অন্যান্য

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে আজ তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।

থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর দিকগুলো সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভের পর বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং অন্যান্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনেকগুলো ভালো ফলাফল করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক সংকট এবং দক্ষ নেতৃত্বের অভাব অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দুই দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা প্রশাসন পর্যবেক্ষণ এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন,বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের যে আন্তরিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শেখার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় নেতৃত্ব উন্নয়নে আপনারা যে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটি খুবই ভালো উদ্যোগ। থাইল্যান্ড বিশ্বাস করে, শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের জন্যই উপকারী হতে পারে। আমরা বাংলাদেশকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং থাইল্যান্ডের দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জাইমা রহমানের জাতিসংঘে যোগদান ব্যক্তিগত অর্জন: মুশফিক

দাদা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, দাদি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক।   এমন একটি পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার নিজস্ব শিক্ষা, মেধা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জনকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।   জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।   সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সেখানে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে তাঁর আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।   মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় রয়েছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রাম তাঁর জীবনের একটি নিজস্ব অধ্যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। তার মতে, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।   জাতিসংঘে কাজের সুযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা জাইমা রহমানের পেশাগত সুযোগ প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন, এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়।   তিনি মনে করেন, পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।   এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কর্মী কাঠামোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কর্মরত, ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত এবং বাকি আটজন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।   মুশফিকুল ফজল আনসারী উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যে পদে যোগ দিয়েছেন, সেটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত। অর্থাৎ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়।   জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একসময় একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছেন।   তার ভাষায়, ‘কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।’   বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ জাতিসংঘের পেশাগত পদে বেতন-ভাতা নিয়েও নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে। পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয়ও যুক্ত হয়।   তার মতে, বেতনের কোনো অঙ্ক নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   সাধারণ পরিষদের সভাপতির সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই ব্যয় বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।   একপেশে মূল্যায়ন নয়, যোগ্যতার স্বীকৃতি চান ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমানকে ঘিরে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কাজের মূল্যায়নে নিজস্ব প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়।   তিনি মনে করেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য জাইমা রহমানের প্রতি মানুষের আগ্রহের যৌক্তিক কারণ। একই সঙ্গে তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় জিএম কাদেরের বাসায় হামলা, ভাঙল জানালার কাচ

ছবি: সংগৃহীত

জমির দলিলে ভুল হলে সহজে সংশোধন করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
সনদে ভুল তথ্য? জেনে নিন সংশোধনের সহজ উপায়

আকরাম আলী (ছদ্মনাম)। মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। কয়েক দিন পর নম্বরপত্র হাতে পেয়ে তার চোখ কপালে ওঠে।    কারণ, নম্বরপত্রে তার নাম আকরাম আলীর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ছাদ্দাম আলী। এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কী করবেন এখন? নম্বরপত্রে নিজের নামই যদি ভুল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।   আকরামের মতো অনেককেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের নামের পাশাপাশি অনেক সময় বাবা বা মায়ের নামও ভুল লেখা হয় সনদে। কখনো জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্যেও ভুল থাকে। কিন্তু এসব ভুল কীভাবে সংশোধন করতে হবে, তা জানা না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।   তবে সনদে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে এসব তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে বোর্ডের নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভুল ধরা পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   যেভাবে সংশোধন করবেন   প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন   নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম জেনে নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামা (এফিডেভিট) ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সনদে থাকা নাম, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষার শাখা, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষাকেন্দ্র, রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম ও জন্মতারিখ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোন তথ্যটি সংশোধন করতে চান, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।   শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করুন যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই বোর্ডে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি, জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।   যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—   নির্ধারিত ফি জমার রসিদ বা প্রমাণপত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তার কাটিং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের ফটোকপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সত্যায়িত ছবি ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামার মূল কপি   আবেদনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বোর্ডের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।   আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে শুনানি বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও ডাকা হতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।   জন্মতারিখ সংশোধনে সতর্কতা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগ বোর্ডভেদে বা প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই পাশের সাল থেকে কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।   সনদে ভুল তথ্য থাকলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিন। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য শিক্ষাগত নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করুন। এতে পরবর্তী সময়ে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং

‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক থাকছে না, একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত
আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ‘ব্যান’ করল ভারত

ভারতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি চেয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ভারতে নিষিদ্ধ (ব্যান) করা হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টুইটারে (বর্তমানে এক্স) একটি ভারতীয় রাজনৈতিক দলের বটরা গালাগাল করছে বলেও অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।   রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে করা পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তুলেন। পোস্টে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো নোটিশের একটি স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেছেন।   আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারতে আন্দোলনকারীদের মুক্তি চেয়ে দেওয়া একটা পোস্ট ইন্ডিয়াতে ব্যান করা হয়েছে।’   টুইটারে ভারতীয় একটি দলের বটরা (স্বয়ংক্রিয় বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট) তাকে টার্গেট করে আপত্তিকর মন্তব্য করছে জানিয়ে এনসিপি মুখপাত্র যোগ করেন, ‘টুইটারে ভারতীয় একটা দলের বটরা গালাগাল করছে।’   এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ পোস্টে তির্যক মন্তব্য করেন, ‘গণতন্ত্র দেশে দেশে!’   তার শেয়ার করা স্ক্রিনশট থেকে জানা যায়, ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৭৯(৩)(বি) অনুযায়ী ভারত সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দেওয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে মেটা (ফেসবুক) ওই নির্দিষ্ট পোস্টটির অ্যাক্সেস ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ বা জিও-ব্লক করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়, হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আয়াসসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা, জানালেন জামায়াত আমির

0 Comments