিত বন্দিদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। এ জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন, কারাগারের ভেতরে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে ভোট আয়োজনের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের নতুন যাত্রা থমকাল, নিরাপত্তা বিবেচনায় উদ্বোধন বাতিল

নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘেরাও কর্মসূচি ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির কিছু আমানতকারী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। এ সংক্রান্ত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার প্রভাব এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যাংকার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য পরিস্থিতি এবং ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন কয়েকজন আমানতকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলোর অতীত আর্থিক অবস্থা, খেলাপি ঋণ এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন ঘেরাও কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এই নিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক একসময় ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠনের সাবেক এক শীর্ষ নেতার মালিকানাধীন ছিল। অপর চারটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। এসব ব্যাংকে নামে ও বেনামে শেয়ার মালিকানা এবং ঋণ সুবিধা গ্রহণ নিয়ে অভিযোগও সামনে এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হলেও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু ও সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দূষণ থেকে সার

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়লা গ্রামের ঘোষপল্লি বহু বছর দারিদ্র্য ও দূষণের সঙ্গে লড়াই করেছে। বংশ পরম্পরায় গাভি পালন হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব গ্রামটিকে নোংরা পানি ও দুর্গন্ধে ভরিয়ে দিয়েছিল। এখন সেখানে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উদ্যোগ মানুষের জীবিকা ও পরিবেশ উভয়কেই পরিবর্তন করছে।   উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাভি পালন শুরু করেছেন। খামারিদের গোবর থেকে ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা গোবর থেকে বাড়তি আয় করতে পারেন। পাশাপাশি এই জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক কবির হোসেন জানিয়েছেন, রাসায়নিক সার কম দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের পর ধান ভালো হয়েছে। ধানের পরপরই পাট বুনেছি, কোনো রাসায়নিক সার ছাড়াই। পাটের লম্বা, খড়ি ও আস্তরণ সবই বেড়েছে। জিয়লা গ্রামের গোবর থেকে আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রতিদিন শত শত টন জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে। শিবপুর গ্রামের মোড়ল আবদুল মালেকের বাড়ির সামনে দুটি বড় শেডে চলছে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। এখানে তিনজন নারী কেঁচো থেকে সার আলাদা করছেন। ট্রাইকো কম্পোস্ট থেকে বের হওয়া নির্যাস প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবদুল মালেক বলেন, রাসায়নিক সারের চেয়ে ভার্মি কম্পোস্ট এবং ট্রাইকোলিসেট অনেক কার্যকর। আমরা মাসে প্রায় ১৫ হাজার টন সার উৎপাদন করি। স্থানীয় নার্সারির মালিক ইমান আলী বলেন, আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। এক বস্তা জৈব সার ব্যবহার করার পর মাটি যেন কথা বলতে শুরু করেছে। গ্রামের উন্নয়নে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতি বাড়ির পাশে সংযুক্ত নর্দমা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ময়লা পানি কয়েক স্তরের পরিশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ হয়ে খালে যায়। পিকেএসএফের ‘সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট)’ প্রকল্পের আওতায় তালা, ডুমুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য, গোবরের দাম পেয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন।   পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুল কাদের বলেন, জিয়লাতে দেখলাম, বংশ পরম্পরায় গাভি পালন হলেও আধুনিক গো-ব্যবস্থাপনা না জানায় গ্রামটি গোবরের স্তূপে পরিণত হয়েছিল। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে দেখিয়েছি কীভাবে গোবর থেকে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। খামারিরা দেখেছে, নিজেদের গোবর পরিষ্কার করা হলোই আবার টাকাও পেল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী জনসভায় রুমিন ফারহানার ভোট চুরি নিয়ে সতর্কবার্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পাচগাঁও গ্রামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে তিনি প্রচারণার শুভসূচনা করেন। পরমানন্দপুর পশ্চিমপাড়া খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, “বহু বছর পর ভোটাররা নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগ হারানো যাবে না। ১৯৭৩ সালে তার পিতা ভাষা সৈনিক অলি আহাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু কাজ করার সুযোগ পাননি। তাই আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত ভোটারদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন ভোট চুরি করতে না পারে। তিনি ভোটারদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যার-যার কেন্দ্রে পাহারায় থাকুন। আপনার এক ভোট এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর পর নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার এই সুযোগ হারানো যাবে না। রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, হাঁস হলো ভাগ্য পরিবর্তন ও নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এলাকার উন্নয়ন ও জাগরণের লক্ষ্যে ভোটারদের ভোট হবে হাঁস মার্কায়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের কিছু জনপদে কোনো উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন এবং প্রয়োজনে সরকারকে বাধ্য করবেন অবহেলিত জনপদগুলোকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে। জনসভার শেষ দিকে রুমিন ফারহানার কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বড়ইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও বাইটবাড়িয়ার গ্রামের সাধারণ মানুষ।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পথসভায় হামলা : ময়লা পানি ও ডিম নিক্ষেপ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচনী প্রচারের পথসভায় ময়লা পানি ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর গোল্ডেন প্লাজা গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় নাসীরুদ্দীন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা–কর্মীরা সবাই অক্ষত ছিলেন। ঘটনার পর দ্রুত সভা শেষ করে তাঁরা পরীবাগ এলাকায় চলে যান। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, “রমনা এলাকায় গোল্ডেন প্লাজা গলিতে পথসভা করছিলাম। আমি গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি ভবনের ওপর থেকে প্রথমে ময়লা পানি এবং পরে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আমি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলছি। যাদের চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ছে, তারাই এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দল এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন। তাঁর আসনে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। নির্বাচনী প্রচারণার এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্র ও গণসংযোগকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নাসীরুদ্দীন ও তাঁর দলের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্র দখলের হুঁশিয়ারি : মা–বাবার দোয়া নিয়ে ঘর ছাড়ার পরামর্শ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা যেন বাসা থেকে মা–বাবার দোয়া নিয়ে বের হন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ভুয়া এবং চিফ ইলেকশন কমিশনার জানিয়েছে এটি বেআইনি। যারা এই কার্ড নিয়ে আসবে, তাদের আটক করা হবে। তিনি বলেন, এটি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং দেশের শাসন পুনরায় ভারতকে বিক্রি করার চেষ্টা কোনোভাবেই মানা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ, বিশেষ করে ৪ কোটি যুবক, এটি হতে দেবে না। জনসভায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিন এবং সাবধান হোন। তিনি বলেন, যারা শয়তানি করবে তাদের নিজে মারবেন না, বরং পুলিশে সোপর্দ করুন। ভোট প্রদানে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া এবং খেলাফত মজলিশের উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল। নেতারা এক সঙ্গে ভোটকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভোটকেন্দ্র দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জমে উঠছে প্রচারণার মাঠ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে প্রচারণার মাঠ। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই প্রার্থীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। পথসভা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সমাবেশে সরব হয়ে উঠেছেন তারা। একই সঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা। প্রার্থীরা নিজেদের অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। কেউ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার কথা বলছেন, কেউ আবার পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন। প্রচারণার মঞ্চে একে অন্যের সমালোচনাও করছেন তারা। বক্তব্যে উঠে আসছে অতীতের কর্মকাণ্ড, ব্যর্থতা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই হচ্ছে একাধিক সভা-সমাবেশ। পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল স্থান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা জোরদার করেছেন প্রার্থীরা। লাইভ বক্তব্য, ভিডিও বার্তা ও প্রচারমূলক পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে কখনো কখনো উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন—ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে সমর্থকদের উদ্দেশে সংযম বজায় রাখার আহ্বানও জানাচ্ছেন কয়েকজন প্রার্থী। ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এবার প্রচারণা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত। তারা প্রার্থীদের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চান। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতাও লক্ষ করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রচারণার মাঠ এখন বেশ সরগরম। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় কার বক্তব্য ভোটারদের বেশি প্রভাবিত করবে, সে দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সবাই।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক, ভোটে অংশ নিতে আগ্রহী জনগণ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা বা অনিশ্চয়তা নেই; বরং ভোটাধিকার প্রয়োগে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রস্তুতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ব্যবস্থাপনা এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তারা প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কিছু মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণা কর্মসূচিতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল অঙ্গীকার। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। শেষে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির নির্বাচনী পথসভায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ভাতশালা গ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা চলছিল। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি জনসভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। জনসভার শেষ পর্যায়ে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল জনসভাস্থলে পৌঁছায়।   এ সময় চেয়ারে বসা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে যুবদল নেতা মাহবুব আলম কিসমতসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   এ বিষয়ে মাহবুব আলম কিসমত অভিযোগ করে বলেন, মিছিল নিয়ে জনসভায় পৌঁছানোর পর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সাদেক মিয়া ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া বলেন, যুবদল নেতা কিসমত ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে। এতে তিনিসহ ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।   অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যে বছরে রমজান হবে ২ বার

বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। ২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রোজা পালন করতে পারবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।    জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং ইসলামী স্কলারদের মতে, ইসলামিক লুনার ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে বিরল এই ঘটনা ঘটবে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল। লুনার ক্যালেন্ডারে এক বছরে ৩৫৪ দিন। আর গ্রেগরিয়ান (সৌর) ক্যালেন্ডার ৩৬৫ দিন। দুই ক্যালেন্ডারের মধ্যে প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান থাকার কারণে প্রতি ৩০ বছর পর গ্রেগরিয়ান এক বছরে দুইবার রমজান পড়ে।  জানা গেছে, এই পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারী রমজান শুরু হবে। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে। ইংরেজি এই বছরে সর্বমোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে পারবেন। শেষবার এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। ২০৩০ সালের পর এটি আবার ২০৬৩ সালে ঘটবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা, আরেক শুটার গ্রেপ্তার

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মোছাব্বির (৪৪) হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।   শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগামীকাল বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।     এর আগে মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জিন্নাতকে (২৪), আব্দুল কাদির (২৮) ও মো.রিয়াজ (৩২)।    এর আগে ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নিহত মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে এই মামলা করেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0