ফুটবল

ছবি: সংগৃহীত
মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে আর্জেন্টাইন ফুটবলে শোক

আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর স্থানীয় সময় গত শুক্রবার তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পরিবার নিয়ে রোজারিওর উদ্দেশে রওনা হন মেসি। একই দিন রাতে স্থানীয় সময় তার বিমান থেকে নামার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।   এই কঠিন সময়ে মেসির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তার জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘এখনও লিওর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। জানি ও তখন ভ্রমণে ছিল। আমরা অপেক্ষা করছি ও দেশে ফেরার, যাতে এই কঠিন সময়ে আমরা ওর পাশে থাকতে পারি। আমি নিশ্চিত, আমাদের পাশে পেলে ওর ভালো লাগবে।’   পারেদেস জানান, সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে আজ অথবা কালের মধ্যে মেসির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।   গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। এক বিবৃতিতে তিনি হোর্হে মেসিকে স্মরণ করে বলেন, তিনি এমন এক সন্তান গড়ে তুলেছেন যিনি ‘বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল ও মানুষের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত’।   হোর্হে মেসির স্মরণে আর্জেন্টিনার সব পর্যায়ের ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়েছে এএফএ। পাশাপাশি সব খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের কালো আর্মব্যান্ড পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, তারা ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে লিওনেল ও তার পরিবারের পাশে’ আছে। অন্যদিকে হোর্হে মেসির ছেলেবেলার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ তাকে স্মরণ করেছে মেসির ক্যারিয়ারের ‘নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ’ হিসেবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পিকে-শাকিরার সেই ‘প্রাসাদ’ কত দামে কিনলেন ইয়ামাল?

অভাবের কারণে লামিনে ইয়ামাল একসময় এমন এক ফ্ল্যাটে থাকতেন, যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একসঙ্গে ছিল। সেই ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তারকা হয়েছেন আরো আগেই। সম্প্রতি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই উইঙ্গার এবার কিনলেন প্রাসাদসম এক বাড়ি, যেখানে একসময় থাকতেন বার্সা কিংবদন্তি জেরার্দ পিকে ও তার সাবেক প্রেমিকা পপ গায়িকা শাকিরা।   স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তের খবরে বলা হয়েছে, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায় অবস্থিত ইয়ামালের প্রাসাদসম এই বাড়ির দাম ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। পিকে-শাকিরার সম্পর্কের শুরু ২০১০ সালে। বাড়িটি নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে।   তখন থেকে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগপর্যন্ত তারা সেই বাড়িতেই থাকতেন। দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরপরই বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন। স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকে-শাকিরার পুরোনো আর ইয়ামালের বর্তমান ঠিকানা হতে চলা ভূসম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল এই জায়গায় রয়েছে তিনটি ভবন—একটি মূল বাড়ি এবং দুটি আলাদা বাসভবন।   এ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোর সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, জিমনেসিয়াম, একাধিক চত্বর, সিনেমা হল এমনকি একটি রেকর্ডিং স্টুডিও আছে। প্রথমে তিনটি ভবন মিলিয়ে এই সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা), যা ২০২২ সালে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে একটি ছোট ভবন বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পুরো দাম থেকে ৩৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) কমানো হয়। ফলে বর্তমানে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা)। এই দুই ভবনে শোবার ঘর ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি।   ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল শুরু থেকেই এই সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন। এটি কিনতে তিন মাস ধরে আলোচনা চলেছে। আইনজীবীরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বাড়ির সাবেক মালিক পিকে ও শাকির অনুপস্থিত থাকায় দরকষাকষির পর সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে। মালিকানা পাওয়ার পর নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি সাজাতে চান ইয়ামাল। এ জন্য কিছু অর্থ সংস্কারকাজে ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছে এল পাইস।   এত দামি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক ফুটবলারেরই নেই। কিন্তু ইয়ামালের ফুটবল প্রতিভা তাকে বিশাল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে।   বার্সেলোনার সঙ্গে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে ইয়ামালের। এই চুক্তিতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ইউরো (৪২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। চুক্তির পুরো সময় বার্সায় কাটালে ১৮ কোটি ইউরো (২৫৬৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে বড় অংকের অর্থ তো পাবেনই।   বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ইয়ামালের বছরে আয় হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা)। এতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা পাবেন, যেখানে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহামের মতো তারকারা আছেন।   সূত্র : গোল.কম

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোচ: প্ল্যান এ, বি, সি- সব পরিকল্পনাতেই স্কালোনি

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনি কি থাকছেন, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন?   স্কালোনি নিজেই জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। এরপর কী করবেন, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে ছাড়তে একেবারেই রাজি নয়।   এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার কথাতেই সেটি স্পষ্ট। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘স্কালোনি আমাদের পরিকল্পনা এ, বি এবং সি।’ অর্থাৎ স্কালোনিই আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ এবং তৃতীয় পছন্দ- সবই।   বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কালোনির বক্তব্য অবশ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না।   আর্জেন্টাইন কোচ বলেছিলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি থাকব। এরপর সম্ভবত সরে দাঁড়াব। আমাকে সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া এবং থেমে যাওয়াই ভালো হবে।’   স্কালোনির এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা তৈরি হয়, আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের ইতি টানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে পুরোপুরি দরজা বন্ধ করেননি কোচ। এএফএ সভাপতি তাপিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে- এমন সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।   স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি তাপিয়ার সঙ্গে। তবে এএফএ সভাপতি ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি চান, স্কালোনিই আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যান।   তাপিয়া বলেন, ‘আমি চাই সে থাকুক, আমরা সবাই চাই সে থাকুক। আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি। আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু আমি কৃতজ্ঞতাবোধ করা একজন মানুষ। তাকে তার সেরা সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং সেটিকে সম্মান করতে হবে।’   তবে স্কালোনির ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে চান না তাপিয়া। কোচ যদি আর দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা অনুভব না করেন, তাহলে তাকে জোর করে ধরে রাখার পক্ষপাতী নন এএফএ সভাপতি।   তার ভাষায়, ‘সে যদি মনে করে তার আর সেই ইচ্ছা নেই, কিংবা তার সামনে আরও ভালো কোনো সুযোগ আছে, তাহলে আমি তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখতে পারি না।’ তাপিয়ার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন স্কালোনিকে ধরে রাখার প্রবল আগ্রহ স্পষ্ট, অন্যদিকে কোচের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকেও সম্মান করার বার্তা রয়েছে।   স্কালোনিকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বড় কারণ তার অধীনে আর্জেন্টিনার অভাবনীয় সাফল্য। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে একটি নতুন আর্জেন্টিনা গড়ে তোলেন।   তার অধীনে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। এর আগে ২০২২ সালে ফাইনালিসিমাতেও ইতালিকে হারিয়েছিল তারা। ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা।   ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্কালোনির দল ফাইনালে উঠে যায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে স্কালোনিকে শুধু একজন কোচ হিসেবে নয়, আর্জেন্টিনার সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখছেন তাপিয়ারা।   স্কালোনির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও তাপিয়ার বক্তব্য বেশ পরিষ্কার। তিনি জানেন, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোচের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চুক্তি থাকা সত্ত্বেও স্কালোনিকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে চান তিনি।   তাপিয়ার ‘এ, বি ও সি- তিন পরিকল্পনাতেই স্কালোনি’ মন্তব্য আসলে আর্জেন্টিনার অবস্থানটিই স্পষ্ট করেছে। নতুন কাউকে নিয়ে ভাবার চেয়ে বর্তমান কোচকেই ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।   বিশ্বকাপের পর তাই এখন বল স্কালোনির কোর্টে। তিনি কি আরও কয়েক বছর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পালন করবেন, নাকি দীর্ঘ সাফল্যের পর বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন- সেটিই এখন দেখার বিষয়।   ‘আর্জেন্টিনা ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে’- গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ তাপিয়া   এদিকে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে- এমন অভিযোগ ও গুঞ্জন নিয়ে বিরক্ত এএফএ সভাপতি।   তাপিয়া বলেন, ‘এটা আমাকে রাগিয়ে দেয়। মনে হয়, এমন কিছু মানুষ আছে যারা বিরক্ত হয় যে আর্জেন্টিনা বারবার সাফল্য অর্জন করছে বা শিরোপা জিতছে।’   তার মতে, আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্যকে ঘিরে ভিত্তিহীন নানা আলোচনা তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বকাপেও এমন কিছু বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।   তাপিয়ার ভাষায়, ‘জীবনে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আপনার বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সেগুলো নিয়েই বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।’   বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের হতাশা কাটিয়ে আর্জেন্টিনাকে এখন তাকাতে হচ্ছে সামনের দিনের দিকে। আর সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন স্কালোনি।   কোচ নিজে ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপর বিরতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। অন্যদিকে এএফএ সভাপতি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্কালোনিকেই চান।   ফলে আর্জেন্টিনার সামনে এখন মূল প্রশ্ন একটাই- বিশ্বকাপের হতাশার পর স্কালোনি কি নতুন করে শুরু করবেন, নাকি সোনালি অধ্যায়ের ইতি টেনে নেবেন? তাপিয়ার কথায় অবশ্য আর্জেন্টিনার উত্তর অনেকটাই পরিষ্কার- স্কালোনিই তাদের পরিকল্পনা এ, বি ও সি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
মায়ামির হয়ে ম্যাচের এক মুহূর্তে কাসেমিরো। ছবি : রয়টার্স
জার্সিতে ভুল নাম, কেন সেই বানান বদলাননি কাসেমিরো?

জীবনে অনেক ভুলই শুধরে নিয়েছেন কাসেমিরো। তবে একটা ভুল কোনোদিনও ঠিক করতে চান না ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।     সেই ভুলটা হচ্ছে জার্সিতে থাকা তার নামের বানান।     ভুলটা অবশ্য নিজে করেননি কাসেমিরো। করেছে তার শৈশবের ক্লাব সাও পাওলো। ৩৪ বছর বয়সী তারকার পুরো নাম কার্লোস হেনরিকে জোসে ফ্র্যান্সিসকো ভেনাসিও কাসেমিরো (Carlos Henrique Jose Francisco Venancio Casimiro)।   ২০০২ সালে সাও পাওলোয় যোগ দেওয়ার পর তার নামে জার্সি বানায় ক্লাব। তার জার্সির পেছনে ‘Casimiro’ পরিবর্তে ‘Casemiro’ লেখা হয়। শুরুতে একটু খারাপ লাগলেও সে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলায় পরে আর নাম পরিবর্তন করতে চাননি তিনি। সেই ভুল নামেই ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে এখন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন তিনি।     নামের ভুল বানান নিয়ে ইতালির সংবাদ মাধ্যম লা রিপাবলিকাকে কাসেমিরো বলেছেন, ‘সবার কাছে আমি আজীবন ‘কাসেমিরো’ (Casemiro) হয়েই থাকব। সব দোষ সাও পাওলোর! ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল তখন, যখন আমি সাও পাওলোর হয়ে আমার প্রথম ম্যাচ খেলছিলাম। এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে মূল দলে খেলেছি (২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত)। তারা দুর্ঘটনাবশত আমার জার্সিতে নামের বানান ‘i’-এর জায়গায় ‘e’ লিখেছিল। আর সেই ম্যাচে আমি দারুণ খেলেছিলাম!’     বানান ঠিক না করার পেছনে কুসংস্কার কাজ করেছে বলে জানান কাসেমিরো।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘সম্ভবত এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ’ — তালিয়াফিকোর বিদায়ের ইঙ্গিত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদায়ের সুর আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো।   সম্প্রতি স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে আলাপকালে তালিয়াফিকো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’   ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা ১৭, যা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তার সামনে আছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।   তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’   আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সেটিই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্বকাপের পর ইতোমধ্যে নিকোলাস ওতামেন্দি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসি এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ আসর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।   ফাইনালে হেরে গেলেও দলের অর্জন নিয়ে গর্বিত তালিয়াফিকো। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে ২০২২ সালের স্বর্ণপদক আছে। এবার রানার্সআপ পদক পেলাম। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ নয়। আমাদের তা মূল্যায়ন করা উচিত।’   পরাজয় নিয়েও ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে জানতে হবে। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। ফুটবলে কখনও জয় আসে, কখনও পরাজয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।’   বিশ্বকাপ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তালিয়াফিকো বলেন, একটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয় নয়; আগের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেই প্রস্তুতি চলতে থাকে। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একজন ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রদ্রিকে কিনতে বার্সেলোনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ম্যানচেস্টার সিটি

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে কথা হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। রদ্রিকে চায় রিয়াল।     বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল তাদের আলোচনা। তবে হুট করে তাদের আলোচনায় ঢুকে পড়ে বার্সেলোনা। রদ্রিকে চাই বার্সারও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে যেকোনো এক দলকে বেছে নিতে হবে স্পেনের মিডফিল্ডারকে।     রিয়ালকে ‘না’ করে দিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নেন ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। এই সিদ্ধান্ত নিতে সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।  তবে বার্সায় যেতে রাজি হলেও রদ্রির জন্য যাওয়াটা সহজ হচ্ছে না। কেননা দরদামে বনছে না সিটি-বার্সার।     বিশ্বকাপজয়ী রদ্রিকে পেতে ৩৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪০ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তাতে রাজি হয়নি ম্যানচেস্টার সিটি।        নতুন করে আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। বিবিসি জানিয়েছে, ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হলে তবেই রদ্রিকে বিক্রি করতে রাজি ম্যানসিটি।     নতুন করে কোনো অফার বার্সা দিয়েছে কিনা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।     ম্যানসিটির সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রদ্রির। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে নেওয়ার পেছনে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চোট অন্যতম কারণ। নতুন মৌসুমের শুরুতে পাওয়া যাবে না ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পাওয়া নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারকে। এ ছাড়া রদ্রির সঙ্গে পেদ্রি-দানি ওলমোদের জুটিও দুর্দান্ত জমে। ইউরো ও বিশ্বকাপ তারই প্রমাণ। উভয় টুর্নামেন্টে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে অনবদ্য অবদান রদ্রির। তার স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বার্সেলোনা ছাড়তে পারেন আরাউহো, লিভারপুলে লোনে যাওয়ার গুঞ্জন

বার্সেলোনার উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহোকে ঘিরে নতুন করে দলবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। ইউরোপীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, কাতালান ক্লাবটি তাকে লোন চুক্তিতে লিভারপুলে পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং চুক্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার অপশনও থাকতে পারে।   দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ও লিভারপুলের মধ্যে এ বিষয়ে মৌখিক সমঝোতা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।   লিভারপুল দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণভাগে নতুন মুখ খুঁজছিল। আরাউহোকে এমন একজন ডিফেন্ডার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি সেন্টার-ব্যাক ও রাইট-ব্যাক—দুই পজিশনেই খেলতে সক্ষম। তার এই বহুমুখী দক্ষতা নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।   ২৭ বছর বয়সী এই উরুগুইয়ান ২০১৮ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। গত মৌসুমে কোচ হান্সি ফ্লিক তাকে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও দিয়েছিলেন।   বার্সেলোনার জার্সিতে আরাউহো এখন পর্যন্ত তিনটি লা লিগা শিরোপা এবং দুটি কোপা দেল রে জিতেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বার্সার আর্থিক পরিস্থিতি ও স্কোয়াড পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   এখন দেখার বিষয়, লিভারপুলের সঙ্গে আলোচিত এই লোন চুক্তি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পায় কি না। ক্লাব দুটির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মেসিকে কোপা আমেরিকা খেলতে কোনো চাপ দেবে না আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার নিজের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এ বিষয়ে মেসির ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হবে না বলে জানিয়েছেন এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলা বা না খেলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি যদি খেলতে চান সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। পুরো আসরে আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা।   তাপিয়া বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের পরও আমরা জানতাম না মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ম্যাচ করে এগোবেন। শেষ পর্যন্ত আমরা তার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখেছি।   আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জন অনন্য। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। জাতীয় দলের জার্সিতে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।   ইন্টার মায়ামির অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়ে তাপিয়া বলেন, মেসিকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। তিনি যেন ফুটবল খেলা উপভোগ করেন, আমরা যেন তাকে উপভোগ করতে পারি এবং তিনি নিজের জন্য যেটি সঠিক মনে করেন, সেই সিদ্ধান্তই নেন।   এদিকে, আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী তাপিয়া। চলতি বছরের শেষেই স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।   তাপিয়া বলেন, আমার পরিকল্পনা এ, বি ও সি সবই স্কালোনি। আমি চাই তিনি দায়িত্বে থাকুন, সবাই সেটিই চায়। তবে সিদ্ধান্ত তার। যদি তিনি মনে করেন নতুন করে সফল হওয়ার প্রেরণা বা পথ নেই। তাহলে তাকে জোর করে আটকে রাখা সম্ভব নয়।   ২০১৮ সালে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। তার অধীনেই টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা (২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা)।    জাতীয় দলকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে তাপিয়া বলেন, এই দল পুরো আর্জেন্টিনাকে আনন্দ দিয়েছে। তারা এমন একটি দল গড়েছে, যার সঙ্গে দেশের মানুষ নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রদ্রিকে ছাড়তে বার্সার ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ম্যানসিটি

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনার দেওয়া প্রথম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। তবে দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন প্রস্তাব নিয়ে আবারও আলোচনায় বসবে বার্সেলোনা।   সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, রদ্রির সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সেলোনা। এখন কেবল ম্যানচেস্টার সিটিকে রাজি করানোই বাকি। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াল মাদ্রিদও রদ্রিকে দলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।   জানা গেছে, বার্সেলোনার প্রথম প্রস্তাবের মূল্য ছিল প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন বোনাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ম্যানচেস্টার সিটি। তবুও বার্সেলোনা আশাবাদী। কারণ আগামী গ্রীষ্মে রদ্রির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে এবং তখন তিনি ফ্রি এজেন্ট হয়ে যেতে পারেন।   বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে স্পেনের ইবিজায় ছুটি কাটাচ্ছেন ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। এ সময়েই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রদ্রির প্রথম পছন্দ বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া।   এদিকে, নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে দল শক্তিশালী করতে ব্যস্ত বার্সেলোনা। ইতোমধ্যে অ্যান্থনি গর্ডন, করিম আদেয়েমি ও জেসি বিসিউকে দলে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। পাশাপাশি জোয়াও ক্যানসেলোকে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, রবার্ট লেভানডোভস্কির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে আবারও চেষ্টা করবে বার্সেলোনা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স
স্পেনে ফিরছেন রদ্রি: বার্সেলোনার সাথে চার বছরের চুক্তি চূড়ান্ত

ইংল্যান্ড ছেড়ে জন্মভূমি স্পেনে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রদ্রি হার্নান্দেস। স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের জন্য নিজেদের দরজা খোলা রেখেছিল স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। দুই ক্লাবের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের মোটা অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। বার্সায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন রদ্রি। পাশাপাশি নিজের সিদ্ধান্তের কথা রিয়াল মাদ্রিদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েও দিয়েছেন।রিয়ালের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্লাবটির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই তার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল, যা অনুধাবন করতে পেরেছিল রিয়াল কর্তৃপক্ষও। ফলে রদ্রির সিদ্ধান্তকে বেশ সাদরেই গ্রহণ ও সম্মান জানিয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। সম্প্রতি শেষ বৈঠকেও বার্সেলোনা বেছে নেওয়ার কারণ রিয়ালকে স্পষ্ট করেন রদ্রি। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মতে, বার্সার খেলার ধরন, পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া ফুটবলের প্রভাব এবং জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে কাতালান ড্রেসিংরুমের চমৎকার রসায়ন সবকিছু মিলিয়েই তার এই সিদ্ধান্ত। ভালদেবেবাসে রদ্রির এই যুক্তি বেশ পেশাদারিত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং তার নতুন যাত্রার জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। এমনকি চুক্তি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে আলোচনা হলেও ট্রান্সফার ফি বা দেনদরবার নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করেনি রিয়াল। পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহোর হাতে বিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান, এই পজিশনের জন্য স্কোয়াডের ভেতরেই সমাধান রয়েছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, চার বছরের এই চুক্তির জন্য বার্সেলোনার খরচ হবে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ইউরো।চুক্তি অনুযায়ী রদ্রির পেছনে ক্লাবটিকে প্রতি মৌসুমে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩ কোটি ইউরো।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ভিনিসিয়াসকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব রিয়ালের

চুক্তি নবায়ন ইস্যুতে বেশ কয়েক দিন ধরে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আলোচনা চলছে। তবে স্প্যানিশ ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে বার্নাব্যুতে ধরে রাখার লক্ষ্যে উন্নত শর্তসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ১২ মাস বাকি রয়েছে। এ সময়ে আর্সেনাল তার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।   রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা একপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়েছিল, তবে স্প্যানিশ ক্লাবটি এখন ভিনিসিয়াসকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গেছে, তিনি এই নতুন শর্তাবলী ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।   রিয়াল এখন ভিনিসিয়াসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যার মধ্যে ফিরে আসা প্রধান কোচ হোসে মরিনহোও রয়েছেন। আশাবাদী যে তিনি চুক্তি নবায়ন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াল কয়েক দিনের পরিবর্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার আশা করছে।   ভিনিসিয়াস যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আর্সেনাল এই ব্রাজিলিয়ানের প্রতি তাদের আগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত। ভিনিসিয়াস তিন বছর আগে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে ক্লাব এবং তার প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।   ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষে সোমবার তিনি ক্লাবে ফিরেছেন এবং প্রাক-মৌসুম অনুশীলন সেশন ও মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। রিয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫টি ম্যাচ খেলা ও ১২৮টি গোল করা ভিনিসিয়াস আর্থিকভাবে ‘লস ব্লাঙ্কোস’-এর শীর্ষ তারকা হিসেবে স্বীকৃতি চান বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অধীনে রিয়াল তাদের বেতন কাঠামো বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রথাগতভাবেই কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। ভিনিসিয়াস প্রকাশ্যে রিয়ালকে ‘আমার স্বপ্নের ক্লাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি সেখানে ‘বহু বছর’ থাকতে চান।   পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আর্সেনাল এই ব্রাজিলিয়ানকে তাদের বাম-প্রান্তের আক্রমণের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চেয়ে লুইস ফিগোর খোলা চিঠি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় একটি খোলা চিঠি লিখেছেন পর্তুগালের সাবেক তারকা ফুটবলার লুইস ফিগো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এ প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।   বর্তমানে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফিগো সাম্প্রতিক সময়ে ফিফাকে ঘিরে আলোচিত বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।   চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমি ফিফার সমস্যা নিয়ে ১০,০০০ শব্দ লিখতে পারি, কিন্তু সমাধানের জন্য তিনটি শব্দই যথেষ্ট—ইনফান্তিনোকে যেতে হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবলকে সারা জীবন ভালোবেসেছি। ২০ বছর পেশাদার খেলোয়াড় ছিলাম। এই খেলায় অনেক খারাপ মানুষ দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যা সামনে এসেছে, তা আমার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট, প্রতারণাপূর্ণ ও স্বার্থপর আচরণ।’   বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে প্রশ্ন:    ফিগো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব আংশিক বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, বিষয়টি ফিফার সদস্যদের কাছে যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।   তিনি জানতে চান, পরিকল্পনাটি যদি সত্যিই ভালো হতো, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সদস্যদের বৈঠকে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব কেন খোলাখুলি আলোচনা করা হয়নি।   ‘মাফিয়া-সদৃশ আচরণ’-এর অভিযোগের উল্লেখ   চিঠিতে ফিগো ফিফার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মের অপব্যবহার, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর।   এ প্রসঙ্গে তিনি জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রিন্স আলির ‘মাফিয়া-সদৃশ আচরণ’ সংক্রান্ত মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।   শেষ আহ্বান:    চিঠির শেষ অংশে ফিগো লেখেন, ‘ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির পদকে মর্যাদাহীন করেছেন। তিনি খেলার স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার মর্যাদা রক্ষার সময় শেষ, কিন্তু ফুটবলকে রক্ষা করার সময় এখনও আছে। তাকে এখনই সরে দাঁড়াতে হবে।’   ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খেলার মাঠে বজ্রপাত: ম্যাচ চলাকালে থাই ফুটবলারের মর্মান্তিক মৃত্যু

থাইল্যান্ডের একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ বজ্রপাতে ২৪ বছর বয়সী ফুটবলার সাফওয়ান আওয়ায়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন ফুটবলার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সুঙ্গাই গোলকের সান্তিফাপ স্টেডিয়ামে গোলক এফএ কাপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল থাই-মালয়েশিয়ান দল সামকোল্টস ও আবু নং সিরিন। ম্যাচ চলাকালে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ মাঠের কাছে তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে।   ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বজ্রপাতের পর খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাফওয়ানের সতীর্থরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন। পরে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   স্থানীয় পুলিশ প্রধান থুন সিরিখুন্ত জানান, জরুরি চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বজ্রপাতের আঘাতে সাফওয়ানের মৃত্যু হয়।   এ ঘটনায় আহত ১২ ফুটবলারকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।   থাইল্যান্ডে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বজ্রপাতে অন্তত ২৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো অসম্ভব নয়: বাশার

২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও এখন ডারউইনে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ২০০৩ সালে তিনি ছিলেন ভিন্ন ভূমিকায়। তখন বাশার ছিলেন ক্রিকেটার, এবার তিনি বাংলাদেশ দলেল প্রধান নির্বাচক।    ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে বাশার অতীত স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘গত ২৩ বছর আগে আমরাই এখানে (অস্ট্রেলিয়া) শেষ টেস্ট খেলেছিলাম। দীর্ঘ সময় পর আবারও ফরম্যাটটিতে খেলা হচ্ছে, আমার কাছে অবশ্য এটা কাকতালীয়, তবে প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। আমরা সবশেষ যখন খেলতে আসি, তখন অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। তখন তাদের সঙ্গে খেলা অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। ওই রকম অস্ট্রেলিয়া দলও আসলে আর কখনো হবে কি না সন্দিহান, সেটা অন্য লেভেলের দল ছিল।’ শক্তিমত্তায় অবশ্য এখনও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। এখন নিজেদেরও প্রত্যাশার পারদ বাড়ায় দুশ্চিন্তা বেশি বলে মনে করেন বাশার, ‘তখন আমরা নতুন শুরু করেছিলাম। যে কারণে আমাদের সারভাইভ করার চিন্তা ছিল। এবার সারভাইভ করতে যাচ্ছি না, আমরা ভালো কিছু করতে যাচ্ছি। এখন প্রধান নির্বাচকের ভূমিকায় থাকায় মনে হয় দায়িত্বটা আরও বেশি, ফলে এখন টেনশনও আরও বেশি থাকবে। তখন তো খেলার টেনশন ছিল, এখন মাঠের বাইরে বসে সেটা মোকাবিলা করতে হবে।’ সর্বশেষ জুনে দেশের মাটিতে সীমিত ওভারের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল টাইগাররা। এবার টেস্টেও তেমন কিছু সম্ভব কি না– প্রশ্নে সাবেক এই অধিনায়ক জানালেন, ‘এখন বাংলাদেশ আলাদা দল, তারা ভালো কিছু করতে যাচ্ছে। ওরাও ভালো দল, জয় আশা করাটা কঠিন, বেশ কঠিন প্রতিপক্ষ। আমরা আসলে সম্মান নিয়ে ফিরতে চাই, সেখানে জিততেও পারি ড্রও করতে পারি। আমরা নিউজিল্যান্ডে জিতেছি পাকিস্তানে জিতেছি, ক্রিকেটে যে কোনো কিছু হতে পারে, কিছুই আসলে অসম্ভব না।’ অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স ও পেসবান্ধব কন্ডিশনে বাংলাদেশ পাঁচদিন লড়াই করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নে বেশ কৌশলী উত্তর দিলেন প্রধান নির্বাচক, ‘জিম্বাবুয়ে টেস্ট বাদ দিলে কিন্তু আমরা ভালো খেলে আসছি। ধারাবাহিকভাবে খেলছিলাম। পাকিস্তানও শক্ত প্রতিপক্ষ, তাদের মাটিতে জিতেছি। ডারউইনে পাঁচদিন খেলতে পারব কি না সময় বলবে। তবে বাংলাদেশ দল আসলে এরকম চিন্তা ভাবনা করে খেলতে যাচ্ছে এমন নয়। ভালো কিছু করার চিন্তা নিয়ে খেলবে, পাঁচ দিনের চিন্তা এখন বাংলাদেশ করে না।’ শক্তিমত্তায় ব্যবধান থাকলেও, বাংলাদেশ এখন জয়ের জন্য খেলে বলে আত্মবিশ্বাস আছে বাশারের, ‘বাংলাদেশ তো খেলে এখন জেতার জন্য। ২০০৩ সালে এই চিন্তাটা ছিল না। তখন অস্ট্রেলিয়ার যে দল ছিল, তার সঙ্গে এখনকার দলের অনেক তফাৎ। তখন আমরা মাত্র শুরু করেছি খেলা, আর এখন টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য খেলি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আলভারেজকে পেতে মাদ্রিদে গেলেন বার্সেলোনার কর্মকর্তা

আক্রমণভাগের অভিজ্ঞ দুই তারকা চলে গেলেও, নতুন করে তরুণ ও গতিময় উদীয়মান স্ট্রাইকার দলে ভিড়িয়েছে বার্সেলোনা। তবে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা এখনও একজন তারকা ফরোয়ার্ডকে পেতে মরিয়া। যেখানে তাদের পুরো আগ্রহের কেন্দ্রে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ। তার এজেন্টের সঙ্গে আলাপের লক্ষ্যে মাদ্রিদে গিয়েছেন বার্সার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো।   ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আলভারেজকে দলে টানতে আরও আগেই কাতালান ক্লাবটি তোড়জোড় শুরু করেছিল। তবে তার ক্লাব অ্যাতলেটিকো এখনও তাকে না ছাড়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে। যদিও আলভারেজ নিজে ক্লাব বদলাতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। আর সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ডেকো গতকাল (মঙ্গলবার) গুরুত্বপূর্ণ সফর করলেন মাদ্রিদে, যা আলোচনায় গতি আনতে পারে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস-এর বরাতে মুন্দো দিপোর্তিভো বলছে, বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এবং টেকনিক্যাল বিভাগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জোয়াও আমারাল মাদ্রিদে গেছেন হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে অগ্রগতির লক্ষ্যে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডেকো ও জোয়াও আমারালের সঙ্গে আলভারেজের প্রতিনিধি ফার্নান্দো হিদালগোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে স্প্যানিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছিল, বার্সেলোনা আক্রমণভাগের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে হুলিয়ানকেই বেছে নিয়েছে। ক্লাবটির বিশ্বাস, অ্যাতলেটিকো ছাড়ার ব্যাপারে খেলোয়াড়ের দৃঢ় অবস্থান আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়াতে অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে রাজি নয় বার্সা। আবার মাদ্রিদের ক্লাবটির সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে আলবিসেলেস্তে তারকার। তবুও বার্সেলোনা তাকে পেতে আশাবাদী, একইসঙ্গে আলভারেজও ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবেন বলে নজর তাদের। পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হলেও বার্সেলোনার বিশ্বাস, আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করেন, তাকে দলে আনতে পারলে বর্তমান স্কোয়াডটি পূর্ণতা পাবে।  এ ছাড়া বিশ্বকাপ চলাকালে দলবদলের ইচ্ছা প্রকাশ করে আলভারেজের দেওয়া বক্তব্যও বার্সেলোনার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ইতিবাচকভাবে ধরা পড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে যোগদানের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ১০৬ ম্যাচে ৪৯টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নেইমারের দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে কোয়ার্টার ফাইনালে সান্তোস

কোপা ডু ব্রাজিলের শেষ ষোলোর প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর দ্বিতীয় লেগে এসে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের বাধা পেরিয়েছে সান্তোস। নেইমারের দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট আর বদলি হিসেবে নেমে রনির করা একমাত্র গোলে রেমোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের দ্বিতীয় লেগ জিতে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি।   বুধবার (৫ আগস্ট) ব্রাজিলের এস্তাদিও এস্তাদুয়াল জর্নালিস্তা এডগার অগুস্তো প্রোয়েন্সা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে ২8 মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রেমোর ডিফেন্ডার মার্লন, ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় স্বাগতিকদের। বিরতির পর ৪৬ মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন আনেন সান্তোস কোচ কুকা। মাঠে নামেন নেইমার, রনি ও উইলিয়ান আরাও। এতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৪ মিনিটে নেইমারের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে সান্তোসকে এগিয়ে দেন রনি। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।     ম্যাচে বলের দখলে ৬৯ শতাংশ সময় ছিল সান্তোসের। তারা ১৬টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে রেমো ১২টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র তিনটি। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর দ্বিতীয় লেগে ১-০ ব্যবধানে জিতে ১-০ সমষ্টিগত (অ্যাগ্রিগেট) ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে সান্তোস।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মাদ্রিদের দাবানল দুর্গতদের সহায়তায় মেসির ৮০ হাজার ইউরো অনুদান

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে সাম্প্রতিক দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে ৮০ হাজার ইউরো অনুদান দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি।   মাদ্রিদের আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আইয়ুসো তাঁর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি মেসিকে ধন্যবাদ জানান।   আইয়ুসো বলেন, ‘লিও মেসি মাদ্রিদের সিয়েরা ওয়েস্ট এলাকার পুনর্গঠনের জন্য ৮০ হাজার ইউরো অনুদান দিয়েছেন। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। মাদ্রিদবাসী তাঁকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর প্রাপ্য সম্মান জানাতে মুখিয়ে আছে।’   গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ দাবানলে মাদ্রিদের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বলার পর আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।   বিশেষ করে সান হুয়ান জলাধারসংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট, বন বিভাগ এবং পরিবেশ রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।   এদিকে পেলায়োস দে লা প্রেসা ও সান মার্তিন দে ভালদেইগলেসিয়াস এলাকার সাতটি আবাসিক অঞ্চলের বাসিন্দাদের এখনো বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি। সান হুয়ান জলাধার, আলবার্চে সৈকত এবং এম-৯৫৭ সড়ক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অর রেসে তরুণদের জয়জয়কার, শীর্ষে রদ্রি-কেইন

নতুন মৌসুম শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বে এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছেন তরুণ ফুটবলাররা।     সেই তালিকায় রয়েছেন রদ্রি, হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির মতো তারকারা। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়ের পাশাপাশি স্পেনকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।      যদিও ক্লাব পর্যায়ে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার কারণে মৌসুমের শুরুটা প্রত্যাশামতো ছিল না, তবুও বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে আবারও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।     দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে ইউরোপের অন্যতম সফল গোলস্কোরারে পরিণত হন তিনি। একই সঙ্গে লিগ ও কাপ ডাবল জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় কেইনই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।     তৃতীয় স্থানে আছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ—দুই বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়েও দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই উইঙ্গারকে ভবিষ্যতের ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে দেখছেন অনেকেই।     চতুর্থ স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ফরাসি তারকা। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি, তবুও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে ছিলেন দুর্দান্ত।     পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টজুড়ে তার পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এখনও তিনি পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সেরা রাইট-ব্যাকদের তালিকায় শীর্ষে আশরাফ হাকিমি

আধুনিক ফুটবলে রাইট-ব্যাকের দায়িত্ব এখন আর শুধু রক্ষণ সামলানো নয়। আক্রমণ গড়া, সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত রক্ষণে ফিরে এসে দলকে বাঁচানো—সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ হতে হয়। বর্তমান সময়ের সেরা রাইট-ব্যাকদের নিয়ে আলোচনা হলে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমিকে।   ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে আর্সেনাল, বার্সেলোনা, টটেনহাম, চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলছেন একাধিক মানসম্পন্ন রাইট-ব্যাক। কেউ আক্রমণে বেশি কার্যকর, কেউ রক্ষণে বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে সেরা ফুটবলাররা দুই দিকই সমান দক্ষতায় সামলাতে পারেন।   ৫. ড্যানিয়েল মুনোজ (ক্রিস্টাল প্যালেস): প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে ক্রিস্টাল প্যালেসের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন ছিলেন ড্যানিয়েল মুনোজ। পরে জাতীয় দল কলম্বিয়ার হয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অনেকের মতে, ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ক্লাবে সুযোগ পেলে তিনি আরও বড় মঞ্চে নিজের সেরা সময় কাটাতে পারতেন।   ৪. পেদ্রো পোরো (টটেনহাম): কিছুদিন আগেও পেদ্রো পোরোকে এই তালিকায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। টটেনহামের হতাশাজনক মৌসুমে তার পারফরম্যান্সও সমালোচিত হয়েছিল। তবে স্পেন জাতীয় দলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে খেলেই তিনি নিজের প্রকৃত সামর্থ্যের পরিচয় দেন। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই পরিণত ও কার্যকর পারফরম্যান্স তাকে শীর্ষ পর্যায়ের রাইট-ব্যাকদের কাতারে তুলেছে।   ৩. রিস জেমস (চেলসি): রিস জেমসের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখিতা। রাইট-ব্যাকের পাশাপাশি মিডফিল্ডেও সমান দক্ষ চেলসি অধিনায়ক। তবু তার সেরা অবস্থান এখনো রাইট-ব্যাক বলেই মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে থাকতে হলেও শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকলে বিশ্বের সেরা রাইট-ব্যাকদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে তার।   ২. ইউরিয়েন টিম্বার (আর্সেনাল): গোল বা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান খুব বেশি না থাকলেও ইউরিয়েন টিম্বারের আসল শক্তি রক্ষণে। ওয়ান-টু-ওয়ান ডিফেন্ডিংয়ে তাকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। আর্সেনালের সাম্প্রতিক সাফল্যে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা লড়াইয়ে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শক্ত অবস্থানে রাখতে।   ১. আশরাফ হাকিমি (পিএসজি): বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা রাইট-ব্যাকের প্রশ্নে আশরাফ হাকিমির নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ২০২২ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সময় কিলিয়ান এমবাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “হাকিমি, বিশ্বের সেরা রাইট-ব্যাক।”   সময়ের সঙ্গে সেই মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। পিএসজির হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সফলতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করার পথে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান—সব মিলিয়ে অন্য সবার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন হাকিমি।   বর্তমান ফুটবলে আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্যই একজন রাইট-ব্যাককে আলাদা করে দেয়। সেই বিচারে আশরাফ হাকিমি এখন এই পজিশনের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও প্রভাবশালী ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
পেদ্রো ববিস্তা। ছবি: গোলডটকম
জাতীয় দল ছেড়ে মরক্কোর ক্লাবে যোগ দিলেন কেপ ভার্দেস্পেশাল কোচ ববিস্তা

২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে চমক দেখানো কেপ ভার্দে জাতীয় দলের কোচ পেদ্রো ববিস্তাকে নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মরক্কোর ক্লাব রেনেসাঁ কারকান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্লাবটি নতুন কোচ নিয়োগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।     ফলে ৫৬ বছর বয়সী ববিস্তা ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত কেপ ভার্দে জাতীয় দলের দায়িত্বে আর থাকছেন না। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে সামলানো জাতীয় দলের অধ্যায়ের ইতি টানলেন তিনি।       বেশ কয়েক দফায় দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে চুক্তিতে পৌঁছায় ববিস্তা ও ক্লাব কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ক্লাব এবং কেপ ভার্দে জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলাতে পারেন কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে এই পর্তুগিজ কোচ ক্লাবের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেন।       তবে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি রেনেসাঁ বারকান কর্তৃপক্ষ, গোপন রাখা হয়েছে শর্তগুলোও। চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, মরক্কোর ঘরোয়া ফুটবল এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলোতে ক্লাবের বড় ধরনের সাফল্যের লক্ষ্যে চুক্তির শর্তগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।     প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে নিয়ে এবং অবিশ্বাস্য রূপকথা রচনা করেন পেদ্রো ববিস্তা। তার কৌশলেই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই অনবদ্য পারফর্ম করে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছিল আফ্রিকান দলটি।       যদিও রাউন্ড অব ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় তারা। তবে বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াকু মানসিকতা এবং অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছিল আফ্রিকার এই ছোট্ট দলটি।   সূত্র : গোলডটকম

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দুই এজেন্সির আইনি লড়াইয়ে ঝুলে গেল দিয়োমান্দের রিয়াল মাদ্রিদ যাত্রা

মাদ্রিদে বিমান ধরার কথা ছিল অনেক আগেই। মেডিক্যাল টেস্ট, জার্সি নম্বর, সংবাদ সম্মেলন—সবই হয়তো হয়ে যেত। কিন্তু ইয়ান দিয়োমান্দের রিয়াল মাদ্রিদ-অধ্যায় এখনো শুরুই হয়নি। দুই এজেন্সির অদৃশ্য এক টানাপোড়েনে এই তরুণ উইঙ্গারের দলবদলটাও এখন ঝুলে গেছে।   বুন্দেসলিগা ক্লাব আরবি লাইপজিগের ১৯ বছর বয়সী আইভরিয়ান উইঙ্গার দিয়োমান্দেকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ প্রায় সবকিছুই গুছিয়ে এনেছিল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস ও দেফেনসা সেন্ত্রালরনর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অঙ্কের এই চুক্তির জন্য রিয়াল দর–কষাকষি করেছিল র‍্যাপার জে-জির মালিকানাধীন এজেন্সি রক নেশনের সঙ্গে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এনদ্রিকের মতো তারকাদেরও প্রতিনিধিত্ব করে এই এজেন্সি।       কিন্তু সাবেক আইভরি কোস্ট ফুটবলার ম্যাক্স গ্রাদেলের এজেন্সি ম্যাক্সিদেল ম্যানেজমেন্ট দাবি করছে, গত বছর লেগানেস থেকে লাইপজিগে দিয়োমান্দের দলবদলটা তারাই আয়োজন করেছিল। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লাইপজিগ ছাড়ার আগপর্যন্ত খেলোয়াড়ের ওপর তাদের অধিকার বহাল থাকার কথা। এই দাবিতে ম্যাক্সিদেল ফিফার কাছে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ দাখিল করেছে।       আইভরিয়ান সাংবাদিক মালিক ত্রাওরে দেফেনসা সেন্ত্রালকে বলেছেন, পুরো ব্যাপারটি গোপন করায় রক নেশনের প্রতিনিধিদের ওপর ক্ষুব্ধ রিয়াল মাদ্রিদ। এএসের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রিয়াল পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানত না। তবে রক নেশন বসে নেই। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ইয়োরমার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বিবৃতি দিয়ে স্প্যানিশ প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন গণমাধ্যম মনোযোগ কাড়ার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।     ব্যাপারটা স্রেফ দুই এজেন্সির বিবাদ হলে রিয়ালের এত মাথাব্যথা থাকত না। কিন্তু ফিফার এজেন্ট-সংক্রান্ত নিয়ম বলছে, প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ থাকলে তা সরাসরি খেলোয়াড়ের নিবন্ধনপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ভুল এজেন্টকে কমিশন দিয়ে ফেললে ফিফার কড়া শাস্তির মুখেও পড়তে পারে ক্লাব। চরম ক্ষেত্রে, বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফিফা দিয়োমান্দের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর সনদ (আইটিসি) প্রক্রিয়াকরণই আটকে দিতে পারে।     তবে ফিফা সাধারণত খেলোয়াড়ের খেলার অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়। তাই লড়াই চলাকালে একটি সাময়িক নিবন্ধন অনুমতিও মিলতে পারে রিয়ালের, যাতে দিওমান্দের দলবদল একেবারে থমকে না যায়।     আপাতত বলটা ফিফার কোর্টেই। ম্যাক্সিদেলের অভিযোগ তারা হাতে পেয়েছে এবং খতিয়ে দেখছে। রিয়াল মাদ্রিদের তাই অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ওদিকে দিওমান্দে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে অস্ট্রিয়ায় লাইপজিগের প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেননি। বোঝাই যাচ্ছে, তিনিও অপেক্ষা করছেন কোনো একটা সুসংবাদের জন্য।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬