আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

 

তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।

ইরান কী আশঙ্কা করছে

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান

হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।

সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।

ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।

মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।

 

এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের সফর বাতিল ও পুনর্বহাল ঘিরে নাটকীয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রার্থী নন। এমনকি নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হেরে গেলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কোনো সমস্যা হবে না।     কিন্তু ট্রাম্প জানেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় তাহলে বাকি দুই বছর তিনি নিজের ইচ্ছামত দেশ চালাতে পারবেন না। তাই রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে তিনি চরকির মত ‍ঘুরছেন।     তবে তার প্রচারণা দল টানা ক্লান্তিকর সমাবেশ থেকে ট্রাম্পকে মুক্তি দিতে নির্ধারিত দুটি সমাবেশ বাতিল করেছিল। কিন্তু সমাবেশ বাতিলের খবরে নেতিবাচক প্রচারণায় বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প আবার সমাবেশ দুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।       চলতি মাসে নিজের ২৫তম মধ্যবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার সাউথ ক্যারোলাইনায় যাওয়ার সময়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নেয় কানসাসের সমাবেশে ট্রাম্প সশরীরে উপস্থিতির বদলে টেলিফোনে তার সমাপনী বক্তব্য দেবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর, আইওয়াতে নির্ধারিত আরেকটি সমাবেশও একইভাবে বাতিল করা হয়। এটি ছিল নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রেসিডেন্টের কৌশলের একটি নাটকীয় এবং আকস্মিক পরিবর্তন। কারণ এত দিন রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতে একের পর এক ক্লান্তিকর সমাবেশ করে নিজের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উদ্দীপনা বাড়ানোর ওপরই তিনি ভরসা করছিলেন।     সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে ফিরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মনে করেন না যে তার কানসাসে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে, কারণ রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল খুব ভালো করছেন। এই সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক কর্মী স্বস্তি পান। ট্রাম্প সশরীরে না গিয়ে টেলি-র‌্যালি (টেলিফোনে সমাবেশ) করবেন শুনে তারা খুশিই হয়েছিলেন। কারণ এগুলো সাধারণত আগে থেকে লিখে রাখা বক্তব্য অনুযায়ী চলে। ফলে ট্রাম্পের উল্টাপাল্টা কথা বলার আশঙ্কা কিছুটা কমে যাবে।     দুটি নির্ধারিত সমাবেশ বাতিলের বিষয়ে একজন শীর্ষ রিপাবলিকান কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি কোথাও তেমন বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারছিলেন না।’ কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি, পরিকল্পনা আবার বদলে গেল। কানসাস এবং আইওয়ার সমাবেশ দুটি আবারও বহাল করা হলো এবং দুটিই এখন রোববারের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের যে তুমুল নির্বাচনী প্রচারণার গতি আকস্মিকভাবে শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা এখন আবার পুরোদমে বাড়তে শুরু করল। শুক্রবার বিকেলে হোয়াইট হাউজে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, আইওয়া এবং কানসাসের বন্ধুরা তাকে ফোন করে সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এমন কয়েকটি আসন রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেছেন আপনি যদি সশরীরে যান, তবে তা টেলি-র‌্যালির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হবে। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম এবং বলেছিলাম, একটি টেলি-র‌্যালি করলে কেমন হয়? কিন্তু তারা আমাকে অনুরোধ করেছেন। তাই আমি রোববার দুটি সমাবেশই করতে যাচ্ছি।’ এছাড়া শনিবার বিকেলের কলেজ ফুটবল ম্যাচগুলোর কারণেও তিনি তার অনুষ্ঠানগুলো রোববারে স্থানান্তরিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।       কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে ভার্চুয়াল ইভেন্টগুলোতে যুক্ত হওয়ার জন্য আরও বেশি সময় দিতেই কেবল সময়সূচিতে এই রদবদল করা হয়েছিল। তবে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সিএনএন-এর কাছে ভিন্ন কারণ বর্ণনা করেছেন। দুটি সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে সায় দেওয়ার পর, এ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে ট্রাম্প বেশ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন বলে সেই সূত্রগুলো জানায়। সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে ফিরে সমাবেশ বাতিলের কারণ জানতে চাওয়া একজন সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ার সময়ই তার এই বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।     প্রচারণা চালাতে চালাতে তিনি ক্লান্ত বা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ’আপনি দুই সপ্তাহ ধরে আমার পেছনে ঘুরছেন। আমি একদম নিখুঁত আছি।’ যে সাংবাদিক প্রশ্নটি করেছিলেন, তাকে দেখতে ’একেবারে বিধ্বস্ত’ লাগছিল বলে ট্রাম্প কটাক্ষ করেন।       সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রেসিডেন্ট বাতিল হওয়া সমাবেশগুলো পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন। এর ফলে যে কর্মীরা মাত্রই ক্যালেন্ডার থেকে অনুষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়ার কাজ শেষ করেছিলেন, তাদের তড়িঘড়ি করে সেগুলো আবার যুক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হয়। এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে দেওয়া একটি বিবৃতিতে লেখা হয়, ’সমাবেশ আবার ফিরে এসেছে!’       এই ঘটনাটি কেবল এটাই প্রমাণ করে যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভাগ্য কতটা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করছে— তা সে তার পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়াই হোক কিংবা তার নিজস্ব ধাঁচের বড় বড় সমাবেশগুলোই হোক, যা প্রায়শই মূল রাজনৈতিক ইস্যু এবং প্রার্থীদের প্রচারণার মূল বক্তব্য থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি কিছু রিপাবলিকান প্রার্থীকেও এই পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার কানসাসের সমাবেশ বাতিলের খবর আসার পর সিনেটর মার্শাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি জনমত জরিপে আমি এত ভালো করছি যে, সম্ভবত এর চেয়ে ভালো কোনো জায়গায় সময় দেওয়ার সুযোগ তার রয়েছে।’       তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জোর দিয়ে বলছেন যে, প্রচারণার মাঠে প্রেসিডেন্টের চাহিদা এখনও ব্যাপক। এক উপদেষ্টা সিএনএন-কে জানান, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তের দৌড়ে ট্রাম্প যেন তাদের অঙ্গরাজ্যগুলো সফর করেন, সেই অনুরোধ জানিয়ে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী শিবির থেকে তার রাজনৈতিক দলের কাছে প্রতিনিয়ত ফোন আসছে।       ট্রাম্পের কর্মকর্তারা মূলত এই যুক্তিই দিয়েছিলেন যে এটিই ছিল এই সপ্তাহান্তের অনুষ্ঠানগুলো বাতিলের আসল কারণ: সশরীরে উপস্থিত থাকার অনুষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীদের জন্য টেলি-র‌্যালি করে নিজের সময়টার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে ট্রাম্পের প্রচারণা দল ঘোষণা করে, ’ভোটারদের উজ্জীবিত করতে, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে এবং বিজয় নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ১৯টি অঙ্গরাজ্যে ভার্চুয়াল ইভেন্টে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন। ভার্চুয়াল ইভেন্টে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি রিপাবলিকানদের কিছু অংশের কাছে বেশ ইতিবাচক ছিল। সশরীরে উপস্থিত থাকার অনুষ্ঠানগুলো বাতিল থাকার ওই ২১ ঘণ্টার মধ্যে, নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান কর্মী নীরবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন যে ট্রাম্পের এই প্রচারণার বহর আর তাদের রাজ্যে আসছে না। অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, টেলি-র‌্যালির সময় ট্রাম্পের সেইসব অস্পষ্ট বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা এখন তার বড় বড় সমাবেশগুলোর একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে। যেমন—তিনি যে বুদ্ধিমত্তা বা কগনিটিভ পরীক্ষায় পাস করেছেন সেই দাবি, হোয়াইট হাউজের বলরুমের গল্প, কিংবা বিভিন্ন রিপাবলিকান পুরুষের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য।       একজন রিপাবলিকান কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের এই চূড়ান্ত ব্যস্ততার সময়ে ট্রাম্পের সমাবেশগুলো অতিরিক্ত সময় নষ্ট করছিল। অথচ এই সময়ে রিপাবলিকান কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া, জনসংযোগ করা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনার অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে পারতেন।       ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন এমন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প মাঝেমধ্যে তার সহযোগীদের আরও বেশি সফরের সূচি তৈরি করতে চাপ দিয়েছেন। গভীর রক্ষণশীল জেলাগুলোতে তাকে দেখতে আসা ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখে তিনি উজ্জীবিত বোধ করছিলেন এবং বন্ধুবান্ধব ও উপদেষ্টাদের কথায় উৎসাহিত হচ্ছিলেন, যারা তাকে বলছিলেন যে তার উপস্থিতি রিপাবলিকানদের উদ্দীপনা সরাসরি বাড়িয়ে দিচ্ছে।       তবে ওই সূত্রগুলো আরও জানায়, মাসব্যাপী এই ঝোড়ো প্রচারণার অন্যান্য সময়ে তিনি আবার এই সফরের ক্লান্তিকর ও অবিরাম প্রকৃতি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন, যার কারণে তাকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শহরে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় কলেজ এরিনা বা সিভিক সেন্টারগুলোতে সমাবেশ করতে হচ্ছে, যেগুলো তার নিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়কার কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামগুলোর তুলনায় একেবারেই ছোট বা অনুন্নত মনে হয়। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এবং ইদানীং জনসমক্ষেই ক্রমবর্ধমানভাবে এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যে, নিজের নির্বাচন না হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাকে কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।       প্রেসিডেন্ট মেইন অঙ্গরাজ্য ছাড়া সিনেট নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই সফর করেছেন—অনেক রাজ্যে একাধিকবারও গেছেন। মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে সপ্তাহান্তের এই সফরগুলো বাতিল করার হোয়াইট হাউজের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও দলের অনুগতদের মধ্যে এটি নিয়ে খুব কমই অভিযোগ ছিল।       রবিবার অনুষ্ঠানগুলোসহ হিসাব করলে, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে ট্রাম্প মোট ২৮টি সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে এই সময়সূচিটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং এর ফলে তার কণ্ঠস্বরের ওপর বেশ ধকল গেছে।       চলতি মাসে কেনটাকির এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার এটি করার কোনো দরকার নেই। কিন্তু আমাকে করতে হচ্ছে, কারণ (ডেমোক্র্যাটরা) যদি এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে যায়, তবে হঠাৎ করেই আপনারা এক বিপর্যয় দেখতে পাবেন এবং আমরা যেসব আবর্জনা বা আজেবাজে বিষয় নিয়ে কথা বলি, তার সব ফিরে আসবে। ঠিক এই কারণেই আমি এখানে আপনাদের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেটে যাচ্ছি।’   সূত্র: সিএনএন

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬

হরমুজে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায় আরও ভয়ংকর হতে পারে: মিসর

ছবি: সংগৃহীত

সামরিক শক্তি দিয়ে ইরান যুদ্ধের সমাধান হবে না: জার্মান চ্যান্সেলর

রিয়াদ অঞ্চলে ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ অঞ্চলে ‘শত্রুপক্ষের’ একটি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।   শনিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘রিয়াদ অঞ্চলে একটি শত্রুপক্ষের ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’   তিনি আরও জানান, ড্রোনটি ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়ে। তবে এতে কেউ আহত হননি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩১, ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের

আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে তদন্ত জোরদার করেছে মার্কিন সরকার

ইউক্রেনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিং, ৬৩০ কোটি ডলার চুরি

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।    শুক্রবার বাইন্যান্সে জানিয়েছে, ‘জটিল ধরনের এ হামলায়’ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের তহবিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। একে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ব্লকচেইনভিত্তিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে বলে তাদের দৃঢ় ধারণা রয়েছে।  গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির জন্যও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল।   ক্রিপ্টো খাতের সংবাদমাধ্যম কয়েনডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, আরেকটি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলিপটিকও এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছে।   ধারণা করা হয়, ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীটি ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর অংশ। ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার অভিযোগ ওঠার পর এ গোষ্ঠী আলোচনায় আসে।    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত ‘দ্য ইন্টারভিউ’ চলচ্চিত্রের প্রতিশোধ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিন্যান্স জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিন্যান্স জানায়, ‘এটি ছিল একটি জটিল হামলা। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সমস্যার সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’   লাতিন আমেরিকার জন্য পরিচালিত বিন্যান্সের এক্স অ্যাকাউন্টে জানানো হয়, ‘ক্ষয়ক্ষতির মোট আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার।’   এ পরিমাণ বাইবিটে সংঘটিত আগের সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের প্রায় চার গুণ।   বাইন্যান্স বড় সতর্ক করে বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সন্ধান ও উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী সংস্থা ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যেই জব্দ করা হয়েছে।   শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ সাইবার হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখছে।    এফবিআই জানিয়েছে, হামলার ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি বুঝতে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে তারা কাজ করছে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তে প্রস্তুত রয়েছে।   এর আগে বাইন্যান্স এক্সে জানিয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন ‘ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার’-এর ব্যবহৃত ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়। এর ফলে তারা অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের লেনদেন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।   প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের ডিজিটাল ওয়ালেটের কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি (প্রাইভেট কি) ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।   বাইন্যান্স একাধিকবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, ‘ব্যবহারকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ’, অন্যদিকে জানায়, হামলায় হওয়া ‘সব ধরনের ক্ষতি তারা পুষিয়ে দেবে’।   ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিটি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথারের প্রধান পাওলো আরদোইনো জানান, বাইন্যান্সে সম্ভাব্য সাইবার হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ তারা জব্দ করেছেন।   ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম সার্কেলের প্রধান জেরেমি আলেয়ার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি জব্দ করেছে।   ইউএসডিটি ও ইউএসডিসি উভয়ই ‘স্টেবলকয়েন’। অর্থাৎ এগুলো এমন ডিজিটাল মুদ্রা, যার মূল্য মার্কিন ডলারের মতো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে। ফলে এসব মুদ্রার দামে সাধারণত বড় ধরনের ওঠানামা হয় না।   বাইন্যান্স হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রিপ্টো খাতের পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছিলেন, হ্যাকাররা প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।   সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্টেবলকয়েন ছাড়া অধিকাংশ বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমে যায়। স্বাভাবিকভাবেই স্টেবলকয়েনের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।   বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। রাতের দিকে এর দাম নেমে প্রায় ৭৬ হাজার ৪০০ ডলারে দাঁড়ায়, যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন।    পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি বিটকয়েনের দাম প্রায় ৭৭ হাজার ৩০০ ডলারে লেনদেন হয়।   এ ছাড়া ইথেরিয়ামের দাম প্রায় ৬ শতাংশ ও বিন্যান্সের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি বিএনবির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩১, ২০২৬

নেসেটে প্রথম দিনই স্পিকার ওহানাকে হাটাতে একমত নেতানিয়াহু বিরোধীরা

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি বিরুদ্ধে হুতিদের গোপনে সহায়তা করছে আমিরাত

0 Comments