গ্ল্যামারাস লুক ও সাম্প্রতিক নানা আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে হঠাৎ করেই এক ভিন্ন আবহে ধরা দিলেন ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা তাঁর একের পর এক পোস্ট ও ছবিতে এখন প্রকাশ পাচ্ছে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং আত্মিক প্রশান্তির মুহূর্ত। পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়ানো একটি ছবি পোস্ট করে ভাবনা তাঁর প্রথম দর্শনের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, সেখানে প্রথমবার কাবা দেখার মুহূর্তে তাঁর চারপাশের সব শব্দই যেন হারিয়ে গিয়েছিল; এক গভীর প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি তাঁকে আচ্ছন্ন করেছিল। মসজিদুল হারাম থেকে জুমা দিবসে দেওয়া আরেকটি পোস্টে এই অভিনেত্রী বলেন, পবিত্র কাবার নূর ও এই বিশেষ দিনের বরকত মানুষের জীবনে অনাবিল শান্তি ও প্রশান্তি এনে দেয়। ওমরাহ পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন—তাওয়াফের প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁকে মহান আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হলো এই আধ্যাত্মিক সংযোগ। পরিবারের সঙ্গে মক্কায় অবস্থানের দিনগুলোতে ভাবনা জানান, সিজদার প্রশান্তি পৃথিবীর অন্য যেকোনো অনুভূতির চেয়ে আলাদা এবং এই পবিত্র স্থানে আসতে পারা তাঁর জন্য এক বিশাল সৌভাগ্য। ধৈর্য, অপেক্ষা ও দোয়ার প্রতিটি মুহূর্ত যে একদিন অর্থবহ হয়ে উঠবে, সেই বিশ্বাসের কথাও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। মক্কা শেষে মদিনায় পৌঁছে তিনি নবীজির (সা.) শহরের শান্ত পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক আবহের প্রশংসা করেন। অভিনেত্রীর এই পরিবর্তনশীল ও মননশীল উপস্থিতিকে ঘিরে তাঁর ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীরাও তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া জানাচ্ছেন। আধ্যাত্মিকতার এই আবহের আগেই বড়পর্দায় নতুন করে বেশ সক্রিয় দেখা গিয়েছিল ভাবনাকে। পরিচালক ওয়ালিদ আহমেদের নতুন চলচ্চিত্র ‘ঢাকা ১২০৫’-এ নবাগত অভিনেতা রাকিব হোসেনের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ঢাকার নগরজীবনের বাস্তবতা ও আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটির কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলচ্চিত্রটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ভাবনা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুটিং এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, একটি গান ও কিছু ডাবিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। গ্ল্যামারের দুনিয়ার জাঁকজমক থেকে একদম ভিন্ন রূপে ওমরাহ পালনে যাওয়া ভাবনার এই রূপ এখন বিনোদনপাড়ায় নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে বিনোদন দুনিয়ায় অনেকেই আধ্যাত্মিকতায় ডুবে একদম আড়ালে চলে গেছেন, চিরতরে ছেড়ে দিয়েছেন গ্ল্যামারের জগত কিংবা অভিনয়ের চেনা আঙিনা—এমন উদাহরণ দেশ-বিদেশে রয়েছে অনেক। ভাবনাও কি শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটবেন? ওমরাহ শেষ করে এই আধ্যাত্মিক আবেশ সঙ্গে নিয়ে তিনি কি ফের লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতে ফিরবেন, নাকি তাঁর ক্যারিয়ারের গল্পে আসতে চলেছে একদম নতুন কোনো মোড়—এমন নানা প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর ভক্ত-অনুরাগীদের মনে।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর জন্য ২৭ জুন শুধু নিজের জন্মদিন নয়, এটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও আনন্দের দিনও। কারণ, এই একই দিনে জন্মদিন তার একমাত্র ছেলে জায়ান ফারুক আয়াশেরও। তাই প্রতি বছর ২৭ জুন এলে একসঙ্গে বাবা-ছেলের জন্মদিন উদযাপনের আনন্দে ভরে ওঠে অপূর্বর পরিবার। ১৯৮৫ সালের ২৭ জুন শরীয়তপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন অপূর্ব। আজ তিনি ৪১ বছর পূর্ণ করে ৪২ বছরে পা রাখলেন। অন্যদিকে, একই তারিখে জন্ম নেওয়া ছেলে জায়ানও উদযাপন করছে নিজের জন্মদিন। বিশেষ এই উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-ছেলেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। একই দিনে বাবা-ছেলের জন্মদিন হওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় আশীর্বাদ মনে করেন অপূর্ব। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'বাবা-ছেলের একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় আমি অনেক বেশি খুশি।' ছেলের প্রতি অপূর্বর ভালোবাসার প্রকাশও বারবার দেখা গেছে। এক বাবা দিবসে জায়ানকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছিলেন, 'আমি তোমাকে যখনই দেখি তখনই চিন্তা করি, তুমি কীভাবে হুবহু আমার মতো দেখতে হলে? আল্লাহ আমাকে কী স্বর্গীয় উপহার দিয়েছেন!' সেই আবেগঘন কথাগুলো আজকের দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। অপূর্বর ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতন থাকলেও ছেলে জায়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময়ই ছিল গভীর। ২০১১ সালে নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসার ভেঙে গেলেও তাদের একমাত্র সন্তান জায়ান ফারুক আয়াশ বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের একটি অংশ হয়ে আছে। পরে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানকে বিয়ে করেন অপূর্ব। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান আনায়া। বর্তমানে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে নতুন সংসারে সুখের সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেতা। অভিনয়জীবনের শুরুটা হয়েছিল ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুকস’ প্রতিযোগিতায় ‘মি. বাংলাদেশ’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে। এরপর বিজ্ঞাপন, নাটক ও টেলিফিল্মে নিজের অভিনয়গুণে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০৬ সালে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘বৈবাহিক’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে ২০১৭ সালে মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘বড় ছেলে’ নাটকে অসাধারণ অভিনয় তাকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন অপূর্ব। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত থ্রিলারধর্মী ওয়েবফিল্ম ‘হেডলাইন’, যেখানে রহস্যঘেরা এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে অপূর্বর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হয়তো আর কিছুই নয়—নিজের জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য পাশে রয়েছে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, ছেলে জায়ান। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ২৭ জুন অপূর্বর কাছে শুধুই জন্মদিন নয়, বাবা-ছেলের ভালোবাসার এক অনন্য উদযাপনের দিন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া নতুন ওয়েব সিরিজ 'হেডলাইন' নিয়ে বেশ আশাবাদী অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। তার বিশ্বাস, মেধাবী নির্মাতা, শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী এবং হইচইয়ের মতো বড় প্ল্যাটফর্ম, সব মিলিয়ে সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সারিকা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই। তাই অনলাইনের আলোচনা-সমালোচনা সরাসরি অনুসরণ করতে পারেন না। তবে ট্রেলার প্রকাশের পর অনেকেই তাঁকে ফোন করে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার ভাষায়, 'আমি তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেই অনেক বছর। তবে কয়েকজন ট্রেলার দেখার পর ফোন করে বলেছেন, ভালো হয়েছে। আমার সহকর্মীরাও বলেছেন, দর্শক সিরিজটি পছন্দ করবে। তা ছাড়া ওয়েব সিরিজটিতে আরও যারা অভিনয় করেছেন, সবারই আলাদা ফ্যান-ফলোয়ার আছে। নির্মাতা সালেহ সোবহান অনীমও মেধাবী। অন্যদিকে হইচই বাংলা কনটেন্টের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। সব মিলিয়ে সিরিজটি হৈচৈ ফেলবে।' অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সারিকা। তার মতে, তিনি কাজ করতে আগ্রহী হলেও ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রস্তাব খুব কম আসে। তিনি বলেন, 'আমি তো কাজ করতে চাই। তবে ভালো কাজ আমার কাছে আসে কম। একটা ভালো গল্প, দারুণ একটা চরিত্র আর গুণী নির্মাতা নিয়ে আসেন, আমি কাজটি করব। কখনোই ফিরিয়ে দেব না।' নাটকে অনিয়মিত হওয়ার কারণ হিসেবে একই ধরনের গল্প ও চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তির কথা উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। প্রায় দেড় যুগের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় এখন তিনি বেছে বেছে কাজ করতে চান বলেও জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও সন্তুষ্ট সারিকা। তার মতে, এতে তিনি নিজের মতো করে নিরিবিলি জীবন কাটাতে পারছেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক কিছু দিক মিস করেন, তবুও সেটিকে বড় কোনো আফসোস হিসেবে দেখেন না। 'হেডলাইন'-এ সারিকা অভিনয় করেছেন 'দোলন' চরিত্রে। তিনি একজন সাংবাদিকের স্ত্রী, যিনি একসময় অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি রহস্যের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। চরিত্রটির বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও এটুকু ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। এদিকে পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ওয়েব সিরিজ 'অ্যানি' নিয়েও আশাবাদী সারিকা। সিরিজটি ইতোমধ্যে জার্মানির কোলনে বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়েছে। তবে কবে এটি মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য নেই। সবশেষে নতুন কাজ প্রসঙ্গে সারিকা জানান, কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে তিনি নিজেই দর্শকদের জানাবেন।
কন্নড় সিনেমার জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী এবং ‘বিগ বস কন্নড়’র সাবেক প্রতিযোগী কৃষি থাপান্ডার ব্যাঙ্গালোরের ফ্ল্যাট থেকে এক ব্যবসায়ী যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতায়ও ভুগছিলেন। খবর-এনডিটিভির। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। ঘটনার সময় অভিনেত্রী ইয়েলাহাঙ্কায় ছিলেন। মৃতের নাম বৈশাখ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি অভিনেত্রীর ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা চিরকুট পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, ব্যবসায়ী বৈশাখ বিষণ্নতার জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, মাঝে মধ্যে কলহ হওয়ার কারণে প্রায় এক মাস ধরে স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকছিলেন তিনি। এর আগে ব্যবসায়ী ও আইনজীবী অরবিন্দ রেড্ডির সঙ্গে জড়িত একটি হাই-প্রোফাইল চাঁদাবাজি এবং হুমকিমূলক চিঠির মামলায় পুলিশের নজরদারিতেও ছিলেন বৈশাখ। গত ফেব্রুয়ারিতে কুরিয়ারের মাধ্যমে রেড্ডিকে ৬-৭ কোটি টাকা অর্থ দাবি করে এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান করে একটি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের সময় এইচএএল থানার পুলিশ বৈশাখকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি ছিল―এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিরোধের কারণে ওই চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মুক্তি পেয়েছিলেন এ ব্যবসায়ী। গত ৬ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটক হাইকোর্ট বৈশাখের বিরুদ্ধে চলমান পরবর্তী তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এর আগে এইচএএল থানার পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে পাঁচদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানা গেছে। রাজারাজেশ্বরী নগর থানার পুলিশ একটি মামলা দায়ের করবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশ বরেণ্য বাউল শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থসহ সকল দায়িত্ব নিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর কল্যাণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুফিয়া একাডেমির ভবনে কাঙালিনী সুফিয়ার হাতে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের চিফ কোঅর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর মো. আমির হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। বাউল শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসা অর্থের অভাবে আটকে আছে এমন একটা সংবাদ নজরে এলে এ সহায়তা করে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। সহায়তা গ্রহণের পর কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। চিকিৎসার অভাবে কোথাও যেতে পারছি না। আমার ডান হাতও ভেঙে আছে। এ অবস্থায় আমার চিকিৎসার জন্য টাকা দেয়ায় আমি আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজবাড়ীর নিজ বাড়ির বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে যান কাঙালিনী সুফিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ ছিল সুফিয়ার।
তামিল সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজনীতির শীর্ষে ওঠা বিজয় আবার আলোচনায়। তবে এবার কোনো সিনেমা, রাজনৈতিক ভাষণ বা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নয়। নতুন সরকারি বাস উদ্বোধনের পর সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে উঠে চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ৩০০টি নতুন সরকারি বাস উদ্বোধন করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি নিজেই নতুন বাসগুলোর একটিতে চড়ে বসেন। সঙ্গে ছিলেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাও। কিন্তু সবার নজর কেড়ে নেয় বিজয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও সানগ্লাস পরা বিজয় বাসের ভেতরে বসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তুলছেন। আশপাশের মানুষের মুখে তখন হাসি। অন্য একটি মুহূর্তে বাসচালকের কাঁধে স্নেহভরে হাত রেখে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তামিল চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন বিজয়। ‘ঘিলি’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘ভারিসু’, ‘লিও’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে চলতি বছরের ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম। দুই বছরের মধ্যেই নির্বাচনে জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন বাসে চড়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার ঘটনাও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে আরও দেখা যায়, বাসটি চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিজয়। অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন ৩০০ বাস যুক্ত করার মাধ্যমে রাজ্যের গণপরিবহনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। বিশেষ করে শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দিন শেষে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছে বাস প্রকল্প নয়, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আচরণ নিয়ে। একজন কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তোলা, চালকের কাঁধে বন্ধুত্বপূর্ণ হাত রাখা কিংবা চলন্ত বাসে বসে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে গল্প করার দৃশ্য অনেকের কাছে মনে করিয়ে দিয়েছে তাঁর তারকাখ্যাতির দিনগুলোর জনপ্রিয় ইমেজকে।
দেশীয় শোবিজ মিডিয়ায় নারী ডিটেকটিভ চরিত্র নিয়ে বৃহৎ আকারের কোনো কাজ হয়নি। ইদানিং তো ছোটখাটো নারী ডিটেকটিভ চরিত্রও দেখা যায় না নাটক বা সিনেমায়। তবে এবার পুরোমাত্রায় ডিটেকটিভ গল্প এবং যে গল্পের প্রধান চরিত্র একজন নারী ডিটেকটিভ, এমন একটি ডিটেকটিভ সিরিয়াল নির্মাণ শুরু হয়েছে। সিরিয়ালটির নাম 'নীহারিকা সেন'। এটি নির্মাণ করছে তীর প্রডাকশন হাউজ। এই প্রোডাকশন হাউজের ব্যানারে 'নীহারিকা সেন' ডিটেকটিভ সিরিয়ালের নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন দেশীয় শোবিজের গ্ল্যামারাস মডেল ও অভিনেত্রী সিফাত নুসরাত। জানা গেছে, এই রহস্য গল্প নির্ভর সিরিয়ালে অভিনয় করছেন অনেক গুণী শিল্পী। তাদের নাম ও লুক পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসবে। তবে ইতোমধ্যে নীহারিকা সেন চরিত্রের ফার্স্ট লুকটি প্রকাশ্যে এনেছে প্রডাকশন হাউজ। এটি প্রকাশ পাওয়ার পরই দ্রুত আলোচনায় চলে এসেছেন পর্দার নীহারিকা সেন অর্থাৎ বাস্তবের সিফাত নুসরাত। তিনি জানান, এই সিরিয়ালটির নির্মাণ কাজ সম্প্রতি শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে প্রথম পর্বের শুটিং কমপ্লিট করা হয়েছে। আরও কয়েক পর্ব নির্মাণ শেষে এটি তীর প্রোডাকশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে। পর্দায় নীহারিকা সেন চরিত্র নিয়ে সিফাত নুসরাত বলেন, 'ডিটেকটিভ নীহারিকা সেন একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। এই চরিত্র দিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। এই সিরিয়াল নীহারিকা সেনকে নিয়ে নানান রহস্য গল্পের বিস্তৃতি ঘটতে থাকবে।' সিফাত নুসরাত জানান, সিরিয়ালটির বাকি কলাকুশলীদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ডিরেক্টর হিসেবে প্রথম এপিসোডে কাজ করেছেন নাজিরী সাগর। আর এটির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি এটি রচনা করেছেন সিফাত নুসরাত নিজেই। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ফাহাদ। বলা যায়, নিজের সৃষ্ট চরিত্র নীহারিকা সেন নিয়ে দর্শক - ভক্তদের সামনে আসবেন লাস্যময়ী মডেল ও অভিনেত্রী সিফাত নুসরাত। 'নীহারিকা সেন' এর নির্মাতা নাজিরী সাগর বলেন, 'বাংলাদেশে নারী ডিটেকটিভ চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিফাত নুসরাতের উপস্থিতি যেনো নতুনত্ব এনে দিয়েছে। তিনি শুধু সৌন্দর্য দিয়ে নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে এবার হয়তো অন্যরকমের একটা চরিত্রকে খুব দারুণভাবেই প্রাণবন্ত করে তুলবেন। সিফাত নুসরাত আসলে এমন একজন শিল্পী যিনি মেধা আর উপস্থিতি দুটোকেই সমান শক্তিতে পর্দায় তুলে ধরতে জানেন।
বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটির প্রচারণা নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সম্প্রতি সিনেমার একটি গানের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সহশিল্পীদের সঙ্গে হাজির হয়ে ভোজপুরি সংস্কৃতি নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান এই অভিনেতা। নতুন সিনেমাতে একটি ভোজপুরি গান ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, ভবিষ্যতে তিনি ভোজপুরি চলচ্চিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন কি না? জবাবে মজার ছলে অক্ষয় বলেন, 'হলিউডের চেয়েও ভোজপুরি ভালো। কারণ ওরা এই গান শুনলেও কিছুই বুঝবে না। এমন ধরনের গান তারা আগে কখনও দেখেনি।' তবে শুধু রসিকতাই নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন ‘খিলাড়ি’খ্যাত এই তারকা। অক্ষয়ের ভাষ্য, 'আমাদের দেশে অসংখ্য সংস্কৃতির সমন্বয় রয়েছে। আমাদের গানেও সেই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যায়। এই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত।' অনুষ্ঠানে সিনেমাটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। হাস্যরসের ভঙ্গিতে অক্ষয় মন্তব্য করেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’ মাত্র তিনজন প্রধান অভিনেতাকে নিয়ে ব্লকবাস্টার হয়েছিল। আর ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এ ৩০ জনেরও বেশি শিল্পী রয়েছেন, তাই আশা করছি দর্শকদের বিনোদনের মাত্রাও হবে অনেক বেশি। আহমেদ খান পরিচালিত ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ জনপ্রিয় ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি। সিনেমাতে অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সুনীল শেঠি, দিশা পাটানি, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, আরশাদ ওয়ার্সি, জ্যাকি শ্রফ, পরেশ রাওয়াল, রাভিনা ট্যান্ডন, লারা দত্ত, জনি লিভার, ফরিদা জালাল, শ্রেয়াস তালপাড়ে, তুষার কাপুর, রাজপাল যাদবসহ আরও অনেক তারকা।
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রযোজক মির্জা আবুল বাশারকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। ওই ব্যক্তিকে তার স্বামী প্রমাণ করতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণাও করেছেন এই অভিনেত্রী। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ববি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ববি বলেন, কথিত স্বামী বলা হচ্ছে, এটা একদম মিথ্যা। শুরুতে এসব আমার গায়ে লাগেনি। কিন্তু আমার পরিবার আছে, তারা দেশের বাইরে থাকে। এসব দেখে তারা খুব কষ্ট পাচ্ছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক প্রতিবেদনের বিষয়ে এ চিত্রনায়িকা আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু কিছু মানুষ এর নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছে, এতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হচ্ছে। নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো গুজবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ববি বলেন, সে আমার স্বামী এটা কেউ প্রমাণ করতে পারলে যা চাইবে আমি তাই দেব। তিনি জানান, ওই কোম্পানির সঙ্গে তার কাজের সম্পর্ক ছিল, এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। অফিসে গেলে শিল্পী হিসেবে সম্মান জানানো হতো, সেই ছবিগুলো ব্যবহার করেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গুজবের কারণে তার পরিবার, বিশেষ করে মা, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বন্ধু বা বয়ফ্রেন্ড না বলে স্বামী কেন বলা হচ্ছে, এটা আমারও প্রশ্ন। ববি অভিযোগ করেন, সিনেমার বাইরের আলোচনায় তাকে টানতেই পরিকল্পিতভাবে এসব খবর ছড়ানো হচ্ছে। ওই ব্যক্তি তার একটি সিনেমার আংশিক প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি। এদিকে একই আলাপে ববি জানান, তিনি আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এক দশক আগে ব্যস্ত সময়েও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও শিল্পীদের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। সেই উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশের বিনোদন জগতেও। প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর নিজের ফেসবুক পেজে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা দুটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘মেসির প্রতি ভালোবাসা আমাকে আর্জেন্টিনার সমর্থক বানিয়েছে, আর আর্জেন্টিনাই আমাকে চিরদিনের জন্য ভালোবাসায় আটকে রেখেছে।’ লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা পুরো দলের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই পোস্টে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিক্রিয়া জানান, হাজারো মন্তব্য আসে এবং শত শতবার পোস্টটি শেয়ার করা হয়। পূর্ণিমার স্বামী আশফাকুর রহমানও আর্জেন্টিনার সমর্থক। জানা গেছে, সোমবার রাতে তিনি স্বামী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকার শাহীনবাগের একটি রেস্তোরাঁয় বসে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ উপভোগ করেন। এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার খেলা দেখে আসছেন। তবে দলের প্রতি তার আবেগ আরও গভীর হয়েছে মেসির কারণে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা ও অসাধারণ নৈপুণ্য তাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও মেসির দুই গোল তাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্ণিমার মতে, শুরুতে মেসির প্রতি মুগ্ধতা থেকেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে দলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিও তার ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। পোস্ট করা ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখছেন পূর্ণিমা। অন্য ছবিতে ফুল ও কেক নিয়ে দলের জয় উদ্যাপন করতে দেখা যায় তাকে। সোমবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে দুটি গোলই করেন লিওনেল মেসি, যা সমর্থকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর জীবনে যে ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা তার কল্পনারও বাইরে ছিল। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই অভিনেত্রী মাতৃত্বের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। বিশেষ করে যমজ সন্তানের মা হওয়ার কারণে শুরুতে তাকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। শিমুর ভাষ্য, সন্তান জন্মের আগেই তার মধ্যে নানা ধরনের ভয় ও দুশ্চিন্তা কাজ করত। অন্য অনেকের মতো আগে থেকে সন্তানের নামও ঠিক করেননি তিনি। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই নাম রাখার কথা ভেবেছিলেন। অভিনেত্রী জানান, সন্তান জন্মের পর তার জীবনধারা পুরোপুরি বদলে যায়। মাতৃত্বের দায়িত্ব, বিশেষ করে যমজ সন্তানের দেখভাল, তাকে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করে। তিনি বলেন, নবজাতক সন্তানদের প্রথম কয়েক মাস খুবই কঠিন সময় ছিল। একজন সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর পর অন্যজনের দেখভাল করতে হতো। আবার দ্বিতীয়জনকে সামলাতে গিয়ে প্রথমজন জেগে উঠত। এভাবেই দিন-রাত কেটে যেত। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হলেও বর্তমানে তিনি পর্দার বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শিমুর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে অনেক নতুন ও সম্ভাব্য মায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তার মতে, মা হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক দায়িত্ব, ত্যাগ এবং মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ও।
বলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিক্যুয়েলের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনপ্রিয় সিনেমার সিক্যুয়েলের কাজ শুরু হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত সিনেপ্রেমীরা। ২০০৯ সালে চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত রাজকুমার হিরানির সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি জানান, সিক্যুয়েলের গল্পে চরিত্রদের বয়স বাস্তব জীবনের মতোই এগিয়ে যাবে। কলেজজীবনের সেই তরুণ ছাত্ররা এখন আর তরুণ নেই, তারা জীবনের এক অন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। পরিচালক বলেন, ‘আমরা “থ্রি ইডিয়টস”–এর সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছি। এবার গল্পে র্যাঞ্চো-ফারহান-রাজুকে এক চরম মাঝবয়সের সংকট বা “মিড-লাইফ ক্রাইসিস”–এর মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যাবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন, পরিবার ও ক্যারিয়ারের যে নতুন চাপ তৈরি হয়, সেটাই হবে এই গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু।’ বলিউডে আজকাল যেকোনো সফল ছবির সিক্যুয়েল বানিয়ে ব্যবসার ট্রেন্ড চললেও রাজকুমার হিরানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি মানের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। ছবির চিত্রনাট্য যতক্ষণ না প্রথম ভাগের মতোই নিখুঁত ও শক্তিশালী হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি শুটিং ফ্লোরে নামবেন না। হিরানির কথায়, ‘এ সিনেমা মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই কেবল ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ব্যবহার করে সস্তা উপায়ে টাকা কামানোর জন্য দ্বিতীয় ভাগ আনতে চাই না। একটি যথাযথ ও অর্থপূর্ণ চিত্রনাট্য তৈরি হলেই আবার ক্যামেরা চালু করব।’ গত এপ্রিলে সিক্যুয়েলের সুখবরে সিলমোহর দিয়ে আমির খান জানান, প্রথম ভাগের গল্পের ঠিক ১০ বছর পর থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় ভাগ। অর্থাৎ কলেজজীবন পার করে চরিত্ররা যখন বাস্তব দুনিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক সেই সময়কার প্রেক্ষাপটেই বোনা হয়েছে নতুন গল্প। আমির বলেন, ‘রাজু (রাজকুমার হিরানি) এই মুহূর্তে “থ্রি ইডিয়টস ২”–এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। আমি ইতিমধ্যে গল্পটা শুনেছি এবং এটা এককথায় অসাধারণ! ছবিটির গল্পে এর চরিত্রদেরই অনুসরণ করা হবে, তবে গল্পটা এগিয়ে যাবে ঠিক ১০ বছর পর থেকে।’
বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সম্প্রতি জনপ্রিয় কৌতুকভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। অনুষ্ঠান চলাকালে সঞ্চালক সময় রায়নার একাধিক মন্তব্য ও রসিকতাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসন্ন স্পাই থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘আলফা’র প্রচারণার অংশ হিসেবে সহ-অভিনেত্রী শর্বরী ওয়াঘকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন আলিয়া। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সময় রায়না আলিয়ার অভিনয় জীবন, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার উপস্থিতি নিয়ে একাধিক রসিকতা করেন। এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, তাদের অনুষ্ঠানে আলিয়ার উপস্থিতি গর্বের বিষয় হলেও এটি অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোর একটি। পাশাপাশি কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তীতে আলিয়ার সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রসিকতা করা হলে অভিনেত্রী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে আলিয়া বলেন, “তোমার অনুষ্ঠানে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে।” এর জবাবে সময় রায়নাও মজার ছলে আলিয়ার অভিনীত ‘জিগরা’ সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের এই অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক দর্শক ও ভক্তের মতে, বিনোদনের নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বিব্রত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অন্য একটি অংশের মত, এটি অনুষ্ঠানটির প্রচলিত ‘রোস্ট’ সংস্কৃতির অংশ এবং পুরো বিষয়টিই ছিল হাস্যরসের পরিসরে। উল্লেখ্য, সময় রায়না অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্য ও উপস্থাপনার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। নতুন এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।
চীনে অনুষ্ঠিত ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা দুলছে’। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক নাম ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’। উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণের জন্য সেরা সিনেফটোগ্রাফারের পুরস্কার জিতেছেন সামিউল করিম সপ্তক। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি সাফল্যের পালক যুক্ত হলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ এবং প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক। ‘সাঁকোটা দুলছে’ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। একই সঙ্গে এটি প্রযোজক মনোজ প্রামাণিকেরও প্রথম ফিচার ফিল্ম। মনোজের প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং মোগাদর ফিল্মস যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। এছাড়া পরামর্শক প্রযোজক হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র সমালোচক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন ফজলে হাসান শিশির। গ্রামীণ বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তিন নারীর জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও নানা সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে এক অন্ধ তরুণীর স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম এবং একটি রহস্যময় হাতির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ চলচ্চিত্রটির বয়ানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সম্পূর্ণ সাদাকালো ফ্রেমে আবৃত এই সিনেমাটি নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও অস্তিত্বের লড়াইকে অত্যন্ত কাব্যিক ও প্রতীকী রূপকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম এবং নিশাত তাসনিম। আর সাংহাইয়ের মতো বৈশ্বিক ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এই অনন্য প্রাপ্তি দেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের পথকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও ওটিটির পর্দায় ফিরছেন। এর আগে নির্মাতা শিহাব শাহীনের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘গোলাম মামুন’-এ নাম ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। এবার নতুন পরিচয়ে দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছেন এ অভিনেতা। সালেহ সোবহান অনীম পরিচালিত থ্রিলারধর্মী ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’-এ একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। আট পর্বের এ সিরিজটি আগামী ২৫ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে মুক্তি পাবে। মুক্তির তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি প্রকাশিত ট্রেলার এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। সিরিজটিতে অপূর্ব অভিনয় করেছেন সাংবাদিক জহির চরিত্রে। ট্রেলারে দেখা যায়, সত্য অনুসন্ধানের পথে নানা বাধা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। পেশাগত লড়াইয়ের পাশাপাশি গল্পে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মানবিক সংকটের নানা দিকও। চরিত্রটি নিয়ে অপূর্ব বলেন, ‘জহির চরিত্রটার একটা দারুণ গ্রাফ আছে। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যাবে। কখনো সে খুবই আবেগপ্রবণ, আবার কখনো বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। একজন অভিনেতা হিসেবে এ ধরনের বহুস্তরীয় চরিত্র সবসময়ই আমাকে আকৃষ্ট করে।’ এদিকে ‘হেডলাইন’ সিরিজের মাধ্যমে প্রায় তিন বছর পর ওটিটিতে ফিরছেন অভিনেত্রী আফসান আরা বিন্দুও। শক্তিশালী গল্পনির্ভর এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। অপূর্ব ও বিন্দুর পাশাপাশি সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সারিকা সাবরিন, ফারহানা হামিদ, শ্যামল মাওলা, রাই রাজন্যা, অর্নিল বিরল, মনিরুল ইসলাম রুবেল, আমিনুর রহমান মুকুল, এ কে আজাদ সেতু, সাহানা রহমান সুমি, আরিফিন জিলানীসহ অনেকে।
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সিনেমা 'ককটেল ২' মুক্তির আগেই চর্চায় ছিল। শুক্রবার (১৯ জুন) সিনেমা দেখার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উপচে পড়ছে নেটিজেনদের একের পর এক পোস্ট। হোমি আদাজানিয়ার এ রোমান্টিক ড্রামা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। অভিনেতা শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা— এ ত্রয়ীর নতুন জুটিকে একদিকে যেমন ভালোবাসায় ভরিয়েছেন সবাই, ঠিক তেমনই উঠেছে সমালোচনার ঝড়ও। সামাজিক মাধ্যমের নেটিজেনদের একাংশ আবার সিনেমাটির অভিনয় ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর প্রশংসা করেছেন। সব মিলিয়ে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বলা চলে। এ ত্রয়ী অভিনয়ের মধ্যে অবশ্য কৃতি শ্যাননই তুলনায় দর্শকদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ এ সিনেমাটিকে কৃতির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ বলেও অভিহিত করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন— পর্দায় কৃতি শ্যাননের উপস্থিতি রাশমিকা মান্দানাকে পুরোপুরি ছাপিয়ে গেছে। আরেক নেটিজেন লিখেছেন,— কৃতি শ্যাননই আক্ষরিক অর্থে ‘ককটেল ২’ সিনেমার প্রাণ সঞ্চার করেছেন। এদিকে রাশমিকা মান্দানার অভিনয়ে ততোধিক খুশি নন সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা। কিছু দর্শকের মতে, সহ-অভিনেতার তুলনায় রাশমিকার অভিনয় অনেকটাই ম্লান। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন এ সিনেমায় তার ভূমিকা নিয়েও। অনেকের কাছেই যা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে শহীদ কাপুরের অভিনয়ে বহু দর্শক যেমন তার চরিত্রের সঙ্গে ও দুই নায়িকার অন-স্ক্রিন রসায়নের প্রশংসা করেছেন। ঠিক তেমনই আবার কোথাও কোথাও ‘অতিরঞ্জিত’ বলেও মনে হয়েছে অভিনেতাকে। সিনেমার বিজনেস অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ অবশ্য সিনেমাটিকে ভিন্ন স্বাদের বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ইতিবাচক পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যাশা পূরণ করেছে ‘ককটেল ২’ সিনেমা। একই সঙ্গে অভিনেতাদের অভিনয়ও এ সিনেমাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি সিনেমার গান ও চিত্রনাট্যেরও প্রশংসা করেছেন। এর আগে ২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলি খান, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টি অভিনীত ‘ককটেল’ মুক্তি পেয়েছিল। ১৪ বছর পর এর সিক্যুয়েল মুক্তি পেল ‘ককটেল ২’।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল ফারিন খান বর্তমানে নাটক ও ওয়েব কনটেন্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘রোদের জোছনা’ শিরোনামের নতুন একটি নাটকে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আবু হুরায়রা তানভীর। নাটকটিতে ফারিনকে দেখা যাবে ‘জোছনা’ চরিত্রে। নাটকটি প্রসঙ্গে ফারিন জানান, এটি একটি আবেগঘন গল্প। এক নবদম্পতির সুখের সংসার, হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা অনুভূতি ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে কাহিনি। ঈদের পর এই নাটকের মাধ্যমেই নতুন করে কাজ শুরু করছেন তিনি। তবে নাটকের ব্যস্ততার মাঝেও বড় পর্দার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সিনেমার চিত্রনাট্য তার হাতে এসেছে। যদিও এখনো কোনো সিনেমার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবুও ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে চলতি বছরই সিনেমায় দেখা যেতে পারে তাকে। ফারিন জানান, তার প্রথম সিনেমা ‘ধ্যাততেরিকি’ মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। তখন তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়স, পড়াশোনার চাপ এবং পারিবারিক অনিচ্ছার কারণে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অভিনয়ে বিরতি নিতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, ‘সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা কখনোই শেষ হয়ে যায়নি। তাই বিরতির পর ছোট পর্দায় কাজ করে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। এখন মনে হয়, যদি সিনেমায় ফিরি তাহলে সেটা যেন যথাযথভাবে হয়।’ অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও সরব রয়েছেন ফারিন। সম্প্রতি একটি নতুন বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন, যা শিগগিরই প্রচারে আসবে। সব মিলিয়ে নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব কনটেন্টে ব্যস্ত থাকলেও তার দৃষ্টি এখন বড় পর্দার দিকেও। ফলে শিগগিরই দর্শকরা তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখতে পাবেন বলে আভাস দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ওটিটি পর্দায় ফিরছেন। আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, 'ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি।'এ সময়ের মধ্যে ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার কাজও শেষ করেছিলেন, যা সময়মতো মুক্তি পেলে বিরতির বিষয়টি এতটা আলোচনায় আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, 'নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কি পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।' ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, 'দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।' এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচুনিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। এদিকে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার ও একটি গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, 'একটি সিনেমা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।' সব মিলিয়ে ‘মালিক’-এর সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী। ‘মালিক ২’-এর ঘোষণা এলেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মিম। তবে ভবিষ্যৎ কাজ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দুটি কাজ শেষ করেছেন এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক।
বাঙালির খাবারের পাত থেকে শাক যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। ভাতের সঙ্গে এক মুঠো শাক শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বয়ে আনে নানা উপকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন শাক এখনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক কিংবা পালংশাক—প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। কারও মধ্যে রয়েছে রক্ত বাড়ানোর উপাদান, কেউ আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক কোন শাকে কী উপকার। পুঁই শাক: হজমে সহায়ক পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন রয়েছে। শাকভাজা, চচ্চড়ি বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। হেলেঞ্চা শাক: শরীর পরিষ্কারে উপকারী হেলেঞ্চা শাক রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং যকৃতের সুস্থতায় সহায়ক বলে পরিচিত। এটি বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। ভাজি বা বড়া করে খাওয়া যায় এই শাক। সরিষা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক সরিষা শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সালফার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং যকৃত ভালো রাখতে সহায়তা করে। কচু শাক: রক্ত ও চোখের জন্য ভালো কচুশাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও ক্যালশিয়াম। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে উপকারী। নারকেল, ছোলা বা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা যায় এই শাক। কলমি শাক: সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমে সাহায্য করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। লাল শাক: আয়রনের ভাণ্ডার লাল শাকে প্রচুর আয়রন, ফলেট, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি উপকারী। ভাজি বা ডালের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। মেথি শাক: ডায়াবেটিসে উপকারী মেথি শাকে রয়েছে আঁশ, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো। পালং শাক: শরীরের শক্তি বাড়ায় পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফলেট, ভিটামিন এ ও সি। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। ঢেঁকি শাক: হৃদযন্ত্র ও চোখের যত্নে ঢেঁকি শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। মুলা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক মুলা শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কুমড়ো শাক: ত্বক ও চোখের জন্য ভালো কুমড়ো শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে এবং ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে। লাউ শাক: হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক লাউ শাকে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এটি হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে। পাট শাক: হজমে সাহায্য করে পাট শাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন সি ও আয়রন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শাক শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমাণ বুঝে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাক রাখলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত নায়িকা সাহারা এখন বিনোদন জগতের আলোচনার বাইরে। বহু বছর ধরে তাকে আর কোনো চলচ্চিত্র, শুটিং বা মিডিয়া অঙ্গনে দেখা যায় না। ফলে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী এখন প্রায় পুরোপুরি আড়ালে। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় পরিচালক শাহাদাত হোসেন লিটনের ‘রুখে দাঁড়াও’ সিনেমার মাধ্যমে। অভিষেক ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও সাহারার উপস্থিতি ও সাহসী উপস্থাপন তাকে আলোচনায় আনে। এরপর ‘ভাড়াটে খুনি’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে আলেকজান্ডার বো-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অর্ডার’, ‘লাকি সেভেন’ ও ‘ড্যাম কেয়ার’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান সাহারা। বিশেষ করে ‘অর্ডার’ ছবির একটি গানে তার উপস্থিতি তাকে ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর রুবেল ও রিয়াজের মতো তারকাদের সঙ্গে বড় বাজেটের সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আসে। প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনির সঙ্গে প্রেম ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিয়ের পর তিনি ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। বিয়ের পর চলচ্চিত্র জগৎকে বিদায় জানিয়ে পুরোপুরি সংসার জীবনে মনোযোগী হন সাহারা। এরপর থেকে আর কোনো সিনেমা, মিডিয়া ইভেন্ট বা তারকাদের আড্ডায় তাকে দেখা যায়নি। ফলে ঢালিউডের এক সময়ের আলোচিত এই নায়িকা এখন দর্শকদের কাছে কেবলই এক সোনালী স্মৃতি, যিনি হঠাৎ করেই রূপালী পর্দা থেকে হারিয়ে গেছেন।
ভৌতিক ঘরানার বড় বাজেটের সিনেমা ‘আন্ধার’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। পরিচালক রায়হান রাফীর এই ছবিটি ঘিরে শুরু থেকেই রয়েছে ব্যাপক আলোচনা, কারণ এতে যুক্ত হয়েছেন একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা এবং অভিজ্ঞ নির্মাতা ও লেখকরা। গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং জানানো হয়েছিল ২০২৬ সালেই এটি মুক্তি পাবে। শুটিং শেষ হওয়ার পর বর্তমানে ছবির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে ভারতের মুম্বাইয়ে। চিত্রনাট্যকার ও সহ-প্রযোজক শাকিব চৌধুরী জানিয়েছেন, সেখানে একটি নামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছেন পরিচালক রায়হান রাফী এবং আরেক চিত্রনাট্যকার আদনান আদিব খান। পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ হলে তারা দেশে ফিরবেন এবং তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে। প্রযোজনা সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ দিকেই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পোস্ট-প্রোডাকশন শেষ করে প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ শুরু করা হবে। তবে তার আগে ফিফা বিশ্বকাপের চলমান উত্তেজনা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আন্ধার’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ভৌতিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে চিত্রনাট্যকারদের কাজে। ছবিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, নাজিফা তুষি, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মনোয়ার ও তানজিকা আমিনসহ আরও অনেকে। এছাড়া এই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে তরুণ অভিনয়শিল্পী ফররুখ আহমেদ রেহান ও স্বর্ণালী চৈতির। দর্শক এখন অপেক্ষায়—কবে পর্দায় দেখা যাবে এই আলোচিত ‘আন্ধার’।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।