ফুটবল

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে বিতর্ক, ভিএআর নাটক আর লাল কার্ডের মধ্যেও শেষ হাসি হাসল ম্যানচেস্টার সিটি।
ফোডেনের লাল কার্ডের পরও ইউনাইটেডকে হারিয়ে জয়ী ম্যানসিটি

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে বিতর্ক, ভিএআর নাটক আর লাল কার্ডের মধ্যেও শেষ হাসি হাসল ম্যানচেস্টার সিটি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল।       ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই ঘটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। বল দখলের লড়াইয়ে ম্যানইউ অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস ও সিটির ফিল ফোডেন দুজনই মাটিতে পড়ে যান। একপর্যায়ে বলের ওপর পড়ে থাকা ফোডেনকে সরাতে গিয়ে ফার্নান্দেস বল লাথি মারেন, যা গিয়ে লাগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের পিঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফোডেন পাল্টা ফার্নান্দেসের পেটে লাথি মারেন। ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারি মাইকেল অলিভার সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফোডেনকে।       একজন কম নিয়ে খেললেও ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। জোসকো গাভার্দিওলের দিক পরিবর্তন করা ক্রস থেকে পেছনের পোস্টে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন আর্লিং হালান্ড। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।       রিপ্লেতে দেখা যায়, ইউনাইটেডের প্যাট্রিক ডরগুর বাড়িয়ে দেওয়া পায়ের কারণে অল্পের জন্য অনসাইডে ছিলেন হালান্ড। এদিকে অফসাইড অবস্থানে থাকা এঞ্জো ফার্নান্দেস বলের দিকে হেড করার চেষ্টা করলেও সেটি স্পর্শ করতে পারেননি। ভিএআর কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি খেলায় সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেননি। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।       গোল হজমের পর ম্যাচের শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইউনাইটেড। তবে সিটির রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা।     এই জয়ে চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান ম্যাচে এক ড্র ও দুই হারে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়ামালকে আটকে রাখতে পারেনি লেভান্তে। ছবি: রয়টার্স
শেষ সময়ের নাটকীয়তা পেরিয়ে লেভান্তের মাঠে বার্সেলোনার বড় জয়

লেভান্তেকে হারাতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না বার্সেলোনার। তবে শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল তারা।   লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে জাভি এসপার্ত ও করিম আদেয়েমির গোলে লেভান্তেকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান আরো মজবুত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।     লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার কাছে। ৫ মিনিটেই রাফিনিয়ার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এসপার্ত।       ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়ামাল। রাফিনিয়ার তৈরি করে দেওয়া আক্রমণ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।  বিরতির পরও বার্সেলোনার দাপট অব্যাহত থাকে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল।     তিন গোলে এগিয়ে গিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় বার্সা।     তবে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। ৭৯ মিনিটে লেভান্তের ইভান রোমেরো ব্যবধান কমান। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ এ।       শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর শঙ্কা তৈরি হলেও তা দূর করেন আদেয়েমি।     যোগ করা সময়ে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি।     এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা। পাঁচ ম্যাচেই ২১ গোল করে ফেলেছে তারা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থায় আছে ভিনিসিউস

আগের চেয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের গতি একটু কমলেও, তা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের বিশ্বাস, অন‍্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকা ভিনিসিউস শিগগির নিজের সেরা গতি স্পর্শ করবেন।   গত মৌসুম থেকে প্রায়ই সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দুয়ো শুনছেন ভিনিসিউস। আবার ভালো পারফরম‍্যান্সের জন‍্য করতালিও পাচ্ছেন তিনি। রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয় পাওয়া ম‍্যাচেও দেখা গেছে এই চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের নিষ্প্রভ পারফরম‍্যান্সে ভক্তদের একটি অংশ থেকে দুয়ো শোনেন রেয়ালের খেলোয়াড়রা। আবার ৮৮তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তুমুল করতালিও শোনেন ভিনিসিউস।   ম‍্যাচে গোল পাননি ভিনিসিউস। তবে ৩৫তম মিনিটে তার চমৎকার কাট ব‍্যাক থেকেই দলের তৃতীয় গোলটি করেন জুড বেলিংহ‍্যাম। ম‍্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, সেরা ছন্দে ফেরার পথেই আছেন ভিনিসিউস।   শারীরিকভাবে সে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। নিজের সেরা গতির খুব কাছেই আছে। সে বারবার চেষ্টা করতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় সে দক্ষ হয়ে উঠছে।   মানসিকভাবে, সে খুবই দৃঢ়। সে এই ক্লাবের অন্দর-বাহির জানে এবং সবসময়ই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। সে শান্ত, নিজের শরীর সম্পর্কে জানে এবং নিজের সেরা অবস্থায় ফেরার পথে আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মেসির চোখধাঁধানো গোল, তবুও শেষ মুহূর্তে মায়ামির হতাশা

গোল করছেন, করাচ্ছেন– তবুও কিছুতেই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চলতি আসরটা ঠিকঠাক যাচ্ছে না লিওনেল মেসিদের। তার দৃষ্টিনন্দন একটি গোলে ইন্টার মায়ামি লিড নিলেও শেষটা ছিল হতাশার। যোগ করা সময়ে ন্যাশভিলের কাছে গোল হজম করে (২-২) পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।   ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বাঁ পায়ের শটে গোল করে মেসি যখন মায়ামিকে ন্যাশভিলের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে প্রথম জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় আসে। যোগ করা সময়ে প্রথম মিনিটেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ন্যাশভিলেকে সমতা ফেরান স্যাম সারিজ।   ফলে চলতি মৌসুমে মায়ামির বিপক্ষে খেলা চারটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল ন্যাশভিলে। এ ছাড়া সর্বশেষ ড্র’র কল্যাণে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মায়ামির চেয়ে ন্যাশভিলে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেল।   এর আগে ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই অ্যান্ডি নাজারের পাস পেয়ে মায়ামির জাল কাঁপান সারিজ। চলতি মৌসুমে এটি তার ১৪তম গোল। ১৯তম মিনিটে মায়ামি সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষের রিড বাকের-হোয়াইটিংয়ের আত্মঘাতী গোলে। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির একটি শট বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।   ৬২ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় মায়ামি। রদ্রিগো ডি পল বক্সের বাইরে কয়েকজনের মাঝে থাকা মেসিকে বল বাড়ালে, তিনি একমুহূর্তও দেরি না করে প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ন্যাশভিলের জালে জড়ান। যা চলতি মৌসুমে এমএলএসে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ১৯তম গোল। তবে যোগ করা সময়ে সেই স্বস্তি উড়ে যায় মায়ামির। তবে মেসির দুটি শট গোলবারে লেগে না ফিরলে দৃশ্যটা অন্যরকম হতে পারত।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এমবাপের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ

প্রথমার্ধে দারুণ আক্রমণাত্মক খেলে ৩৫ মিনিটেই তিন গোল করল রেয়াল মাদ্রিদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় পর্যন্ত তারাই উপহার দিল ছন্দহীন ফুটবল। দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে বাঁচালেন তিবো কোর্তোয়া। শেষ দিকে আরেকটি গোল করে অবশ্য বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল জুজে মরিনিয়োর দল।   সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার লা লিগার ম্যাচে রায়ো ভাইয়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে প্রতিযোগিতাটির সফলতম দলটি।   ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে করেন জোড়া গোল। একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। রেয়ালের অন্য দুই গোলদাতা আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহ্যাম। ভাইয়েকানোর একমাত্র গোলটি করেন সের্হিও কামেয়ো।   এবারের লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচে জয়ের পর, রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায় রেয়াল। পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারায় তারা। এবার ঘরোয়া লিগে জয়ে ফিরল মাদ্রিদের দলটি।   পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় দুই নম্বরে উঠেছে রেয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে শীর্ষে বার্সেলোনা, গত দুইবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা একটি ম্যাচ কম খেলেছে।   সপ্তম মিনিটে প্রথম ভাইয়েকানোর রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পারে রেয়াল মাদ্রিদ। দারুণ নৈপুণ্যে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন জানান তিনি, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।   ত্রয়োদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া আলভারো কারেরাস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দেরি করেননি রেফারি। ঠাণ্ডা মাথার স্পট-কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে।   এর তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে রেয়াল। একটু আগে পেনাল্টি আদায় করে নেওয়া কারেরাস এবার নাম লেখান স্কোরশিটে। বক্সে এমবাপের সঙ্গে দারুণভাবে বল দেওয়া-নেওয়া করে জাল খুঁজে নেন তিনি।   রেয়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মধ্যে ব্যবধান ছিল দুই মিনিট ৫৫ সেকেন্ড।   ২৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। বল তখনও বিপদমুক্ত হয়নি, ছুটে যান এমবাপে, তবে বলটি গোললাইন থেকে দূরে ঠেলে দেন গোলরক্ষক।   প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে ৩৫তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে রেয়াল। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে চমৎকার পাস দেন ভিনিসিউস, আর প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন বেলিংহ্যাম।   প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের জোরাল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, পোস্টে লাগে বল। একটু পর ৩০ গজ দূর থেকে ভাইয়েকানোর পেদ্রো দিয়াসের বুলেট গতি শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন কোর্তোয়া।   দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে দুর্ভাগ্যের ফেরে গোল পায়নি ভাইয়েকানো। বক্সের বাইরে থেকে দিয়াসের শট পোস্টে লাগে। পরক্ষণে বক্সের বাইরে থেকেই আদ্রিয়া পেদ্রোসের শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়।   ৫১তম মিনিটে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেনি রেয়াল। রক্ষণের দুর্বলতায় গোলটি হজম করে তারা। আন্টোনিও রুডিগার পাস দেন ভিনিসিউসের উদ্দেশে, কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান তারকার পেছন থেকে ছুটে গিয়ে পায়ের টোকায় বল বক্সে বাড়ান ভাইয়েকানোর এক খেলোয়াড়, আর জালে পাঠান কামেয়ো।   এই অর্ধে ভালো খেলতে পারছিল না রেয়াল, বরং তাদের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়াতে থাকে ভাইয়েকানো। ৫৫তম মিনিটে ফ্লোরিয়ানের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।   ১০ মিনিট পর আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন রেয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক। বক্সের বাইরে থেকে জর্জির শট রুখে দেন তিনি।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দলের ছন্দহীন খেলা দেখে তখন দুয়ো দিতে থাকে রেয়ালের সমর্থকদের একটা অংশ।   ৭২তম মিনিটে ইয়ান ডিওমান্ডেকে তুলে আর্দা গুল্যারকে নামান মরিনিয়ো। তাতে রেয়ালের খেলায়ও প্রাণ ফেরে আবার।   ৭৮তম মিনিটে গুল্যারের ক্রসে কাছ থেকে রুডিগারের হেড দারুণ নৈপুণ্যে বল বাইরে পাঠান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর গুল্যারের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৮৩তম মিনিটে রুখে দেন এমবাপের আরেকটি ভলি।   যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। গুল্যারের পাস বক্সে পেয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ফরাসি তারকা।   এবারের লা লিগায় এমবাপের গোল হলো ছয়টি, আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছয় ম্যাচে সাতটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিষ্প্রভ ফুটবল খেলে ফের লিভারপুলের ড্র

সুযোগ এলো অনেকগুলো, কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারলেন না আলেকসান্দার ইসাক, দমিনিক সোবোসলাইরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফের পয়েন্ট হারাল লিভারপুল।   ফুলহ‍্যামের সঙ্গে শনিবার গোলশূন‍্য ড্র করেছে আন্দোনি ইরাওলার দল।   এবারের প্রিমিয়ার লিগে চার ম‍্যাচে এটি লিভারপুলের তৃতীয় ড্র। টানা তিন হারের পর প্রথম পয়েন্ট পেল ফুলহ‍্যাম।   ঘরের মাঠে নবম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় লিভারপুল। বাহডলে বাহকোলার চমৎকার পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি ইসাক।   দুই মিনিট পর গোলরক্ষক আলিসন বেকারের দুর্বল পাসে বিপদে পড়ে যায় লিভারপুল। তবে গোললাইন থেকে গন্সালো গার্সিয়ার শট ঠেকিয়ে দলকে বাঁচান জেরেমি জেকে।   ২২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। সোবোসলাইয়ের গতিময় শট ফেরে ক্রসবারে লেগে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কোনো দলই আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের সুযোগ পান ইসাক। ৫২তম মিনিটে শট লক্ষ‍্যে রাখেন সু্ইডিশ স্ট্রাইকার। তবে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ফুলহ‍্যাম গোলরক্ষক। ১৪ মিনিট পর সোবোসলাইয়ের শটও ব‍্যর্থ করে দেন তিনি।   ৭৬তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে সুযোগ পায় ফুলহ‍্যাম। তবে জশ কিংয়ের গতিময় শট ঠেকিয়ে সমতা ধরে রাখেন আলিসন।   যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব‍্যবধান গড়ে দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন ইসাক। সোবোসলাইয়ের কর্নারে বিপজ্জনক জায়গা থেকে হেড লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি তিনি।   অন্তিম সময়ে আরেকটি সুযোগ পায় লিভারপুল। দূরের পোস্টে বল পেয়ে শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি রিও নুগোমোহা। একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।   ৪ ম‍্যাচে তিন ড্র ও এক জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ছয় নম্বরে আছে লিভারপুল। ১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে উঠে এসেছে ফুলহ‍্যাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
১৯ বছরেই হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনায় যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো। সেখানে যোগ দিয়েই চমক দেখিয়েছেন তিনি। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ফিওরেন্তিনার ৪-২ গোলের জয়ে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন মাস্তানতুনো। এতে ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসির একটি রেকর্ড।    মাস্তানতুনোর অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ভর করেই চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেলো ফিওরেন্তিনা। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে একাই তিন গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।    ১৯ বছর ২৮ দিন বয়সে ফিওরেন্তিনার জার্সি গায়ে এই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক পেলেন মাস্তানতুনো। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।   মাস্তানতুনো ভেঙেছেন মেসির একটি রেকর্ডও। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ ১৯ বছর ২৫৯ দিন বয়সে বার্সার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন মেসি। ইউরোপের শীর্ষ লিগে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার। তার চেয়ে ২৩১ দিন কম বয়সেই এবার হ্যাটট্রিক পেলেন আর্জেন্টিনার মাস্তানতুনো।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে দেম্বেলের পছন্দ খভিচা, কেইন ও এমবাপে

২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে এবারও পুরস্কারটির ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে টানা দ্বিতীয়বার ব্যক্তিগত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে তিনি কতটা এগিয়ে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। এর মধ্যেই নিজের পছন্দের তিন ফুটবলারের নাম জানিয়েছেন ফরাসি তারকা।   ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে জানান, নিজের হাতে ব্যালন ডি’অরের ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি পিএসজির সতীর্থ খভিচা কভারাৎস্খেলিয়াকে বেছে নিতেন। তার পছন্দের তালিকায় পরের দুই অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং তার সাবেক পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে।   নিজেকে ভোট দিতেন না দেম্বেলে: ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজের নাম বিবেচনা করতেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে দেম্বেলে সরাসরি না বলেন। তার ভাষায়, সুযোগ পেলেও তিনি নিজের নাম তালিকায় রাখতেন না এবং নিজেকেও ভোট দিতেন না। অন্যদিকে, এমবাপে সম্প্রতি জানিয়েছেন, একই পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকেই ভোট দেওয়ার পক্ষপাতী।   ব্যালন জয়ের পর বেড়েছে চাপ: ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রত্যাশা ও সমালোচনা দুটোই বেড়েছে বলে মনে করেন দেম্বেলে। তবে বিষয়টিকে ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি। দেম্বেলে বলেন, ফুটবলে খেলোয়াড়দের সবসময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আর কোনো খেলোয়াড় যখন ব্যালন ডি’অরের মতো বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে ফেলেন, তখন তাকে ঘিরে নজরদারি ও প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তার মতে, সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের পর এখন প্রতিটি ম্যাচেই তার পারফরম্যান্সের দিকে বাড়তি নজর থাকে। তবে এ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত চিন্তিত নন।   প্রতিটি ম্যাচে ভালো করার তাগিদ: ২০২৫-২৬ মৌসুমে পিএসজির হয়ে ৪০ ম্যাচে ২০ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অর জয়ের পর প্রতিটি ম্যাচেই গোল বা ভালো পারফরম্যান্স করার বাড়তি চাপ অনুভব করেছেন বলে জানান তিনি। ফরাসি ফরোয়ার্ডের মতে, একজন শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারকে সবসময় মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয়। একটি ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না এলেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে এসব সমালোচনা তার কাজের ধরন বা মানসিকতায় বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি। দেম্বেলের বক্তব্য, সমালোচনা ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। তাই সেটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
লাল-হলুদ কার্ডের পর ফুটবলে নতুন চমক ‘ব্ল্যাক কার্ড’

ফুটবল মাঠে ফাউল বা অসদাচরণের জন্য হলুদ ও লাল কার্ডের ব্যবহার দেখে সবাই অভ্যস্ত। তবে এবার ফুটবলের সবুজ গ্যালারিতে নতুন সংযোজন হিসেবে যোগ হতে যাচ্ছে ‘ব্ল্যাক কার্ড’ বা কালো কার্ড। ইউরোপীয় ফুটবলে প্রথমবারের মতো রোমানিয়ার ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএফ) তাদের যুব ও বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিভাবকদের আক্রমণাত্মক ও অনুপযুক্ত আচরণ নিয়ন্ত্রণে এই বিশেষ কার্ড চালুর যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে। মাঠের কোনো ফুটবলার বা কোচিং স্টাফকে শাস্তি দেওয়া এই কার্ডের উদ্দেশ্য নয়। বরং গ্যালারিতে থাকা উগ্র অভিভাবক ও দর্শকদের কুরুচিপূর্ণ আচরণ রুখতেই ব্যবহৃত হবে নতুন এই ‘ব্ল্যাক কার্ড’। ক্ষুদে ফুটবলারদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নিয়েছে রোমানিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। প্রায়শই বয়সভিত্তিক ম্যাচগুলোতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত আবেগের বহিঃপ্রকাশ, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গালিগালাজ, এমনকি প্রতিপক্ষ দলের কোমলমতি শিশুদের মানসিক চাপে ফেলার ঘটনা দেখা যায়। এফআরএফ-এর মতে, বড়দের এই অসদাচরণ শিশুদের মানসিক বিকাশে চরম বাধা সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে গ্যালারি নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একেবারে নতুন এক নজির। যদিও আয়ারল্যান্ডের গেইলিক ফুটবলে কৌশলগত ফাউলের জন্য কালো কার্ডের প্রচলন রয়েছে, কিন্তু ইউরোপের মূলধারার ফুটবলে দর্শকদের লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ সত্যিই ব্যতিক্রমী। বিশ্বজুড়েই যুব ফুটবলে অভিভাবকদের বাড়াবাড়ি ও অপ্রীতিকর আচরণ এক বড় উদ্বেগ। রোমানিয়ার এই অভিনব চেষ্টা যদি সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলেও গ্যালারির শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্ল্যাক কার্ড চালুর নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিন মাসের চুক্তিতে সান্তোসে কুতিনহো

তিন মাসের জন্য সান্তোসে যোগ দিয়েছেন ফিলিপে কুতিনহো। বন্ধু নেইমারের সঙ্গে খেলতে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন তিনি।    গত ফেব্রুয়ারিতে ভাস্কো দা গামা ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাবে খেলেননি কুতিনহো। ঘরেই ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এবার সান্তোসে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে মাঠে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক এই বার্সেলোনা ও লিভারপুল তারকা।   ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ডটকম জানিয়েছে, কার্যত এটি কুতিনহোর জন্য একটি পরীক্ষামূলক সময়। তিন মাসে নিজের শারীরিক অবস্থা, ছন্দ এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ যাচাই করার সুযোগ পাবেন তিনি।   কুতিনহোর জন্য সান্তোসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু ফুটবলে ফেরার সুযোগ নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। ক্লাবটিতে তাঁর বন্ধু ও ব্রাজিলের আরেক তারকা নেইমারের সঙ্গে খেলতে পারবেন তিনি। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে আগামী তিন মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।   এই সময়ে সান্তোসকে দুটি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। ব্রাজিলিয়ান লিগ ব্রাসিলেইরাওয়ের শেষ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ ডিসেম্বর। পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানার ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। সান্তোস ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মিনেইরো।   তিন মাসের এই অধ্যায় তাই কুতিনহোর ক্যারিয়ারে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়। মাঠে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে পারলে হয়তো নতুন করে ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের পথ খুলে যাবে তার সামনে। আর যদি আগের ছন্দে ফিরতে না পারেন, তাহলে ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে এই সময়ের পর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমা চাইতে হবে না, গোল করুক আলভারেস

হুলিয়ান আলভারেসের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছাকে ভালোভাবে নেননি আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকেরা। তাদেরই একজন মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ডের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন তিনিও। তবে আলভারেস ক্ষমা চাইবে, এমন দাবি নেই তার। বরং দলের হয়ে মাঠে নেমে গোল করে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ চলার মাঝে আলভারেস জানান, তিনি অন্য ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ক্লাবকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই থেকেই ক্লাবের সমর্থকদের সঙ্গে তার সম্পর্কে চিড় ধরে।   আলভারেসকে দলে নিতে চেষ্টা চালায় বার্সেলোনা। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ছাড়তে রাজি হয়নি আতলেতিকো। খবর বের হয়, এই স্ট্রাইকারকে দলে টানতে চেয়েছিল আর্সেনালও। কিন্তু কারো কাছেই আলভারেসকে বিক্রি করেনি আতলেতিকো।   বিশ্বকাপ শেষে ছুটি কাটিয়ে অবশ্য ঠিক সময়েই ক্লাবে যোগ দেন তিনি। কিন্তু ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে তার অবস্থান এখন আর আগের মতো নেই।   গত ২৩ অগাস্ট লা লিগায় ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচের আগে ওয়ার্ম আপের সময় তাকে দুয়ো দেওয়া হয়। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তার নাম ঘোষণার সময়ও তাকে বিদ্রূপ শুনতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মাঠে নামার পর আরও জোরাল হয় দুয়োধ্বনি। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রভাবও পড়ে তার ওপর; তাকে সেদিন খুবই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।   ওই ঘটনার পর, দলের তৃতীয় ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে খেলেননি আলভারেস। ওই সময় তিন দিন অনুশীলনও করেননি তিনি। পরে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ফুটবলার। আর বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে প্রথমবার খেলেন পুরো ৯০ মিনিট।   চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে কোনো গোল করতে পারেননি আলভারেস। তবে লিভারপুলের বিপক্ষে মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি।   আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থক মার্তিনেস-আলমেইদা সম্প্রতি কাদেনা কোপকে বলেন, আলভারেসের কাছে এখন গোল ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই তাদের।   “হুলিয়ানের ওপর কি আমি ক্ষুব্ধ? হ্যাঁ। সেই রাগ দেখিয়ে কি আমাদের কোনো লাভ হবে? না। আতলেতিকোর সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আমি হুলিয়ানকে ক্ষমা চাইতে বলছি না, আমি চাই সে গোল করুক।”   তার মতে, সবাই মিলে এখন আলভারেসকে সেরা ছন্দে ফেরাতে হবে।   “আমাদের সবার এখন যা করতে হবে, তা হলো হুলিয়ানকে আবার ছন্দে ফেরানো। কারণ তা না হলে আগামী বছর তার মূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে- এটা ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে।   “যদিও তার ‘আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই’ মন্তব্য আমাদের কষ্ট দিয়েছে, আমার মনে হয় না, সে ক্ষমা চাইলে কোনো লাভ হবে। আমাদের এখন তাকে গোল করতে বলা এবং গোল করার ভিত্তিতেই তার বিচার করতে হবে।”   ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৮ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ডে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ১০৯ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মেসি-রোনালদোকে ঘিরে লা লিগায় নতুন চমক, বড় ইঙ্গিত সভাপতির

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। খেলোয়াড়ি জীবনের সেই দ্বৈরথ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে স্পেনের ক্লাব ফুটবলে। এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বিনিয়োগকারী হিসেবে স্প্যানিশ ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন দুই মহাতারকা।   ৪১ বছর বয়সি রোনালদো গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন। অন্যদিকে একই বিভাগের এলদেন্সে বিনিয়োগের পথে এগোচ্ছেন মেসি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ক্লাবটির সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তিতেও পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এর আগে বার্সেলোনা অঞ্চলের পঞ্চম বিভাগের ক্লাব করনেয়ারের মালিকানাও নিয়েছেন মেসি।   তবে এলদেন্সে মেসির বিনিয়োগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস জানান, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। মেসি সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগ করছেন, নাকি কোনো বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন—এ বিষয়েও তার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি।   তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্প্যানিশ ফুটবলে মেসি ও রোনালদোর বিনিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তেবাস। আলমেরিয়ায় রোনালদোর মালিকানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্বের সাম্প্রতিক সময়ের সেরা দুই ফুটবলার নিজেদের অর্থ স্প্যানিশ ফুটবলে বিনিয়োগ করছেন—এটি স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য সম্মানের। একই সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ দেশটির ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   খেলোয়াড় হিসেবে মেসি-রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। প্রায় এক দশক ধরে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সম্মিলিতভাবে ৮১টি শিরোপা জিতেছেন দুই তারকা। ৯০০-এর বেশি গোল করার কীর্তি রয়েছে শুধু এই দুজন ফুটবলারেরই।   বার্সেলোনায় ১৭ মৌসুম কাটানোর পর ২০২১ সালের আগস্টে ক্লাবটির আর্থিক সংকটের কারণে বিদায় নেন মেসি। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।   অন্যদিকে ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়েন রোনালদো। মাদ্রিদে থাকাকালীন ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ১৩টি শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি। আর পর্তুগালের জার্সিতে তার সবচেয়ে বড় অর্জন ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়া।   খেলার মাঠের সেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার স্প্যানিশ ক্লাব ফুটবলের পৃষ্ঠপোষক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছেন—যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে আলোচনা। সূত্র: ইএসপিএন

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মেসির ৭ কীর্তিতে ভাগ বসানোর দৌড়ে রাফিনিয়া

বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসির গড়া বেশ কিছু রেকর্ড এতদিন ছিল প্রায় অস্পর্শনীয়। তবে নতুন মৌসুমে রাফিনিয়াকে ভিন্ন ভূমিকায় খেলানোর সিদ্ধান্ত যেন সেই হিসাব কিছুটা বদলে দিয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে মেসির একাধিক রেকর্ডের দিকে তাকানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।   ২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই আট গোল করেছেন রাফিনিয়া। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেস দল ছাড়ার পর এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা সফল না হওয়ায় রাফিনিয়াকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় বার্সেলোনা। উইং থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেন বদলে গেছে তার পারফরম্যান্সের চিত্র।   চলুন জেনে নেওয়া যাক বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা মেসির যেসব রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন রাফিনিয়া-   লা লিগায় টানা গোলের রেকর্ড ২০১২-১৩ মৌসুমে লা লিগায় টানা ২১ ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। রাফিনিয়া অবশ্য এখনো সেই রেকর্ডের ধারেকাছেও নেই। তবে চলতি লিগে প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘ করতে পারলে মেসির রেকর্ডের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪ গোল ২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে ১৪ গোল করেছিলেন মেসি। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করে দারুণ সূচনা করেছেন রাফিনিয়া। নতুন ফরম্যাটে নকআউট পর্বসহ বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় এই রেকর্ডকে লক্ষ্য করা অসম্ভব নয়।   হোস্কোরড রেটিংয়েও নজর টানা ১২ মৌসুম হোস্কোরডের গড় রেটিংয়ে ৮.০০-এর ওপরে ছিলেন মেসি। তার সর্বোচ্চ গড় রেটিং ছিল ৮.৮৮। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত রাফিনিয়ার রেটিং ৮.৭২—অর্থাৎ শুরুতেই মেসির সেরা সময়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি। লা লিগায় ৫০ গোলের মাইলফলক ২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় মেসির ৫০ গোলের কীর্তি এখনও বিরল এক রেকর্ড। তবে রাফিনিয়ার চলতি মৌসুমের শুরুটা অন্তত আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রথম চার ম্যাচে তার গোল ছয়টি, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে দেড় গোল। এই হার পুরো ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে ধরে রাখতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৫৭-তে পৌঁছাতে পারে।   এক মৌসুমে আট হ্যাটট্রিক লা লিগার এক মৌসুমে আটটি হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও মেসির দখলে। নতুন পজিশনে খেলার কারণে ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফেরমিনের কাছ থেকে নিয়মিত গোলের সুযোগ পাচ্ছেন রাফিনিয়া। ফলে মৌসুমজুড়ে একাধিক হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   ৩৮ ম্যাচের ২৭টিতে গোল লা লিগার এক মৌসুমে ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ২৭ ম্যাচেই গোল করেছিলেন মেসি। রাফিনিয়ার এবারের শুরু অবশ্য শতভাগ সফল। লিগের চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। তবে মেসির রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে প্রায় পুরো মৌসুমজুড়েই এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে তাকে।   এক মৌসুমে ৭৩ গোল ২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছিলেন মেসি—যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত রেকর্ড। রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছেন আট গোল। একই গতিতে ৫০ ম্যাচ খেলতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি যেতে পারে।   তবে মৌসুমের শুরুতেই এ ধরনের হিসাবকে চূড়ান্ত সম্ভাবনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা এবং প্রতিপক্ষের মান—সবকিছুই একজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও স্ট্রাইকার হিসেবে রাফিনিয়ার এমন দুর্দান্ত সূচনা বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের ‘অস্পর্শনীয়’ রেকর্ডগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নেইমারের সান্তোসে এবার কৌতিনিয়ো, বন্ধুত্বে মিলল দুই ব্রাজিলিয়ান তারকা

ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফেলিপে কৌতিনিয়ো। ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা তারকা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমার জুনিয়রের সঙ্গে একই ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হলো তার।   ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনিয়ো মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দীর্ঘ সময় কাটালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। এবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফিরে সান্তোসের কঠিন সময় কাটানোর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে।   সান্তোস বর্তমানে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা ব্রাসিলেইরাওয়ে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। ২৫ ম্যাচ শেষে দলটির জয় ও ড্র—দুটিই আটটি করে। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ১৩তম। ফলে দলের আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কৌতিনিয়োর মতো একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।   নেইমারের চোটে নতুন সমীকরণ: কৌতিনিয়োর সান্তোসে যোগ দেওয়ার সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির পর শৈশবের ক্লাবে ফিরে দলটিকে সাফল্যের পথে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন নেইমার। কিন্তু সম্প্রতি ডান উরুর রেকটাস ফেমোরিস পেশিতে গ্রেড-২বি ধরনের চোট পাওয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। গত মৌসুমেও চোটের সমস্যা নিয়েই সান্তোসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নেইমার। দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার তার অনুপস্থিতিতে দলের সৃজনশীলতা ধরে রাখতে কৌতিনিয়োকে দ্রুত দলে টেনেছে সান্তোস। নেইমার ও কৌতিনিয়োর বন্ধুত্ব অবশ্য নতুন নয়। ব্রাজিলের ফুটবলে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় ও বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও শৈশবে দুজন ছিলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে—কৌতিনিয়ো সান্তোসের প্রতিপক্ষ ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলেছেন, আর নেইমার ছিলেন সান্তোসের তারকা। এবার সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প পেছনে ফেলে একই ক্লাবের জার্সিতে তাদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি: দলবদলবিষয়ক ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, কৌতিনিয়োর সঙ্গে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে সান্তোস। তবে নেইমারের চোটের কারণে দুজনকে একসঙ্গে মাঠে দেখার জন্য আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। নেইমার কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন, সেটিই এখন সান্তোস সমর্থকদের বড় প্রশ্ন। সান্তোসের লক্ষ্য অবশ্য পরিষ্কার—কঠিন মৌসুমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। আর সেই পরিকল্পনায় কৌতিনিয়োর অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা দলটিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ফাইল ছবি
স্কালোনিকে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কারণ

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময় বাকি আছে। তবে নতুন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। রেডিও লা রেডের অনুষ্ঠান উন বুয়েন মোমেন্তোতে সাংবাদিক গুস্তাভো ইয়ারোচ জানান, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্পষ্টভাবেই চায়, স্কালোনি দায়িত্বে থাকুন। নতুন চুক্তিও দিতে চায়। তবে সেটা হচ্ছে মূলত ৩ কারণে। এই তিন কারণেই বিশ্বজয়ী এই কোচ আর্জেন্টিনায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। আট বছরের ক্লান্তি প্রথম কারণটি খেলা এবং মানসিক দিক সম্পর্কিত। স্কালোনি ভালোভাবেই জানেন, সামনের চক্রে দলকে নতুন করে গড়তে হবে। ধীরে ধীরে দলে পরিবর্তনও আনতে হবে। আট বছরের দীর্ঘ ও সফল সময় পার করার পর কোচ এখন নিজেই ভাবছেন, এত বড় একটি প্রকল্প চালানোর জন্য এখনো তার সেই শক্তি, ইচ্ছা এবং অনুপ্রেরণা আছে কি না। এই প্রকল্পে প্রতিদিন তাকে পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে হবে। এএফএর অপ্রত্যাশিত আর্থিক বকেয়া মাঠের বাইরের একটি বিষয়ও তৈরি করেছে অস্বস্তি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের বোনাসের একটি বড় অংশ এখনো বকেয়া রেখেছে এএফএ। জাতীয় দলের শিবিরে এই বিষয়টিকে অনেকেই বোধগম্য মনে করছেন না। এতে তৈরি হয়েছে ক্ষোভও।  আর্জেন্টিনা তাদের অভাবের দিনগুলো অনেক পেছনে ফেলে এসেছে। বিশেষ করে ২০২১ সাল থেকে পাওয়া তাদের টানা সাফল্যগুলোর কারণে তাদের আয় এখন অনেক বেশি। এই সময়ে এসে কেন বকেয়া থাকবে, তা নিয়ে অসন্তোষ আছে স্টাফদের মধ্যে।  প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিয়ে অসন্তোষ তৃতীয় সমস্যাটি লজিস্টিক এবং প্রীতি ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া প্রতিপক্ষের মান নিয়ে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই এই অভিযোগ করে আসছেন কোচ। স্কালোনি বরাবরই বলেছেন, তিনি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে চান।  তবে এএফএর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এমন প্রতিপক্ষ ঠিক করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ সময় বেছে নেওয়া হয়েছে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক কিছু সমন্বয়হীনতাও। এই মাসের শেষে অনুষ্ঠেয় ফিফা উইন্ডোর প্রতিপক্ষ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এএফএ। সপ্তাহের শুরুতেই এই ঘোষণা আসার কথা ছিল। তবে বারবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে।  এর মধ্যে আরও অস্বস্তির বিষয় হলো, এই সফরের জন্য যেসব দলের নাম বিবেচনায় আছে, তা কোচের চাওয়া আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে অনেকটাই কম।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ড্র দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এএস রোমার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ৭ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে ফিরল এএস রোমা। ঘরের মাঠ অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেনেরবাচের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইতালিয়ান জায়ান্টদের।     ম্যাচের প্রথমার্ধে রোমা লিড নিলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরে তুর্কি ক্লাবটি।     দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরা রোমা ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে। ৩৯ মিনিটে ক্রিস্তান্তের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইতালিয়ান ক্লাবটির হাতে চলে আসে এবং তারা লিড ধরে রেখে প্রথমার্ধ শেষ করে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল দীর্ঘ ৮ বছর পর রোমার কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম গোল।       দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ধাক্কা খায় রোমা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে লেফট-ব্যাক আর্চি ব্রাউনের গোল সমতায় ফেরে ফেনেরবাচের। গোল হজম করার পর রোমার খেলার ছন্দ কিছুটা পতন ঘটে। তুরস্কের ক্লাবটি ম্যাচে সমতা ফেরার পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং রোমার রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।       ম্যাচের শেষ দিকে খেলার মোমেন্টাম পুরোপুরি ফেনেরবাচের দিকে হেলে পড়েছিল। ফেনেরবাচের নাথান আকে=গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার হেডটি বারে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হয় তুর্কি ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি ড্র হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স
ফেয়েনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা শুরু

বার্সেলোনার গোলের ক্ষুধা যেন কিছুতেই মিটছে না। লা লিগায় টানা দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে জয়।     এবার ইউরোপের মঞ্চেও সেই একই দাপট। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই ফেয়েনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুরু হলো বার্সার ইউরোপযাত্রা। ক্যাম্প ন্যু তখন বৃষ্টির চাদরে ঢাকা। ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারির দর্শকরা ভিজে একাকার।     রেফারির বাঁশির পরও থামেনি বৃষ্টি। তবে মাঠের সেই বৃষ্টি বেশিক্ষণ বাধা হয়ে থাকেনি বার্সার আক্রমণে। দুই মিনিট না পেরোতেই বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে শুরু হলো গোলের ঝড়। তিন মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই ফেয়েনুর্ডের জালে বল পাঠিয়ে দিল বার্সেলোনা।     লামিন ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার যৌথ আক্রমণে চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজেদের গোলের খাতা খুলল কাতালান ক্লাবটি। এ গোল সংখ্যা কততে বা কোথায় গিয়ে থামবে, তা সময় বলে দেবে। তবে নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয়ে সূচনাটা মধুর করে রাখল হান্সি ফ্লিকের দল। বার্সার হয়ে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। এ ছাড়া একটি করে গোল পান করিম আদেইয়েমি, লামিন ইয়ামাল ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।     চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত খেলা ৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষের জালে পাঁচবার বল জালে পাঠিয়েছে বার্সেলোনা।       ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ইয়ামাল খুঁজে নেন তাঁর অধিনায়ক রাফিনিয়াকে। বল হাতে নিয়ে ওয়াতানাবকে পাশ কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর এক দুর্দান্ত ‘বডি ফেইন্ট’ বা শরীরী ছলনায় সেন্ট জুস্টে ও ভ্যানহাউটে—দুজনকেই স্লাইড করতে বাধ্য করে পরাস্ত করেন। ফেয়েনুর্ড গোলরক্ষক আর্নস্ট চেষ্টা করেছিলেন সামাল দিতে, কিন্তু তাঁরও কোনো উপায় ছিল না।       ২২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ক্যানসেলোর পাস পেয়ে বাম দিক দিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান আদেইয়েমি। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁকানো দুর্দান্ত শট ফেইনুর্ড গোলরক্ষক আর্নস্টকে পরাস্ত করে জায়গা করে নেয় টপ-রাইট কর্নারে।     বিরতির পর ৫৭তম মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। এরপর ৭৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বার্সার লিড ৪-০ করেন ইয়ামাল। নতুন মৌসুমে এটি ছিল তাঁর অষ্টম গোল।       ৮২তম মিনিটে ফেইনুর্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সেম স্টেইন। তবে তিন মিনিট পরই ব্যবধান আবার বাড়িয়ে দেন বার্সার জেসুস। ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে করা এই গোলটি বার্সেলোনার জার্সিতে তাঁর প্রথম। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কোমো সভাপতি মিরওয়ান সুয়ারসো নিজের আসন ছেড়ে দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগে ঐতিহাসিক অভিষেক, প্রবীণ সমর্থকদের আসন ছাড়ছেন ক্লাব সভাপতি

নতুন অভিজ্ঞতাকে আলিঙ্গনের অপেক্ষায় কোমো। আগামীকাল রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হতে যাচ্ছে ইতালিয়ান ক্লাবটি।     ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে নিজেদের আসন ছেড়ে প্রবীণ সমর্থকদের জায়গা করে দিচ্ছেন ক্লাবটির সভাপতি মিরওয়ান সুয়ারসো ও কয়েকজন পরিচালক।       নিজেদের মাঠ স্তাদির জিউসেপ্পে সিনিগালিয়ায় কাল রাতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের মুখোমুখি হবে কোমো। স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার হলেও ইউরোপীয় ম্যাচের জন্য সেটি কমিয়ে আনা হয়েছে ১১ হাজারে। তাই অনেক সমর্থক টিকিট পাননি।       এ অবস্থায় নিজেদের আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুয়ারসো ও ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ১৯৫০ সালে বা তার আগে জন্ম নেওয়া সমর্থকদের, যারা কোমোর নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এবং খারাপ সময়েও ক্লাববে সমর্থন জুগিয়েছেন।     সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুয়ারসো লিখেছেন, ‘কম ধারণক্ষমতা ও সীমিতসংখ্যক টিকিটের কারণে যারা ম্যাচটি দেখতে চেয়েছিলেন, তাদের সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমি ও ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক এই ম্যাচের জন্য নিজেদের আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।       ইন্দোনেশিয়ার এই ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আরো লিখেছেন, ‘আমরা চাই, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সমর্থকেরা—১৯৫০ সালে বা তার আগে জন্ম নেওয়া এবং কোমোকে প্রতিটি বিভাগ ও প্রতিটি সময়ে অনুসরণ করা ভক্তরা এই আসনগুলো পান। আমরা এমন সমর্থকদের আমাদের আসন দিতে পেরে সম্মানিত হবো।’     কোমোর প্রধান কোচ স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জেতা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সেস্ক ফাব্রেগাস। ২০২৪ সালে তিনি ক্লাবটির দায়িত্ব নেন। তার কোচিংয়ে আমূল বদলে যায় কোমো।     ইতালিয়ান সিরি আ-তে গত মৌসুমে চতুর্থ হয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেয়। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোনালদোর গড়া ২টি রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি

আলজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কনকাস সিটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ-জে এর ম্যাচে ৩-০ হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।   লের জয়ে তিন গোলই মেসির।    এর মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুইটি রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।    ফুটবল বিশ্বকাপে এই প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড গড়লেন মেসি।   এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার সময় রোনালদোর বয়স ছিল ৩৩ বছর ১৩০ দিন ।   এছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি মেসির ১১তম হ্যাটট্রিক। এতদিন যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের মালিক ছিলেন মেসি-রোনালদো (১০টি)। তবে ১১ হ্যাটট্রিক নিয়ে এখন এককভাবে এই কৃতিত্বের মালিক হলেন মেসি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হালান্ডের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু ম্যানসিটির

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। দলের হয়ে দুটি গোলই করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালান্ড।   ম্যাচের শুরুতে বেশ সতর্ক ফুটবল খেলেছে দুই দল। নিজেদের মাঠে পোর্তো রক্ষণ সামলে সিটির আক্রমণ ঠেকানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক দিওগো কোস্তাও কয়েকবার দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।   প্রথমার্ধে বেশ কিছু আক্রমণ করলেও সিটির সামনে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে, প্রথম ৪৫ মিনিটে পোর্তোও সিটির গোলমুখে কোনো শট অন টার্গেটে নিতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।   বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। ৪৭ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের বাড়ানো দারুণ ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান হালান্ড। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।   গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে পোর্তো। তবে সিটির সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে স্বাগতিকদের আক্রমণগুলো কার্যকর হয়ে ওঠেনি। পুরো ম্যাচে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমাকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি।   নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ম্যানসিটির ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে (৯০+১) রায়ান আইত-নুরির বাড়ানো পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড।   জোড়া গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৬ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হালান্ড। তাঁর দুই গোলেই পোর্তোর মাঠ থেকে ২-০ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুম শুরু করল ম্যানচেস্টার সিটি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এমবাপ্পে-ভালভার্দের নৈপুণ্যে ইন্টারকে হারিয়ে রিয়ালের জয়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের হয়ে গোল দুটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেডেরিকো ভালভার্দে। ইন্টারের একমাত্র গোলটি করেছেন কার্লোস অগাস্টো।   এই ম্যাচটি রিয়ালের কোচ হোসে মরিনিয়োর জন্যও ছিল বিশেষ। সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে বার্নাব্যুতে নতুন মেয়াদে দারুণ সূচনা করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল স্বাগতিক রিয়াল। ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় তারা। ইন্টার ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল দখলে নেন ব্রাহিম দিয়াজ। এরপর তাঁর বাড়ানো বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান এমবাপ্পে। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।   প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয়বার বিপদে পড়ে ইন্টার। নিজেদের বক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে চাপের মুখে পড়েন গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ। তাঁর কাছ থেকে দ্রুত বল কেড়ে নেন ফেডেরিকো ভালভার্দে। এরপর ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার।   প্রথমার্ধ শেষ হয় রিয়ালের ২-০ লিড নিয়ে।   বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালাতে থাকে ইন্টার মিলান। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে ব্যবধান কমান কার্লোস অগাস্টো। লাউতারো মার্তিনেজের দারুণ ক্রস থেকে পাওয়া বল শক্তিশালী শটে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি।   এরপর ম্যাচের শেষদিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণে যায় ইন্টার। বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করে ইতালিয়ান ক্লাবটি। তবে রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে দৃঢ় ছিলেন কুর্তোয়া। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।   ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মখিতারিয়ানের গোলমুখী শটও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬