সর্বশেষ

ছবি : সংগৃহীত
মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে: সংসদে সালাহ উদ্দিন

দেশে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা কলেন।   তিনি আরো বলেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম থেকে ডিম, রুটি ও কলা বাবদ প্রতি সপ্তাহে ১৭ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচিতে প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্নীতির খবর আসছে।   জামায়াতের এই এমপি বলেন, দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি দুর্নীতিকে প্রমোট করার জন্য সারোয়ার আলমের মতো একজন সৎ ও ক্লিন ইমেজের ডিসিকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাকে তিনি একে জীবনের গল্প বললেও আসলে এটি একটি ‘আষাঢ়ের গল্প’। প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকার এই ঋণ নির্ভর বাজেট দেখে আমি অবাক হইনি, কারণ যারা নিজেরা ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি, তারা তো ঋণনির্ভর বাজেটই দেবেন।’   তিনি বলেন, বাজেট পেশ করার আগেই ১৪টি নিত্যপণ্যসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বাজেটে এমএস রড, ইস্পাত, টিন, সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর বাড়ানো হয়েছে।   তিনি বলেন, এটি কেবল ‘গরিব মারার’ বাজেট নয়, বরং খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের মাধ্যমে একটি হয়রানির বাজেট।   সালাহ উদ্দিন বলেন, এই কর-ব্যবস্থা আমাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তাদের ট্যাক্স আদায়ের ভয়ে মানুষ গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে পালাত। তিনি বলেন, বাজেটে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪০০ কোটি টাকা।   এমপি সালাহ উদ্দিন বলেন, ইসলামের বিধান হলো ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া, কিন্তু এই সরকার উল্টো নীতি গ্রহণ করে গরিব ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে ধনীদের জন্য বরাদ্দ রাখছে।   মাননীয় স্পিকার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাদ্দ কমিয়ে এবং এনবিআরের মতিউর ও আনোয়ারের মতো দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, এনবিআরের দুর্নীতি যদি বন্ধ করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে বাজেটের জন্য আলাদা ঋণের দরকার হতো না।   এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বাজেট গুম হওয়া পরিবারের কান্নার খবর রাখেনি এবং গুম কমিশনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি।   তিনি বলেন, বাজেট বড় হলেই চলবে না; ঋণ নিয়ে বড় বাজেট না করে সুশাসন ও ইনসাফ ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   তিনি নিজের এলাকা কাপাসিয়ার জন্য আধুনিক হিমাগার, মাদক ও কিশোর গ্যাং-বিরোধী বিশেষ অভিযান এবং রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া হয়ে টোক পর্যন্ত হাইওয়ে রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের প্রথম ইনডোর মাছ ধরার পুকুর হচ্ছে মস্কোর শপিং সেন্টারে

ঐতিহ্যগতভাবে মাছ ধরাকে আউটডোর বা উন্মুক্ত জায়গার কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হলেও, এবার সেই অভিজ্ঞতাকে চার দেয়ালের ভেতরে নিয়ে আসছে রাশিয়ার একটি শপিং সেন্টার।    মস্কোর ‘গাগারিনস্কি শপিং সেন্টার’ বিশ্বের প্রথম ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ মাছ ধরার পুকুর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এই বিনোদন কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা হতে পারে।    কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শপিং সেন্টারের ভেতরে ১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ মিটার প্রস্থের একটি কৃত্রিম পুকুর তৈরি করা হবে। পুকুরটিতে কার্প, ক্রুশিয়ান কার্প, টেঞ্চ, ব্রিম, পার্চ এবং ক্যাটফিশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ ছাড়া হবে। যেখানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জন মানুষ মাছ ধরার সুযোগ পাবেন।    মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ছিপ এবং টোপ শপিং সেন্টার থেকেই সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, পুকুরের পানির নিচে বিশেষ ক্যামেরা বসানো থাকবে, যার মাধ্যমে সরাসরি বড় পর্দায় মাছের আনাগোনা দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা।    উদ্যোক্তাদের দাবি, এই ইনডোর পুকুরটি শপিং সেন্টারের ভেতরে একটি ‘প্রাকৃতিক দ্বীপ’ হিসেবে কাজ করবে। কেনাকাটার কোলাহলের মাঝেও এখানে এক শান্ত, মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে কৃত্রিমভাবে পাখির ডাক এবং ব্যাঙের ডাকের আবহ তৈরি করা হবে।    তবে এই প্রকল্প কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এটি কি আসলেই পেশাদার মাছ শিকারীদের আকৃষ্ট করতে পারবে, নাকি কেনাকাটা করতে আসা স্ত্রীদের জন্য অপেক্ষারত স্বামীদের সময় কাটানোর মাধ্যম হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।    ইনডোর পুকুরটির উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং এখানে অংশ নেওয়ার খরচ কেমন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কিছু সূত্রের ধারণা, এই সুবিধাটি দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হতে পারে। কারণ, এখান থেকে শিকার করা কোনো মাছ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। ধরার পর সব মাছ আবার পুকুরেই ছেড়ে দিতে হবে (ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ)।    তবে মাছ শিকারের সফলতার ওপর ভিত্তি করে দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট পয়েন্ট পাবেন, যা দিয়ে শপিং সেন্টারের বিভিন্ন দোকান থেকে আকর্ষণীয় উপহার বা ছাড়ের সুবিধা নেওয়া যাবে। 

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতের উড়োজাহাজ, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট বরখাস্ত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। এ ঘটনায় পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, গত সোমবার (২২ জুন) রাতে এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজটি দিল্লি থেকে অমৃতসরের দিকে যাচ্ছিল। রাত ১০টা ৮ মিনিটের দিকে অমৃতসরে অবতরণের প্রস্তুতিকালে রানওয়ে পরিদর্শনের কারণে উড়োজাহাজটিকে আকাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।   এর আগে একই দিন বিকেল ৪টা ২৯ মিনিটে অমৃতসরে অবতরণের পর ইন্ডিগোর ৬ই ৫০২৮ ফ্লাইটে পাখির আঘাত (বার্ড হিট) লাগার ঘটনা ঘটে। এ কারণে অমৃতসরে আসা পরবর্তী পাঁচটি ফ্লাইটকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি–অমৃতসর ফ্লাইটটি অবতরণের অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে চতুর্থ ছিল।   ডিজিসিএর ভাষ্য অনুযায়ী, রাডারের নির্দেশনায় অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু করার পর উড়োজাহাজটি অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। বিষয়টি পাকিস্তানের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাল দেওয়া হয়।   পরে উড়োজাহাজটি দিল্লিতে ফিরে যায় এবং নিরাপদে অবতরণ করে।   ঘটনার বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, অমৃতসর বিমানবন্দরে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ কৌশল প্রয়োগের সময় ফ্লাইট এআই৪৭৯ সামান্য পরিমাণে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।   হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি প্রায় তিন মাইল পাকিস্তানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করেছিল।   ডিজিসিএ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি রিপোর্ট না করায় ফ্লাইটের ক্রুসহ অমৃতসরের এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সময় অমৃতসর বিমানবন্দরে অবতরণরত বিমানগুলোকে রাডারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়ার সেবা (অ্যাপ্রোচ সার্ভেইল্যান্স) চালু ছিল না।   পরে উড়োজাহাজটি আবার অবতরণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। জ্বালানি কমে আসার কথা জানিয়ে ক্রুরা উড়োজাহাজটিকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।   এর কিছু সময় পর উড়োজাহাজটি আবার অমৃতসরের উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
বিজয় থালাপতি। ছবি: সংগৃহীত
চেন্নাইয়ে নতুন বাস উদ্বোধনের পর সাধারণ যাত্রী হলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়, জিতলেন যাত্রীদের মন

তামিল সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজনীতির শীর্ষে ওঠা বিজয় আবার আলোচনায়। তবে এবার কোনো সিনেমা, রাজনৈতিক ভাষণ বা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নয়। নতুন সরকারি বাস উদ্বোধনের পর সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে উঠে চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ৩০০টি নতুন সরকারি বাস উদ্বোধন করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি নিজেই নতুন বাসগুলোর একটিতে চড়ে বসেন। সঙ্গে ছিলেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাও। কিন্তু সবার নজর কেড়ে নেয় বিজয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও সানগ্লাস পরা বিজয় বাসের ভেতরে বসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তুলছেন। আশপাশের মানুষের মুখে তখন হাসি। অন্য একটি মুহূর্তে বাসচালকের কাঁধে স্নেহভরে হাত রেখে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।   রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তামিল চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন বিজয়। ‘ঘিলি’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘ভারিসু’, ‘লিও’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে চলতি বছরের ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।   ২০২৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম। দুই বছরের মধ্যেই নির্বাচনে জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন বাসে চড়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার ঘটনাও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ভিডিওগুলোতে আরও দেখা যায়, বাসটি চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিজয়। অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   নতুন ৩০০ বাস যুক্ত করার মাধ্যমে রাজ্যের গণপরিবহনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। বিশেষ করে শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তবে দিন শেষে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছে বাস প্রকল্প নয়, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আচরণ নিয়ে। একজন কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তোলা, চালকের কাঁধে বন্ধুত্বপূর্ণ হাত রাখা কিংবা চলন্ত বাসে বসে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে গল্প করার দৃশ্য অনেকের কাছে মনে করিয়ে দিয়েছে তাঁর তারকাখ্যাতির দিনগুলোর জনপ্রিয় ইমেজকে।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পাঠদান চলাকালে বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণ, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ১৩ শিক্ষার্থী

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে পারফিউম বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণে ১৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।   বিষয়টি রাত ১০টায় নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমী আক্তার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা না নিয়েই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বাকি ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যরা সুস্থবোধ করলে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে যায়।   বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের শরীরে পারফিউম বডি স্প্রে ব্যবহার করে। এ সময় আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা তীব্র ঘ্রাণে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।   অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— কনা, আনিকা, অন্তরা, ইসরাত, সুমাইয়া, লামিয়া, মারুফ, জিসান, মাহিন, তানজু, তানজিলা, সাদিয়া ও বিথী। তাদের সবার বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।   বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া বলেন, নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার মামার কাছ থেকে পাওয়া একটি পারফিউম সহপাঠীদের শরীরে স্প্রে করে। এ সময় আশপাশে থাকা ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যবহৃত বডি স্প্রের বোতলটি পুলিশ জব্দ করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি
অনিবার্য কারণে স্থগিত হলো মাদরাসার ২৮ জুনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা

সরকারি-বেসরকারি মাদরাসার আগামী ২৮ জুনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।   চিঠিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১৯ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনিবার্য কারণে ২৮ জুনের পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।   এর আগে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) জারি করা এক অফিস আদেশে দেশে সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ১৬ জুলাই।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মিলল ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর প্রাচীন নদী অববাহিকা

কুমেরুর বরফ গলা নিয়ে নানা আলোচনা শোনা গেলেও এখনও সে এক অনন্ত বরফের রাজ্য। সেই অতি পুরু বরফের তলায় এবার খোঁজ পাওয়া গেল ৩ কোটি ৪০ লক্ষ বছর পুরনো নদীর।   কুমেরু হোক বা সুমেরু। পৃথিবীর এই ২ মেরু অঞ্চলের বরফের সাম্রাজ্যের তলায় যে কি লুকিয়ে আছে তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছেও পরিস্কার নয়। কারণ তা এখনও অজানা। তবে নানা গবেষণার মধ্যে দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরফের তলার সেই অচেনা অজানা রাজ্যের খবর পাওয়া যায়। এভাবেই কুমেরুর পুরু বরফের তলায় খোঁজ পাওয়া গেছে একটি নদীর। সে নদীর বয়স জানলে হতবাক হয়ে যেতে পারেন অনেকে।   বরফের পুরু চাদরের ২ কিলোমিটার গভীরে এই নদীর খোঁজ পাওয়া গেছে। যা চোখে দেখার সুযোগ না হলেও কানাডার একটি কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা এই নদীর খবর পেয়েছেন কুমেরুর পূর্ব দিকে। যেখানে বরফের ২ কিলোমিটার তলায় নদী অববাহিকার চিহ্ন স্পষ্ট বিজ্ঞানীদের কাছে।   সেখানে নদী না থাকারও কিছু নেই। কারণ কুমেরুকে এখন যেমন বরফের প্রান্তর বলে দেখতে পাওয়া যায় ২ কোটি বছর আগেও তা ছিলনা। সেখানে তখন জঙ্গল ছিল। নদী বয়ে যেত। এমনকি কিছু প্রাণিও ঘুরে বেড়াত।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ অনুমতি চান।   এ মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন মৃধার জেরার নির্ধারিত দিন ছিল আজ। তবে আরও কিছু সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।   তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারেননি। এজন্য আমরা সময় চাই। কিন্তু তার আবেদনটি মঞ্জুর করেননি ট্রাইব্যুনাল।   কার্যতালিকায় থাকা আরেকটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার জেরার কাজ শুরু হয়।    এ সময় পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান তিনি।   ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। এ পর্যায়ে পলকের আইনজীবী লিটনও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন।    প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে এ সুযোগ নেই। শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন।   তখন আইনজীবী লিটন বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী। তিনি আইন সম্পর্কে ভালো জানেন।    এরপরও অনুমতি না মেলায় কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন লিটন আহমেদ।   জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি বিজয় মিছিলে অংশ নেইনি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে আমার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি কাগজ দিয়েছিল।   এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয়। সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন।   প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে হ্যাঁ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব।   এরপর সাক্ষী কবির বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। এ পর্যায়ে জেরার কার্যক্রম অসম্পন্ন রাখেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।     ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই যে, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত পড়েছি। এখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহায়তা করতে চাই। আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। এজন্য কিছু অধিকার দিলে মামলায় আমিও কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য সহায়তা চাই।   পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। একপর্যায়ে তাকে আধাঘণ্টা সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।   এর আগে, ১৫ জুন সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে।   ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আজাদ কাশ্মিরে নিত্যপণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে খাবার,জ্বালানি ও ‍ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। এএফপি, বিবিসি উর্দু, এবং পাকিস্তানি দৈনিক ডনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।   আজাদ কাশ্মিরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজার, মুদি কিংবা ওষুধের দোকান এবং পেট্রোল স্টেশনগুলোতে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রতিবেদনে দৈনিক ডন জানিয়েছে, রাজধানী মুজাফরাবাদের বাসিন্দারা খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি কিনতে পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় যাচ্ছেন; আর পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং নীলম উপত্যকার বাসিন্দারা এসব পণ্য কিনে আনছেন রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদ থেকে।   ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং ইন্টারনেটও। আজাদ কাশ্মিরের বেশিরভাগ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ মিলছে না। যেসব জায়গায় মিলছে, সেখানেও গতি খুব ধীর।   উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। বর্তমানে উভয়েই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দু’টিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।   বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতালও ডাকে জেএএকে। মূলত সেই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় জেএএকে’র।   গত ২০ জুন এএফপির বরাতে জানা গিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত প্রায় দু’সপ্তাহে নিহত হয়েছেন ২৪ জন, আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক। সেইসঙ্গে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করায় তারপর থেকে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ কোনো তথ্য এখনও আসেনি।   তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন সরকারের নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে বর্তমানে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, “স্থানীয় রেশনের দোকানে আমার টাকা জমা দেওয়া আছে। আমি গত ১৫ দিন ধরে দোকানে যাচ্ছি, কিন্তু আটা পাচ্ছি না। খোলাবাজারে যে আটা পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অস্বাভাবিক বেশি।”   অনেকে খাইবার পাখতুনখোয়া বা রাওয়ালপিন্ডি থেকে পণ্য কিনে আনছেন, কিন্তু সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুঞ্চ জেলার বাসিন্দা নাভিদ নামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি রাওয়ালপিন্ডি থেকে বাসার জন্য প্রয়োজনীয় আটা, ডাল, চিনি, লবণ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে ফিরছিলেন, কিন্তু আজাদ কাশ্মিরে প্রবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেসব খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে নিয়ে গেছে।   “আমি পুলিশের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, ভিক্ষে চেয়েছি যেন খাবারগুলো তারা ফিরিয়ে দেয়। আমি তাদের এও বলেছি যে আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা। তবু তারা খাবারগুলো ফেরত দেয়নি।”   সামাজিক যোগাযোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথগুলোতে দাঁড়িয়ে আছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের সারি, কিন্তু সেসবকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।   এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডন। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডনকে জানিয়েছেন, তারা রক্তপাতহীনভাবে জেএএকের বিক্ষোভ দমন করতে চান। এ কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কৌশর নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ, যদি খাদ্য ও জরুরি পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে এমনিতেই বিক্ষোভের তেজ স্তিমিত হয়ে যাবে।   এদিকে জেএএকে নেতারা জানিয়েছেন, তারা বিক্ষোভ থেকে পিছু হটবেন না; বরং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে ১ লাখ মানুষ নিয়ে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র রাওয়ালকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ লংমার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেএএএক। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।   সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
খাতা চ্যালেঞ্জ করলে এখন থেকে হবে পুনর্মূল্যায়ন: শিক্ষামন্ত্রী

বোর্ড পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করলে এখন আর শুধু নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে না। বরং পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না এবং কোনো প্রশ্নে প্রাপ্য নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।   সভায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা হতো। কিন্তু আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে এখন মূল্যায়নপ্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।    পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এমন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অপকর্ম করার সাহস না করে   শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক বলেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পর এখন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। শিক্ষকদের পেশাগত পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করলেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করলেন তিনি।   এদিন দুপুরে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিচয়পত্র পেশ করেন। রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেওয়াজ অনুযায়ী তার আগে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে আবেদুর রহমান সিকদার মনোনীত

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করবে এবং অনাপত্তিপত্র মিলছে এমডি হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন।   যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২৪ জুন) আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার তাকে নিয়োগ দিলেও একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরপর পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পন্ন করতে হবে।’   আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।’   আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   এদিকে এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য রয়েছে।   বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।   দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।   এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।   তিনি জানান, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।   আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন ‘আউট অব লিস্ট’ করল হাইকোর্ট

অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   দুটি মামলার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাই কোর্ট।   তবে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   হাই কোর্টের বিচারপতি আতায়োর রহমান ও বিশ্বজিৎ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জামিন আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   আদালতের এই আদেশের পর মামলার এজাহার ও শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন  বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে, যার একটি আইসিটিতে, একটি পল্টন থানার এবং আরেকটি বাড্ডা থানার।   “পল্টন ও বাড্ডা থানার দুই মামলার দুই মামলায় তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তা ‘আউট অব লিস্ট’ করেছে।”   জামিন না দিয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছে জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, "আদালত সরাসরি জামিন প্রত্যাখ্যান করেনি। দীর্ঘ শুনানির পর আবেদনটি আউট অব লিস্ট করে আদালত বলেছে, ‘লিবার্টি টু মুভ বিফোর অ্যানি আদার বেঞ্চ’ অর্থাৎ আসামিপক্ষ চাইলে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যেতে পারবে।"   গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে অন্তত চারবার এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়েছে জানিয়ে শেখ আলী আহমেদ বলেন, "বিচারকদের যদি কোনো কারণে আদেশ দিতে সংকোচ থাকত, তবে তা আগেই বলা যেত। দীর্ঘ শুনানির পর এখন এটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।"   তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ অগাস্ট পল্টন ও বাড্ডা থানার দুটি মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন নাকচ হয়। ঢাকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. ইব্রাহিম মিয়া একই দিনে দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।   অধস্তন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত বছরের নভেম্বরে তারা হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন। সে সময় হাই কোর্ট সরাসরি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছিল।   বৃহস্পতিবার সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি হয়, যার শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   বাড্ডা থানার মামলার এজহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা থানাধীন উত্তর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশের প্রগতি সরণি রাস্তার ওপর আন্দোলনকারীদের দমনে আসামিরা ‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে’ হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. সুমন সিকদার (৩১)।   ওই ঘটনার পর নিহতের মা মোছা. মাছুমা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত ১৭৯ জন আসামির মধ্যে তৌফিক-ই-ইলাহীর নাম ছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বনানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা বলে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ বলেন, "এজাহারে নাম না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হলেও রিমান্ড রিপোর্টে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।"   পল্টন থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও মকবুল নামের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে মোট ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নাম ছিল ৪ নম্বরে।   তার আইনজীবী বলেন, বাড্ডা মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর পল্টন থানার এই মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   এ মামলার জামিনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শেখ আলী আহমেদ বলেন, “তার জামিন মেলেনি, অথচ একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ৪২ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।   “তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগের কোনো পদে বা সাধারণ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হল না। অথচ আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী পল্টন থানার এই মামলায় অন্তত ৩৬ থেকে ৩৮ জন আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন।"   তিনি বলেন, "ঘটনার তারিখ ২০২২ সালে; ২০২৬ সালের মে মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বিনা বিচারে এ বয়সের একটা মানুষকে প্রায় দুই বছর ধরে জেলে থাকতে হচ্ছে।”   তৌফিক-ই-ইলাহীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার আইনজীবী বলেন, “উনি ৮৪ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি করা একজন প্রাক্তন সিএসপি অফিসার, যিনি মুজিবনগর সরকারের মেহেরপুরের এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।"   শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, তার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘খুব দ্রুতই’ অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদন করে শুনানি উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের ৫ অতিরিক্ত এসপি ও ১ সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে।     গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি করা হয়।     প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাজিবুল হাসানকে সুনামগঞ্জের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে এপিবিএনে, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারকে সিআইডিতে, পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাওয়াত হোসেনকে পাবনায়, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হামায়ুন কবিরকে সুনামগঞ্জের দিরাই সার্কেলে এবং পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকায় সংযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসানকে র‌্যাবে বদলি করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চায় জিসিসি

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে।   জিসিসিভুক্ত দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বজায় থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। তারা আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অবহিত থাকতে এবং সম্পৃক্ত থাকতে চায়।   রুবিও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না, যা উপসাগরীয় অংশীদারদের স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস করে।”   জিসিসি দেশগুলোর আরেকটি বড় দাবি হলো, ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন। তাদের বক্তব্য, এই ক্ষয়ক্ষতি এমন এক যুদ্ধের সময় হয়েছে, যে যুদ্ধ তারা চায়নি এবং শুরু থেকেই বন্ধ করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছে।   বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিসিসি দেশগুলো জানিয়েছে, উপসাগরীয় জলসীমা ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের ফি বা চার্জ আরোপের পক্ষে তারা নয়।   রুবিও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান খুব স্পষ্ট- হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের মূল্য আদায়ের বিষয়ে তাদের কোনও সমর্থন নেই। তার মতে, সংঘাতের আগে এই জলপথ যে অবস্থায় ছিল, সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন।   তিনি বলেন, “আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।”   হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   জিসিসির উদ্বেগ মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ইরান-সম্পর্কিত যেকোনও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমঝোতায় নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করা নিয়ে।  সূত্র: আল-জাজিরা

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর: প্রিপেইড মিটার আপডেটের নির্দেশ

বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার চলতি জুন মাসের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ায় প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মিটার আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের ২০০ বা তার বেশি ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটার আপডেট করতে হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে সহজেই মিটার আপডেট করতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯ ছাড়াও বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার কল সেন্টার থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। এসব নম্বর হলো বিপিডিবি (১৬২০০), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (১৬৮৯৯), ডিপিডিসি (১৬১১৬), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩) এবং ওজোপাডিকো (১৬১১৭) কল সেন্টারে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।   বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মূল্যহার সঠিকভাবে কার্যকর করতে দ্রুত মিটার আপডেট সম্পন্ন করা প্রয়োজন। গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জাবির গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মানববন্ধন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখছে প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। কর্মসূচিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মানববন্ধনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে এই মানববন্ধন ঠিক কখন করা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।     ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এম এইচ লালন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সজিবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ও আরেকজনের মুখে মাস্ক থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছয়টি আলাদা পোস্টার দেখা গেছে। এসব পোস্টারে তাঁরা ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন।     এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মাত্রই জানতে পেরেছি। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘নিরাপত্তা শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তারা (ছাত্রলীগ) কখন কী করে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে। ছাত্রলীগের মানববন্ধনের একটি ছবি আমরা দেখেছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বলেছি। ফুটেজ পেলে তারা কখন কর্মসূচি পালন করেছে, সেটি নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রতারণা রুখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন চমক: চ্যাট শুরুর আগেই সতর্কবার্তা

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতারকেরা কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। ডিজিটাল প্রতারণার এ ঝুঁকি মোকাবিলায় অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথন শুরুর আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে নতুন নিরাপত্তাসুবিধা চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ।     প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ডব্লিউ আ বেটা ইনফোর তথ্যমতে, নতুন সুবিধাটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হবে। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা আগে কখনো যোগাযোগ করেননি, এমন ফোন নম্বরের সঙ্গে চ্যাট শুরু করতে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন। সতর্কবার্তায় নম্বরটি কোন দেশে নিবন্ধিত, সেটি পরিচিত কোনো তালিকায় সংরক্ষিত আছে কি না এবং দুই পক্ষের কোনো অভিন্ন গ্রুপ রয়েছে কি না, তা জানা যাবে। তথ্যগুলো দেখে ব্যবহারকারী চাইলে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবেন অথবা চ্যাট শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সতর্কবার্তা সম্পর্কে অপর পক্ষ কোনো ধরনের তথ্য জানতে পারবে না।     হোয়াটসঅ্যাপের নতুন এ নিরাপত্তা সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চ্যাট শুরু হওয়ার আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের বেশির ভাগ নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত চালু হয় কথোপকথন শুরু হওয়ার পর। নতুন এই সুবিধা সেই জায়গাতেই পরিবর্তন আনছে। সাধারণত প্রতারকেরা অপরিচিত নম্বর থেকে এমন বার্তা পাঠায়, যা প্রথম দেখায় সন্দেহজনক মনে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা দাবি করে, পুরোনো নম্বর পরিবর্তন করে নতুন নম্বর ব্যবহার করছেন। আবার কখনো শুধু পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করে কথোপকথন শুরু করতে চায়। ব্যবহারকারী যখন পরিস্থিতি বুঝে ওঠার চেষ্টা করেন, তখনই প্রতারকেরা বিশ্বাস অর্জনের সুযোগ খোঁজে। নতুন সতর্কবার্তা ব্যবহারকারীকে সেই মুহূর্তে থেমে বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ দেবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো নম্বর যদি অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়, তাহলে সেটি সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে নম্বরটির উৎস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সহজ হবে।     সব অপরিচিত নম্বরই যে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তা নয়। পরিচিত কেউ নতুন নম্বর ব্যবহার শুরু করলেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেখা যাবে। কোন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তাটি দেখানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি হোয়াটসঅ্যাপ।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি নিয়ে ফেসবুকে গুজব, যা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষ হয়েছে গতকাল বুধবার। সভায় জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে-স্কেলের বিষয়টি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই সচিব কমিটির সভার সূত্র দিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পে-স্কেল সংক্রান্ত একাধিক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পে-স্কেলের পর্যন্ত আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বৃদ্ধি নিয়ে তিন ধরনের পরিকল্পনা সচিব কমিটির রয়েছে। এই তিন পরিকল্পনার মধ্যে একটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কোনটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সচিব কমিটি।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নয়; সরকার চাইলে ১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেসবুকে কেন এবং কারা এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে।’   বেসিক বৃদ্ধি পেতে পারে যেভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিকের কত শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে বৃদ্ধি পাবে সেটি জানা না গেলেও তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেসিক নিয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোনটি কার্যকর হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসবে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কেননা সরকার চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ গ্রেট হলে এসে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান।   শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।   মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার রাতে প্রথমে যান চীনের দালিয়ানে। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি দুই দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে গতকাল বুধবার বিকেলে দালিয়ান থেকে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) ট্রেনে বেইজিং আসেন।   গ্রেট হলে চীন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর। এর আগে ২০০১ সালে তারেক রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীর লালগালিচা সংবর্ধনায়ও উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।     গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।   আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবে পরিপ্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ (আজীবন) দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। একই সিন্ডিকেট অধ্যাদেশ সংশোধন করে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না। বিধিবহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় এবিএম আবদুল্লাহর অধ্যাপক ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ (আজীবন) বাতিল করা হলো।   গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ।   জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং প্রায় সমান সময় চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত। আমি মনপ্রাণ দিয়ে রোগী ও মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার লেখা বই দেশে-বিদেশে পাঠ্য। আমাকে যে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়েছিল, তা আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। আমি আরও সম্মান ও সম্মাননা পেয়েছি। কিন্তু যেভাবে এটা বাতিল করা হলো, সেটি নীতিবহির্ভূত। আমি আশা করি এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬