অন্যান্য

ছবি : সংগৃহীত
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ অনুমতি চান।   এ মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন মৃধার জেরার নির্ধারিত দিন ছিল আজ। তবে আরও কিছু সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।   তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারেননি। এজন্য আমরা সময় চাই। কিন্তু তার আবেদনটি মঞ্জুর করেননি ট্রাইব্যুনাল।   কার্যতালিকায় থাকা আরেকটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার জেরার কাজ শুরু হয়।    এ সময় পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান তিনি।   ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। এ পর্যায়ে পলকের আইনজীবী লিটনও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন।    প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে এ সুযোগ নেই। শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন।   তখন আইনজীবী লিটন বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী। তিনি আইন সম্পর্কে ভালো জানেন।    এরপরও অনুমতি না মেলায় কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন লিটন আহমেদ।   জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি বিজয় মিছিলে অংশ নেইনি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে আমার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি কাগজ দিয়েছিল।   এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয়। সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন।   প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে হ্যাঁ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব।   এরপর সাক্ষী কবির বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। এ পর্যায়ে জেরার কার্যক্রম অসম্পন্ন রাখেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।     ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই যে, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত পড়েছি। এখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহায়তা করতে চাই। আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। এজন্য কিছু অধিকার দিলে মামলায় আমিও কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য সহায়তা চাই।   পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। একপর্যায়ে তাকে আধাঘণ্টা সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।   এর আগে, ১৫ জুন সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে।   ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন ‘আউট অব লিস্ট’ করল হাইকোর্ট

অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   দুটি মামলার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাই কোর্ট।   তবে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   হাই কোর্টের বিচারপতি আতায়োর রহমান ও বিশ্বজিৎ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জামিন আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   আদালতের এই আদেশের পর মামলার এজাহার ও শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন  বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে, যার একটি আইসিটিতে, একটি পল্টন থানার এবং আরেকটি বাড্ডা থানার।   “পল্টন ও বাড্ডা থানার দুই মামলার দুই মামলায় তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তা ‘আউট অব লিস্ট’ করেছে।”   জামিন না দিয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছে জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, "আদালত সরাসরি জামিন প্রত্যাখ্যান করেনি। দীর্ঘ শুনানির পর আবেদনটি আউট অব লিস্ট করে আদালত বলেছে, ‘লিবার্টি টু মুভ বিফোর অ্যানি আদার বেঞ্চ’ অর্থাৎ আসামিপক্ষ চাইলে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যেতে পারবে।"   গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে অন্তত চারবার এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়েছে জানিয়ে শেখ আলী আহমেদ বলেন, "বিচারকদের যদি কোনো কারণে আদেশ দিতে সংকোচ থাকত, তবে তা আগেই বলা যেত। দীর্ঘ শুনানির পর এখন এটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।"   তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ অগাস্ট পল্টন ও বাড্ডা থানার দুটি মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন নাকচ হয়। ঢাকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. ইব্রাহিম মিয়া একই দিনে দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।   অধস্তন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত বছরের নভেম্বরে তারা হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন। সে সময় হাই কোর্ট সরাসরি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছিল।   বৃহস্পতিবার সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি হয়, যার শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   বাড্ডা থানার মামলার এজহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা থানাধীন উত্তর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশের প্রগতি সরণি রাস্তার ওপর আন্দোলনকারীদের দমনে আসামিরা ‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে’ হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. সুমন সিকদার (৩১)।   ওই ঘটনার পর নিহতের মা মোছা. মাছুমা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত ১৭৯ জন আসামির মধ্যে তৌফিক-ই-ইলাহীর নাম ছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বনানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা বলে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ বলেন, "এজাহারে নাম না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হলেও রিমান্ড রিপোর্টে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।"   পল্টন থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও মকবুল নামের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে মোট ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নাম ছিল ৪ নম্বরে।   তার আইনজীবী বলেন, বাড্ডা মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর পল্টন থানার এই মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   এ মামলার জামিনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শেখ আলী আহমেদ বলেন, “তার জামিন মেলেনি, অথচ একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ৪২ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।   “তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগের কোনো পদে বা সাধারণ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হল না। অথচ আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী পল্টন থানার এই মামলায় অন্তত ৩৬ থেকে ৩৮ জন আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন।"   তিনি বলেন, "ঘটনার তারিখ ২০২২ সালে; ২০২৬ সালের মে মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বিনা বিচারে এ বয়সের একটা মানুষকে প্রায় দুই বছর ধরে জেলে থাকতে হচ্ছে।”   তৌফিক-ই-ইলাহীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার আইনজীবী বলেন, “উনি ৮৪ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি করা একজন প্রাক্তন সিএসপি অফিসার, যিনি মুজিবনগর সরকারের মেহেরপুরের এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।"   শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, তার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘খুব দ্রুতই’ অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদন করে শুনানি উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি এমপির অভিযোগের জবাবে সংসদে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ হাসনাতের

এক টাকার দুর্নীতিও প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির এক সংসদ সদস্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জাতীয় সংসদে এই ঘোষণা দেন।   এর আগে আজ জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। তাঁদের অনেকে আগে রিকশায় চড়তেন। আর এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন।   সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি আক্তারুজ্জামানের আনা অভিযোগেরও জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আজকেও এ সংসদে জুলাই-সংশ্লিষ্ট আমাদের উদ্দেশ করে বলা হয়েছে—আমরা আগে রিকশায় চড়তাম, এখন আমরা গাড়িতে চড়ি।’   সরকারি দলের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতি, এক টাকার কোনো ধরনের অসাধু উপায়ের কোনো ধরনের প্রমাণ করতে পারেন, আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেব।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বসুন্ধরার সঙ্গে ‘আন্ডারটেবিল’ সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে প্রশ্ন হাসনাতের

বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার বিষয়ে ‘আন্ডারটেবিল’ কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়, সেটা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।   আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আাবদুল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিডিয়া (সংবাদমাধ্যম) লেলিয়ে দেওয়া হয়।   একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী ও ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি করনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রকাশ করা শ্বেতপত্রের কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেখানে দেখানো হয়েছে, ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যাঁরা পাচার করেছেন, তাঁরা এখন সদর্প দেশে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেন।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র সুবহান দেশে ঢুকার সাহস পায় নাই। আমরা দেখেছি, আনভির দেশে ঢুকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি, সদর্পে এই সুবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।’   বসুন্ধরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে আমরা দেখেছি। এই মামলার কী অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই, আন্ডারটেবিল কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।’   হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘এই বসুন্ধরা গ্রুপ, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম–খুন–হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই।’   এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি দলের অনেকে তাঁদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁদের দলের কিছু মানুষ বসুন্ধরার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। যে মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার পরামর্শক হিসেবে, বসুন্ধরা গ্রুপে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই সেখানে যুক্ত।   ঋণখেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, গুম ও খুনের বৈধতা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দেখতে চান উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, সে জন্য সাধুবাদ। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ষ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক নয়।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এটা উনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে শুনতে চাই, উনার দলের কাছ থেকে শুনতে চাই, গুম–খুনের–হত্যার উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন। উনি আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। এত দিন ধরে যারা মিডিয়াকে, নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন।’   এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হবে, কীভাবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনা হবে, এসব স্পষ্ট নয়।   বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করে করপোরেট কর কমানোর দাবি জানান হাসনাত। কর প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসবে না। আশা করা হয়েছিল, এ বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হবে, করপোরেট কর সহনশীল মাত্রায় কমানো হবে। তা না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।   অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি একই সাথে বলছেন, আপনি মাছ মুচমুচে করে ভাজবেন। আবার একই সাথে বলছেন, আপনি তেলটা কম দেবেন। এই যে স্ববিরোধী অবস্থানটা, এটা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে হবে।’   নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দিন শেষে ক্রেতাদের কাছ থেকেই এই কর আদায় করা হবে। একদিকে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো হবে, আবার বলা হচ্ছে ট্যাক্স বাড়ানো হবে; এটি সাংঘর্ষিক।   বিএনপি পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সে হিসাবে এই চার মাসে ছয় লাখ কর্মসংস্থান বাড়ার কথা। আদৌ কি ছয় লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, সেসব কর্মসংস্থান কোথায়? ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, সরকারি দলের কিছু সদস্য এটিকে খুব ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছেন। কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়, তা বর্ণনা করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এই বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে। ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে হবে।   ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা লজ্জা পাই একই সংসদ একসাথে শেয়ার করার জন্য। কারণ, তারা জনগণের টাকা মেরে, যারা জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে ঋণখেলাপি হয়ে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে।’   একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন সম্পাদককে জেলে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরাও কথা বলতে ভয় পান। কারণ তাঁরা সরকার বা মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে তাঁর এলাকার বাজেট যে বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই স্মরণে জামায়াত জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।   কর্মসূচি শুরু হচ্ছে জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই।   গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সব জেলা ও মহানগরীতে সেমিনার হবে ১ থেকে ১৫ জুলাই। জাতীয় সংসদের সামনে জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে মানববন্ধন এবং স্পিকারকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে ৬ জুলাই।   ৮ জুলাই রাজধানীতে জাতীয় সেমিনার, ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে হবে আলোচনা সভা। এরপর ২৩ থেকে ২৫ জুলাই চিত্রপ্রদর্শনী, ৩১ জুলাই দেশের মসজিদ ও অন্যান্য উপসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা হবে।   আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীসহ দেশের সব উপজেলাতেও সমাবেশ করবে জামায়াত জোট।   রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি তুলে ধরেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান।   জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাস্থলে স্মৃতিচারণামূলক সমাবেশ এবং সারা দেশে গ্রাফিতি অংকনের কর্মসূচি পালন করবে জোট। ৩৬ জুলাইয়ের কর্মসূচি বিভিন্ন তারিখে বাস্তবায়ন করা হবে।   ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটি বৈঠক করে এসব তারিখ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি কয়েকটি মহানগরীতে পূর্বঘোষিত সমাবেশ পূর্বনির্ধারিত তারিখে হবে। পূর্বঘোাষিত ৪ জুলাইয়ের গণমিছিল ঢাকা বাদে সারা দেশে হবে।   সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের সমন্বয় কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দুর্নীতিবাজদের স্বার্থেই কি সিলেট থেকে সরানো হলো ক্লিন ইমেজের ডিসি সারোয়ারকে?

দুর্নীতিকে প্রমোট করার জন্য সারোয়ার আলমের মতো একজন সৎ ও ক্লিন ইমেজের ডিসিকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   তিনি আরো বলেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম থেকে ডিম, রুটি ও কলা বাবদ প্রতি সপ্তাহে ১৭ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচিতে প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্নীতির খবর আসছে।   জামায়াতের এই এমপি বলেন, দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।   প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন বলেন, অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাকে তিনি একে জীবনের গল্প বললেও আসলে এটি একটি ‘আষাঢ়ের গল্প’। প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকার এই ঋণ নির্ভর বাজেট দেখে আমি অবাক হইনি, কারণ যারা নিজেরা ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি, তারা তো ঋণনির্ভর বাজেটই দেবেন।   তিনি বলেন, বাজেট পেশ করার আগেই ১৪টি নিত্যপণ্যসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বাজেটে এমএস রড, ইস্পাত, টিন, সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর বাড়ানো হয়েছে।   তিনি নিজের এলাকা কাপাসিয়ার জন্য আধুনিক হিমাগার, মাদক ও কিশোর গ্যাং-বিরোধী বিশেষ অভিযান এবং রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া হয়ে টোক পর্যন্ত হাইওয়ে রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এআই যুগে চিন্তার গভীরতা কেন আরও জরুরি: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ, লেখা তৈরি, কোডিং কিংবা নকশা প্রণয়নের মতো বহু কাজ এখন অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মানুষের হাতে অতিরিক্ত সময় তৈরি হচ্ছে, যা নতুন করে ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি কাজের গতি বাড়াতে পারলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী শিক্ষাও মানুষের চিন্তা, আত্মসমালোচনা এবং সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।   ইসলামী পরিভাষায় কাজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—একটি হলো বাস্তব কর্ম বা ‘আমল’, অন্যটি হলো গভীর চিন্তা, পরিকল্পনা ও উপলব্ধি, যা ‘তাদাব্বুর’ নামে পরিচিত। আধুনিক প্রযুক্তি আমলের গতি বাড়াতে সক্ষম হলেও তাদাব্বুর বা প্রজ্ঞাভিত্তিক চিন্তার দায়িত্ব মানুষেরই।   চিন্তাকে গভীর করার পাঁচটি অভ্যাস:   ১. নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা: ইসলামে প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা—কেন এই কাজটি করছি—তা সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।   ২. নির্জনে চিন্তার সময় রাখা: কোরআনে বারবার চিন্তা ও আত্মমন্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় একান্তে চিন্তার জন্য বরাদ্দ রাখা সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞা বাড়াতে সহায়ক।   ৩. পরামর্শ গ্রহণের অভ্যাস: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শ বা ‘মশওয়ারা’ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী মানুষের পরামর্শ অনেক সময় প্রযুক্তিগত তথ্যের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করা: ইস্তিখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সব জ্ঞান ও পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।   ৫. ধীরস্থিরতা বজায় রাখা:  তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সময় নিয়ে চিন্তা করা এবং তাড়াহুড়া এড়িয়ে চলা ইসলামে প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে বিবেচিত। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বিরতি আরও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।   বেঁচে যাওয়া সময়ের সঠিক ব্যবহার:   প্রযুক্তি মানুষের সময় সাশ্রয় করছে, কিন্তু সেই সময় কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে সময় একটি আমানত, যার সঠিক ব্যবহারের জন্য মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে।   পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া, আত্মউন্নয়ন কিংবা ইবাদতের জন্য সময় ব্যয় করা—এসবই সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার হতে পারে।   প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করছে, তবে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং গভীর চিন্তার বিকাশ ছাড়া সেই অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না। তাই এআই যুগে প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রজ্ঞা, সচেতনতা ও আত্মিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিন্তাবিদরা।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
দিল্লি বিমানবন্দর ইস্যুতে ভারতের জবাবে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে ‘সন্তোষজনক নয়’ অভিহিত করে ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা।   বুধবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাসসকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়।   তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।   মুখপাত্র বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্বেই অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।’   চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএ’র একটি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়া হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে করা মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব নাগরিকের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।   তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র ৪ দিনেই হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরনো মামলার নিষ্পত্তি

আদালতে মামলার জট হ্রাস ও বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।   বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসসকে বলেন, হাইকোর্টে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির গৃহীত এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, এটি অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে মামলা জট নিরসনে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সুপ্রিম কোর্টের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে আমি প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করে মামলা জট নিরসনে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকা দিয়েছি।   এদিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনা অনুসারে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ৭ মে থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে।   সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ২৪৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৭৬৫ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   গত ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ৮৪২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ২৬২ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   গত ১১ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৬ হাজার ১৯৯ টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া গত ১৮ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে ১ হাজার ৮৮৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চার কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে মোট ২০ হাজার ৭৪০ টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা।
‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না’: যুবদল নেতারা

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২ টায় মিছিলটি পল্টন ফার্স হোটেলের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইট অ্যাংগেল মোড় হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।      মিছিল শেষে নেতারা বলেন, গত অন্তর্বতীকালিন সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে কোনভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিটি অলিগলিতে পাহারা বসিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করবে।     এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ মোঃ হুমায়ুন কবির, সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ জাকির হোসেন খান সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ মোঃ দুলাল হোসেন, সাবেক সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, খালিদ মাহমুদ মাসুদ সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, আবুল হাসান সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, আনোয়ার জাহিদ সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ দিপু সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল ঢাবি আরিফুল ইসলাম আরিফ সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, কাজী মেজবাউল আলম সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, মুজাহিদুল ইসলাম সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ,আজিজুল হক পাটোয়ারী সাবেক সদস্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, কোয়েল হোসেন সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, সবুর খান সাগর সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, স্বপন মন্ডল সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, মিরাজ আজিম সাবেক ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, মাজেদুল ইসলাম মাসুম সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, রবিউল হাসান আরিফ সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, মহিবুল্লাহ জয় সাবেক সদস্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, এম কামরুল হাসান সাবেক সদস্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জসীম উদ্দিন শোভন সাবেক ছাত্রদল নেতা ঢাবি, ফরিদ খান সাবেক সহ সভাপতি ছাত্রদল ঢাবি, রোকনুজ্জামান রোকন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, খলিলুর রহমান জনি সাবেক সদস্য ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, আমিনুল হক কাকন সাবেক ছাত্রদল নেতা জবি,কবির আহমেদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইইআর ঢাবি, নজরুল ইসলাম নজরুল সাবেক ছাত্রনেতা জবি, দুলাল মাতব্বর সাবেক ছাত্রনেতা ঢাকা মহানগর পূর্ব, মানিক হোসেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মহানগর পশ্চিম, মহিউদ্দিন বেগ সুজন সাবেক ছাত্রদল নেতা ঢাবি, অ্যাড. ইমরান সাবেক ছাত্রদল নেতা জবি।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইউপি মেম্বার থেকে এমপি হওয়ার এক অবিরাম যাত্রার গল্প

ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল গফুর।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   আব্দুল গফুর বলেন, তিনি সবচেয়ে নিচু স্তর থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে পরে চেয়ারম্যান, এরপর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে কোনও বিরতি ছিল না বলেও সংসদকে জানান তিনি।   বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল গফুর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন।   তিনি বলেন, এই বাজেটে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে। বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর, বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এতে রয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা একেবারেই অসম্ভব।   শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আব্দুল গফুর বলেন, শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হলেও আগের বক্তাদের সূত্র ধরে তিনি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিপুল অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের নির্বাচনি এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা নেই। বর্ষাকালে চাল দিয়ে পানি পড়ায় খাতা-পত্র ও বসার স্থান রক্ষায় প্লাস্টিক বা ওয়েল পেপার ব্যবহার করতে হয়। অথচ কতটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।   স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে ১ থেকে দেড় হাজার রোগী সেবা নেন।   ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে রোগীরা তো বটেই, সুস্থ মানুষও গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের এই দুরবস্থা দূর করতে তিনি অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   এছাড়া ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার এলাকার এক দরিদ্র রোগীর দিনের পর দিন বারান্দায় পড়ে থাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসা খাতের এই অনিয়মগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।   নিজের এলাকার নদীভাঙন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ভেড়ামারা ও মিরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর একটি অংশে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। কিছুদিন আগে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি নিজেও পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন। গত বছর থেকেই ভেড়ামারার চারটি ইউনিয়ন নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   আব্দুল গফুর আক্ষেপ করে বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধে যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন, প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ২ জনের একাডেমিক দায়িত্ব স্থগিত

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ ও শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও একজনকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।   এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষককে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলাম। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি আরও জানান, সেই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।   এ ছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক–ই–হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।   ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব না থাকায় তাঁর ডাকসুর পদও বাতিল করার সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।   গত বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তাঁর জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।   এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিম—এ দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি বিএনপি এমপির

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি সংসদে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।   কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান তিনি।   কিছুদিন আগে একটি ‘আয়নাঘর’ দেখেছেন জানিয়ে রেহানা আক্তার বলেন, ‘সেখানে বিরোধী দলের (আওয়ামী লীগের আমলের বিরোধী দল) সদস্যদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। আমার দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে, ওই চেয়ারে বসাইয়া-শোয়াইয়া, শেখ হাসিনাকে ইলেকট্রিক শক দিতে হবে।’   আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গোয়েন্দা সংস্থ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা গুম হওয়া ব্যক্তিদের আটকে রাখা হতো গোপন বন্দিশালায়। গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যার সাংকেতিক নাম দিয়েছিল ‘আয়নাঘর’। সেখানে অনেককে বন্দী করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘আয়নাঘর’গুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানায়।   আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। তাঁকে ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার তৎপরতা চালালেও এখনো ভারতের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঠেকাতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।   বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আরেকটি আন্দোলন–বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হওয়ার যে আহ্বান জানাচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন। প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অনৈক্যের কারণে যদি দানব হাসিনা, আল্লাহ না করুক, আবারও ফিরে আসে, যারা ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন তাদের জীবনটা কালো করে ছাড়বে।’   জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ফেনীতে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জানিয়ে রেহানা আক্তার বলেন, তাঁরা (পরিবারের সদস্যরা) পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন আসামিদের ধরছে না। ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কিছু চাই না, আমরা শুধু সন্তান হত্যার বিচার চাই।’   যেসব ব্যাংকের মালিক ‘ব্যাংক গিলে খেয়েছে’, বিদেশে আরামে-আয়েশে জীবন-যাপন করছে, তাঁদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়ের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। এজন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ড. মিলন বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মপ্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনের মানসিকতা থাকতে হবে।   পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। অনেকেই ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। তাই কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য এলাকাতেও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।   চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী: জাহাজ থেকে নামা পণ্যের অনন্য মার্কেট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এখন শুধু জাহাজভাঙা শিল্পের জন্যই পরিচিত নয়, বরং কম দামে বিদেশি ও মানসম্পন্ন ব্যবহৃত পণ্য কেনার জন্যও ক্রেতাদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভাঙা জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা নানা ধরনের আসবাব, ইলেকট্রনিকস ও শৌখিন সামগ্রীর বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে এখানে।   ভাটিয়ারীর বিভিন্ন দোকানে ঘুরলে দেখা যায়, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, সোফা, ডাইনিং টেবিল, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে পুরোনো কম্পাস, জাহাজের স্টিয়ারিং, পিতলের বাতি, দেয়ালঘড়ি ও বিদেশি চিত্রকর্ম পর্যন্ত পাওয়া যায়। অনেক পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ইতিহাস।   জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন জাহাজের আসবাব, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নাঘরের উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলো ভাটিয়ারীর বাজারে আসে এবং ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়।   ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশি জাহাজ থেকে আসা এসব পণ্যের মান সাধারণত ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। নতুন পণ্যের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সম্ভব হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।   ক্রেতাদের ভাষ্য, ভাটিয়ারীতে একবার এলে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেরা কঠিন। কারণ নানা ধরনের ব্যতিক্রমী ও সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী সহজেই নজর কাড়ে। বিশেষ করে ঘর সাজানোর শৌখিন পণ্যগুলোর প্রতি অনেকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে।   স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক দশকের ব্যবধানে ছোট আকারের এই বেচাকেনা এখন বড় একটি বাজারে রূপ নিয়েছে। জাহাজভাঙা শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাটিয়ারীও হয়ে উঠেছে পুরোনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য বিদেশি পণ্যের অন্যতম বড় কেন্দ্র।   কম দামে ঘর সাজানোর সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস কিংবা ব্যতিক্রমী সংগ্রহযোগ্য জিনিস খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য ভাটিয়ারী হতে পারে একটি ভিন্নধর্মী কেনাকাটার গন্তব্য।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পিকে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের জেল

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)–এর সহযোগী ও সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিত অধিকারী তির্থকে দুই ধারায় মোট ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান দোলন। রায়ের আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬(২) ধারায় অভিজিত অধিকারী তির্থকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ২৭(১) ধারায় আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে জানান, মামলার শুরু থেকেই আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিজিত অধিকারীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র‌্যাব সদস্যের হত্যা মামলায় আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১৮ জুন সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ জুন পৃথক অভিযানে মামলার আরেক আসামি মো. ইমরানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানোর সময় র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় র‌্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব নিহত হন এবং আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন কর্মসূচি দিল ১১ দলীয় জোট

গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় জোট। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। সোমবার (২২ জুন) সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছে ১১ দলীয় জোট। যেখানে উপস্থিত থাকবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণাও দিয়েছে জোটটি। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, সীমান্তে প্রতিবেশী দেশ অস্ত্র মজুত করলেও তাতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে এসব ঘটনায় ১১ দল উদ্বিগ্ন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন ইস্যুতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।তিনি বলেন, ২৩ জুন ঘিরে কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের, কোনো দলের না। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
৫ কর্মদিবসেই তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যার বিচার, আসামি তাহেরের মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম (৪) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাসসুম। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে সে। ঘটনার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। গত ১৬ জুন এই মামলায় শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় এবং আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফি উদ্দিনের ছেলে। তিনি একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশু তাবাসসুমের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহত তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন টেইলার্স কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতেও যেন আসামির এই দণ্ড বহাল থাকে, সেটাই এখন প্রত্যাশা।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
গুলশানের বাড়ি ছাড়তে হবে সালাম মুর্শেদীকে, সরকারের সম্পত্তি ঘোষণা

ঢাকার অভিজাত গুলশান-২ এলাকার ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়ি। রাজধানীর অন্যতম মূল্যবান এই সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী। তবে প্রায় দুই দশক ধরে মালিকানা পরিবর্তনের নানা প্রক্রিয়া পেরিয়ে আসা বাড়িটি শেষ পর্যন্ত সরকারের সম্পত্তি বলেই ঘোষণা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, গুলশানের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এবং আইনগতভাবে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পত্তিটি হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা বৈধ নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এসব পরিবর্তন সম্পত্তির আইনগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। ফলে বর্তমানে সম্পত্তিটি সরকারের মালিকানাধীন বলেই গণ্য হবে। মামলার নথি ও আদালতে দাখিল করা অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা এ বাড়িটি ঘিরে পরবর্তী সময়ে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করেন। বিভিন্ন দলিল, নামজারি ও মালিকানা হস্তান্তরের নথির মাধ্যমে সম্পত্তির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হয়। পরে এসব প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখল করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাড়ি-সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেন এবং পরে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করে। অনুসন্ধানে সম্পত্তিটির মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও দখল-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে সম্পত্তিটির মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন ধাপে অসংগতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুদকের প্রতিবেদনের পর আদালত সম্পত্তিটির চেইন অব টাইটেল বা মালিকানা হস্তান্তরের পূর্ণ ইতিহাস, দখল-সংক্রান্ত নথি এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পক্ষগুলোকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেন, সম্পত্তিটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরবর্তীতে আবদুস সালাম মুর্শেদীর নামে হস্তান্তর হয়েছে বলে নথিতে প্রতীয়মান হলেও এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে আইনগত অবস্থান কখনো পরিবর্তিত হয়নি। যথাযথ আদালতের মাধ্যমে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তিই থাকবে। ফলে পরবর্তী সময়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া বেআইনি। হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তিটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে সালাম মুর্শেদীকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্পত্তির দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবকে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত অভিযোগে ইতোমধ্যে দুদকের মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ কারণে তদন্ত অব্যাহত রাখতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা সহযোগিতার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সালাম মুর্শেদীর পক্ষে আদালতে দাবি করা হয়, তিনি ১৯৯৭ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়ে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে সম্পত্তিটি ক্রয় করেন এবং তখন থেকেই ভোগদখলে আছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। তবে আদালতের রায়ের পর গুলশানের বহুল আলোচিত এ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিল। একদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি বাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে তদন্তে জড়িত ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে মিনিটে ব্যয় পৌনে ৩লাখ, তবু বিরোধীদলের আলোচনায় পর্দা-ওয়াশিং মেশিন-ওভেন

জাতীয় সংসদ পরিচালনার জন্য মিনিটে ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ড. নিলোফার চৌধুরী মনি।    রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমন অভিযোগ করেন।   নিলোফার চৌধুরী মনি বক্তব্য দেওয়ার সময় নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মহান জাতীয় সংসদ পরিচালনার জন্য প্রতি মিনিটে ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয়। এখানে বিরোধীদল পর্দা, বালিশ, মেশিন, মাইক্রোওয়েভ— এইসব আলোচনা করে। আরও আলোচনা করে কার বাবা-দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে।   স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে সংসদ সদস্য বলেছেন উনার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, উনার জন্ম হয়েছে ১৯৮১ সালে। ১০ বছর পরে জন্ম হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে জানতে চাই, মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রুণ কি ১০ বছর কারো পেটে থাকে?   নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, আমি শুধু এই কথাটা বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাই যে হতে হবে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য, এটা না। সংসদ সদস্য হতে জনগণের জন্য কাজ করলেই হয়। সেখানে এই মহান জাতীয় সংসদে অসত্য কথা বলার জায়গা থাকতে পারে না। তাই আমি বলছি, আপনারা মুক্তিযোদ্ধা হন, মুক্তিযুদ্ধের জন্য জীবন দিয়ে দেন আমার দুঃখ নাই। কিন্তু এইভাবে অসম ভুলভাল আপনারা বলবেন না।   পরে তার বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলের যে সদস্যের কথা বলেছেন যে উনি জন্ম হয়েছে অনেক পরে, তিনি নিজেই তার ভুল সংশোধন করেছেন। তার পিতা এখনও জীবিত আছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভুলক্রমে তিনি কথাটা বলেছেন। আরও একজন সদস্য এই সম্বন্ধে বক্তব্য রেখেছেন। ভুলক্রমে ভুল হতেই পারে। এটি ইচ্ছাকৃত ভুল নয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬