আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছাড়তে না পারা প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)-এর বরাতে জানানো হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ধরনের ওভারস্টে জরিমানা ছাড়াই তাদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন অথবা চাইলে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন। আইসিপির ঘোষণায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। মূলত যেসব প্রবাসী বা ভ্রমণকারী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে পারেননি, তারাই এ সুবিধার আওতায় পড়বেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুযোগ নিতে আলাদা কোনো আবেদন বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। যারা দেশটিতে অবস্থান বৈধ করতে চান, তারা এই সময়ের মধ্যেই ভিসা বা কর্মসংস্থানের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তারা স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্থান করতে পারবেন। আইসিপি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই আইনগতভাবে অবস্থান ঠিক করতে পারেন বা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিদায়ী কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সোহেল পারভেজ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কর্মজীবনে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রাখা এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে প্রথম সচিব হিসেবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মালদ্বীপে দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং সংকটাপন্ন নাগরিকদের সহায়তায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নতুন দায়িত্বে সোহেল পারভেজ দেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতের উন্নয়ন, কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপির জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি স্কুলের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম আজিজুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন, যিনি অতিথিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটির লেখকের পুত্র তাহমিদ চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গ্রন্থটির পটভূমি তুলে ধরেন। এছাড়া সম্পাদক তৌহিদ শাকিল, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন গ্রন্থটির বিষয়ে মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। গ্রন্থটির বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন ডা. জাকি রিজওয়ানা আনোয়ার। তিনি বলেন, আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি কমিউনিটি উন্নয়ন, গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ এমপি কিথ বেস্টসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’ গ্রন্থটি আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবন, কর্ম এবং প্রবাসে সমাজসেবামূলক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের লারনাকা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ আছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, গত ১২ জুন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে। বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসমেইলের এক খবরে বলা হয়, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের ২২ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও মেলেনি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজ এই শিক্ষার্থী সাইপ্রাসের তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত উত্তর অংশে চলে গেছেন, নাকি দ্বীপরাষ্ট্রটিই ত্যাগ করেছেন, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে সাইপ্রাসের ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ইমনের চলে যাওয়ার কোনো রেকর্ড বা নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি অবৈধ উপায়ে উত্তর অংশ পার হয়েছেন নাকি সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের ভেতরেই আছেন, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, ইমনের মোবাইল ফোনের শেষ সিগন্যালটি কোফিনু পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু সেখানে তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন বাসে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল, কারণ তার নিজের কোনো বাহন নেই। ওই এলাকার বাস রুটগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ভিডিও খুঁজছে। এরইমধ্যে ইমনের বাবা ছেলের সন্ধান চেয়ে গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ইমনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে সিআইডি লারনাকা অথবা ১৪৬০ নম্বরে সিটিজেনস লাইনে যোগাযোগ করার জন্য পুলিশ অনুরোধ করেছে।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে এখানেই তুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ম্যুরাল এঁকেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ। লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বাড়াতে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো। সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। বুধবার এ স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। জিহান ওয়াজেদের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজিতে। তার পিতা ওয়াজেদ এ খান নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক। নিউ ইয়র্কেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। পড়াশোনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং ম্যাকাউলে অনার্স প্রোগ্রামের অধীনে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে। ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহানের আঁকা দেয়ালচিত্র সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের। তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-ফোর, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে বারোশ বর্গফুটের ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ অগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, এবং এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফুট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরাল। বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ। জিহান জানান, তার শুরুটা ছিল গ্রাফিতি দিয়ে। সেখান থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব নতুন ধারা। তার এই শৈলী পছন্দ করছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পসমালোচকরা। চিত্রকর্মের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। গত বছর অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
কাতারে রেসিডেন্স পারমিট (আকামা) বাতিল হলে প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে আকামা বাতিলের পর সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে এই ক্ষেত্রে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড থাকলেও তা কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে প্রতিদিনের জন্য জরিমানা গুনতে হবে। আকামা বাতিল হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ভিজিট ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম রয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারে অবস্থান করলে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা দিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে প্রবাসীদের মেতরাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের ভিসা, আকামা ও জরিমানার অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট স্থানান্তরসহ অন্যান্য সেবা এই অ্যাপের মাধ্যমেই সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে। কাতার সরকার বলছে, নিয়ম মেনে চলাই জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ওমানে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আলিফ মজুমদার। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন আলিফ। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে হঠাৎ তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে বন্ধুরা ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বুধবার সমুদ্রতীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার সঠিক কারণ জানতে রয়্যাল ওমান পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে মরদেহটি ওমান পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মালদ্বীপের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন খাতে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মোশারফ হোসেন সাগর। দীর্ঘ পরিশ্রম ও ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে তিনি বর্তমানে একটি সাফারি বোটের কোর্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুন্সিগঞ্জের কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে মোশারফ হোসেন প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। শুরুতে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ধাপে ধাপে নিজেকে দক্ষ ডাইভিং পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০২৪ সালে স্কুবা ডাইভার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সাফারি বোটের কোর্স ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ডাইভিং কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন। মালদ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটন খাতে হাজারেরও বেশি ডাইভার এবং শত শত ইনস্ট্রাক্টর কাজ করছেন। পাশাপাশি ৫২টির বেশি সাফারি বোট নিয়মিত পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে। মোশারফ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার জন্য গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের আশা রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মালদ্বীপের পর্যটন খাতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। মোশারফ হোসেন সাগরের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের প্রবাসী তৈওয়েব আলী (৫৩)। মৃত্যুর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি তার মরদেহ। শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। নিহত তৈওয়েব আলী মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। গত ১২ জুন সৌদি আরবের রিয়াদের একটি হাসপাতালে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তৈওয়েব আলী। ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া এই প্রবাসীর এখনও প্রায় দুই লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। সৌদি আরবে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বজনরা জানান, মৃত্যুর পর সৌদি আরবে থাকা পরিচিতজন ও আত্মীয়রা মরদেহ গ্রহণ ও দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ‘ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। তিন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবো জানি না। সাত দিন হয়ে গেল, এখনও তার মরদেহ দেশে আসেনি। শুধু শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।’ স্থানীয়রা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। স্ত্রী ও তিন কন্যার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর পরিবারের কাছে ফেরা হলো না তার। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন,‘তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’ নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়ে যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়েছিলেন এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণের জরিমানা থেকে আগেই অব্যাহতি পেয়েছিলেন, তাদের জন্য আরও একটি সুযোগ এনে দিয়েছে আমিরাত সরকার। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) ৩০ দিনের একটি বিশেষ গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করেছে, যা ১০ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন এই ছাড়? চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে আমিরাতের আকাশসীমায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বহু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ দেশে ফিরতে পারেননি। এই অসহায় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশে ওই সময়কালে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জরিমানা মওকুফ করে দেয়। সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছিলেন ভিজিট ভিসাধারী, প্রস্থানের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়ে গেলেও ফ্লাইট না থাকায় দেশ ছাড়তে পারেননি। নতুন গ্রেস পিরিয়ডে কী করবেন? আইসিপি জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই পূর্বের ছাড়কালীন সুবিধাভোগীদের এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে: যারা আমিরাতে থাকতে চান, তারা এই এক মাসের মধ্যে ভিসা বা রেসিডেন্সির মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে পারবেন। আর যাঁরা দেশে ফিরতে চান, তারা কোনো জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন। এ জন্য আলাদা কোনো আবেদন বা পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সতর্কতা ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড় আর প্রযোজ্য হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হালনাগাদ তথ্যের জন্য আইসিপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) গতকাল এই ঘোষনা দিয়েছে। আমিরাতে কর্মরত প্রায় লাখো বাংলাদেশির মধ্যে যারা এই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, তাদের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা জটিলতা ও প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।
বরিশাল নগরীর বান্দরোডে বেপরোয়া গতির অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী এক সৌদি আরব প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর বান্দরোডে বেলস পার্ক সংলগ্ন কেডিসির মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হলেন- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে মেহেদী হাসান শুভ (২৫), এবং আহত মো. আরিফ (২৫) একই গ্রামের গনি হাওলাদারের ছেলে। আহত আরফকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বন্ধু রাকিব খান জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দিয়ে পুনরায় দুটি মোটরসাইকেলযোগে লেবুখালী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভর মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক ডিভাইডারের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, ‘শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।’ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অটোরিকশাসহ চালক পালিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লিবিয়া বা অন্যান্য ট্রানজিট দেশ হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আর দেশটির ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন কার্যকর হওয়ার পর এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকায় ইতালির দূতাবাস। সোমবার (১৫ জুন) এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, গত ১২ জুন থেকে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের সীমান্তেই আটক করা হবে এবং দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে। ফলে তাদের পক্ষে ইতালিতে অবস্থান করা বা সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। দূতাবাস আরও জানায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচারকারী ও অপরাধী চক্রের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। যারা অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তারা মানবপাচারকারী চক্রকে সহযোগিতা করেন, যা একটি অপরাধ। বার্তায় বলা হয়, ইতালিতে বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং শিক্ষার্থী ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এসব সুযোগ কেবল বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণকারীদের জন্য উন্মুক্ত। দূতাবাস বৈধ পথে ইতালিতে যাওয়ার জন্য আগ্রহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নিয়ম মেনে আবেদন করুন এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
অস্ট্রেলিয়া সরকার দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মগুলো বিশেষভাবে শিক্ষার্থী, ট্রেনিং ভিসাধারী, দক্ষ কর্মী এবং স্পনসর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে আপিল প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনালে (এআরটি) আপিল করলে এখন আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত জানাবে। এর ফলে দীর্ঘসূত্রতা কমে আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেনিং ভিসা (সাবক্লাস ৪০৭) কর্মসূচিতে নজরদারি বাড়িয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভিসাধারী কর্মী এবং তাদের স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাই করতে বিভিন্ন কর্মস্থলে সরাসরি পরিদর্শনও করা হচ্ছে। ফলে এই ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও সতর্ক থাকতে হবে। রিজিওনাল বা আঞ্চলিক কর্মী স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। কর্মী নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতন প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ছোট ব্যবসা ও আঞ্চলিক এলাকার নিয়োগদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দক্ষতা মূল্যায়ন সংস্থা ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া (টিআরএ) তাদের স্কিল অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকাও হালনাগাদ করেছে। যদিও মূল নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, তবে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে নির্দেশনার ভাষা আরও সহজ ও বোধগম্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের জন্য পারিবারিক ও প্যারেন্ট ভিসার নির্ধারিত কোটা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসার জন্য ৬,৮০০টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য অধিক কার্যকর করে তুলতে চায়।
সাইপ্রাসে বাংলাদেশি যুবক শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে দেশটির পুলিশ। গত ১২ জুন একটি কারখানায় কাজ শুরু করার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। নিখোঁজ ওই যুবকের ঘটনাটিকে অপহরণ মামলা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাইপ্রাস মেইলে আজ এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সাইপ্রাস পুলিশ শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের (২২) একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, অপহরণ এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইমন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তার এক বন্ধুকে একটি নির্দিষ্ট লোকেশন মেসেজ করে পাঠান। এরপর থেকে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ইমনের বাবা তার ছেলের মোবাইল ফোন থেকে একটি সাহায্য চেয়ে পাঠানো মেসেজ পান। এরপর থেকেই ইমনের ফোনটি বন্ধ রয়েছে। ওই যুবকের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে অবিলম্বে লরনাকা পুলিশ স্টেশনে (২৪৮০৪০৬০) অথবা নিকটস্থ যে কোনো পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে মেয়র অ্যাভিনিউ ও নিউটাউন রোডের সংযোগস্থলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে নতুন হিজরি মাস গণনা শুরু হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২৫ জুন (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে। সোমবার (১৫ জুন) চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের নতুন বছর শুরু হয়েছে। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহররম মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা হিসেবে পালন করা হয়। এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শহীদ হন। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহন করে এবং মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তা পালন করেন।
মালয়েশিয়ার পেনাং সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আবু হানিফ নোমান (৫৩) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত আবু হানিফ নোমান ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসুটিয়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় পেনাং সিটিতে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা জানান, আবু হানিফ ১৯৯২ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বসবাস ও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে থেকে তিনি পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রবাসী সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে খোলা আকাশের নিচে কাজের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। বেসরকারি খাতের সব প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। জাতীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত পেশাগত ঝুঁকি কমানোই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে নির্মাণ, অবকাঠামো ও খোলা স্থানে পরিচালিত বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে নিয়োজিত কর্মীরা এ নীতিমালার আওতায় থাকবেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিয়েছে। ২০২৫ সালে এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার হার প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিশ্রামের উপযুক্ত স্থান, ছায়াযুক্ত পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি হিট স্ট্রোক ও অতিরিক্ত গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে শ্রমিকদের সচেতন করা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ ও মানবিক করে তুলবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে উড়োজাহাজে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির প্রবাসী মোহাম্মদ ইলিয়াস সুমন (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওমানে মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ওমানের মাস্কাট রয়েল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইতনগর গ্রামের মৃত ইস্কান্দারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শহরে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন সুমন। গত বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শারজাহ বিমানবন্দর থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে রওনা হন। যাত্রাপথে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় উড়োজাহাজটি ওমানের মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে তাকে দ্রুত মাস্কাট রয়েল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও আর পরিবারের কাছে ফেরা হলো না এই প্রবাসীর। নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম জানান, সুমন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ বা কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী মুখতার আলম শাকদার। সৌদি আরবে জন্ম নেওয়া এই খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার দীর্ঘদিনের সাধনা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আরবি ক্যালিগ্রাফির জগতে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন। ইসলামের অন্যতম পবিত্র নিদর্শন কাবা শরিফের কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফির দায়িত্বে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, ১৪২২ হিজরিতে জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে মুখতার আলমের পরিচয় হয়। তাঁর অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে বাজনাইদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর নাম সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ১৪২৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে, যা ২০০২ সালের জুলাই মাসের সমতুল্য, মুখতার আলম আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটান। বিশেষায়িত কম্পিউটারভিত্তিক ইলেকট্রনিক প্রোগ্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফিতে নিখুঁততা ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার সত্ত্বেও কিসওয়ার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী নকশা ও শৈলী অক্ষুণ্ন রেখেছেন মুখতার আলম। হারামাইন আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। মুখতার আলম সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে অক্ষরের গঠন, নকশার অনুপাত এবং অলংকরণে আরও সূক্ষ্মতা ও নান্দনিকতা যুক্ত করেছেন। বিশেষ করে কাবার দরজার পর্দা ও এর চারপাশের অলংকরণে তাঁর শিল্পসৌন্দর্যের ছাপ কিসওয়ার গাম্ভীর্য ও আভিজাত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। সোমবার (১৫ জুন) সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যরা বাতু কেভস এলাকার একটি নাইট মার্কেট (পাসার মালাম) এবং সেলায়াং বারুর একটি আবাসিক বাসস্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি নাগরিকদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অবৈধভাবে অবস্থান এবং অন্যান্য অভিবাসন আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আইন প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মসংস্থান ও বসবাসের জন্য বিদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও বৈধ ভ্রমণ নথি সঙ্গে রাখার বিষয়ে নিয়মিত সতর্ক করে আসছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।