ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তার সঙ্গে শিগগিরই টেলিফোনে আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার তিনি এই তথ্য জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলবো। সংঘাত নিরসনে ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্স একটি ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে। আমরা সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, কূটনৈতিক আলোচনায় প্রত্যাবর্তন এবং অঞ্চলের সব দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে কোনও ধরনের টোল বা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা না রাখা। ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার বিরোধিতা করে ম্যাক্রোঁ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ বা তৃতীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও একতরফা উত্তেজনা তৈরি করা একটি বড় ভুল। এটি কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেয় এবং পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়। সূত্র: এপি
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত। ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি। বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোঁড়া একাধিক ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে ফুজিরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি স্থাপনায় কোনো ‘পরিকল্পিত’ হামলা চালানো হয়নি। বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তিনি ওই অঞ্চলে ‘মার্কিন সামরিক দুঃসাহসিকতাকে’ দায়ী করেছেন। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মার্কিন নৌ-জাহাজের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। পুরো অঞ্চল যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, তখন কিছুটা নমনীয় সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই’। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, গতরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামোতে চালানো মিসাইল ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গতকাল সোমবার একাধিক ইরানি মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আরব আমিরাত। এসব হামলায় দেশটির একটি তেল বন্দরও আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (০৫) মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরীফ বলেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সেটির প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি এছাড়া পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের একটি অংশ পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের নিউজডে প্রোগ্রামে বলেন, উভয় পক্ষের উচিত উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়িয়ে চলা এবং কূটনীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা। পাকিস্তান এখনো তথ্য আদান-প্রদান করছে এবং আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে জারদারি বলেন, তবে গতকালের হামলার মতো ঘটনাগুলো শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিপর্যয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ইস্যুর ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, কৌশলগত প্রচার এবং ভোটের সমীকরণের পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে টিএমসির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক ইস্যুতে টিএমসির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিরোধী দল বিজেপি এসব ইস্যুকে সামনে এনে জোরালো প্রচার চালায়, যা ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে বিজেপি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে তারা কার্যকর প্রচারণা চালায়। ভোট বিভাজনও বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিরোধী ভোট একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ায় টিএমসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিজেপি তার সুবিধা পায়। এছাড়া জাতীয় ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে অনেক ভোটার জাতীয় দলকে সমর্থন দেয়। ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখতে টিএমসি চেষ্টা করলেও বিজেপি বিপরীত মেরুকরণ তৈরি করে ভোট টানতে সক্ষম হয়। সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিপুল হার এবং বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল, সংগঠন, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটের গাণিতিক সমীকরণের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই সমীকরণ আবারও বদলে যেতে পারে।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই। ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”। ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ
হরমুজ প্রণালির যে অংশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা। তবে ইরানের দাবি করা এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নেই। স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বড় অংশই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কিছু সূত্রের মতে, ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ধ্বংস হয়েছে যে সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে, তবে কিছু স্থাপনা কৌশলগত কারণে মেরামতের পরিকল্পনাও চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা যায়, ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন। একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান এমন জায়গাগুলোতেই বেশি আঘাত করেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা যা এই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সীমিত সম্পদ। এদিকে মার্কিন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, প্রকৃত খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে না বলে তিনি হতাশ। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর প্রথমবারের মতো ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে দলের সদর দফতর থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রথম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের আভাস তুলে ধরেন। খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ বাংলা। বিজয় ভাষণে মোদি বলেন, বাংলার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে—যেখানে উন্নয়ন, আস্থা ও নতুন উদ্যম একসঙ্গে পথ চলবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বিজেপি দিনরাত কাজ করবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য সময় নিয়েও ইঙ্গিত দেন মোদি। তিনি বলেন, ২৫শে বৈশাখ তথা ৯ মে—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনটিকে সামনে রেখে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। এই দিনকে তিনি ‘নতুন সূচনার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, আজকের এই ফলাফলে তাঁর আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলায় এখন ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং রাজ্য উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দিশায় এগোতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হার মেনে নেয়নি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে এই ফল এসেছে। প্রথমত, নারী ভোটব্যাংকে ভাঙন দেখা গেছে। আগে নারী ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবারে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার প্রভাব ভোটে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআরের কারণে অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এতে তৃণমূল তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, আর এর সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দুর্নীতি, অপশাসন ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগ ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। চতুর্থত, ধর্মীয় ভোটের মেরুকরণও একটি বড় কারণ। মুসলিম ভোট আগের মতো থাকলেও হিন্দু ভোটের বড় অংশ একদিকে চলে যাওয়ায় তৃণমূলের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। পঞ্চমত, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকায় শাসক দল হিসেবে তৃণমূল বাড়তি সুবিধা পায়নি। ফলে ভোট অনেকটা নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (৪ মে) বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে এসব ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই হামলার জেরে ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানায়, একটি ড্রোন আঘাত হানার পরই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা অঞ্চলটিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভবানিপুর বিধানসভা আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করার পর নিজের জয়কে ‘হিন্দুত্ববাদের জয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, মুসলিম ভোটাররা মূলত মমতার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মুসলিম ভোটারদের সমর্থন একচেটিয়াভাবে মমতা ব্যানার্জির দিকে গেছে। তবুও তিনি ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। এই ফলাফলকে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার কারণেই তার এই জয় সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, এই ফলাফল কেবল একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং একটি আদর্শিক বিজয়ও। এছাড়া শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে তার এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি জোরালোভাবে লড়াই করেছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নাম। দলটি তাকে নিজেদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মনে করে। কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামও তার নামে। এসপি মুখার্জি রোড। এই সড়কটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেমন কালীঘাট ও ভবানীপুরের সঙ্গে যুক্ত। আবার এই এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও নির্বাচনী এলাকা আছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখার্জির ছেলে। তিনি আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯২৯ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। পরে হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত হন। স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৫০ সালে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে বিজেপির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিজেপি মনে করে, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ থেকেই তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। তাই পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দলটি বারবার তার নাম উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ‘বহিরাগত’ তকমার জবাব দিতে। ২০১৬ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান শুরু হয়। সে বছর দলটি মাত্র তিনটি আসন পেলেও পরবর্তীতে দ্রুত শক্তি বাড়ায়। ২০২১ সালে তারা ৭৭টি আসন পায়। আর এবারের নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার করেছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি
সতর্ক উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) এ ঘটনা ঘটে। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছে ছিল। তখন এটিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়। বার্তাসংস্থাটি আরও বলেছে, জাস্ক দ্বীপের কাছ দিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে। তবে যুদ্ধজাহাজে ইরানিদের হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেছেন, তাদের কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ইরান এ হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ আটকে আছে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে আসবেন তারা। এরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা দিয়ে জানায়, যদি হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ করে তাহলে সেটিতে হামলা চালানো হবে। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে শুরু থেকেই এটি ভঙ্গুর ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এছাড়া আরব সাগর থেকে তাদের ট্যাংকার জাহাজও জব্দ করে। যুদ্ধ বিরতির পর গত ১২ এপ্রিল দুই দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু তারা সেখান থেকে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সূত্র: ফার্স নিউজ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা চলছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯২টি আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৯৪টি আসনে এগিয়ে আছে। দুই দলের মধ্যে আসনের ব্যবধান প্রায় ১০০। এমন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খেলা শেষ’ লেখা বার্তা দিয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়েছিলেন। যা পরবর্তীতে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এরপর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও এ স্লোগান একাধিকবার ব্যবহার করেছেন। তাদের সেই স্লোগানের জবাবে আজ বিজেপি ‘খেলা শেষ’ বলে একটি বার্তা (বিজয়ের) দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিছিয়ে পড়ার পর যে বার্তা দিয়েছেন মমতা নির্বাচনে পিছিয়ে পড়ার পর কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছেন, দয়া করে কোনও (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান। আমি গতকাল থেকে বলছি, ওদেরগুলো (এগিয়ে থাকা আসন) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় গণনা বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনও মিলই নেই। মমতা আরও বলেন, “কেন্দ্র জোর করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূলের উপর অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে। জোর করে দখল করছে। এসআইআরের নামে ভোট লুট করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মনখারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড মাত্র গণনা হলো। ১৮ থেকে ১৯ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ (দেখুন এবং অপেক্ষা করুন)। আপনারা সকলে জিতবেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব। যোগ করেন মমতা।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম মানেই তৃণমূলের ভোটব্যাংক। এবার এই ধারণায় চিড় ধরেছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ভোট ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশেষ করে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি এই ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকেছে। অন্যদিকে বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এবারের নির্বাচনে সেই প্রভাব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব-সব মিলিয়ে ভোটের এই ধারা পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু এলাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে দেশজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ। কয়েক ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সোমবার (৪ মে) শুরু হবে গণনা। তবে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে বিশ্লেষক মহলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গ জয় শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং মর্যাদার লড়াই। দলটি সর্বশক্তি দিয়ে এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কিছু বুথফেরত জরিপে বিজেপির সম্ভাব্য জয়ের আভাস দেওয়া হলেও অতীতে এমন পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে—২০২১ সালে যেমন টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপি এখনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে আসামে তাদের অবস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গই এখন প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং স্থানীয় নেতাদের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের দাবি জোরালো হওয়ার কথা। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দুর্বলতার কারণে সেই জায়গাটি ফাঁকা পড়ে আছে। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রভাব কমে যাওয়ায় এই শূন্যতায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। তবে সমালোচকদের মতে, বিজেপির উত্থান পুরোপুরি বিকল্প হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক শূন্যতার ফল। নির্বাচন ঘিরে বিজেপির প্রচারণা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দলটি ধর্মীয় বিভাজন ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সামাজিক সূচকে কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের বিকল্প হিসেবে বিজেপি কতটা গ্রহণযোগ্য? নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক বিকল্পের প্রয়োজন রয়েছে? এখন সব নজর ভোটের ফলাফলের দিকে। জনগণ কোন পথ বেছে নেয়—তা নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
ইরান যুদ্ধ শুরু করার সময় দ্রুত ও নিশ্চিত জয়ের কথা বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দুই মাস পর এসে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ থেমে থাকলেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বরং এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি করেছে, যেখানে প্রকৃতপক্ষে কেউই বিজয়ী নয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ইরান ও লেবাননের জনগণ। ইরানে হাজারো হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের দমন-পীড়নও বেড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও। ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাতার, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণও এই যুদ্ধের চাপ অনুভব করছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে, ফলে দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু পক্ষ আংশিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যেমন চীন তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে, আর উচ্চ তেলের দামের কারণে তেল কোম্পানিগুলো বড় মুনাফা করছে। রাশিয়াও জ্বালানি রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত আয় করছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এবং অস্ত্র শিল্পও কিছুটা লাভবান হচ্ছে। তবে রাজনৈতিকভাবে এখনো অনিশ্চয়তায় আছেন ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যুদ্ধের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি, আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। তথ্যসূত্র : সিএনএন
ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির মিনাব সিটিতে ২৪ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রথমে পাঁচ শিশু নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হামলায় বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আর অন্তত ৬০জন আহত হয়েছে। এদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত ৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে প্রাথমিক সামরিক মূল্যায়নে জানা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিলেও কিছু খোলা এলাকায় আঘাত হেনেছে। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ এবং প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো) সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক এলাকায় পড়ায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে বলে জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার রয়টার্সকে এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানে আজ শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইসরায়েল ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছে। প্রথম দফার হামলাতেই খামেনি টার্গেট করা হয়। জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এরপরই সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে দেখা দেয়। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে এবং সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।