আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ইউরোপমুখী যাত্রা ‘বড় ভুল’: ওয়াশিংটন পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার আগ্রহ কানাডার না-ই থাকতে পারে, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা করাটা তাদের জন্য হঠকারিতা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন পোস্ট।   বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ব্যাপক আয়োজন করে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাত— সব দিক থেকে অটোয়াকে ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলসমুখী করতে চাইছে ইউরোপীয় কমিশন। এ বিষয়ে আগামী মাসের সম্মেলনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে। ‘মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ওয়াশিংটন পোস্টের চোখে, কার্নি মূলত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে দূরে সরে যেতে চাইছেন। যে জোট উত্তর আমেরিকার জন্য বিপুল সমৃদ্ধি বয়ে এনেছে, সেখানে বিচ্ছেদ ঘটে গেলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের ভাষায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও জটিল সম্পর্ক রয়েছে। তারা জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজারে ২৭টি সদস্য দেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য সরবরাহকে সহজ ও উন্মুক্ত করে। কিন্তু জোটের বাইরের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা রয়েছে। তারা বাণিজ্যে নানা বাধা তৈরি করে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে তারা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রাসেলসের মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি করতে বাধ্য করে। ওয়াশিংটন পোস্ট প্রশ্ন তুলেছে, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইউরোপের আমলাদের দ্বারা নির্ধারিত হলে বিষয়টি কেমন হবে, তা কি কানাডা ভেবে দেখেছে? ইউরোপীয় ইউনিয়নে কানাডার রাষ্ট্রদূত জনাথান উইলকিনসন বলেছেন, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয়— এমন কোনো চুক্তিতে তার দেশ রাজি হবে না। কিন্তু জোটে যোগ দিলে কোনো না কোনো মূল্য দিতেই হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, বুধবার ফন ডার লিয়েন যে ‘প্রযুক্তি জোট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে কি কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর কিছু তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা মেনে নিয়ে কর দিতে হবে? অথবা কানাডাকে কি ডিজিটাল সেবা কর চালু করতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন মাসের মাথায় কার্নিকে এমন একটি কর আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হয়েছিল? আইসল্যান্ডের ইইউয়ে যোগ দেওয়ার স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় চালু হবে কিনা, তা নিয়ে সেখানে গেল মাসে একটি গণভোট হয়। তাতে ভোটাররা আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে দেন। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, ইউরো অঞ্চলের মাছ ধরার কোটা দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ তাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেকে নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি মনে করে। জননীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই বললেই চলে, যেখানে তারা কঠোর নিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে না। এসব নিয়ম প্রায়ই জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে আসে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট একটি বড় উদাহরণ। ওয়াশিংটন পোস্ট মনে করে, কার্নির সঙ্গে ফন ডার লিয়েনের ঘনিষ্ঠতার আগ্রহের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, ট্রাম্প কী মাত্রায় তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সময় অনেক ক্ষত সারিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে নতুন করে সাজানোর সুযোগ আসছে। কারণ, ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু এর মধ্যে যদি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ চলতে থাকে, তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে? সম্পাদকীয়র শেষভাগে ওয়াশিংটন পোস্ট উত্তরে লিখেছে, “এর ভয়াবহ পরিণতি সীমান্তের দুই পাশে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর ততদিনে কানাডার মানুষ হয়তো নিজেদের ব্রাসেলসের আমলাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাবেন।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-হুতির পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন ইয়েমেনিরা

লোহিত সাগরের দিকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে অক্টোবর মাসে কোনো অপরিশোধিত তেল না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরামকো।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে ব্লুমবার্গ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত সৌদি আরব থেকে তেল কেনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে। তবে আগামী মাসে সেই সরবরাহ রিফাইনাররা পাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত সপ্তাহে হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। বিষয়টি সঙ্গে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগতে পারে ছয় সপ্তাহ।   ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত। ব্লুমবার্গ লিখেছে, পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকোর কিছু ক্রেতার মধ্যে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়। পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ওরলেন গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য দশটির বেশি দরপত্র ডেকেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে জানিয়েছে, জুনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দলের নাম-প্রতীক হারানোর পর মুখ খুললেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।    শুক্রবার কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করেছে। বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই ব্যবস্থা আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে।   এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার দাবি, এইভাবে একটি ২৮ বছরের পুরনো দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া যায় না।   মমতার কথায়, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ হলেও আমরা মাথানত করব না।’ তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনের যাবতীয় নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারপরও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।মমতার আরও অভিযোগ, ‘মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।’ তার দাবি, দেশে বহু নামহীন রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, তৃণমূলের ক্ষেত্রে কেন তা নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই কমিশন এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। ফলে দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক বিধির অধীনে বিস্তারিত প্রক্রিয়া শেষে।   এদিকে মমতা বিরোধী শিবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, যারা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে, তারা দলের স্বার্থের কথা ভাবছে না।    তার দাবি, প্রকৃত তৃণমূল কে এবং কারা অন্য পরিচয়ে দলকে দখল করতে চাইছে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যাবে।তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত তৃণমূলের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ভোটের মাঠে নামতে হবে। মমতা জানিয়েছেন, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও তিনি জানিয়েছেন। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ায় ফিজিতে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা

এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। একই সঙ্গে এইচআইভি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই ফিজিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এ হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। এ ছাড়া এইচআইভি-সম্পর্কিত জটিলতায় শিশুমৃত্যুও বাড়ছে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবহার বৃদ্ধি, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, একই সুচ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং ‘ব্লুটুথিং’ নামে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ মাদক গ্রহণের প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।   ‘ব্লুটুথিং’ বা ‘হটস্পটিং’ হলো এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি, যেখানে মাদক গ্রহণকারীরা ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে নেয়। একই সুচ ব্যবহারের কারণে এতে এইচআইভিসহ রক্তবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফিজিতে সুচ সহজলভ্য না হওয়ায় একাধিক ব্যক্তি একটি সুচ ভাগাভাগি করেও মাদক গ্রহণ করছে।   সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুচ ও সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে তোলা হবে।   এইচআইভি আক্রান্তদের পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়ে লালাবালাভু বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কারণে কারও লজ্জিত, হুমকির মুখে বা বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। সামাজিক কলঙ্ক মানুষকে সেই সেবা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাদের সহায়তা করতে পারে।’   জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানতেন। আর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের হার ৭৮ শতাংশ।   ফিজির জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল মনে করেন, দেশটিকে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি।   এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ফিজির স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে বলে জানান মিচেল। চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসায় স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।   এদিকে ফিজির জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেছেন, এ ঘোষণা সরকার ও সমাজের সব পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এইডস এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং এইচআইভি মহামারির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের কাছে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।   প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুরোনো পুলিশ লাইনসের কাছে ওই মসজিদটি অবস্থিত। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে।   বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি।   কোহাট জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট (এমএস) তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, হামলার পর হাসপাতালটিতে ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে।   ডন-কে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। তিনি বলেন, একটি গাড়িতে থাকা আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে ভবনের ফটকে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়। আর তিনজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে চলে যায়।   রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফয়জি জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।   তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ছবি: সংগৃহীত
ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা এরদোগানের

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়তে পারেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার।    এরদোগানের উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, সংসদের ৬০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হতে পারে। তিনি সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ওই বছরের ১৬ এপ্রিলের কথা বলেছেন।    তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন সাধারণত ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে আগাম নির্বাচন ডাকা সম্ভব। এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।     বর্তমানে এরদোগানের একে পার্টি এবং জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ ৩৬০ ভোটের প্রয়োজন হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।   এতদিন তুরস্কের সরকার বলে আসছিল, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি এরদোগানের দল একেপির মুখপাত্র ওমের চেলিকও সম্প্রতি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।    তবে এরদোগানের উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।   এরদোগানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।   পরে এরদোগানের সময়েই তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতি থেকে প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তিত হয়। এরপর তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন।   ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এরদোগান সেটিকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছে তাকে আরেকবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   তবে আগাম নির্বাচন হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তুরস্কের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় সংসদ আগাম নির্বাচন ডাকলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।    ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি আগেই হবে—এবং হলে এরদোগান আবারও প্রার্থী হবেন কি না, এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে চীন-রাশিয়ার ভেটো

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তদারককারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি খসড়া প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির আওতাধীন এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল।    বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে ভেটো প্রদানকারী দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়, আর পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।   জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু চং খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের জন্য ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ও সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে দায়ী করেন এবং সতর্ক করে বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা সংকট আরও বাড়াবে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর রেজোলিউশন ২২৩১-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বেইজিং জানায়, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আলাদা আলোচনার আইনি ভিত্তি আগেই সমাপ্ত হয়েছে। চীন নিরাপত্তা পরিষদকে একতরফা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের মঞ্চ না বানিয়ে বহুপাক্ষিক কূটনীতির স্বার্থে গঠনমূলক পথ খোঁজার পরামর্শ দেয়।   অন্যদিকে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া ১৭৩৭ কমিটিকে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো আইনি উপায়ে ইরানের ওপর পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো বা ‘স্ন্যাপব্যাক’ মেকানিজম পুনর্বহাল করা হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর এই বৈঠক আইনগত ও কার্যপ্রণালীগতভাবে ভিত্তিহীন। নেবেনজিয়া জানান, মস্কো আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার বার্তা দিয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থানের পথই বেছে নিয়েছে।   ভোটাভুটিতে বিরত থাকা পাকিস্তানের প্রতিনিধি পরমাণু ইস্যুর সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    সূত্র: মেহের নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তাইজে ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৩০ হুথি নিহতের দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।   শুক্রবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ ও বিমান হামলার পর হতাহতের এই তথ্য জানিয়েছে সেনাবাহিনী।   সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সময় হুথিদের সামরিক যান ও বিভিন্ন সমাবেশস্থলে বিমান হামলা চালানো হয়। একইসঙ্গে তাইজ এবং লোহিত সাগরের তীরবর্তী মোচা এলাকায় হুথিদের রসদ সরবরাহের পথ ও সেনা মোতায়েনের অবস্থানেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।   এর আগে তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের হামলা প্রতিহত এবং তাদের অবস্থান ও শক্তিবৃদ্ধির জন্য আসা বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   তবে ৩০ জন নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার সংখ্যাটি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দেওয়া হিসাব। এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান করে পাকিস্তান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়: ডিজি, আইএসপিআর

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর কোনো আগ্রহ পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে এবং পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না।   আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রকে ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রচলিত হামলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভারত প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে—এ বিষয়টি পাকিস্তান অবগত। তবে ইসলামাবাদ এটিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখতে চায় না।   আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে আগ্রহী নয়। তবে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তার দাবি, সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ওডিশার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা হয়েছে।   ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার উন্নয়নও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।   এদিকে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পাকিস্তান প্রকাশ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলার কথা বললেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া

অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।   ইতালীয় সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল অঙ্কের পরিচালন ব্যয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিক এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‌‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।    সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি তাদের ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করতে চাইছে, অন্যদিকে পুরানো জাহাজটি উপহার দেওয়ায় সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।   থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।   প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজেক্টের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১ এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীটি আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই খরচ হতে পারে অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৯০ কোটি ডলার)।   বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।   অন্যান্য পরাশক্তি নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এটি ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া এই জাহাজটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপ জুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং সামুদ্রিক অভিযানের একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার ও সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।   চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।   সূত্র: গার্ডিয়ান। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
হুতিদের দমনে চীনের সহায়তা চায় সৌদি আরব

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেহরানের সহায়তা চেয়েছে চীন। গত এক সপ্তাহে হুথিদের সামরিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর সৌদি আরব চীনের দ্বারস্থ হয়। সংশ্লিষ্ট তিন ইরানি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।   সূত্রগুলোর দাবি, লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের দ্রুত অগ্রগতির পর চীনের কাছে সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। এতে সৌদির তেল রপ্তানি ও নৌযান চলাচল আরো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   এ বিষয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানালেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইরানকে আরো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বেইজিং চায়, হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংঘাত যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, বিশেষ করে চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোতে। তবে কিভাবে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে বা বুধবার চীনে সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য, তেহরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে হলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। চীনও ইরানকে অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার কোনো হুমকি দেয়নি বলে সূত্রগুলোর দাবি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আরো ছড়িয়ে পড়ুক—এটি চীন চায় না। দেশটির মতে, ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।   সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে চীন বলেছে, মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি আরো জটিল করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বানও জানিয়েছে বেইজিং।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিরাপদে বের হলেন পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন পাইলট।   বৃহস্পতিবার মিশিগানের ট্রাভার্সি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত বিমানটি টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি ইউনিটের এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন ছিল।   টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিশিগানে তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই পাইলট ইজেকশনের মাধ্যমে বের হয়ে যান।   বিমানটি যে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী।   এয়ার ন্যাশনাল গার্ড হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি রিজার্ভ উপাদান। দেশটির অভ্যন্তরীণ আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষাসহ বিভিন্ন সামরিক ও জরুরি কার্যক্রমে এই বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।   এদিকে মিশিগান থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর গ্রে পিটার্স জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   সূত্র: এএফপি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে নিজ দেশের কোনো সেনা বা সামরিক সদস্য না পাঠানোর কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং।   দেশটির সংবাদসংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।   সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি জানান, অন্য দুই দেশের মধ্যবর্তী কোনো যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়াতেই সরকারের পক্ষ থেকে সেনা না পাঠানোর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    তবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন রুটের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেবে।   সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে সেনা পাঠানোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় এবং দেশজুড়ে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। জনমতের এই প্রবল চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখেই সিউলের পক্ষ থেকে এ আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করা হলো।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণসহ নানা নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের তীব্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের লড়াই লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করায় পুরো অঞ্চলের জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানের জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিমুখী সংকট তৈরি করেছে। একদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় দেশে মারাত্মক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই কঠিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরকারি ব্যয় কমাতে পাকিস্তান সরকার একগুচ্ছ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।   দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতকে রক্ষা করতে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে সম্প্রতি একটি জরুরি সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। এতে ঘোষণা করা হয়, আগামী তিন মাসের জন্য সমস্ত সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া পুরো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর্মচারী ব্যতীত অন্য সামগ্রিক খরচ বা বাজেটে ৫ শতাংশ কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সরঞ্জাম ছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের টেকসই বা স্থায়ী সরকারি পণ্য ক্রয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি সরকারের গাড়ি কেনাও পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নেমে এসেছে কঠোর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা। আগামী তিন মাস যেকোনো ধরনের সরকারি বিদেশ সফর কিংবা ট্রাভেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো বাধ্যতামূলক বা জরুরি সফর হলেও এই নিয়ম শিথিল করা হবে না, তবে শুধুমাত্র স্কলারশিপ বা শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা ছাড় পাবে।   জ্বালানি অপচয় ও যাতায়াত খরচ কমাতে কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে বা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে যাবতীয় মিটিং সারতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রেও কাটছাঁট করা হয়েছে সমানে; সব ধরনের সরকারি নৈশভোজ বা অফিশিয়াল ডিনার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহারের ওপরও কিছু সামাজিক বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনামা অনুযায়ী, দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে অতিথিদের জন্য 'ওয়ান ডিস' পরিবেশন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।   চলতি বছরে পাকিস্তানে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসেও সরকার জ্বালানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছিল। সে সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে টানা দুই সপ্তাহের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল, সরকারি দপ্তরে তেলের ব্যবহার কমানো হয়েছিল এবং কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার আরও বেশি উত্যক্ত হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   বিশ্ববাজারের উত্তাপের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির স্থানীয় খুচরা বাজারে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এই রেকর্ড মূল বৃদ্ধির পর দেশটির বাজারে পেট্রোলের দাম দাঁড়ায় প্রতি লিটার ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং ডিজেল পৌঁছায় ৪১৫.৮৩ রুপিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও মধ্যবিত্তরা। মুদ্রাস্ফীতির এই তীব্র চাপ থেকে কম আয়ের মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পাকিস্তান সরকার একটি বিশেষ জ্বালানি ত্রাণ স্কিম চালু করেছে।   জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক সরকারের এই জ্বালানি ত্রাণ নীতি ব্যাখ্যা করে জানান, খুচরা মূল্যের এই মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার প্রতি লিটারে ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী মোটরসাইকেল, রিকশা এবং ছোট গাড়ির মালিকরা নির্দিষ্ট একটি মাসিক কোটার ভিত্তিতে প্রতি লিটার পেট্রোলে ১০০ রুপি (বা প্রায় ৩৬ সেন্ট) করে বিশেষ ভর্তুকি সুবিধা পাবেন।    সূত্র: দ্য প্রিন্ট

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে অভিবাসী শিবিরে ছুরি হামলা, ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তির ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অভিবাসীদের একটি শিবিরে ছুরি নিয়ে হামলা ও দুই ব্যক্তিকে আহত করার ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম উইলিয়াম মালেত। চলতি সপ্তাহে প্যারিসের ফৌজদারি আদালত তাকে এই সাজা দেন। অন্য একটি মামলায় তিনি এর আগে থেকেই বিচার-পূর্ব হেফাজতে ছিলেন।   ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর প্যারিসের ১২তম অ্যারোনডিসমেন্টের বেরসি পার্কে অবস্থিত অভিবাসী শিবিরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছুরি নিয়ে শিবিরে প্রবেশ করে মালেত দুই অভিবাসীকে আহত করেন এবং বেশ কয়েকটি তাঁবু কেটে ফেলেন।   বিচারের সময় মালেতের সঙ্গে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লিবেরাসিওর বরাত দিয়ে জানা যায়, শুনানি শুরুর এক সপ্তাহ আগে তিনি আদালতের কাছে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক তাকে জানান, আবেদনটি অনেক দেরিতে করা হয়েছে।   তদন্ত চলাকালে মালেত আফ্রিকান, মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর প্রতি তার বিদ্বেষের কথা প্রকাশ করেছিলেন বলে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) সমর্থক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।   হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এক সুদানি নাগরিকের আইনজীবী গ্লোরিয়া হার্নান্দেজ দেলগাদো আদালতে মালেতকে ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তিকে মানসিক ক্ষতির জন্য ২ হাজার ইউরো এবং তাঁবুর ক্ষয়ক্ষতির জন্য আরও ৫০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   মামলায় নাগরিক সমাজের সংগঠন ম্যাজো দে পোতও দেওয়ানি পক্ষ হিসেবে অংশ নেয়। সংগঠনটির সভাপতি স্যামুয়েল থমাসের বক্তব্য অনুযায়ী, মালেত হামলার সময় যত বেশি সম্ভব বিদেশিকে আহত করতে চেয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে ভয় তৈরি করাই তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।   হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন অভিবাসী কাছাকাছি আওরো পরিচালিত একটি দিনের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। সে সময় প্যারিসে মেদসাঁ দ্যু মোন্দের (এমডিএম) সমন্বয়কারী ক্লোতিল্দ কলম্ব জানিয়েছিলেন, হামলার পর তারা ভীত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।   অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইতুপিয়া ৫৬-ও ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, হামলার পরও অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা হতাশ। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম দেশের জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে সৌদি ও হুথি উভয়ই

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই মুসলিম বিশ্বের জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমারসে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হুথিদের ড্রোন হামলার প্রচেষ্টাকে সামনে এনে সৌদি আরব অন্যান্য মুসলিম দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মক্কার মতো ইসলামের পবিত্র স্থানের দিকে হামলার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করছে রিয়াদ।   অন্যদিকে হুথিরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিপীড়িত মুসলিমদের পাশে না দাঁড়িয়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।   অধ্যাপক এলমারসে জানান, হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে ২০১৫ সালের ঘটনাগুলো স্মরণ করেন। ওই বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করেছিল। পাশাপাশি গত জুলাইয়ে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।   হুথি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবই আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং নিজেদের অবস্থানকে তারা প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে তুলে ধরছে।   অধ্যাপক এলমারসে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক চাপের কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এশিয়ায় সৌদি আরবের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের কারণে ওই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরে তেল নিয়ে গিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে এশিয়ার বাজারে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।   তবে ওই পথও বর্তমানে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে এশিয়ায় যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে পরিবহন ব্যয় এবং তেলের সামগ্রিক খরচ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক এলমারসে।   তিনি আরও বলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার কারণে এটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব অন্যান্য দেশের সহযোগিতা চাইছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ থেকে নির্দিষ্ট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি
সৌদিতে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় নিহত বিদেশি নাগরিক

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফে ড্রোন প্রতিহত করার সময় একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।   দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, নিহত ওই ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক। তিনি সৌদি আরবে বসবাস করতেন।   সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা তায়েফ লক্ষ্য করে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। সেটি প্রতিহত করার সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত দুজনের পরিচয় বা তাদের আঘাতের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।   চলতি মাসে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর এটি দেশটিতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইয়েমেনের হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবও নিয়মিত এসব হামলা প্রতিহত করার দাবি করে আসছে।   এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর কমে আসছে। এতে মহা বিপাকে পড়েছে রিয়াদ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে তারা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
শুধু পৃথিবীতে নয়, চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে এবার চাঁদের আশপাশের এলাকাকেও ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের আওতায় আনার সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশনীতি ও সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করা, টিকে থাকা এবং প্রয়োজন হলে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা থাকে। তাঁর মতে, যুদ্ধের জন্য একটি নতুন সীমান্ত তৈরি হচ্ছে এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে মানিয়ে নিতে হবে।   একই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্পেস ফোর্স মহাকাশ ও চাঁদের আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকা স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব।   এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা জানিয়েছিল। একই সম্মেলনে বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক জানান, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ‘কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, অবস্থান কিংবা ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর পরই গ্যাগননের বক্তব্যে চাঁদের আশপাশের এলাকাকে সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আনা হয়।   সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের কথাও উল্লেখ করেছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। গ্যাগনন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে যুদ্ধকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করার চেষ্টা করতে পারে। তাঁর দাবি, চীনের মতো দেশগুলো মহাকাশব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।   ২০২৪ সালে চীন নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মহাকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বাহিনীটি গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে। মহাকাশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং এর অস্ত্রায়ন, সামরিকীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে বেইজিং। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন কিংবা চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখার মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।   ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই স্বাক্ষরকারী দেশ। ওই চুক্তি অনুযায়ী, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে হবে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশে পাঠানো কোনো বস্তু বা মহাকাশযানের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তার দায় নিতে হবে। তবে মহাকাশে সব ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা চুক্তির কোন সীমার মধ্যে পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতার পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরীক্ষা পৃথিবী থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চাঁদের আশপাশের মহাকাশও সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। এতে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। দুই বছর আগে জাতিসংঘেও মহাকাশের সামরিকীকরণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি এবং মোতায়েন না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জাতিসংঘে একটি যৌথ প্রস্তাবও দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে এ ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ রয়েছে।   তবে ওই প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেয়। পরে মস্কোর পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা প্রস্তাব আনা হয়, যেখানে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র ‘চিরকালের জন্য’ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবও পাস হয়নি।   এদিকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্যাগনন জানান, আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করে প্রায় ২৫ হাজারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাড়তি সদস্যদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে।   গ্যাগননের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করছে। এর লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার মতো সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলা।   তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স মহাকাশের সব এলাকায় নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে মহাকাশে গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে স্পেস ফোর্সের নির্দিষ্ট নীতি কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন গ্যাগনন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধের পরিকল্পনা ইইউর

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। আর ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা বাবা-মা বা অভিভাবকের অনুমোদনে তৈরি ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো শুরু থেকেই শিশুদের জন্য নিরাপদভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।   ইইউর প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানদের অনলাইন ব্যবহারের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন।   তিনি বলেন, ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত আইনটি অভিভাবকদের এমন বিভিন্ন হাতিয়ার দেবে, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের নিরাপদ অনলাইন পরিবেশে চলাফেরায় সহায়তা করতে পারবেন।   প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজেদের নামে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। সূত্র: বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্য নিয়ে ইরানের হামলা হয়েছে ‘নিখুঁত’ : সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলায় সহায়তা করতে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে রাশিয়া। সিএনএন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে, রাশিয়ার শক্তিশালী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ইরানি বাহিনীকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সঠিকতা এবং কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশ্লেষণে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে গত ২৭ মার্চে সংঘটিত ইরানের ভয়াবহ হামলার ঘটনাটির ওপর। ওই হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হন এবং একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। কক্ষপথের স্যাটেলাইট গতিপথের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, হামলার ঠিক দুই দিন আগে রাশিয়ার 'কসমস ২৫৭৩' নামক একটি প্রধান গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ মোট ১৪টি রুশ কৃত্রিম উপগ্রহ ওই ঘাঁটিটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এসব স্যাটেলাইট যৌথভাবে অত্যন্ত নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম ছিল।   প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রযুক্তিগত বিষয়ের বিবরণ দিয়ে বলা হয়, রুশ স্যাটেলাইট বহরে অপটিক্যাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চমানের ছবি তোলার পাশাপাশি সিগন্যাল-ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির সাহায্যে রাডার ও রেডিও তরঙ্গের সংকেত শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ইনফ্রারেড প্রযুক্তি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর তাপীয় উপস্থিতি এবং সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) ব্যবহারের মাধ্যমে রাত কিংবা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির সম্মিলিত সহায়তার কারণেই ইরানি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।   কিং'স কলেজ লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ এই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, রাশিয়া মূলতঃ সুদে-আসলে আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেনি, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে।   সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বামে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
নতুন শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের কড়া সতর্কবার্তা

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারত।   মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রেখে একটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি এ সতর্কবার্তা দেয়।   রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি করা বিলটি বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।   বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতারা এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিলটি এখন ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।   ভারতের কড়া বার্তা বিলটি পাসের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছে ভারত।   নয়াদিল্লির বক্তব্য, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও পড়তে পারে। ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।   মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশের বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।   রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক ভারত রাশিয়ার তেলেরও বড় ক্রেতা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে শুরু করলে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো রুশ তেল কেনা বাড়ায়।   নয়াদিল্লি বরাবরই বলে আসছে, বিপুল জনসংখ্যা ও দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তাদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য পশ্চিমা চাপের মধ্যেও ভারত নিজেদের জ্বালানি নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।   ভারত অবশ্য বলছে, তারা একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে এবং বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে সরবরাহের উৎস নির্ধারণ করবে।   শুল্কের সিদ্ধান্ত এখনও ট্রাম্পের হাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়া মানেই ভারতের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। আইনটি কার্যকর হওয়ার জন্য এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এরপর কোন দেশ বা পণ্যের ওপর কী মাত্রায় শুল্ক আরোপ করা হবে, সেটি মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে মার্কিন সিনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করলে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।   ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাবের আশঙ্কা নতুন এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা চলমান। ফলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক দুই দেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলোও সম্ভাব্য উচ্চ ব্যয় ও সরবরাহসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।   অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন চাপের মুখে নয়াদিল্লি কীভাবে রুশ তেল আমদানি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

জাতীয়

শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে: প্রধানমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬