আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার

ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যগামী অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্ধার অভিযানে নৌকাটিতে থাকা ১৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   ফরাসি চ্যানেল ও উত্তর সাগর সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চ্যানেল অতিক্রমের সময় নৌকাটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি সোমবার রাতে ফ্রান্স থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিবাসীরা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।   ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতেই নৌকাটিতে থাকা পাঁচজনের জরুরি উদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তবে বাকি যাত্রীরা সে সময় ফরাসি টহল নৌকাগুলোর সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।   এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং চরম বিপদ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি জরুরি পরিষেবার সহায়তা গ্রহণ করেননি।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চ্যানেল পারাপারে ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে উদ্ধারকারীরা শুরুতে সীমিত পর্যবেক্ষণে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে ফরাসি ও ব্রিটিশ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। আরএনএলআই ইস্টবোর্ন লাইফবোট এবং ইউকে বর্ডার ফোর্সের বিএসসি কন্টেন্ডার ও বিএসসি কারেজিয়াস নামের জাহাজও অভিযানে অংশ নেয়।   ফরাসি নৌযানগুলো ১০৩ জনকে এবং ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযানগুলো ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।   বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বুলোন-সুর-মেরে নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রবণতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত রয়েছে। টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রায় ৫০ হাজার ইসরায়েলি এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএইউ) এক গবেষণা। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।   সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় ৪৯ হাজার করে ইসরায়েলি এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (সিবিএস) ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইতাই আতের, স্কুল অব ইকোনমিকসের প্রধান নিত্তাই বার্গম্যান এবং গবেষক ডরন জামির। গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও টিএইউর কলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেশত্যাগের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।   প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা এটিকে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিবিএস ২০২৫ সালের দেশত্যাগসংক্রান্ত প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করলেও তাদের পদ্ধতিতে একজনকে অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয় তখনই, যখন তিনি বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে কাটান। ফলে ২০২৫ সালের হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অনেকেই বাস্তবে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়েছেন। এ কারণে ২০২৫ সালের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান ২০২৭ সালের শুরুতে প্রকাশিত হবে। এর আগে প্রবণতা বোঝার জন্য গবেষকরা তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে অবস্থানকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং শেষ পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময় বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যার মধ্যে ০.৯৬ মাত্রার উচ্চ পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের সম্ভাব্য দেশত্যাগের হিসাব করা হয়েছে।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন ৯০ হাজার ৯২২ জন ইসরায়েলি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৯৯ এবং ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯ জন। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরায়েলি অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন।   এর বিপরীতে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ একই ধরনের সময়ের জন্য দেশ ছাড়তেন। আর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের পুরো তিন বছরে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশত্যাগকারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে থাকবে।   গবেষক ইতাই আতের বলেন, এই সংখ্যা সিবিএসের আগে প্রকাশিত ৬৯ হাজারের হিসাবের চেয়ে কম। কারণ তাদের বিশ্লেষণে গত তিন বছরে আসা নতুন অভিবাসীদের, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা ব্যক্তিদের, অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   তিনি বলেন, সরকারপক্ষের দাবি ছিল দেশত্যাগকারীদের বড় অংশই নতুন আগত অভিবাসী। তাই দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রকৃত দেশত্যাগের চিত্র তুলে ধরতেই এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল বিরল এক নিট অভিবাসন ঘাটতির মুখে পড়েছে। অর্থাৎ দেশে আসার চেয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি।   ইহুদি জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জিও ডেলা পেরগোলার মতে, ১৯৫০ ও ১৯৮০-এর দশকের কিছু সময় ছাড়া ইসরায়েলের ইতিহাসে সাধারণত দেশত্যাগের তুলনায় দেশটিতে ইহুদি অভিবাসনের সংখ্যাই বেশি ছিল।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতীতে অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে অনেকেই ইসরায়েল ছেড়ে গেলেও বর্তমানে দেশত্যাগের পেছনে সরকারের নীতি, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী লিলাচ লেভ আরির সাম্প্রতিক গবেষণারও উল্লেখ করা হয়েছে।   ইতাই আতের বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও উদ্বেগজনক হারে মানুষ দেশ ছাড়ছে। এখনই এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি নয়। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দেশত্যাগের হার এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।   প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি না করলেও দেশকে একটি সম্ভাব্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।   এতে বলা হয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত নতুন কোনো নেতিবাচক ধাক্কা দেশত্যাগের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর একবার নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে সেই প্রবণতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে এবং এর বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে।   প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটস পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ বলেন, রেকর্ডসংখ্যক দেশত্যাগের বিষয়টি মোকাবিলায় সরকারকে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।   এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, এটি ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত হুমকি এবং এর সঙ্গে সরকারের আচরণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   ইয়েশ আতিদ দলের এমপি মেইরাভ কোহেন ব্যঙ্গ করে বলেন, যে সরকার গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার কথা বলেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ৭ অক্টোবরের সরকারই ইসরাইলিদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করেছে।   একই দলের আরেক এমপি কারিন এলহারার বলেন, সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি দেখে প্রতিদিন আরও বেশি ইসরায়েলি হতাশ হয়ে দেশ ছাড়ছেন।   সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে দাবানলে ঘরছাড়া ৬৫ হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষকে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। আগুনে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস। খবর আনাদোলুর।   সোমবার সংস্থাটি জানায়, দাবানলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে স্পোকেন কাউন্টিতে। সেখানে শত শত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এদিকে, স্পোকেন কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, দাবানল লাগানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’ নামে পরিচিত বড় একটি আগুনের ঘটনায় জড়িত। দাবানল নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করছেন। কিছু এলাকায় আবহাওয়া অনুকূলে আসায় আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল। তবে স্পোকেন ও স্টিভেন্স কাউন্টির দাবানল এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শনিবার শুরু হওয়া এসব আগুনে এরই মধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর (৩ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি) এলাকা পুড়ে গেছে। ওয়াশিংটনের অন্য এলাকাতেও বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বজ্রপাত থেকে শুরু হওয়া সিনলাহেকিন দাবানলে প্রায় ৮৫ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ৮২০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। এ ছাড়া লিটল জায়ান্ট ফায়ার নামে আরেকটি দাবানলে ওকানোগান-ওয়েনাচি জাতীয় বনের ৫১ হাজার একরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের খরা, তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ওয়াশিংটনে এবারের দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থা আর ফেডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা থাকার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে।    রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওই কারণে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এদিন সকাল ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স ৪,০৫৯.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার দুর্বল হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের জন্য এটি একটি শেষ সুযোগ। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়াতে ফেড পিছপা হবে না। বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থির থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৪,৫০০ ডলার এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে ৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮.৭৪ ডলার, প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,৬৪৬.৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,২৭৯.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই: সাবেক সেনাপ্রধান জালুঝনি

ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।   সোমবার ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য যে সামরিক মানদণ্ড প্রয়োজন, তা ইউক্রেন বর্তমানে পূরণ করছে না। জালুঝনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে ন্যাটোর মান অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশটি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইউক্রেনের ন্যাটোর মতো একটি জোটে যোগ দেওয়া কঠিন। ইউক্রেনের সংবিধানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা আছে। তবে দেশটির সরকারও স্বীকার করেছে, ন্যাটোর সব সদস্য বর্তমানে ইউক্রেনকে জোটে নিতে প্রস্তুত নয়। এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে জুলাই মাসে রাশিয়ার অগ্রগতি অনেকটাই কমে গেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ৪০ বর্গকিলোমিটারেরও কম এলাকা দখল করতে পেরেছে। এর আগের মাসে এই অগ্রগতি ছিল প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার। গত বছরের তুলনায় রাশিয়ার অগ্রগতির গতি অনেক কমেছে। তবে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ও দখলকৃত অঞ্চলে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনাকে সরিয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হলো। এদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় এলাকায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি পর্যটন এলাকায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হন। ক্রিমিয়াতেও আরও চারজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে মস্কো। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ বিমান হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া ক্রিভি রিহ শহরের কাছে রুশ হামলায় আট বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আশা কমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।  আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে টানা দরপতনের কারণে ব্রেন্টের দাম তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই)  দামও ৬১ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০.৯৫ ডলারে উঠেছে।  আগের লেনদেনে এটির দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রায় এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। এদিকে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান। ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (৩ আগস্ট) স্পষ্টভাবে জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের এই বক্তব্যের বিপরীতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই কথা বলছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে সই করার এটাই শেষ সুযোগ। শিরশ্ছেদের আগে আমি তাদের সম্ভাব্য সবশেষ সুযোগ দিতে চাই।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনেই নিহত ২৬

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় গতকাল সোমবার দুই দেশে নিহত হয়েছেন ২২ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রাশিয়া এবং বাকি ১১ জন ইউক্রেনের নাগরিক।   রুশ প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, সোমবার ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহতরা রাশিয়ার ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ, ও ক্রিমিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্রাসনোদার গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় প্রদেশের গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটনপল্লী আরখিপো-ওসিপোভকায় ৩ জন শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন, এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০ জন। ক্রাসনোদার পাশাপাাশি একই দিন কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী রুশ প্রদেশ বেলগোরোদেও ড্রোন হামলা করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এতে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ৪ জন এবং নিহত এবং ২ জন আহত এবং বেলেগোরোদ প্রদেশে ৪ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে একই দিন সোমবার কিয়েভের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক প্রদেশের কৃভি রিহ জেলার একটি পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরকবাহী রুশ ড্রোনের আঘাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলে আছে। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক প্রদেশের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলয় পেট্রোল স্টেশনটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল। এতে ওই পেট্রোল স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার রাতে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রুশ বাহিনী। এতে নিহত হয়েছে ২ জন শিশুসহ ৮ জন। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিকদের মৃত্যুহার প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যদিও উভয়পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করে আসছে। এদিকে সোমবার পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খারকিভের বিলিই কোলোদিয়াজ এবং উস্পেনিভকা বসতি দখল করেছে রুশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটের সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। সেই অভিযান এখনও চলছে।   সূত্র : আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৩ আগস্ট পর্যন্ত অভিযানে ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অন্য পথে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর একদিন আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, তারা ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছিল। সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের বাহিনী

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন থাকা বাহিনী যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।   সোমবার আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হামজা সাইয়্যিদ আল-শুহাদা সদর দপ্তরের অধীন বাহিনী বিদেশি শত্রু ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত। এই সদর দপ্তর ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান, কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এসব এলাকা ইরাক ও তুরস্ক সীমান্তের কাছাকাছি। ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের ওপারে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কয়েকটি ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে আইআরজিসির উত্তেজনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে থাকা এসব গোষ্ঠীর অবস্থানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগে সোমবার ইরানের সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোজতবা জাফারি দাবি করেন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া ও এরবিল প্রদেশে ইরানের সেনাবাহিনী ১৪টি স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গলবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হচ্ছে। তার আশা, মঙ্গলবারের মধ্যেই প্রণালিটি পুরোপুরি চালু হতে পারে। খবর শাফাক নিউজের।   সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের অনুরোধেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেনি এবং দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, এটি ইরানের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান কখনও পরিবর্তন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইরানের কর্মকর্তারা অনেক সময় দীর্ঘ সময় আলোচনা করলেও পরে প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন। এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—একটি হলো সমঝোতায় পৌঁছানো, অন্যটি হলো সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ইরান: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য পথ, নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিজয়ের চেয়ে সংঘাতের ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ানোর কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ যে কোনো আলোচনা বা দর-কষাকষিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেন, ইরান সংঘাতের মাত্রা এমনভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে যাতে প্রতিপক্ষকে নতুন নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।   তিনি বলেন, “তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে আঘাত করার সক্ষমতা নয়; বরং আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার ক্ষমতা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান এয়ার মনে করেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ কমাতে বাধ্য করা এবং সংঘাতের গতিপথ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের হাতে চলে যেতে না দেওয়া।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি ইরানের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে তেহরান তাদের কৌশলের আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।   তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় পক্ষ যদি পাল্টাপাল্টি চাপ বাড়াতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই ৬০০ স্থাপনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেইন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি স্থাপনা ধ্বংস এবং ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।    অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে দাবানলে ৮.২ বর্গমাইল এলাকা পুড়লেও ওয়াশিংটন জুড়েই প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো। দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি যে একটি ভেটেরানস হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং স্পোকেইনের কনভেনশন সেন্টারে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।  ওল্ড ট্রেইলস, ফেয়ারভিউ ও মিডউভিউসহ কয়েকটি সক্রিয় দাবানলের কারণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে হাজার হাজার মানুষ এবং ইউটিলিটি লাইন মেরামতের কাজ চলছে। এদিকে স্পোকেইন ছাড়াও পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে বজ্রপাতে সৃষ্ট আরেকটি বিশাল দাবানল গত ১০ দিন ধরে ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে, যা শত শত বাড়ি ও গবাদি পশুর খামারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে।  পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস একাধিক রাজ্যে বায়ুমানের অবনতি, চরম তাপপ্রবাহ এবং রেড ফ্ল্যাগ ফায়ার সতর্কতা জারি করেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
স্পেনের যে গ্রামে একসঙ্গে উপভোগ করা যায় দুই সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য

স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বুর্গোস প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম আভেলানোসা দে মুনিও। স্থায়ী বাসিন্দা হাতে গোনা, নেই কোনো রেস্তোরাঁ, দোকানপাটও প্রায় নেই বললেই চলে। সপ্তাহে মাত্র একদিন একটি বেকারির ভ্যান এসে কয়েকজন বাসিন্দার জন্য রুটি পৌঁছে দেয়। বছরের অধিকাংশ সময় প্রায় জনশূন্য এই গ্রামটিই আগামী ১২ আগস্ট বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।    প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপে এমন বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটবে। আর স্পেনে ১৯১২ সালের পর এটিই হবে প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সেই গ্রহণের পূর্ণতা দেখা যাবে যে সংকীর্ণ পথজুড়ে, আভেলানোসা দে মুনিও ঠিক সেই পথেই অবস্থিত। মাদ্রিদের পদার্থবিদ ড. মারিয়া তেরেসা লোপেজ সানচেজ বলেন, গ্রহণটি ঘটবে সূর্যাস্তের ঠিক আগে। ফলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মানুষ যেন দুটি সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা পাবে। তিনি বলেন, এটা হবে কয়েক মিনিটের মধ্যে দুবার সন্ধ্যা নেমে আসার মতো অভিজ্ঞতা।   এতেই শেষ নয়। ওই রাতেই আকাশে দেখা যাবে বিখ্যাত পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি। ফলে একই দিনে দুটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ মিলবে। গ্রামটির অবস্থানও সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য আদর্শ। চারদিকে সোনালি গমক্ষেত, নিচু পাহাড় আর পশ্চিম দিগন্তে কোনো বড় বাধা নেই। আলোকদূষণও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটিকে স্পেনের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থল হিসেবে বিবেচনা করছেন। গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী বাসিন্দা সারা আলভারেজ রদ্রিগেজ, যিনি জন্ম থেকেই এখানেই আছেন। তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে গ্রামের ওপরে থাকা গুহার কাছে যেতে হবে। ওখান থেকে সবকিছু সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।   আলভারেজ জানান, ১৯৫০-এর দশকে গ্রামটিতে প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস ছিল। ছিল একাধিক দোকান, মাছ বিক্রেতা, ডাকঘর সবই। কৃষি ও পশুপালন ছিল জীবিকার প্রধান উৎস। পরে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ শুরু হলে কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ একে একে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বিলবাওসহ বিভিন্ন শহরে চলে যায়।   এখন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মাত্র ১০ জনের মতো। মানুষের চেয়ে আশপাশে ছাগলের সংখ্যাই বেশি।   তবে সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে অনেকেই আবার ফিরে আসছেন নিজেদের শেকড়ে। গ্রামের সন্তান রাউল গ্রান্দে রেভিলা, যিনি ছোটবেলায় মাদ্রিদে চলে গিয়েছিলেন, এবার পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও বন্ধুদের নিয়ে গ্রামে ফিরবেন। তার সঙ্গে আসবেন প্রায় ২০ জন, যা এক রাতের জন্য গ্রামের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করে দেবে।   শুধু গ্রামের পুরোনো বাসিন্দারাই নন, স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভেনেজুয়েলা থেকেও অনেকে আসার পরিকল্পনা করেছেন।   সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. লুক্রেজিয়া লোপেজ বলেন, এ ধরনের বিরল ঘটনা মানুষকে নিজেদের পুরোনো শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।   গ্রামের কাছের ঐতিহাসিক প্যারাডর দে লেরমা হোটেলটি ২০২২ সালেই ওই দিনের জন্য পুরোপুরি বুকিং হয়ে গেছে। কাস্তিয়া ই লেওনের পর্যটন বোর্ডও জানিয়েছে, অঞ্চলের বেশির ভাগ আবাসনই আগেভাগেই পূর্ণ হয়ে গেছে।   গ্রান্দে জানান, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি পরিবার শুধু সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য স্পেনে আসছে। তিনি নিজেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, কেউ তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন কি না।   তিনি বলেন, ভাবতেই অবাক লাগে মাত্র ১০ জন মানুষের একটি গ্রাম হঠাৎ করে পুরো বিশ্বের নজরে চলে এসেছে।   গ্রামের ওপরে থাকা গুহাগুলো বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের প্রিয় মিলনস্থল। এখান থেকেই তারা সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। এমনকি গ্রামের এক বাসিন্দার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার অস্থিও সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   সূর্যগ্রহণের দিন তাই বহুদিন পর আবার প্রাণ ফিরে পাবে আভেলানোসা দে মুনিও। আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল, শিশুদের হাসি, বারবিকিউর ধোঁয়ায় মুখর হবে নিস্তব্ধ গ্রামটি। তারপর কয়েক মিনিটের জন্য নেমে আসবে অন্ধকার। তাও একবার নয়, যেন দুবার। আর ভূগোলের এক অদ্ভুত কাকতালীয় কারণে স্পেনের প্রায় বিস্মৃত এই ছোট্ট গ্রামটি সেদিন অল্প সময়ের জন্য হয়ে উঠবে বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু।   সূত্র : বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কেশম দ্বীপে ৯০০ কেজির বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একটি বেসামরিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণেও হামলায় প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে চালানো ওই হামলায় কেশম দ্বীপের একটি পারিবারিক বড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছে। তবে পরিবারের আরও দুই সন্তান জীবিত রয়েছে।   ভিডিও ফুটেজ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০০ কেজি) ওজনের মার্ক-৮৪ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমাগুলোর একটি। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা হামলার স্থানে সৃষ্ট গর্তের আকার এবং উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এই ধারণা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার সময় ও স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তৎকালীন অভিযান পরিচালনার তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। এদিকে, জেরুজালেম পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিসর আগের রাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই হামলাগুলো ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক এবং কার্যকর।   নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, যে বাড়িটিতে হামলা হয়েছে তার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পর ইরানি কর্তৃপক্ষও সেখানে কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য দেয়নি।   ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কারণে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ গর্তের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ ফুট দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা বেসামরিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এসব বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।   সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, আমরা এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছি। মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।   নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে হামলার স্থান ও বিস্ফোরণের মাত্রা যাচাই করা হয়েছে।   সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২১ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম দেশটিতে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জনগণকে অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, রোববার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির ১২১ বছরের আবহাওয়া ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। একই সময়ে ডেগু, বুসানসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল, ক্যাফে ও অন্যান্য ভবনে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী জু ডং-ইওল বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বাইরে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই। বাড়ি, শপিংমল বা ক্যাফের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় থাকাই এখন একমাত্র উপায়।’ রোববার দেশের ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। চলতি বছর বাড়তে থাকা তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন এই সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই সতর্কতা জারি করা হয়। কেএমএ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ‘অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন ঘরের ভেতরেও অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ।’ সংস্থাটি সবাইকে দ্রুত শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড় তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগ চ্যাংওন শহরে নির্ধারিত একটি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। একই শহরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল হলো তাপপ্রবাহের কারণে। কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে জানায়, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। এ বছরের এল নিনো-র প্রত্যাবর্তনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিশরে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

মিশরের পূর্বাঞ্চলের সুয়েজ শহরের কাছে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার ভোরে হওয়া এই ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী কায়রোসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   মিশরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকস জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে সুয়েজ শহরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রথমে এর মাত্রা ৫ দশমিক ২ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৫ জানানো হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আবদেল গাফ্ফার অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট জনগণকে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে কায়রোর পুরোনো আবাসিক এলাকাগুলোতে এ ধরনের ভবনের সংখ্যা বেশি। উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মিশরে বড় ধরনের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে ১৯৯২ সালের অক্টোবরে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অং সান সু চি দেখা গেল রেড ক্রস প্রতিনিধির সঙ্গে

মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মিয়ানমার প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চি’র সঙ্গে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে জানা এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। খবর এপির।   সোমবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিআরসি’র মিয়ানমারস্থ আবাসিক প্রতিনিধি আরনড ডি ব্যাক সকালে অং সান সু চি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই অং সান সু চি আটক রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অনেকে ধারণা করেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই। সু চি’র সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতাই বৈদেশিক সম্পর্কের ভিত্তি: ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তেহরানের বৈদেশিক সম্পর্কের ‘মূল ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, এই সমঝোতা স্মারকটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার ফসল । কাউন্সিলের সব সদস্য এ বিষয়ে একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে আমাদের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে উঠবে।’   পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষকে তারা যে বিষয়ে স্বাক্ষর করেছে, তা মানতে বাধ্য করতে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই সমঝোতা আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং মিত্রদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা কেজরিওয়ালের

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।  তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।   শনিবার (১ আগস্ট) আয়োজিত জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।    তিনি বলেন, আগামী ৪ আগস্ট দুপুরে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে জনসম্মুখে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আয়োজন করতে পারে। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।   তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।   কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এ নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত যুক্তিই নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার এ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের মূল্যও কমাতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।   এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের পালটা-পালটি অবস্থানের মধ্যে এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।   তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।   বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে।   জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে।   এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।   ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’   মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান।   কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।   সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না।   আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে।   তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৬ বছর পর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু

প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর কোভিড মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব সিকিমের ঐতিহাসিক নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।     শনিবার (১ আগস্ট) দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ইন্দো-চীন নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল গুপ্তা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা ওপারে আটকে থাকা পণ্য উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদের মাঝে এর ফলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ও ভেড়ার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে অনুমতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করে শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ব্যবসায়ী পাস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

পাকিস্তানকে হারিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬