শিক্ষা

সংগৃহীত ছবি
ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ২ জনের একাডেমিক দায়িত্ব স্থগিত

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ ও শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও একজনকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।   এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষককে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলাম। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি আরও জানান, সেই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।   এ ছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক–ই–হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।   ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব না থাকায় তাঁর ডাকসুর পদও বাতিল করার সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।   গত বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তাঁর জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।   এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিম—এ দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়ের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। এজন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ড. মিলন বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মপ্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনের মানসিকতা থাকতে হবে।   পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। অনেকেই ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। তাই কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য এলাকাতেও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।   চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাধ্যমিকে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা, বাতিল কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থা

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে একক কোনও ব্যবস্থায় নয়। ক্যাচমেন্ট এরিয়া বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগে যেভাবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, নতুন ব্যবস্থাতেও সেভাবেই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সেভাবে যাচ্ছি না। আগে যেমন ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তেমনই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।” ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানানো হবে। প্রসঙ্গত, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরে লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থায় এলাকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যায়নেরও সুযোগ রাখা হচ্ছে।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দু’টি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।   তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দু’টি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরও দু’টি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।   তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে এনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।   মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।   তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে ৪টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। এতে দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৩টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। শীর্ষ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং–২০২৭ প্রকাশিত হয়।   বিশ্বসেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়ে এবারও দেশসেরা তালিকায় অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েট (৭১১-৭২০)। তালিকায় সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিরও (৯০১-৯৫০) স্থান হয়েছে। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান তৃতীয়। ২০২৬ সালের র‌্যাঙ্কিংয়েও এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা এক হাজারের তালিকায় ছিল।   তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, পঞ্চম স্থানে আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ৬ষ্ঠ স্থানেও আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)।   প্রতিবছর জুন মাসে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে কিউএস। এবার র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব গড়তে সরকারের উদ্যোগ : ববি হাজ্জাজ

‎দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ‎বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সাতারকুলে (বাড্ডা) গ্রিনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।   এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   ‎প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে। ম্যাথ ল্যাব সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   ‎ববি হাজ্জাজ আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে এবং স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা এ বছর মোট ৮ ধরনের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুমোদিত তালিকায় যুক্ত হয়েছে FX-991CW মডেলের ক্যালকুলেটর।   বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে শুধুমাত্র অনুমোদিত নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা নন-প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত হাতঘড়িও ব্যবহার করতে পারবেন।   এতে আরও বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্ধারিত ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব মডেলের পাশাপাশি সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে।   অনুমোদিত ক্যালকুলেটর মডেলগুলো হলো— FX-82MS, FX-100MS, FX-570MS, FX-991MS, FX-991ES, FX-991EX, FX-991ES Plus এবং FX-991CW।   উল্লেখ্য, গত বছর বোর্ড সাতটি মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সেগুলো হলো— FX-100MS, FX-991ES, FX-570MS, FX-82MS, FX-991EX, FX-991MS এবং FX-991ES Plus। এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে FX-991CW মডেল।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৭০ বছরের যাত্রা শেষে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গরূপে কেমব্রিজ

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের রূপান্তর ও তরুণ প্রজন্মের বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট। ১৯৫১ সাল থেকে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর, এবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করল আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল ১৬ জুন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেমব্রিজের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড সারোওয়াত রেজা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারাও এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।   নতুন এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ফলে কেমব্রিজ এখন থেকে বাংলাদেশের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি ও আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্বমানের সহায়তা, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।   অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষতাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে আধুনিক পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক ও প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য। এই রূপান্তরের সময়ে কেমব্রিজের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করবে।   বর্তমানে বাংলাদেশের ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কেমব্রিজের শিক্ষাকাঠামোর সুফল পাচ্ছে। বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার বিশাল বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে এবার বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদার আলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৫ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাঁদের নেতৃত্বগুণ ও সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। ... নাঈম হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমি সমতা, ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখি। পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী রেখে যেতে চাই।’   খাদিজা হোসেন অড়লা বলেন, ‘শিক্ষার্থীনেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জননীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, মানসম্মত শিক্ষা, সমান সুযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গঠনের ভিত্তি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ঢাবি ট্রেজারারকে সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান সর্ব মিত্র চাকমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ট্রেজারার অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করেছে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। শনিবার (৬ জুন) রাত ৭টা ২৪ মিনিটে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক ট্রেজারার স্যারের কাছে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে। বিদায়ের সময় ক্রীড়া সম্পাদককে বলেন, ‘তোমাদের ডাকসুর ওই ছোটোখাটো চাকমা ছেলেটাকে আমার কাছে পাঠাইও। দেখি তার সাহস কেমন।’ কথার সুরে হুমকি আর ক্ষোভ। ইঙ্গিতটা আমাকে করেছেন। ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি, শনিবারে বাস সার্ভিস চালু করেছি। যা আটকাতে তার শত প্রচেষ্টা ছিল। বিনীত অনুরোধ, ভুলে যাবেন না আপনি শিক্ষক। পাড়ার গুন্ডা মাস্তানের মতো কথা আপনার মুখে মানায় না। বয়স হয়েছে অনেক, নিজের ওয়েট বুঝুন। হাঁটুর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে লাগতে যান কেন। দ্বিতীয়ত, মানুষ হিসেবে রেসিজম জিনিসটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। অনুরোধ রইল।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৬, ২০২৬
শিক্ষা ভবন। ছবি : সংগৃহীত
৪৭১ শিক্ষক এমপিও বাতিলের ঝুঁকিতে

সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) পৃথকভাবে এসব নোটিশ জারি করে মাউশি।   নোটিশে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের এমপিও (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) স্থগিত বা বাতিল করা হবে না এবং কেন নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত জবাব মাউশিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করে। পরে ডিআইএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনার আলোকে এখন শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে অধিদপ্তরটি।   সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত ৪৭১ শিক্ষকদের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবার একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ আগে থেকেই শূন্য ছিল।   বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।   নিয়োগপ্রাপ্ত ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নিয়োগ পেয়েছেন।   বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক (গ্রেড-১) ড. একরামুল হক এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল নিয়োগ পেয়েছেন।   জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী নিয়োগ পেয়েছেন।   পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের (এসএআরডি) অধ্যাপক (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং ট্রেজারার ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী নিয়োগ পেয়েছেন।  

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে আজ তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়। থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর দিকগুলো সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভের পর বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং অন্যান্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনেকগুলো ভালো ফলাফল করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক সংকট এবং দক্ষ নেতৃত্বের অভাব অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে থাইল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দুই দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা প্রশাসন পর্যবেক্ষণ এবং নেতৃত্বভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাক্ষাৎকালে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন,বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের যে আন্তরিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শেখার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় নেতৃত্ব উন্নয়নে আপনারা যে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটি খুবই ভালো উদ্যোগ। থাইল্যান্ড বিশ্বাস করে, শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের জন্যই উপকারী হতে পারে। আমরা বাংলাদেশকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং থাইল্যান্ডের দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল শিক্ষা। সেজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আজ (বুধবার) রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ‘অন গ্রিড ওপেক্স মডেল সোলার সিস্টেম প্রজেক্ট’-এর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার প্রাধান্যের তালিকায় প্রথম বিষয় শিক্ষা, দ্বিতীয় বিষয় শিক্ষা এবং তৃতীয় বিষয়ও শিক্ষা। তিনি আরও বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তিই শিক্ষা। এছাড়া কোনো জাতি কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও তারা উন্নত হতে পারেনি। আবার কিছু দেশ সীমিত সম্পদ নিয়েও শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তিকে সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।  তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। ‘ভ্যালুস ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। পরিবার থেকেই একজন মানুষের প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয়’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সময়টিই শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।  তিনি বলেন, ‘একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ তার সন্তানের শিক্ষা। তাই শিক্ষার্থীদের পরিবার ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে। রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের জন্য যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। প্রতিদানে শিক্ষার্থীদেরও দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জির সিইও মাসুদুর রহিম।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিজ মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে পারবে না শিক্ষার্থীরা

 চলতি বছরের আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।  নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রস্থিত মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা নিজ মাদ্রাসার কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।  সোমবার মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের এক আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে সকল উপজেলায় একটি মাত্র আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, সে সব ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন দুটি বিকল্প উপায়ে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। এতে বলা হয়, কেন্দ্রস্থিত মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী উপজেলার কোনো মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা যেতে পারে। অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা ছাড়া) কেন্দ্র প্রতিস্থাপন করে সকল পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আলিম পরীক্ষার জন্য কোনো উপকেন্দ্র বা ভেন্যু কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা যাবে না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা হবে, যাতে অভিভাবকরা আগ্রহ নিয়ে তাদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন। বান্দরবানের রেইচা পিটিআই ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে প্রাথমিক শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ সোমবার এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। পিটিআইগুলোকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষক ‘আর্লি লার্নিং স্পেশালিস্ট’ হিসেবে গড়ে ওঠেন।  তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেন একজন দক্ষ আর্লি লার্নিং এক্সপার্ট হিসেবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার শিশুদের কিন্ডারগার্টেন বা মাদ্রাসায় পাঠাতে শুরু করেছে। তবে সরকার এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ববি হাজ্জাজ বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সেখানে প্রয়োজনীয় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। তবে সারাদেশে যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি শুধু পার্বত্য তিন জেলায় নয়, সারাদেশেই একটি সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে এটিও ও টিওদের কার্যক্রম মূল্যায়নে কেপিআই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর আইপিএসএমএস ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে কোন শিক্ষক কখন শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন, কতক্ষণ পাঠদান করলেন এবং কখন বের হলেন-এসব তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে ভবিষ্যতে প্রক্সি শিক্ষক বা প্রক্সি প্রধান শিক্ষকের কোনো সুযোগ থাকবে না। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি এবং পিটিআই বান্দরবানের সুপারিনটেনডেন্ট মো. ফজলুল হক ভুঞাসহ প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পদোন্নতি ইস্যুতে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাটডাউন ঘোষণা ও উপাচার্য অবাঞ্ছিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আগামীকাল সোমবার (১১ মে) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন।   রবিবার (১০ মে) বিকালে ‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’–এর ব্যানারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসাইন, সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন। প্রক্টর রাহাত হোসাইন পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বিকালে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে তালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তার সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, ‘প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ শিক্ষক, যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, সেখান থেকে সবাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সবকিছুতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।’ শিক্ষকদের এই কর্মসূচির পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত আবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি–সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চালাবেন বলে সমঝোতা হয়েছিল। সেই বৈঠকে পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন। শিক্ষকরা আরও জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৯ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা রবিবার সভা করে শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়। এ সম্পর্কে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচ জন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’ দুই শিক্ষকের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পদত্যাগের কোনও চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি নেবেন, তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।’ পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিতে পরামর্শ দেয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও বরিশালসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নিয়োগ সংবিধি সিন্ডিকেট পাস করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপাচার্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ শাটডাউন

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।  বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।   তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রবিবার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।  তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। সার্বিক বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মারিয়া রহমান মে ১০, ২০২৬
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির। ছবি : সংগৃহীত
ইডেন কলেজে পরিকল্পিত মব সৃষ্টি করে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের চেষ্টা : নাছির

ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রদলের নেত্রীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।   তিনি দাবি করেন, ছাত্রীসংস্থার ‘গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে’ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।   শনিবার (৯ মে) রাত সোয়া ১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।   পোস্টে নাছির বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। কিন্তু একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে ছাত্ররাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।   তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে আমরা দেখেছি, গুপ্ত সংগঠন শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য মব সৃষ্টি করেছিল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে পরবর্তীতে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে।   তিতুমীর কলেজের একটি ঘটনার উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, কয়েকদিন আগে তিতুমীর কলেজে রাতের বেলা গেট ভেঙে মব সৃষ্টি করা হয় এবং ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তা করা হয়।   তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তি পরে কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত হন।   ইডেন কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাছির উদ্দীন বলেন, আজ একইভাবে ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে ইডেন কলেজে মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলের নেত্রীদের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব ‘মব সন্ত্রাস’ ও ছাত্রদলের নেত্রীদের হয়রানি বন্ধ না হলে ছাত্রদল কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।   কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ‘কূটচাল বা ধোঁকাবাজির’ কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বানও জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের প্রধান গেটের তালা ভেঙে বের হয়ে এসে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।   একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের কয়েকটি গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন এবং গেটে টানানো বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের দাবি জানান। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যার পর ইডেন কলেজের গেটে লেখা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ কথাটি রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এর জেরেই একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা, প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেফতার ২

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিজ মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।   শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতাররা হলেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।   সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল।   অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন। পরে কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের ভুল সংশোধন করে পুনরায় তা জমা দেওয়া হয়।   ঘটনার খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ এবং উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান সরেজমিনে তদন্ত করেন।   শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, শুক্রবার রাতেই ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং শনিবার সকালে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬