ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। শনিবার পার্ক দেস প্রিন্সেসে সদ্য প্রমোশন পাওয়া ত্রয়কে ১-০ গোলে হারিয়েছে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ইউক্রেনের ডিফেন্ডার ইলিয়া জাবার্নি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নগর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির সঙ্গে শিরোপার লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে পিএসজি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি পিএসজির টানা ১১তম জয়। ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর লুইস এনরিকের অধীনে এই প্রথম টানা ১১ ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল প্যারিসের ক্লাবটি। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। দেজিরে দুয়ের দ্রুত নেওয়া কর্নার থেকে সেনি মায়ুলুর বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান জাবার্নি। তার এই গোলেই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের। তবে ম্যাচের আগে চোট ও খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কারণে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল পিএসজির স্কোয়াড। ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি খভিচা খাভারাস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, নুনো মেন্দেস, মাগনেস আকলিউশ ও অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমিকে বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং জোয়াও নেভেসকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। ম্যাচ শেষে টানা জয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কোচ লুইস এনরিকে। তার মতে, ফুটবলে একের পর এক ম্যাচ জেতা মোটেও সহজ নয়। তবে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে শেষ আটটি ম্যাচেই জয় পাওয়াকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বিরতি শেষে জাতীয় দল থেকে খেলোয়াড়েরা ফিরে এলে একই ধারায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তার। এদিকে গোল করার পর পিএসজির ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কিন্তু একাধিক ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফেরান তোরেস। মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচে সাত গোল করা এই ফরোয়ার্ড পরবর্তী আট ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। যদিও তোরেসের গোলখরা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এনরিকে। তার মতে, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, যা ইতিবাচক দিক। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ত্রয়। রেনোদ রিপার্তের একটি জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের শেষ দিকে লুকাস মারোনিয়ের করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে সমতায় ফেরার সুযোগও হাতছাড়া করে সফরকারীরা। অন্যদিকে একই দিনে নিজেদের ম্যাচে ওসেরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারিস এফসি। দলটির হয়ে জয়সূচক গোল করেন মালির ফরোয়ার্ড লাসিন সিনায়োকো। পাবলো পাজিসের সহায়তায় পাওয়া গোলটি চলতি মৌসুমে তার দুর্দান্ত ফর্মেরই আরেকটি উদাহরণ। ১০ ম্যাচে ৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ২৬ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। ১০ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে প্যারিস এফসি। ফলে দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে শিরোপার লড়াই ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর নিসের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিএসজি। এরপর নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার মুখোমুখি হবে তারা। সামনের ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা ধরে রাখাই এখন এনরিকের দলের প্রধান লক্ষ্য।
স্প্যানিশ ফুটবল লিগ লা লিগায় কোচদের জয়ের শতকরা হারের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন হোসে মরিনহো। পেপ গার্দিওলা, কার্লো আনচেলত্তি, জিনেদিন জিদান ও জাভি হার্নান্দেজের মতো তারকা কোচদের পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ এই কোচ। স্প্যানিশ ফুটবল পরিসংখ্যানবিদ মিস্টার চিপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লা লিগায় অন্তত ১০০ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এমন কোচদের মধ্যে মরিনহোর জয়ের হার সবচেয়ে বেশি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ১২৬ ম্যাচে ৯৭টি জয় পেয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ তার জয়ের হার ৭৭ শতাংশ। গার্দিওলা ও আনচেলত্তি রয়েছেন পরের অবস্থানে মরিনহোর পর তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পেপ গার্দিওলা। বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ১৫২ ম্যাচে ১১৬টি জয় নিয়ে তার জয়ের হার ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কার্লো আনচেলত্তি ২২৮ ম্যাচে ১৬২টি জয় পেয়েছেন। তার জয়ের হার ৭১ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া জাভি হার্নান্দেজের জয়ের হার ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ, জিনেদিন জিদানের ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং লুইস এনরিকের ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ফ্লিকের জয়ের হার বেশি, তবে ম্যাচের সংখ্যা কম বর্তমান কোচ হান্সি ফ্লিকের জয়ের হার এই তালিকার সবার চেয়ে বেশি। ৮৭ ম্যাচে ৬৯টি জয় নিয়ে তার জয়ের হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এখনো ১০০ ম্যাচ পরিচালনার মাইলফলক স্পর্শ না করায় মূল তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে টানা অষ্টম জয় রিয়ালের এদিকে লা লিগার দ্বাদশ রাউন্ডের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৬ মিনিটে আর্দা গুলার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৭৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি রিয়াল মাদ্রিদের টানা অষ্টম জয়। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে এই জয়ের খবরের পাশাপাশি মরিনহোর পুরোনো লা লিগা রেকর্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ম্যানচেস্টার সিটিকে চমকে দিয়ে শুরুতেই এগিয়ে গেল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। পরে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন লিয়াম দিলাপ। মাঝে একবার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও, ধারহীন পারফরম্যান্সে কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারল না এন্টসো মারেস্কার দল। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ৩-১ গোলে হেরে গেছে সিটি। প্রতিযোগিতাটিতে এটি তাদের টানা তৃতীয় হার। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, একটি শোধ করেছিলেন রায়ান শের্কি। গত মার্চে প্রিমিয়ার লিগে সিটিকে তাদের মাঠেই ২-২ গোলে রুখে দেয় ফরেস্ট। আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে এবার তারা পেল স্মরণীয় এক জয়। এদিনই হাল সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করে আর্সেনাল। ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট করল সিটি। আর্সেনালের সমান ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। রক্ষণের ভুলে ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে বসে সিটি। নিজেদের সীমানায় সতীর্থের পাস পেয়ে বল পায়ে রাখতে পারেননি ইয়োশকো ভার্দিওল। তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে, আরেকজনের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে নিচু শটে দলকে এগিয়ে নেন জাইর কুইয়া। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এই প্রথম গোল পেল ফরেস্ট। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাঝমাঠে তাদের সামান্য ভুলের সুযোগে বল ধরেই আক্রমণ শাণায় ফরেস্ট। মাঝমাঠের আগে থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দিলাপ, এবং জোরাল শটে ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়ান ইংলিশ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে আক্রমণে সাদামাটা সিটি ৪১তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পায়। গোলরক্ষক আগেই নিজের পজিশন থেকে সরে যান, সেই সুযোগে শট নেন হলান্ড; কিন্তু গোললাইনে সেটা আটকে দেন কুইয়া। দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পায় সিটি। জেরেমি ডোকুর বাঁ দিক থেকে বাড়ানো বল ফরেস্টের একজনের গায়ে ডি-বক্সের মুখে পান শের্কি, বুলেট গতির হাফ-ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি মিডফিল্ডার। খানিক পর গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন হলান্ড, কিন্তু তার একটু বাঁকানো শটটি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৬৭তম রক্ষণে আবার গড়বড় করে সিটি এবং বিপদেও পড়তে যাচ্ছিল তারা। ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরাল শট নেন রায়ান ইয়েটস, এবং বল এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পায়ে লেগে ওপরের জালে গিয়ে পড়ে। ওই যাত্রায় বেঁচে গেলেও, সাত মিনিট পর ঠিকই আবার দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সিটি। প্রতিপক্ষের একটি দুর্বল আক্রমণ রুখে, দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। সতীর্থের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দিলাপ। এবারের লিগে ফরেস্টের এটা দ্বিতীয় জয়। ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে আছে দলটি।
ভালেন্সিয়ার মাঠে ছন্দময় ফুটবল খেলল রেয়াল মাদ্রিদ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দর্শনীয় গোল করলেন ফেদে ভালভের্দে। জালের দেখা পেলেন আর্দা গুল্যার আর কিলিয়ান এমবাপেও। দারুণ জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনাকে ছুঁয়ে ফেলল জুজে মরিনিয়োর দল। প্রতিপক্ষের মেস্তায়া স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ৩-০ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। শেষ দিকে কিছু সময় একজন কম নিয়ে খেলেছে স্বাগতিক দল। গোল করে ও করিয়ে ম্যাচ সেরা হন গুল্যার। ভালভের্দে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান গুল্যার। তার পাস থেকে দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জিতল রেয়াল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতির আগে এটিই ছিল তাদের শেষ ম্যাচ। ১২ ম্যাচে ১০ জয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে দুইয়ে উঠেছে রেয়াল। ১১ ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। তাদের সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। রোববার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে রেয়াল। ভালেন্সিয়ার চার শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল। শুরুর কিছু সময় উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রেয়াল। অষ্টাদশ মিনিটে নিজেদের ভুলে উল্টো বিপদে পড়তে বসে তারা। বক্সের বাইরে অহেলিয়া চুয়ামেনির থেকে আলগা বল পেয়ে জোরাল শট নেন ভালেন্সিয়ার আরন মায়োয়। দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান তিবো কোর্তোয়া। দুই মিনিট পর রেয়ালের জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল পায়নি স্বাগতিকরা। ২৬তম মিনিটে ভালেন্সিয়ার বক্সের বাইরে এমবাপে ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় রেয়াল। ফরাসি তারকার শট রক্ষণ দেয়ালে লেগে ফেরার পর, বক্সের বাইরে থেকে জোরাল নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ভালভের্দে। গত বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এইকে এথেন্সের বিপক্ষে রেয়ালের ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচেও, শেষ সময়ে এভাবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শটে চোখধাঁধানো গোলে ব্যবধান গড়ে দেন উরুগুয়ের তারকা। রেয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা অন্তত দুই ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে গোল করলেন তিনি এই নিয়ে তৃতীয়বার। সবশেষ করেছিলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে, টানা তিন ম্যাচে। ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রেয়াল। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে জুড বেলিংহ্যামের কাটব্যাকে বল প্রতিপক্ষের পেয়ে লেগে একটু ওপরে উঠে যায়, ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন গুল্যার। ছয় মিনিট পর দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন তুরস্কের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। বক্সে ঢুকে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান ভালেন্সিয়া গোলরক্ষক। পরক্ষণে বক্সে বল পেয়ে উড়িয়ে মারনে অরক্ষিত ইয়ান ডিওমান্ডে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পরপর দুই মিনিটে দুটি সুযোগ পান এমবাপে। প্রথম দফায় ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ফরাসি তারকার প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক। একই জায়গা দিয়ে বক্সে ঢুকে ফ্রান্স অধিনায়কের আরেকটি শট আটকে দেন তিনি। ৬৫তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বেলিংহ্যামের নেওয়া শটও চমৎকার নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর এমবাপের ওভারহেড কিকে বল সরাসরি তার হাতে যায়। দুই মিনিট পর রেয়ালের বক্সে হানা দেয় ভালেন্সিয়া। দুরূহ কোণ থেকে দানজুমার শট নিচু হয়ে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ৭৫তম মিনিটে তৃতীয় গোল করা থেকে রেয়ালকে আর আটকে রাখতে পারেননি ভালেন্সিয়া গোলরক্ষক। ডান দিক থেকে গুল্যারের পাস বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে পাঠান এমবাপে। এই মৌসুমে লা লিগায় ১২ ম্যাচে তার গোল হলো ১৩টি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১০ ম্যাচে ১৫ গোল নিয়ে চূড়ায় বার্সেলোনা অধিনায়ক হাফিনিয়া। আর গুল্যার মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে চারটি গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করলেন সাতটি। ওই গোলের তিন মিনিট পর এমবাপেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ভালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার হোসে গায়া। বাকি সময়ে রেয়াল চাপ ধরে রাখলেও আর জাল খুঁজে পায়নি। ১২ ম্যাচের সাতটিতে হারা ভালেন্সিয়া ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের মধ্যে ১৯ নম্বরে আছে।
সংবাদ সম্মেলনে হুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে প্রশ্নে খুব ছোট করে উত্তর দিলেন দিয়েগো সিমেওনে। একই সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ বুঝিয়ে দিলেন, গ্রীষ্মের দলবদলে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও, কাতালান দলটির বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। গত জুনে ইএসপিএন-কে আলভারেস জানান, আতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়তে চান তিনি। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছিল যে, তার প্রথম পছন্দ ছিল বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া। তবে আতলেতিকো তাদের শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে আলভারেসকে ছাড়তে রাজি হয়নি। তারা ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত মেত্রোপলিতানোতেই থেকে যান ২৬ বছর বয়সি ফুটবলার। সেই নাটকীয় অধ্যায় শেষ হওয়ার পর প্রথমবার বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছেন আলভারেস। মাদ্রিদে রোববার মুখোমুখি হবে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল, যাদের মধ্যে ব্যবধান কেবল ২ পয়েন্টের। বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলার জন্য আলভারেস প্রস্তুত কি না- শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে সিমেওনে ছোট করে বলেন, “সে খুব ভালো করছে।” মৌসুমের শুরুতে ক্লাব ছাড়ার চেষ্টার কারণে আতলেতিকো সমর্থকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়েছিলেন আলভারেস। তবে পরবর্তীতে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। গ্রীষ্মের সেই ঘটনার জেরে মৌসুমের শুরুতে তিনি খুব কমই খেলার সুযোগ পান। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলেছে, আতলেতিকোর সবশেষ চার ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন এবং দুটি গোলও করেছেন। ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে আছে শিরোপাধারী বার্সেলোনা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আতলেতিকো। গত মৌসুমে লিগে দুইবারের দেখাতেই জিতেছিল বার্সেলোনা। তবে কোপা দেল রে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-দুটি প্রতিযোগিতা থেকেই ফ্লিকের দলকে বিদায় করে দিয়েছিল আতলেতিকো।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) লিওনেল মেসি যেন সব বাধাই ভেঙে চলেছেন। চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচটি তার নামের পাশে এমন দুটি অনন্য কীর্তি যোগ করতে পারে, যা লিগের দীর্ঘ ৩১ বছরের ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারই অর্জন করতে পারেননি। ৩৯ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক এই শেষ ম্যাচে মাঠে নামছেন ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক মহাকাব্য লেখার সুযোগ নিয়ে। ওয়ার্ল্ডসকারটকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি বর্তমানে ২৬টি গোল নিয়ে এমএলএসে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডালাস ফরোয়ার্ড পিটার মুসা ২২ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এর ফলে মেসির সামনে এমএলএস-এর ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ। লিগের ৩১ বছরের ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারই অর্জন করতে পারেননি। সেই সাথে এই পুরস্কারটি নিজের করে নিলে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে ২য় বার গোল্ডেন বুট জয়ী মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবেন। এর আগে প্রিকি, টেইলর টুয়েলম্যান, জেফ কানিংহাম, ক্রিস ওয়ন্ডোলোভস্কি এবং ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস রয়েছেন এই র্কীতি গড়েন। এই আর্জেন্টাইন তারকা চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির সাফল্যের মূল কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন। লিগে ৩০ ম্যাচে মাঠে নেমেই ২৬ গোল করার পাশাপাশি ১৪ গোলে সরাসরি সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেছেন তিনি। যা তাকে এ বছরের বর্ষসেরাসহ সব ধরনের ব্যক্তিগত পুরস্কারের প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে। আগামীকাল রোববার শার্লট এফসি-র বিপক্ষে চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি, যা মেসির সামনে মুসার ওপর গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ। ডালাসের স্ট্রাইকার যদি এই ব্যবধান কমাতে না পারেন, তবে গোল্ডেন বুট আবারো এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার হাতেই উঠছে। সেই সাথে যুক্ত হবে এমন এক অনন্য রেকর্ড, যা লিগের ইতিহাসের সেরা সেরা গোলদাতাদের কাছেও আজীবন অধরা রয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তিতে টুর্নামেন্টকে আরো বড় করার পরিকল্পনা ছিল ফিফার। ২০৩০ বিশ্বকাপে ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৪টি দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাবও উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্নির্বাচিত হলে বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন না বলে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের নিয়ে গঠিত ফিফা ব্যুরোর সদস্যদের এ কথা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার কথা তার। ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল)। বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইউরোপসহ কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। বিশ্বকাপের স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেই চাপ কমাতেই তিনি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে ধারণা দ্য টাইমসের। এ বিষয়ে ফিফার কাছে জানতে চেয়েছিল দ্য টাইমস। তবে সংস্থাটির কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ফিফা কাউন্সিল ও কাউন্সিল ব্যুরোর অভ্যন্তরীণ আলোচনা আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী গোপনীয়।’ ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।
বয়স যে কেবলই সংখ্যা, তা যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন কাজুইয়োশি মিউরা। ৫৯ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে মাঠে নেমে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন জাপানের এই গ্রেট ফুটবলার। জাপানের তৃতীয় বিভাগের লিগে শনিবার ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামেন ‘কিং কাজু’ নামে পরিচিত এই ফুটবলার। সবচেয়ে বেশি বয়সে জে-৩ লিগে খেলার কীর্তি এখন তার। এফসি রিউকিউয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জেতা ম্যাচে বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মিউরাকে নামান ফুকুশিমার কোচ। এদিন তার বয়স হয়েছে ৫৯ বছর ৮ মাস ১২ দিন। পেশাদার ফুটবলে মিউরা ৪২তম মৌসুমে খেলছেন। জাপানের লিগে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। ২০২১ সালের পর কোনো লিগ ম্যাচে এটাই ছিল তার প্রথম উপস্থিতি। সেবার মূল ক্লাব ইয়োকোহামা এফসির হয়ে জাপানের শীর্ষ লিগে একবার খেলেছিলেন এই স্ট্রাইকার। গত মৌসুমে আয়োজিত বিশেষ টুর্নামেন্টে ছয়টি ম্যাচ খেলেন মিউরা। তবে সেগুলো আনুষ্ঠানিক লিগ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। টানা পাঁচটি দশকে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন মিউরা। গত জুলাইয়ে এম্পেরর’স কাপে গোল করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোলের প্রায় চার বছরের অপেক্ষার ইতি টানেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ভুগতে হলো আর্সেনালকে। তবে সময়ের সঙ্গে জ্বলে উঠল তারা, এবং দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দিলেন মার্টিন ওদেগোর। লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল মিকেল আর্তেতার দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। ১০ ম্যাচে ৯ জয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ম্যাচ শুরু হতেই আর্সেনালের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় মিনিটে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান জন ইগান, তবে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। ১৯তম মিনিটে আবার সুযোগ তৈরি করে প্রিমিয়ার লিগে ফেরা দলটি, তবে আরেক ডিফেন্ডার এলিয়টের শট রুখে দেন দাভিদ রাইয়া। শুরুতে এলোমেলো আর্সেনাল নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পর চাপ বাড়ায়। বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য করলেও, প্রথমার্ধে খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। ডেক্লান রাইস একবার সম্ভাবনা জাগালেও, তার নিচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে ৪৩তম মিনিটে ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের বাধায় কাই হাভার্টজ পড়ে গেলে। পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে আর্সেনাল। তবে ভিএআর রিপ্লেতে দেখা যায় এই ফরোয়ার্ড অফসাইডে ছিলেন। ৫৭তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো আর্সেনাল। বিপজ্জনক জায়গায় ফাঁকায় বল পান ননি মাদুয়েকে, জোরাল শটও নেন তিনি। দারুণ দৃঢ়তায় পা দিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক। ৭২তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় আর্সেনাল। মাদুয়েকের পোস্ট ঘেঁষে নেওয়া জোরাল শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে আটকালেও, দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। আলগা বল গোলমুখে ছুটে গিয়ে শটে জালে পাঠান ওদেগোর। ছয় মিনিট পর মিকেল মেরিনোর জোরাল শট দারুণ নৈপুণ্যে রুখে ব্যবধান বাড়তে দেননি হাল সিটির গোলরক্ষক। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে ওয়ান-অন-ওয়ানে মাদুয়েকের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন তিনি। আর গোল না হলেও, বাকি সময়ে প্রতিপক্ষকে তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেনি হাল সিটি। ১০ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ১৩ নম্বরে আছে হাল সিটি।
লিভারপুল নারী দলের অধিনায়ক গ্রেস ফিস্কের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে নতুন চুক্তির মেয়াদ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি লিভারপুল। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড থেকে লিভারপুলে যোগ দেন ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার। এরপর থেকে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির হয়ে খেলছেন তিনি। চুক্তি নবায়নের পর ক্লাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিস্ক জানিয়েছেন, লিভারপুলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তার কোনো সংশয় ছিল না। ক্লাব ও শহরের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ফিস্ক বলেন, প্রতিদিন এই ক্লাবে থাকতে পারা তার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। মেলউডকে অসাধারণ জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শহরটিও তার কাছে নিজের বাড়ির মতো। তাই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর সময় থেকেই লিভারপুলে থাকার সিদ্ধান্ত তার কাছে পরিষ্কার ছিল। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট হ্যাম থেকে যোগ দেওয়ার পর লিভারপুলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৮৩টি ম্যাচ খেলেছেন ফিস্ক। এ সময়ে তার গোলসংখ্যা পাঁচ। ২০২৫ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর নিজের দায়িত্ব ও প্রত্যাশা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ফিস্ক। তবে সতীর্থদের সহযোগিতায় সেই দায়িত্ব পালন সহজ হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। দলের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং একসঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক পরিবেশও লিভারপুলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান এই ডিফেন্ডার।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে দেখা যাবে না এই মহাতারকাকে। পর্তুগালের জার্সিতে অসংখ্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে এমন নয়টি রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো অদূর ভবিষ্যতে ভাঙা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ১৪৬। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি ২০ গোল পিছিয়ে। আর সাবেক ইরানি ফুটবলার আলী দাইয়ি রয়েছেন রোনালদোর চেয়ে ৩৮ গোল পেছনে। বর্তমানে সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোর সবচেয়ে কাছাকাছি বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। তার গোল ৯৪টি। ৩৩ বছর বয়সে এসে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কির গোলসংখ্যা ৯২। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকেও রোনালদোকে ছাড়িয়ে যেতে আরও ৫০টির বেশি গোল করতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি খেলেছেন ২০৮ ম্যাচ। রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদরিচও তার চেয়ে ২৮ ম্যাচ পিছিয়ে। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কাতারের হাসান আল হায়দোস ১৯৩ ম্যাচ নিয়ে রোনালদোর কাছাকাছি রয়েছেন। তবে শীর্ষস্থান পেতে তাকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ৩০ বছর বয়সের পর সর্বোচ্চ গোল বয়স বাড়ার সঙ্গে রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি, বরং ক্যারিয়ারের পরের অংশে আরও বেশি গোল করেছেন তিনি। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৯৪। অথচ এর আগে করেছিলেন ৫২ গোল। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসি ৩০ বছর বয়সের পর করেছেন ৬৮ গোল। ফলে রোনালদোর এই কীর্তি অতিক্রম করা সহজ হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও মাত্র চারজন ফুটবলার ৯৪ বা তার বেশি গোল করেছেন। যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেই ম্যাচের সংখ্যায় শীর্ষে পর্তুগালের হয়ে ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করেছেন রোনালদো। দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদো ছাড়াও লিওনেল মেসি ও আলী দাইয়ি এই কীর্তি গড়েছেন। সর্বাধিক ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন রোনালদো। এ ক্ষেত্রে মেসির চেয়ে তিনটি বেশি দলের বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসানো সহজ হবে না। টানা বিভিন্ন বছরে গোল করার কীর্তি রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হলো, ২৩ বছরের প্রতিটি বছরেই তিনি গোল করেছেন। অর্থাৎ দুই দশকের বেশি সময় ধরে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন পর্তুগিজ তারকা। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো ফুটবলারকে খুব অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে শুরু করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যেতে হবে। মাঝখানে কোনো বছর গোলশূন্য থাকা চলবে না। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ইউরোর বিভিন্ন আসরে তার গোলসংখ্যা ১৪। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি করেছেন ৯ গোল। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন সাতটি করে গোল নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন। রোনালদোর রেকর্ড ছাড়াতে তাদের আরও আটটি গোল করতে হবে। ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর। এই প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন। একটি আসরে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে কোনো দল সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো খেলোয়াড়কে একাধিক আসরে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে দলকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ কারণে রেকর্ডটি অতিক্রম করা বেশ কঠিন। বিশ্বকাপের ছয় আসরেই গোল বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে রোনালদো ও মেসির। তবে প্রতিটি আসরেই গোল করার দিক থেকে রোনালদো এগিয়ে। এই রেকর্ড ছুঁতে হলে একজন ফুটবলারকে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হবে। পাশাপাশি তার দলকে ছয়টি বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং প্রতিটি আসরেই তাকে গোল করতে হবে। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রতিটিতে গোল করার কীর্তি গড়া যে আরও কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে আরও একজন পেসার রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তবে তার এই মতের সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বরং দুই পেসারের সঙ্গে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্তকেই সঠিক মনে করছেন তিনি। তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানিয়েছিলেন, একাদশে আরেকজন পেসার থাকলে দলের জন্য ভালো হতো। তবে কোচ সিমন্স মনে করেন, বর্তমান বোলিং সমন্বয়ই দলের জন্য উপযুক্ত। এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, দুই পেসার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই। তার বিশ্বাস, দলের স্পিনারদের আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর সামর্থ্য রয়েছে। ঢাকায় এবং চলতি ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও তারা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। আগেরবার পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠে স্পিনারদের ভালো পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন স্পিনারের সামর্থ্য কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ কোচ। এদিকে ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তাওহিদ হৃদয়। তার ডাবল সেঞ্চুরি নিয়েও কথা বলেন সিমন্স। ব্যাটারদের নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না দিয়ে নিজেদের সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার কথা জানান তিনি। সিমন্স বলেন, মাঠে ব্যাটারদেরই নিজেদের দায়িত্ব নিতে হয় এবং পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে হয়। কোচিং স্টাফের কাজ হলো খেলোয়াড়দের সেই আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করা। তিনি আরও বলেন, এই ম্যাচের পরিস্থিতিতে ব্যাটারদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা প্রয়োজন ছিল। আগেরবার এই মাঠে লিটন দাসও সেঞ্চুরি করে একইভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দলের বিশ্বাস ছিল, পরবর্তী ব্যাটাররাও সুযোগ পেলে দায়িত্ব নিয়ে ভালো করতে পারবেন।
জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড লাইনে অন্যতম ভরসা শেখ মোরসালিন। ২০২৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরু সাফে জাতীয় দলে তার পথচলা শুরু। গত পরশু ঢাকায় শুরু হওয়া সাফে মোরসালিন খেলতে পারেননি। আজ জাতীয় দলের অনুশীলনে সাংবাদিকদের মোরসালিন বলেন, ‘আগের সাফ থেকে আমার জাতীয় দলে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা ট্রফি নিতে পারিনি। সুতরাং আমি মনেপ্রাণে চেয়েছি যে পরবর্তী সাফে যেভাবে হোক ট্রফি নিতে চাই। বিশেষভাবে এটা আমার ইচ্ছা ছিল, এখনও আছে। সুযোগ পেলে আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আর অবশ্যই আমাদের এবার ট্রফি নিতেই হবে। আমাদের ঘরের মাঠে খেলা, তাই এখন এটাই আমাদের সবার লক্ষ্য।’ মোরসালিন ভুটান ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি বলে জানা গিয়েছিল। এনিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনজুরি না, আমার একটু জ্বর ছিল। আলহামদুলিল্লাহ আরও চার-পাঁচ দিন আগে আমি সেরে উঠেছি। তাই আমি এখন একদম শতভাগ ফিট, আশা করছি আমি সুযোগ পেলে ভালো করব ইনশাআল্লাহ।’ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করা বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্রাইকারের অভাবে ভুটানের বিপক্ষে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। মোরসালিন সুযোগ পেলে গোলখরা কাটাতে বদ্ধপরিকর, ‘অবশ্যই, আমি যখন যেখানেই যতটুকু সুযোগ পাই, সবসময় চেষ্টা করি শতভাগ দেওয়ার জন্য। তাই আমি সুযোগ পেলে আমার জায়গা থেকে সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে প্রবাসী অনেক ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে। এ নিয়ে বিচলিত নন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড, ‘আমরাও একমত যে শ্রীলঙ্কার দল আসলেই খুবই ভালো। তো আমরা কোনোভাবেই তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমরা ওইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেহেতু আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন ভালো। সবাই ভালো একটা অবস্থানে আছে। আমরা আশা করছি জিতব এবং জেতার জন্যই আমরা পরের ম্যাচ খেলব ইনশাআল্লাহ।’ সাফে স্কোয়াড ২৮ জনের। কিন্তু হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী এখনও দলে যোগ দেননি। জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এই দুজনের সম্পর্কে বলেন, ‘ফিফা উইন্ডো শুরু না হওয়ায় তারা আসতে পারেনি। হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী আগামী পরশুদিন ৯ তারিখ ঢাকায় আসবে ইনশাআল্লাহ। এবং আপনারা আগামী ৯ তারিখে প্র্যাকটিসে আসলেই তাদেরকে দেখতে পারবেন।’ তপু বর্মণের ইনজুরি সম্পর্কে ম্যানেজার জানান, বিদেশি ফিটনেস কোচ তার তত্ত্বাবধান করছেন।
ম্যানচেস্টার সিটিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার সুযোগ না পাওয়ায় ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইংলিশ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। গত মৌসুমে সিটির হয়ে অধিকাংশ সময় বেঞ্চে কাটানোকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। নিয়মিত মাঠে থাকার সুযোগ পেতে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিডস ইউনাইটেডে যোগ দেন এই গোলরক্ষক। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বার্নলি থেকে ট্রাফোর্ডকে আবার দলে ফেরায় ম্যানচেস্টার সিটি। এর আগে ২০২৩ সালে সিটির একাডেমি ছেড়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দল বার্নলিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে সিটিতে ফেরার ছয় সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পিএসজি থেকে ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে দলে ভেড়ায় ক্লাবটি। দোন্নারুম্মা দ্রুতই সিটির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হয়ে ওঠেন। মৌসুমের শুরুতে তিনটি ম্যাচ খেললেও পরবর্তী ৩৫টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে শুরুর একাদশে সুযোগ পান ট্রাফোর্ড। ‘দ্য ফুটবল ইন্টারভিউ’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ট্রাফোর্ড বলেন, মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার অনুভূতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে মানসিকভাবে নিজেকে সামলে রাখতেন বলেও জানান তিনি। নিজের হতাশার কথা জানাতে নিয়মিত বাবা-মা, স্ত্রী ও বন্ধুদের ফোন করতেন এই গোলরক্ষক। ট্রাফোর্ডের মতে, একজন ফুটবলারের মানসিক সুস্থতা ও ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য নিয়মিত খেলার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি সপ্তাহে মাঠে নামতে না পারলে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি তৈরি হতো বলেও জানান তিনি। নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়ার লক্ষ্যেই ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এত দিন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর ধরে অক্ষত ছিল সেই রেকর্ড। তবে সিলেটের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন হৃদয়। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামাল দেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ২১৯ রানের মাইলফলক ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। হৃদয়ের রান এখন ২২৩। এর আগে মুশফিকের ছিল ২১৯। বাংলাদেশের রানও এখন ৩৬২। প্রথম ইনিংসে ৬ রানের লিড পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জোমেল ওয়ারিক্যানের টসড আপ ডেলিভারিটা লং অনে ঠেলে দিয়েই একটা রান তুলে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়া হয়ে গেল তাওহিদ হৃদয়ের, ইতিহাসও গড়ে ফেললেন তাতে। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অভিষেক সেঞ্চুরিকেই রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। সেঞ্চুরির দেখা লাঞ্চের আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার ব্যাট চওড়া হয়েছে। তবে সময়ে সময়ে রয়ে-সয়েও খেলেছেন। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে তিনি একাই খেলেছেন ১১৮ টি ডেলিভারি। এই সময়ে তিনি রান তুলেছেন ৯০, যার ১০টি এসেছে শেষ দুই বলে। সেশনটা তিনি শেষ করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ১০ রানের দূরত্বে থেকে। তৃতীয় সেশনে অপেক্ষাটা খুব বেশি বড় হতে দেননি হৃদয়। এই সময়ে আরও একটি চার মেরেছেন, ১৫ বল খেলে পৌঁছে গেছেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তাতেই প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার বনে গেছেন তিনি। প্রথম সেঞ্চুরিতে সবচেয়ে বড় ইনিংসের রেকর্ডটা এতদিন ছিল মুমিনুল হকের। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ১৩ বছর পর এই রেকর্ডটি নিজের করে নেন হৃদয়, সেটাও অবশ্য দ্বিতীয় সেশনের ঘটনা। তৃতীয় সেশনের শুরুতে এবার এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা কখনোই দেখেনি বাংলাদেশ। এবার তার সামনে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলার চ্যালেঞ্জ। আর ২০টি রান করলেই তিনি গড়ে ফেলবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরের রেকর্ড। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রান করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম।
শামার জোসেফের ডাউন দ্য লেগ বলটা ফ্লিক করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন স্কয়ার লেগে। সুযোগ ছিল একটা সিঙ্গেলের। সেটা নিয়ে নিলেই মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন। কিন্তু তাওহিদ হৃদয় সুযোগটা নেননি। হাতে যখন উইকেট আছে মোটে ২টি, তখন কোনো ওভারের শুরুতে টেল এন্ডারকে স্ট্রাইক দিয়ে দেওয়াটা শেষ স্বীকৃত ব্যাটারের কাজ নয়। পরের বলেই পিচড আপ ডেলিভারি পেলেন, দারুণ টাইমিংয়ে তা পাঠালেন মিড উইকেট দিয়ে সীমানার বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ১৫০-তে রূপ দেওয়া হয়ে গেল তাওহিদ হৃদয়ের। তাতে একটা রেকর্ডও গড়া হয়ে গেল তার, এমন এক রেকর্ড যা বাংলাদেশ দেখেনি আর কখনো। সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ১৫০’র দেখা পাওয়া বাংলাদেশি ব্যাটার বনে গেছেন হৃদয়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে প্রথম ১৫০'র দেখা পেয়ে গেছেন তিনি। সিলেটের উইকেটটা এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ অনুকূল। তবে পরিস্থিতিটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে। একটা সময় তো ফলো অনে পড়াটাকেও খুব সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। তবে হৃদয় শুরুতে সে শঙ্কাটাকে বিদায় করেছেন। ওপাশে সতীর্থদের ফেরা দেখেছেন একে একে, একটা সময় ১৮৪ রান তুলতেই চলে গিয়েছিল ৭ উইকেট। সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে পারবেন না এই ইনিংসে, যার ফলে উইকেট একটা নেই হয়ে আছে ব্যাটিং শুরুর আগেই। ফলে উইকেট হাতে ছিল আর মোটে ২টি। এমন সময় তাইজুলকে পেলেন। এই জুটিতে দারুণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন। জুটির দুই তৃতীয়াংশ ডেলিভারি তিনিই খেললেন। সেঞ্চুরিটা প্রথম সেশনেই পেয়ে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সেশনে নেমে শুরু করলেন আক্রমণ। সেঞ্চুরি যেখানে ছুঁয়েছিলেন ১৭১ বলে, সেখান থেকে আর ৬৪ বল খেলে ছুঁয়েছেন ১৫০’র মাইলফলক। এই সময়ে ৩টি চারের পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন ৪টি বিশাল ছক্কা। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ১৫০ পাওয়া ক্রিকেটারটি এর আগ পর্যন্ত ছিলেন মুমিনুল হক। চতুর্থ টেস্টে এই নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে তিনি খেলেছিলেন ১৮১ রানের ইনিংস। সেই রেকর্ডের ১৩ বছর পর এবার তা কেড়ে নিলেন হৃদয়।
ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলে একসঙ্গে দুই ভাইয়ের খেলার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়নি। এবার সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হওয়ার অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন জুড বেলিংহামের ছোট ভাই জুব বেলিংহাম। ফলে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুই ভাইকে একই সঙ্গে মাঠে দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। এই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। তার সঙ্গে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুব। সাম্প্রতিক সময়ে অনূর্ধ্ব-২১ দল ও ডর্টমুন্ডের হয়ে নজর কেড়েছেন জুব। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। একই স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন আরেক মিডফিল্ডার জশ কিংও। ইংল্যান্ডের হয়ে এর আগে মাত্র দু’বার দুই ভাইকে একসঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে দেখা গেছে। প্রথম ঘটনাটি চার্লটন ভাইদের। জ্যাক ও ববি চার্লটন পাঁচ বছর একসঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। এরপর ২৬ বছরের বিরতি। দ্বিতীয়বার এই নজির গড়েন ফিল ও গ্যারি নেভিল। দুই ভাই ১১ বছর একসঙ্গে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারেন জুড ও জুব বেলিংহাম। আসন্ন দুই ম্যাচের যেকোনও একটিতে একসঙ্গে মাঠে নামলেই ইংল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার ঘটনা ঘটবে।
কোচ জিনেদিন জিদানের প্রথম ফ্রান্স স্কোয়াডে অনুপস্থিত থাকলেও, এবার দলে ফিরেছেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। তিনিসহ রেয়াল মাদ্রিদের চার ফুটবলার ডাক পেয়েছেন আসন্ন দুই ম্যাচের দলে। যেখানে নতুন মুখ পাবলো পেজিস। উয়েফা নেশন্স লিগে ইতালি ও তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য শুক্রবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন জিদান। রেয়াল মাদ্রিদ থেকে চুয়ামেনির সঙ্গে আরও আছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও ইব্রাহিমা কোনাতে। স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক প্যারিস এফসির ২৩ বছর বয়সি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পেজিস। এই মৌসুমে লিগ আঁয় ৯ ম্যাচে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। চুয়ামেনির মতো দলে ফিরেছেন মার্কাস থুরামও। চোটের কারণে দলে নেই উসমান দেম্বেলে, উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দের মতো খেলোয়াড়রা। আগামী বৃহস্পতিবার ইতালির মাঠে খেলবে ফ্রান্স। এর তিন দিন পর ঘরের মাঠে তুরস্কের মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বকাপজয়ীরা। নেশন্স লিগে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ফ্রান্স। ৭ পয়েন্ট নিয়ে ইতালি দুইয়ে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম তিনে আছে। চার ম্যাচেই হেরে তলানিতে তুরস্ক। শীর্ষ দুই দল উঠবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। প্রত্যেকেরই ম্যাচ বাকি আছে দুটি করে।
ব্যাটের পাশ দিয়ে বল যাওয়ার সময় আঙুল দিয়ে ব্যাটের কানায় লাগার মতো শব্দ করতেন ব্রায়ান ডিভাইন। তাতে ব্যাটসম্যানদের আউট দিতেন আম্পায়ার। অভিনব এই প্রতারণা করার দায়ে কঠোর শাস্তি পেয়েছেন ‘ক্লিকি পন্টিং’ নামে পরিচিত ইংলিশ ক্রিকেটার। ৩৮ বছর বয়সি ডিভাইনকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহ্যাম ক্রিকেট লিগ। সঙ্গে তার ক্লাব সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব দ্বিতীয় একাদশকে তৃতীয় বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারের ইংলিশ গ্রীষ্মে এমন কাণ্ড ঘটান ডিভাইন। তার ওই প্রতারণা প্রথম সামনে আসে নর্টন ক্রিকেট ক্লাবের এক খেলোয়াড়ের পোস্ট করা ভিডিওর মাধ্যমে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একসঙ্গে কট বিহাইন্ডের আবেদন করছেন কিপার ও স্লিপ ফিল্ডার। আম্পায়ার আউট দিলে ব্যাটসম্যানকে হতবাক দেখায়। ভিডিওটি পোস্ট করা নর্টনের ওই খেলোয়াড় ঘটনাটিকে নিজের দেখা ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আরও কিছু প্রমাণ সামনে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্ডন রেলওয়ে ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে সল্টবার্নের একটি ম্যাচের ফুটেজ। ওই ম্যাচে সল্টবার্নের কিপার আটটি ক্যাচ ধরেন, যা টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ সাতটি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। ডিভাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে, লিগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করে তার ক্লাব। কয়েক দফায় খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার, লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ এবং তিন সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির ভিডিও পর্যালোচনার পর, ডিভাইন ও সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব- দু’পক্ষই অসদাচরণের অভিযোগ স্বীকার করে নেয়। এখন থেকে ২০২৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আওতাধীন কোনো ধরনের ক্রিকেটই খেলতে পারবেন না ডিভাইন। এমনকি এই সময়ে কোচিং, আম্পায়ারিং, স্কোরিং এবং বয়সভিত্তিক দল পরিচালনাও করতে পারবেন না তিনি। শাস্তির বিরুদ্ধে শুরুতে আপিল করেছিল সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ৩০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। অবনমনের পাশাপাশি ক্লাবটিকে ২০২৭ মৌসুম শুরু করতে হবে ৬০ পয়েন্ট কম নিয়ে। এর ফলে আগে তৃতীয় বিভাগে নেমে যাওয়া মিডলসব্রো ক্রিকেট ক্লাব দ্বিতীয় বিভাগে নিজেদের জায়গা ধরে রাখল।
কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর পর্তুগাল জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেও, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে এখনও অনেক কিছু পাওয়ার আছে বলে মনে করেন জুজে মরিনিয়ো। তাই এটিকে ঠিক ‘অবসর’ হিসেবে দেখতে রাজি নন তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের চাওয়া একটাই- ফুটবল থেকে এই মহাতারকার বিদায় যেন এবারের চেয়ে ভিন্ন হয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে অনুমতি ছাড়াই রোনালদো পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান এবং আর ফেরেননি। পরবর্তীতে তিনি অভিযোগ করেন, কোচ জর্জে জেজুস তাকে দেওয়া কথা না রাখায় তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই ঘটনায় পরে তাকে এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। অনেকে ভেবেছিলেন, রোনালদো হয়তো ভবিষ্যতে আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। কিন্তু ৪১ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন। লা লিগায় ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর অবসর নিয়ে প্রশ্নে নিজের অভিমত তুলে ধরেন মরিনিয়ো। “এটি অবসর নয়। তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়নি। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন যে, তার ক্যারিয়ারে এখনও অনেক লক্ষ্য অর্জন করা বাকি আছে। “আমি চাই, যেদিন সে ফুটবল থেকে চূড়ান্ত অবসর নেবে, সেই দিনটি যেন গতকালের (জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার) চেয়ে ভিন্ন হয়।” ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রেয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর কোচ ছিলেন মরিনিয়ো। ক্যারিয়ারে হাজার গোলের পথে ছুটে চলা রোনালদো ভবিষ্যতে কোচ হতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সবকিছু সময়ের হাতে ছেড়ে দেন মরিনিয়ো। “তার মনে কী চলছে, আমি জানি না। তবে এ বিষয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি, কারণ সে এখনও একজন ফুটবল খেলোয়াড়।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।