প্রবাসী

রাশিয়ায় চাকরির আশায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গোপালগঞ্জের তিন যুবক

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নির্মাণ খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জের তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় তাদের একজনের বাবা ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সি জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানিয়েছেন।

তবে পুলিশ অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে না নিয়ে আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটির) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছে।

 

অন্যদিকে বিএমইটি বলছে, মামলার জন্য তাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। পুলিশ মামলা না নেওয়ার যে কারণ দেখিয়েছে, তা ‘অযৌক্তিক’।

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে জীবন নিয়ে চরম সংশয়ের মধ্যে পড়া এ যুবকরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ, সুতিয়ারকুল গ্রামের নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে রনি ফকির ও বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোল্লা

 

পলাশ শেখের বাবা মো. জামিল শেখের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান গোপালগঞ্জের তিন যুবককে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে রাশিয়ায় কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা করে আদায় করেন।

গত ৭ মে গোপালগঞ্জের তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি ফ্লাইটে রাশিয়ায় পাঠান হয়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণা করে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘বিক্রি করে’ দেওয়া হয় বলে জামিল শেখের অভিযোগ।

পলাশরা ‘খুব কষ্টে আছে’ জানিয়ে অভিযোগে বলা হয়, তারা রুশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। তাদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হবে বলে জানিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, সামরিক পোশাকের মাপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বুট জুতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

পলাশ শেখের ফুপাতো ভাই আবু সালেহ বলেন, “পলাশকে প্রো টেকনোলজি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে রাশিয়ান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে এক বছরের চুক্তিতে বিক্রি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

তার অভিযোগ, এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের লোকজন ‘আগে থেকেই জানত’।

সুতিয়ারকুল গ্রামের রনি ফকিরের স্ত্রী তৃষা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। দালালের মাধ্যমে তার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

“তারা তাকে রাশিয়া নিয়ে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে নির্মাণকাজের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।”

তৃষা বলেন, ৭ লাখ টাকা পরিশোধের পর ৭ মে একটি ফ্লাইটে তার স্বামীকে রাশিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়।

মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য তাদের হাতে মোবাইল দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেয়ে এসএমএস ও অডিও বার্তায় রনি জানিয়েছেন, তাদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে, চুল কেটে ফেলা হয়েছে।

“ওদের বন্দুকের মুখে জিম্মি করে সীমান্তবর্তী ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।”

গত সোমবার শেষবার রনির সঙ্গে যোগাযোগ হয় জানিয়ে তৃষা বলেন, রনি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। জীবন নিয়ে সংশয় ও আতংকের মধ্যে আছেন তিনি।

বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লার চাচি লিমা আক্তার সুখী বলেন, ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা দিয়ে সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়। ৭ মে সকাল ১১টায় ছিল তার ফ্লাইট।

১৭ মে সৌরভের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। পরে ভিডিও কলে তাকে ‘সামরিক পরিবেশে’ দেখা গেছে বলে তার চাচির ভাষ্য।

লিমা আক্তার বলেন, সৌরভের মাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়নি, কারণ তিনি অসুস্থ। সৌরভের বাবা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। তাদের একমাত্র দাবি, সন্তানকে যেন নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

“একই সঙ্গে সবাইকে এ ধরনের ঘটনায় সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে এই অভিজ্ঞতা থেকে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।”

এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

পুলিশ যা বলছে

রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলছেন, মঙ্গলবার জামিল শেখের করা অভিযোগটি তারা নথিভুক্ত করেছেন, এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তারা এজেন্সির মাধ্যমে গেলেও বিএমইটির (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) মাধ্যমে বৈধ শ্রমিক হিসেবেই গেছেন। যাওয়ার পরে সেখানে কী হয়েছ, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তাই আগে বিএমইটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাতে হবে।

“অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে বিএমইটিতে অভিযোগ দায়ের করে সেই কপি আমাদের কাছে আনলে আমরা মামলা নেব।”

ওসি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা শুধু অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত করে রেখেছি। এখনো কোনো মামলা দায়ের করিনি, কারণ বিষয়টি মূলত বিএমইটির আওতাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএমইটি কাজ করবে।”

এছাড়া ওই তিন যুবককে উদ্ধার করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে জানিয়ে ওসি বলেন, “যেহেতু ভুক্তভোগীরা বিপদে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেজন্য তাদেরকে আগে সেইফ করা প্রয়োজন। সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও সহায়তার প্রয়োজন হবে। আমরা পরিবারের লোকজনকে সেখানেও আবেদন করতে বলেছি।”

মামলা না নিলেও অভিযোগ পেয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন।

তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়ে সেই এজেন্সির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, এজেন্সির লোকজন পলাতক রয়েছেন।”

বিএমইটি যা বলছে

পুলিশ মামলা না নিয়ে বিষয়টি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দিকে ঠেললেও বিএমইটির কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা।

সরকারি এ দপ্তরের বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না। মামলার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। ধরেন আমাদের কাছে ভিসা যেটা দিছে, ভিসার সাথে একটা চুক্তিপত্র দিছে, আমরা তো এইটা দেখে দিয়ে দিছি (ছাড়পত্র)।

“এখন সে যদি ওই জায়গায় নিয়ে তাকে অন্য কিছুতে যুদ্ধ বা খারাপ কাজে… ফোর্সড লেবার যেটা করে, এইটা যদি হয়, তাইলে তো করা ঠিক না।”

তিনি বলেন, “এখন কথা হচ্ছে, এই মামলাটা কোন আইনে হবে? ধরেন এই যে যদি যুদ্ধে জড়িত করে থাকে, তাইলে মানব পাচার মামলাও হতে পারে।

“কিন্তু এমনিতে আমাদের কাছে আসলে, যেহেতু সে বৈধভাবে বিদেশ গেছে, আমরা এটা মানব পাচার বলব না। কিন্তু মানব পাচারের আইনে আবার এই ফোর্সড লেবার, যেটা নেওয়ার পরে, এইটা আবার মানব পাচারের ভিতরে পড়ে।

তিনি বলেন, “মামলা নেবে না–এটা তো যৌক্তিক কোন বিষয় হতে পারে না।”

এই কর্মকর্তা বলেন, “এখানে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে, এটা ঠিক আছে। ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তারপরে কী করছে? বিদেশে কী করছে সেটা আসলে এখানে বসে তদারকি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, পুলিশেরও সম্ভব না। কারোরই সম্ভব না।”

তিনি বলেন, “যে লোকটা নিয়েছে সেও আমাদের দেশের লোক, যে গেছে সেও আমাদের দেশের লোক। যদি তার ট্রেন্ডই এই ধরনের থাকে যে, এই ধরনের জায়গায় পাঠিয়ে ভুয়া চুক্তিতে আমাদের লোকেদেরকে বিপদে ফেলে, তাইলে মানবপাচার (মামলা) দেওয়াই ভালো।

“আবার আপনি খুব ভালো নিয়তেই পাঠাইলেন, নেওয়ার পর যে এমপ্লয়ার, সে যদি তাকে ওই কাজে জোরপূর্বক নিয়োগ দেয়, তাইলে আমাদের দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির বা সরকারের কোনো কিছু করার আছে কিনা এইটাও একটু ভাবনার বিষয়।”

এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, সেখানে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এক ধরনের কাজের কথা বলে অন্য কাজে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

সরকারিভাবেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে, ইনশাল্লাহ। দুদিনের মধ্যে অন্তত ৮ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন ওই ব্যাচে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দূতাবাস চেষ্টা করছে তাদের উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করে দিতে।”

যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তিন ক্যাটাগরিতে ১৩৫ প্রবাসী পাবেন সিআইপি মর্যাদা, আবেদন শুরু

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত করবে সরকার।   এ লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী যোগ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ভবন থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমেও যোগ্য প্রবাসীদের আবেদন করার বিষয়ে জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিআইপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।   শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগকারী: প্রথম ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের শিল্প খাতে সরাসরি বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ জনকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতে মূলধন হিসেবে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নেওয়া হবে।   বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী: দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সর্বোচ্চ ৭৫ জন প্রবাসী সিআইপি মর্যাদার জন্য নির্বাচিত হবেন। এ ক্যাটাগরির জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর শর্ত রয়েছে।   বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদান: তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এ ক্যাটাগরিতে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত: সিআইপি নির্বাচনের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল কিংবা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রতিবছর সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।   গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৩২৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও দেশটি থেকে আরও ১০ জন প্রবাসী সিআইপি হয়েছেন। এবার সিআইপি নির্বাচনের পরিধি বাড়িয়ে তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জনকে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে ঢাকা ফ্রুতাসের দুই দশক পূর্তি, লেকের পাড়ে জমকালো মিলনমেলা

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে জকিগঞ্জ প্রবাসীদের মিলনমেলা, আনন্দ-উৎসবে মুখর রুইদেরাতা

রমজান আলী

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় প্রবাসী নিহত, দেশে ফেরা হলো না রমজান আলীর

শেফ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী।
ফ্রান্সে বিশ্বসেরা শেফদের সঙ্গে লড়াইয়ে বাংলাদেশের আলী চৌধুরী

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ প্রাইভেট শেফ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করতে যাচ্ছেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও শেফ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী।   এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত শীর্ষ শেফদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।   প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্যারিসের কনকর্ড এলাকায় আন্তর্জাতিক গ্যাস্ট্রোনমি উৎসবের অংশ হিসেবে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মহাদেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে জায়গা পেয়েছেন ১৮ জন শেফ।   প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর লড়াই অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ওই সময় তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে আন্তর্জাতিক বিচারকদের সামনে নিজের রান্নার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উপস্থাপন তুলে ধরবেন।   চূড়ান্ত পর্যায়ের ১৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধি। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্স, ক্যামেরুন, মেক্সিকো, বুলগেরিয়া, টোগো, জার্মানি, ব্রাজিল ও বেলজিয়ামের প্রতিনিধিরা।   বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব প্রাইভেট শেফ ওয়ার্ল্ড কাপ শুধু রান্নার প্রতিযোগিতা নয়, বরং ব্যক্তিগত শেফ পেশার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। অন্য প্রতিযোগিতার মতো একজন প্রাইভেট শেফের শুধু খাবার প্রস্তুত করলেই হয় না; তাঁকে খাবারের পরিকল্পনা, উপকরণ নির্বাচন, পরিবেশন, অতিথি আপ্যায়ন এবং সম্পূর্ণ খাবারের অভিজ্ঞতা তৈরির দায়িত্বও পালন করতে হয়।   এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাইভেট শেফরা নিজেদের দক্ষতা, সংস্কৃতি ও রান্নার ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পান।   কঠিন বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলী চৌধুরী ২০২৬ সালের আসরের জন্য আয়োজকদের কাছে ২৪০টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন আলী চৌধুরী। বিশ্বের অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রাইভেট শেফদের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ফ্রান্সে দীর্ঘদিনের রন্ধনশিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা আলী চৌধুরী এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন।   প্রতিযোগিতার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিচারক বোর্ড। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর শেফ রোমাঁ বেসেরোঁ, আন্তর্জাতিক গ্যাস্ট্রোনমি ভিলেজের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান-লর দেসকম্বিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ খাদ্য বিশেষজ্ঞরা।   ১১ সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে আলী চৌধুরী শুধু একজন প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের একজন প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।   বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার প্যারিসের আন্তর্জাতিক রান্না প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে আলী চৌধুরীর এই অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এখন সবার দৃষ্টি ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যখন প্যারিসে শুরু হবে বাংলাদেশের প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। প্রাইভেট শেফ ওয়ার্ল্ড কাপের এই মঞ্চে আলী চৌধুরীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্ব দরবারে নতুন পরিচিতি এনে দিতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এনআইডি-পাসপোর্টে তথ্যের অমিল, দেশে ফিরে বাড়ছে প্রবাসীদের ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধের নির্দেশ, জরিমানাও হয়েছিল—তবু গ্যারেজ চলছিল, আগুনে প্রাণ গেল প্রবাসী ইউসুফের

ছবি: সংগৃহীত

পাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের পর মালয়েশিয়ায় উদ্ধার দুই বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
ই-পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুখবর দিলেন রাষ্ট্রদূত

সৌদিআরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রবাসী সাংবাদিকদের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ই-পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, সৌদিআরবে প্রায় দেড় মাস ধরে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ই-পাসপোর্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে সাময়িকভাবে প্রবাসীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রমও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের টিম প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করছে। এর ফলে অচিরেই প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোও অচিরেই সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলোচনা সভায় রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও চ্যানেলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন

ছবি: সংগৃহীত

‘চালককে শনাক্তে তদন্ত চলছে’: মালয়েশিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশির মৃত্যু

0 Comments