সর্বশেষ

আলিমে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ নভেম্বর

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আলিমে অনলাইনে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে। এ কার্যক্রম চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। রোববার (৮ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সব মাদ্রাসা প্রধানকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।   নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৬ নভেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সব আলিম পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি ওয়েবসাইটের (https://xiclassadmission.gov.bd) লগইন প্যানেলে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে হবে।  আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তীতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায়ভার বোর্ড কর্তৃপক্ষ নেবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
পিএসজির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে প্যারিসের আরেক দল

ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। শনিবার পার্ক দেস প্রিন্সেসে সদ্য প্রমোশন পাওয়া ত্রয়কে ১-০ গোলে হারিয়েছে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ইউক্রেনের ডিফেন্ডার ইলিয়া জাবার্নি।   এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নগর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির সঙ্গে শিরোপার লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে পিএসজি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি পিএসজির টানা ১১তম জয়। ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর লুইস এনরিকের অধীনে এই প্রথম টানা ১১ ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল প্যারিসের ক্লাবটি। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। দেজিরে দুয়ের দ্রুত নেওয়া কর্নার থেকে সেনি মায়ুলুর বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান জাবার্নি। তার এই গোলেই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের। তবে ম্যাচের আগে চোট ও খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কারণে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল পিএসজির স্কোয়াড। ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি খভিচা খাভারাস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, নুনো মেন্দেস, মাগনেস আকলিউশ ও অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমিকে বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং জোয়াও নেভেসকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। ম্যাচ শেষে টানা জয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কোচ লুইস এনরিকে। তার মতে, ফুটবলে একের পর এক ম্যাচ জেতা মোটেও সহজ নয়। তবে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে শেষ আটটি ম্যাচেই জয় পাওয়াকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বিরতি শেষে জাতীয় দল থেকে খেলোয়াড়েরা ফিরে এলে একই ধারায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তার। এদিকে গোল করার পর পিএসজির ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কিন্তু একাধিক ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফেরান তোরেস। মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচে সাত গোল করা এই ফরোয়ার্ড পরবর্তী আট ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। যদিও তোরেসের গোলখরা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এনরিকে। তার মতে, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, যা ইতিবাচক দিক। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ত্রয়। রেনোদ রিপার্তের একটি জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের শেষ দিকে লুকাস মারোনিয়ের করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে সমতায় ফেরার সুযোগও হাতছাড়া করে সফরকারীরা। অন্যদিকে একই দিনে নিজেদের ম্যাচে ওসেরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারিস এফসি। দলটির হয়ে জয়সূচক গোল করেন মালির ফরোয়ার্ড লাসিন সিনায়োকো। পাবলো পাজিসের সহায়তায় পাওয়া গোলটি চলতি মৌসুমে তার দুর্দান্ত ফর্মেরই আরেকটি উদাহরণ। ১০ ম্যাচে ৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ২৬ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। ১০ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে প্যারিস এফসি। ফলে দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে শিরোপার লড়াই ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর নিসের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিএসজি। এরপর নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার মুখোমুখি হবে তারা। সামনের ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা ধরে রাখাই এখন এনরিকের দলের প্রধান লক্ষ্য।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের বিরোধীদের ‘শয়তানের প্রভাবাধীন’ আখ্যা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকারীদের ‘শয়তানের প্রভাবাধীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তাঁর এমন বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি দেশটির রক্ষণশীল মহলের কয়েকজনও এ মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন।   গত ২৩ অক্টোবর ইসরায়েলি উপস্থাপক আমির তসারফাতির সঞ্চালনায় ‘দ্য অ্যাঙ্কর পডকাস্টে’ অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন হাকাবি। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।   যুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য   পডকাস্টে হাকাবি বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা করছেন, তাঁদের মন শয়তান অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাঁদের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।   তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা ‘আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও আধ্যাত্মিক অন্ধত্বে’ ভুগছেন।   তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারীদের এভাবে আখ্যায়িত করা একজন কূটনীতিকের জন্য অস্বাভাবিক। রক্ষণশীল মহলেও সমালোচনা   হাকাবির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সাময়িকী ‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা শয়তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, এমন তত্ত্ব তুলে ধরে একজন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা সত্যিই অদ্ভুত।   অ্যান্ড্রু ডের এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হাকাবির বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক পরিসরেও যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মতবিরোধ   ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হাকাবির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিতর্ক আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   হাকাবির মন্তব্য তাই শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকেও সামনে এনেছে। সূত্র: আল জাজিরা।  

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: নির্বাচন কমিশন

সারাদেশে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে প্রথম ধাপে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।   রবিবার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আখতার আহমেদ।     ইসি সচিব বলেন, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোট হবে। কোনো ভোটেই ইভিএম ব্যবহার হবে না। তবে ইভিএম ডিসপোজালের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইসি।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৮, ২০২৬
এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ

এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ানের (এসআরবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ । রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে তিনি বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর ফারুক আহমেদ এসআরবি সদস্যদের সঙ্গে স্বাগত দরবারে অংশ নেন। সেখানে তিনি জনমানুষের কল্যাণে আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। দেশের জননিরাপত্তা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি) একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সব পর্যায়ের সদস্যদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশও দেন মহাপরিচালক ফারুক। ১৯৯৮ সালে ১৭ তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন ফারুক আহমেদ। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), র‌্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং হাইওয়ে পুলিশের প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও সুদানেও দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আহমেদ। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে (ইইই) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে ‘বিয়ের ইঙ্গিত’ অভিনেত্রী নীহার, জীবনসঙ্গী কে?

ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নীহার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। গত জুন মাসেই সামাজিক মাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ‘এনগেজড’ হিসেবে হালনাগাদ করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন তিনি আর সিঙ্গেল নেই, সম্পর্কে জড়িয়েছেন।    এবার সব রাখঢাক ভেঙে বিয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন নীহা। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে পবিত্র মক্কা থেকে দুটি বিশেষ ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। আর এ থেকেই সবাই ধারণা করছেন, বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী।  নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করা ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, পবিত্র কাবা শরীফের সামনে এক ব্যক্তি নীহাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং দুজনেরই দৃষ্টি কাবার দিকে (ছবিটি পেছন থেকে তোলা)। অন্য ছবিটিতে দেখা যায়, একে অপরের হাত ধরে আছেন তারা, সামনে পবিত্র কাবা শরীফ।  ছবির ক্যাপশনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নীহা লিখেছেন, ‘একটি অধ্যায় আমরা এত দিন ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছিলাম; এবার সেই সুন্দর যাত্রার গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছি। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের যে সুন্দর বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন এবং তার পবিত্র ঘরে একসঙ্গে আসার সৌভাগ্য দান করেছেন, তার জন্য অশেষ শুকরিয়া।’  পোস্টের একদম শেষে তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের এই বন্ধন সবসময় আল্লাহর রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ থাকুক।’   

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে বিকাশ এজেন্ট কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ এজেন্ট কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদকে কুপিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।   রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের শরিফুল আলম সোহাগ (৩৫) এবং নলেয়া গ্রামের সোহেল রানা স্বপন (৩৬)।   বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামার এলাকায় হামলার শিকার হন নুর মোহাম্মদ। তিনি বিকাশ ও রকেটের এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।   দোকানের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তাঁর মাথা ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।   রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার   নুর মোহাম্মদ রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বাড়ির সামনের সড়কে তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।   পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   ছিনতাই হওয়া ফোন উদ্ধার   পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নুর মোহাম্মদের একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।   ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া টাকা ও বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
কে-পপ সংগীত ও বাংলাদেশের বিটবক্সিংয়ের সমন্বয়ে হতে যাচ্ছে ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা

কে-পপ সংগীত ও বাংলাদেশের বিটবক্সিংয়ের সমন্বয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা।   আগামী শনিবার বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলে ইউরোপের জনপ্রিয় এই সংগীত আয়োজনের বর্ণাঢ্য পরিবেশনা, বিচিত্র সংগীতধারা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   লাওস থেকে মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনসহ মোট ১১টি দেশ আগামী ১৪ নভেম্বর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় প্রথম ‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া’য় অংশ নিচ্ছে।   অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর টেলিভিশন চ্যানেল ও ইউটিউবে প্রতিযোগিতাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে দর্শকরা কতটা আগ্রহ নিয়ে অনুষ্ঠানটি দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।   বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরাসরি টেলিভিশন সংগীত আয়োজন ইউরোভিশন। চলতি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠানটি দেখেছেন ১৩ কোটি ১০ লাখ দর্শক। গত ৭০ বছরে এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বসংগীত অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন আব্বা ও সেলিন ডিওনের মতো তারকারা।   এশিয়ায় আয়োজনটি ইউরোভিশনের প্রথম বহুজাতিক সম্প্রসারণ। এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর একটি সংস্করণ আয়োজন করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।   তবে ব্যাংককের এবারের আয়োজনে ভারত, জাপান ও চীন অংশ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রিও প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।   ইউরোভিশনের নির্বাহী প্রযোজক আসাফ ব্লেচার স্বীকার করেছেন, ‘ইউরোপে ইউরোভিশন অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এশিয়ায় এটি একেবারেই নতুন।’   তবে তার দাবি, তিন বছর ধরে প্রস্তুতি চলায় অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে ইউরোভিশনের মূল ভাবনা বুঝতে পেরেছেন। তারা এর সংগীত ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।’   এএফপিকে তিনি আরও বলেন, ‘এটি অন্য দেশ, তাদের সংগীত, মানুষ ও পোশাক-পরিচ্ছদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি জানালা।’    ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনেক আয়োজন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   কিছুটা বিতর্ক ও চমক   জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজ নিজ দেশে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় তারকা হিসেবে পরিচিত। যেমন, ভিয়েতনামের টক তিয়েন তার পপ-ড্যান্স সংগীত নিয়ে এবারের প্রতিযোগিতায় জয়ের অন্যতম দাবিদার।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন কে-পপ তারকা জুনহি। বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে পুরুষ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাপেলা বিটবক্সিং দল ‘বিটমোস্ফিয়ার’।    অন্যদিকে, নেপালের হয়ে সংগীত পরিবেশন করবেন প্রতীক হিমাল রাই।   ইউরোভিশনের ৭০ বছর পূর্তির সময়েই এশিয়ায় এ প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের মূল আয়োজনের দর্শকসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৫০ লাখ কমেছে।    ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে পাঁচটি দেশ প্রতিযোগিতা বর্জন করায় দর্শকসংখ্যায় এ পতন ঘটেছে।   তবে ইউরোভিশন প্রতিযোগিতা বরাবরই নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ষাটের দশকে ফ্রাঙ্কোর শাসনাধীন স্পেনের অংশগ্রহণের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে রাশিয়াকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা—সবই এর ইতিহাসের অংশ।   ১৯৫৬ সালে বিভিন্ন দেশের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে ইউরোভিশনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এটি একটি বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়। বর্ণাঢ্য মঞ্চসজ্জা, চাকচিক্যপূর্ণ পরিবেশনা, বিচিত্র সংগীতধারা ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থনের কারণে প্রতিযোগিতাটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।   ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংহতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোভিশনের জনপ্রিয়তাও বিস্তৃত হয়েছে। যদিও এর কার্যক্রম এখন ইউরোপের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর কানাডাও এতে যোগ দেবে।    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতাটি শুধু সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে রাজনীতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে।   প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দেশের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত। অর্ধেক ভোট দেন বিচারকরা, বাকি অর্ধেক দেন দর্শকরা। কোনো দেশই নিজেকে ভোট দিতে পারে না। ফলে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক সময় ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।   ইউরোভিশন এশিয়ায়ও এমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন ব্লেচার। তার মতে, গত বছর সীমান্ত নিয়ে সংঘাতে জড়ানো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের দর্শকরা একে অপরের দেশের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন।   তবে ইউরোভিশন এশিয়ার প্রতিযোগীদের অধিকাংশ গানই প্রেমের গান। এ বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউরোভিশনবিষয়ক লেখক ও বিশেষজ্ঞ ডিন ভুলেটিচ।   তিনি ব্যতিক্রম হিসেবে ফিলিপাইনের পপশিল্পী কারমেলের কথা উল্লেখ করেন। তার ‘সোবরা-সোবরা’ (অতিরিক্ত) গানটি নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে একটি প্রাণবন্ত সংগীত পরিবেশনা।   ভুলেটিচ এএফপিকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনে সাড়া জাগাতে পারে—এমন কিছুটা বিতর্ক, চমক কিংবা অর্থবহ বার্তার অভাব রয়েছে এই আয়োজনে।’   তার মতে, ‘ইউরোপের ইউরোভিশনকে অন্যান্য সংগীত প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করেছে এই বিষয়টিই।’   বাজেট সংকট   আয়োজনটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে আয়োজকদের। এর মধ্যে রয়েছে বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার কমিয়ে দেওয়ার খবর।    এ পরিস্থিতিতে গত মাসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিলে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।   তবে ব্লেচার বাজেটসংক্রান্ত সমস্যাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাজেট নিয়ে সব সময়ই কিছু সমস্যা থাকে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রথম আয়োজন। কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।’ তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মহড়ায় অংশ নিতে শিল্পীদের চলতি সপ্তাহান্তে ব্যাংককে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   প্রতিযোগীদের কেউ নিজ নিজ মাতৃভাষায়, আবার কেউ ইংরেজিতে গান পরিবেশন করবেন। বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইংরেজিতে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালয়েশিয়ার তারকা আইনা আবদুল।   ভুটানের শিল্পী নিয়েন্দ্র ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তার লোকসংগীত ও পপধারার প্রেমের গান পরিবেশন করবেন।    মাত্র আট লাখ মানুষের দেশ ভুটানের এই শিল্পীর কাছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে ইউরোভিশন।   এ প্রতিযোগিতায় ছোট দেশগুলোর প্রতি দর্শকদের বিশেষ সমর্থন দেখা যায়। অনেক সময় তুলনামূলক কম পরিচিত দেশগুলোই দর্শকদের সহানুভূতি ও সমর্থন পেয়ে থাকে। ফলে নিয়েন্দ্রের ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে।   ব্লেচার জানিয়েছেন, এবারের আয়োজন সফল হলে ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ১৬ থেকে ১৭টি দেশ ও অঞ্চল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   আগ্রহী দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে চীন, হংকং ও তাইওয়ানের নামও উল্লেখ করেছেন তিনি। এসব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে ইউরোভিশন এশিয়া নিঃসন্দেহে ভূরাজনৈতিক আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   তিনি বলেছেন, ‘সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বেশিরভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি মাত্র সফলভাবে কাজ করছে। অথচ সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সমবায় আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’   আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে এই আন্দোলন চলেছে। মাঝখানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নিজে যে স্বনির্ভর আন্দোলন, অর্থাৎ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই উদ্যোগের সঙ্গে সমবায়কে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ।   তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তাকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন। ফলে সমবায় আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।   একইসাথে রাষ্ট্রপতি সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাত আরও দ্রুত গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   রাষ্ট্রপতি অতীতের সফল সমবায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন একেবারে নিচের দিকে চলে গেছে। এখন আর আগের মতো এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগ দেখা যায় না।’   এজন্য তিনি সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান সমবায় সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।   একইসাথে তিনি সমবায় সমিতিগুলো যেন দেশের এনজিওগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে, সেই ব্যাবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।   রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে এনজিওর ধারণা অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে গেছে। এই এনজিও কার্যক্রমের কারণেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সমবায় সমিতিগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে পারে।    সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যসমূহের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোর বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি তৈরি করা যেতে পারে, যারা এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায় সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করবে।    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায়ের মূল ধারণা হচ্ছে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।   এ সময় তিনি সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে তারা অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছে। আজকের অনুষ্ঠানে কয়েকটি সফল সমবায়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। তারা সত্যিকার অর্থেই অনেক ভালো কাজ করছে।    রাষ্ট্রপতি সমবায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায় আন্দোলনকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এতে বক্তব্য দেন এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।   অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।   সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এ বছর সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’।   অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৫২২ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪০টি

রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করেছে পুলিশ।   রোববার (৮ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তার সবচেয়ে বেশি   ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিরপুর বিভাগের ১৬৬ জন। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৯৪ জন, গুলশান বিভাগে ৫৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৬ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অন্যদিকে উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন, রমনা বিভাগে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মাদক   পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ১০ হাজার ৯২৪ পিস ইয়াবা, ২১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে।   রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।   গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা   ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
বিলাসবহুল সেবা বাড়িয়ে মুনাফা বৃদ্ধির আশা বিমান সংস্থাগুলোর

বিলাসবহুল আসন সংযোজন, মিশেলিন তারকাখচিত রেস্তোরাঁর শেফদের দিয়ে বিশেষ খাবারের মেন্যু তৈরি এবং বিমানবন্দরে অভিজাত যাত্রীদের জন্য আধুনিক লাউঞ্জ নির্মাণ করছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। ভ্রমণকারীদের মধ্যে উন্নত ও বিলাসবহুল সেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভবিষ্যতে মুনাফা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে তারা।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   এ কৌশলের ফলে বিভিন্ন ফ্লাইটে সাধারণ বা ইকোনমি শ্রেণির আসনের সংখ্যা আরও কমে আসতে পারে। বিমান সংস্থাগুলোর ধারণা, ভবিষ্যতে প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রীই বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন আসন কিংবা বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসের মতো উন্নত সেবা বেছে নেবেন।   ইরান যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিমান সংস্থাগুলো মনে করছে, যাত্রীদের কাছে উন্নত সেবা বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব।   পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিমান পরিবহন অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভলোদিমির বিলটকা বলেন, একটি বিজনেস ক্লাসের আসনের জন্য সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের চারটি আসনের সমপরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। অথচ বিজনেস ক্লাসের প্রতিটি আসনের ভাড়া সাধারণ আসনের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি নির্ধারণ করা যায়।   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বিমান সংস্থাগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই উন্নত ও বিলাসবহুল সেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে আসছে। কারণ, এসব সেবা থেকে মুনাফার হার অনেক বেশি।’   সাম্প্রতিক প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের প্রিমিয়াম শ্রেণির টিকিট বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি সাধারণ কেবিনের আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে চার শতাংশ বেশি।   বিমান সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, উড়োজাহাজের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভ্রমণ খাতে নানা জটিলতা তৈরি হলেও প্রিমিয়াম সেবার আয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে।   আমেরিকান এয়ারলাইনস জানায়, বর্তমানে তাদের মোট আসনের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রিমিয়াম শ্রেণির হলেও এসব আসন থেকে টিকিট বিক্রির মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে।   সাধারণ কেবিন ও বিজনেস ক্লাসের প্রচলিত পার্থক্যের বাইরেও এখন যাত্রীরা বাড়তি পায়ের জায়গা কিংবা উড়োজাহাজের সামনের দিকে বসে সবার আগে নামার সুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।   গত জুলাইয়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ‘ইকোনমি প্লাস’ নামে নতুন একটি সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। এ সুবিধার আওতায় যাত্রীরা পাশাপাশি তিনটি আসনের মাঝের আসনটি খালি রাখার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে কয়েকটি ফ্লাইটে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।   অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে জেটব্লু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ‘ব্লুফার্স্ট’ নামে নতুন ফার্স্ট ক্লাস সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।   জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোয়ানা গেরাঘটি বলেন, ‘যাত্রীরা এখন আগের তুলনায় উন্নত ও বিলাসবহুল ভ্রমণ অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’   প্রিমিয়াম আসনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে   ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্কিফটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোতে প্রিমিয়াম আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এ প্রবৃদ্ধি সাধারণ আসনের বৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি।   ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এএফপিকে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের প্রিমিয়াম আসনের সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন আসন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মধ্যে যাত্রীদের কনুই রাখার জন্য অতিরিক্ত জায়গাসম্পন্ন আসনও রয়েছে।   ডেল্টা এয়ারলাইনস তাদের ‘ডেল্টাওয়ান’ সেবায় নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। এ সেবায় থাকছে উন্নতমানের ওয়াইন, ওয়াগিউ বার্গারের মতো বিশেষ খাবার এবং বিনোদনের জন্য বড় পর্দা।   খাবারের মেন্যু তৈরিতে ডেল্টা যুক্তরাজ্যের মিশেলিন তারকাখচিত রেস্তোরাঁর শেফ সাইমন হালস্টোন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত সোমেলিয়ার আন্দ্রেয়া রবিনসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে।   প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন এ সেবা এয়ারবাস এ৩৫০ মডেলের উড়োজাহাজে চালুর পরিকল্পনা করছে। এসব উড়োজাহাজে প্রায় ১৫০টি প্রিমিয়াম আসন এবং ১৬১টি ইকোনমি শ্রেণির আসন থাকবে।   ডেল্টার অনবোর্ড স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরেম দিমবিলোগলু বলেন, ‘২০ বছর আগে উড়োজাহাজের ৯০ শতাংশ আসনই ছিল সাধারণ কেবিনের।’   তিনি জানান, ডেল্টার কোনো কোনো ফ্লাইটে অদূর ভবিষ্যতে প্রিমিয়াম আসনের সংখ্যা মোট আসনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় বিমান সংস্থা পুরোপুরি ইকোনমি শ্রেণির আসন বাদ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেনি।   গত অক্টোবরে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ঘোষণা দেয়, তাদের দুই তলাবিশিষ্ট এ৩৮০ উড়োজাহাজের ওপরের তলায় শুধু প্রিমিয়াম শ্রেণির আসন রাখা হবে।   পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা জোট—স্কাইটিম, ওয়ানওয়ার্ল্ড ও স্টার অ্যালায়েন্স এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলোর মোট আসনের মধ্যে বর্তমানে প্রিমিয়াম আসনের হার ১৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ১৭ দশমিক ১ শতাংশ।   প্রিমিয়াম সেবার আওতায় আরও যুক্ত হচ্ছে ফ্লাইটে ওঠার আগেই পছন্দমতো খাবার বেছে নেওয়া এবং বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা।   এ ছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থা নতুন ও আধুনিক যাত্রী লাউঞ্জ নির্মাণ এবং পুরোনো লাউঞ্জের সৌন্দর্যবর্ধনে বিনিয়োগ করছে। একসময় স্বল্পমূল্যের সেবার জন্য পরিচিত সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।   তবে বিমান সংস্থাগুলোর এভাবে উচ্চমূল্যের সেবা গ্রহণে সক্ষম যাত্রীদের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠার ফলে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও জ্বালানির বাড়তি দাম সব বিমান সংস্থার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
করাচির রেস্তোরাঁয় রোবটের খাবার পরিবেশন

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির নিয়ন আলোয় ঝলমলে একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের টেবিলের মাঝ দিয়ে চলাচল করছে রোবট ওয়েট্রেস।   অপেক্ষায় থাকা এক পরিবারের টেবিলে সদ্য তৈরি পিৎজা পৌঁছে দিচ্ছে সে।   যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক মানবসদৃশ রোবট নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রেস্তোরাঁয় রোবট কর্মীর উপস্থিতি এখনও বিরল। করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   ইলেকট্রনিক কণ্ঠে রোবটটি বলে, ‘সিসিলিয়ানে আপনাদের স্বাগত। আমার নাম রোবিয়া।’ এ সময় লাল এলইডি বাতি দিয়ে তৈরি চোখের পলক ফেলে খাবারের টেবিলে বসা অতিথিদের দিকে তাকায় সে।   রোবিয়া ও তার সহকর্মী জোজো পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজের নিজ হাতে তৈরি রোবট। করাচির ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জগৎকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন তিনি।   রোবট দুটির মাথা গোলাকার ও সাদা। মুখের সামনে মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো কালো আবরণ রয়েছে। গলায় জড়ানো কালো শাল। এ অঞ্চলের নারীদের পরিধেয় ওড়নার আদলেই তৈরি করা হয়েছে শালগুলো।   সিসিলিয়ান রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজ নিজের গবেষণাগারে অধিকাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে রোবট দুটি নির্মাণ করেছেন। নিজেই এগুলোর সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেছেন।   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ এখানে সহজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে।’   তার রোবট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘কোবট’-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সহযোগিতায় রোবট দুটি তৈরি করা হয়। এ কাজে বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশও ব্যবহার করা হয়েছে।   বিশেষ করে চীন ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতা এবং হোটেলের অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর মতো বিভিন্ন কাজে রোবটের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।   তবে পাকিস্তানে এখনও রোবটের ব্যবহার নতুন অভিজ্ঞতা। আজিজের তৈরি রোবট দুটি তাই রেস্তোরাঁয় আসা অতিথিদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।   রোবট দুটি খাবার নিয়ে টেবিলে পৌঁছালে অতিথিদের নিজেদেরই ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে হয়। তা না হলে সহায়তার জন্য কোনো মানব কর্মীর অপেক্ষা করতে হয়। উচ্ছ্বসিত ক্রেতারা-   পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে রোবট তৈরির কর্মশালা রয়েছে আজিজের। ভবিষ্যতে তিনি তার তৈরি রোবটগুলোকে আরও উন্নত করতে চান।   আজিজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো, রোবটগুলোতে ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি বিশ্লেষণের সুবিধা যুক্ত করা।’   তিনি বলেন, ‘এর ফলে রোবটটি আপনাকে দেখে চিনতে পারবে। গতবার আপনি কী খাবার অর্ডার করেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে পারবে। সেই অনুযায়ী আপনাকে আরও ভালো খাবারের পরামর্শ দিতে পারবে।’   এখনই রোবট দুটি পরিবারগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রোবটের কাজ দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন রেস্তোরাঁটিতে।   উচ্ছ্বসিত ক্রেতা আহমের জামির এএফপিকে বলেন, ‘এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয়।’   তিনি বলেন, রোবটটি কোন কোন খাবার অর্ডার করা যাবে, সে সম্পর্কেও অতিথিদের জানায়।   শিশুরা রোবটগুলো ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে। আর তাদের অভিভাবকেরা ছবি ও সেলফি তোলেন।   তরুণ ক্রেতা সোনিয়া দিলোস্কার রোবটগুলোর চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রাহকদের সঙ্গে রোবটের আচরণও তাঁর পছন্দ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি যন্ত্র এবং এর কোনো আবেগ নেই। এ কারণেই গ্রাহকদের সঙ্গে এর আচরণ আমার ভালো লাগে।’   রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানান, রোবটের এই নতুনত্বের কারণে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি করাচির দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ রোবট দেখতে আসছেন।   রেস্তোরাঁর কর্মী হেলেন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। রোবট দেখতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসছেন। এখানে এসে তারা প্রথমবারের মতো রোবট দেখছেন।’   তিনি বলেন, ‘রোবটগুলো দেখতে মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী

শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।   স্থানীয় সময় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।   আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সমঝোতার আওতায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।   ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল ফান্ডেড) বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলো।   সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কার, অকুপেশনাল সায়েন্স, ক্লিনিক্যাল ল্যাব সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি), বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সাইবার সিকিউরিটি, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় বিষয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: আইনমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমার থেকে উৎসারিত, মিয়ানমারকেই এটার সমাধান করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এখানে ইনভলভ করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে টেকসই পন্থা: জাতীয় কৌশলের রূপরেখা ও বৈদেশিক অবদান’— শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।    আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের বিষয়টি আমাদের চিন্তায় আছে। তাদের নাগরিক অধিকারের কথা চিন্তায় আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন মানবিক দিক থেকে বিবেচনার বিষয়, অন্যদিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্নও এখানে জড়িত।    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার পর যখন ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে, তখন আমরা বলেছি যে শুধুমাত্র জোর করে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে দিলাম বা ইন্টারন্যাশনালি চাপিয়ে দিলেন সেটা নয়। একজন রোহিঙ্গা তার স্বদেশে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। সে (রোহিঙ্গা) তার নাগরিকত্ব পাবে, তার মানবাধিকার পাবে, তার মর্যাদা পাবে, তার শিক্ষার অধিকার পাবে সেটা নিশ্চিত করতে হবে এবং এটা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলকে সম্পৃক্ত হতে হবে।    এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় একটি কমিটি আছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কিভাবে সমাধান করা যায় সেটা আমরা দেখছি। যেভাবে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার অতীতে করেছিলেন, আমরাও সে পথ ধরেই হাঁটছি। আমরা মনে করি সে পথ ধরেই রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে যৌক্তিক একটা পরিণতির জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে।    নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহমেদের পরিচালনায় আজকের সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
জাপানে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তি: মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

জাপানের ‘সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো গত মাসে তাদের সাধারণ মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের পর ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে দ্রুতই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   এর আগে ইতালীয় ধাঁচের পারিবারিক রেস্তোরাঁ চেইন সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় খাবার ‘মিলানিজ ডোরিয়া’র দাম ২০ ইয়েন (প্রায় ১৩ সেন্ট) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ক্ষমা চাওয়ার সুরে বিবৃতি দেয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মূল্যবৃদ্ধির জন্য নিজেদের যথেষ্ট চেষ্টা না করার বিষয়টিও স্বীকার করে।   বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন প্রকাশ্য অস্বস্তি থেকে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা চাপে রয়েছে। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের অভিজ্ঞতায় দেশটির ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।   গত মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব জাপান) ঘোষণা দেয়, দেশটির মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে টানা ১৩ বছর দেশটিতে অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়েছে।   তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ২০১৩ সালে ঘোষিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যহ্রাসের প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা।   তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ার পরই জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   পরবর্তী সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।   - ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ-   বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়াতে পারলেও জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দেশটিতে পণ্যের দাম বাড়ানোকে অনেক ক্রেতা এখনো নেতিবাচকভাবে দেখেন।   ক্রেতাদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কায় বড় ও ছোট—সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়াতে দ্বিধায় রয়েছে।   বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা অনেকাংশে দীর্ঘদিনের নিয়মিত ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল।   জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওকায়ামা এলাকার ৬৮ বছর বয়সী রামেন দোকানের মালিক সাচি উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও এখনো খাবারের দাম বাড়াননি।   সম্প্রতি টোকিও সফরকালে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে যদি ২০০ ইয়েন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিই, তাহলে বছরের পর বছর ধরে যাঁরা আমার দোকানকে সমর্থন দিয়ে আসছেন, তাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। তাদের কাছে দুঃখিতও মনে হবে।’   তিনি বলেন, ‘তাই আমার চিন্তা হলো, আমি নিজেই কষ্ট করে পরিস্থিতি সামলে নেব। আমার ধারণা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই এভাবে চিন্তা করেন।’   স্থানীয় গণমাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই ইউনিক্লো মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।   অন্যদিকে, সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় ডোরিয়াসহ মেন্যুর প্রায় সব খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন একটি বিবৃতি দেয়, যাকে অনেকেই নিজেদের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখেছেন।   এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতে দাম আবার কমানোর সম্ভাব্য সব ওপায় খুঁজে দেখার অঙ্গীকার করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিস্মিত করে।   তবে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এর মধ্যে প্রতি গ্লাস মাত্র ১০০ ইয়েনের ওয়াইনও রয়েছে। এ বিষয়ে সাইজেরিয়ার জনসংযোগ বিভাগ এএফপিকে জানায়, ‘আমরা চাই মানুষ যেন সহজেই এটি উপভোগ করতে পারেন।’   ‘অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে’   নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য পণ্য কেনা কিংবা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য আগের তুলনায় কম অর্থ থাকছে। অন্যদিকে, এসব খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও শ্রমিকের মজুরি ও কাঁচামালের বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছে।   যদিও দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রকৃত মজুরি টানা আট মাস ধরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।   টোকিওর এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কাজুহিকো সাতো বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাই এখন আমাকে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কারণ, দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম আরও বেশি।’   তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাইরে খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি।’   পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। দেশটিতে ঋণের সুদের হার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।   টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুতোমু ওয়াতানাবে বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া এ সুবিধা সবাই পাচ্ছেন না।’   তিনি এএফপিকে বলেন, জি-৭-এর অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতির হার জাপানের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি। তবে সেসব দেশে মজুরি তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয় করার প্রবণতা তেমন দুর্বল হয়নি।   অর্থনীতিবিদের মতে, জাপানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর মূল পার্থক্য এখানেই। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশটির অর্থনীতি।   তিনি বলেন, জাপানে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখনো ক্রেতাদের মনোভাবই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।   ওয়াতানাবে মনে করেন, মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে জাপানের ক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তনে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।   তিনি বলেন, ‘টানা ৩০ বছর মূল্যহ্রাসের পরিস্থিতিতে থাকার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ব্যাংক ধসের ঘটনায় অভিশংসিত প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনার বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ সংকটের ঘটনায় প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। একই সঙ্গে শনিবার তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।    ব্যাংক ধসের ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   প্যারাগুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট পেনাকে শুক্রবার সিনেটের সিদ্ধান্তে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকা দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ধসে পড়ার মাত্র তিন দিন পর এ ঘটনা ঘটে।   পেনা নিজেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ফলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে যে আইনি দায়মুক্তি তিনি পেতে পারতেন, অভিশংসনের কারণে তা হারান।   দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে শনিবার তাকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের সামনে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।   পেনার শুনানি শেষে বিচারক হার্নান ওতাজু সাংবাদিকদের জানান, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে আসুনসিওনের যে স্থাপনায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে।   পেনার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইউএনও ব্যাংক এসএ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও পেনশন তহবিল থেকে আমানত ও ঋণ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’ একই সঙ্গে ব্যাংকটির মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।   ৬৫ লাখ জনসংখ্যার প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষের হিসাব রয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউএনও ব্যাংকে। এই ব্যাংকের সঙ্গে পেনার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   ৪৭ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ পেনা গত বছর বিক্রি করে দেওয়ার আগপর্যন্ত ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনও হোল্ডিংয়ের শেয়ারধারী ছিলেন।   রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা পেনা এবং একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান কার্লোস কারভালোর সম্পদ জব্দ করার আবেদন জানিয়েছেন।   বিচারক ওতাজু জানান, শুনানির সময় পেনা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।   শুক্রবার সিনেটে দ্রুতগতিতে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হন পেনা। ওই রাতে তিনি আটক অবস্থায় কাটান।   এদিকে, তাকে সাধারণ কারাগারে পাঠানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা তাঁর বাসভবনের বাইরে জড়ো হন।   রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের কাছে ৩৩ বছর বয়সী আইনজীবী মাকারেনা চিলাভের্ত এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে কারাগারে দেখতে চাই। পেনাকে কারাগারে পাঠাতে হবে।’   পেনার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। তিনি ইউএনও ব্যাংকের পতনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পেনশনভোগীরাও রয়েছেন।   পেনার ক্ষমতাচ্যুতির খবরে আসুনসিওনের রাজপথে অনেক মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেন।   তবে একই ডানপন্থী কলোরাডো পার্টির নেতা আলিয়ানার ক্ষমতা গ্রহণের খবরে ক্ষুব্ধ হন কিছু বিক্ষোভকারী।   এডসন ভাসকেজ এএফপিকে বলেন, ‘তিনি তো একই দলের লোক। ইউএনও ব্যাংকের সমস্যার কথা তিনি জানতেন।’   যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র   সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের হিসাব পরিচালনাকারী ইউএনও ব্যাংকের পতনে সাধারণত স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত প্যারাগুয়ের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউএনওর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা আমানতকারীদের একটি অনির্দিষ্টসংখ্যক অংশকে আগাম অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে।   পেনার ক্ষমতাচ্যুতি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত মাসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন।   পেনার মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন আলিয়ানা।   শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা প্যারাগুয়েকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অংশীদার, বন্ধু ও মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আলিয়ানার সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আগ্রহের কথা জানান তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ নভেম্বর সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।   প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন।   শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি পিআর দেবে কানাডা

কানাডার নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে।   একই সঙ্গে কানাডায় আগে থেকেই বসবাসরত সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বাসিন্দায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে কর্মরত ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা ব্যক্তিদের স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা এবং ২০২৬ সালের বাজেটে এসব লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়েছে।   প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার পিআর   কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে। অর্থাৎ তিন বছরে নিয়মিত পিআর ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে ১১ লাখ ৪০ হাজারে।   এই পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অভিবাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট স্থায়ী বাসিন্দার প্রায় ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক শ্রেণির আওতায় নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী সংগ্রহ, শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায় কানাডা।   ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দার স্থায়ী হওয়ার সুযোগ   নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কানাডায় আগে থেকেই অবস্থানরত সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ১ লাখ কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পিআর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   অন্যদিকে, মানবিক বিবেচনায় আরও ১ লাখ মানুষকে স্থায়ী বাসিন্দায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আওতায় থাকা আবেদনকারীরা এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন।   সরকারের লক্ষ্য, দেশটিতে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো।   অস্থায়ী কর্মী ও শিক্ষার্থী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা   স্থায়ী বাসিন্দার পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কানাডা। ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে।   এর মধ্যে থাকবেন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কর্মী এবং ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। শ্রমবাজারের চাহিদা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন বিবেচনায় এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফরাসিভাষীদের জন্য বাড়ছে সুযোগ   কানাডার কুইবেক প্রদেশের বাইরে ফরাসিভাষী অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে নতুন পরিকল্পনায়। ২০২৭ সালে মোট পিআরের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশ ফরাসিভাষী অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।   এর মাধ্যমে দেশটির ফরাসিভাষী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে চায় কানাডা।   আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা?   নতুন পরিকল্পনায় পিআরের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা হলেও দক্ষ কর্মী এবং কানাডার শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অভিবাসন, প্রাদেশিক মনোনয়ন এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাভিত্তিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।   তবে ১১ লাখ ৪০ হাজার পিআরের লক্ষ্যমাত্রা মানেই সবার জন্য আবেদন উন্মুক্ত বা ভিসা নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীদের যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং সরকারি নির্বাচনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
৩ দিনের সফরে কাল ঢাকায় আসছেন এডিনবার্গের ডাচেস

তিন দিনের সফরে আগামীকাল সোমবার ঢাকায় আসছেন এডিনবার্গের ডাচেস সোফি হেলেন। ৯ থেকে ১১ নভেম্বর তার এই সফরে নারীর ক্ষমতায়ন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।   আজ ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে প্রচারিত রয়্যাল কমিউনিকেশন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিন দিনের এই সফরে ডাচেস দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্তি ও ব্যাপ্তি তুলে ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।   এতে আরও বলা হয়, ঢাকায় তিনি নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।   জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ডাচেস ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)’ পরিদর্শন করবেন।   এছাড়া নারী ও কন্যাশিশুদের নতুন সুযোগ তৈরিতে ক্রীড়ার ভূমিকা তুলে ধরতে তিনি ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ (বিকেএসপি)-এ নারী হকি খেলোয়াড়সহ তরুণ অ্যাথলেটদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।   এই সফরে বাংলাদেশে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে, যেখানে ডাচেস শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নারী ক্ষমতায়ন জোরদারে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন ।   কক্সবাজারে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং বাস্তুচ্যুত নারী, কন্যাশিশু ও পরিবারগুলোর সুরক্ষা ও সহায়তা সেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন।   তার এই সফর বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি সেবার পাশাপাশি শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যকার সক্ষমতা ও নেতৃত্ব জোরদারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হবে।    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অনুরোধে ডাচেস বাংলাদেশ সফর করছেন। এর আগে তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরাতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ বিষয়ে ভারত সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।   বিচার বিভাগের বড় সংকট বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি   বিচার বিভাগের সততা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের ক্ষেত্রে ‘সৎ বিচারক’ শব্দটি ব্যবহার করাই এক ধরনের অতিরঞ্জন। কারণ, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যেই সততার প্রত্যাশা নিহিত রয়েছে।   তিনি বলেন, বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি বিবেচনা করলে চলবে না। এর পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।   আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও দেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়েছে। যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতি শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন।   বিচারকদের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ সুবিধার ওপর গুরুত্ব   বিচারকদের দায়িত্ব পালনের বাস্তবতা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, অধস্তন আদালতের অনেক বিচারক দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।   তিনি আরও বলেন, বিচারকদের বেতন কাঠামো, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের পেশাগত সততা, পরিশ্রম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এতে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   তবে বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনার নামে ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে আশাবাদ   অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।   এ ছাড়া ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সব ধরনের হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।   আইনমন্ত্রীর মতে, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক পক্ষপাত ও অতীতের বিচারিক ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা জরুরি।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচ জয়ে গার্দিওলা, আনচেলত্তি ও জিদানকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মরিনহো

স্প্যানিশ ফুটবল লিগ লা লিগায় কোচদের জয়ের শতকরা হারের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন হোসে মরিনহো। পেপ গার্দিওলা, কার্লো আনচেলত্তি, জিনেদিন জিদান ও জাভি হার্নান্দেজের মতো তারকা কোচদের পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ এই কোচ।   স্প্যানিশ ফুটবল পরিসংখ্যানবিদ মিস্টার চিপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লা লিগায় অন্তত ১০০ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এমন কোচদের মধ্যে মরিনহোর জয়ের হার সবচেয়ে বেশি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ১২৬ ম্যাচে ৯৭টি জয় পেয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ তার জয়ের হার ৭৭ শতাংশ।   গার্দিওলা ও আনচেলত্তি রয়েছেন পরের অবস্থানে   মরিনহোর পর তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পেপ গার্দিওলা। বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ১৫২ ম্যাচে ১১৬টি জয় নিয়ে তার জয়ের হার ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ।   তৃতীয় অবস্থানে থাকা কার্লো আনচেলত্তি ২২৮ ম্যাচে ১৬২টি জয় পেয়েছেন। তার জয়ের হার ৭১ দশমিক ১ শতাংশ।   এ ছাড়া জাভি হার্নান্দেজের জয়ের হার ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ, জিনেদিন জিদানের ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং লুইস এনরিকের ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ।   ফ্লিকের জয়ের হার বেশি, তবে ম্যাচের সংখ্যা কম   বর্তমান কোচ হান্সি ফ্লিকের জয়ের হার এই তালিকার সবার চেয়ে বেশি। ৮৭ ম্যাচে ৬৯টি জয় নিয়ে তার জয়ের হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এখনো ১০০ ম্যাচ পরিচালনার মাইলফলক স্পর্শ না করায় মূল তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে টানা অষ্টম জয় রিয়ালের   এদিকে লা লিগার দ্বাদশ রাউন্ডের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৬ মিনিটে আর্দা গুলার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৭৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।   সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি রিয়াল মাদ্রিদের টানা অষ্টম জয়। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে এই জয়ের খবরের পাশাপাশি মরিনহোর পুরোনো লা লিগা রেকর্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

‘ফ্যাসিস্ট আমলের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি’, কৃষকদল নেতার অভিযোগ

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬