আন্তর্জাতিক

কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা ট্রাম্পের

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সেখানকার প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের নিলেন।

 

১৯৭৯ সালে চীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের কোনো নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের বিষয়টিও তারা নাকচ করেনি।

২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়া তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছেন।

১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ পাস করে। এই আইনে উল্লেখ রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ‘আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ’ করতে পারবে। এই আইনের কারণেই ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ক্রমাগত অস্ত্র বিক্রি করে আসছে।

আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহে বাধ্য থাকলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সব সময় একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়।

গতকাল বুধবার তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি...আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে কাজ করব।’

একই সঙ্গে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এর আগে গত সপ্তাহে বেইজিং সফর শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথেও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি একটি সিদ্ধান্ত নেব। বর্তমানে তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন, আপনারা জানেন তিনি কে, তাঁর সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে।’

প্রতিরক্ষা জোরদারে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে রয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির প্রস্তাবিত চীন সফর আটকে দিয়েছে। চীনের দাবি, ট্রাম্প এই অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা না দেখা পর্যন্ত তারা এই সফরের অনুমোদন দেবে না।

বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময় চীন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে মার্কিন-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল ইস্যু হলো তাইওয়ান। সি চিন পিং সতর্ক করে বলেছিলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানো না গেলে দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘সংঘাত’ তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সি চিন পিং তাইওয়ান নিয়ে ‘খুবই কঠোর’ অবস্থানে আছেন। এ বিষয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো পক্ষকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।’

ট্রাম্প-সি বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাইওয়ান একটি ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ’ এবং তাইওয়ান প্রণালির শান্তিকে কোনো কিছুর বিনিময়ে ‘উৎসর্গ বা লেনদেন’ করা হবে না।

লাই চিং–তে জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অন্যতম ‘মূল চাবিকাঠি’।

অবশ্য ট্রাম্পের জন্য এমন কূটনৈতিক রীতি ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তাইওয়ানের তত্কালীন নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, যা নিয়ে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ করেছেন। এ কথা সত্য হলে সেটিও হবে মার্কিন নীতিমালার এক বড় লঙ্ঘন। কারণ, ১৯৮২ সালের এক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করবে না।

বেইজিং থেকে ফেরার পথে এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা তো অনেক আগের কথা।’ গত বছরের ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লাইয়ের অধীনে তাইওয়ান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে।

তাইওয়ানের অধিকাংশ নাগরিক নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করলেও, তারা মূলত বর্তমানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে; যার অর্থ হলো, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাও দেবে না, আবার চীনের সঙ্গে একীভূতও হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব। যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বিচারকেরা তাদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে  ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি আরব। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। আর কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না। ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, এটি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা উচিত। কারণ ক্ষতি বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে আমাদের দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে বহু সম্প্রদায়। তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে। তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। তারা ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে। নাউরুর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। এই সুযোগটি ব্যবহার করেই ধনী বিদেশিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নাউরুর নাগরিকত্ব কিনছে, আর সেই টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ বা ‘বেঁচে থাকতে হলে ১.৫’ স্লোগানটি সেখান থেকেই এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক বাহিনীর মহড়া চালাল রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত

কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ বিমানের পথ আটকালো দুই রুশ যুদ্ধবিমান

যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরে এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার একটি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমান রিভেট জয়েন্টের খুব কাছে চলে আসে। এ সময় রুশ যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল যে ব্রিটিশ বিমানটির অটোপাইলট মোড বন্ধ হয়ে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা সচল হয়ে যায়। এ ছাড়া রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান সু-২৭ যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমানটির সামনে দিয়ে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে রুশ বিমানটি ব্রিটিশ বিমানের থেকে মাত্র ছয় মিটার (১৯ ফুট) দূরে অবস্থান করছিল। রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এ আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। সেই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের ক্রুদের ‘অসাধারণ পেশাদারত্ব’ প্রদর্শনের প্রশংসাও করেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২২ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ওই বছর কৃষ্ণসাগরে একজন রুশ পাইলট একটি ব্রিটিশ নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। এ ঘটনার সময় ব্রিটিশ নজরদারি বিমানটি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আকাশে এই বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়ে জন হিলি বলেন, ‘ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি উদাহরণ।’ হিলি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।’ হিলি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো, আমাদের মিত্রদের এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারবে না।’ লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছেও রুশ সাবমেরিনের আনাগোনা দেখা গেছে। ২০২২ সালে কী ঘটেছিল এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন একজন রুশ পাইলট। সে সময় রুশ পাইলট দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল, যদিও সে সময় দাবি করা হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি অকেজো হয়ে গেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ওই ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাত দিয়েছিল। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন প্রকাশ্যে রাশিয়ার সেই ব্যাখ্যা মেনে নিলেও পরে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা খাতের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে ভিন্ন তথ্য দেন। তাঁরা বলেন, রুশ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে অস্পষ্ট নির্দেশ পেয়ে ওই পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ৫১ নম্বর স্কোয়াড্রন আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট বিমান পরিচালনা করে। এটি সাধারণত লিংকনশায়ারের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। এই বিমানে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক কৌশলগত ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন, চীনের বিস্ময়কর কীর্তি

ছবি : সংগৃহীত

সাপের গ্রাম ‘শেতফল’

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৫০ বছরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে যেসব দেশ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।”   ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।”   এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান মে ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কিউবার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ

ছবি: সংগৃহীত

শিশু নিরাপত্তা আইন না মানায় অস্ট্রেলিয়ায় এক্সকে জরিমানা

0 Comments