সরাসরি রেলপথে এবার ভারতের সঙ্গে জুড়তে চাইছে রাশিয়া। খোদ রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসকে এ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন। 'তাস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুশনুলিন বলেছেন, বসফরাস প্রণালি ও হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের ঝুঁকি কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা রাশিয়ার জন্য জরুরি। সম্ভাব্য এই করিডোরের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে খুশনুলিন বলেন, এই রেলপথ নির্মাণ হলে তা তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে পৌঁছবে। ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যে কোনও পথকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে রেল-পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। খুশনুলিন বলেন, “ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথ করা যায় কি না, ভেবে দেখা উচিত। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকির কারণে বিকল্প পথের প্রয়োজন হতে পারে—যেমন তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ। ভারতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয় এমন যে কোনও বিকল্পই গ্রহণযোগ্য।" ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাড়ায় বাণিজ্য পথের এই বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসারায়েল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল, বাহরাইন, জর্ডন, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতেও ইরান অবরোধ ঘোষণা করে। জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ব্যস্ততম এই জ্বালানি রুটে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আটে যায় বহু তেলবাহী জাহাজ। যার বড় ফল ভুগতে হয়েছে ভারতকে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই। এবার সেই সমস্যার সমাধানেই ওই বড় বিকল্পের কথা ভাবছে রাশিয়া। সূত্র: এনডিটিভি
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি। রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে। মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে, রোববার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় জানায়, সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তিনি জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টার পর থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএস, শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই ফলাফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মাধ্যমে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। যেকোনো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল জানতে এসএসসি স্পেস বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস রোল নম্বর স্পেস পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে। সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে এসএমএসের পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। তারা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে রোল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। রেওয়াজ অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সেই হিসাবে এ বছর ফলাফল প্রকাশে কিছুদিন বেশি সময় লাগল। যদিও আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল; কিন্তু অনিবার্য কারণে সেই সময় ফলাফল প্রকাশ না করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর হাজারীবাগে থানা সংলগ্ন টি জে কর্পোরেশনের একটি ডাইং কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করেন। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটিতে ৩ টন ধারণক্ষমতার একটি বয়লার এবং ৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার আরেকটি বয়লার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি ড্রায়ার মেশিন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিল। এতে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কারখানাটিতে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগের লাইন শনাক্ত করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ধানমন্ডি জোনের তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী লুৎফরনেসা লতা বলেন, এর আগেও ২০২০-২১ সালে টি জে কর্পোরেশনে অভিযান চালানো হয়েছিল। সে সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানা করা হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। এবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অভিযানে পুলিশ সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে দেখলে হবে না। ইতিহাস, জাতিগত বৈচিত্র্য, সীমান্ত, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূরাজনীতির নানা বিষয় এ অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় পরিণত করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিও এর সঙ্গে যুক্ত। রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম : ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিয়নাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী। প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের রাখাইন সংকট, রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড—সবকিছু মিলিয়ে এ অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্তঃগোষ্ঠী সংঘাত, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, সীমান্তপাড়ের যোগাযোগ, মাদক ও মানবপাচারের মতো নানা সমস্যা রয়েছে। এর সঙ্গে তথ্যযুদ্ধ, বিদেশি প্রভাব ও করিডর রাজনীতির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) স. ম. মাহবুব-উল-আলম, খাগড়াছড়ির কমিউনিটি লিডার কুমার সুই চিং প্রু সাইন, সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী। বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হাসান মাসুদ। এখন মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও অভিনয়ে তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় কাজ উপহার দেওয়া এই অভিনেতা কেন নিজেকে অভিনয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন? সম্প্রতি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করেছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবনযাপন ও অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন মাসুদ। কেন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে কী করছেন- সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি কথাগুলো জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। আমি এখন আর অভিনয় করি না। একটা পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। সেই কারণেই এখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।’ তিনি নিজের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, ‘আমি এবার হজ করেছি। যে কারণে ৪১ দিন ছিলাম ওখানে-মক্কা-মদিনায়। তবে আসলে আমার পরিবর্তনটা এসেছে আরও আগে থেকে। এখন পুরোপুরিই আমি পরিবর্তিত, সেটা বলতে পারেন।’ পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানান একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেতা। একটা সময় প্রচুর বই পড়লেও এখন আর বই পড়েন না তিনি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, ‘আসলে বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি, এত বেশি পড়েছি যে শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না। আমার সামনে যদি একটা ট্রাকে চাপা পড়ে একজন মারা যেত, তখন আমি ভাবতাম-লোকটার ভুলেই তো লোকটা মারা গেছে। এরকম যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো সেন্টিমেন্ট আমার ভেতরে কাজ করত না।’ পরবর্তীতে নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১২০০ বই বিক্রি করে দেন জানিয়ে হাসান মাসুদ বলেন, ‘এরপর আমি প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দিয়েছি, একেবারে পানির দামে। এরপর থেকে আমি আর বই পড়ি না।’ উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন তিনি। এরপর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ‘দ্য নিউ নেশন’-এ কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে অভিনয়ে অভিষেক হয় হাসান মাসুদের। সিনেমাটির ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’ গানেও কণ্ঠ দেন তিনি। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’। এ ছাড়াও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘হাউসফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ও ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও তিন চাকার যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৯ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক দ্বিতীয় দফায় তারা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ আরাফাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এক তিন চাকার যানের সংঘর্ষে ইয়াসির আরাফাতসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর রাত আটটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে চার দফা দাবি জানান। উপাচার্যের আশ্বাসে সাময়িক প্রত্যাহার করা হলেও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত পৌনে ১১টায় পুনরায় বরিশাল-পটুয়াখালী ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস ও একটি তিন চাকার যানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পর চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক বেহাল। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এরই কারণে আজ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’ এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি শোনা হয়েছে। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পিছিয়ে যাবে না প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি। রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইরান যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখবেন। আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বর্তমানে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি সুপিম লিডারের কর্তৃক সরাসরি গঠিত একটি সংস্থা। যা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। যা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এতে করে হরমুজ দিয়ে ইরানে যাওয়া-আসা করা কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজে নতুন যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এটি অপরিবর্তনযোগ্য। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এতে কাজ হবে না। তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বর্তমানে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি আরও বাড়বে। হুমকির সুরে এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো উপায় নেই; অন্যথায় অতীতে তারা যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল, এবার মূল্য চুকাতে হবে তার চেয়েও অনেক বেশি।’ সূত্র: আল-জাজিরা
অতীতের মতো আবারও ‘গুপ্তবাহিনী’ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো দল রাজনীতি করে থাকলে সেই দলটির নাম বিএনপি। কিন্তু কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই উন্নয়নকর্মে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, যারা রাজপথ বন্ধ করতে চায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামে যা যা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৮১ কার্টন সিগারেট, ১১৩ কেজি গৌরি ক্রিম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সি-শিফট। রোববার (৯ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সিআইআইডি সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের যাত্রী মেহেদী হাসানের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৪৯ কার্টন সিগারেট ও ৪০ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১০ কার্টন সিগারেট ও ৩ কেজি গৌরি ক্রিম পাওয়া যায়। অন্যদিকে, দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭ ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭০ কেজি গৌরি ক্রিম ও চারটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে সিআইআইডির সি-শিফটের অভিযানে ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৮১ কার্টন সিগারেট, ১১৩ কেজি গৌরি ক্রিম এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা। সিআইআইডি জানায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রী প্রোফাইলিং ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইট ও যাত্রী শনাক্ত করে চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোমবারের জন্য ‘অতি উচ্চ’ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যাটিকা, পেলোপনিসের কিছু অংশ, এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্রিটে দাবানলের ঝুঁকি ‘লেভেল ৪’ বা ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ‘লাল’ জরুরি অবস্থার এক ধাপ নিচের সতর্কতা। খবর আনাদোলু এজেন্সির। দাবানল সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শুকনো ঘাস, ডালপালা বা অন্যান্য বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে রোববার অ্যাটিকার কোরোপি এলাকায় একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দাবানল প্রতিরোধের বর্তমান মৌসুমে খোলা জায়গায় জমি বা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও জনগণকে মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত গ্রিসের অ্যাটিকা অঞ্চলে দাবানলে ১ লাখ ১০ হাজার একরের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মহাদেশজুড়ে দাবানলে প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪৫ একর বা ৫ লাখ ৮৫২ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার্স ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য বলছে, ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে ইউরোপজুড়ে মোট ১ হাজার ৫২৮টি দাবানল শনাক্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালবেলাকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করন, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের ৪ জন, বিষা গ্রামের ২ জন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ১৫জন, ১৭জন এমনকি ১৯জনের কথাও লিখছেন। অপরদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা আমাদের একটি জাতীয় আন্দোলন। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে আমাদের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রোববার (৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এবারের মাসব্যাপী মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নিয়েছিল। মেলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সবুজপ্রেমী মানুষ প্রায় ১৬ লাখ চারাগাছ ক্রয় করেছেন, যার মোট বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক দেশে প্রথম বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। জলবায়ু ও পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি বৃহৎ কর্মসূচি শুরু করেছেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বন অধিদপ্তর আজ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি ব্লক ও ৮২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ অংশীদার হয়েছেন এবং এর একটি বিশাল অংশই নারী। বনায়ন থেকে অর্জিত কাঠের অর্থ ইতোমধ্যেই সাধারণ অংশীদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ শেষ হলেও আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং আসল কাজ এখন শুরু। আসুন শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দীপনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল, সবুজ ও নিরাপদ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করি। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায়, তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা সময়ের আগেই অর্জিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় চলমান চরম বৃক্ষশূন্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই কংক্রিটের ঢাকা শহরে বর্তমানে মাত্র সাড়ে ১০ ভাগ সবুজ এলাকা রয়েছে। অথচ একটি শহরকে বাসযোগ্য রাখতে কমপক্ষে ২০ ভাগ সবুজ থাকা প্রয়োজন। এ ঘাটতি পূরণে ঢাকা শহরের ছাদগুলোতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর তাগিদ দেন তিনি।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ—যাকে দর্শক চেনে ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ নামে—সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মায়ের মৃত্যুর পর জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। অভিনেতা জানান, মায়ের মৃত্যুর পর তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়ে যান। সেই সময় নিজেকে অসহায় মনে হতো এবং জীবনের সবকিছু অর্থহীন হয়ে গেছে বলেও অনুভব করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ বলেন, মায়ের প্রতি গভীর টান থেকেই তিনি একসময় নর্মদা নদীর তীরে গিয়েছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তার মনে হয়েছিল, প্রিয় মানুষটিকে আর কখনও ফিরে পাওয়া যাবে না—এই অনুভূতিই তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, নদীর তীরে উপস্থিত এক পুরোহিত তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে পরিবার ও সন্তানদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন। সেই কথাগুলোই তাকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করেছিল। গোবিন্দর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনা তার জীবনের জন্য বড় একটি শিক্ষা হয়ে আসে। কঠিন সেই সময় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। অভিনেতার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রিয় তারকাদের হাসির আড়ালেও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর সংগ্রাম ও মানসিক কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে।
আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে অকার্যকর ঘোষণা ও রেজল্যুশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, রেজল্যুশন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসক এবং সহ-প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আইন অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে এ হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতিকে ভিত্তি ধরে গত বছর ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অকার্যকর ঘোষণা করা চারটি প্রতিষ্ঠানের বাহিরে বাকি পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো :- পিপলস লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি আমানত আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে সাধারণ আমানতকারীদের। বর্তমানে দেশে মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিপরীতে এসব ঋণের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা খাতটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে প্রায় সবাই আতঙ্কে থাকেন। এ জন্য বুকে কোনো ব্যথা হলে বা হার্ট অ্যাটাকের কোনো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি যত্ন নেয়া ও সচেতন হতে দেখা যায়। এর মধ্যে যদি সার্বিকভাবে সুস্থ থাকা যায় এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়, তাহলে উল্লেখযোগ্যভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। যদিও তা কখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করে না। বর্তমান সময় তরুণ ও আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষদেরও হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু কেন হয়, তা অনেকেরই অজানা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি গোপন ঝুঁকির কারণ জানিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল চাওলা। তাহলে সেসব বিষয় জেনে নেওয়া যাক। জেনেটিক্স জেনেটিক্স হচ্ছে সেসব নীরব কারণ, যা কিছু ব্যক্তিকে অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। ডা. রাহুলের মতে, কিছু মানুষ উচ্চ লাইপোপ্রোটিন এ বা পারিবারিক উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন, যা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার পরও করোনারি ধমনীর মধ্যে প্লাক জমা হওয়াকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রাখে। শরীরের অদৃশ্য চর্বি এ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, শরীরের সব মেদ দৃশ্যমান হয় না এবং অনেকের মধ্যে ‘থিন ফ্যাট ফেনোটাইপ’ নামে একটি বৈশিষ্ট্য থাকে। স্বাভাবিক শারীরিক ওজন থাকার পরও অতিরিক্ত ভিসারাল ফ্যাট, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং মেটাবলিক সিনড্রোম থাকতে পারে। এর সবগুলোই অকাল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানিয়েছেন ডা. রাহুল। চিকিৎসা ছাড়া স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ব্যায়াম শারীরিক সুরক্ষা বলে পরিচিত এবং নিয়মিত শরীরচর্চা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে থাকে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে তা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে না। ডা. রাহুলের মতে, ব্যায়াম বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা বংশগত ঝুঁকির কারণগুলো পরিপূর্ণভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় না। এ পরিস্থিতিগুলোর চিকিৎসা করা না হলে ধমনীর ভেতরে প্লাক জমার সম্ভাবনা থাকে। শক্তিসমৃদ্ধ করার ওষুধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিসমৃদ্ধ বা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ উপকারের থেকে বরং অপকারই বেশি করতে পারে। ডা. রাহুল বলেন, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড এবং কিছু বডি বিল্ডিং সাপ্লিমেন্ট এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে, এইচডিএল কোলেস্টেরল কমাতে, হৃৎপেশী বড় করতে এবং বিপজ্জনক হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। অন্তর্নিহিত হৃদরোগ কিছু মানুষ আছে, যারা অন্তর্নিহিত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি, লং কিউটি সিনড্রোম, ব্রুগাডা সিনড্রোম এবং কিছু জন্মগত করোনারি ধমনীর অস্বাভাবিকতার মতো রোগগুলো অন্তর্নিহিত থাকতে পারে।
পাকিস্তানের কাশ্মীরে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক স্পষ্ট ভাষায় জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের আঘাত বা ক্ষতি করা হলে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারহান হক জানান, সব অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের উত্থাপিত আগের উদ্বেগগুলোর কথা উল্লেখ করে ফারহান হক বলেন, ‘মহাসচিব তার হাইকমিশনারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং আমরা অবশ্যই আশা করি যে, মিস্টার তুর্কের আহ্বানগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে।’ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর জবাবদিহির সুনির্দিষ্ট দাবির প্রেক্ষিতে ফারহান হক জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেকোনো আঘাত বা ক্ষতির ঘটনা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। ফারহান হক আরো বলেন, ‘সব জায়গার সব কর্তৃপক্ষের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ দেয় এবং অবশ্যই এই ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য। যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ গত ১৭ জুলাই বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে পাকিস্তানের কাশ্মীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে এবং সহিংসতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিবৃতিতে তুর্ক অঞ্চলজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হাইকমিশনার নথিভুক্ত সমস্ত মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভকারী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, এই মৃত্যুর জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএএসি)-কে নিষিদ্ধ করার পাকিস্তানি সিদ্ধান্তের বিষয়েও তুর্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আটককৃত জেকেজেএএসি নেতাদের অবিলম্বে আইনজীবী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান জানাতে হবে। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পাকিস্তানের কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বুধবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে পাকিস্তানের কাশ্মীরে মৌলিক অধিকারের নির্মম দমনপীড়ন প্রত্যক্ষ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেখা গেছে যে, স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মারাত্মক সহিংসতা, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নিয়েছে। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো এই সহিংসতা পাকিস্তানি নীতি নির্ধারকদের চরম ভন্ডামিকে প্রকাশ করে দেয়। জয়সওয়াল আরো বলেন, চিরাচরিত কূটনৈতিক নাটক করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত হবে কাশ্মিরে রক্তপাত বন্ধ করা। তাদের নিজেদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাদের বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা সমস্ত ভারতীয় ভূখণ্ড অবিলম্বে খালি করা। বিশ্ববাসী এই সাজানো নাটকে বিভ্রান্ত হচ্ছে না। অরাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত ৫ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে কাশ্মীরে আন্দোলন হচ্ছে। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, লোডশেডিং, আটার ঘাটতি এবং কয়েক দশকের সামরিক দমনপীড়ন, নিপীড়ন, বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এবারের আন্দোলন। তবে এবার ৩৮ দফার মূল দাবি হলো সংসদে কাশ্মীরের বাইরে থাকা কাশ্মিরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই সংরক্ষিত আসন দিয়েই ইসলামাবাদ বরাবর কাশ্মীরের ওপর নিজের ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ পায়। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ইসলামাবাদ আলোচনার বদলে নিষ্ঠুরতাকে হাতিয়ার করে। আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে সরকার নিষ্ঠুর দমননীতির পাশাপাশি অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ফলে ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবাসমূহ অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মীরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। চলমান সহিংসতায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য আন্দোলনকারীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। সূত্র : এএনআই
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সেই সফর আর হয়নি। তবে সেই সিরিজ নিয়ে দুই বোর্ডের কথা চলছে মাসখানেক ধরে। ই-মেইলে আলোচনা হচ্ছিল নানা বিষয়াদি নিয়ে। ভারত স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে তা আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছিল। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অপেক্ষায় ছিল সরকারের সবুজ সংকেতের। কিন্তু সেই সবুজ সংকেত সহসাই আসছে না তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে দুই বোর্ড। বৈরিতা ভুলে প্রতিবেশী দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বরফ গলতে শুরু করলেও রাজনৈতিক উত্তেজনায় দুই দেশের সরকারের দূরত্ব আগের মতোই। বরং টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সরকারের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। তাতে ক্রিকেটীয় কূটনীতিতেও পড়েছে প্রভাব। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার সেই সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিল বিসিবি। নতুন সরকার পেছনের তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন ও এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর ব্যাপারটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই বোর্ডও এখন অনুভব করতে পারছে, এই সময়ে আর সিরিজটি সম্ভব নয়। তবে বিসিবির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আরও এক দফা সিরিজটি স্থগিত হতে যাচ্ছে। অন্তত ছয় মাসের জন্য সিরিজটি স্থগিত হতে চলছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে সিরিজ আয়োজনের জোর চেষ্টা চালাবে বোর্ড। মূলত ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিরিজটি স্থগিত করা হয়েছিল। আরও একবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে। বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণ এবং আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় মালদ্বীপে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানী মালের একটি স্থানীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. এইচ. এম. সোহেলসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নতুন প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এক আদেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর আজ রাত থেকে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর অধীনে গণশুনানি করেছে। ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১ এর প্ল্যাটস দর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি আগস্ট মাসের জন্য দাম সমন্বয় করেছে। এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়া উচিত। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২৩০ টাকা হয়েছে। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক। মোফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে। কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে। বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানি নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, বাড়তি ব্যয় টিকিটের দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর না চাপালে এয়ারলাইনসগুলো সেই ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারবে না। এতে লোকসানে পড়তে পারে। ঢাকাভিত্তিক আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই সপ্তাহ পরও জ্বালানির দাম না কমলে আমরা এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করব।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের দাবিতে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের দর্পণ বুক ক্লাবে আয়োজিত এ সভার উদ্যোগ নেয় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ইউকে শাখা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য সফররত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিটি নেতা শাহ মুনিম সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও প্রবীণ সাংবাদিক মো. রহমত আলী এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেনারেল সেক্রেটারি মে. আয়াস মিয়া। কোরআন তেলাওয়াত করেন জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন। সভায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরকে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, বিমানবন্দরের নামের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা, অবকাঠামো, যাত্রীসেবা এবং আধুনিক সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, বাস্তবে বিমানবন্দরটি অনেকাংশে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের মতো পরিচালিত হচ্ছে, যা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা বলেন, বিমানবন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সক্ষমতা দিতে হলে— আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, এবং প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক সিলেটি প্রবাসীর যাতায়াত সহজ করতে ওসমানী বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানকে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পুনরায় উত্থাপন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।