আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গতি: সুইজারল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে। এ আলোচনায় অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দেশটিতে সফর করছেন।   প্রথমে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর স্থগিত করা হয়। ফলে আলোচনার নেতৃত্বে থাকছেন উইটকফ।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, উইটকফ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে গেছেন। এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার খবর আলোচনার পরিবেশ কিছুটা সহজ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পাল্টা সহিংসতার কারণে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় প্রাথমিক বাধা কিছুটা দূর হয়েছে।   এর আগে লেবাননে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।   পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চাপ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও কিছু এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত বুধবার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়, যার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে মুখোমুখি ট্রেন দুর্ঘটনা: চালক নিহত, আহত অন্তত ৮৯

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।   শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইস্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, ২২ জন গুরুতর আহত এবং ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।   রেল ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন দুটি দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে বেডফোর্ডের উপকণ্ঠে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।   দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে থমকে গেল আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা হঠাৎ বাদ দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না।’ তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধিদল রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক নামের একটি পার্বত্য অবকাশকেন্দ্রে এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এখন আলোচনা যে হচ্ছে না, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।   এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশ্য গত বুধবার ১৪ দফার একটি প্রাথমিক চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর পর ইরান জানিয়েছিল, তারা কারিগরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।   তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের বৃহস্পতিবারের ঘোষণার (সফর স্থগিত) আগেই ইরান শর্ত দিয়েছিল যে আলোচনার আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের ওই অবকাশ কেন্দ্রে যাবে কি না, সে বিষয়েও আগে থেকে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে চুক্তিতে সই করায় এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজার–ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।   ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত এই শান্তি আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল নিজেদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। লেবাননে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের এ অবস্থানের কারণেও চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও এ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এ যুদ্ধ পছন্দ করছিলেন না। তাই কংগ্রেস সদস্যদের আশঙ্কা, যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন।   নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি শুধু ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্টো দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সমমূল্যের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশা’ থেকে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগামী দিনের আলোচনা খুব একটা সহজ হবে না। অথচ এ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরু করার পেছনে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অজুহাত।   এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমেরিকান পক্ষ যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি করে, তবে আমরা তা মেনে নেব না।’   চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ৬০ দিন সময় পাবে। তবে দুই পক্ষ সম্মত হলে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে। এ ছাড়া ইরানের জন্য তিন হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি নিয়েও চেষ্টা চালাবে।   এদিকে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুদ্ধের খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিল মেটাতে তাদের আরও আট হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন।   প্রায় চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন ট্রাম্প বলেছিলেন যে তাঁর লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা, যেন তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এ ছাড়া তিনি প্রতিবেশীদের ওপর তেহরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা বন্ধ করতে, এ অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন দেওয়া ঠেকাতে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন।   তবে ট্রাম্প যখন এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন এর কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। চুক্তিতে ইরান শুধু কয়েক দশক ধরে চলে আসা তাদের পুরোনো দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক প্রেসিডেন্ট ইরানের এই দাবিকে সব সময়ই সন্দেহ করে এসেছেন।   চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজস্ব গবেষণাগারেই ধ্বংস করতে এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের নিয়মিত পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে ইউরেনিয়ামের এ মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।   অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এ আলোচনা থেকে এখনো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি বেরিয়ে আসতে পারে। ২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল এবং ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যা বাতিল করেছিলেন, নতুন চুক্তিটিকে তার চেয়েও উন্নত করাই মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য।   কিন্তু সমালোচকদের মতে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তারা একটি পরাশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে পেরেছে।   ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের অপর পাড়ে থাকা প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে। যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখন তারা চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নতুন একধরনের সেবা মাশুল (সার্ভিস ফি) আদায়ের পরিকল্পনা করছে। তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনার সময়ে এ মাশুল নেওয়া হবে না।   ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।   লেবাননে হামলা চালিয়ে যেতে অনড় ইসরায়েল লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ আজ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।   এ হামলার পর ট্রাম্প তাঁর মিত্র ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে কত দূর বাধ্য করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অথচ ট্রাম্প নিজে এ যুদ্ধ (ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাত) বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসান’–এর কথা বলা হলেও ইসরায়েল জানিয়েছে যে সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। উল্টো তারা একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে তাদের দখলকৃত অঞ্চলের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই সমালোচনা শুরু করেছেন। ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল একই দিনে বিকাল ৪টা থেকে।   যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনীতিক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল লেবাননে সংঘাত কমিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।   তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা ও ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   এক গালফ কূটনীতিক এএফপিকে জানান, দুই পক্ষ শত্রুতা বন্ধে সম্মত হয়েছে, তবে এটি কঠোরভাবে মেনে চলা না হলে পরিস্থিতি আবারও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে তারা ধারণা করছে।   হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যদি চুক্তি মানে, তবে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ হামলা না করলে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।   তবে বাস্তবে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ লেবাননের মানুষ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।   লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট বলেন, এটিকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি বলা কঠিন। প্রতিবারই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে নতুন করে হামলা শুরু হয়।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, লেবানন-ইসরাইল আলোচনা আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যে কোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।   জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের কোনোকিছু অবশিষ্ট নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি কথা বলেন।    পোস্টে চুক্তির পক্ষে শুক্রবার ট্রাম্প পুনরায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এর মাত্র একদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত একটি আলোচনা সফর বাতিল করেছেন। এ সফরে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা ছিল।   চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পরই এই ভ্যান্সের সফর বিলম্বের কারণে এটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরমধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এই কূটনৈতিক সাফল্যকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।    শুক্রবার ট্রুথ স্যোশালে পোস্টে ট্রাম্প এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের হাত শক্তিশালী করার দাবি করেছেন। ডেমোক্র্যাট এবং হাতেগোনা কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করছে এমন দাবি সঠিক নয়।   ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ ইরানকে সংকুচিত করে ফেলেছে! তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তিনি বলেন, ডেমোক্রেটরা বলছে ইরান নাকি চার মাস আগের চেয়ে এখন ভালো অবস্থানে আছে। তাদের এমন অবস্থা কল্পনা করা যায়! মানুষ কতটা বোকা হতে পারে?   আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরান আলোচনায় বসতে মরিয়ে হয়ে উঠেছিল। তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।     তিনি বলেন, ওরা (ইরান) শেষ! আমরা তাদের সঙ্গে এই ৬০ দিন ধরে খেলব। তারা কোনো টাকাই পাবে না, এমনকি দশ পয়সাও না।   সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের আলোচনা মেয়াদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা এই ৬০ দিন দেখব। চুক্তিতে এই সময়ের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরান পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এসব বিষয় আলোচনার মধ্যে দিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে আসবে উভয় পক্ষ।    সূত্র: আল জাজিরা 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলা

প্রতিবেশী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চালানো এই আকস্মিক হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং সীমান্ত জুড়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।   আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই বিমান হামলা চালানো হয়। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআইএল-খোরসান (আইএসআইএস-কে) এর ঘাঁটি ছিল।    আফগানদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় এই ঘাঁটিগুলো থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হামলায় আইএসআইএস-কে-এর শীর্ষ নেতাদের একটি আস্তানাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।   তবে আফগানিস্তানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে একে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দায়েশ (আইএসআইএল) সহ প্রায় দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আসলে আফগান তালেবান সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   আফগানিস্তান ঠিক কী ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, তা কাবুল স্পষ্ট করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের কাছে বড় কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও অন্তত ছয়টি হালকা বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু সামরিক ড্রোন রয়েছে, যা এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।   ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কাবুল তাদের দেশের ভেতরে হামলা চালানো নিষিদ্ধ টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তা কার্যত ভেস্তে যায়।   জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মাত্র গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১টি শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল, যার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা আর কোনো হুমকি বরদাশত করবে না এবং যেকোনো হুমকির উৎস নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করবে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।   ওই কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা।   ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ইরানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন।   আজ দিনের শুরুতে গোলাগুলির ঘটনার পর আমরা যতটুকু জানি, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল।   গত কয়েক মাসের দফায় দফায় আলোচনার মধ্যে দিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।   চুক্তি সইয়ের পর একই দিন দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরুর কথা ছিল। এজন্য লুসার্নে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের। কিন্তু আগের দিন রাতে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার তথ্য দেয় হোয়াইট হাউজ।   একই রাতে ইরানের পক্ষ থেকে যেসব বার্তা আসে, তাতেও আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে।   স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণ কোনো পক্ষের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে অনেকের ধারণা, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা শান্তি আলোচনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে থাকতে পারে।   কারণ তেহরান-ওয়াশিংটনের সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়? মেলোনি বললেন ‘গল্প ফেঁদেছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে যে দাবি উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি বা ইতালি কারো কাছে হাত পাতেন না বা ভিক্ষা করেন না।   ছবি তোলার ‘অনুনয়’ বিষয়ক ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।   শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় উল্টো ট্রাম্পের নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।   ছবি তোলা বিষয়ক ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘হতবাক’ মেলোনি বলেন, “আমি জানি না মার্কিন প্রেসিডেন্ট বন্ধুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। শুধু এটাই বলতে পারি, অত্যন্ত দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোরতা দেখান না। ওসব দেশগুলোর নেতাদের প্রতি বরং তিনি অনেক বেশি নমনীয় বা আপসকামী।”   চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।   এর পরেই ট্রাম্প ফোনে ইতালির একটি টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, সম্মেলন চলাকালে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘আক্ষরিক অর্থেই’ মিনতি করেছিলেন। মেলোনির জন্য সে সময় তার ‘মায়া’ লাগছিল।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ইতালিজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের মন্তব্যে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে এই বাদানুবাদ প্রমাণ করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর থেকে গত কয়েক মাসে ইতালি ও মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে বড় ধরনের ‘ফাটল’ ধরেছে।   বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়েছে। মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে তার পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।   বিবিসি লিখেছে, সার্বিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।   মেলোনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। এর জেরে গত এপ্রিলে ইতালির একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সে সাহসী। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।”   ট্রাম্প যখন পরে পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।   এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা।   দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেনেটর ফিলিপ্পো সেনসিও বলেছেন, “ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ: লাভবান ইরান, উদ্বিগ্ন প্রতিদ্বন্দ্বীরা

  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি সই করেছেন।   সমর্থকদের কাছে এটি ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো কাছে এটি উদ্বেগের কারণ হয়েছে।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন ওই সমঝোতা চুক্তি সই করেন। এর মধ্য দিয়ে তিন মাসের ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটে।   উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়, যাকে সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত অর্থ অবমুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে।   ইরান বছরের পর বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখে থাকার পর, এই চুক্তি দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ও আঞ্চলিক আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এতে ইরান লাভবানই হচ্ছে।   তবে ইসরায়েল থেকে শুরু করে উপসাগরীয় দেশ এবং লেবাননের বিভিন্ন গোষ্ঠী, অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়াজুড়ে তেহরানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা   এই চুক্তিকে 'শতাব্দীর অভিশাপ' বলেই মনে করছে। কারণ, এর ফলে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হবে, আরও বৈধতা পাবে এবং দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।   ইরানকে একঘরে করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়ে উল্টো তেহরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হওয়ায় ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি দেখছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও পশ্চিম এশিয়ায় এই নতুন সমীকরণ নিয়ে শঙ্কিত। তারা মনে করছে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছাড় আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।   ১৪ দফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য, একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনার সুযোগ তৈরি করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমাধান খোঁজা।   লেবানিজ রাজনৈতিক ভাষ্যকার সারকিস নাউম বলেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের জন্য এটি একটি বড় পারষ্পরিক চুক্তি- শতাব্দীর সেরা চুক্তি, যেখান থেকে আর ফেরার উপায় নেই।   তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকির চেয়ে সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, ইরান নিষেধাজ্ঞা কবলিত হয়ে আর কোনও অর্থনৈতিক ধকল সহ্য করার অবস্থায় নেই আর ট্রাম্পেরও নতুন কোনও যুদ্ধ শুরু করার তাড়না নেই।   ইসরায়েলের জন্য ধাক্কা ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ সমঝোতা চুক্তিটিকে একটি কৌশলগত 'মহাবিপর্যয়' বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, শুরুতে ইরানকে দুর্বল করা বা এমনকি দেশটির শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের লক্ষ্য ‍নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই অভিযানই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে মোড় নিয়েছে।   ইসরায়েলের ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ এর জ্যেষ্ঠ গবেষক সিট্রিনোভিচ বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান সরকারকে উৎখাত করতে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র উল্টো সেই ইরান সরকারকেই বৈধতা দিচ্ছে এবং শক্তিশালী করছে যাদের পতন আমরা চেয়েছিলাম।   তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধান দাবিগুলোর কোনোটিই চুক্তিতে পূরণ হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ হয়নি। এমনকি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলারও সুস্পষ্ট কোনও নির্দেশনা এতে রাখা হয়নি।   তাছাড়া, ইরানের দাবির মুখে লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানও এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাঠামোর কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।   এর প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক এবং কৌশলগত উভয় দিক থেকেই। এই চুক্তি ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রচারকে দুর্বল করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর নেতানিয়াহুর প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও এতে স্পষ্ট হয়েছে।   ইসরায়েলি বিশ্লেষক সিট্রিনোভিজের মতে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এই চুক্তি ইরানের অবস্থান আরও শক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইসরায়েলকে আরও কোণঠাসা হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি বলেন, সবকিছুই খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং এটি কেবল আরও খারাপের দিকেই যাবে।   চুক্তিটি টিকে থাকলে ইরানই সবচেয়ে সুবিধাজনক ফল পাবে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর তা হল যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, পুনরায় তেল রপ্তানির সুযোগ এবং পুনর্গঠনের জন্য বিশাল তহবিল প্রাপ্তির সম্ভাবনা। পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাও এক ধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি পাচ্ছে।   এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অভিন্ন যেসব লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে- সেগুলো হল: ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা বা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব কমানো। ইরানের অবস্থান রূপান্তরের বদলে এই চুক্তি মূলত তাদেরকে আগের অবস্থানেই ফিরিয়ে আনছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এবং প্রথমেই নিহত হয় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।   পরে এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে ইরান ও লেবাননসহ সব মিলিয়ে ৭,০০০’এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।   লেবাননে ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী   লেবাননের ক্ষেত্রে এই চুক্তি ক্ষমতার ভারসাম্য ইরানের দিকেই ঠেলে দিয়েছে। চুক্তিটি ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর ভূমিকা যেমন আরও শক্তিশালী করছে, তেমনি বৈরুত-ইসরায়েল দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে একপাশে সরিয়ে লেবাননকে একটি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কর্মকাঠামোভুক্ত করছে।   এই চুক্তি লেবাননকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির আওতায় এনেছে, সেখানে সব পক্ষ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের মতো লেবাননের অভ্যন্তরীন বিষয়ে ইরান বৈরুতের হয়ে দরকষাকষি করতে পারে না।   তবে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এর উল্টো যুক্তি দিয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মূলত লেবাননের অবস্থানকেই শক্তিশালী করেছে, কারণ, বিষয়টি এখন অনেক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের নিজ নিজ মিত্র হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলকে চাপ প্রয়োগ করে একটি সমাধান এনে দিতে পারে।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। ইরানের হামলার কারণে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। ইরান যুদ্ধে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তের সময় তারা ছিল দর্শক। আর এখন এর নেতিবাচক প্রভাব তাদেরকেই বহন করতে হচ্ছে।   উপসাগরীয় সূত্রগুলো বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ইতোমধ্যেই তাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার ওপর তাদের আস্থা কমছে, অঞ্চলজুড়ে ইরানকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সংঘাতের বদলে সমঝোতার দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বাড়ছে।   তবে ওয়াশিংটনের পশ্চিম এশিয়া ইনস্টিটিউট- এর জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতানকা অবশ্য মনে করেন, বহু বছরের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর এই চুক্তি ‘সবচেয়ে কম খারাপ’ বা বাস্তবসম্মত সমাধান বয়ে এনেছে। তার মতে, বৃহত্তর যুদ্ধ হলে উপসাগরীয় অঞ্চল কয়েক দশকের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারত।   ভাতানকা মনে করেন, আসল পরীক্ষা এখনও সামনে আছে। যেমন: চুক্তির বাস্তবায়ন, অমীমাংসিত পারমাণবিক আলোচনা এবং এর ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে চুক্তির প্রকৃত সাফল্য। তিনি বলেন, “এটি অনেক বড় বিষয়, কিন্তু এখানেই সব শেষ নয়। এটি কেবল শুরু।   চুক্তির পথে বাধা হতে পারে ইসরায়েল   কিছু বিশ্লেষক ইসরায়েলকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির পথে প্রধান 'ওয়াইল্ড কার্ড' হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়া ভন্ডুল করা ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব না হলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ঝুঁকি এখনও আছে, বিশেষ করে লেবানন নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্র এখন লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েল- দুইপক্ষের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা বললেও ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থিরা এখনও গোটা লেবাননকে পুড়িয়ে দেওয়ারই দাবি জানাচ্ছেন।   ফলে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সমঝোতা চুক্তির টিকে থাকা নির্ভর করছে দুই পক্ষেরই কট্টরপন্থিদের রাশ টেনে ধরা এবং সংযম দেখানোর ওপর। কিন্তু এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে খুব কমই।   ওদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের পর ইসরায়েল আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই একঘরে হয়ে পড়েছে।   অন্য এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যা চেয়েছিল সেটিই পেয়েছে। আমরা হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের পরিত্যাগ করিনি, বরং তাদের জন্য আমরা আলোচনার টেবিল ছেড়ে উঠে যাওয়া এমনকি আবার যুদ্ধে ফিরতেও প্রস্তুত ছিলাম।   সূত্র: রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘ট্রাম্পের আগ্রহেই চুক্তি’, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে খামেনির মন্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়; বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবল আগ্রহ ও চাপের কারণেই সম্পন্ন হয়েছে।   বুধবার প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, তার পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করেছেন।”   তবে খামেনি স্বীকার করেন যে তিনি শুরু থেকেই এই চুক্তির সমর্থক ছিলেন না। তিনি জানান, নীতিগতভাবে তাঁর কিছু আপত্তি ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইরানের জনগণের অধিকার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার করায় তিনি শেষ পর্যন্ত চুক্তির অনুমোদন দেন।   দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সংঘাত এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এই সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মে মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠায়। পরে কয়েক সপ্তাহের আলোচনা ও পর্যালোচনার পর দুই দেশ চুক্তিতে সম্মত হয়।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে তেহরানে নিজ দপ্তরে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। পরে দুই দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করা হয়।   সমঝোতা স্মারকের আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ সময় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। বিনিময়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হবে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে শুরু থেকেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, সমঝোতার শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথও সুগম করতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে এখনো বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।   সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল, জানালেন ইসহাক দার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুক্রবার (১৯ জুন) নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি উর্দু।   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামীকাল শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই গত বুধবার (১৭ জুন) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।   চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, দুই প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ডিজিটালভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত হতে যাওয়া আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। শেহবাজ শরিফ তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে অনুষ্ঠান সম্পর্কিত অংশটি মুছে ফেলার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হলো।   বুর্গেনস্টকে বৈঠকের প্রস্তুতি সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠান বাতিল হলেও শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। মূলত চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতেই দুই পক্ষ এই বৈঠকে বসবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নতুন সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো কাছে এটি উদ্বেগের কারণ।   বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তিন মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।   লেবাননের বিশ্লেষক সারকিস নাওমের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের জন্য এটি একটি বড় সমঝোতা, যার সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান আর অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত করতে পারবে না, আবার ট্রাম্পও নতুন যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন।   ইসরাইলের জন্য ধাক্কা ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিকে কৌশলগত ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যে অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা উৎখাত করা, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানকে আরও বৈধতা দিয়েছে।   সিট্রিনোভিচ বলেন, ইসরাইলের প্রধান দাবিগুলোর কোনোটিই এই চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, এমনকি পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলারও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়নি। এই চুক্তি ইরানকে আরও কৌশলগত সুযোগ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শক্তিশালী অবস্থানে ইরান বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরান যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, তেল রপ্তানি পুনরায় বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থায়নের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাও কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে লক্ষ্যগুলো ছিল—ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানো—তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকরা।   চুক্তির ফলে লেবাননেও ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হতে পারে এবং দেশটি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়ে ইরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না। তবে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ফলে লেবাননের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের মিত্রদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।   উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। তাদের আশঙ্কা, এটি অঞ্চলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে। উপসাগরীয় সূত্রগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আস্থা হারাতে পারে দেশগুলো এবং ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ আরও জোরালো করতে পারে।   তবে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতানকা মনে করেন, বহু বছরের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। তার মতে, বৃহত্তর যুদ্ধ হলে উপসাগরীয় অঞ্চল কয়েক দশকের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারত।   ‘বড় পরীক্ষা এখনও বাকি’ বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়ন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতার প্রকৃত সাফল্য। তাদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হতে পারে ইসরাইল। যদিও ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় এগোনো এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভণ্ডুল করার সম্ভাবনা কম, তবুও বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।   একজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধের পর ইসরাইল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের ত্যাগ না করেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের নৌযানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড)। লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো বাধা দিচ্ছে না। তবে অবরোধ তুলে নেয়া হলেও অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সংস্থাটির ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ‘সব দিক’ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।   সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটালভাবে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে কার্যকর হয় চুক্তিটি। সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবানন পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল না থাকলে আমেরিকাও টিকত না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না৷ গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হেরোডিয়াম ন্যাশনাল পার্কে আয়োজিত এক বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'মা'রিভ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল 'জুডিয়া এবং সামারিয়ায় ইসরায়েলি ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন'। উল্লেখ্য, 'জুডিয়া এবং সামারিয়া' হলো পশ্চিম তীরের জন্য ইসরায়েল কর্তৃক ব্যবহৃত বাইবেলীয় পরিভাষা।  সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে হাকাবি বলেন, আমার ভূমিকা কেবল ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়াও। ইসরায়েলি ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্যে হাকাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই দিনই করা একটি মন্তব্যের পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া জানান বলে মনে হচ্ছে। হাকাবি বলেন, এটি নিঃসন্দেহে আপনাদের ঐতিহ্য, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও ঐতিহ্য। ইসরায়েল ছাড়া, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া, আমেরিকা থাকবে না। এই ভূমিতে যা ঘটেছিল, তার কাছেই আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।  ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা হাকাবি এই মন্তব্য করেন ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের এক ফাঁকে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি : সংগৃহীত
চুক্তি লঙ্ঘন হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধ আরোপ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।   পিট হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চলমান আলোচনার সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকব।’   তিনি আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তি মেনে না চললে আমরা পুনরায় কঠোর ও কার্যকর অবরোধ আরোপ করার ক্ষমতা রাখি।’   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিবিড় নজরদারি চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সতর্কবার্তা ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হতে পারে।   তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
চীনের সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।   “পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে।  এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক।   ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি।   অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।   দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং। উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে। এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে। সূত্র : বার্ড মেরিটাইম, রেড্ডিট, ইন্ডিয়া টুডে এসএমডব্লিউ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা এখন ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি’: মোদি–মেলোনি

জি৭ সম্মেলনে আবারও আলোচনায় এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার ‘মেলোডি’ ট্রেন্ড।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জর্জিয়া মেলোনি নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” পরে তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, “আমরা তো এখন ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।”   এই মন্তব্যে দুই নেতার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও হালকা মেজাজের মুহূর্ত আবারও নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়।   ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ট্রেন্ড, যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।   এর আগে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মেলোনি মোদির সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার পর থেকেই এই ট্রেন্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে তাদের সাক্ষাৎ, সেলফি এবং ভিডিও ঘিরে অসংখ্য মিম ও রসাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়।   সম্প্রতি রোম সফরের সময় মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সমঝোতা স্মারক সই হলেই তেল বিক্রির সুযোগ পাবে ইরান: মার্কিন কর্মকর্তা

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে।   ওই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল বিক্রির পাশাপাশি ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমা খাতেও কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে, যাতে জ্বালানি বাণিজ্য সহজ হয়।   তবে তিনি জানান, এই সুবিধাগুলো শর্তসাপেক্ষ। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার মতো শর্ত মানতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।   নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ইরানের জন্য এটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ছাড় ভবিষ্যতে আবার ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের তেল মজুতের বড় অংশ ট্যাংকারে জমা রয়েছে, যার একটি অংশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে সহজেই বিক্রি করা সম্ভব।   এদিকে আরও একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানে বড় আকারের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি বহুজাতিক বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রকাশে বিলম্ব কেন, ব্যাখ্যা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনো প্রকাশ না করার পেছনে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন থাকায় নথিটি প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও এখনো এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নথিটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ইরান নয়, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত কয়েকটি দেশও ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশের পক্ষে মত দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও কাতার বিষয়টিতে সংযত অবস্থান গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তবে চুক্তির সব ধরনের গোপনীয়তার কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও মন্তব্য করেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মুসলিম বিশ্বের কিছু সংবেদনশীল বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   এদিকে, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য বিভিন্ন ধারা ও শর্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেনি।   জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়বস্তু শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।   অন্যদিকে, কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য ইসরাইলের করা অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেনি। ফলে সমঝোতার চূড়ান্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি তেল আবিব।   চুক্তিটি প্রকাশিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছে’—চাঞ্চল্যকর দাবি স্টিভেন স্পিলবার্গের

বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ দাবি করেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণীরা ইতোমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছে এবং হয়তো এখনও এখানে অবস্থান করছে। নতুন একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রচারণাকালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।   চলচ্চিত্রের পর্দায় ভিনগ্রহের প্রাণী ও মহাকাশভিত্তিক গল্প তুলে ধরার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত স্টিভেন স্পিলবার্গ এবার বাস্তব জীবনেও এলিয়েন প্রসঙ্গে নিজের বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করেছেন।   নতুন বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ডিসক্লোজার ডে’-এর প্রচারণার সময় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে এসেছে এবং এখনও এখানে থাকতে পারে।   এক সাক্ষাৎকারে স্পিলবার্গ বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, তারা এখানে এসেছে এবং এখনও এখানে রয়েছে। কে জানে, হয়তো তারা সবসময়ই এখানে ছিল।”   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশ্বাস কোনো একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা, তথ্যচিত্র, গবেষণা প্রতিবেদন এবং সরকারি শুনানিতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি এমন ধারণায় পৌঁছেছেন।   তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতির কোনো চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাননি। ফলে স্পিলবার্গের এই বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   তবে তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, অন্যরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া এমন দাবিকে গ্রহণ করতে নারাজ।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
চাইলেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পারে ইরান, দাবি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের  বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। সিএনএনের প্রতিবেদনে দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তেহরান এখন চাইলে যে কোনও সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে ইরান। শুক্রবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশার মধ্যেই এই মূল্যায়ন সামনে এলো।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। একই সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ পরবর্তী আলোচনার শর্ত হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরান দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পুরো নৌ চলাচল বন্ধ করে দিতে সক্ষম।   সিএনএন আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে ইরান। একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটি তেহরানের জন্য আরও একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন এক শীর্ষ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সমঝোতায় গ্রহণ করা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে ইরান এই চুক্তি থেকে কোনও সুবিধা পাবে না। তিনি সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর বিস্তারিত জানাননি। তবে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে তাদের অবরোধমূলক ব্যবস্থা কমাবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে ছাড় মিলবে এবং পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বর্তমান সংঘাতের অবসানে একমত হয়েছে বলে মনে হলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে গেলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে পারমাণবিক বিকল্প বিবেচনা করছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত প্রধান মিত্র হুথিদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকাকালে এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এদিকে সোমবার জি-৭ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে আংশিকভাবে খুলে গেছে এবং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করলে এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। ট্রাম্প বলেন, তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া কয়েকটি মাইন খুঁজে বের করার কাজ করছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার এটি পুরোপুরি খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের খুব বেশি সহায়তার প্রয়োজন হবে না। কারণ আমাদের এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে প্রণালিটি খোলা থাকবে এবং সেখানে কোনও টোল থাকবে না। এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ ছিল, তবে এটি টোলমুক্ত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরও ইরানকে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। সূত্র: উইয়ন নিউজ 

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

সেনা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন সেনাপ্রধান

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬