পারমাণবিক হামলা হলে নাগরিকদের কী করণীয়, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রাথমিকভাবে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়াসহ পাঁচটি মূল সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই নির্দেশনায়। টেলিভিশনে প্রচারিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় বা তার পরে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কেন ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। নাগরিকদের জন্য দেওয়া ৫টি নির্দেশনা হলো— ১. বিস্ফোরণের আলোর দিকে না তাকানো এবং আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সময় নাগরিকদের অবিলম্বে কোনো শক্ত দেয়াল বা বাধার পেছনে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঢেউ বা ব্লাস্ট ওয়েভ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। ২. বিস্ফোরণের পরপরই সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করা: ব্লাস্ট ওয়েভ চলে যাওয়ার পর নাগরিকদের সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করতে হবে এবং জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘটনার পর ছবি তোলা বা দেখার জন্য বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। ৩. তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করা: যারা তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের উন্মুক্ত ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে পানি বা ভেজা কাপড় (ওয়েট ওয়াইপস) দিয়ে মুখ, হাত এবং অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে। ৪. অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৫. স্থান ত্যাগের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেই চারপাশ নিরাপদ বলে ধরে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পেতে নাগরিকদের অবশ্যই সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। যদি ভবনের ভেতর আগুন লেগে যায় বা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবেই শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যায়। এরপর থেমে থেমে উভয় পক্ষ হামলা পাল্টা-হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই পারমাণবিক সতর্কতা প্রচার করল তেহরান।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় সাতটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজকে নিরাপত্তার কারণে অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উড়োজাহাজেই বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলোর মধ্যে ইতালির রাজধানী রোমে অবতরণের পর রায়ানএয়ারের দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ডাবলিন থেকে আসা একটি উড়োজাহাজকে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে অবতরণ করা আরও দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বোমার হুমকির পর সেটির গতিপথ পরিবর্তন করে ওয়ারশতে অবতরণ করানো হয়। এছাড়া বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণ করা দুটি উড়োজাহাজেও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়ে স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি উড়োজাহাজ সেখানে অবতরণের পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা তল্লাশি চালান। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। মুরসিয়ায় অবতরণ করা উড়োজাহাজের এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী একটি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। ইউরোপের একাধিক দেশে একই সময়ে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব হুমকির উৎস বা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও শান্তি প্রস্তাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের আলোচক দলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাবগুলো বিনিময় হয়েছে, সেখানে কোনো পক্ষই নতুন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ বা সুযোগ নেই। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে আশাবাদের সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান আত্মরক্ষার্থে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শত্রুদের এমন যেকোনো পদক্ষেপের একটি ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। তবে সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান। এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসংগত স্বার্থ ও ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করার জন্য কূটনীতি ব্যবহারের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। মূলত শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অব্যাহত রাখবে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কার্যক্রমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ থাকার অভিযোগ করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেন সরকারের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি তৈরিতে আইআরজিসি আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে রাশাদ আল-আলিমি জানান, আইআরজিসির বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ হুতিদের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তারা মূলত বিভিন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টির পেছনেও এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। আল-আলিমি বলেন, হুতিদের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা এবং জলপথে হুমকি তৈরিতে অংশ নিচ্ছে। তবে মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে ইরান। হুতিরাও দাবি করে থাকে, তারা তেহরানের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অবশ্য তাদের এই দাবির পরও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আদর্শিক মিল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল পরিশোধন, পেট্রোকেমিক্যাল ও গ্রিন হাইড্রোজেন খাতে একের পর এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি রুপি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভারতের জ্বালানি উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের এই অগ্রযাত্রায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৪৪ দশমিক ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এতে মোট সক্ষমতা বেড়ে ২৫৪ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত উৎস থেকে ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে ভারতের। ভারতের জনপ্রিয় মার্কেট অ্যানালিটিক্স ট্রেড ব্রেইনস বলছে, সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনমে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসিএল) গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এতে বিনিয়োগ হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি রুপি। প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে নির্মিতব্য এই প্রকল্পে বছরে ১২ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন সক্ষমতার ইথিলিন ক্র্যাকার স্থাপন করা হবে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ৩ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি প্রকল্প রাজস্থানের বারমের জেলায় এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি। এতে সংশোধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৯ হাজার ৪৫৯ কোটি রুপি। প্রকল্পটিতে বছরে ৯ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধন এবং ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখানে ৪৩ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেছেন। এ ছাড়া ওডিশার পারাদ্বীপে ৬১ হাজার ৭৭ কোটি রুপি ব্যয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন একটি সমন্বিত রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি থেকে বছরে ৪০ লাখ টনের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬৭ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বিনায় ৪৯ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে বিপিসিএলের পরিশোধনাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং আসামের নুমালিগড়ে ২৮ হাজার ২৬ কোটি রুপির প্রকল্পও গুরুত্বপূর্ণ। বিনায় পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১১ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা হবে। নুমালিগড়ে সক্ষমতা ৩ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৯ মিলিয়ন টন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবিত প্রকল্প মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে ওয়েস্ট কোস্ট রিফাইনারি। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৩ লাখ কোটি রুপি। বছরে ৬০ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত জটিলতায় এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্প্রসারণ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি রুপি। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতে ভবিষ্যতে ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি অতিরিক্ত পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জ্বালানি ও রাসায়নিক পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হতে পারে।
আগামী বছর থেকে ইসরায়েলকে আর বার্ষিক সামরিক অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ইসরায়েলের আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলকে প্রতিবছর চার বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আগে একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক মাস আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার পর সহায়তা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সহায়তা বন্ধ হবে বলে জানান তিনি। কেন ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন আর এ অর্থের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন থাকলে তিনি সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিতেন। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি দেশটিকে আর্থিক সহায়তাও দিয়ে থাকে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে এমএসভি আল জুসুফি নামের একটি জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা অন্য ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটিতে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজটিতে হামলা হয়। এতে আহত এক নাবিক পরে মারা যান। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফেরানো এবং নিহত ব্যক্তির মরদেহ ভারতে পাঠানোর বিষয়ে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। দূতাবাস পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক।
মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ইরান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা জানান তিনি। আব্বাস আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের উদ্যোগে এমন একটি নিরাপত্তাকাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক শক্তির উপস্থিতি থাকবে না। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। ওই সফরে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি। মার্কিন হামলা হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত এবং জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব দাবি পূরণ হলে পরদিনই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে। আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা দুটি আলাদা বিষয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ইরান আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মালয়েশিয়া। তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর কোনো অঙ্গীকার করেনি দেশটির সরকার। বরং প্রত্যর্পণ না করার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে কুয়ালালামপুর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন এবং ২০১০ সালে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে নতুন কোনো আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া। সংসদে লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার প্রথম ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে নয়াদিল্লি। তবে মালয়েশিয়া সরকার তাকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতকে কোনো নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি। মোদি ও আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকেও উঠেছিল বিষয়টি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি ওঠে। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকেও আলোচনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছিল বলে নিশ্চিত করেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। উল্লেখ্য, ড. জাকির নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে মালয়েশিয়া সরকার তাদের আগের অবস্থানেই থাকার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেছে। সূত্র: দ্য সান মালয়েশিয়া
কাতারের রাজধানী দোহায় রবিবার ইরানের প্রতিনিধিদল ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং ইরান ও ওমানের নির্ধারণ করা নতুন নৌপথের স্বীকৃতি। কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসব শর্ত দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু না হলে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এর মাত্র দুই দিন আগে চলাচলের অনুমতি পাওয়া একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে ইরানের অনুমতি মিললেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল এখনো নিশ্চিত নয়। জাহাজটি পাকিস্তানের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছিল। এর নিরাপদ চলাচলের অনুমতিও আদায় করেছিল পাকিস্তান। ব্লুমবার্গকে এ চালান সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজটিতে হামলার আগেই কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছিল ইসলামাবাদ। এর আগে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল বলেই মনে হচ্ছিল। কারণ, একই প্রক্রিয়ায় ইরানের কাছ থেকে চলাচলের অনুমতি পাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছিল। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তেহরানও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটিতে হামলার ঘটনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, পাকিস্তান জাহাজ চলাচলের অনুমতি আদায়ে মধ্যস্থতা করতে পারলেও সেই অনুমতির পরও কোনো জাহাজ আক্রান্ত হলে তা ঠেকানোর ক্ষমতা দেশটির সীমিত চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনার আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ। এরপর অক্টোবরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দুইবার তেহরান সফর করেন। এসব উদ্যোগের পর পাকিস্তানের এক সামরিক মুখপাত্র দেশটির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’ বলে মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এ প্রচেষ্টার পথে বড় বাধা ও বিরোধীদের নিয়েও সতর্ক করেন। চলমান আলোচনার আয়োজক দেশ কাতারও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং কাউকে হুমকি না দেওয়ার কারণেই পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পেরেছে। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট এখন শুধু মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে এমন একজন পক্ষের প্রয়োজন, যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা পাকিস্তানের নেই। কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’তে হামলার ঘটনা বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে সেটিতে হামলা হয়। এ ঘটনায় ইরানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তানও তা ঠেকাতে পারেনি। জাহাজটিতে হামলার জন্য এখনো কাউকে দায়ী করা হয়নি। কোনো পক্ষও হামলার দায় স্বীকার করেনি। কাতার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। গত অক্টোবরে সেখানে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরানও তাদের বন্দর ও জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত হামলার প্রমাণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার কাছে জমা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলাচলের অনুমতি পাওয়া জাহাজটিতে হামলার ঘটনা দুই দেশের আলোচনা ব্যাহত করতে চাওয়া পক্ষগুলোর কাজ হতে পারে। তবে হামলার দায় যারই হোক, এতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন, কারণ দেশটির গ্যাসের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পূরণ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করা এলএনজির মাধ্যমে। কিন্তু গত অক্টোবরে কাতার থেকে মাত্র দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ পেয়েছে পাকিস্তান। গত বছরের একই সময়ে পেয়েছিল আটটি। কাতারএনার্জি আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে কেনা এলএনজির দাম চুক্তিমূল্যের প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ থাকলে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানির খরচ আরো বাড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে। বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের অবস্থান ধরে রাখতে হলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও ভাগ করে নিতে হবে। সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও মিশরকে নিয়ে যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে অনুমতি পাওয়া কোনো জাহাজে হামলা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। পাশাপাশি পাকিস্তানকে জ্বালানি আমদানির উৎস বাড়াতে হবে। দেশটি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ১০টি এলএনজি কার্গো কেনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আজারবাইজান থেকে জ্বালানি আমদানির কথা ভাবছে। এতে খরচ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের অর্থনীতি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা, দুইয়ের জন্যই জরুরি। পাকিস্তানের উচিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সব পক্ষকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে, তবে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো তাড়া নেই। ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ, আলোচনা আয়োজন ও প্রস্তাব বিনিময়ে সহায়তা করতে পারে। তবে সমুদ্রে কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ বা যাচাই করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই নিজেদের ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত দাবি করলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার দায় পাকিস্তানের ওপর পড়তে পারে। চলতি বছর কাতার, তুরস্ক, ওমান ও পাকিস্তানের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলো আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব দেশের ভূমিকার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। তারা আলোচনা এগিয়ে নিতে পারলেও চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। দোহায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চললেও কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’তে হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠকে বসেন কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চলতি বছর এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাই মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোয়াড নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর থেকেই সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটিই হবে কোয়াড নেতাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এ কারণেও সম্মেলনটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘জি-৩’ মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যানিলার সম্মেলন কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শীর্ষ সম্মেলন না হলেও ২০২৬ সাল কোয়াডের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে জোটটির অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তুলতে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব উদ্যোগকে কোয়াডের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। আটলান্টার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নির্বিচার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারভিত্তিক নয়, এমন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এসব নীতি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াড। বর্জ্য থেকে এসব খনিজ সংগ্রহে সহযোগিতার মাধ্যমে জোটটি এ খাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়। ভারতের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও পরিশোধনে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে দেশটি। ২০২৬ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতার পাশাপাশি জোটটি নিজেদের আসিয়ানের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই মাসে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়। আগে কোয়াডের বিভিন্ন বিবৃতিতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হলেও, এবার আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে কোয়াডের কার্যক্রম আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সেই দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসুও বলেছেন, ম্যানিলার বৈঠক কোয়াডের পক্ষ থেকে আসিয়ানের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এর লক্ষ্য বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো। এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে বৈঠক করবে। বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরাম’ আয়োজন করা হয়। হরমুজ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের পর্যায়ে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম কম থাকায় ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়ে গেছে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে মে মাসের নয়াদিল্লি বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ‘কোয়াড-অ্যাট-সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় মহড়া। কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৬ সালে জোটটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নয়াদিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোয়াড নিজের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে। এখন এই উদ্যোগগুলোকে আরো কার্যকর ও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে সোমবার সকালে আলাস্কার বৃহত্তম শহর অ্যাঙ্কোরেজে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকলেও ভোটারদের বেশির ভাগের মধ্যে তা নিয়ে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি। সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলীয় বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমাতে একই নামের আরেক ব্যক্তিকে প্রার্থী করার অভিযোগ উঠেছে। ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অ্যাঙ্কোরেজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, অ্যাঙ্কোরেজে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকলেও ভোট দিতে আসা খুব কম মানুষকেই এ অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা গেছে। হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তা ব্যাপক আলোড়ন তুললেও আলাস্কার ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাজ্যটির ভোটার ডেল ব্রাউন সংক্ষেপে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘কে পরোয়া করে?’ ২৫ বছর বয়সী এই কাঠমিস্ত্রি অন্য নামের প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশলকে ‘অনৈতিক’ বলে মনে করেন। তবে তার মতে, ‘এটি বেআইনি নয়।’ তিনি বলেন, ২০২০ সালে ফ্লোরিডার সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানরা একই কৌশলে নামসর্বস্ব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল। স্বতন্ত্র ভোটার ব্রাউন এএফপিকে বলেন, ‘আমেরিকার রাজনীতি এখন পুরোপুরি মিথ্যার এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, নৈতিকতা বলতে যা বোঝায়, তা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।’ তবে এ বিতর্ক তার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মূল্যস্ফীতি বিরক্তকর বলেও জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে হেরে গেলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে ট্রাম্পের দল। এ কারণে আলাস্কায় নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা তীব্র। অ্যাঙ্কোরেজে প্রতিবেশীদের বাড়ির বেড়ার দুই পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারপত্র ও সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেলটোলার নির্বাচনী প্রচারশিবিরই একই নামের আরেক প্রার্থী দাঁড় করানোর পরিকল্পনায় সহায়তা করেছে। তবে এ বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন পেলটোলা। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প আগেভাগেই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেন। রোববার এক ফেডারেল বিচারক তার আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তের আইনি ভিত্তি কী, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায় এমন একটি বিপণিবিতানের ভোটকেন্দ্রে আসেন রে হার্ট। তিনি স্বীকার করেন, ব্যালটে একই নামের দুজন ড্যান সুলিভান থাকায় ভোটারদের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে’। তবে রিপাবলিকান দলের এই ভোটার মনে করেন, প্রতারণার এ কৌশলে খুব কম মানুষই বিভ্রান্ত হয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সী অপরাধ তদন্তকারী হার্ট বলেন, ‘আমি ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে বলতে শুনেছি, সঠিক ড্যান সুলিভানকে ভোট দিতে ভুলবেন না।’ আলাস্কায় এএফপি’র সঙ্গে কথা বলা অনেক ভোটার জানান, বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা প্রচারপত্র, বিজ্ঞাপন ও নানা ধরনের ডাকযোগে পাঠানো বার্তা পেয়েছেন। তবে ব্যালটে দুই সুলিভানকে সহজেই আলাদা করা যায়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের পাশে ‘নিবন্ধিত রিপাবলিকান’ ও ‘বর্তমান সিনেটর’ পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়রের নামের পাশে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ট্রাম্প তাকে ‘ভুয়া’ সুলিভান বলে অভিহিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে ভোটকর্মীরাও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ভোটকেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘মনে হচ্ছে, বিষয়টি ভোটারদের কাছে বেশ স্পষ্ট।’ বিমান সংস্থার পাইলট লুক ক্লেমেন্টও মনে করেন, ব্যালটে কে আসল প্রার্থী, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। তবে ৪৭ বছর বয়সী ক্লেমেন্টের আক্ষেপ, এবারের নির্বাচনী প্রচার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তিনি। ক্লেমেন্ট বলেন, অন্য মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় আলাস্কার মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করছেন। কারণ, রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হয় এবং সবকিছুই জ্বালানির দামের ওপর নির্ভরশীল।’ ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের আলোচনায় উঠে আসে অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে স্যামন মাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও রাজ্যের বিপুল তেলসম্পদ কতটা কাজে লাগানো উচিত— এমন সব বিষয়।
দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে সোমবার স্কুল খোলার পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এবার বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের ঘটনা অনেক কম। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই ও রেন শহরের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধের চেষ্টা করেছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪১টি স্কুল অবরোধের মুখে পড়ে। দেশটির মোট উচ্চবিদ্যালয়ের মাত্র ১ শতাংশ এটি। এর আগে ছুটির আগের কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্সের কয়েকশ স্কুল অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের দুরবস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দেন। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সোমবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, স্কুল অবরোধের চেষ্টা এখন খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বিক্ষোভ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে, তবে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া বেআইনি। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি বাতিল। তাদের অভিযোগ, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়। গত সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জনে সীমিত করা, স্কুল সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো বরাদ্দ, উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরি এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে প্রবল বেগে আঘাত হানতে শুরু করেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে অন্ধ্রের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। আইএমডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় সময় রাত ১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের মেঘমালার সামনের অংশ ইতোমধ্যে উপকূলে প্রবেশ করেছে এবং পেছনের অংশটি উপকূলের খুবই কাছাকাছি অবস্থান করছে।’ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তুমুল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। সে সময় এটি ওঙ্গোল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। আইএমডি জানিয়েছে, নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি পুরো স্থলভাগ অতিক্রম করবে। সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া সাধারণ জোয়ারের চেয়েও প্রায় ১ থেকে ১.৫ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বুধবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
মিয়ানমারের চারটি শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। সোমবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, রোববার রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যের চারটি শহরে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ শহরের আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদন। এসব হামলায় রাখাইন রাজ্যে ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। এর আগের দিন শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে ওই স্কুলে শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল। হামলায় তিন শিশু নিহত হয়। আহত হয় আরও আটজন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও প্রতিরোধগোষ্ঠী। এদিকে রাখাইন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’ তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। তবে এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় এই যোগাযোগ সহজ করতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে চলছে হুমকি-পাল্টা হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পরোক্ষ আলোচনা। বিভিন্ন শর্তের বিনিময়ে সমঝোতার ইঙ্গিতও দিচ্ছে দুই দেশ। এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘বৈধ’ দাবিগুলো মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। সোমবার (২ নভেম্বর) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এ কথা জানান। বাঘায়ি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সেপ্টেম্বরে তেহরানের প্রস্তাব করা সাত দিনের পরিকল্পনাটি এখনো বহাল রয়েছে। তবে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সীমা কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি হবে।’ তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান তিনি। বাঘায়ি বলেন, ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও যৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং তেহরানের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তাহলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হবে। চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তসংবলিত সাত দিনের পরিকল্পনাটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায় ইরান। এরপর থেকে প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে দেশটি। নতুন যুদ্ধ আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে: ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আরও কিছু স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়ার পর নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেই যুদ্ধ কখন শেষ হবে কিংবা কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণের অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দ্রুত হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। গত ৩১ অক্টোবর ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো এক বা দুটি স্থাপনায় হামলা চালানোর কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোতে হামলা চালাতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এটি ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। ১ নভেম্বর আইওয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশেও সেখানে হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দেন। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা! এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত কয়েক দিনের মধ্যেই নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার গভীর রাতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মধ্য ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কার্লসনের এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বিশাখাপত্তনমের হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের (এইচপিসিএল) তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণের শব্দের পরই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সোমবার রাতে আচমকাই পর পর বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। তার পরেই শোধনাগার চত্বর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে ঘন ধোঁয়া। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দূর থেকেও আকাশে দেখা যায় আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি জানায়, শোধনাগারের একটি সালফার পিচ ট্যাঙ্কে আগুন লেগেছিল। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও জরুরি পরিষেবা দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন এইচএসপিসিএল-এর নিজস্ব দমকলকর্মীরাও। কী কারণে এই আগুন লাগে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগুন লাগার পরেই তা নেভানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়ায়। তাতেই দেখা গেছে পুরো এলাকা জুড়ে আগুন এবং ধোঁয়া। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কী না তা এখনও জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বিশাখাপত্তনমের পুলিশ কমিশনার শঙ্খব্রত বাগচী। তার বক্তব্য, আগুন আপাতত নির্দিষ্ট ওই ট্যাঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শোধনাগারের অন্য কোনও অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগুনের জেরে শোধনাগারের আশপাশে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসন বলছে, ওই ধোঁয়া বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে না। বিস্ফোরণের জেরেই অগ্নিকাণ্ড বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। তবে কী কারণে এই ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। এই নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম থেকে শুরু করে শরণার্থী আইন পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৈধ অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা 'ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন' (আইএলআর) পাওয়া বা অপেক্ষার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। সোমবার ওয়েস্টমিনস্টারের হাউস অব কমন্সে শাবানার এই চূড়ান্ত নীতিমালা উপস্থাপন করেন। আইএলআর পাওয়ার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস করা, কাজ, পড়াশোনা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা (বেনিফিট) পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক প্রস্তাবে আইএলআর পাওয়ার বর্তমান ৫ বছরের অপেক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মী বা সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে চূড়ান্ত নীতিমালায় যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে অবস্থান করা সোশাল কেয়ার কর্মীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার আওতামুক্ত রেখে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতার মুখে চূড়ান্ত নীতিমালায় শাবানা ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেয়ার কর্মীদের জন্য ১৫ বছর অপেক্ষার নিয়ম রাখা হয়নি। এমনকি কম আয়ের অন্য কোনও বৈধ কর্মীকেও ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। যারা ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার বা সোশাল কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন তারা আগের নিয়মেই মাত্র ৫ বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী বসবাসের আইএলআর আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ছাড় পাওয়ার জন্য দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে— কেয়ার কর্মীকে তার ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে এবং আবেদন করার আগের ১২ মাসে তার বার্ষিক আয় অন্তত ২৫,০০০ পাউন্ড হতে হবে। মহামারীর সময়ে ও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের অবদানের কথা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত নীতিমালায় তাদেরকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে যে কোনও বৈধ অভিবাসী নির্দিষ্ট ভিসায় টানা ৫ বছর যুক্তরাজ্যে থাকলে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারতেন। এখন বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাস বা আইএলআর কোনো সাধারণ অধিকার নয়, এটি তার যোগ্যতা ও অবদান দিয়ে 'অর্জন' করতে হবে। সাধারণ স্কিলড ওয়ার্কার বা অন্যান্য বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে হলে আগের ৫ বছরের জায়গায় এখন ১০ বছর বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকা এবং কাজ করতে হবে। নতুন নিয়মে বৈধ অভিবাসীদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে সময় ঠিক হবে। যেমন: বছরে ১,২৫,০০০ পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ দক্ষ অভিবাসীরা ৩ বছরেই স্থায়ী হতে পারবেন। বছরে ৫০,২৭১ পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মী এবং ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকরা ৫ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন। কিন্তু এর চেয়ে কম আয় করা বাকি সব সাধারণ বৈধ অভিবাসীদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। কোনও বৈধ অভিবাসী ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ভাতা দাবি করলে তার জন্য এই অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে ২০ বছর হবে। আর ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম গত সপ্তাহে বলেছিলেন, আইএলআর হল ‘যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করার মতো অধিকার’। যুক্তরাজ্যে সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের আমলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী রেকর্ড অভিবাসনের পর বিপুলসংখ্যক বৈধ অভিবাসী আইএলআরের যোগ্যতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হল। মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির তথ্য উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, এসব অভিবাসীদের আজীবন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের করদাতাদের প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) পাউন্ড খরচ হতে পারে। গত মার্চে এক বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত চার দশকে দেশটিতে মোট যে পরিমাণ অভিবাসন হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই মাত্রার জনস্রোত এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে হেলথ অ্যান্ড সোশাল কেয়ার ভিসায় ঢোকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নিম্ন-দক্ষ কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের ওপর সরকারের বছরব্যাপী গণপরামর্শে ২ লাখেরও বেশি মতামত জমা পড়ে। নীতি ঘোষণার আগেই লেবার পার্টির পাশাপাশি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, যারা নেট অভিবাসন ঋণাত্মক দেখতে চান, তাদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আইএলআর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল এবং অতীতে দেওয়া স্থায়ী মর্যাদাও প্রত্যাহারের দাবি জানান। কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং লেবার দলের উন্মুক্ত সীমান্তপন্থি বাম অংশের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, এর মাধ্যমে লাখ লাখ স্বল্প আয়ের ও উপার্জনহীন অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আজীবন থাকা এবং সরকারি ভাতা ভোগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দিলে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ প্রস্তাব দেন। দুই দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির জবাবে নিজের অবস্থান জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প ও তার দলের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষ হত্যা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল শোধনাগারে হামলা চালালে জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয় বলে তাদের জানিয়েছেন তিনি। হামলা বন্ধের জন্য দুটি বিকল্প তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। প্রথমত, রাশিয়াকে ইউক্রেনের জ্বালানিব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে। শুধু সহায়তা হিসেবে নয়, ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে অর্থের ব্যবস্থাও ইউক্রেন করবে বলে জানান তিনি। জেলেনস্কির প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এক মাসের জন্য প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সরবরাহ করলে একই সময় রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে কিয়েভ। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্যাট্রিয়ট। এই প্রস্তাব ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হতে পারে কি না, জানতে চাইলে জেলেনস্কি উদ্বেগ নাকচ করেন। তার ভাষায়, অংশীদারদের কাছে সত্য তুলে ধরতে তার কোনো উদ্বেগ নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সরবরাহ পেতে কয়েক বছর লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেন কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার কথা জানাচ্ছে। দ্রুত ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন জেলেনস্কি। নতুন কেনাকাটার মাধ্যমে পরে সেই মজুত পূরণ করা যেতে পারে। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হওয়ায় খেরসনের পূর্বাংশে সীমিত যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনা চলতি মাসে আবার শুরুর কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা বন্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে সোমবার (২ নভেম্বর) জরুরি ভিত্তিতে এ আবেদন করা হয়। ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি লড়াইয়ে এটি সর্বশেষ ঘটনা। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগে হাজার হাজার যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তারা চায়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তৈরি করা একটি তালিকায় থাকা ভোটারদের ব্যালট আলাদা করে রাখতে ক্যালিফোর্নিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হোক। ওই ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটগুলো আলাদা রাখার দাবি জানিয়েছে বিভাগটি। বিচার বিভাগের যুক্তি, অন্য ব্যালটের সঙ্গে মিশে গেলে পরে ওই ভোটারদের অযোগ্য প্রমাণিত হলে তাদের ব্যালট শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার কোনো উপায় থাকবে না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া বলছে, তালিকাটি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এতে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের নাম থাকতে পারে। অক্টোবরের শুরু থেকেই সেখানে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক লাখ ব্যালট প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বিতর্কিত তালিকায় থাকা ভোটারদের ব্যালট আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। গত সপ্তাহে এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দেন। তালিকায় থাকা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিচারক ডেভিড কার্টার লিখেছেন, ‘নির্বাহী বিভাগ যদি অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভোট বাতিল করতে পারে এবং চলমান নির্বাচনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তাহলে আমাদের গণতন্ত্র বিপদে পড়বে।’ শুক্রবার একটি ফেডারেল আপিল আদালতও প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।