ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আরেকটি জরিপ উঠে এলো। এতে দেখা গেছে, ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে চান, আর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটকে ভোট দিতে আগ্রহী ৩১ শতাংশ ভোটার। জনগণের নির্বাচন ভাবনা নিয়ে ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের তৃতীয় ধাপের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং এ জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। জরিপে দেখা যায়, প্রস্তাবিত গণভোটে অংশ নিতে হলে ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে। তবে এ বিষয়ে ২২ শতাংশ মানুষ কিছুই জানেন না। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রয়েছে ১ শতাংশ মানুষের। ভোট নিয়ে কোনো ধরনের ভাবনা নেই ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষের। এ ছাড়া জরিপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোন দল সরকার গঠন করতে পারে, সে সম্পর্কেও সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজার ১৪৭ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে এগিয়ে রেখেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এগিয়ে রেখেছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে আরও উঠে এসেছে, ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো মত দেননি। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের মতামত প্রদানের হার তুলনামূলক কম ছিল। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কোনো মতামত জানাননি। জরিপ উপস্থাপনকালে জানানো হয়, এসব তথ্য বাস্তবিক অর্থে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন না-ও হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। শুরুতে নানা শঙ্কা থাকলেও তপশিল ঘোষণার পরপরই বদলে গেছে সারা দেশের নির্বাচনী চিত্র। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই লেগেছে নির্বাচনী প্রচারের রং। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা টানা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং, পাড়া-মহল্লায় জনসভা ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন সরগরম ভোটের মাঠ। দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া প্রতিযোগিতামূলক এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বিএনপির ইশতেহার আজ–কালকের মধ্যেই এবং আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ঘোষণার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শঙ্কা ছাপিয়ে সারা দেশে বইছে নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। যদিও কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তবে সামগ্রিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশেই এগোচ্ছে নির্বাচনী প্রচার। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামবাংলার রাজপথ—সবখানেই এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ‘ভোট’। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে প্রচার। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখর প্রতিটি জনপদ। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থী—সবাই এখন মাঠে। জনসভা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। কোথাও উন্নয়ন, কোথাও কর্মসংস্থান, আবার কোথাও সামাজিক সুরক্ষা হয়ে উঠছে প্রচারের মূল বিষয়। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্যের লড়াই যেমন চলছে, তেমনি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রচারযুদ্ধ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, টিকটকসহ নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী বার্তা। চায়ের দোকান, বাজার, বাসস্ট্যান্ড—সবখানেই ভোট নিয়ে আলোচনা। কেউ উন্নয়নের হিসাব কষছেন, কেউ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। ভোটের মাঠে এক লাখ সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন। প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাফিক্স, লাইভ ভিডিও, শর্ট ভিডিও ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলছে ব্যাপক ডিজিটাল প্রচার। এবারের নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় ডিজিটাল প্রচারণা পেয়েছে নতুন মাত্রা। অনেক প্রার্থী কম খরচে সৃজনশীল কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। জনপ্রিয় গানকে ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে নির্বাচনী প্যারোডি গান, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। প্রবাসী ভোটারদের কাছেও পৌঁছাতে কার্যকর হচ্ছে এই কৌশল। নির্বাচনী প্রচার এখন শুধু সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ নেই। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে হচ্ছেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি। ভোটাররা প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিয়ে করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীদের দিন কাটছে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। সকালে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, দুপুরে উঠান বৈঠক, বিকেলে জনসভা—এভাবেই চলছে তাদের ব্যস্ত দিন। অনুসারীদের বহর নিয়ে মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার ও দুর্গম এলাকাও চষে বেড়াচ্ছেন তারা। নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। প্রশাসনও জানিয়েছে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে ও অনলাইন—দুই জায়গাতেই জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। সব মিলিয়ে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। প্রচারের এই ব্যস্ততা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সব বাধা পেরিয়ে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনকল্যাণে কাজ করবেন।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভোটগ্রহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আচরণবিধি অমান্যের প্রবণতা চোখে পড়ছে। বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নিষিদ্ধ পোস্টার ও রঙিন ব্যানারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৮ আসনে এখনো প্রকাশ্যে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। পাশাপাশি, আচরণবিধি ভেঙে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যানার ও ফেস্টুন শুধুমাত্র সাদা-কালো রঙের হওয়ার কথা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসব লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ২১৩টি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ১৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ২১টি সংসদীয় আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৮টি মামলা করা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। পাশাপাশি পোস্টার ছাপানো বন্ধে প্রিন্টিং প্রেসগুলোকে নির্দেশনাও দিয়েছে কমিশন। বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিগুলো মাঠে কাজ করছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন এবং প্রতিটি আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সক্রিয় আছে। কমিশনের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও কঠোর ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সারা দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এবং সামনে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এর জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব দায়ী। ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় প্রার্থীরা নিয়ম মানতে অনাগ্রহী হলেও নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর, কাকরাইল ও মতিঝিল এলাকায় সড়কের মোড়ে মোড়ে বিশাল আকারের রঙিন সাইনবোর্ড ঝুলছে। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি সারি রঙিন সাইনবোর্ড পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মতিঝিলের জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচেও একাধিক রঙিন ব্যানার দেখা গেছে। এসব প্রচারে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সরকারি স্থাপনা ও পুলিশ বক্সের ওপরও রঙিন ব্যানার টানানো হয়েছে। একই ধরনের চিত্র পুরানা পল্টনের অলিগলিতেও দেখা গেছে, যেখানে ডিজিটাল সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে বিধি লঙ্ঘন করে। এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল বিচ্ছিন্ন করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নির্দিষ্টসংখ্যক রঙিন ব্যানার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, আচরণবিধিতে রঙিন ব্যানার বা সাইনবোর্ড ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই। ঢাকা-৫ আসনের ডেমরা-রামপুরা সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বড় আকারের রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার বিদ্যুতের খুঁটি এবং সড়কের আশপাশে সাঁটানো রয়েছে। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পোলেও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে একাধিক প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুলনায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই প্রবণতা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্পনেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায়ও স্থানীয় সহযোগী রয়েছে। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহসভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্প বিষয়ক সহসভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহসভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজার বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই। চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তীতে চীন সেই ধারণা অনুসরণ করে নিজস্ব কর্মসূচি চালু করে। গত বছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ওই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট তাকে জানান, তিনি অধ্যাপক ইউনূসের বই পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন—যা তার জন্য আনন্দের বিষয় ছিল। শিগগিরই নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কাজ চলমান থাকতে হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বাস্থ্যখাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক-রোগী সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি। এ ছাড়া ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার বর্তমান বাস্তবতা বদলাতে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল—এটি লজ্জাজনক। তিনি উত্তরাঞ্চলে একটি ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। সেখানে এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম এক জায়গায় গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হবেন বলে জানান। বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে ১৬টি দেশ ইতোমধ্যে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এই দেশগুলো থেকে মোট ৫৭ দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্থার শত শত প্রতিনিধি এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ১৪ জন। দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ পর্যবেক্ষক পাঠাবে তুরস্ক, যাদের দলে রয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল। অন্য দেশগুলো থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর সংখ্যা হলো—ইন্দোনেশিয়া (৫), জাপান (৪), পাকিস্তান (৩), ভুটান (২), মালদ্বীপ (২), শ্রীলঙ্কা (১), ফিলিপাইন (২), জর্ডান (২), ইরান (১), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (১) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (২)। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নান্না আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে রয়েছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। এই মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাত সদস্য থাকবেন—লুকাস মান্ডল (অস্ট্রিয়া), লোরান্ত ভিনচে (রোমানিয়া), তোমাশ জদেখোভস্কি (চেকিয়া), লেইরে পাইহিন (স্পেন), শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুর্দজা (রোমানিয়া), মাইকেল ম্যাকনামারা (আয়ারল্যান্ড) এবং ক্যাটারিনা ভিয়েরা (নেদারল্যান্ডস)। প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, বিক্ষোভ-সমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং যেকোনো বড় জনসমাগমের আশপাশে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দূতাবাসের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুকে এ সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। এর আগে সবশেষ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চলাচল নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বা চরমপন্থি হামলার ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব হামলা বিক্ষোভ, ভোটকেন্দ্র এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আয়োজিত কোনো বিক্ষোভ বা সমাবেশও হঠাৎ সংঘাতপূর্ণ হয়ে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এসব কার্যক্রম এড়িয়ে চলা এবং সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর এবং ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সীমিত পরিসরে সশরীরে সেবা প্রদান করবে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা করণীয়গুলো হলো— ১. বড় জনতা এবং বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন ২. সর্বদা আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকুন ৩. স্থানীয় সংবাদ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন ৪. জরুরি যোগাযোগের জন্য চার্জ দেওয়া মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখুন ৫. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করুন ৬. ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিকল্প রুটের পরিকল্পনা করুন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই দাবির সঙ্গে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে; বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই। এছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারকাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘ একযুগ পর ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে বিমানের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৪১ করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এ উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই রুট চালুর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ রুট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদার হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পর্ষদ চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার এবং বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান। এছাড়াও মন্ত্রণালয়, বিমান, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানের প্রথম ফ্লাইটটি করাচিতে পৌঁছাবে ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩৪২ করাচি থেকে ৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছাবে একই দিন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। প্রথম ফ্লাইটে মোট ১৫০ জন যাত্রী যাত্রা করেন। শীতকালীন সূচি অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার ঢাকা থেকে করাচিতে এবং একই দিনে করাচি থেকে ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ড. আনোয়ার ল’ কলেজ নামে পরিচালিত হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা জেলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন করে ড. আনোয়ার ল’ কলেজ নামে পরিচালনা করা হবে। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আইসিটি দপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ কমলাপুর ও মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত কলেজটির অধ্যক্ষের কাছেও অফিস আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করার সুযোগ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণভোট অধ্যাদেশ–২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ইসি জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালালে তা গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), রিটার্নিং অফিসার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা) এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তি বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের দ্বৈত বেঞ্চ নিউমুরিং টার্মিনাল সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্নমতপূর্ণ রায় দেন। পরে প্রধান বিচারপতি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চে পাঠান। উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর একটি রিট আবেদন করেন।
ভারতের কূটনীতিকরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিতে পারেন, তবে বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী বার্তা বা ইঙ্গিত রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “এটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা যে কোনো সময় তাদের কর্মচারীদের পরিবারকে চলে যেতে বলতে পারেন। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যে তাদের কর্মকর্তারা বা তাদের পরিবার-পরিজন ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।” তিনি আরও বলেন, “তাদের মনে হয়তো কোনো আশঙ্কা কাজ করছে, অথবা তারা কোনো ধরনের বার্তা দিতে চাইছেন। তবে সেই বার্তাটা কী, তা আমি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি না। তারা যদি পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে নিতে চান, তাতে আমাদের কিছু বলার নেই। নিতেই পারেন। কিন্তু আমাদের মূল্যায়নে দেশে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি।” অতীতের নির্বাচনকালীন সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আগের নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় এখন সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে—এমনটা আমার মনে হয় না। এমন কোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি, যার কারণে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।”
আসন্ন রমজান, জাতীয় নির্বাচন, সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। বাড়তি চাহিদার বিদ্যুতের জন্য ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সরকার এ ভর্তুকি না দিলে আগামী মাস থেকে দেশে লোডশেডিং বাড়তে পারে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগকে এমন চিঠি দিয়ে পিডিবি জানিয়েছে, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির মধ্যে পড়েছে। পিডিবির একটি সূত্র জানায়, অর্থাভাবে পিডিবি সরকারি-বেসরকারি কোনো কম্পানিকে বিল দিতে পারছে না। শীতের আবেশ কেটে গরমের মৌসুম আসছে। চাহিদাও বাড়ছে বিদ্যুতের। এখন ভর্তুকির মাধ্যমে পিডিবিকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে নির্বাচন, সেচ এবং রমজানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হবে। এমনটি হলে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। পিডিবির অর্থ বরাদ্দের চাহিদার ব্যাপারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, এ সরকারের মেয়াদ অনেকটা শেষ। এখন নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন সরকার এসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। জানা যায়, সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন চাহিদা ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কয়েকদিন ধরে রাজধানী ছাড়া সারা দেশে লোডশেডিং হচ্ছে। সোমবার দুপুরে লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি-বেসরকারি কম্পানিগুলো ৮-৯ মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায় না। তারা ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারছে না। একইভাবে গ্যাসের বিল ও ব্যাংকের দেনা দিতে পারছে না বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কম্পানি। দেনার কারণে অনেক কম্পানির তেল আমদানির এলসি খুলছে না ব্যাংক। পিডিবি জানায়, গ্যাস এবং তেলভিত্তিক অপ্রয়োজনীয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন এবং কয়লাভিত্তিক আদানি, এসএস পাওয়ার, রামপাল, পায়রাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম তুলানামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ৮ বছর ধরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পিডিবি এখন প্রতি ইউনিট ১২ দশমিক ৩৫ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে বিক্রি করছে ৬ দশমিক ৬৩ টাকায়। এতে প্রতি মাসে ঘাটতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি বিষয়ে তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিটি বলেছে, বিগত আওয়ামী সরকার অপ্রয়োজনীয় ৭৭০০ থেকে ৯৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল। এ কারণে প্রতিবছর সরকারকে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।
শীতের বিদায় আর বসন্তে নতুন আগমনের অপেক্ষায় প্রকৃতি। আর প্রকৃতির সেই প্রাণসঞ্চারের জন্য সম্ভাব্য বৃষ্টির দেখা আগামী ২৪ ঘণ্টায় মিলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ দিন রাত ৮টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশে উড়াল দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম কালবেলাকে বলেন, প্রথম ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত হবে। এরইমধ্যে ১৬২ আসনের সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে করাচির স্থানীয় সময় রাত ১১টায় ফ্লাইটটি অবতরণ করবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক সময়ে ঢাকা থেকে করাচিতে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চললেও ২০১২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে ফের ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে। দুই দেশের নানা আলোচনার পর বিমান ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জানুয়ারি থেকে ওই রুটে টিকিট বিক্রিও শুরু করে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শনিবার ফ্লাইটগুলো চলাচল করবে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছেড়ে করাচির স্থানীয় সময় রাত ১১টায় অবতরণ করবে। করাচি থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ছেড়ে আসা ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছাবে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। ফের এই রুট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাত্রী চলাচল আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছে বিমান। পাশাপাশি ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তেমনই এই এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে গণবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার ফলেই একটি শক্তিশালী সরকারের পতন ঘটে—যা প্রমাণ করে প্রযুক্তি ও জনগণের শক্তি কতটা গভীর। তিনি বলেন, ডিজিটাল খাতই এখন মূল চালিকাশক্তি। এই খাত থেকেই পরিবর্তন আসবে এবং অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে। নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, সরকার কেবল একটি সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে তুলে দেবে, জনগণ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করবে—এটাই তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার ফলে মানসিক জড়তা তৈরি হয় এবং সৃজনশীলতা কমে যায়। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন করে শুরু করা উচিত। জালিয়াতি প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, জালিয়াতির কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রযুক্তিতে এগোতে হলে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলার সক্ষমতা আমাদের আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ভোটের ফল এই দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনে যেই জয়ী হোক না কেন, তাদের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। বুধবার সকালে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে আসে। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ। উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং ঘরের কাছে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে নতুন বদলি নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শিরোনামে এটি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংশোধিত হয়ে কার্যকর হয়েছে। এই নীতিমালার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর স্বচ্ছতা। নতুন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক বদলি হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে, যার ফলে শিক্ষকদের আর প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিতে হবে না। শিক্ষকদের বদলি এখন অনলাইনে আবেদন দিয়ে সম্পন্ন হবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলি অনলাইনে প্রকাশ করবে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর দুই বছর কর্মস্থলে থাকার পর শিক্ষকরা বদলি আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হলে পরবর্তী বদলির জন্য নতুন কর্মস্থলে ন্যূনতম দুই বছর থাকতে হবে। কর্মজীবনে শিক্ষকের বদলির সংখ্যা সর্বোচ্চ তিনবার হতে পারবে। আবেদনকারীরা নিজের জেলা অথবা বিভাগের যেকোনো জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন—স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রত্যেক আবেদনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী প্রার্থী, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন, তবে একই বিষয়ের একজনের বেশি নয়। শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবেন সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের মাধ্যমে। বদলি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে মাউশি মহাপরিচালক এবং পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এটি পূর্ববর্তী বদলি নীতিমালার পরিবর্তে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পূর্বের নীতিমালাটি রহিত করেছে।
ভোলা থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) না এনে সেখানে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। গতকাল ভোলার প্রস্তাবিত এলএনজির দাম নির্ধারণে গণশুনানিতে পিডিবির অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ পরিদপ্তর) সৈয়দ জুলফিকার আলী জানান, ১ ঘনমিটার গ্যাস দিয়ে ৪ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ঢাকায় আনতে খরচ হবে ১ টাকা ২৪ পয়সা। এতে কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ভোলা থেকে এলএনজি আনার প্রস্তাবে প্রতি ঘনমিটারের পরিবহন খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। প্রস্তাবিত ৩০ মিলিয়ন এলএনজি পরিবহনে বছরে খরচ হবে ৯৩০ কোটি টাকা। ১০ বছরের চুক্তির বিপরীতে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। পিডিবির প্রস্তাব, এই অর্থ এলএনজি পরিবহনে খরচ না করে ভোলায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হোক। সৈয়দ জুলফিকার আলী আরও জানান, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার হবে, যা ঢাকায় গ্যাস সংকট কমাতে সাহায্য করবে এবং বিদ্যুৎ সংকটও কমাবে। গণশুনানিতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি উল্লেখ করেছে, ভোলা থেকে এলএনজি আনা নতুন প্রক্রিয়া হওয়ায় খরচ সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব করা কঠিন। তবে পরিবহন খরচ ২৯ টাকা ৯০ পয়সার ঊর্ধ্বসীমা ধরা যেতে পারে। দরপত্রের মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠান এলএনজি আনার দায়িত্ব পাবে, তাদেরকে বিইআরসি লাইসেন্স নিতে হবে এবং গণশুনানির মাধ্যমে দর চূড়ান্ত করা হবে। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভোলা থেকে সিএনজি আকারে গ্যাস আনা হচ্ছে। এর পরিবহন খরচ ২৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দাম অনুযায়ী এলএনজির দামও নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আমরা সবার মতামত শুনেছি। ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিখিত মতামত দিতে পারবেন। এরপর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। গণশুনানিতে পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, বাপেক্স, জিটিসিএল, আরপিজিসিএলসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের সময় সেনা সদস্যদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের সময় সেনা সদস্যদের পেশাদারি, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশনা তিনি গতকাল মঙ্গলবার রংপুর ও রাজশাহীতে মোতায়েন সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে দিয়েছেন। সেনাপ্রধান রংপুর ও রাজশাহী সফরকালে নির্বাচনী পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং মোতায়েন সেনাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। সফরকালে রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে রাজশাহীর ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে (বিআইআরসি) আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়সভাগুলোতে আসন্ন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরিদর্শনকালে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকড্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়া এরিয়া কমান্ডারসহ সেনা সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আজ বুধবার সাক্ষাৎ করবেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। গতকাল মঙ্গলবার সিইসির একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সিইসির কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় আসেন। তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।