জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৬ জন

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জনের শরীরে।   অধিদপ্তরের হিসাবে, সারাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। আর হামের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৯ জনে।   রোববার অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ জন এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে রয়েছে।   এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৩, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে ২ জন করে মারা গেছে।   হামের লক্ষণ নিয়েও সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জনের প্রাণ গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৮, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৬১, খুলনায় ২৮ এবং রংপুর বিভাগে ৮ জন মারা গেছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৪১ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে ৮৮৯ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৮৭ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ৫৭, চট্টগ্রামে ১৯১, বরিশালে ১০৬, ময়মনসিংহে ৬০, খুলনায় ৪৬, রংপুরে ১২ জন রয়েছে।   ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৪৪ জন; যার মধ্যে ৭৯ হাজার ১৫২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।   একই সময়ে মোট সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জন এবং হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৪৭ তম বিসিএসে ১,৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করল পিএসসি

জুলাই অভ্যুত্থানে পাল্টে যাওয়া বাস্তবতায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দেড় বছরের বেশি সময় পরে আলোচিত ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি।   পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে চাকরিতে নিযোগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।   তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জনকে ক্যাডারে ও ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে।   রোববার বিকালে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি।   কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৪ এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১ হাজার ৩২০ জনকে ক্যাডার এবং ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।   ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।   সে বছরের ১০ ডিসেম্বর সকালে ১০টা থেকে অনলাইনে এ বিসিএসের আবেদনগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯ ডিসেম্বর তা স্থগিত করে পিএসসি।   পরে ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।   সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কমানো হয়। এ বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়। ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন করে ১০০০ করা হয়।   এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এ বিসিএসের আবেদন, চলে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।   প্রথমে ২০২৫ সালের ৮ অগাস্ট ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।   পরে ৪৩ দিন পিছিয়ে ওই বছর ১৯ সেপ্টেম্বর আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।   একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি, এতে ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়।   পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হলে প্রার্থীদের একাংশ তা পেছানোর দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে অনড় অবস্থানে থাকে পিএসসি। কয়েকদিন আন্দোলনের পর ওই প্রার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।   এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় গত ২৭ নভেম্বর। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হয়।   কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা চলে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।   গত ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষায় ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ফল প্রকাশ করা হয়। ১১ মে থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছিল কমিশন।   লিখিত পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া শেষ করে রোববার ফল প্রকাশ করা হল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থার প্রস্তাব জামায়াতের এমপি আজহারের

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দেশে ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বলে দাবি করে এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচার চেয়েছেন।   রোববার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন এবং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।   অতীতের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় অন্যায্য ছিল। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। তবে এ বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি; এ বিষয়ে আদালতের পূর্ববর্তী রায় বহাল রয়েছে।   প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে আজহারুল ইসলাম বলেন, বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত করতে দুর্নীতি দমন ও কর প্রশাসনের ডিজিটাল সংস্কার জরুরি।   তিনি আরও বলেন, সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ইসলামী বন্ড বা সুকুক-এর ব্যবহার বাড়িয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথ সম্প্রসারণ করতে পারে বলে মত দেন।   ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে বিনিয়োগ করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। এজন্য অর্থপাচার রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২-এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, সততা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাবনায় গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী স্বামীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামে গৃহবধূ পাপিয়া খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রবাসী স্বামী হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।   রোববার (২৮ জুন) দুপুরে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, পাপিয়া দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।   নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং এ নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের দাবি, এসব ঘটনার জের ধরে পাপিয়াকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মানববন্ধনে নিহতের চাচা আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, হত্যার অভিযোগে মামলা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।   এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দুপুরে দোগাছী ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাপিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা দেশের মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।’   রোববার (২৮ জুন) সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় নকল হয়নি, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো গণমাধ্যমে যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং হেফাজতে নেবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন করা হয়েছে।’   সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া সত্ত্বেও যারা ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালাবে, তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এনে শনাক্ত করা হবে। এ জন্য পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।   মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, আর আমরা কি চুপ করে বসে থাকব? এটা কোনো জোকস নয়, এটা শিক্ষা। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’   কলেজ জাতীয়করণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার ঢালাওভাবে কলেজ জাতীয়করণের পক্ষে নয়। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেই জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। তিনি জনস্বার্থ বিবেচনা না করে রাজনৈতিক কারণে কলেজ সরকারিকরণের সমালোচনাও করেন।   এ সময় শিক্ষা অধিদপ্তরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবির বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিজি অফিসে বসে কোনো ধরনের দালালি চলবে না।’   সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে রোববার সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
জাতীয় সংসদ
আগস্টেই গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১ লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ অনুযায়ী এই স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চউকের জমিতে ভাড়াভিত্তিক এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে। এদিকে, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী স্বীকার করেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম দূর করতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৬১ লাখ উপকারভোগী ৬৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, যার মোট বরাদ্দ চার হাজার সাতশ ৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং বরাদ্দ থাকবে পাঁচ হাজার দুইশ ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে ৭০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলটিং হিসেবে এরইমধ্যে তিনটি পর্যায়ে ৬৯ হাজার তিনশ ৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে, দেশের জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী খবরের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ববর্তী শেষ এবং অত্যন্ত জটিল ধাপ। মন্ত্রী বলেন, চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার এই ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দ নেই, সুদভিত্তিক অর্থনীতি বাতিলের দাবি জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমানের

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের কোনো উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতির তীব্র সমালোচনা করে দেশে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং মদ, বিড়ি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের আহ্বান জানান।   রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   বক্তব্যের শুরুতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিজয়ের পর আল্লাহর প্রশংসা ও নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। তবে সংসদে অনেকেই আল্লাহর প্রশংসার পরিবর্তে নেতানেত্রীর প্রশংসায় ব্যস্ত রয়েছেন, যা তিনি অনুচিত বলে মন্তব্য করেন।   প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে অপচয় রোধের কথা থাকলেও যাকাতের কোনো উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, নামাজ প্রতিষ্ঠা ও যাকাত চালুর মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হলেও বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দটিও উচ্চারণ করা হয়নি।   সুদভিত্তিক অর্থনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সুদের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে।   যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব, যা বাজেট ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে হানাফি, আহলে হাদিসসহ বিভিন্ন মতাদর্শের আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় যাকাত কমিটি অথবা সরকারের অধীনে পৃথক ‘যাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।   কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সুবিধা বাতিল করা উচিত। তার মতে, চোরাকারবারি ও লুটপাটের অর্থের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি দেশে মদ, বিড়ি ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবি জানান।   বক্তব্যে কওমি মাদ্রাসার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ সেখানে কোরআন-হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয়। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও পোশাক ও জুতার সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান।   শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এবং এমপিওভুক্ত নয় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্তসাপেক্ষে তিন ধাপে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।   এ ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সময়মতো মজুরি পরিশোধ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিজ এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।   মসজিদে রাজনীতি করা যায় না—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   বক্তব্যের শেষদিকে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয় ক্ষেত্রেই ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রতিমন্ত্রীর

বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা বার্ষিক ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। একই সঙ্গে তিনি এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ভিশনের বাস্তব প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে যখন পূর্বাচলের জনসমুদ্রে বলেছিলেন—‘I have a plan’, এই বাজেট সেই পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। লন্ডনের মতো উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে মডেলে রেখে বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।” উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাজের গতির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও দ্রুত জনবল, চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। ৬০০টি উপজেলা একসাথে সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’  রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও কর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। তবে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করা দরকার। কারণ বর্তমানে মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচে আয় করে জীবন চালানো কঠিন। উপজেলা পর্যায়েও এখন অনেক সক্ষম করদাতা আছেন, কর আহরণে সেখানে প্রয়োগের (এনফোর্সমেন্ট) দিকে জোর দিতে হবে।’   নিজের মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিদেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। আমার মন্ত্রণালয়ের বাজেট কিছুটা কমলেও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে কাজের প্রয়োজনে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে।’  কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর জায়গা। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে সব অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে সংলাপের মাধ্যমে তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’   চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানকার স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা খুবই করুণ। চরাঞ্চল নিয়ে একটি আলাদা ফাউন্ডেশন বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরি। অর্থমন্ত্রীসহ সহকর্মীদের অনুরোধ করব, আমাদের এলাকার উন্নয়নের কোনো চাহিদাপত্র গেলে যেন মানবিক দৃষ্টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’  

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। ফাইল ছবি
ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা: টিউলিপের শুনানি আবারও পেছাল

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।    রোববার (২৮ জুন) সকালে শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত এই তারিখ ধার্য করেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।    তিনি বলেন, আজকে মামলাটির চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এ মামলায় জামিনে থাকা আসামি মোশাররফ হোসেনের পক্ষে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নতুন করে এ দিন ধার্য করেন।   এর আগে, গত ৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এ বদলির নির্দেশ দেন।    গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ওই দিন আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।    অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।    আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২-এর ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর-বি/২০১, বাড়ি নম্বর-৫এ ও ৫বি (পুরনো), বর্তমানে-১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নম্বর-৭১) দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করান।   মামলার পর চলতি বছরের জুলাইয়ে আসামি শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়। গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে বন্ধ হয়েছে ৪৫৭ প্রতিষ্ঠান

কার্যাদেশের ঘাটতি, মালিকদের আর্থিক সংকট, শ্রম অসন্তোষ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই বছরে দেশের ৪৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।   শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট শিল্প খাতকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪৫৭টি কারখানার মধ্যে ৩৯৮টিই গাজীপুর, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে  অবস্থিত। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড ও ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত ১৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর প্রতিষ্ঠান দুটি স্থায়ীভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ দুই কারখানা বন্ধের ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৮৭টি তৈরি পোশাক খাতের বাইরে। বাকি কারখানাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ১০৮টি, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ৩৫টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য আটটি এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটির (বেপজা) আওতাধীন ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে উৎপাদন ও কার্যাদেশ কমে যাওয়ার কারণে ৭৯টি কারখানা মোট ৭ হাজার ৭৮৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। এর আগে বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হয়ে পড়া, ব্যাংকিং জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   তবে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছে। এ ছাড়া কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের জন্য আরও ৫ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল গঠন করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর কাছে বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা কারখানার তথ্য চেয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৪ জুন বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের কঠোর শর্তের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না।   বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নেই, আবার অনেকের সিআইবি প্রতিবেদনও সন্তোষজনক নয়। তিনি বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, কার্যাদেশ কমে যাওয়া, কিছু কারখানার অদক্ষতা, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করতে না পারাও কারখানা বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ।   বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদদোজা চৌধুরী জানান, প্রায় ২০০টি বন্ধ এবং ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ কারখানা সরকারের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যেসব কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কার্যকর মূলধন পেলে খুব দ্রুত কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, জামানতসংক্রান্ত শর্তের কারণে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সিএমএসএমই খাতের জন্য ৭ শতাংশ সুদে ঋণ এবং ন্যূনতম ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিজিএমইএ জানিয়েছে, আগ্রহী কারখানাগুলো পরিদর্শনে দুটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে সংগঠনটি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আজ আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস

বজ্রপাত একটি মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে মূল্যবান প্রাণ। অথচ সামান্য কিছু সতর্কতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই কমাতে পারে এই প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জেনে নিন বজ্রপাতের সময় কী করবেন, কী করবেন না এবং কেন সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বজ্রপাত একটি অত্যন্ত ভয়ংকর এবং প্রাণঘাতী ঘটনা। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।   এই ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয়। দিবসটি মানুষের মাঝে বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান এবং প্রাণহানি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।   আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের তাৎপর্য আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় দিবসটি মানুষের মাঝে সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। তাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বজ্রপাত কী এবং কেন ঘটে? বজ্রপাত হলো মেঘ ও মেঘের মধ্যে অথবা মেঘ ও ভূমির মধ্যে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। বজ্রঝড়ের সময় মেঘে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি জমা হয়। যখন এই শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন বিদ্যুতের তীব্র ঝলকানি সৃষ্টি হয়, যাকে বজ্রপাত বলা হয়। একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই বজ্রপাত মানুষের জীবন, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় করণীয় * দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান: বজ্রপাত শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব পাকা ভবন বা নিরাপদ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা বিপজ্জনক। * গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না: অনেকেই বৃষ্টির সময় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুতে আঘাত হানে, ফলে গাছের নিচে অবস্থান প্রাণঘাতী হতে পারে। * বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: বজ্রঝড়ের সময় টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে প্লাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। * মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ঘরের বাইরে অবস্থান করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ স্থানে থাকলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়ানো উচিত। * ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন: লোহার খুঁটি, তারের বেড়া, মোটরসাইকেল, সাইকেল বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। * জলাশয় থেকে দূরে থাকুন: নদী, পুকুর, হ্রদ কিংবা সুইমিং পুলে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় দ্রুত পানি থেকে উঠে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। * খোলা মাঠে থাকলে বিশেষ ভঙ্গি গ্রহণ করুন: যদি কোনো কারণে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়া যায়, তাহলে দুই পা একসঙ্গে রেখে নিচু হয়ে বসতে হবে এবং মাথা নিচু রাখতে হবে। মাটিতে পুরো শরীর শুইয়ে দেওয়া উচিত নয়। বজ্রপাতের সময় যা করা উচিত নয় * খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা। * উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া। * নৌকা বা জলযানে অবস্থান করা। * ধাতব ছাতা ব্যবহার করা। * বজ্রঝড় চলাকালে ছাদে বা খোলা বারান্দায় অবস্থান করা। * বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত টেলিফোন ব্যবহার করা। বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাংলাদেশ বিশ্বের বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে প্রাক-বর্ষা ও বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিকাজের সময় অনেক মানুষ খোলা মাঠে অবস্থান করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় * বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা। * গণমাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা বৃদ্ধি করা। * কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। * আবহাওয়া সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা। * স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি জোরদার করা। আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস শুধু একটি দিবস নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক উদ্যোগ। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও সঠিক জ্ঞান ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—নিজে সচেতন হবো, অন্যকে সচেতন করবো এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবো। সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করতে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাইনি, আত্মসম্মানবোধ রাখুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ উন্নয়নকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।   তিনি জানান, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি।’ তিনি জানান, করিডোর বিষয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো পরিবহন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চীন সফর থেকে তাৎক্ষণিক কী অর্জন হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাইনি। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অভিমুখ নির্ধারণ করা। সেই ভিত্তি তৈরি হলে অন্যান্য সহযোগিতাও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখুন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।’   তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু হবে।’   দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গেই এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন সব দেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে না। এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিফলন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না, সংসদ সদস্যদের স্পিকার

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   বাড়তি সময় চেয়ে তাকে বিব্রত না করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেছেন, ‘মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’   শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা হবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে।’   সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময় তিনি সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।   অসমাপ্ত বক্তব্য এড়াতে সংসদ সদস্যদের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে আপনাকে বসে যেতে না হয়।’   স্পিকার আরও বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক সমাপ্তির জন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের সময় স্টিক করতে হচ্ছে। সুতরাং আবারও বলছি, আপনারা অনুরোধ করে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ওই সময়ের মধ্যে দয়া করে বক্তব্য শেষ করবেন।’   এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাতেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করলে দ্রুত বাজেট আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে।’   ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম বক্তা ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনার সময় ছয় মিনিট। ছয় মিনিটে দয়া করে শেষ করবেন।’   নির্ধারিত সময় শেষ হলে বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে পরবর্তী বক্তাকে আহ্বান জানান স্পিকার।   এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সময় নাই।’   পরে ফজলুল হক আবার সময়ের আবেদন করলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
করিডোর বাস্তবায়ন হলে ২৪ ঘণ্টায় ট্রাকে চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাকযোগে বাংলাদেশের পণ্য চীনে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।   শনিবার (২৭ জুন) সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর একটি চীনা শিল্পপার্ক স্থাপনের বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়।   শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং বিধি-বিধান অনুসরণ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।   অনুষ্ঠানে তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অনলাইন জুয়া প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি জানান, কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে আরও দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, অপব্যবহারে ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সরকারি সুবিধার অপব্যবহার বা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হলে ভিসা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।   শনিবার (২৭ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করলে বা সেসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তা মার্কিন অভিবাসন নীতির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদ্যমান মার্কিন ভিসা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।   মার্কিন দূতাবাস ভ্রমণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সফরের আগে নিজের সব ধরনের ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবস্থানকালে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ভ্রমণ করতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চীন সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সফর চলাকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অন্য একটি দেশের সরকারপ্রধানকে অপেক্ষায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে।   শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার চুক্তি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, চীন কুনমিং থেকে বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।   ব্রিফিংয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। সফরকালে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে দুটি নোট অব ভার্বাল সই হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।   তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের নীতিগত প্রশ্নে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। পাশাপাশি ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-তে বাংলাদেশের সদস্যপদের আবেদনেও চীন সমর্থন দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান আটক, নিহত ১

সুন্দরবনে পরিচালিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে বাহিনীর সদস্য শওকত সরদার নিহত হন এবং আরও এক সদস্য ইসরাফিল হাওলাদারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়।   শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।   কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গভীরে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও নলিয়ান স্টেশনের সদস্যরা টানা দুই দিনের অভিযান শুরু করেন।   অভিযান চলাকালে দস্যুদের বহনকারী দুটি নৌযান শনাক্ত করে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দস্যুদের একটি নৌযানে আগুন লাগে এবং অপরটি ডুবে যায়। এ অভিযানে কোস্টগার্ড ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ও ২১৬ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে।   বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও শওকত সরদারকে উদ্ধার করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শওকতকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   এদিকে, পলাতক দস্যুদের ধরতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে ইসরাফিল হাওলাদারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।   কোস্টগার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের এবং উদ্ধার করা আলামত কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনী।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রায় ১৬ কোটি টাকা, ভাঙল আগের সব রেকর্ড

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। প্রায় ছয় মাস পর খোলা দানবাক্সগুলো থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপার সামগ্রীও পাওয়া গেছে।   শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে এ তথ্য জানান।   এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। সেখান থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ৪৩টি বড় বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে টাকা গণনার কাজ।   গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, মসজিদের ৩৫ জন কর্মী এবং জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কাজে সহযোগিতা করেন।   নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো কার্যক্রমে মাঠে ছিলেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।   জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলনই এই বিপুল দান। তিনি জানান, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপার সামগ্রী জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, এই তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যবহার করা হয় না। জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে এই অর্থ অনুদান হিসেবে ব্যয় করা হয়।   উল্লেখ্য, সর্বশেষ প্রায় ছয় মাস আগে দানবাক্স খোলার সময় ১৩টি দানবাক্স থেকে প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বুয়েটে ‘আবরার হল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলবেন শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি আবাসিক হলের নাম ‘আবরার হল’ রাখার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী বরাবর উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার মতে, আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহিংসতার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   শনিবার (২৭ জুন) বুয়েটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটে সংঘটিত আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড দেশের শিক্ষা ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। এ ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে একটি আবাসিক হলের নাম ‘আবরার হল’ রাখা যেতে পারে।   তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব অনুমোদন করলে ওই হলে আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে প্রতিবছর দুটি বিশেষ দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন সহিংসতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের নেতিবাচক দিক থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।   বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকৌশল শিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান।   তিনি আরও বলেন, দেশে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির লক্ষ্যে বুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম থাকার অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে জারি করা একটি অনুমোদনপত্রে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ১০ জনের নামে অনুদান মঞ্জুর করা হয়েছে।   ভাইরাল হওয়া তালিকায় প্রথম ও অষ্টম ক্রমিকে ‘ফাইজা’ নামের দুই ব্যক্তির জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একজন সংসদ সদস্যের মেয়ে বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি ওঠে, যা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়।   এ বিষয়ে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা দিতে ব্যক্তিগত সহকারীকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার দাবি, সহকারী পরিচিত কয়েকজনের নাম দিয়ে তালিকা জমা দিলেও তিনি তা যাচাই করার সুযোগ পাননি।   তিনি আরও জানান, এখনো ওই তহবিলের অর্থ বিতরণ করা হয়নি। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নতুন তালিকা পাঠিয়ে অনুদান বিতরণ করা হবে।   সমালোচনার জবাবে এমপি বলেন, জনগণের হকের একটি টাকাও তিনি বা তার পরিবারের কেউ গ্রহণ করবেন না। তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হলেও তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে মন্তব্য করেন।   জানা গেছে, ঐচ্ছিক তহবিলের আওতায় সদর উপজেলার ১০ জনের জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকার পৃথক বরাদ্দ তালিকাও রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ জনের লাশ ভাসার খবর গুজব: পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য বা অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসেনি। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায় পুলিশ।  পুলিশ জানিয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো তৎপর রয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৭, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি
শিক্ষা

অনিবার্য কারণে স্থগিত হলো মাদরাসার ২৮ জুনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬