আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে নবম দল হিসেবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল আফগানিস্তান। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে আর একটি দল। সেই স্থানের জন্য লড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। এজন্য তাদের হাতে সময় আর দেড় মাসের একটু বেশি। আয়োজক হওয়ার কারণে আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে দশটি দল। আয়োজক দুই দল বাদে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের কাটঅফ টাইমের মধ্যে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা দল বিশ্বমঞ্চে খেলবে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে জিম্বাবুয়ে সেরা দশের বাইরে থেকেও অংশ নিচ্ছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা সেরা আটের মধ্যে থাকায় নবম স্থানে থাকা একটি দল সুযোগ পাবে, সেই স্থানের জন্য লড়তে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশকে। বর্তমানে বাংলাদেশ যোগ্য দল হিসেবে ৯ নম্বরেই আছে। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ থাকায় তাদের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। কাটঅফ সময়ে বাংলাদেশের ভারত সিরিজ খেলার কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপের মধ্যে রয়েছে। তবে এই সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের ভূমিকা। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হবে ভারত সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট হারানো। ভারত যদি সিরিজটি জিতে নেয়, তাহলে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারে। ভারত সিরিজ শেষ পর্যন্ত না হলে বাংলাদেশের নজর থাকবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেলে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি হবে। অর্থাৎ নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার দৌড়ে তাই বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য সিরিজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা অথবা ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ক্যারিবীয়দের পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকা।
কানাডা থেকে দেশে আসার পথে ইতালির রোমে ফ্লাইট জটিলতায় পড়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলার কাজেম শাহ। কাজেমের সাথে তার বাবা সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহ, মা এবং বোনও রয়েছেন। ইতালির রোম থেকে কাজেমের বাবা হালিম শাহ বলেন, টরেন্টো থেকে বাংলাদেশ বিমানে রোমে আসার পর বিমানে আট ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। বিমানের জটিলতার কারণে পরবর্তীতে আমাদের হোটেলে স্থানান্তর করেছে। তিনি বলেন, কানাডিয়ান পাসপোর্ট থাকায় আমরা হোটেল পেয়েছি। যাদের সেনজেন ভিসা নেই কিংবা কানাডা, আমেরিকার পাসপোর্ট নেই জানি না তাদের কি অবস্থা এখনো। রোম থেকে ঢাকায় কখন পৌঁছাতে পারব জানি না।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক এবং সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সাবেক এক প্রেমিকাকে উয়েফা থেকে বিদায় দেওয়ার সময় ছয় অঙ্কের অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তাঁর এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনো উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। পরে ওই সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতেই অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উয়েফা এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে বিদায়ী ভাতা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাঁকে বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর এমবিএ কোর্সের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়। তবে উয়েফার দাবি, তৎকালীন নিয়ম মেনেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পরে এ ধরনের বিষয়ে তাদের নীতিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইনফান্তিনোর পিআর টিম। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। বুধবার মরক্কোয় এক জরুরি বৈঠকে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি পদত্যাগ এড়ান। এদিকে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ফিফার বিভিন্ন আয়োজন বয়কটের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিশ্বকাপ আয়োজন ও রানার্সআপ দেশ আর্জেন্টিনা ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। এর মধ্যেই গোপন সম্পর্ক ও অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ফিফা সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের। সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস
জীবনে অনেক ভুলই শুধরে নিয়েছেন কাসেমিরো। তবে একটা ভুল কোনোদিনও ঠিক করতে চান না ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। সেই ভুলটা হচ্ছে জার্সিতে থাকা তার নামের বানান। ভুলটা অবশ্য নিজে করেননি কাসেমিরো। করেছে তার শৈশবের ক্লাব সাও পাওলো। ৩৪ বছর বয়সী তারকার পুরো নাম কার্লোস হেনরিকে জোসে ফ্র্যান্সিসকো ভেনাসিও কাসেমিরো (Carlos Henrique Jose Francisco Venancio Casimiro)। ২০০২ সালে সাও পাওলোয় যোগ দেওয়ার পর তার নামে জার্সি বানায় ক্লাব। তার জার্সির পেছনে ‘Casimiro’ পরিবর্তে ‘Casemiro’ লেখা হয়। শুরুতে একটু খারাপ লাগলেও সে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলায় পরে আর নাম পরিবর্তন করতে চাননি তিনি। সেই ভুল নামেই ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে এখন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন তিনি। নামের ভুল বানান নিয়ে ইতালির সংবাদ মাধ্যম লা রিপাবলিকাকে কাসেমিরো বলেছেন, ‘সবার কাছে আমি আজীবন ‘কাসেমিরো’ (Casemiro) হয়েই থাকব। সব দোষ সাও পাওলোর! ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল তখন, যখন আমি সাও পাওলোর হয়ে আমার প্রথম ম্যাচ খেলছিলাম। এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে মূল দলে খেলেছি (২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত)। তারা দুর্ঘটনাবশত আমার জার্সিতে নামের বানান ‘i’-এর জায়গায় ‘e’ লিখেছিল। আর সেই ম্যাচে আমি দারুণ খেলেছিলাম!’ বানান ঠিক না করার পেছনে কুসংস্কার কাজ করেছে বলে জানান কাসেমিরো।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদায়ের সুর আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো। সম্প্রতি স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে আলাপকালে তালিয়াফিকো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’ ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা ১৭, যা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তার সামনে আছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস। তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সেটিই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের পর ইতোমধ্যে নিকোলাস ওতামেন্দি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসি এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ আসর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। ফাইনালে হেরে গেলেও দলের অর্জন নিয়ে গর্বিত তালিয়াফিকো। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে ২০২২ সালের স্বর্ণপদক আছে। এবার রানার্সআপ পদক পেলাম। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ নয়। আমাদের তা মূল্যায়ন করা উচিত।’ পরাজয় নিয়েও ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে জানতে হবে। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। ফুটবলে কখনও জয় আসে, কখনও পরাজয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।’ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তালিয়াফিকো বলেন, একটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয় নয়; আগের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেই প্রস্তুতি চলতে থাকে। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একজন ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে কথা হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। রদ্রিকে চায় রিয়াল। বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল তাদের আলোচনা। তবে হুট করে তাদের আলোচনায় ঢুকে পড়ে বার্সেলোনা। রদ্রিকে চাই বার্সারও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে যেকোনো এক দলকে বেছে নিতে হবে স্পেনের মিডফিল্ডারকে। রিয়ালকে ‘না’ করে দিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নেন ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। এই সিদ্ধান্ত নিতে সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বার্সায় যেতে রাজি হলেও রদ্রির জন্য যাওয়াটা সহজ হচ্ছে না। কেননা দরদামে বনছে না সিটি-বার্সার। বিশ্বকাপজয়ী রদ্রিকে পেতে ৩৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪০ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তাতে রাজি হয়নি ম্যানচেস্টার সিটি। নতুন করে আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। বিবিসি জানিয়েছে, ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হলে তবেই রদ্রিকে বিক্রি করতে রাজি ম্যানসিটি। নতুন করে কোনো অফার বার্সা দিয়েছে কিনা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ম্যানসিটির সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রদ্রির। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে নেওয়ার পেছনে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চোট অন্যতম কারণ। নতুন মৌসুমের শুরুতে পাওয়া যাবে না ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পাওয়া নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারকে। এ ছাড়া রদ্রির সঙ্গে পেদ্রি-দানি ওলমোদের জুটিও দুর্দান্ত জমে। ইউরো ও বিশ্বকাপ তারই প্রমাণ। উভয় টুর্নামেন্টে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে অনবদ্য অবদান রদ্রির। তার স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
ডারউইনের প্রস্তুতি ম্যাচের হারকে ‘ডিজাস্টার’ বললে কী খুব বেশি হবে নাকি কম? প্রশ্নের উত্তরটা পাঠকদের জন্যই তোলা থাকল। তবে ম্যাচের স্কোরকার্ড খুবই ভয়াবহ। তিন দিনের ম্যাচ খেলতে নেমে সোয়া দুই দিনে ধরাশায়ী। ইনিংস ও ৩৮ রানে প্রস্তুতি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। সেটিও জাতীয় দল নয়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একাদশের বিপক্ষে এমন পরাজয় বাংলাদেশের। ম্যাচের শুরুটা ভালো হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ‘তাসের ঘর’ বাংলাদেশের ব্যাটিং। ফল যা হওয়ার তাই হলো। দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরকার্ড মোবাইল ডিজিটের মতো। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শুধু দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন, ২২ রান। বাকি সবাই আসা-যাওয়ার মিছিলে এক অংকের ঘরেই শেষ। ২ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে আজ শেষ দিন খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ ৩৫ রান যোগ করতেই বাকি ৮ উইকেট নেই বাংলাদেশের। এক সতীর্থ আরেক সতীর্থর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে করতেই ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ। তাতে ইনিংস ও ৩৮ রানের ‘বিব্রতকর’ পরাজয়। বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দিলেন ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া ক্যাম্পবেল থম্পসন। শুরুর ৫ উইকেট নেওয়ার পর বিরতি দেন বাঁহাতি পেসার। শেষ দিকে ৭, ৯ ও ১০ নম্বর উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চুপ করে দিলেন ২২ বছর বয়সী পেসার। বাকি ২ টি অফস্পিনার কোরি রোকিচ্চলির ঝুলিতে। প্রথম ইনিংসে এই অফস্পিনার আবার ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সৌজন্যে ২৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে টিগু উইলির ১৩০ রানের সৌজন্যে ৩৫৫ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া একাদশ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। সেই রান দুই ইনিংসেও শোধ করতে পারল না বাংলাদেশ। এমন হারকে সঙ্গী করেই আগামী ১৩ আগস্ট এই ডারউইনে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
বার্সেলোনার উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহোকে ঘিরে নতুন করে দলবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। ইউরোপীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, কাতালান ক্লাবটি তাকে লোন চুক্তিতে লিভারপুলে পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং চুক্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার অপশনও থাকতে পারে। দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ও লিভারপুলের মধ্যে এ বিষয়ে মৌখিক সমঝোতা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। লিভারপুল দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণভাগে নতুন মুখ খুঁজছিল। আরাউহোকে এমন একজন ডিফেন্ডার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি সেন্টার-ব্যাক ও রাইট-ব্যাক—দুই পজিশনেই খেলতে সক্ষম। তার এই বহুমুখী দক্ষতা নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ২৭ বছর বয়সী এই উরুগুইয়ান ২০১৮ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। গত মৌসুমে কোচ হান্সি ফ্লিক তাকে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও দিয়েছিলেন। বার্সেলোনার জার্সিতে আরাউহো এখন পর্যন্ত তিনটি লা লিগা শিরোপা এবং দুটি কোপা দেল রে জিতেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বার্সার আর্থিক পরিস্থিতি ও স্কোয়াড পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, লিভারপুলের সঙ্গে আলোচিত এই লোন চুক্তি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পায় কি না। ক্লাব দুটির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যেখানে তিনি একজন ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে’ প্রকাশ্যে পূজা করা ব্যক্তির ক্রিকেট ইতিহাসে থাকার কোনো অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল- যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনি আরও লেখেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ (শেখ হাসিনা)—যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে। তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার নিজের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এ বিষয়ে মেসির ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হবে না বলে জানিয়েছেন এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলা বা না খেলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি যদি খেলতে চান সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। পুরো আসরে আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাপিয়া বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের পরও আমরা জানতাম না মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ম্যাচ করে এগোবেন। শেষ পর্যন্ত আমরা তার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখেছি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জন অনন্য। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। জাতীয় দলের জার্সিতে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইন্টার মায়ামির অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়ে তাপিয়া বলেন, মেসিকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। তিনি যেন ফুটবল খেলা উপভোগ করেন, আমরা যেন তাকে উপভোগ করতে পারি এবং তিনি নিজের জন্য যেটি সঠিক মনে করেন, সেই সিদ্ধান্তই নেন। এদিকে, আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী তাপিয়া। চলতি বছরের শেষেই স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাপিয়া বলেন, আমার পরিকল্পনা এ, বি ও সি সবই স্কালোনি। আমি চাই তিনি দায়িত্বে থাকুন, সবাই সেটিই চায়। তবে সিদ্ধান্ত তার। যদি তিনি মনে করেন নতুন করে সফল হওয়ার প্রেরণা বা পথ নেই। তাহলে তাকে জোর করে আটকে রাখা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। তার অধীনেই টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা (২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা)। জাতীয় দলকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে তাপিয়া বলেন, এই দল পুরো আর্জেন্টিনাকে আনন্দ দিয়েছে। তারা এমন একটি দল গড়েছে, যার সঙ্গে দেশের মানুষ নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করে।
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনার দেওয়া প্রথম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। তবে দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন প্রস্তাব নিয়ে আবারও আলোচনায় বসবে বার্সেলোনা। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, রদ্রির সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সেলোনা। এখন কেবল ম্যানচেস্টার সিটিকে রাজি করানোই বাকি। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াল মাদ্রিদও রদ্রিকে দলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। জানা গেছে, বার্সেলোনার প্রথম প্রস্তাবের মূল্য ছিল প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন বোনাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ম্যানচেস্টার সিটি। তবুও বার্সেলোনা আশাবাদী। কারণ আগামী গ্রীষ্মে রদ্রির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে এবং তখন তিনি ফ্রি এজেন্ট হয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে স্পেনের ইবিজায় ছুটি কাটাচ্ছেন ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। এ সময়েই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রদ্রির প্রথম পছন্দ বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া। এদিকে, নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে দল শক্তিশালী করতে ব্যস্ত বার্সেলোনা। ইতোমধ্যে অ্যান্থনি গর্ডন, করিম আদেয়েমি ও জেসি বিসিউকে দলে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। পাশাপাশি জোয়াও ক্যানসেলোকে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, রবার্ট লেভানডোভস্কির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে আবারও চেষ্টা করবে বার্সেলোনা।
৮৯ রানে অলআউট হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো এরপর থেকেই। টানা দুই ওয়ানডে জিতেছে দাপটের সঙ্গে। আজ শাহাদাত হোসেন দীপুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জিতেছে ৭ উইকেটে। সে সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এর মধ্য দিয়ে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে যুব টাইগাররা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। প্রিটোরিয়ায় গত ৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং জিতেছিল ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন মেথডে ২৬ রানে। আজ একই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দীপুর দল। ১৬৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ উইকেটের বিধ্বংসী জয়। প্রিটোরিয়ায় আজ ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) পেসার এসোসা আইহেভবাকে তুলে মারতে গিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান। ১ রানে উইকেট পড়ার পর তিন নম্বরে নেমেছেন ইমার্জিং দলের অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দীপু। তবে তার সঙ্গে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিনের জুটি বড় হয়নি। এক ওভার বিরতিতে এসে রবিনকে (৮) ফিরিয়েছেন আইহেভবা। ইফতিখার হোসেন ইফতি ও দীপু এরপর বিপদে দলের হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা (ইফতি-দীপু)। ১১তম ওভারের শেষ বলে ইফতিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইউএসএসএর বাঁহাতি স্পিনার লেতন ত্রস্কি। দীপু বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেও ইফতি খেলেছেন ধীরেসুস্থে। ২৪ বলে ১৬ রান করা ইফতির বিদায়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোর হয়ে যায় ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। তারপর আর বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুজনে স্বাগতিক দলের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে ৭২ বলে ৮৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন ইরফান শুক্কুর ও দীপু। ২১.৫ ওভারে বাংলাদেশ ইমার্জিং করে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে দীপুর ব্যাটে। ৫৬ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা। শুক্কুরও ফিফটি ছুঁয়েছেন। ৩৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫৮ রান। টস জিতে আজ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক দীপু। একটা পর্যায়ে ইউএসএসএর স্কোর ছিল ১৯ ওভারে ১ উইকেটে ১২৬ রান। এখান থেকেই ধসের শুরু। ৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা ৩৩.৫ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডেভিড টিগার। ৫৭ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাংলাদেশের চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬.৫ ওভারে ২৮ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া সাকিব আল হাসানের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাবেক এই ফুটবলার বলেছেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের ব্যাপারে নমনীয় ছিলেন তারা, এখন আর সেই সুযোগ নেই। দেশে আসতে হলে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ককে আইনগতভাবেই ফিরতে হবে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকার পতনের সময় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সাকিব। দেশে ফিরতে না পারায় সেখানেই পরিবার নিয়ে থিতু হয়েছেন এই অলরাউন্ডার, যিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন সাকিব। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেখান থেকেই বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সিতে খেলেছেন। অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজি লিগেও তাকে দেখা গেছে। এখন খেলছেন শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। এখনও খেলতে থাকা এই ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে ও দেশে ফেরাতে দুই বছরে নিয়মিত নানান ধরনের আলোচনা শোনা গেছে। বিসিবির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল উদ্যোগ নেওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই আলোর মুখ দেখেনি। গত বুধবার নয়া দিল্লিতে হওয়া শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন সাকিব। এরপরেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। “আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবে জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে, ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে। যে স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। যে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।
দাপুটে এক জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ইরেনে কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস সাউথ আফ্রিকা (ইউএসএসএ) দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ইউএসএসএ। ডেভিড টীগারের ৫৭ বলে ৭২ এবং লুডউইচ স্কুল্ডের ৫৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে একসময় দলটির সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৬ রান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৪০ রানের মধ্যে হারিয়ে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইউএসএসএ। বাংলাদেশের হয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪টি উইকেট নেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ দুটি করে এবং ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮) ও হাবিবুর রহমান সোহান (০) দ্রুত ফিরলেও এরপর ইনিংস সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি। ইফতি ১৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন দিপু। শুক্কুর ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং দিপু ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে এবং বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল হামজা নজরের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই টেস্টের সিরিজের পাকিস্তান দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে যাওয়ার আগেই ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাতেই দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে বিমানে চড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যেতে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন হামজা। কিন্তু আবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ভিসা জটিলতায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হামজাকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ২৭ বছর বয়সী এই অফস্পিনারকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও দিতে হবে। তবে ভিসা আবেদনে ঠিক কী ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি পিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, হামজা আবেদনে সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য দেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় গোপন করেছিলেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বলেছে, ভুল তথ্য প্রদান, কিছু বিষয় গোপন করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়গুলোকে পিসিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া হামজার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় সফর থেকে বাদ পড়ার পর তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়ে এবার দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। অধিনায়ক শুবমান গিল ডান হাতের অনামিকায় চোট পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে নামতে পারেননি। ফলে আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার ভারতের অনুশীলন সেশনে ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পান গিল। চোটটি কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, গিলের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছে দলের মেডিকেল টিম। প্রথম টেস্ট শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় তার ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুশীলনের সময় গিল ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পেয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গিলের অনুপস্থিতিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ফলে প্রথম টেস্টে গিলকে পাওয়া না গেলে নেতৃত্বের দায়িত্বও রাহুলের কাঁধে পড়তে পারে। শুধু গিলের চোটই নয়, শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত আগে থেকেই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারিয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে দলের অন্যতম প্রধান পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ এই সফরে নেই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে হার্শিত রানা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরও দলের বাইরে। এছাড়া কোয়াডের চোটের কারণে নিতিশ কুমার রেড্ডিকেও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গিলের চোট ভারতীয় শিবিরের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তিনি শুধু দলের অধিনায়কই নন, ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও। টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ব্যাটিং পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচের এই সিরিজ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে ভারত পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম এবং শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। আগামী বছর দ্য ওভালে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে গিলের ফিটনেসের দিকে এখন বাড়তি নজর থাকবে ভারতীয় দলের। আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম টেস্টের আগে গিল ফিট হয়ে উঠতে পারলে ভারত স্বস্তি পাবে। কিন্তু চোটের কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আনতে হবে ভারতকে। তাই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই গিলের চোট ভারতীয় দলের জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানকে রাখা হয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। দুদলের মধ্যকার হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস প্রকাশ করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। আগামী ২৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পর্দা উঠবে আট দলের এই টুর্নামেন্টের, আর আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এশিয়ান ক্রিকেটের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আটটি দলকে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাখা হয়েছে থাইল্যান্ড ও হংকংকে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে টাইগ্রেসদের সঙ্গী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে উভয় গ্রুপের সেরা দুই দল টিকিট পাবে সেমিফাইনালের। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল লড়বে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপের বিরুদ্ধে। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে 'বি' গ্রুপের সেরা দলের মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি মিশন শুরু হবে ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।
ইংল্যান্ড ছেড়ে জন্মভূমি স্পেনে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রদ্রি হার্নান্দেস। স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের জন্য নিজেদের দরজা খোলা রেখেছিল স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। দুই ক্লাবের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের মোটা অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। বার্সায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন রদ্রি। পাশাপাশি নিজের সিদ্ধান্তের কথা রিয়াল মাদ্রিদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েও দিয়েছেন।রিয়ালের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্লাবটির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই তার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল, যা অনুধাবন করতে পেরেছিল রিয়াল কর্তৃপক্ষও। ফলে রদ্রির সিদ্ধান্তকে বেশ সাদরেই গ্রহণ ও সম্মান জানিয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। সম্প্রতি শেষ বৈঠকেও বার্সেলোনা বেছে নেওয়ার কারণ রিয়ালকে স্পষ্ট করেন রদ্রি। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মতে, বার্সার খেলার ধরন, পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া ফুটবলের প্রভাব এবং জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে কাতালান ড্রেসিংরুমের চমৎকার রসায়ন সবকিছু মিলিয়েই তার এই সিদ্ধান্ত। ভালদেবেবাসে রদ্রির এই যুক্তি বেশ পেশাদারিত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং তার নতুন যাত্রার জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। এমনকি চুক্তি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে আলোচনা হলেও ট্রান্সফার ফি বা দেনদরবার নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করেনি রিয়াল। পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহোর হাতে বিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান, এই পজিশনের জন্য স্কোয়াডের ভেতরেই সমাধান রয়েছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, চার বছরের এই চুক্তির জন্য বার্সেলোনার খরচ হবে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ইউরো।চুক্তি অনুযায়ী রদ্রির পেছনে ক্লাবটিকে প্রতি মৌসুমে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩ কোটি ইউরো।
ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা(উয়েফা)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার বিশ্ববাপ ফুটবলসহ প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এখনো অটল রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ফিফায় ফিরে আসার জন্য তাদের দেওয়া প্রধান শর্তগুলো পূরণে বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পর ঘোষণার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব ইভেন্ট থেকে সরে আসার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এরপর ইনফান্তিনো সেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন এবং ক্রীড়াঙ্গন থেকে তীব্র চাপের মুখে বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন লাভ করেন। তবে উয়েফা জানিয়েছে, ফিফার সঙ্গে পুনরায় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইনফান্তিনোর শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহারই একমাত্র শর্ত ছিল না। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে উয়েফার অন্তর্ভুক্ত অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। প্রথমত প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং ফুটবলকে বিকৃত করার প্রচেষ্টা আর কখনোই করা হবে না। এই শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফিফা ও ইনফান্তিনো একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং দাবি করে, উপস্থিত সবার পূর্ণ সমর্থন সভাপতির প্রতি রয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাও চায় এবং ভবিষ্যতে যাতে এমনটা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু উয়েফা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি এবং একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে, যেখানে ফিফার শীর্ষ পদে কে থাকবেন, সেই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে উয়েফা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। বৃহস্পতিবারের(৬ আগস্ট) বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। যেখানে ফিফা সভাপতির অধীনে কর্মরত এবং তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না। উয়েফা মঙ্গলবার আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফিফার কাছে একটি ‘নথি সংরক্ষণ সংক্রান্ত চিঠি’ পাঠিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, চলমান বা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রমাণ যাতে মুছে ফেলা বা ধ্বংস না করা হয়, তা নিশ্চিত করা। সংকটকবলিত বর্তমান প্রধানের ওপর যখন চাপ বাড়ছে, তখন মহাদেশীয় সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিফার পরবর্তী সভাপতিকে হতে হবে ‘এই খেলার অভিভাবক’, যিনি বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম। ফিফার আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে উয়েফার বয়কটের বিষয়টি প্রথম পরীক্ষার মুখে পড়বে ৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন পোল্যান্ডে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে টপকে এই ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের হয়ে ওয়েলশ ফায়ারের বিপক্ষে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন বাটলার। ম্যাচটিতে মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ম্যাচের আগে বাটলারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে রান ছিল ১৪ হাজার ৭৮২। পোলার্ডের ১৪ হাজার ৮০৩ রানকে ছাড়িয়ে যেতে তার দরকার ছিল মাত্র ২২ রান। সেই লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যান তিনি এবং ইনিংস শেষে তার মোট রান দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৩৩। বাটলারের এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে তার কম ইনিংসে রেকর্ড গড়ার কারণে। পোলার্ড যেখানে ৬৬৩ ইনিংসে ১৪ হাজার ৮০৩ রান করেছিলেন, সেখানে বাটলার মাত্র ৪৯২ ইনিংসেই ১৪ হাজার ৮৩৩ রানে পৌঁছে গেছেন। অর্থাৎ, ১৭১টি ইনিংস কম খেলেই তিনি এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট এর আগে কয়েকবার হাতবদল হয়েছে। দীর্ঘদিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্রিস গেইল। পরে সেই অবস্থান দখল করেন কাইরন পোলার্ড। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন বাটলার। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাটলারের পরিসংখ্যানও তার সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে তিনি করেছেন ৯টি সেঞ্চুরি ও ১০৬টি হাফ সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণেই তিনি এই অনন্য অবস্থানে পৌঁছেছেন। ৩৫ বছর বয়সি এই ব্যাটার ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ২১২ রান। পাশাপাশি আইপিএল, এসএ২০ ও দ্য হান্ড্রেডসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রকৃতির বৈরিতায় ব্রেডিতে মাঠে একটি বলও গড়াল না। কিন্তু এই পরিত্যক্ত ম্যাচের জের ধরে ভীষণ বড় ধাক্কা খেল আইরিশ ক্রিকেট। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হলো আয়ারল্যান্ডের। ফলে মূল পর্বের টিকিট পেতে এখন তাদের দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্বের পথ পাড়ি দিতে হবে। বুধবার ব্রেডিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টানা বৃষ্টির কারণে টস করাই সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে অবস্থান করছে আয়ারল্যান্ড। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ‘কাট-অফ’ তারিখের আগে সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার একটি কঠিন সমীকরণ দাঁড়িয়ে ছিল তাদের সামনে। সে জন্য আফগানিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অন্তত দুটি ম্যাচে হারতে হতো। তবে প্রথম ম্যাচটি ভেসে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সেই সমীকরণ মেলানোর পথ বন্ধ হয়ে গেল। এখন ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পল স্টার্লিংয়ের দলকে নামতে হবে ১০ দলের কঠিন বাছাইপর্বে। এই বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে শেষ করা দলগুলো খেলবে ‘সুপার সিরিজ’ নামের প্রথম রাউন্ডে। চার দলের সেই লড়াই থেকে দুটি দল বিদায় নেবে এবং সেরা দল নিশ্চিত করবে মূল গ্রুপ পর্বের টিকিট। ২০২৭ সালের মূল বিশ্বকাপে মোট ১২টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে র্যাঙ্কিং নির্বিশেষে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অন্য আটটি দল সরাসরি টিকিট পাবে। তবে যৌথ আয়োজকদের মধ্যে নামিবিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায়, আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিশ্বকাপের মূল পর্বে আসতে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।