আন্তর্জাতিক

ছবি : সংগৃহীত
ইরান ইইউ সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করলো

ইরান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি ইইউ সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সম্প্রতি ইইউ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণার জবাবে প্রণীত আইনের ৭ নম্বর ধারার আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয়রা নিজেরাই নিজেদের পায়ে গুলি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ অনুসরণ করে তারা নিজেদের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   গত বৃহস্পতিবার ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, নিজের দেশের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা কোনো শাসনব্যবস্থার কর্মকাণ্ডের জবাব না দিয়ে রাখা যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যে, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘নিরীহ বিক্ষোভকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানা যায়নি। বিক্ষোভের চরম পর্যায়ে ৮ জানুয়ারি রাতে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করা হয়।   আইআরজিসি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনে পরিচালিত হয় এবং দেশটির প্রতিরক্ষা, বিদেশি অভিযান ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। জবাবে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে তারা ‘সমন্বিত ও কঠোর’ প্রতিক্রিয়া জানাবে। এছাড়া রোববার ও সোমবার ইরান হরমুজ প্রণালিতে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের তেল ক্রয় নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প

ভারতের তেল কেনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ভারত এখন ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি শুরু করবে।   রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত আসছে, আর তারা ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। আমরা ইতোমধ্যেই এই চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছেছি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করছে না। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেলের দাম কমে গেলে ভারত সেখান থেকে বড় আকারে তেল কিনতে শুরু করে।   ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। গত আগস্টে মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার অংশ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ভারতের রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।   এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। গত বছর ভারতকেও একই ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।   আলজাজিরা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো সে দেশের তেল সহজে বিক্রি করতে পারে এজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলা থেকে বিদ্যমান তেল সরবরাহ প্রবাহে সহায়তা করবে এবং শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত ৯৯ সন্ত্রাসী নিহত

 পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত রাত (৩০ জানুয়ারি) দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় ধরনের সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করেছে। ১২টি ভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত এই হামলাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করা হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় চলমান সামরিক অভিযানে মোট ৯৯ জন ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই সংঘর্ষে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী শহীদ হয়েছেন। হামলা কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সীমাবদ্ধ ছিল না। খুজদার এলাকায় তারা সাধারণ মানুষকেও লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালায়। সেখানে এক শ্রমিকের পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পলায়নরত জঙ্গিদের ধরতে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ‘ফিতনা-উল-হিন্দুস্তান’ নামক গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং ফেডারেল মন্ত্রী আবদুল আলীম খানও জওয়ানদের বীরত্বকে সম্মান জানিয়েছেন। তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেপে উঠলো ইরান

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে শনিবার একটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতাহতের কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। খবরটি জানানো হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণটি ঘটেছে মোয়াল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত আটতলা ভবনে। এতে ভবনের দুটি তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ও দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে ইরানের উদ্ধারকারী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে এই বিস্ফোরণ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন ধরে ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইরানের আশপাশে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই পরিস্থিতির মধ্যে বন্দর আব্বাসে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে ১৪০ টন স্বর্ণ, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়

সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার গভীরে অবস্থিত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত পারমাণবিক বাংকার এখন বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থাপনায় বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘টেদার হোল্ডিংস’ প্রতি সপ্তাহে গড়ে এক থেকে দুই টন স্বর্ণ জমা করছে। বর্তমানে টেদারের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণমজুত রয়েছে, যা অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে এবং বর্তমানে মোট ১৪০ টন স্বর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এই বিশাল বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। টেদারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে তাদের লভ্যাংশ স্বর্ণ কেনায় বিনিয়োগ করছে এবং অচিরেই তারা বিশ্বের অন্যতম বড় ‘স্বর্ণের কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত হবে। তিনি আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে অনেক শক্তিশালী দেশ স্বর্ণ-নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবে। টেদারের এই সিদ্ধান্ত মূলত সরকারি ঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারিত্ব এবং গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এতটাই কঠোর যে, তারা বিশ্ববিখ্যাত ব্যাংক এইচএসবিসির জ্যেষ্ঠ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দিয়েছে। তাদের বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার সুইজারল্যান্ডের একটি সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে স্টিলের পুরু দরজার আড়ালে সংরক্ষিত রয়েছে, যা আরদোইনো রসিকতার ছলে ‘জেমস বন্ডের আস্তানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে টেদারের এই ‘গোল্ডেন ফোর্ট্রেস’ বা স্বর্ণের দুর্গ বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভৌত স্বর্ণের সম্মিলিত এই উদ্যোগ আগামী দিনের বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে একটি নতুন মোড় সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে নির্বাচনের সময় জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭০ বেসামরিক

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সময় ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জেনেভায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলা নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের সময়কালে জান্তা বাহিনী অন্তত ৪০৮টি আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে ‘সামরিক বাহিনীর সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে জান্তা বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ২২ জানুয়ারি কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপে এক জনবহুল এলাকায় বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা জানাচ্ছেন, অনেক নাগরিক জীবননাশের ভয়ে বা জান্তার চাপের মুখে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী। সামরিক জান্তা সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী নির্বাচনকে শুরু থেকেই ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-কে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার মাধ্যমে জান্তা তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দলের প্রধান জেমস রোডহ্যাভার জানান, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১৭০-এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং জান্তার ভয়ে স্থানীয়রা তথ্য দিতে সাহস পাচ্ছে না, তাই হতাহতের পুরো চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের পরবর্তী দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সুত্র: বিবিসি

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার বদলে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে নতুন মার্কিন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের কাছে অনুরোধ করেছেন, রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করতে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানায়, যদি নয়াদিল্লি এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তাহলে ভারতের পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানো সম্ভব হবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর দুই দফায় ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এই শুল্কের প্রভাবে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন দীর্ঘদিন স্থবির অবস্থায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, যাতে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে পুতিনের অর্থায়নে বাঁধা সৃষ্টি হয়। নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায় গতিশীল করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরান প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়, শর্ত–হুমকি নয়

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী, তবে কোনো ধরনের হুমকির মুখে এ ধরনের আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইরান কেবল সমান মর্যাদা এবং চাপমুক্ত পরিবেশে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে, যা দেশটির কূটনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি অনুযায়ী। আরাগচি আরও জানান, ইরান সবসম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণে বিশ্বাসী, কিন্তু তা কখনোই হুমকি বা চাপের মাধ্যমে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই নীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর সমাধান হোক। হুমকি বা চাপের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়। বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থান সম্প্রতি বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার পর থেকে ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক জটিল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরাগচির বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে যে, তারা আলোচনায় প্রস্তুত, তবে কোনো রকম বাধ্যবাধকতা বা হুমকি মানবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি হ্রাস করতে এবং পারমাণবিক বিষয়সহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর জন্য উভয় পক্ষেরই চাপমুক্ত এবং সমঝোতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক উত্তপ্ত থাকার কারণগুলোর মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। আরাগচির মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান এখন কূটনৈতিক দ্বার উন্মুক্ত রাখছে, কিন্তু এটি হবে কেবলই সমান মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার ভিত্তিতে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলোতে ইরানের স্পষ্ট অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবে এগুলো সফল হওয়ার জন্য দুই পক্ষেরই কিছুটা নরম মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে পারমাণবিক প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বিষয়, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, এবং সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনায় আলোচিত হবে। এবারের বার্তায় আরাগচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা চাই কূটনৈতিক চেষ্টার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, এবং তা কখনোই হুমকি বা চাপের মাধ্যমে হবে না। এভাবেই ইরান একটি স্পষ্ট নীতি ঘোষণা করেছে যে, তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনের মুখে কোনো আলোচনা হবে না। বিশ্লেষকরা আশাবাদী যে, ইরানের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিকে একটি চাপমুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দৃষ্টি নিয়ে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির দাবি, ইমরান খান সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (CRVO) নামে একটি গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।   পিটিআইয়ের বরাতে প্রকাশিত মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ডান চোখের রেটিনার রক্তনালিতে ব্লকেজ তৈরি হয়েছে। এর ফলে রেটিনা থেকে রক্ত স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না এবং দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা না হলে চোখটি চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।   পিটিআইয়ের মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত অবনতিশীল সমস্যা। সামান্য বিলম্বও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।   তবে পিটিআই, ইমরান খানের আইনজীবী ও পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মাসের পর মাস চোখের বিশেষজ্ঞ দেখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ইমরান খানের বোন উজমা খানম জানিয়েছেন, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইকে দেখেননি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হচ্ছে না।   পিটিআইয়ের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের সরকারি চিকিৎসকরা আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে ইমরান খানকে পরীক্ষা করেন। তবে পরীক্ষার ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পাঞ্জাব সরকার জানিয়েছে, রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।   পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ মিনিটের চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কারাগারে ফেরত আনা হয়। তথ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ আছেন।   তবে পিটিআই ও দলটির নেতারা সরকারের এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, কারাগারের ভেতরে CRVO-এর মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। বিশেষায়িত অপারেশন থিয়েটার ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। কারাবন্দী পাঁচজন পিটিআই নেতা খোলা চিঠিতে দাবি জানিয়েছেন, ইমরান খানকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।   উল্লেখ্য, ইমরান খান ২০২২ সালে সংসদীয় অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ড দুর্নীতির মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা: সামরিক ক্ষমতায় কতটা এগিয়ে ইরান?

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির মধ্যেই যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় যুদ্ধ প্রস্তুতির তোড়জোড় এখনো লক্ষ্যণীয়।   একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নেতৃত্বে এক বিশাল নৌবহর ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের সামরিক ভাণ্ডারে এক হাজারটি নতুন ড্রোন যুক্ত করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংকট ২০২৬ সালে এসে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামরিক শক্তিতে বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও ইরানও সক্ষমতার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। সামরিক দিক থেকে ইরান বৈশ্বিক শীর্ষ ১৫ দেশের একটি।   বিশাল জনশক্তি ও বাহিনী ইরানের রয়েছে বিশাল সামরিক জনবল। দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত দুটি সমান্তরাল শাখায় বিভক্ত—সেনাবাহিনী এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস। দুই বাহিনী মিলে ইরানে প্রায় ছয় লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সেনা রয়েছে। সক্রিয় সেনা ছাড়াও রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা। এ ছাড়া ইরানের রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি আধা সামরিক সদস্য, যারা প্রয়োজনে যুদ্ধের ময়দানে নামতে সক্ষম।   প্রক্সি নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক সক্ষমতার আলোচনায় তাদের ‘প্রক্সি নেটওয়ার্ক’ বা আঞ্চলিক মিত্র বাহিনী সবচেয়ে বড় শক্তি। ইরান এই নেটওয়ার্ককে তাদের ‘প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর’ হিসেবে বিবেচনা করে। একে তারা নাম দিয়েছে ‘অক্ষশক্তি’।   লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত তারা নিজেদের ওপর আঘাত বিবেচনা করবে। ইয়েমেনের হুথি, ইরাকে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’-এর অধীনে শিয়া মিলিশিয়া কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও আল-নুজাবা, সিরিয়ার মিলিশিয়া ও ফাতেমিউন ব্রিগেড ইত্যাদি ইরানের সরাসরি সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্ক।   ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইরানকে বলা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের পাওয়ার হাউস’। তাদের কাছে কয়েক হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। ইরান দাবি করে, তাদের কাছে আধুনিক ‘ফাত্তাহ-১’ ও ‘ফাত্তাহ-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা শব্দের চেয়ে ১৩ থেকে ১৫ গুণ দ্রুত চলতে সক্ষম এবং রাডার ফাঁকি দিতে পারে। এছাড়া খোরামশাহর, সেজ্জিল এবং শাহাব-৩ নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের ভাণ্ডারে, যা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত করতে সক্ষম।   ড্রোন বা ইউএভি সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ড্রোন। শাহেদ-১৩৬ নামের অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন রয়েছে ইরানের। স্বল্প খরচে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি এই ড্রোন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। ইরানের তৈরি ড্রোন বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।   নৌ ও স্থল সক্ষমতা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তাদের কয়েকশ ছোট ও দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাবমেরিন রয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি আর্টিলারি গান নিয়ে তাদের স্থল বাহিনীও শক্তিশালী।   কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ইরানের কিছু কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে। এফ-১৪, মিগ-২৯ মতো অধিকাংশ যুদ্ধবিমান পুরনো। তারা রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সু-৩৫ বিমান সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবু আকাশপথে পশ্চিমা শক্তির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ‘বাভার-৩৭৩’ এর ওপর নির্ভর করে, যা রাশিয়ার এস-৩০০ এর সমতুল্য।   ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই তারা প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনের জন্য নেপালকে দ্বিতীয় দফায় ২৫০ গাড়ি দিয়েছে ভারত

নেপালের সাধারণ নির্বাচনের (আগামী ৫ মার্চ) প্রস্তুতির জন্য ভারত সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত সহায়তা হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ২৫০টিরও বেশি এসইউভি এবং ডাবল-ক্যাব পিকআপ গাড়ি উপহার দিয়েছে।   গত বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নেপাল সরকারের কাছে এসব যানবাহন তুলে দেন। অনুষ্ঠানে নেপালের অর্থমন্ত্রী রমেশোর প্রসাদ খানাল এবং নেপালের নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারী উপস্থিত ছিলেন।   নেপাল সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে ভারত সরকার এই যানবাহন ও অন্যান্য সামগ্রী উপহার দিচ্ছে, যা নির্বাচনের লজিস্টিক সাপোর্টে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দফার সহায়তা ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও চালান আসার কথা রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী রমেশোর প্রসাদ খানাল তার বক্তব্যে ভারত-নেপালের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সহায়তা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তা দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী উন্নয়ন অংশীদারত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস ও গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে: মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় সংস্থাটি এখন আসন্ন আর্থিক ধসের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল পুরোপুরি শূন্য হয়ে যেতে পারে।   বিবিসির এক প্রতিবেদনের মতে, ১৯৩টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস বলেছেন, নির্ধারিত বাধ্যতামূলক চাঁদা পরিশোধ না করলে জাতিসংঘের আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প থাকবে না। অন্যথায় এই সংকট ঠেকানো সম্ভব নয়। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আদায় না হওয়া অর্থ দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা যায় না, আর যে অর্থ কখনো পাওয়া যায়নি, তা ফেরত দেওয়াও সম্ভব নয়।   মহাসচিব জানান, অতীতেও জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে পড়েছে, তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, এবার অনুমোদিত নিয়মিত বাজেটের একটি বড় অংশের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হয়েছে। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা তহবিলে অর্থ দেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে, যেগুলোকে তারা করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে দাবি করছে।   আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত চাঁদা দেওয়া সদস্য দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা। এই অর্থের ওপরই পুরো ব্যবস্থার অখণ্ডতা নির্ভর করে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বকেয়া অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা মোট প্রাপ্যের ৭৭ শতাংশের সমান। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়। ফলে এটি এখন একটি দুধারি তলোয়ারে পরিণত হয়েছে, কারণ যে অর্থ বাস্তবে পাওয়া যায়নি, সেটিই ফেরত দিতে বলা হচ্ছে।   চিঠিতে মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, হয় সব সদস্য রাষ্ট্র সময়মতো ও পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করবে, নয়তো আসন্ন আর্থিক ধস ঠেকাতে আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক সংস্কার আনতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, সংস্থাটি তার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টায় যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না। চলতি জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়, যার মধ্যে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার উপেক্ষা করে বৈশ্বিক অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে।   গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচির জন্য ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও একই সঙ্গে সতর্ক করে জানায়, সংস্থাটিকে খাপ খাওয়াতে হবে, নইলে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। অথচ ২০২২ সালে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগেও গুতেরেস একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন, বকেয়া চাঁদার কারণে জাতিসংঘ বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক আর্থিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবরে তিনি এই পরিস্থিতিকে আখ্যা দিয়েছিলেন দেউলিয়া হওয়ার দৌড় হিসেবে।   এদিকে গাজা পুনর্গঠন তদারকির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত বোর্ড অব পিস উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এর মাধ্যমে জাতিসংঘের কিছু ভূমিকা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের সঙ্গেই সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ইসরায়েলের বন্দরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের ইয়ালাত বন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে একটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ। শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়নেট’ সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে।   মিশর ও জর্ডান সীমান্তের সন্নিকটে আকাবা উপসাগরে অবস্থিত এই বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আগমনকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে ইয়নেট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতারই একটি অংশ। তবে, এই বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাইলে তারা কোনো জবাব দেয়নি।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ প্রেরণ অব্যাহত রেখেছে। এই দ্বিমুখী কৌশলের মধ্যেই ডেস্ট্রয়ারটি মোতায়েন করা হলো।    সূত্র : রয়টার্স।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’। দ্রুত শক্তিশালী হওয়া এ শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রার তুষারপাত, বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব শুরু হবে। শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় তুষারপাত ও প্রায় হারিকেন-গতির দমকা হাওয়া মিলিত হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। ঝড়ের গতিপথ উপকূলের কাছাকাছি হলে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ম্যাসাচুসেটসেও তুষারপাত ও প্রবল বাতাস দেখা দিতে পারে।   আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়টি শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলের কাছে তৈরি হবে এবং শনিবার দ্রুত উত্তরমুখী হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বোম্বোজেনেসিস, যার ফলে দক্ষিণে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস নেমে আসবে। এর ফলে এমন এলাকায়ও তুষারপাত হতে পারে যেখানে সাধারণত শীতকালীন আবহাওয়া খুব কম দেখা যায়।   দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ শীতকালীন ঝড় সংক্রান্ত সতর্কতা ও সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়া। এই এলাকার অনেক অংশ এখনও গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।   ঝড়টি সমুদ্রে শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করবে। নর্থ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলে শনিবার রাতে দমকা হাওয়ার গতি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এই বাতাস মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে। নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়াকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   প্রবল অনশোর বাতাস মাসের সর্বোচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিও বেড়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে মাঝারি থেকে গুরুতর বন্যা দেখা দিতে পারে।   আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও প্রভাবের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে। তাই সবাইকে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৪১ ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ৪১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করা সংগঠন ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২৯ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। হরনাই জেলার উপকণ্ঠে ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানে। তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন ‘ভারতসমর্থিত খারিজ’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে সেখানেই ধ্বংস করা হয়। আরেকটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয় পাঞ্জগুর জেলায়। সেখানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত এক ব্যাংক ডাকাতির লুটের টাকাও নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, এলাকায় অন্য কোনো ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজেশন অভিযান চলমান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে, যাতে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে জানা গেছে। আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বালুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫,১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে কেপিতে ১৪,৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮,৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য অংশে ১,৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, গত বছর সারা দেশে মোট ৫,৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেপিতে ৩,৮১১টি, বেলুচিস্তানে ১,৫৫৭টি এবং অন্যান্য এলাকায় ২৯টি ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গত বছরে মোট ২,৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। চৌধুরীর দাবি, দেশের ১০টি বড় সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এসব হামলায় আফগান সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল। সূত্র: ডন, জিও টিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরানোর জন্য প্রস্তুত রাশিয়া

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বুশেহর কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শত শত রুশ নাগরিক কাজ করছেন। তবে এবারের হামলা আরও বড় হতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এই আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। লিখাচেভ বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যে কোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেছেন, এই স্থাপনায় যে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজ অস্ত্রে সজ্জিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর যাত্রা করেছেন, যদিও এখনই হামলা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

ইরানে প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উসকে দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন, যাতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পায়। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী দমন–পীড়ন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর এই উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি কিংবা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বড় পরিসরের হামলাও রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা গত জুনে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও বড় হবে। তিনি নৌবহরটিকে ইরানের দিকে অগ্রসরমান একটি ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক যোগাযোগও খোলা রাখছে বলে জানা গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত, তবে উসকানি দেওয়া হলে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে আত্মরক্ষা করবে। ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে। জাতিসংঘে ইরানের মিশনও জানিয়েছে, জোর করে সংঘাতে ঠেলে দিলে নজিরবিহীন প্রতিশোধ নেওয়া হবে। হামলায় সরকার পতনের প্রশ্নে সংশয় ইসরাইলি কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন সম্ভব কি না—তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সমন্বয়ে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরালেও শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না; দ্রুতই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকার দুর্বল হলেও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। খামেনির প্রভাব অব্যাহত ৮৬ বছর বয়সি খামেনি দৈনন্দিন শাসন ও জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দিলেও যুদ্ধ, পারমাণবিক নীতি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তার হাতেই রয়েছে। তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠদের কাছে অনেক দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানিও রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে ৫ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। ইরানি সরকারের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইয়েমেনে ইরানপন্থি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর নাকি ওয়াশিংটনকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। এক আরব কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ট্রিগার টানতে পারে, কিন্তু এর পরিণতি আমাদেরই বয়ে নিতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রাশিয়া–ইউক্রেনে ১৮ লক্ষাধিক সেনা হতাহত

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে গত প্রায় চার বছরে নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন দুই দেশের মোট ১৮ লাখেরও বেশি সেনা। মার্কিন থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)–এর এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুলনায় রুশ সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট ১৮ লক্ষাধিক হতাহতের মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রুশ বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন, আর বাকিদের অধিকাংশই আহত। এছাড়া কয়েক হাজার রুশ সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রুশ বাহিনীর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সিএসআইএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির সেনাবাহিনী বিশ্বের কোথাও কোনো যুদ্ধে এত বেশি হতাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েনি—এটি নজিরবিহীন। তবে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। গত চার বছরে যুদ্ধে ইউক্রেনের ছয় লাখেরও বেশি সেনা নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তকাল নাগাদ দুই পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদে যোগ দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার স্থাপনে পশ্চিমবঙ্গকে নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেগুলো দ্রুত বিএসএফ-এর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব করছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের এই নির্লিপ্ততাকে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারকে অর্থ দিয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ব্রিটেনে ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র, বাংলাদেশি পরিবারগুলোর হার ৫৩%

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য আরও বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে যেসব মানুষ অতিদরিদ্র, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারের ৫৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানি পরিবারের ৪৯ শতাংশ এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।   ব্রিটেনে ‘অতিদরিদ্র’ বলতে বোঝায় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়িভাড়া পরিশোধের পর হাতে থাকা আয় ব্রিটেনের জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের সারা বছরের আয় যদি ১৬,৪০০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে তারা এই অতিদরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, ব্রিটেনে বসবাসরত বেশির ভাগ বাংলাদেশি পরিবারের আয় গড় আয়ের মাত্র ৪০ শতাংশ বা তার কম।   জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কমলেও চরম দারিদ্র্য বেড়েছে। ১৯৯৪-৯৫ সালে ব্রিটেনে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এটি কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অতিদরিদ্র্যের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। এছাড়া, শিশু দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে, যা গত তিন বছর ধরে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দুই সন্তানের বেশি সন্তান নেওয়া পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা বন্ধ থাকবে। তবে এপ্রিলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস এই নিয়ম বাতিল করেন। জেআরএফ এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে, তবে সতর্ক করেছে যে, এটি একা শিশু দারিদ্র্য কমাতে যথেষ্ট নয়। সংস্থার মতে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীরা।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার খুবই বেশি। বিশেষ করে ২০২১-২৪ সালে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের ৫৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানি পরিবারের ৪৯ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল। এই পরিবারের শিশুদের জন্য দারিদ্র্যের মাত্রা আরও বেশি—বাংলাদেশি শিশুদের ৬৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানি শিশুদের ৬০ শতাংশ।   দারিদ্র্যবিরোধী সংস্থা ‘বিগ ইস্যু’-এর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই প্রতিবেদনকে সমাজের জন্য বড় দুঃসংবাদ বলে মন্তব্য করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদসংস্থা মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে। চলতি সপ্তাহেই এমন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিত হতে পারে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক মাস ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগও হামলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। এই দমন-পীড়নে অভিযোগ আছে, যে এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রথমদিকে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানালেও পরে তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপেই ট্রাম্প এই অবস্থান নিয়েছেন। যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক হস্তক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল সাময়িক বিরতি। এর আগে ভেনেজুয়েলাতেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেননি মার্কিন প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যেখানে এফ-৩৫, এফএ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা হলে সেসব দেশও পাল্টা হামলার মুখে পড়বে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান হামলার পক্ষে ছিল। যদিও সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করবে না। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে, ইরান কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলায় নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এতে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে; যেমন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। এর আগে, ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য বজায় রাখলেও ইরান তেলআবিব ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।   এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দেয়। সৌদি আরবের কাছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুরোধ জানালেও রিয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0