ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের পশ্চিমাঞ্চলেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মাস ক্যাম্পের আশপাশেও ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মারিব ইয়েমেন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে তেল ও গ্যাসকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান সরবরাহকেন্দ্র হওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৬ হাজার ইয়েমেনে সংঘাত আবার বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে পালিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি সীমান্তেও হামলা ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্র। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের আশপাশেও এসব হামলা হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে কয়েক দিনের চাহিদা পূরণের মতো তেল মজুত রয়েছে। পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হরমুজ ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা ইয়েমেনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার হরমুজের কাছাকাছি কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। এদিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষ, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একদল গবেষক বিশাল এক গভীর সমুদ্রের খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন। দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকায় ‘সিয়াংইয়াংহং ১০’ নামের গবেষণা জাহাজে করে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ ১৮ দিনের এই অভিযানে গবেষকরা ডুবোযান ব্যবহার করে ৭০০ থেকে ১,৫০০ মিটার গভীরতায় এই নতুন খনিজ ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেন। উত্তপ্ত সামুদ্রিক জলউৎস বা হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট থেকে সংগৃহীত আকরিক নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এখানকার মাটিতে স্বর্ণ ও রূপার পরিমাণ স্থলভাগের যেকোনো খনির চেয়ে অনেক বেশি। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিক থেকে ১৫.৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ এবং ১,২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রূপা পাওয়া গেছে। এই খনিজ ভান্ডারে তামা ও দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে পলিমিটালিক সালফাইড রয়েছে, যা বিশ্বমানের সমুদ্রগর্ভস্থ খনির সমতুল্য। এছাড়া এই চরম পরিবেশের চারপাশে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণও লক্ষ্য করা গেছে। তবে গভীর সমুদ্রের তীব্র চাপ ও জটিল পরিস্থিতির কারণে এই খনিজ সম্পদ এখনই উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস।
ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ নামে ৪৫ পৃষ্ঠার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও এবারের সম্মেলনের স্বাগতিক নরেন্দ্র মোদি ঘোষণাপত্রটি অনুমোদনের কথা জানান। ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত পরিবর্তন এনে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একতরফাভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাবিক ও বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে। ঘোষণাপত্র গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বকে পুরোনো ধাঁচের প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রতিনিধিত্ব, সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্কার এখন অপরিহার্য। মোদি আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সেগুলো পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ ব্রিকসের দেশগুলোর যৌথ অঙ্গীকারকে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করার দায়িত্ব তাদের। বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে। এতে বলা হয়েছে, ঢালাওভাবে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা বাড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যব্যবস্থার প্রসার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ব্রিকস নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব প্রবণতা বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেও ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে অবস্থান করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার এবারের সফরে ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি শুধু ভিভিআইপি পরিবহন নয়, বরং প্রয়োজনের সময় আকাশ থেকেই যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষ বিমান। এয়ার চায়নার পরিচালিত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল উড়োজাহাজটি শি জিনপিংয়ের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে তার জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এটি এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে এতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। যুক্ত করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিভিআইপি অভ্যন্তরীণ কাঠামো। ২০১৬ সালের শরতে বিমানটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এর আগে চীনের শীর্ষ নেতারা বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতেন। কোনো বিদেশ সফরের প্রায় ২০ দিন আগে এসব বিমানে অস্থায়ীভাবে বিশেষ ভিভিআইপি কেবিন স্থাপন করা হতো। সফর শেষে সেই পরিবর্তন সরিয়ে বিমানগুলোকে আবার বাণিজ্যিক কাজে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আলাদা বিমান বহর পরিচালনার খরচ কমানোর পাশাপাশি চীনের বিদ্যমান বিমান পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব হতো। কী আছে শি জিনপিংয়ের বিমানে? শি জিনপিংয়ের বর্তমান রাষ্ট্রীয় বিমানের দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ৪ মিটার। এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কেজি। চারটি জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স-২বি৬৭ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিমানটি পরিচালিত হয়। বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৮২ কিলোমিটার এবং জ্বালানি পুনরায় না নিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। তবে উড়োজাহাজটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে স্যাটেলাইটনির্ভর সামরিক মানের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং বিদেশে অবস্থান করেও চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এতে উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে পাল্টা ব্যবস্থা থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ সরঞ্জামকে শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইএমপি শিল্ডিং ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইএমপি বা তড়িৎচুম্বকীয় পালস হলো অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির আকস্মিক নির্গমন, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের কার্যক্রম ব্যাহত বা অচল করে দিতে পারে। ইএমপি শিল্ডিংয়ে বিশেষ উপাদান, প্রতিবন্ধকতা ও ফিল্টার ব্যবহার করে এ ধরনের শক্তির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হয়। কারা ব্যবহার করেন এই বিমান? চীনের এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ারের আন্তর্জাতিক সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত ভাড়া করা বিমানে বিদেশ সফর করেন। এসব বিমানও সাধারণত এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরের অংশ। রাষ্ট্রীয় সফর ছাড়া সেগুলো নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পরিচালিত হয়। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান ব্যবহারের নমনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান বিমানসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ বিমান ঘিরে পুরোনো বিতর্ক চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তিত একটি বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান চীনের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। ব্যবহারের আগে ওই বিমানে ২৭টি গোপন শ্রবণযন্ত্র বা আড়িপাতার ডিভাইস পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি এখনো একটি বিতর্কিত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের আলোচিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে। তবে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় এসব আলোচনার গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মালয়েশিয়াকে অবশ্যই আইনের শাসন অনুসরণ করতে হবে। ভারত সরকারের প্রত্যর্পণের দাবির পেছনের কারণ তারা বুঝতে পারছেন বলেও জানান তিনি। তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব—দুটিই বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ ও ‘পিস টিভি’র বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার পর তিনি ভারত ছাড়েন এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থান নেন। পরে মালয়েশিয়া সরকার তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। ভারত সরকার ইতোমধ্যে জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে মালয়েশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এর আগে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আর মনে হয়, আয় আয় চাঁদ মামা ছড়া বলা যাবে না। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করেছেন। চাঁদের মালিকানা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চাঁদ তাঁদের দেশের সম্পত্তি। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘চাঁদ আমাদের’। ছবির পাশে তিনি একটি মার্কিন পতাকা যুক্ত করেন। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি স্পেস ফোর্সের নতুন কালো পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এসব পোস্ট স্টার ওয়ার্স সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্টার ওয়ার্স ইম্পেরিয়াল মার্চ বাজানোর কথাও বলেন কেউ কেউ। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের পরে কি তবে সূর্য দখল করা হবে। আরেকজন প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের বাসিন্দাদের কীভাবে সতর্ক করা যাবে। ছবিতে ট্রাম্পকে ডিসি সুপারহিরো গ্রিন ল্যান্টার্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে একটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাওয়ার রিং বা ক্ষমতা বলয়। পোস্টের সঙ্গে সুপারহিরোর বিখ্যাত শপথ বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উজ্জ্বল দিনে বা অন্ধকার রাতে কোনো মন্দই চোখের আড়ালে থাকবে না। মন্দের উপাসকেরা ক্ষমতার ভয় করবে, কারণ তাদের সামনে রয়েছে গ্রিন ল্যান্টার্নের আলো। প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালের মহাশূন্য চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদ দখল করতে পারে না। আমেরিকাসহ ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সার্বভৌমত্ব বা দখলের মাধ্যমে কোনো দেশ মহাশূন্যের কোনো বস্তুও দাবি করতে পারবে না। আর তাই চাঁদের মালিকানা দাবি ও স্পেস ফোর্সের পোস্ট নিয়ে অনলাইনে বেশ উদ্বেগ দেখা গেছে। সূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ‘ভিরগো ট্রান্সপোর্ট-৮’ জাহাজের ১০২ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনের মরদেহও উদ্ধার হয়েছে। এখনো নিখোঁজ থাকা যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই তৎপরতা শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। নিখোঁজদের সন্ধানে হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে জাহাজটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিল। জাহাজটি জাভা প্রদেশের সুরাবায়া থেকে কালিমানথান প্রদেশের রাজধানী বানজারমাসিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। গন্তব্য থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার সময় জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া অবস্থান ধরে উদ্ধারকারী দল সেখানে অভিযান শুরু করে। দ্বীপভিত্তিক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে স্থানীয়দের কাছে যাত্রীবাহী জাহাজ ও ফেরি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে গত মাসে মাদুরা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। সম্মেলনে শি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী।” চীনের প্রেসিডেন্ট ব্রিকস দেশগুলোকে “ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর” আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে নেতৃত্ব দিতে হবে। শি ব্রিকস সহযোগিতা কাঠামোকে “উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে উল্লেখ করেন। “শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকভিত্তিক সংঘাতের” বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ব্রিকসকে অবস্থান নিতে হবে। সব ধরনের সংরক্ষণবাদ প্রত্যাখ্যান করে শি জিনপিং ব্রিকসকে সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্রসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর জোরদারের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব সমুন্নত রাখতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে। সূত্র: আনাদোলু
আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় থেকে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে জানা যায়নি। খবর আল জাজিরার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় ইউকেএমটিও জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১১টায় হামলার বিষয়টি তাদের জানানো হয়। তবে জাহাজটির ক্রুদের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলএবং কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা। সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল। ইয়াহিয়া সারি পোস্টে লেখেন, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য। সেখানে থাকা অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সারি বলেন, এসব স্থাপনা হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। এদিকে, এই সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার এই দাবি সামনে এলো।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সে দেশের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার হুতিরা বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। তাদের দ্রুতগতির এ অভিযান শুক্রবারও অব্যাহত ছিল। ওই দিন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হুতিদের অব্যাহত অভিযান ও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ইয়েমেন সরকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে। ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের এই সাফল্য পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলোর একটি। এ অভিযান সৌদি আরব ও দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বছরের শুরুতে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুতিরা। এখন বাব আল-মান্দেব বন্দর ও নৌপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরের প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেবের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কিন্তু হুতিরা লোহিত সাগর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে? ইয়েমেনে কী ঘটছে? ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হুদাইদা দখল করে সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করে। ইরানের সমর্থন নিয়ে হুতিরা এরপর সৌদি আরব-সমর্থিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। ওই জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সদর দপ্তর এডেনে। ইরানের প্রভাব বাড়তে থাকায় তা ঠেকানো এবং ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে লড়াই থামলেও এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে। গত সপ্তাহে নতুন করে লড়াই শুরু হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতগুলোর একটি। লোহিত সাগর উপকূল দখলের লক্ষ্য ধরে হুতিরা বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালায়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে তারা। সরু এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে হতো, ইরান সেটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৌদির জন্য হুতিদের অগ্রগতির কী প্রভাব বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাব আল-মান্দেব করিডরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে। এতে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে। সৌদি আরবের জন্য এর অর্থ হতে পারে তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা। ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার পর সৌদি আরব দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন আরও বেশি ব্যবহার করছে। আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে বিশাল আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে এই পাইপলাইন লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে উপসাগর দিয়ে না পাঠিয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে যাতে বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায় সে জন্য ১৯৮০-এর দশকে পাইপলাইনটি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে হুতিদের ড্রোন হামলার সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব পাইপলাইনটির সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যেত, এখন সেখানে দেশের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগর উপকূলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন ২১ শতাংশ বেড়েছে। এর পাল্টায় লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিশানা করেছে। এখন পুরো ইয়েমেন উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সৌদি তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে। ইরানের কী লাভ? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন একটি বড় ফ্রন্ট খুলতে চাইছে হুতিরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় তেহরানের হাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সুবিধা তুলে দিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে। তবে ওই পথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে যাওয়ায় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেখানে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আলম সালেহ বলেন, “এর অর্থ কার্যত ইরানের হাতে এখন হরমুজ প্রণালি এবং ‘হরমুজ প্রণালী প্লাস’—দুই পথেরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।” এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও বাড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ওই সময়ের আগে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। অধ্যাপক সালেহ বলেন, তেহরানকে চাপ দিতে হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় ক্রমেই কমে আসছে। তার মতে, “হুতিদের এই বিজয় শুধু ইরানের পক্ষে শক্তির ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়নি, চীন ও রাশিয়ার মতো অন্য শক্তিগুলোকেও বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রভাব কমছে। “ইরান এখন বৈশ্বিক তেলের দাম ও জ্বালানি নিরাপত্তার কার্ড খেলেছে। তাই হুতিদের হাতে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া ইরানের জন্য বড় ধরনের সুবিধা।” লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হুতিরা? বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পরাজয় অনেকটা হুতিদের হাতে সহজেই তুলে দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীতে আনুমানিক ৩ লাখ সদস্য রয়েছে। বিপরীতে হুতিদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং সৌদি আরবের বাইরের চাপের কারণে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত খণ্ডিত। হুতিদের মতো দ্রুতগতির ও কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সমন্বয় প্রয়োজন, তা তাদের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি হুতিদের বিষয়ে বলেন, প্রায় এক দশক আগে সৌদি বাহিনী যে শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল, বর্তমান হুতি বাহিনী তার তুলনায় সম্ভবত আরও উন্নত একটি যুদ্ধশক্তি। গত কয়েক বছরে ইরানের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পাওয়ায় হুতিরা বড় ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, বলেন তিনি। তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল জাজিরাকে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য পেলেও শাসন পরিচালনায় হুতিরা ‘ভয়াবহ’ এবং বাব আল-মান্দেবে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম। তার মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণ তাদের অবমূল্যায়ন নয়; বরং সৌদি-সমর্থিত জোটের সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালেহ বলছেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য হুতিদের পুরো বাব আল-মান্দেব কিংবা পুরো লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনও নেই। তার মতে, “সামান্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করাই জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট। “তারা যদি মনে করে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলেই হুতিদের উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হবে।” এখন প্রশ্ন, নিজেদের বিমান শক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব হুতিদের অগ্রযাত্রা কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারবে কি না। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তাতে হুতিদের অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এমন ঝুঁকি নিতে চায় না দেশগুলো। ওয়াশিংটনের সহায়তাও আপাতত অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে এক সপ্তাহের দুই নেতার মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ। মূলত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের অবশিষ্ট বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথগুলো রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সর্বোচ্চ চাপের নীতির মাঝে এই সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি তুলে ধরছে। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপে জোর দিয়ে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ভারত। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্যবাহী জাহাজের জন্য নিরাপদ জলপথ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত না হয়। ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া ভাষণে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ভাঙার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান জানান। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের মুখে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো একক দেশ যাতে আর্থিক হাতিয়ার ও নিষেধাজ্ঞাগুলোকে একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে ব্রিকস জোটের একটি সুরক্ষিত বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকেও নরেন্দ্র মোদি ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ভারতের বিস্তৃত কূটনৈতিক সম্পর্কের সদ্ব্যবহার করে সংঘাতপূর্ণ পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি
জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জুলাইয়ে তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ করা উচ্চ রেজলিউশনের স্যাটেলাইট ছবির সম্পর্ক আছে বলে জেনেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। শুক্রবার মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে। ১৭ জুলাই জর্ডানে মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তখন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিটির এক আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। তাতে তিন মার্কিন সেনা নিহত ও আরও চারজন আহত হন। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ওই হামলার আগে-পরে তেহরান স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল আর এই তথ্যটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, যুদ্ধ চলাকালে ইরানকে দেওয়া চীনের সহায়তা মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রাণঘাতী পরিণতি বয়ে এনেছিল। সংবাদপত্রটি আরও জানিয়েছে, বেইজিং সরাসরি যুক্ত ছিল, এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি ওয়াশিংটন আর চীনা সরবরাহকারীদের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি। খবর অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের সমপর্যায়ের চীনা কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলেছিল, কিন্তু তারা (চীনা কর্মকর্তারা) অভিযোগ অস্বীকার করেন আর প্রমাণ দাবি করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ‘অজ্ঞাত পক্ষগুলো বেইজিংকে এই সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করছে’ বলে অভিযোগ করেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা আছে। এর সপ্তাহ কয়েক আগে এই তথ্যটি উদ্ঘাটিত হয়েছে। ওয়ালি স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সম্মেলনটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বেইজিংয়ের সঙ্গে এমন যে কোনো প্রকাশ্য বিরোধ এড়াতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে ছবি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মে-তে তিন চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন। আর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে চীনা তথ্য তেহরানকে সম্ভবত সাহায্য করছে, এমন আশঙ্কায় এখন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ইয়েমেনে হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এ অবস্থান জানান। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনায় সৌদি আরবের প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘সংহতি’ প্রকাশ করেন মিলিব্যান্ড। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলপথে নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া চলমান সংকটের প্রভাব থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইয়েমেনের হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এই সমর্থন এলো। সূত্র: আল জাজিরা
লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের পর ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও অগ্রসর হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। স্থলপথে তাদের বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে না হলেও আকাশপথে হুথিদের অবস্থান ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মোখা দখলের সময় সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়। এরপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আসা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান হামলায় হুথিদের কয়েকটি সাঁজোয়া যান এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাইজ এলাকায় হুথিদের অস্ত্রবাহী ট্রাক, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া হুথিদের একটি বহরেও হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। ওই বহরটি অন্য এলাকায় অবস্থানরত হুথি যোদ্ধাদের জন্য রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে বিমান হামলা সত্ত্বেও স্থলভাগে হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। মোখা দখলের পর সেখানে পাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অন্য এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছে। বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক আক্রমণের ঝুঁকি কমাতেই তারা এ কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোখা বন্দরের পাশাপাশি বিমানঘাঁটি ও বিভিন্ন কমান্ড সেন্টারেও বড় ধরনের হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় হুথিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আকাশপথে হুথিদের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত করার চেষ্টা থাকলেও স্থলভাগে তাদের প্রতিহত করার মতো কার্যকর প্রতিরোধ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোনো বড় বাধা ছাড়াই হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনের আরও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী। তড়িৎ অভিযান চালিয়ে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে মোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের ওপর বিমান হামলার তথ্য শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনি সরকার। দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা সাবা জানিয়েছে, সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইরান সমর্থিত হুথি সন্ত্রাসীদের সামরিক যান ও তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের উল্লেখযোগ্য সেনাকে হত্যা ও সামরিক যান ধ্বংস করেছে। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আব্দুল্লাহ আল-নাজিলিও একই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মোখা থেকে ১১ কিলোমিটার দূরের মোখা-ধুবাব সড়কে হুথিদের সেনাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব এল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে হুথিরা মোখা বন্দর দখলের উদ্দেশে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে। তাদের এ অভিযানে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। অপরদিকে আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। এরসঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪৬ হাজার মানুষ। হুথিদের কাছে মোখার নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এখন এটি আবার পুনর্দখল করার চেষ্টা করছে ইয়েমেনের সরকার। এতে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করছে সৌদি আরব।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসেছে ব্রিকস জোটের বড় বৈঠক। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেন, অন্য দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে এবং কোনো দেশের বাণিজ্য আটকে রাখা যাবে না। তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না মেনে সবাইকে এক হয়ে ব্যবসা ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে কেবল ধ্বংসের পথেই ঠেলে দিচ্ছে। এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার কথা তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের সূচনাতেই জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের অর্ধেক মানুষ ও ৪০ শতাংশ অর্থনীতি এখন আমাদের হাতে। ক্ষমতার পুরোনো নিয়ম ভেঙে এমন এক বিশ্ব বানাতে হবে যেখানে ছোট-বড় সব দেশের সমান অধিকার থাকবে। সূত্র: এএফপি।
ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন। রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়। পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন। বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ‘ডুমসডে প্লেনে’ ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিধিনিষেধ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনসহ মোট ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আইনে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আচরণগতভাবে আসক্তি তৈরি করে এমন কিছু ফিচারের সংস্পর্শে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এআই-চ্যাটবটযুক্ত খেলনা তৈরি ও বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিউজমের কার্যালয় জানিয়েছে, তরুণদের প্রযুক্তিজনিত ঝুঁকি কমানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা জোরদার করতেই এসব আইন করা হয়েছে। নতুন বিধানগুলোর মধ্যে শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণসংক্রান্ত আইনের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন ১৮ বছরের কম বয়সি কাউকে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখানো যেকোনো এআই-নির্মিত কনটেন্টও ওই আইনের আওতায় পড়বে। আরেকটি আইনে আগামী চার বছর এআই-চ্যাটবটযুক্ত ‘কম্প্যানিয়ন’ খেলনা তৈরি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরেকটি আইনে চ্যাটবট প্রোগ্রামে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাডামস ল’। ১৬ বছর বয়সি অ্যাডাম রেইনের স্মরণে এ নাম রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন অ্যাডাম। তার বাবা-মায়ের দাবি, আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কয়েক মাসের আলোচনার পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন চললে সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কম নির্ভরযোগ্য’ হয়ে পড়েছিল বলেও প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে। নিউজম বলেন, আমরা চাই আমাদের শিশুরা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিটি শিশু এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠুক, যেখানে প্রযুক্তি তাদের কল্যাণে কাজ করবে, তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগাবে না। গুগল, মেটা ও স্ন্যাপের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবাসস্থল ক্যালিফোর্নিয়া এখন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপকারী যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো। তবে আইনটির সমালোচনাও হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন এটিকে তরুণদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। নতুন আইনে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে শোষণমূলক’ ফিচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অসীম স্ক্রলিং ফিড, অ্যালগরিদমনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু এবং ভবিষ্যৎ বিধিমালায় নির্ধারিত অন্যান্য ফিচার। ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের আগে ইউটাহসহ আরকানসাস, লুইজিয়ানা, ওহাইও, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি আরবের মূল তেল পাইপলাইনে হামলার পেছনে সম্ভবত ইরানই রয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, আর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এর পেছনে ইরানের যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করে বলেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। হুথিদের স্বভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা অযথাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেয়। সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তার খুব ভালো বন্ধু। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা নিয়ে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে জানান, চিন্তার কিছু নেই—যতই সমস্যা থাক না কেন, জলঘোলা হবে না এবং শেষ পর্যন্ত সবকিছুই সুন্দরভাবে সমাধান হয়ে যাবে। সূত্র: আল-জাজিরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।