আগামী বছর থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (আইইউটি) এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে করোনাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে সেশনজট তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং পাঠদান কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে সরকার বাস্তবসম্মত সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, পরবর্তী বছরগুলোতে সেশনজট পুরোপুরি নিরসন করে পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেন অতিরিক্ত দুই বছর ঝরে না পড়ে, সে জন্য আমরা ধীরে ধীরে সবকিছু সমন্বয় (সিংক্রোনাইজ) করছি। তিনি আরও বলেন, সেশনজট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত করা হবে। অনুষ্ঠানে আই ইউ টি'র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, প্রো- ভাইস চ্যান্সেলর হিসাইন আরবী নুরসহ আইইউটির বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর ও শিক্ষার্থীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের জন্য সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, দুর্নীতি, ঋণনির্ভর উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছিল। সেই সংকটের ভার এখনো বহন করতে হচ্ছে সরকার ও সাধারণ মানুষকে। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, গত সরকারের সময় ব্যাংক খাতে অনিয়ম, বিদেশে অর্থ পাচার, অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্প এবং উচ্চ ঋণনির্ভর ব্যয়ের কারণে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি ও বাজার ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষ এখন যে অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করছে, তার পেছনে বহু বছরের ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী। আমরা একটি নড়বড়ে অর্থনৈতিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা অর্থনীতিকে দুর্বল অবস্থায় নিয়ে গেছে, তারাই এখন নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” সভায় উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনমুখী খাত শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পরিবর্তে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাজার অস্থিরতার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাইন্ডেশন। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও বেশি বেগবান, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই টিকা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং ও উপস্থিত ছিলেন। টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক খাতের পরম বন্ধু হিসেবে চীন যে বাংলাদেশের পাশে আছে সেটা আবারও প্রমাণিত হল। মন্ত্রী বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখনও ডেঙ্গু, পোলিও ও হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙ্গাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে, পোলিও, যক্ষাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন তার কোনো ঘাটতি নেই। এসব রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের শিগগিরই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, শিগরিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু হবে। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকারী ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (এসআইপিভি) ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি আরও বলেন, আশা করি এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। লী নিং জানান, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক পাশে থেকে দু’দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে সিনোভ্যাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬,৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদান কেন্দ্রে হবে। সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন-এসআইপিভি)- টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকতা, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পোং এবং সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ) রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও লুটপাটের অর্থনীতিকে পুনরায় স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য। আজ সকালে রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে বিগত (আওয়ামী লীগ) সরকারের লুটপাট করা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি। আমাদের প্রতিবছর ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। দেশের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের তুলনায় আমদানিতে অনেক বেশি ব্যয় করতে হবে।’ তিনি বলেন, এই বিশাল ঘাটতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আসমান থেকে টাকা আসবে না, আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও স্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমেই এই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন ও ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক করছি, এটি অব্যাহত থাকবে।’ তবে সংসদের সেই বিতর্ককে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, কেউ যাতে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যে মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয় দেওয়া বা ধর্মীয় পোশাক পরাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এ সময় আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারেন। আগামী দুই বছর আমরা যদি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তবে এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে।’ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে অতীতে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা পবিত্র ধর্মে বিশ্বাস করি, তারা অন্য যে কোনো ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসকেও শ্রদ্ধা করি। এই দেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করছে। কোনো অপশক্তি যেন আমাদের এই ঐক্য বিনষ্ট করতে না পারে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক (হাফি) এবং উত্তরা ১২ নং সেক্টর বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।
বিভিন্ন কারণে বাদ পড়া ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবিহা ফাতেমাতুজ-জোহরা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ৯৬ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৪৮ জন, পুলিশে ১৩ জন, স্বাস্থ্যে ৪ জন এবং গণপূর্ত ও টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে ৩ জন করে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র, আনসার ও সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২ জন করে এবং পরিবার পরিকল্পনা, তথ্য, নিরীক্ষা ও হিসাব, রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্য, কৃষি, সাধারণ শিক্ষা, পরিসংখ্যান, শুল্ক ও আবগারি এবং খাদ্য ক্যাডারে ১ জন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা, যাচাই-বাছাই বা কারিগরি কারণে এই প্রার্থীরা এক সময় নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছিলেন। নিয়োগের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অবশেষে তাদের নিয়োগের এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে এসব প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ এপ্রিল শুরু হওয়া জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ও রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, এখন রিঅ্যাক্টরকে ধীরে ধীরে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগোবে কেন্দ্রটি। কর্মকর্তাদের আশা, আগামী আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। এতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের জেনারেশন থ্রি প্লাস রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যার প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশের আরও একধাপ কাছে পৌঁছে গেল।
রাজধানীর গণভবনে নির্মাণাধীন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ১ আগস্টের মধ্যে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার জাদুঘরের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা ১ আগস্টের মধ্যেই জাদুঘরটির উদ্বোধন সম্পন্ন করা হবে। বর্তমানে সেখানে প্রদর্শনী কক্ষ, তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক সাজানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাদুঘর ঘুরে দেখে বলেন, এখানে বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসভিত্তিক সংরক্ষণাগার হয়ে উঠবে। জানা গেছে, জাদুঘরে আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দেয়াললিখন, সংবাদ প্রতিবেদন এবং শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল প্রদর্শন ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে, যাতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ বাস্তব অভিজ্ঞতার মতো অনুভব করা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধনের পর দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
রকিবুল হক ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট ভাইস অ্যাডমিরাল সার্জিও লিয়ার্ডো-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড পক্ষ থেকে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী উদ্ধার কার্যক্রম (SAR) নিয়ে একটি বিস্তারিত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সমুদ্রপথে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায় ফ্লাইওভারের রেলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিএসআরএম ডিপো এলাকা সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার আহমেদ বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের বরাত দিয়ে তারা জানায়, নিহত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশা ও মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাহাড়তলী থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। পাহাড়তলী থানার এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করছে, নিহত যুবক রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। যদিও পুলিশ এসব দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে।
তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিরাই উপজেলা এর আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় সাহাদিপ মেম্বার ও মনির পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে এলাকার দুটি বিল ইজারা নিয়ে মনির পক্ষের লোকজন ভোগদখল করে আসছিল। তবে পরবর্তীতে ওই বিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে মনির পক্ষের অন্তত ৩০ জন এবং সাহাদিপ পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের একজন লুকমান অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনের চাপে তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে আরেক আহত রফিকুল মিয়া জানান, ধান কাটার কাজে বাইরে থাকাকালে হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককে আহত অবস্থায় পান। এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোতে এই ছুটি কার্যকর হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ছুটি শুরুর তারিখ ২৪ মে হলেও ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাস শেষে দীর্ঘ ছুটিতে যেতে পারবে। ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে ৭ জুন থেকে ক্লাস শুরু হবে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের অবকাশ উপভোগ করবে। অন্যদিকে দেশের আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতে ছুটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ছুটি থাকবে। ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুনের পর জুলাই ও আগস্ট মাসেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যেও ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মের তীব্রতা এবং ঈদুল আজহার ছুটি সমন্বয় করেই প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য এই দীর্ঘ অবকাশ নির্ধারণ করা হয়।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় আজ ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোটার ডেটাবেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য দেশের নির্বাচনী ডেটাবেজের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচনী ডেটাবেজের জন্য সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পে একটি আঞ্চলিক, তিনটি জেলা ও ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন ও কার্যালয় নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। ইভিএম, ব্যালট বাক্স ও ভোটার তালিকা সংরক্ষণেও এ প্রকল্প সহায়ক হবে। এদিকে আজকের সভার সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ। প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততা কমানো এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এখান থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া একনেক সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র উন্নীতকরণ, হাই-টেক সিটি-২ অবকাঠামো নির্মাণ, বিমসটেক সচিবালয় ভবন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট এ আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নকশা পুনর্বিন্যাস ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরুজা বেগম (৪০)। এর আগে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সকালে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি পাগলা কুকুর অল্প সময়ের মধ্যে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৩ জনকে কামড়ে আহত করে। অনেকের মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নন্দ রানী (৫৫), ফুলু মিয়া (৫২), রতনেশ্বর বর্মণ (৪২) ও আফরুজা বেগম (৪০)। আহতদের মধ্যে সুলতানা বেগম নামে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। আহতদের পরিবারের অভিযোগ, কুকুরের কামড়ের পর তারা দ্রুত ভ্যাকসিন নিলেও একের পর এক মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। অনেকেই বাইরে থেকে টাকা দিয়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, আক্রান্তরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কেন মৃত্যু হচ্ছে, তা তদন্ত করা জরুরি। এ বিষয়ে ইফফাত জাহান তুলি জানান, নিহতদের পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদেরও সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিস ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল, তবে আক্রান্তরা সেখানে চিকিৎসা নিতে যাননি বলে তিনি জেনেছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, আক্রান্তরা সঠিক সময়ে এবং যথাযথ নিয়মে ভ্যাকসিন নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সময়মতো কার্যকর ভ্যাকসিন নিলে সাধারণত র্যাবিসে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ‘ইতিহাস’ ও ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা। বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা আন্দোলনে তার অবদান এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে। এছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট নতুন বইয়ে স্থান পাচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, অংশগ্রহণ ও প্রভাবও সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত বা বিতর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক অধ্যায় নতুনভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পায়। নতুন বিজিএস বইয়ে বিশেষ একটি অধ্যায়ে ১০ থেকে ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনী ও অবদান তুলে ধরা হবে। এতে প্রাচীন বাংলার সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান, এ কে ফজলুল হক এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ বিভিন্ন সময়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও উপস্থাপনেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থনির্ভর চাপ কমিয়ে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ও জটিল বিষয় কমিয়ে বইগুলোকে আরও সহজবোধ্য, প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিমার্জিত বইয়ের কাজ শেষ করে জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও সহজবোধ্য করতে কাজ চলছে। আমরা এমন বই তৈরি করতে চাই, যাতে শিক্ষার্থীরা চাপের মধ্যে নয়, বরং আগ্রহ নিয়ে শিখতে পারে।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের টিকা নিয়ে দোষারোপের চেয়ে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “টিকা নিয়ে কে ভুল করেছে, সেটি খুঁজে বের করার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে।” মঙ্গলবার সরকারি ভ্যাকসিন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, হামের পর অনেক শিশুর নিউমোনিয়া জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং গুরুতর রোগীদের জন্য ভেন্টিলেশন সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক এর কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকার ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল ভ্যাকসিন পেয়েছে, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজের সমপরিমাণ। এছাড়া দেশে পোলিও ও অ্যান্টির্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন রোগীকেও টিকার বাইরে রাখা হবে না। যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে খুঁজে টিকা দেওয়া হবে।” তিনি জানান, বর্তমানে শুধু ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে জুন মাসের মধ্যে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। টিকা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংকট পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার পর সরকার তদন্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের টিকিট বুধবার (১৩ মে) বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে। রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজিও কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির আগেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটি কূটনৈতিক আলোচনা হবে। ‘নোম্যান্স ল্যান্ড (শূন্যরেখা)’ বজায় রেখে ভারত নিজেদের সীমানার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে সেটি নিয়েও আলোচনা করা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা তার ফলাফল সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো অঙ্গরাজ্যের একটি দলের বক্তব্যের জবাব আমরা দেব না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের ‘পুশইনের’ ব্যাপারে সতর্ক থাকা। বিজিবিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা এবং মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে-বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় কোথায় চাঁদাবাজি বেড়েছে, সে তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঈদুল আজহায় নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে সাতদিন করে ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এ সময় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার হটলাইন সক্রিয় থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধ কারখানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হবে। চামড়া যাতে পাচার না হয়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোয় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে। সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।
২০২৩ সালের ১৭ অগাস্ট ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি সব বাংলাদেশি নাগরিকের (বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব) জন্য ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’-এর যাত্রা শুরু হয়। শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটা করে শুরু করা ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে’ ৩২ মাসে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক, যাদের মাধ্যমে জমা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্রথম একবছরে এই স্কিমে যেখানে যুক্ত হয়েছিল প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ, সেখানে পরের ২০ মাসে এ সংখ্যা বেড়েছে কেবল পাঁচ হাজারের মত। সভায় দেখানো হয়, যাত্রার শুরু থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কর্তৃপক্ষের পুরনো তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত এক বছরে ‘জাতীয় পেনশন স্কিমে’ যুক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন। মোট জমার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই স্কিমের ভবিষ্যত নিয়ে সাধারণের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে। মঙ্গলবার বিকালে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের ওই সভা হয়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ভবিষ্যতের এই জনমিতি পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রী ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজনকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে মন্ত্রী ‘শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলেছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ নিয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এক ধরনের ‘অনিশ্চিয়তার’ মধ্যে ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ‘পেনশন স্কিমে’ জনগণের সাড়া তলানিতে নেমেছে। শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু করা হয়েছিল। গত জুলাইয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’স্কিম চালু করতে গিয়ে ধাক্কা খায় কর্তৃপক্ষ। অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে ওই প্যাকেজ চালু করা যায়নি।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। থার্ড টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ এভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বাটজা) নেতারা। ওই সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পের ইতিবাচক প্রচারে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা এবং তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। আফরোজা খানম রীতা বলেন, দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি এ খাতের ইতিবাচক দিকগুলো দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন। আলোচনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমানের বহর সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি শেষপর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও অপারেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে, পাশাপাশি ইমিগ্রেশন, লাগেজ হ্যান্ডলিং ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনায় রেখেই বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে এবং সেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আফরোজা খানম রীতা বলেন, আমরা মিক্সড ফ্লিটের কথা ভাবছি। চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ফের অস্বস্তি নেমে এসেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানিসংকটের কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২.৮২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাত এখন বহুমুখী সংকটে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি কমেছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১.৮৩ শতাংশ। বিশেষ করে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৪.৩৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক ইইউভুক্ত দেশগুলোতে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই অঞ্চলে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৫৪ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য। কিন্তু ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও বাসাভাড়ার বাড়তি চাপের কারণে সাধারণ মানুষ পোশাকসহ অপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের ওপর। এদিকে শুধু ইউরোপ নয়, অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও রপ্তানি কমেছে। গত ১০ মাসে এসব বাজারে রপ্তানি আয় ৫.৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৬ কোটি ডলারে। যদিও অপ্রচলিত বাজারগুলো বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ১৬ শতাংশের ভোক্তা, তবু সেখানে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। তবে কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়ে ৬২৯ কোটি ডলার, কানাডায় ১০৯ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ৩৬৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংকঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল কিনতেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। সুতা, কাপড়, রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি দাম দিতে রাজি নন। বরং তাঁরা কম মূল্যে পণ্য কিনতে চাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও রপ্তানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের পরিবর্তে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোয় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারছে না। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন পরিকল্পনা বারবার পরিবর্তন করতে হওয়ায় দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতাও কমে যাচ্ছে। পোশাকশিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দ্রুত বিকল্প উৎসর দিকে ঝুঁকে পড়ে। বর্তমানে ভিয়েতনাম, ভারত, চীন, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে। এসব দেশের অনেক কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা থাকায় তারা কম খরচে দ্রুত উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। নিট পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীম বলেন, ‘ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। এর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনায় সহজীকরণ নিশ্চিত করা এবং ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’ সব মিলিয়ে বলা চলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খাতটিকে বড় চাপে ফেলেছে। তবে সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বাজার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।