অন্যান্য

আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
অধ্যাপক আসিফ নজরুল
অধ্যাপক আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

গতকাল বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের এই পোস্টে মাহফুজ আলমের বক্তব্যের ভিন্নতা খুঁজে পাচ্ছেন নেটিজেনরা।

২০২৪ সালে ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের পাশাপাশি তাঁর ছাত্র মাহফুজ আলমও ছিলেন।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের তিন মাসের বেশি সময় পর গতকাল মঙ্গলবার মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, মাজারে ও হিন্দুদের ওপর হামলা এবং ডানপন্থীদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ব্যাক’ করেছে।

তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসিফ নজরুল একই বিষয়ে লেখেন। তাঁর তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।

এর আগে গত মঙ্গলবার মাহফুজ আলম তাঁর দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’

এরপর আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরেছে, তার বিরাট একটি তালিকা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরিণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

এ ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তাঁর ভাষায়, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেস দেওয়া হইসিল।’

এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে “বিএনপি ও *” অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর “বিএনপি ও *” ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরিণ।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুই-তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ ‘গাড়িগুলো কি পানিতে চলে’ : শামা ওবায়েদ

বিরোধী দলের লংমার্চ আয়োজনে বিরাট গাড়িবহরের দিকে প্রশ্ন রেখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ বলেছেন, একদিকে বলছেন তেল নাই, গ্যাস নাই। অন্যদিকে দুই থেকে তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন; গাড়িগুলো কি পানিতে চলে নাকি তেলে চলে?   ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, আপনারাও সরকারের অংশ। সুতরাং, সেই খরচের হিসাবটাও জনগণ জানতে চায়।   বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শামা ওবায়েদ তাদের সংসদে এসে আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। বিরোধী দলকে লংমার্চ না করে সংসদে এসে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, সে সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দল নাকি লংমার্চ করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে বিএনপি সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়ন হবে।   শামা ওবায়েদ বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন তেল নাই, গ্যাস নাই- এটা নাকি সরকারের দোষ। অন্যদিকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন। আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে জনগণের জন্য কাজ করবে। আপনারা প্রতিনিয়ত সংসদে আসছেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরেন, তখন তর্কবিতর্ক বা আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা করতে পারব। লংমার্চ করে তেল নষ্ট না করে পার্লামেন্টে এসে কথা বলেন।   ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ফেরত এসেছে, কিন্তু ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কৃষকদের খেপানোর চেষ্টা হচ্ছে যে সারের সমস্যা আছে। সারের কোনো সমস্যা বাংলাদেশে নেই।   বিগত সরকারের সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর শেখ হাসিনার সরকার সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে জ্বালানি খাতে; তারা বিদ্যুৎ স্থাপনা নির্মাণ করলেও উৎপাদনের ব্যবস্থা করে নাই। আমাদের দেশের যে পরিমাণ গ্যাস মজুত আছে সেই গ্যাস উত্তোলনেরও চেষ্টা করে নাই। গত দেড় বছরে ইউনূস সরকারও সেই খাতের উন্নতি করে নাই। সুতরাং ১৭ বছরের আর্থিক খাতের অনিয়ম ৬ মাসে দূর করা যাবে না।   বর্তমানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে দাবি করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের প্রকৃত অপরাধীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে এবং দেশের মাটিতে ফেরত এসে সাজা ভোগ করতেই হবে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। আমরা চাই, যারা দোষী তাদের বিচার হোক। আমরা চাই না যারা অন্যায় করে নাই, যারা কোনো খুন করে নাই, অবিচার করে নাই— তাদের অন্যায়ভাবে বিচার হোক।   এর আগে, শামা ওবায়েদ নগরকান্দা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে ভূমি অফিস-সংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি : জামায়াতে ইসলামীর আমির

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য, ‘দলের ভেতরে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা

আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে গেলেন রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন সবাইকে নিয়ে আসেন: গয়েশ্বর

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ‘আপনি আসেন, আপনি কেন দেশের বাইরে থাকবেন? আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন, সব চোর নিয়ে একবারে ঢাকায় আসেন। বাংলাদেশে আসেন। জনগণ আপনাদের দেখতে চায়।’   রাজশাহীতে এক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কেউ কেউ অপেক্ষা করছে, আবার আসিব ফিরে। আমার আপা ঘন ঘন আওয়াজ দেন, তিনি আসবেন। সাহস থাকলে আসিয়া পড়েন, আসিয়া পড়েন।’   বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের তৃণমূলের মানুষের কথা শুনতে হবে। সাধারণ মানুষ কী চান, তাঁদের কী অভাব এবং কীভাবে সেই অভাব দূর করা যায়, এসব জানা জরুরি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে থাকলে ভুল করার আশঙ্কা বেশি।   জিয়া মঞ্চের উত্থানের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক সক্রিয় নেতা-কর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের একটি অংশ জিয়া মঞ্চে এসে সংগঠিত হয়েছেন। জিয়া মঞ্চ রাজপথের নেতা-কর্মীদের জায়গা করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র চলমান। এটা আপনাদের বুঝতে বাকি নেই। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই সরকার গঠনটা অনেক সুখের নয়, অনেক দায়িত্বশীলতার ব্যাপার।’   প্রশাসন নিয়ে বিএনপির এই নেতার মন্তব্য, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী ভূত পেয়েছে। আবার যারা গুপ্তচরের মধ্যে আছে, তাদেরও পেয়েছে। এই প্রশাসন পেশাদার হয়নি। পেশাদারত্বের অভাবের কারণে এই প্রশাসন দিয়ে ভালো কাজ করা খুব কঠিন। তিনি বলেন, শুধু আগের সরকারের ব্যর্থতার কথা বলে জনগণকে বেশি দিন অপেক্ষায় রাখা যাবে না। অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনে পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা বর্তমান সরকারের বড় দায়িত্ব।   বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাঁর ভাষ্য, ৩১ দফা কর্মসূচি এখন শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণ ৩১ দফার ওপর আস্থা রেখে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চান।   দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা–৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি, ঋণের বোঝা ও নানা সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন। জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে।   দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘১৭ বছর যদি কষ্ট করে থাকি, আরও তিনটা বছর কষ্ট করি। আমার যে অর্থ প্রয়োজন হবে পাঁচ বছরে, সেই অর্থ যেন পাঁচ দিনে উপার্জন করার চেষ্টা না করি। অর্থাৎ বাঁকা পথে অর্থ রোজগারের ভাবনা মাথা থেকে পরিহার করতে হবে।’   বক্তব্যে দুর্নীতি বন্ধ ও রাষ্ট্রীয় খাতে অপচয় রোধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাগিদ দেন গয়েশ্বর। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার পাশাপাশি রাজনীতিকেও কলঙ্কিত করেছে।   বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ‘শুধু হাসিনার ব্যর্থতার কথা বলে জনগণ বেশি দিন অপেক্ষা করবে না। জনগণ রুষ্ট হবে, তারা অভিমান করবে আমাদের ওপর। আর তাদের আবার উত্তেজিত করার জন্য পার্লামেন্টে যারা উল্টো দিকে বসে (বিরোধী দল) ইতিমধ্যে প্রস্তুত আছে।’   গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১১–দলীয় ঐক্য।   এ বিষয়ে বক্তব্যে গয়েশ্বর বলেন, ‘সে কারণে ওরা আগামীকাল লংমার্চ করবে। কিসের? আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, ওরা যে বেহেশতে যাওয়ার জন্য টিকিট বিক্রি করছে মানুষের সামনে, এখন বেহেশতটা কোথায়—সেই ঠিকানা খোঁজার জন্য বোধ হয় লংমার্চ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব, আল্লাহ তাদের ইচ্ছা যেন কবুল করেন। তারা যেন যায়।’   বক্তব্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গেও কথা বলেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য বের করে আনা প্রয়োজন।   সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, উদ্বোধক ছিলেন জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ্ ইকবাল।   এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. মামুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এতে বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ডা. তাসনিম জারা। ফাইল ছবি

ক্ষমতাসীনদের গালি দেওয়া নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের বেতন-ভাতা কত?

ছবি: সংগৃহীত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ধারণা ভেঙে গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসের স্ট্রোকের জন্য পাটোয়ারীকে দায়ী করলেন রাশেদ খাঁন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়, বরং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হয়েই তিনি এ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, উন্নত চিকিৎসার পরও মির্জা আব্বাস এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কথা বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা পুরো সংসদকে স্তব্ধ করে দেয়। মির্জা আব্বাস বর্তমানে নিজে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না, দেখে পড়ার সময়ও কথা অস্পষ্ট শোনাচ্ছে এবং তার একটি হাত নাড়াতেও তীব্র কষ্ট হচ্ছে। মির্জা আব্বাসের এই শারীরিক সংকটের নেপথ্যে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর আচরণকে দায়ী করে রাশেদ খাঁন লেখেন, নির্বাচনের আগে থেকেই বয়সে অনেক ছোট নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ্য করতে হয়েছে মির্জা আব্বাসকে। নির্বাচনের পরও তিনি সেই মানসিক নিপীড়ন থেকে রেহাই পাননি। এমনকি তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার প্রতিকৃতি বানিয়ে বক্সিং বা আঘাত করার মতো কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। সাধারণ অসুস্থতার জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক নিপীড়নকে স্ট্রোকের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকাকে সুসংগঠিত করা এবং বিগত ১৬ বছর বহুবার কারাবরণকারী এই প্রবীণ নেতাকে ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালে তার ওপর হেনস্তা চালানো হয়েছিল। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ এসব অবিচার ও মিথ্যা অপবাদ মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘদিনের তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে শেষ পর্যন্ত মির্জা আব্বাস স্ট্রোকের কবলে পড়েন এবং আজকের এই করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে তার এই অসুস্থতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর পরিকল্পিত মানসিক অত্যাচারেরই প্রত্যক্ষ পরিণতি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্প ১৬ হাজার কোটি, আলোচনায় আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম খরচে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আধুনিক যুগের আস্থার নাম প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড

ছবি: সংগৃহীত

জনদুর্ভোগ কমাতে লং মার্চের গাড়িবহর ছোট করল এনসিপি

0 Comments