আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

 

তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।

ইরান কী আশঙ্কা করছে

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান

হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।

সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।

ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।

মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।

 

এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব। যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বিচারকেরা তাদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে  ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি আরব। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। আর কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না। ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, এটি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা উচিত। কারণ ক্ষতি বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে আমাদের দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে বহু সম্প্রদায়। তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে। তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। তারা ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে। নাউরুর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। এই সুযোগটি ব্যবহার করেই ধনী বিদেশিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নাউরুর নাগরিকত্ব কিনছে, আর সেই টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ বা ‘বেঁচে থাকতে হলে ১.৫’ স্লোগানটি সেখান থেকেই এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক বাহিনীর মহড়া চালাল রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত

কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ বিমানের পথ আটকালো দুই রুশ যুদ্ধবিমান

যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরে এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার একটি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমান রিভেট জয়েন্টের খুব কাছে চলে আসে। এ সময় রুশ যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল যে ব্রিটিশ বিমানটির অটোপাইলট মোড বন্ধ হয়ে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা সচল হয়ে যায়। এ ছাড়া রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান সু-২৭ যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমানটির সামনে দিয়ে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে রুশ বিমানটি ব্রিটিশ বিমানের থেকে মাত্র ছয় মিটার (১৯ ফুট) দূরে অবস্থান করছিল। রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এ আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। সেই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের ক্রুদের ‘অসাধারণ পেশাদারত্ব’ প্রদর্শনের প্রশংসাও করেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২২ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ওই বছর কৃষ্ণসাগরে একজন রুশ পাইলট একটি ব্রিটিশ নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। এ ঘটনার সময় ব্রিটিশ নজরদারি বিমানটি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আকাশে এই বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়ে জন হিলি বলেন, ‘ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি উদাহরণ।’ হিলি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।’ হিলি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো, আমাদের মিত্রদের এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারবে না।’ লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছেও রুশ সাবমেরিনের আনাগোনা দেখা গেছে। ২০২২ সালে কী ঘটেছিল এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন একজন রুশ পাইলট। সে সময় রুশ পাইলট দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল, যদিও সে সময় দাবি করা হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি অকেজো হয়ে গেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ওই ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাত দিয়েছিল। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন প্রকাশ্যে রাশিয়ার সেই ব্যাখ্যা মেনে নিলেও পরে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা খাতের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে ভিন্ন তথ্য দেন। তাঁরা বলেন, রুশ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে অস্পষ্ট নির্দেশ পেয়ে ওই পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ৫১ নম্বর স্কোয়াড্রন আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট বিমান পরিচালনা করে। এটি সাধারণত লিংকনশায়ারের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। এই বিমানে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক কৌশলগত ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন, চীনের বিস্ময়কর কীর্তি

ছবি : সংগৃহীত

সাপের গ্রাম ‘শেতফল’

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৫০ বছরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে যেসব দেশ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।”   ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।”   এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান মে ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কিউবার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ

ছবি: সংগৃহীত

শিশু নিরাপত্তা আইন না মানায় অস্ট্রেলিয়ায় এক্সকে জরিমানা

0 Comments