বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। বায়ুমান সূচকে ঢাকার স্কোর ১৭৯। যা বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিন তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের শহর লাহোর, যার স্কোর ২৯১। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউ এয়ারে এ তথ্য দেখা যায়। বায়ুদূষণে এদিন বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শহর কলকাতা, যার স্কোর ২০৩। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির রাজধানী দিল্লি , যার স্কোর ১৯৭। এছাড়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে ডিআর কঙ্গোর কিনশাসা, যার স্কোর-১৮৯। তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, যার স্কোর-১৭৮। একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। আর বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
স্বচ্ছ নীল জল, সোনালি বালি ও অর্ধচন্দ্রাকৃতির সৈকত আর সারি সারি নারকেলগাছ। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য দিয়ে পর্যটকদের মন জয় করে নিয়েছে এই সৈকতটি। আর সে কারণে ২০২৬ সালে পেয়েছে এশিয়ার সেরা সমুদ্রসৈকতের স্বীকৃতি। ২০২৬ সালের বিচডটকম-এর গ্লোবাল বিচ ইনডেক্সে এশিয়ার সেরা সমুদ্রসৈকতের স্বীকৃতি পাওয়া এই সৈকত হলো নিয়েছে গোয়ার পালোলেম সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের সেরা সৈকতের তালিকায় তার স্থান ষষ্ঠ। প্রথম ২৫টি সৈকতের মধ্যে একমাত্র এশীয় সৈকত হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে পালোলেম। বিচডটকম জানিয়েছে, এই তালিকা তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞদের মনোনয়ন, হাজার হাজার পর্যটকের পর্যালোচনা এবং নাসার জলরঙ ও স্বচ্ছতা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দক্ষিণ গোয়ায় অবস্থিত পালোলেম সৈকতটি অনেকটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির। দু’পাশে পাহাড়ি ভূখণ্ড থাকায় এখানকার জল তুলনামূলক শান্ত। ফলে সাঁতার কাটার জন্যও বেশ উপযোগী এই সৈকত। উত্তরের দিকে রয়েছে ছোট ছোট মনোরম দ্বীপ, কাছেই বিস্তীর্ণ জলাভূমি। নিরিবিলি পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে সারা বছরই এখানে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা। পালোলেমের অন্যতম আকর্ষণ শনিবার রাতের ‘সাইলেন্ট নয়েজ ডিস্কো’। এখানে হেডফোনে গান শুনে নাচেন পর্যটকেরা। একেক জনের হেডফোনে বাজতে পারে একেক ধরনের গান, অথচ বাইরে থেকে চারপাশ প্রায় নিঃশব্দ। অভিনব এই আয়োজন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। শুধু সমুদ্রের ধারে সময় কাটানো নয়, পালোলেমে রয়েছে নানা রকমের জলক্রীড়ার সুযোগও। সূর্যাস্তের সময় সৈকত ধরে হাঁটা, কাছের জলাভূমিতে কায়াকিং কিংবা সৈকতের উত্তর প্রান্তের কাছে মাঙ্কি আইল্যান্ডে প্যাডল করে যাওয়া—ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় যোগ করতে পারেন এমন নানা কিছু। কাছেই রয়েছে আগোন্ডা ও পাতনেমের মতো আরও কয়েকটি সৈকত। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন কোটিগাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকেও। শরীর ও মনের সুস্থতায় ভ্রমণের পাশাপাশি যোগাভ্যাসে আগ্রহীদের জন্যও রয়েছে সুযোগ। পালোলেমের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি যোগশিক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে যোগব্যায়াম ও ধ্যানের মাধ্যমে ছুটির সময়টুকু আরও প্রশান্ত করে তুলতে পারেন। এ ছাড়া ভোরের দিকে সমুদ্রে ডলফিন দেখার জন্য নৌভ্রমণের আয়োজন করেন স্থানীয় পর্যটন সংস্থাগুলো। সকালে নৌকায় চেপে ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন পর্যটকেরা। কীভাবে যাবেন পালোলেম সৈকতে পালোলেমের নিকটতম বিমানবন্দর গোয়ার ডাবোলিম বিমানবন্দর। সৈকত থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় সেখানে। ট্রেনে গেলে নামতে হবে কানাকোনা স্টেশনে। সেখান থেকে অটোতে কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাবেন সৈকতে। এ ছাড়া মারগাঁও থেকে কানাকোনা গ্রামের মধ্যে নিয়মিত বাস চলাচল করে। আশপাশের সৈকত ঘুরে দেখতে অনেক পর্যটক স্কুটারও ভাড়া নেন। কখন যাবেন পালোলেমে বছরের বেশির ভাগ সময়ই পালোলেমের আবহাওয়া মনোরম থাকে। তবে সৈকতে ঘোরাঘুরি, জলক্রীড়া ও দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ মাসকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে করা হয়। বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তাই এই সময়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে হোটেল ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আগেভাগেই করে রাখা ভালো।
মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী চারদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশির ভাগ এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এদিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বেশির ভাগ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসের শেষ সপ্তাহে টোকিও সফরে গিয়েছিলেন, সেখানে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় নতুন করে উঠে এসেছে জাপানের বিগ-বি প্রকল্প। সফরে জাপান এবং বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ এই প্রকল্প নতুন স্তরে উন্নীত হয়েছে। যেটাকে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে ‘বিগ-বি ফর শেয়ারড প্রসপ্যারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি উদ্যোগ। কিন্তু এই বিগ-বিকে ঘিরে দুটো বিষয় নিয়ে বিশেষ আলোচনা হচ্ছে। একটি হচ্ছে, যৌথ ঘোষণায় কানেক্টিভিটির প্রসঙ্গ। আরেকটি হচ্ছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের উল্লেখ এবং এর গুরুত্ব স্বীকার করে নেওয়া। বিশেষত কানেক্টিভিটির নামে ভারতকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। দেশটির প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় এক জনসভায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সরকার জানাচ্ছে, এ ধরনের কোন উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু বিগ-বি উদ্যোগকে ঘিরে বাংলাদেশের মাতারবাড়িতে আসলে কী হচ্ছে? বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা থেকে যেভাবে গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের সমুদ্রতীরবর্তী কক্সবাজার জেলার একটি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে বাংলাদেশ-জাপান প্রথমে একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেটাও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আমলে। সেই সময় চুক্তি হওয়ার পর এর কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। সরাসরি সমুদ্রের তীরে না করে সমুদ্র থেকে ১৪ কিলোমিটার ভেতরে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজ শুরু হয়। যেহেতু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লাভিত্তিক ফলে কেন্দ্রে কয়লা আনা-নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয় নৌ-চ্যানেল। সমুদ্রের তীর থেকে মাটি কেটে সার্বক্ষণিক কয়লা পরিবহনের জন্য ২৫০ মিটার চওড়া এবং ১৪ কিলোমিটার লম্বা চ্যানেল তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে ২০১৭ সালে জাইকা যে প্রাক-সমীক্ষা করে, সেখানে নতুন আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আসে সংস্থাটি। ঐ সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চ্যানেলের সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে চ্যানেলের দক্ষিণ দিকে বাণিজ্যিক বন্দর স্থাপন করা সম্ভব। প্রস্তাব করা হয়, যেই চ্যানেলটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে সেই চ্যানেলের ওপরই একটি বাণিজ্যিক বন্দর হতে পারে। একই চ্যানেল ব্যবহার করে দুটি প্রকল্পের কার্যক্রম করা হলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার যেমন হবে, তেমনই ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। পরবতীকালে এই প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলাদেশ। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র শেষপর্যন্ত গিয়ে ঠেকে গভীর সমুদ্র বন্দরে। চ্যানেলের গভীরতা এবং প্রশস্ততাও বাড়ানো হয়। আর এখন সেই গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ। এখন মাতারবাড়িতে বিগ-বি’র আওতায় কী হচ্ছে? ‘বিগ-বি’র পূর্ণ নাম হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ।’ এটি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে ঘিরে জাপানের একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা। জাপান মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ কারণে গভীর সমুদ্রবন্দর ছাড়াও পণ্য সরবরাহের জন্য সেখানকার সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে কাজ করছে দেশটি। এর আওতায় সেখানে ইতোমধ্যেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে। আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও স্থাপন হচ্ছে। এরপর হবে এলএনজি টার্মিনাল, হবে গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল। বিগ বি নিয়ে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ ঘোষণায় মূলত চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঐ অঞ্চলে কানেক্টিভিটি তৈরি করা, যার মূল ভিত্তি হবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, যার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি পাবে বাংলাদেশ। জানতে চাইলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, তারা মূলত বাংলাদেশকে একটি রফতানি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেন, ‘মাতার বাড়িতে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর এবং তাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি, লজিস্টিকস, তারপরে অর্থনৈতিক এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা। এখানে আমরা কিন্তু পরিকল্পিত নগরও গড়ছি, যাতে করে এটা একটা গ্লোবাল রফতানির কেন্দ্র হতে পারে। আমরা চেষ্টা করব সেটাকে পূর্ব এশিয়ার দেশ হোক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হোক, ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে কিংবা আফ্রিকা -সব জায়গায় এটাকে নিয়ে যেতে।’ ঋণ শোধ করতে হবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক রফতানির কেন্দ্র হওয়ার জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, শিল্পকলকারখানা, সমুদ্রবন্দর এবং যোগাযোগব্যবস্থাসহ যা যা অবকাঠামো দরকার, তার সবই করা হচ্ছে মাতারবাড়িতে। এর জন্য যে বিপুল বিনিয়োগ দরকার, সেটাও দেবে মূলত জাপান। কিন্তু এর ঋণ শোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, জাপানের আগ্রহ বিশেষত মাতারবাড়িকে ঘিরে যে বিপুল বিনিয়োগ, তাতে বাংলাদেশ শেষপর্যন্ত কতটা লাভববান হবে? বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই প্রকল্পে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন ‘বলা হচ্ছে যে এখানে প্রায় ষাট থেকে পঁয়ষট্টি বিলিয়ন ডলারের একটা বিনিয়োগ হবে এবং এই বিনিয়োগের মধ্যে আটচল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারই বেসরকারি বিনিয়োগ হবে। যেই বিনিয়োগগুলো মূলত জাপানিজ বিনিয়োগকারীরা নিয়ে আসবে’। তার মতে, জাপানি বিনিয়োগের পথ ধরেই উন্নতি হবে অর্থনীতিতে। তিনি বলেন, ‘জাপানের মত বড় বিনিয়োগকারীরা যদি তাদের বিনিয়োগ নিয়ে আসেন তাহলে একই সাথে তো শুধু তার পণ্য আসবে না। এখানে একই সাথে তাদের একটা প্রযুক্তিও আসবে। তখন সেটা আমাদের লোকাল বিনিনিয়োগকেও আরো বেশি উৎসাহিত করবে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যাওয়ার। কারণ এগুলোর সঙ্গে যে সাপ্লাই চেইনগুলো গড়ে উঠবে, সেই সাপ্লাই চেইনগুলো তখন এখানে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। বলা হচ্ছে, এর ফলে প্রায় আটাশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে সেই জায়গা জুড়ে। এটা ঘটবে কয়েক দশক ধরে।’ ভারত নিয়ে সংশয় কেন? বাংলাদেশে মাতারবাড়ি প্রকল্পের চুক্তি হয় আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৪ সালে। চুক্তিটি হয়েছিলো জাপানের সঙ্গে। তখন প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে মিলিয়ে একটি বৃহৎ বাজারের ধারণাকে মাথায় রেখে এই পরিকল্পনা সামনে নিয়ে এসেছিল জাপান। ২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দেশটির তখনকার প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ‘বিগ-বি’ ধারণাটি প্রথমে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। শিনজো আবে বিগ-বি ধারণাটি সামনে আনার পর ২০১৪ সালের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে এই ধারণাটির আনুষ্ঠানিক একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তখনকার জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকা’র প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা। তিনি বলেছিলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়টি এই ধারণার মূল ভিত্তি। আর এর দ্বিতীয় ভিত্তি হবে জ্বালানি এবং তৃতীয়টি হলো পরিবহন ব্যবস্থা। অর্থাৎ গভীর সমুদ্র বন্দরটির মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের একটি বৈশ্বিক হাব হবে মাতারবাড়ী এবং সেখানকার বিদ্যুৎ দিয়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। আর পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে প্রতিবেশী দেশগুলো পর্যন্ত। পরে শেখ হাসিনা ঢাকায় মাতারবাড়ীকে নিয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটি তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হিসেবেও গৃহীত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে জাপানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরের সময় বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই শিল্পাঞ্চলের প্রস্তাব উঠে আসে। অর্থাৎ বিগ-বি উদ্যোগ এবং একে ঘিরে মাতারবাড়ি প্রকল্পে সবসময়ই প্রাসঙ্গিক ছিলো ভারত। কিন্তু এখন ২০২৬ সালে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি, তখন বিগ-বি উদ্যোগ নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত হয়েছে জাপান-বাংলাদেশ দুই দেশই। অর্থাৎ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা আরো জোরদার হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের জাপান সফরে যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিগ-বি নিয়ে সরাসরি ভারত বা অন্য কোন দেশের নাম উল্লেখ নেই। কিন্তু ঘোষণায় কানেক্টিভিটি প্রসঙ্গ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে মাতারবাড়িকে গড়ে তোলার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটাতেই স্পষ্ট এই প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। এবং এখানে প্রতিবেশি দেশগুলো বিশেষত ভারত প্রাসঙ্গিক। ফলে এই প্রকল্পে কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভারতকে সুবিধা দেওয়া হবে, এমন সন্দেহ করছেন কেউ কেউ। আর এই সন্দেহ দেখা যাচ্ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, যেখানে ভারত সবসময়ই একটি স্পর্শকারতর ইস্যু। গত ৩১শে অক্টোবর ঢাকায় এক সমাবেশে ভারতের নাম উল্লেখ না করেই মাতারবাড়ি প্রকল্পে কৌশলে ভারতকে কানেক্টিভিটি দেয়া হচ্ছে কিনা- সেই প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে। মাতারবাড়ি গভীর বন্দর নিয়ে কোনো লোকচুরি হচ্ছে কিনা, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না বলে হুশিয়ারি দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মাতারবাড়িতে কানেক্টিভিটি নিয়ে জামায়াতের যে উদ্বেগ, সেটা ঠিক কী কারণে? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে দলটির পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জাপানের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা বা যেসব অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে, সেগুলো বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে তারা পরে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করবেন। তবে বিস্তারিত না জানলেও জামায়াতসহ কোনো কোনো রাজনৈতিক দল যে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট তাদের উদ্বেগ মূলত এই প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততা বিশেষকরে এর মাধ্যমে ভারত করিডোর বা ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা পাচ্ছে কিনা, সেটা নিয়ে। জানতে চাইলে সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, বিগ-বি’র অর্থনৈতিক মডেল চমৎকার। তবে এখানে ভারতের মতো দেশকেও যদি সুবিধা দিতে হয়, তাহলে সেটা করার আগে বাংলাদেশের ভেতরে রাজনৈতিক ঐকমত্য লাগবে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হচ্ছে ইন্ডিয়ার সাথে কানেক্টিভিটি করে আমরা একটা একত্রিত বা একিভূত মার্কেট তৈরি করতে পারি কিনা। এই অর্থনৈতিক চিন্তা ভালো চিন্তা। কিন্তু এই চিন্তার আগে যে রাজনৈতিক যে ঐকমত্য লাগে, সেই রাজনৈতিক ঐকমত্য হয় নাই। আমি মনে করি আগে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য হয় তাহলে আমরা অর্থনৈতিক একীভূতকরণের দিকে যেতে পারি। আর যদি আমরা রাজনৈতিক সমঝোতা না করি, তাহলে আমি মনে করি আমরা বিরাট সমস্যার মধ্যে পড়বো এবং এটা তখন বাস্তবায়ন হবে না।’ ভূ-রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন কিন্তু সমস্যা শুধু ভারতকে নিয়ে নয়। একইসঙ্গে চীন এই বিগ-বি প্রকল্পকে কীভাবে দেখবে, সেই প্রসঙ্গও উঠছে। কারণ বিগ-বির দ্বৈত ঘোষণায় জাপান বলেছে মুক্ত, স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিকের কথা। এই ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উদ্যোগ। যেটাকে চীন দেখে থাকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাকে ঘিরে ফেলার মার্কিন চেষ্টা হিসেবে। জাপান হচ্ছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, জাপান বিগ-বি ধারণায় ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ধাপে ধাপে আঞ্চলিক আরও দেশগুলোর সাথে বিগ-বির বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখানে ভূ-রাজনৈতিক বিষয় আছে। কারণ জাপান পুরো অঞ্চলকে ঘিরেই কাজ করছে। এর একটি উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলটিকে বড় শক্তির প্রভাব বলয়ের বাইরে রেখে জাপানি বিনিয়োগের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা।’ এছাড়া বাংলাদেশে চীনের প্রভাব কমাতে জাপান দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এমন ধারণাও আছে। ফলে এমন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, বাংলাদেশকে মূল ফোকাস দিতে হবে অর্থনীতিতে। তিনি বলেন, ‘পার্টিকুলারলি আমাদের জন্য চাইনিজ বিনিয়োগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে চায়নার সম্পর্কটাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক একইভাবে আমরা আঞ্চলিক পার্টনার হিসেবে ভারতের সঙ্গে যে একটা বড় বাজার রয়েছে সেটিকেও গুরুত্বের সাথে দেখার দরকার আছে। সুতরাং এই জায়গাটিতে দুটো সম্পর্ককে পাশাপাশি রেখে কোন জোটেই খুব বড়ভাবে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত না হয়ে কীভাবে বাংলাদেশ তার ইকোনমিক মাইলেজ (অর্থনৈতিক সুবিধা) নিতে পারে সেরকম কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন’। একইরকম মত দেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে জাপানের সাথেও থাকতে হবে। আমেরিকার সাথেও থাকতে হবে। একই সঙ্গে চায়নার সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এটা বলা যতটা সহজ করা ততটা সহজ না। কিন্তু আমার মনে হয় এইটাই হচ্ছে পথ।’ কিন্তু সরকার এক্ষেত্রে কী করবে? জানতে চাইলে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন ভারসাম্যের কথা। তিনি বলেন, ‘সকল দেশের সাথেই আমরা বিনিয়োগে উৎসাহী এবং সেভাবেই কিন্তু সব হচ্ছে। যেমন ইতিমধ্যেই চীন থেকে চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরে অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ হচ্ছে। একই সঙ্গে যদি আমরা চট্টগ্রামের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখব সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ আছে, ঠিক একই সাথে ইউরোপের দেশও আছে।’ মাতারবাড়ি সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে বলে যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা সকলের জন্যেই কিন্তু অবারিত যে আমাদের সাথে তারা প্রস্তাব দিতে পারে এবং প্রস্তাবের যৌক্তিক ভিত্তি বিবেচনা করে, বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করে তারপর তাদের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা হবে।’
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ পরিষ্কার এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আদ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৯ মিনিটে।
দিনের বেলায় রোদের প্রখরতা এখনো সেভাবে কমেনি। তবে মাঝরাতে ফ্যানের গতি কমিয়ে আনা কিংবা শেষরাতে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া কাঁথা জানান দিচ্ছে, শীত কড়া নাড়ছে দুয়ারে। কংক্রিটের শহরে শীতের পদধ্বনি কিছুটা ধীর হলেও উত্তরের গ্রামগুলোতে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। সেখানকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর নদীতীর এরই মধ্যে ঢাকতে শুরু করেছে ভোরের স্নিগ্ধ কুয়াশায়। প্রকৃতির এই শান্ত পালাবদলের মাঝেই শীত নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জানানো হয়েছে, আগামী ৩ মাসে দেশের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শীত মৌসুমে দেশে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কুয়াশা, লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে এলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। শৈত্যপ্রবাহ কখন ও কোথায় বেশি হতে পারে, জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে, অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। সেই সব জায়গায় মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তবে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানান তিনি। তিন মাসের এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যেহেতু এল নিনো সক্রিয় এবং পৃথিবী উষ্ণ হয়ে আছে, ফলে এর ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। শুধু তাই নয় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এর প্রভাব থাকবে। ফলে গড় তাপমাত্রা একটু বেশি থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবার শীতকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকবে। তবে কখনো কখনো তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ থাকবে, কিন্তু অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনক্ষণ, সংখ্যা ও ব্যাপ্তি অনেকটাই কম থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকাল কিছুটা ‘উষ্ণ’ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে শৈত্যপ্রবাহ কয়দিন থাকবে, কয়বার হবে, এসব বিষয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে এবার সার্বিকভাবে কিছুটা ‘উষ্ণ শীতকাল’ পাবো বলে আমরা আশা করছি। শীতের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে পূর্বাভাসে। এতে বলা হয়, আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আমাদের দেশে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছরই এ সময়টাতে লঘুচাপ তৈরি হয়। কখনো কখনো এটি শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন থাকে। ক্রমশ দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে এবং বঙ্গোপসাগর বরাবর সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সব বছর ঘটে না, মাঝে মাঝে ঘটে। এজন্য একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট (ক্ষণস্থায়ী) সিস্টেম। বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টি আরও কমে আসবে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কীভাবে তৈরি হয়, তা ব্যাখ্যা করে ড. মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে কতটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, এ সময় গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ থাকে। এর কোনো কোনোটি কখনো কখনো শক্তি সঞ্চয় করে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় চিত্রের ভিত্তিতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে বলে মনে করিয়ে দেন এই আবহাওয়াবিদ। তাই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
দেশের পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
দিনের বেলায় রোদের প্রখরতা এখনো সেভাবে কমেনি। তবে মাঝরাতে ফ্যানের গতি কমিয়ে আনা কিংবা শেষরাতে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া কাঁথা জানান দিচ্ছে, শীত কড়া নাড়ছে দুয়ারে। কংক্রিটের শহরে শীতের পদধ্বনি কিছুটা ধীর হলেও উত্তরের গ্রামগুলোতে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। সেখানকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর নদীতীর এরই মধ্যে ঢাকতে শুরু করেছে ভোরের স্নিগ্ধ কুয়াশায়। প্রকৃতির এই শান্ত পালাবদলের মাঝেই শীত নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জানানো হয়েছে, আগামী ৩ মাসে দেশের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শীত মৌসুমে দেশে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কুয়াশা, লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে এলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। শৈত্যপ্রবাহ কখন ও কোথায় বেশি হতে পারে, জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে, অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। সেই সব জায়গায় মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তবে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানান তিনি। তিন মাসের এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যেহেতু এল নিনো সক্রিয় এবং পৃথিবী উষ্ণ হয়ে আছে, ফলে এর ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। শুধু তাই নয় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এর প্রভাব থাকবে। ফলে গড় তাপমাত্রা একটু বেশি থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবার শীতকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকবে। তবে কখনো কখনো তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ থাকবে, কিন্তু অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনক্ষণ, সংখ্যা ও ব্যাপ্তি অনেকটাই কম থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকাল কিছুটা ‘উষ্ণ’ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে শৈত্যপ্রবাহ কয়দিন থাকবে, কয়বার হবে, এসব বিষয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে এবার সার্বিকভাবে কিছুটা উষ্ণ শীতকাল পাবো বলে আমরা আশা করছি। শীতের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে পূর্বাভাসে। এতে বলা হয়, আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বাসস’কে বলেন, আমাদের দেশে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছরই এ সময়টাতে লঘুচাপ তৈরি হয়। কখনো কখনো এটি শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন থাকে। ক্রমশ দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে এবং বঙ্গোপসাগর বরাবর সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সব বছর ঘটে না, মাঝে মাঝে ঘটে। এজন্য একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট (ক্ষণস্থায়ী) সিস্টেম। বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টি আরও কমে আসবে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কীভাবে তৈরি হয়, তা ব্যাখ্যা করে ড. মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে কতটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, এ সময় গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ থাকে। এর কোনো কোনোটি কখনো কখনো শক্তি সঞ্চয় করে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় চিত্রের ভিত্তিতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে বলে মনে করিয়ে দেন এই আবহাওয়াবিদ। তাই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে। অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস তৈরিতে প্রাপ্ত আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১৯ নভেম্বর। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিজে জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে এ আদালতের পিস প্যালেসে ১৯ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে প্রকাশ্য অধিবেশন। সেখানে আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি রায় পড়ে শোনাবেন। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলা নামে পরিচিত। ১১টি দেশ এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, গাম্বিয়া ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলাটি করে। দেশটির অভিযোগ, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান ছিল গণহত্যা। ওই অভিযানের মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে কতটা ব্যাপক মাত্রায় হত্যা, ধর্ষণ ও জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছে, তার ভয়াবহ বিবরণ এসেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথায়। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক তথ্যানুসন্ধান মিশনও বলেছে, ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল। তবে মিয়ানমার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, ওই অভিযান ছিল সন্ত্রাসবিরোধী বৈধ কার্যক্রম। এ মামলায় গাম্বিয়া আদালতের কাছে মিয়ানমারকে গণহত্যা সনদের অধীন বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ চেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটার নিশ্চয়তা দেওয়ারও আবেদন করেছে দেশটি। আদালতের এখতিয়ারের ভিত্তি হিসেবে গাম্বিয়া ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের নবম অনুচ্ছেদের কথা বলেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সনদ বাস্তবায়ন বা ব্যাখ্যা নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ আইসিজেতে তোলা যায়। গাম্বিয়ার আবেদনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও ছিল। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে বর্ণিত কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গাম্বিয়া সাত বছর আগে মামলার লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর মিয়ানমার আদালতের এখতিয়ার ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। ২০২২ সালের ২২ জুলাই রায়ে আদালত জানায়, মামলাটি শুনানির এখতিয়ার তাদের রয়েছে এবং গাম্বিয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য। এরপর মিয়ানমার তাদের জবাবি লিখিত বক্তব্য জমা দেয়। গাম্বিয়া ও মিয়ানমার পর্যায়ক্রমে নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, স্লোভেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম এবং আয়ারল্যান্ড—এই ১১টি দেশ এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে। গণহত্যা প্রমাণের কঠিন আইনি মানদণ্ড রয়টার্স লিখেছে, আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন। কারণ, কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে—এমনটি প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়। অভিযোগকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে, অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, ধর্ম বা বর্ণের গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায়ে। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে এই অভিপ্রায়কে গণহত্যার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশকের বেশি সময় পর এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বারের মত আইসিজে গণহত্যা-সংক্রান্ত কোনো মামলায় রায় দিতে যাচ্ছে। এ রায় ভবিষ্যতে আদালতে ওঠা গণহত্যার মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাও রয়েছে। ইসরায়েল ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়। এটি ব্যক্তির ফৌজদারি বিচার করে না। আদালতের রায় চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জন্যও এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা চললেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। রয়টার্স লিখেছে, এ মামলার রায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক মূল্যায়ন এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে সারাদেশে। এ ছাড়া আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তর এ পূর্বাভাস দিয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
মেয়ের বিয়ে প্রতিটি মা-বাবার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রত্যেক সচেতন অভিভাবকেরই চাওয়া থাকে, মেয়ের জামাতা যেন দ্বীনদার, সৎ, নৈতিক চরিত্রবান এবং দায়িত্বশীল হন। কারণ বিয়ে কেবল দুজন মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন নয়; এটি একটি নতুন পারিবারিক জীবনের সূচনা, যা উভয় পক্ষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেক সময় দেখা যায়, প্রস্তাব আসা পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সরাসরি সুদ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মনে সংশয় জাগে—সুদ বা হারাম উপার্জনে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত? তার এই উপার্জনের প্রভাব কি নতুন সংসারজীবনে পড়বে? পাত্রের অন্যান্য গুণ ভালো হলেও কেবল সুদি পেশায় থাকার কারণে অভিভাবকের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে বিষয়টির শরয়ি সমাধান বিশ্লেষণ করা যাক। ১. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা ও অবস্থান ইসলামি শরিয়তে সুদকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ—যেকোনোভাবে সুদের প্রক্রিয়ায় জড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন— وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫) মুমিনদের সুদের যাবতীয় অবশিষ্টাংশ বর্জনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮) সুদের পাপের বিস্তৃতি কেবল এর প্রত্যক্ষ গ্রহীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই সমান অপরাধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮) সুতরাং সুদি কারবারকে কোনোভাবেই হালকা বা সাধারণ পেশা ভাবার অবকাশ নেই; এটি আল্লাহর বিধানে চূড়ান্ত পর্যায়ের অবাধ্যতা। ২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে কি বৈধ? বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পাত্রের ব্যক্তিগত সুদি কারবারে লিপ্ত থাকা এবং তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনের বৈধতার শরয়ি দিকটির সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা জরুরি। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া আকদ বা বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জেনেবুঝে হারাম সুদি লেনদেনে অবিচল থাকে এবং তা থেকে তওবা না করে, তবে তা তার দ্বীনদারির মারাত্মক ঘাটতি ও নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ। এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে সে যদি সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে মেয়ের দ্বীন ও আখিরাতের সুরক্ষায় তাকে পাত্র হিসেবে প্রত্যাখ্যান করাই বিচক্ষণ অভিভাবকের দায়িত্ব। শাইখ ইবনে বায (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন এবং বিকল্প কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তা ছাড়তে নারাজ; এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে কি না? জবাবে তিনি পরিষ্কারভাবে অভিমত দেন—পাত্রের মানসিকতা ও অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সে ওই চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে পাত্রস্থ না করাই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের পেশাগত স্বচ্ছতার বিষয়ে আপসহীন থাকা এবং তাকে হালাল উপার্জনে ফিরে আসার জোরালো তাগিদ দেওয়া। ৩. পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারি ও চরিত্রের অগ্রাধিকার পাত্রের পদমর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে তার দ্বীনদারির মূল্যায়নকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি ইরশাদ করেছেন— إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ ‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (জামে তিরমিজি: ১০৮৪) এই নির্দেশনায় স্পষ্ট যে, বৈষয়িক প্রাচুর্য, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি বা সামাজিক প্রতিপত্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বরং পাত্রের নিয়মিত সালাত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, আমানতদারি, হালাল-হারামের বাছবিচার ও সুন্দর আচরণই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি। ৪. পরিবারে হারাম উপার্জনের প্রভাব হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকত ও মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয় এবং মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে। একজন মুমিনের প্রতিটি লোকমা হালাল হওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫) তবে ব্যবহারিক মাসআলার ক্ষেত্রে স্বামীর উপার্জনে হারামের মিশ্রণ থাকলেই সংসারের প্রতিটি পাই-পয়সা স্ত্রীর জন্য ঢালাওভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। উপার্জনের প্রকৃত ধরন, অর্থের মূল উৎস এবং স্ত্রীর নিরুপায় অবস্থার ওপর অনেক বিধান নির্ভর করে। তা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের বরকত নিশ্চিত করতে বিয়ের প্রস্তাবের সময়ই পাত্রের উপার্জনের মাধ্যম শতভাগ হালাল করার ব্যাপারে শর্ত দেওয়া আবশ্যক। ৫. পাত্র অতীত থেকে তওবা করলে করণীয় কোনো পাত্র অতীতে সুদের কারবারে জড়িত থাকলেও যদি সে আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে তা পুরোপুরি পরিহার করে এবং হালাল বিকল্পের সন্ধানে সচেষ্ট হয়, তবে তার অতীতের কারণে তাকে আজীবনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা শরিয়তের উদ্দেশ্য নয়। মহান আল্লাহ তাওবাকারীদের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রেখে ঘোষণা করেন— قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩) সুতরাং পাত্রের মধ্যে যদি আন্তরিক তাওবার প্রতিফলন দেখা যায় এবং সে বৈধ উপার্জনের প্রতি যত্নবান হয়, তবে তার সার্বিক দ্বীনদারি বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে। ৬. কন্যার স্পষ্ট মতামত ও সম্মতি পাত্র নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় কন্যার মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ ইসলামে নেই। জোরপূর্বক অভিভাবকের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে আদেশ করেছেন— لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ ‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬, সহিহ মুসলিম: ১৪১৯) মেয়ের বিয়ে কেবল একজন সচ্ছল ব্যক্তির হাতে কন্যাকে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি এমন একজন দ্বীনি অভিভাবক ও জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বিষয়, যার ছায়াতলে একটি মেয়ে নিরাপদে তাঁর ঈমান ও আমল সংরক্ষণ করতে পারবে। সুদি কারবারে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আইনগতভাবে বাতিল না হলেও, সচেতনভাবে সুদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিকে জামাতা হিসেবে বরণ না করাই সতর্কতামূলক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত। আর যে ব্যক্তি ভুল বুঝতে পেরে সুদের কারবার ছেড়ে হালাল পথে ফিরে এসেছে, তার প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা ইসলামের ক্ষমার নীতির অংশ।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে মুরাসু। এটি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বশেষ আপডেটে এমনটাই জানিয়েছে আইএমডি বা ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থা। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের ওপর। সোমবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় মেঘলা থাকতে পারে আকাশ। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আর সময় নষ্ট না করে ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট থেকে শুরু করে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার বিষয়ে বিশদে জেনে নিন। সকালের আইএমডি জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর থাকা ঘূর্ণিঝড় মুরাসু গত ৬ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। শক্তি বাড়িয়ে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে, অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে ২৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপত্তনম থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, ওঙ্গোল থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তরের দাবি, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। আগামী ২ নভেম্বর মধ্যরাত (রাত ১১টা ৩০ মিনিট) থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। নির্দিষ্ট করে বললে, নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যে, ওঙ্গোলের কাছাকাছি উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। যখন ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করবে, তখন ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। এছাড়া দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এটাই হল মুরাসুর লেটেস্ট আপডেট। এই বিষয়েও আপডেট দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তারা জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলোতে সোমবারও বৃষ্টি হতে পারে। তবে টানা নয়, বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। ওদিকে আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও আবহাওয়া থাকতে পারে একই রকম। সেই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। ওদিকে আবার এক-দুই জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়। আবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলাতেও সকালের দিকে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। এই বিষয়েও আপডেট চলে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর উত্তরবঙ্গেও প্রভাব ফেলবে। একাধিক জেলাতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় ১০০ দিন বাকি। তবে রোজা রাখার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে শুরু না করে এখন থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের রুটিনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হতে পারে। খবর খালিজ টাইমস সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ সব অভ্যাস বদলে ফেলার চেষ্টা না করে অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনা ভালো। এতে নতুন রুটিনের সঙ্গে শরীর ও মনকে মানিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যায়। দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শেখ আয়াজ হাউজে বলেন, রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়। এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, প্রতিদিন কুরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে। তার পরামর্শ, একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার লক্ষ্য না রেখে ছোট অভ্যাস নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। যারা মাসিক, সাময়িক অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে আগের রমজানে রোজা রাখতে পারেননি, তাদের পরবর্তী রমজানের আগে সম্ভব হলে সেই রোজাগুলো কাজা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ঘুম ও খাবারের রুটিনে পরিবর্তন : দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জনের পরামর্শ, এখন থেকেই খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানো এবং গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেয়া উচিত। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, তত ধীরে ধীরে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় পরিবর্তন করে সেহরির উপযোগী রুটিন তৈরি করা যেতে পারে। দিনভর নিয়মিত পানি পান এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। যারা প্রতিদিন কয়েক কাপ চা বা কফি পান করেন, তাদেরও ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। রমজানে হঠাৎ চা-কফি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি দেখা দিতে পারে। খাবারে রাখতে হবে ভারসাম্য : রমজানের প্রস্তুতিতে প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বপ্না মেরি জন। সেহরিতে ওটস, পূর্ণশস্যের রুটি, ডিম, দই, শিমজাতীয় খাবার ও শাকসবজি রাখা যেতে পারে। ইফতারে শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত শস্যজাতীয় খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় থাকে। অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ভাজাপোড়া ও ঘন ঘন নাশতা খাওয়ার অভ্যাসও ধীরে ধীরে কমানো উচিত। তবে শরীরের প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দেয়াই লক্ষ্য নয়; বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। শরীরচর্চা বন্ধ নয়, চাই নিয়মিত অভ্যাস : দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান বলেন, রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বা তীব্রতা বাড়ানো উচিত নয়। রমজানে ইফতারের আগে হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য ইফতারের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরের সময়টি তুলনামূলক উপযোগী। আঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ব্যায়ামের রুটিন পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী কিংবা শারীরিক আঘাত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। রোজা অবস্থায় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক উপসর্গ ভেবে অবহেলা করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ, রমজানের প্রথম দিন যেন ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের সম্পূর্ণ নতুন রুটিন শুরুর দিন না হয়। তার প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন। এদিন রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। একইসঙ্গে কারাগারে ডিভিশন চাওয়া হয়। পরে আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার, পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করা হয়। মামলার রায়ে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের উভয় ধারায় ৭ বছর করে ১৪ সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, রাজউকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখা টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩-এই দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত। প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপটি রবিবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুতে’ পরিণত হয়েছে। তখন ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ও পাশের পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে। ‘মুরাসু’ আরও শক্তি বাড়িয়ে সোমবার সকাল নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে জানিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির পথ হতে পারে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী স্থান। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে বিরল প্রজাতির ‘ব্যারেলআই’ মাছের দেখা পেয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। মাছটির মাথা পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়ায় বাইরে থেকেই এর ভেতরের সবুজ চোখ দেখা যায়। মন্টেরে বে অ্যাকুরিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমবিএআরআই) গবেষকেরা সম্প্রতি একটি সামুদ্রিক অভিযানের সময় মন্টেরে ক্যানিয়ন থেকে প্রায় ৫৫ মাইল দূরে মাছটির সন্ধান পান। গবেষক দলটি ‘ডেভিড প্যাকার্ড’ নামের একটি জাহাজে করে সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালাচ্ছিল। গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করতে তারা ‘ডক রিকেটস’ নামের রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করেন। পানির প্রায় ১ হাজার ৯৭০ ফুট গভীরে মাছটি বিজ্ঞানীদের চোখে পড়ে এবং তারা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এটিকে ক্যামেরায় ধারণ করেন। ভিডিওতে মাছটিকে পানির নিচে ভাসতে দেখা যায়। স্বচ্ছ মাথার ভেতর দিয়ে এর সবুজ চোখগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। বিজ্ঞানসম্মতভাবে ‘ম্যাক্রোপিন্না মাইক্রোস্টোমা’ নামে পরিচিত এই মাছটি লম্বায় প্রায় ছয় ইঞ্চি হয়ে থাকে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে গোধূলি ও অন্ধকার অঞ্চলে এদের বসবাস। গভীর পানিতে বাস করার কারণে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। এমবিএআরআইয়ের গবেষকেরা ৪০ বছরের সমুদ্র গবেষণায় মাত্র ১০ বার এই প্রজাতির দেখা পেয়েছেন। মাছটির স্বচ্ছ মাথার কারণেই এর চেহারা এতটা অনন্য। দলের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যাডক একে একটি ‘অবিশ্বাস্য সৃষ্টি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, দেখে মনে হয় যেন কোনো কল্পনাবিলাসী শিশুর হাতে গড়া। তিনি জানান, আগে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া এই মাছগুলোর যে ছবি আঁকা হতো, সেগুলোতে স্বচ্ছ মাথার অংশটি থাকত না। ফলে ছবিটি যে একই প্রজাতির, তা বোঝা কঠিন হতো। তাই স্বচ্ছ মাথাসহ মাছটিকে জীবন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়াটা তাদের জন্য সত্যিই বড় পাওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’, যার অর্থ ‘ঢোল’ এবং এই নামটি ভারত প্রস্তাব করেছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সদ্য বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তুলনায় এই ঝড়টির শক্তি কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। এই ঝড়ের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে এবং পরদিনও এসব এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে এবং ২ ও ৩ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলেও ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশের ছয় বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপ এবং পরে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ওই দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সোমবার (২ নভেম্বর) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দুই দিনই সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় তাপমাত্রা কমতে পারে।
দেশের তিনটি বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপ ও পরে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ছত্রিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির নাম ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে ঠিক করে, আর কেনই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আলাদা নাম রাখা হয়? আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কোনও ব্যক্তি বা একটি দেশের ইচ্ছামতো করা হয় না। এর জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও আগাম প্রস্তুত করা নামের তালিকা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখে কারা? বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। প্রতিটি দেশ আগাম কিছু নাম জমা দেয়। এরপর নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ব্যবহার করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি), যখন ঝড়টি নাম দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তীব্রতায় পৌঁছায়। বাংলাদেশও এই তালিকার জন্য নাম প্রস্তাব করে। যেমন— ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলোর একটি। তবে কোনও দেশ নাম প্রস্তাব করলেই সেই দেশের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে, এমন নয়। নামের তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়, আর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর। ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় কেন? ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা এবং এর বিষয়ে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুধু অবস্থানাঙ্ক বা কারিগরি পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট ঝড়টি মনে রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যম, আবহাওয়াবিদ, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন কোন ঝড়ের কথা বলা হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নামকরণের ফলে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়, একাধিক ঝড়ের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ে। ধরা যাক, একই সময়ে একাধিক সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের আলাদা নাম থাকলে কোনটির গতিপথ কোথায়, কোন অঞ্চলে সতর্কতা জারি হয়েছে এবং কোন ঝড়ের প্রভাব কেমন হতে পারে এসব তথ্য আলাদা করে বোঝানো সহজ হয়। নামগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হয়? ঘূর্ণিঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার উপযোগী করে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি নাম যেন অন্য নামের সঙ্গে সহজে গুলিয়ে না যায়, সেটিও বিবেচনা করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়। একবার কোনও নাম ব্যবহার হয়ে গেলে এই অঞ্চলের তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি নেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নাম সব সময় কোনো ব্যক্তি বা জায়গার নামে রাখা হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নামের উৎস হতে পারে বিভিন্ন ভাষার শব্দ, প্রকৃতি কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তাবিত অন্য কোনো নাম। তবে নামটি যেন আপত্তিকর না হয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নাম থাকলেই কি ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যায়? না। ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর শক্তি বা ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই। নামটি মূলত ঝড়টিকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি ঝড় কতটা শক্তিশালী, বাতাসের গতি কত, কোথায় আঘাত হানতে পারে এবং কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এসব জানতে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হয়। কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পরিচিত বা আকর্ষণীয় হলেই সেটি বেশি শক্তিশালী, এমন নয়। আবার তুলনামূলক সাধারণ নামের ঝড়ও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নামের চেয়ে ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, সম্ভাব্য গতিপথ এবং সরকারি সতর্কবার্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের নাম জানার পাশাপাশি সতর্ক থাকাও জরুরি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুধু পরিচিতির জন্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ সহজ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ‘অর্ণব’-এর মতো কোনও ঝড়ের নাম সংবাদে শুনলে সেই ঝড় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা, আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সবশেষে, ঘূর্ণিঝড়ের নাম কোনও একক ব্যক্তি ঠিক করেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়মে নাম ব্যবহার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।