কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে রেড কার্পেটে আলো ছড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তামারা র্যালফের ডিজাইন করা মনোমুগ্ধকর ব্লাশ-টোনড বডি-হাগিং গাউনে তার উপস্থিতি ছিল এক কথায় অনবদ্য। তবে আলিয়ার এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতিকে ছাপিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিতর্কিত ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া যখন রেড কার্পেটে পোজ দিচ্ছিলেন, তখন একদল আলোকচিত্রীকে তাদের ক্যামেরা নামিয়ে রাখতে দেখা যায়। এমনকি অভিনেত্রী হাসিমুখে হাত নাড়লেও অনেক পাপারাজ্জিই সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না। এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীকে নিয়ে ট্রল শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে একজন লিখেছেন, ‘খুবই বিব্রতকর! কান একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, অথচ তাকে কেউ চিনতেই পারছে না। কেউ তার দিকে ক্যামেরাও তাক করেনি। তিনি কার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন? তার মধ্যে ব্যক্তিত্বের অভাব স্পষ্ট।’ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ আলিয়ার এই মুহূর্তটিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন যেন তিনিই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, অথচ ক্যামেরাম্যানরা সব এয়ারপ্লেন মোডে আছেন!’ আবার কেউ কেউ তার আমন্ত্রণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আলিয়ার ভক্ত এবং সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয়। অনেক নেটিজেন এই সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতীয়রাই অন্য ভারতীয়দের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষান্বিত হয়। আলিয়াকে সমর্থন জানিয়ে একজন লিখেছেন, ‘সবাই ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। শাহরুখ খানকেও আপনারা একসময় এভাবে ট্রল করেছিলেন।’ অন্যদিকে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী গ্রেগ মার্টিন আলিয়ার সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলেও এই অভিনেত্রীর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আলিয়ার পক্ষ নিয়ে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘আলোকচিত্রীরা তার ছবি তুলছেন কিনা তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তিনি সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।’ সব মিলিয়ে, কানের রেড কার্পেট এবং আলিয়া ভাটের এই ভিডিওটি বর্তমানে বিনোদন জগতের অন্যতম ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। কেউ একে দেখছেন ‘উপেক্ষা’ হিসেবে, আবার কারো মতে আলিয়ার বিরুদ্ধে এটি স্রেফ নেতিবাচক প্রচারণার একটি অংশ। সূত্র: এনডিটিভি
আবেদনময়ী লুকে নেটিজেনদের মুগ্ধ করছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব। বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ নতুন ছবি শেয়ার করেছেন দীঘি। ছবিগুলোতে দেখা যায়, গাঢ় সবুজ রঙের স্টাইলিশ গাউনে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন এই অভিনেত্রী। গাঢ় সবুজ গাউনে যেন অন্যরকম এক মায়াবী উপস্থিতি। নতুন ফটোশুটে আত্মবিশ্বাস আর গ্ল্যামারের দারুণ মিশেল দেখালেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। খোলা চুল, গ্ল্যামারাস মেকআপ আর স্টাইলিশ অভিব্যক্তিতে নতুন লুকে ধরা দিলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। দেয়ালে হাত রেখে আবেদনময়ী ভঙ্গি, আবার কখনো চেয়ারে বসে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি। প্রতিটি ফ্রেমেই আলাদা দীপ্তি ছড়িয়েছেন দীঘি। কালো নকশা ও রুপালি অলংকরণে সাজানো গাউনে আধুনিকতার ছোঁয়াও স্পষ্ট। নতুন লুকে হাজির হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।
দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতে বসবাসের পর অবশেষে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল মান্দানা করিমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ভারতের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিদায় জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনে এক ভক্ত জানতে চান তিনি কি চিরতরে মুম্বাই ছাড়ছেন? এর উত্তরে বিমানবন্দর থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে মান্দানা বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি বা বিশ্বাস করতে পারিনি যে আমাকে এটা বলতে হবে— কিন্তু বিদায় ভারত। প্রায় ১৬ বছর পর আমার দ্বিতীয় ঘরকে পেছনে ফেলে চলে যাওয়াটা খুব কঠিন। তবে এখন নতুন কিছুর শুরু। নতুন দেশ, নতুন ঘর, নতুন সব।’ কিন্তু হঠাৎ কি কারণে তাকে চিরতরে ভারত ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো? চলতি বছরের শুরুর দিকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মান্দানা জানিয়েছিলেন, ভারতে তিনি নিজেকে নিরাপদ বোধ করছেন না। মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। অভিনেত্রী জানান, ইরানি নারীদের অধিকার ও সে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মান্দানা দীর্ঘ সময় ধরে সোচ্চার ছিলেন। তার অভিযোগ, এই প্রতিবাদের কারণেই তাকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি ভারতে কোনো মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন? তার সরাসরি জবাব ছিল— ‘সব সময়।’ এছাড়াও মান্দানা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার এই কঠিন সময়ে বন্ধু-বান্ধব, সরকার বা সংবাদমাধ্যম— কারো কাছ থেকেই তিনি কোনো সমর্থন পাননি। তার ভাষায়, ‘এ কারণেই এখানে আর নিজের ঘরের মতো অনুভূতি হয় না। যা কিছু করেছি ইরান ও আমার মানুষের জন্য করেছি, সমর্থন না পেলেও আমি আবারও তাই করতাম।’ বর্তমানে মান্দানা ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কড়া সমালোচক হওয়ায় সেখানে ফিরতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত অন্য একটি দেশে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে সেই দেশের নাম তিনি গোপন রেখেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তুমুল আলোচনায় এসেছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইরান ছেড়ে এসেছিলেন ভারতে। প্রায় এক দশক আগে তার নিজ দেশে প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর ইরানে ফিরতে পারেননি তিনি। মান্দানা করিমিকে সর্বশেষ নেটফ্লিক্সের ‘থার’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’ এবং ‘লক আপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার ফিরছেন ভিন্নরূপে। তার আসন্ন সিনেমা ‘মাইশা’ ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সম্প্রতি শুটিং সেট থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শুটিং সেটের একটি ছবি শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টে রাশমিকা মান্দানা লিখেছেন— থিংস আর গেটিং সুপার ব্লাডি অন সেটস অফ মাইশা! অর্থাৎ সেটে এখন খুবই রক্তাক্ত পরিবেশ চলছে! এই একটি বাক্যই যথেষ্ট হয়েছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি হয়তো একটি অন্ধকার, তীব্র অ্যাকশনভিত্তিক গল্প হতে যাচ্ছে, যেখানে আবেগের পাশাপাশি থাকবে সংঘর্ষ আর সহিংসতার তীব্র উপস্থিতি। যদিও সিনেমার গল্প নিয়ে নির্মাতারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরে এ ধরনের ইঙ্গিত থেকেই বোঝা যাচ্ছে— তিনি এবার একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে হাজির হতে চলেছেন। তার আগের অনেক সিনেমায় রোমান্স, কমেডি ও হালকা আবেগঘন চরিত্রে দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন ও বাস্তবধর্মী হতে পারে। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, এ চরিত্রের জন্য রাশমিকা মান্দানা নাকি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এ খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবু এ প্রস্তুতির খবর সত্যি হলে বোঝা যায়, সিনেমাটিতে থাকবে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অ্যাকশন দৃশ্য এবং হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট সিকোয়েন্স। রাশমিকা মান্দানা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় নিজের বহুমুখী অভিনয় দিয়ে দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। রোমান্টিক থেকে শুরু করে কমার্শিয়াল ব্লকবাস্টার, সব ধরনের সিনেমাতেই তিনি কাজ করেছেন। এবার ‘মাইশা’ তার ক্যারিয়ারে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে, যেখানে তাকে দেখা যেতে পারে একেবারে শক্তিশালী ও লড়াকু চরিত্রে। বর্তমানে তিনি একাধিক বড় প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার আসন্ন তালিকায় রয়েছে ‘পুষ্পা-৩’ ‘ককটেল’ ও ‘রানাবালি’সহ আরও কিছু সিনেমা। এই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ ইঙ্গিত দিচ্ছে— তিনি এখন বেছে নিচ্ছেন এমন সব চরিত্র, যা তার অভিনয় দক্ষতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে সব কিছুর মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা ‘মাইশা’ নিয়েই। কারণ এর গল্প, চরিত্র ও রাশমিকা মান্দানার নতুন অ্যাকশন অবতার_ সব মিলিয়ে এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর একটি। এখনো সিনেমার কোনো ট্রেলার বা বিস্তারিত কাহিনি প্রকাশ করা হয়নি। তবে শুটিং সেট থেকে আসা এ ধরনের ইঙ্গিত এবং রাশমিকার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢালিউড অভিনেত্রী তমা মির্জা তার ছোটভাই তূর্য মির্জাকে নিজের সন্তানের মতো বলে মনে করেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের সেলিব্রিটি টকশো অনুষ্ঠানে এসে এমন আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি। তমা মির্জা পর্দার গ্ল্যামার ও অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিজীবনে কতটা পারিবারিক, তার প্রমাণ মিলল সেই অনুষ্ঠানে। সেখানে নিজের ছোটভাই তূর্য মির্জার সঙ্গে তার এক অনন্য ও আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তার ছোটভাইয়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান প্রায় ১১ বছর। দীর্ঘ বিরতির পর পরিবারে আসা এই কনিষ্ঠ সদস্যের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম। তিনি বলেন, ২০১২ সালের দিকে তার বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে থাকলেও পরিবারের হাল শক্ত হাতে ধরেন অভিনেত্রী। ২০১৩ সালে বাবাকে কর্মজীবন থেকে অবসর নিতে বলেন এবং তখন থেকেই পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। তমা মির্জা বলেন, তূর্যর কাছে আমি ঠিক আম্মুর পরের জায়গাটাতেই আছি। আমি ওর যেমন ভালো বন্ধু, ঠিক তেমনি অভিভাবকও। আমি যখন কোনো রিলস বানাই বা ছবি তুলি, আগে ওকে দেখাই যে সব ঠিক আছে কিনা। তিনি আরও বলেন, ও আবার গান গাইতে খুব পছন্দ করে। ও যখন গান করে, তখন আমাকেও শোনায়। কখনো কখনো ওকে আমার নিজের সন্তানের মতো মনে হয় বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ও বড় কোনো ভুল করলেও আমি শাসন করতে পারি না। তখন আম্মুকে বলি তুমি বকা দাও, কিন্তু আম্মু বলে ও তোমাকেই ভয় পায় তুমিই বলো। আর আমি কিছুতেই ওকে বকা দিতে পারি না বলে জানান তমা মির্জা।
মুম্বাই পাড়ি জমিয়ে বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান গড়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী মৌনি রায়। ভালোবেসে সুরাজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন এই অভিনেত্রী। কিছু দিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে ভেঙে যাচ্ছে এই অভিনেত্রীর সংসার। মৌনির বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নানা চর্চা চললেও নীরব ছিলেন তিনি। আড়াল ভেঙে এবার মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামে স্টোরিতে দেওয়া এক পোস্টে মৌনি লেখেন ‘সকল মিডিয়া হাউজকে বিনীত অনুরোধ করছি বিয়ে নিয়ে মিথ্যা গল্প প্রকাশ করবেন না। আমাদের কিছুটা একা থাকতে দিন ও গোপনীয়তা রক্ষা করুন।’ এর আগে সিয়াসাত ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মৌনি রায় ও সুরাজ নাম্বিয়ারের সংসার ভাঙার গুঞ্জন চাউর হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তারা পরস্পরকে আনফলো করেছেন। এমনকি মৌনির সঙ্গে তোলা ছবিও সুরাজ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ডিলিট করে ফেলেছেন। তবে তাদের পুরোনো কয়েকটি ছবি এখনো দেখা যাচ্ছে। এরপর এ জুটির বিচ্ছেদের চর্চা আরও জোরালো হয়। করোনা মহামারির সময় দুবাই আটকা পড়েছিলেন মৌনি রায়। সেই সময় পেশায় ব্যাংকার সুরাজের সঙ্গে তার বেশ ভালো সময় কেটেছে। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দুবাই প্রবাসী সুরাজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে মৌনির প্রেম ও বিয়ের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনা কম হয়নি। সবকিছুর ইতি টেনে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই যুগল। টিভি ধারাবাহিকে খ্যাতির পর অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘গোল্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন মৌনি। ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমার ‘গলি গল’ গানে নেচে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন মৌনি। এরপর ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’ ‘মেড ইন চায়না’ ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ‘ব্ল্যাকআউট’ প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। মৌনি রায়কে সর্বশেষ দেখা যায় ‘সালাকার’ সিরিজে। থ্রিলার ঘরানার সিরিজটি পরিচালনা করেন ফারুক কবির। গত বছরের ৮ আগস্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিওহটস্টারে মুক্তি পায় এটি।
‘বডি রোল’ গানটি মুক্তির পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফাতেহি ও হানি সিং। অনেক দর্শকের দাবি, গানটির ভিডিও জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘লাভ, ডেথ+রোবট’-এর বহুল প্রশংসিত পর্ব ‘জিবারো’ থেকে অনুপ্রাণিত বা অনুকরণ করা হয়েছে। গত শনিবার গানটি ইউটিউবে প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই ২০ লাখের বেশি ভিউ পায়। ভিডিওতে দেখা যায়, গহনায় মোড়া এক রহস্যময় নারী হ্রদ থেকে উঠে এক যোদ্ধাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। জঙ্গলের পটভূমি, সোনালি পোশাক ও ভারী অলংকারে হাজির হন নোরা ফাতেহি। ভিডিও প্রকাশের পর অনেক দর্শক এর দৃশ্য, চরিত্রের সাজসজ্জা ও ক্যামেরার ভাষার সঙ্গে ‘জিবারো’ পর্বের মিল খুঁজে পান। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিবারো’ পর্বেও দেখা যায়, অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে এক কনকুইস্তাদোর বা স্প্যানিশ যোদ্ধা রহস্যময় এক ‘সাইরেন’সদৃশ নারীর মুখোমুখি হয়। সেই নারীও সোনালি অলংকারে ঢাকা, হ্রদ থেকে উঠে আসে। যোদ্ধার গায়েও ছিল ট্যাটু ও ধাতব অলংকার। এ মিলগুলোকে ‘অস্বাভাবিক রকমের কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করছেন দর্শকরা। ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন এটি সরাসরি নকল, আবার কেউ একে কেবল ‘অনুপ্রাণিত’ কাজ হিসেবে দেখছেন। তবে এ বিতর্ক নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি নোরা ফাতেহি বা হানি সিং। এর আগে ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ গানটি মুক্তির পর প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েন সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফাতেহি। গানটির কথা ও নাচ অশালীন বলে সমালোচিত হয়। পরে গানটি সরিয়ে নেওয়া হয়, ভারতের জাতীয় নারী কমিশনে হাজিরা দিয়ে পরে ক্ষমাও চেয়েছেন নোরা ও সঞ্জয়। সে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে পড়েছেন এ অভিনেত্রী।
নাট্যকার ও অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ এবং এখনো সেই অবস্থানে আছেন। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ বা অন্যায়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র চাওয়ার বিষয়ে তিনি এক অর্থে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন, তবে সেটা রাজনৈতিক আদর্শের কারণে নয়, বরং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। মঙ্গলবার (১২ মে) দেশের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ। আমি ছিলাম না, আমি এখনো আছি, সত্যি কথা যেটা। কারণ আমি তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছি। আমি আওয়ামী লীগের দলীয় নমিনেশন পেপার চেয়েছিলাম।' তবে মনোনয়নপত্র চাওয়ার বিষয়টি তাকে রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ করে না বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, 'আমি যে দলটির দলীয় নমিনেশন পেপার চেয়েছিলাম, তাদের দায়ভারটা তো আমার উপরে আসবে না। কারণ ওতপ্রোতভাবে আমি প্রফেশনালি কোনো পলিটিশিয়ান না।' নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দিনশেষে আমি নাট্যকার, অভিনেতা, নির্মাতা সিদ্দিকুর রহমান।' নাগরিক হিসেবে তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যেকোনো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'আমি কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কাজের সঙ্গে জড়িত না। আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত না। আমি কারো কোনো ক্ষতি চাইনি। আমার দ্বারা কারো ক্ষতি হয়নি। বা আমি বরং ওই জায়গা থেকে মানবতার সেবক হতে চেয়েছি। সেবকের জায়গা থেকে আমি কথা বলেছি।' আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র চাওয়ার বিষয়ে অনুতাপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'পলিটিক্যাল জায়গা থেকে আমি কথা বলেছি, সেটুকু হলো যে নমিনেশন পেপার যখন চেয়েছিলাম আমি সেটার জন্য অনুতপ্ত একটা মাত্র কারণে।' সেই কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ চলে যাওয়া এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়াকে। তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, আমি যেহেতু তাদের সমর্থিত একটা মানুষ, আমার মনে হয় কার্যক্রম নিয়েও আমার কথা বলা উচিত না। কারণ সেটাও নিষিদ্ধ। অতএব আমি সেই ব্যাপারে তেমন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা আসলে যারা প্রফেশনালি রাজনীতি করেন তাদের জন্য। আমি এখনো প্রফেশনাল রাজনীতিক না।'
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। এখন আর আগের মতো অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে। মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো এখনো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, পাশাপাশি নাটকেও দীর্ঘ বিরতিতে আছেন এই নায়িকা। তবে পূর্ণিমা ভক্তদের জন্য সুখবর, সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রের অংশ হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই ‘অস্তিত্বের লড়াই’ নামের এই প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন তিনি। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’ খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব এটি নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি এফডিসিতে এর দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রমাণ্যচিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘এই প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার একটি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমি এতে অংশ নিয়েছি। আমি সবসময়ই এমন ভালো এবং ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’। নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, এতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালে ভোলা জেলায় বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি ও বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এটি দেখানো হবে। এছাড়া ইন্টারনেটেও এটি প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি। পূর্ণিমাসহ প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রের একঝাক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ নির্মাতা ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তির কথা রয়েছে শাকিব খানের সিনেমা ‘রকস্টার’। ইতোমধ্যে ছবিটির অ্যানিমেটেড টিজার ও ভিডিও টিজার প্রকাশিত হয়েছে। এবার প্রকাশিত হলো সিনেমার প্রথম গান ‘পিরিতি’। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গানটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশ করে এর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘প্রেম আর বিরহের গভীর অনুভূতিতে মোড়া থাক ভালবাসার গল্পেরা…।’ গানের ভিডিওতে শাকিব খানকে একেবারে ভিন্ন ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তার চরিত্রটি জেলে গেছে, সেটি এখনো খোলাসা করা হয়নি। গানটির ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘রকস্টার’ সিনেমায় একজন পেশাদার সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করছেন শাকিব খান। চরিত্রের জন্য তিনি নিজের লুকে বড় পরিবর্তন এনেছেন। এমনকি চরিত্রের প্রয়োজনে ওজনও কমিয়েছেন। আজমান রুশোর গল্পে নির্মিত ছবিতে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান–পতন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। আজমান রুশো জানান, নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে এই গল্প তৈরি করেছেন তিনি। ‘পিরিতি’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পান্থ কানাই। এর পাশাপাশি তাকে পর্দায়ও দেখা গেছে। গানের কথা লিখেছেন হাসান রোবায়েত। সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন জাহিদ নিরব। ‘রকস্টার’-এর বেশিরভাগ গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া গান লিখেছেন রাজীব হাসান, হাসান রোবায়েত ও অংকন।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আলোচনায় থাকা শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘রকস্টার’-এর ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব নিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। রোববার দুপুরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, মানসম্মত ও ভিন্নধর্মী কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার ধারাবাহিকতায় তারা ‘রকস্টার’-এর স্ট্রিমিং পার্টনার হয়েছে। অন্যদিকে সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুন্ডুর ভাষ্য, দেশের বাইরেও বৃহৎ দর্শকশ্রেণির কাছে সিনেমাটি পৌঁছে দিতেই চরকির সঙ্গে এই অংশীদারত্ব করা হয়েছে। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন রকস্টারের জীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির গল্প। এতে দর্শকরা শাকিব খানকে নতুন রূপে দেখতে পাবেন। অ্যাকশনধর্মী চরিত্রের বাইরে এবার তিনি হাজির হচ্ছেন একজন পেশাদার সংগীতশিল্পীর ভূমিকায়। সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ হাসান সানি ও জাহিদ নিরব। ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটি চরকিতে স্ট্রিম হবে। তবে ওটিটিতে মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া মনে করেন, জীবনে সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। অভিনয়, গান ও উপস্থাপনায় জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও তার পথচলা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং শোবিজ জীবনের নানা চাপ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী। নুসরাত ফারিয়া বলেন, জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে গেলে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যেতে হয়। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে অনেক পড়াশোনা করলেও কখনো প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় হতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই মায়ের কাছে হতাশা প্রকাশ করতেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার মা তাকে বুঝিয়েছিলেন— হয়তো তিনি এখনও শেখার ও চর্চার মধ্যেই আছেন, তাই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। সেই কথাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি ২৩টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, কয়েকটি গান প্রকাশ করেছেন এবং দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক মঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে এত অভিজ্ঞতার পরও প্রতিবার ক্যামেরা বা মঞ্চের সামনে দাঁড়ালে তিনি ভীষণ নার্ভাস অনুভব করেন। তার কাছে প্রতিটি কাজই যেন প্রথম এবং শেষ সুযোগের মতো মনে হয়। শোবিজ অঙ্গনের চাপ নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বাইরে থেকে তারকাজীবন যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে প্রতিদিনই এখানে লড়াই করতে হয়। সবসময় সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া, সুন্দর দেখানো এবং সাবধানতার সঙ্গে কথা বলা— সবকিছুই এই পেশার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া। তার মতে, সামান্য শারীরিক পরিবর্তন বা ভুল মন্তব্য নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তারকাদের। তাই নিজেদের সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। কারিনার বাবা এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার (৮ মে) রাতে মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করেন। তিনি আরও বলেন, কারিনার আগে থেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। তবে নিয়মিত চিকিৎসা না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং এর মধ্যে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয় সে। অবস্থার অবনতি হয়ে লিভার ফেইলিউর দেখা দিলে তাকে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সবার কাছে দোয়া চেয়ে কায়সার হামিদ বলেন, সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শৈশবের পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ, গান, বই ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা। শুক্রবার (০৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন তিনি। পোস্টে শামারুহ মির্জা লেখেন, ভোরবেলা তার ঘুম ভাঙত দাদির কোরআন তেলাওয়াতের শব্দে। পরে বারান্দায় গিয়ে দেখতেন দাদা-দাদি পাশাপাশি বসে আছেন, আর ট্রানজিস্টরে বাজছে মোহাম্মদ রফির গান। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাদের বাসায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও বই পড়ার পরিবেশ ছিল। তার বাবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করতেন, যা শুনে তার শরীরে শিহরণ জাগত। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তিন গোয়েন্দা, গল্পগুচ্ছ, লোটাকম্বল, কালবেলা থেকে শুরু করে মিসির আলী— কিছুই বাদ যায়নি। বাসায় নিয়মিত দেশ, বেগম, সানন্দা, আনন্দমেলা, বিচিত্রা, রিডার্স ডাইজেস্টসহ নানা পত্রিকা রাখা হতো। শামারুহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার মা একবার ‘সেদিন দুজনে’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন। এছাড়া নাটক এইসব দিনরাত্রি–তে ব্যবহৃত ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’ গানটি এখনও তার কানে ভাসে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘কুতর্ক তো থাকবেই। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথই। রবীন্দ্রনাথ আমার অস্তিত্বে আছে। শুভ জন্মদিন রবীন্দ্রনাথ।’ পোস্টের শেষাংশে এক মন্তব্যের জবাবও দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)– এর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা টানা ঠিক নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য ইসলামের জন্য ক্ষতিকর।
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। আসন্ন ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন শাকিরা। শাকিরার এবারের গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়। সম্প্রতি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা একটি টিজার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শাকিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে সেজেছেন একদল নৃত্যশিল্পী। তবে ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলগুলোর উপস্থিতি, যা মূলত এই তিন আসরে শাকিরার কালজয়ী গানগুলোর স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবারের ‘দাই দাই’ ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন দেখা যাবে বলে জানা গেছে। শাকিরার জাদুকরী কণ্ঠ আর হিপস ডোন্ট লাইয়ের সেই চিরচেনা ছন্দ এবার বার্না বয়ের সুরের সঙ্গে মিশে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে পূর্ণাঙ্গ এই থিম সং। এর পর থেকেই ফুটবল উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে ‘লা লা লা’ গেয়ে পুরো বিশ্বকে বুদ করে রেখেছিলেন তিনি। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তার ফেরা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ৪৮টি দলের এই লড়াকু আসরের আগে শাকিরার এ গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন।
রণবীর সিং অভিনীত জনপ্রিয় ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ যেন আরও বাড়ছে। বক্স অফিসে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পর এবার সিনেমাটির পরবর্তী কিস্তি নিয়ে নতুন করে ইঙ্গিত দিয়েছেন সহ-প্রযোজক জ্যোতি দেশপান্ডে। সম্প্রতি তিনি জানান, ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের যাত্রা এখনই শেষ হচ্ছে না। বরং চলতি বছরের শেষ নাগাদ দর্শকদের জন্য বিশেষ কোনো ঘোষণা বা চমক অপেক্ষা করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। জ্যোতি দেশপান্ডে বলেন, “ধুরন্ধর নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা এখনও শেষ হয়নি। দর্শকদের জন্য বছরের শেষ দিকে কিছু বিশেষ আয়োজন থাকতে পারে।” তার এই মন্তব্যের পর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ এর আগে পরিচালক আদিত্য ধর তৃতীয় কিস্তি নির্মাণে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। ফলে প্রযোজকের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে জল্পনা আরও বেড়েছে। এদিকে ‘ধুরন্ধর টু’-এর শেষ দৃশ্যে ‘ধুরন্ধর: দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার—১৪ জুন ২০২৬’ লেখা দেখানোর পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৃতীয় পর্ব নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, আগামী বছরের জুনে আবারও বড় পর্দায় ফিরবেন রণবীর সিং। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন অভিনেতা রাকেশ বেদি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রথম দুই কিস্তির বিশাল সাফল্যের কারণে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। তবে তার ব্যক্তিগত ধারণা, তৃতীয় পর্ব হয়তো নির্মিত নাও হতে পারে। রাকেশ বেদি আরও বলেন, “ধুরন্ধর যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, তাই ভবিষ্যতে ভিন্ন অভিনেতাদের নিয়েও গল্প এগোতে পারে। দ্বিতীয় কিস্তির সমাপ্তিতে গুপ্তচর চরিত্রটির দেশে ফিরে আসা গল্পের একটি পূর্ণতা নির্দেশ করে।” পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে ভক্তরা এখন অপেক্ষা করছেন বছরের শেষে ঘোষিত সেই সম্ভাব্য চমকের জন্য।
বলিউড অভিনেতা শক্তি কাপুরকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজব ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। তবে অভিনেতা নিজেই ভিডিও বার্তায় সামনে এসে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শক্তি কাপুরের মৃত্যুর দাবি করে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে অভিনেতা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সব গুজব নাকচ করে দেন। ভিডিওতে ৭৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা বলেন, “আমার মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভুয়া। আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি এবং আনন্দে আছি। সবাইকে অনুরোধ করব এসব গুজবে কান না দিতে।” এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শক্তি কাপুর জানান, যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, “আমি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করতে যাচ্ছি। এ ধরনের কাজ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।” তারকাদের নিয়ে ভুয়া মৃত্যুর খবর ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বিনোদন অঙ্গনের অনেক পরিচিত ব্যক্তি এ ধরনের গুজবের শিকার হয়েছেন। এর আগে অভিনেত্রী সাবিত্রী চ্যাটার্জি ও পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীকেও নিয়ে একই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিল সামাজিক মাধ্যম। শক্তি কাপুরের সুস্থ থাকার খবর প্রকাশের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ভক্তরা। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে।
মিডিয়াকম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডুর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড’ মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘রকস্টার’। চলচ্চিত্রটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মেগাস্টার শাকিব খান। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, তারিক আনাম খান, রোজী সিদ্দিকী, সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং পান্থ কানাইসহ একঝাঁক গুণী শিল্পী । সংগীত আয়োজনে রয়েছেন আহমেদ হাসান সানি, জাহিদ নিরব ও পান্থ কানাইয়ের মতো জনপ্রিয় তারকারা। পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন দেশের খ্যাতনামা কুশলীগণ এবং একঝাঁক উদ্যমী তরুণ প্রাণ। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটিকে একটি বৈশ্বিক মান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো এবং নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে ‘পিনহুইল ফিল্মস’ । মিডিয়াকম লিমিটেডের পরিচালক (মিডিয়া বায়িং) জানান, বর্তমান সময়ে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প যখন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা বড় পরিসরে এই ঝুঁকি গ্রহণ করেছি। আমাদের বিশ্বাস, আপনাদের প্রচারমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এই চলচ্চিত্রটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পাবে না, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বীভৎসতা ও অশালীনতার অভিযোগে জটিলতায় পড়েছে শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। ছবিটির সেন্সর সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। পিআইডির বরাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই কিছু গান ও দৃশ্য সংযোজন করে ছবিটি প্রদর্শন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, অনুমোদিত কপিতে ধূমপান ও মাদক সেবনের সতর্কবার্তা পরিবর্তন বা টেম্পার করার অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ছবিটির সার্টিফিকেশন সনদ (এলএল নং ১০/২০২৬, তারিখ: ১৬ মার্চ ২০২৬) স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘তোমাকে ছাড়া’ শিরোনামের একটি গান এবং ভারতের মরুভূমি প্রেক্ষাপটে নির্মম হত্যাযজ্ঞের বীভৎস দৃশ্য ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সেন্সর বোর্ড পূর্বে যেসব দৃশ্য বাদ দিতে বলেছিল—যেমন চাপাতি দিয়ে হাত কেটে ফেলা, গলার রগ কেটে দেওয়ার দৃশ্য, এবং নারীদের অশালীন ও অরুচিকর উপস্থাপন—সেগুলো পুনরায় সংযোজনের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানান, এখনো তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো স্থগিতাদেশের নোটিশ হাতে পাননি। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেন্সর বোর্ড থেকে একটি নোটিশ পেয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার জবাবও দেওয়া হয়েছে। সেন্সরবিহীন দৃশ্য প্রদর্শনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘ভুলবশত সিনেমা হলে ছবিটির ইন্ডিয়ান বা ওটিটি ভার্সন প্রদর্শিত হয়েছিল। যখন সেন্সর বোর্ড থেকে নোটিশ আসে, তখন ছবিটি আর হলে চলছিল না। আমরা জানিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র অনুমোদিত সংস্করণই প্রদর্শন করা হবে এবং সে অনুযায়ী কাজও চলছিল।’ তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক নোটিশ হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ এবং প্রযোজক শিরিন সুলতানার এই অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রটি গত ২১ মার্চ ফিতরে উপলক্ষে দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিন ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুসহ অনেকে।
পাঁচ বছর পর আবারও একই ছাদের নিচে সামনাসামনি সামান্থা রুথ প্রভু ও নাগা চৈতন্য। একসময়ের দক্ষিণী সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত এই জুটির বিচ্ছেদ যেমন ভেঙে দিয়েছিল ভক্তদের হৃদয়, তেমনি হায়দ্রাবাদের এক জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আসরে তাদের হঠাৎ উপস্থিতি নতুন করে আবার উসকে দিল পুরোনো স্মৃতি। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, হায়দরাবাদে প্রযোজক সুনীল নারাংয়ের মেয়ে সিমরনের বিয়ের আসরে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিনোদন জগতের একঝাঁক তারকা। সেখানেই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন নাগা চৈতন্য ও সামান্থা রুথ প্রভু। তবে এবার আর একে অপরের হাত ধরে নয়, বরং দুজনেই এসেছিলেন নিজ নিজ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, নাগা চৈতন্যের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী শোভিতা ধুলিপালা। অন্যদিকে, অভিনেত্রী সামান্থা হাজির হয়েছিলেন তার বর্তমান স্বামী ও প্রখ্যাত পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রাক্তন দম্পতিকে একই স্থানে দেখে অনুষ্ঠানস্থলে গুঞ্জন শুরু হলেও তারা একে অপরের মুখোমুখি হননি। তিক্ততা এড়াতে সচেতনভাবেই একে অপরকে এড়িয়ে চলেছেন এবং আলাদাভাবে সময় কাটিয়েছেন। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনে দুই তারকাই এখন বৈবাহিকভাবে স্থিতিশীল। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শোভিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন নাগা চৈতন্য। এর ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোয়েম্বত্তূরের লিঙ্গ ভৈরবী মন্দিরে ঘরোয়া আয়োজনে পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সামান্থা। এর আগে ২০১৭ সালে গোয়ায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নাগার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন সামান্থা।
দক্ষিণী সুপারস্টার যশের মহাকাব্যিক প্রজেক্ট ‘টক্সিক’-কে ঘিরে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক গুঞ্জনে উত্তাল হয়ে উঠল বলিউড। পর্দায় যশের সঙ্গে কিয়ারা আদভানির রসায়ন দেখার জন্য যখন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা, ঠিক তখনই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে , এই সিনেমার কিছু ‘অন্তরঙ্গ দৃশ্য’ নাকি বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলিউড সুন্দরী কিয়ারা আদভানি। সামাজিক মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। তবে চুপ থাকার পাত্রী নন কিয়ারাও, নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে ওঠা এমন গুঞ্জনে এবার রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়লেন পর্দার ‘প্রীতি’, এমনকি তার কড়া জবাবে এখন থমথমে পুরো বি-টাউন। জানা যায়, ছড়িয়ে পড়া সেই খবরের একটি স্ক্রিনশট নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে শেয়ার করে সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। সেই স্ক্রিনশটের ওপর বড় বড় অক্ষরে কিয়ারা লিখেছেন, ‘অ্যাবসোলিউট ননসেন্স।’ এমন দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং বাজে কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ‘টক্সিক’-এর টিজার এবং কিছু স্থিরচিত্র সামনে আসার পর থেকেই বিতর্কের শুরু। টিজারে যশের মারকুটে মেজাজের পাশাপাশি এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। অনেকের প্রশ্ন ছিল, ছবিতে নারীর ভূমিকা কি কেবল শরীরের মাঝেই সীমাবদ্ধ? এমনকি সিনেমার পরিচালক একজন নারী হওয়ার পরেও এমন খোলামেলা দৃশ্য কেন রাখা হলো, তা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। যদিও বিতর্কের মুখেও সিনেমার পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেক চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রিয় পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, টিজার দেখে তার ধারণা এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। গীতু মোহন দাসের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমায় যশ ও কিয়ারার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন হুমা কুরেশী, নয়নতারা, অক্ষয় অবেরয় সহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।