সারাদেশ

ছবি : সংগৃহীত
চাহিদা কম হলেও গ্রামে বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা কেন?

গ্রামে পুরনো দিনের ঈদ উপভোগ করছি। দুপুর থেকে বিদ্যুৎবিহীন আছি। ইফতারের সময় অনেকদিন পর মোম কিনেছিলাম। মোমের আলো খারাপ লাগল না   চার্জ শেষ হয়ে মোবাইল বন্ধ হওয়ার পথে। এর আগে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুতের নড়িয়া অঞ্চলে ডিজিএমকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি ঈদের ছুটিতে আছেন, অভিযোগ কেন্দ্রে কল দিতে বললেন। কিন্তু সেই ফোন কেউ ধরে না! এবারের ঈদে যে সেবার ভোগান্তি হবে, তা বোঝা যাচ্ছে। স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ-ফুর্তিতে ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় নাকাল হয়ে মজার ছলে তিক্ত এ অভিজ্ঞতার কথা ফেইসবুকে তুলে ধরলেন রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকতা করা শরীয়তপুরের আতাউর রহমান। ‘চান রাতে’ তার দেওয়া এ পোস্টের অভিজ্ঞতা মিলে গেল দেশের আরেক প্রান্তের কুমিল্লায় বুড়িচংয়ের একজনের সঙ্গে। ঈদের ছুটি কাটাতে বুড়িচংয়ের শিকারপুর গ্রামে যাওয়া স্মৃতি দাশের স্মৃতিতেও গ্রামের বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় ভোগার সময়টি সুখকর হল না। গ্রামে পৌঁছান তিনি ঈদের আগের দিন। বলেন, “আজকে বাড়িতে এসেছি। এখন পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্যও ঠিকমত বিদ্যুৎ পাই নাই।” শহুরে জীবনে অভ্যস্ত ছেলে মেয়েদের নিয়ে বিদ্যুৎহীন এমন বিড়ম্বনার কথা তিনি বলেন। তাদের মতো অনেকেই বিদ্যুৎ না থাকার ভোগান্তিতে পড়ার কথা বললেন এবারের ঈদ। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ের পর শীতল বাতাসে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় চৈত্রের এ সময়ে নগর থেকে গ্রামে যাওয়া লাখো মানুষ ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন। তবে অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ঠিক থাকার কথাও জানা গেছে। কেউ আবার বিদ্যুৎ থাকা বা না থাকার মাঝের সময়টুকুকে ‘স্বাভাবিকভাবেই’ দেখছেন। ঝড়-বৃষ্টির বদৌলতে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি ঈদের লম্বা ছুটিতে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে। তবুও গ্রামে চলছে বিদ্যুতের ভেলকি—অনেকক্ষণ পর আসছে আর অল্প সময় পরই চলে যাচ্ছে। তবে বরাবরের মতো শহর ও নগরীগুলোতে বিদ্যুতের এমন যাওয়া-আসা নেই। এক দেশে দুই চিত্র নিয়ে এ ক্ষোভ অবশ্য অনেক দিনের।   ‘সংকট নেই’ কাগজে-কলমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দৈনন্দিন তথ্য বলছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা শীতের সময়কার অবস্থায় নেমেছে। ঈদের দুদিন আগে চাহিদা ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকলেও তা গত দুই-তিন দিনে গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াটে নেমেছে। উৎপাদনও হচ্ছে চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ। পিডিবির সচিব মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, বিদ্যুতের হালনাগাদ তথ্যে উৎপাদন ও বিতরণে কোনো সংকট নেই। কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে তা কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেই মেটানো সম্ভব। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্যাস সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার দরকার নেই। এখন যে উৎপাদন হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অর্ধেকের মত তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি আসছে গ্যাসচালিত কেন্দ্র থেকে। বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যুৎ না থাকার কিছু সমস্যা থাকলেও উৎপাদন বা বিতরণে কোনো সমস্যা দেখছেন না দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।   তাহলে সমস্যা কোথায়? লোডশেডিং না থাকার সরকারি হিসেবের সঙ্গে শহর ও নগরের বাইরে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকার চিত্র মিলছে না কেন—এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। রাজধানী ঢাকারও কিছু অংশে গত দুদিনে লোডশেডিংয়ের তথ্য মিলেছে। বিদ্যুতের সংকট না থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি গ্রাহকরা কেন হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর কারণ হিসেবে পিডিবিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সমস্যা মূলত বিতরণ ব্যবস্থায়।   ‘যেখানে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে’ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার বেশিরভাগ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের আওতাধীন। কুমিল্লার মুরাদনগরের এক বাসিন্দা লিখেছেন, “এখানে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে। গত ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে।” দাউদকান্দি, বরিশাল, টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।   ঘাপলা কোথায়? বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গাছপালার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন যাওয়ায় ঝড়ে সহজেই সমস্যা তৈরি হয়। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. আব্দুর রহিম মল্লিক বলেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঝড় হচ্ছে। এতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং তা পুনরুদ্ধারে সময় লাগে। তিনি জানান, এসব সমস্যা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট উৎপাদন ঘাটতির কারণে নয়; বরং প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিতরণ নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে হচ্ছে। জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল। বিশেষ করে কালবৈশাখী মৌসুমে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়। বর্তমান পরিস্থিতি এই দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং গ্রামাঞ্চলের বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।   উৎপাদনের চিত্র দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯৪৯ মেগাওয়াট। অথচ চাহিদা অনেক সময় ৬-৭ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ চাহিদাও ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াটের নিচে। সেই চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুতের বড় অংশ উৎপাদিত হচ্ছে গ্যাস থেকে। এছাড়া কয়লা, তেল, হাইড্রো, সৌর ও আমদানি করা বিদ্যুৎও যোগ হচ্ছে। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, কোথাও লোডশেডিং নেই। তবে ঝড়ের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন শিশুসহ ৩৩ বাংলাদেশি

ভারতে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিলেন তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হল। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।  এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোলে কর্মরত শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারত বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেখান থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।  বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
পুত্রবধূর সঙ্গে সেলিনা বেগম (ডানে)
সালিশে চোর সাব্যস্ত করায় যা করলেন নারী

গলাচিপায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেরোববার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও ছেলে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করত। মাস দুয়েক আগে বেড়িবাঁধে সংস্কার কাজের জন্য উচ্ছেদ হয়ে পাশে ঝুপড়ি দিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে থেকে পাশের বাড়ির আল আমীন মাস্টারের ঘরের বারান্দায় রাতে ঘুমাতেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই ঘর থেকে আলমগীরের স্ত্রীর ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা হারায়। এ ঘটনায় আলমগীর ও তার পরিবার সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে ওই দিন  সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল পড়া খাওয়ায়ে সেলিনাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম (২২) অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে জসিম খান, রিয়াজ খান, নেওয়াজ সিকদার, মিজান সিকদার, শামীম সিকদারসহ ৪-৫ জন আমার মাকে মারধর করে চাল পড়া খাওয়ায়ে স্বীকারোক্তি নিয়ে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে আমার মা, আমার স্ত্রী ও আমার স্বাক্ষর নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম (৫৫) জানান, সিকদার বাড়ির লোকজন সেলিনাকে মারধর ও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়। ওই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মুন্সি (৫৫) জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত সেলিনা অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করত। কখনো শুনি বা দেখিনি সেলিনা চুরি করেছে। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলামের স্ত্রী সারমিন আক্তার জানায়, আমরা পাশের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর পৌনে ৬টার দিকে শাশুড়ি আমার স্বামীর ফোনে মিস কল দেয়। ফোনে টাকা না থাকায় আমরা ঘরে এসে দেখি মারা গেছে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হাওয়া সোনা ও রুপা আজকে দেওয়ার কথা ছিল। আমার শাশুড়ি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। সালিশদার সিরাজুল সিকদার ৩শ টাকার স্ট্যাম্প রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। চুরি হওয়া সোনার মালিক আলমগীর মাস্টার জানায়, ১৭ মার্চ থেকে আমার স্ত্রীর কিছু গহনা হারিয়েছে। আমি স্থানীয় লোকজনকে চুরির বিষয় জানালে তারা সেলিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করে, আজকে চুরির মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের আনন্দের আড়ালে বৃদ্ধাশ্রমে জীবনের আর্তনাদ বাবা-মায়ের

দেশজুড়ে যখন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মাতোয়ারা সব শ্রেণিপেশার মানুষ, ঠিক তখনই গাজীপুরের মনিপুর হোতাপাড়ার গিভেন্সী গ্রুপ পরিচালিত বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভিন্ন এক চিত্র। উৎসবের উচ্ছ্বাস সেখানে থমকে গেছে চার দেয়ালের ভেতর। এই কেন্দ্রে থাকা শতাধিক প্রবীণের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর সন্তানদের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন। ঈদের মতো বড় উৎসবেও তাদের খোঁজ নিতে আসেন না অধিকাংশ সন্তান। কেউ কেউ ফোন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেন না। কথায় আছে, বাবা মানে মাথার ওপর তপ্ত রোদে বটবৃক্ষের শীতল ছায়া, আর মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাসে সেই, জান্নাত আজ অবহেলিত ঠিকানায়। ঈদের সকালে যেখানে নাতি-নাতনি আর সন্তানদের কোলাহলে ঘর মুখর থাকার কথা, সারা দেশে যখন নতুন পোশাকে শিশুদের কোলাহল সেখানে এই প্রবীণ নিবাসে বিরাজ করছে এক পিনপতন নীরবতা তখন এই কেন্দ্রের বারান্দায় বসে থাকা বাবা-মায়েদের চোখে কেবল অপেক্ষা। রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকা সেই দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকে একটাই প্রশ্ন আজ কি আসবে আমার সন্তান? একাধিক প্রবীণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই এক সময় সমাজে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের কর্তা ছিলেন। কারো সন্তান প্রকৌশলী, কারো মেয়ে প্রবাসে। কিন্তু কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক অজুহাত কিংবা সম্পর্কের টানাপড়েনে তারা আজ স্থান পেয়েছেন এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে। মনিপুর বৃদ্ধাশ্রমের হোস্টেল সুপার মোহাম্মদ হাবিবা খন্দকার বলেন, আমরা পরম মমতায় তাদের সেবা করার চেষ্টা করি। নতুন পোশাকে তারা সেজেছেন ঠিকই, কিন্তু সেই উজ্জ্বল রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ধূসর বিষাদ। সন্তানের ফোন এসেছিল কিনা, বার বার একি প্রশ্ন তারা আমাকে করে যায়। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর। নতুন এক পরিবার গড়ে তুলেছি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোকে নিয়ে। এখন একে অপরের পরমাত্মীয়। একে অপরের দুঃখ ভাগ করে নিতে নিতেই কাটছে তাদের নিঃসঙ্গ জীবন। ষাটোর্ধ পাখী বেগম, যিনি এক সময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন, জানান সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের সবকিছু দিয়েছি। এখন তারা ব্যস্ত আমি তাদের জন্য বোঝা। তার মতো আরও অনেকের কণ্ঠে একই সুর অভিমান বেদনা আর না বলা প্রশ্ন। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক ও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ প্রবীণের মুখে ছিল না প্রত্যাশিত আনন্দ। বরং দিনভর তারা জানতে চেয়েছেন আমার ছেলের ফোন এসেছে কিনা। নগরায়ণ একক পরিবার ব্যবস্থা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন বাড়ছে প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা। এই বাস্তবতা শুধু আবেগের নয়, একটি বড় সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। যেখানে একসময় বাবা-মা ছিলেন পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে এখন অনেকেই হয়ে পড়ছেন অপ্রয়োজনীয়। ঈদের আনন্দ যখন সাময়িক, তখন এই প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা দীর্ঘস্থায়ী। উৎসব শেষে আলো নিভে গেলে, তাদের জীবনে থেকে যায় কেবল নীরবতা আর দীর্ঘশ্বাস। প্রশ্নটা এখন ব্যক্তিগত নয় সমিষ্টিক আমরা কি এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি যেখানে বাবা-মা হয়ে উঠবেন অবহেলার প্রতীক? সময় এখনও আছে।আজকের এই অবহেলা, আগামী দিনের প্রতিচ্ছবি। এবারের ঈদের অঙ্গীকার হোক কোনো বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয় যেন আর বৃদ্ধাশ্রম না হয়।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম।
নিহতদের লাশ বাড়ি পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুল্যান্স দিচ্ছে জামায়াত

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে যারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। আজ রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেল। এর আগে দুপুরে পদুয়ার বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন ও বিকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে এসে এমন ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এ সময় জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, নিহতদের লাশ সম্মানের সঙ্গে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা করা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলো নিহতদের স্বজনদের নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছে দেবে। এ ছাড়া যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাদেরকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম নামে একটি সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা আহতের খোঁজখবর ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিচালনায় সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা ছিল, যাদের অবহেলার কারণে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে শুধু বরখাস্ত করলেই হবে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে রেলক্রসিংয়ে যারা গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করবে তারা যেন এমন অবহেলা না করেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা সরকারের কাছে যারা আহত বা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ, আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় গেটম্যানদের অবহেলায় দুর্ঘটনা : রেল প্রতিমন্ত্রী

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন গেটম্যানদের অবহেলায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় বাস এবং ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গেটম্যানের অবহেলা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তাছাড়া স্টেশন মাস্টারকেও শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।    ঘটনা তদন্তের জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় এবং একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।  রোববার দুপুরে কুমিল্লার বাস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি বেরিয়ারকে অটোমেটিক সিস্টেমের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী থাকবে এবং ক্রসিং এর কাছাকাছি ট্রেন আসলে অটোমেটিক গেট গুলো বন্ধ হয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে এসব কাজ দ্রুত সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রী রেলের দুর্ঘটনা কমাতে রেল কর্তৃপক্ষ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।   দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গেটম্যানের সঙ্গে মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিনসহ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যান বেড়িয়ার না ফেলানোর কারণে মামুন পরিবহন নামের বাসটি সোজা রেলক্রসিংয়ে উঠে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় মারা যান ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পেয়ে থাকেন। তখন ওই গেটম্যান বেড়িয়ার ফেলে সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের দিন চিকিৎসক সংকটে বিপাকে রোগীরা

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর উপলক্ষ। নতুন পোশাক, ঘোরাঘুরি আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের দিনটি কাটে আনন্দে। তবে সবার জীবনে এই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। কারও ঈদ কাটে হাসপাতালের বেডে, ব্যথা-যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।   এমনই চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে। ঈদের দিনেও চিকিৎসা পাওয়ার আশায় ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, দেরিতে সেবা এবং অবহেলার কারণে উৎসবের দিনটি পরিণত হয়েছে উৎকণ্ঠা ও হতাশায়।   শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।   ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন জুয়েল বলেন, সকাল থেকেই হাসপাতালে বসে আছি। একের পর এক সময় পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। রোগী নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঈদের দিন বলে কি আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? অসুস্থ মানুষ কি উৎসব বোঝে?   আরেক ভুক্তভোগী লুবনা আক্তারের মা বলেন, ভোর থেকেই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। বারবার ডাক্তারদের খোঁজ নিচ্ছি, অনুরোধ করছি এসে দেখার জন্য, কিন্তু এখনো কেউ আসেননি। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। মেয়ের অবস্থা দেখে অসহায় লাগছে, অথচ ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না।   এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জয়ন্ত সাহা বলেন, সব ওয়ার্ডে ডাক্তার পাঠানো হয়েছে। তবে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট রয়েছে এবং বর্তমানে একজন দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান জুয়েল দাবি করেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রয়েছেন। রোগীরা চিকিৎসক পাবেন না—এমন কোনো পরিস্থিতি নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের দিনেও নিঃসঙ্গতা, বৃদ্ধাশ্রমে শুধু মৃত্যুর প্রতীক্ষা

পাশাপাশি দুটি ভবনেই সুনসান নীরবতা। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেও তেমন কোনো সাড়াশব্দ মেলে না। পঞ্চম তলার একটি কক্ষে জানান দেয় ষাটোর্ধ্ব এক মানুষের উপস্থিতি। দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতরে প্রবেশের ইঙ্গিত মেলে। ঘরে ঢুকেই চোখে পড়ে টেবিলে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বিভিন্ন লেখকের বই, পাশে দৈনিক পত্রিকা। কম্পিউটারের ডেস্কটপে দেশ-বিদেশের খবর দেখেন তিনি। তবুও একাকীত্বের কথা মনে পড়লে নীরবে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। এভাবেই দিনের পর দিন একা জীবন কাটাচ্ছেন প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটিও কেটেছে স্বজনহীনতায়।   রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি প্রবীণ নিবাসে থাকা কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন বাস্তবতা।   ঈদের দিন উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন ছিল। সকালে ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে ডিম ও মিষ্টান্ন, দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট ও খাসির মাংস, আর রাতে ভাত, মুরগি ও ডাল পরিবেশন করা হয়। কিন্তু খাবারের এই আয়োজনও তাদের একাকীত্ব ভোলাতে পারেনি।   প্রবীণ নিবাসে বসবাসরত সলিমুল্লাহ খন্দকার বেশ কয়েক বছর ধরেই একাকী জীবনযাপন করছেন। ২০১৮ সালে বেসরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গতা তাকে গ্রাস করে। প্রায় এক বছর তিন মাস আগে তিনি এখানে ওঠেন। তার দুই ছেলে ভালো চাকরি করলেও বাবাকে সঙ্গে নেওয়ার কথা বলেন না।   ৬৮ বছর বয়সে সবকিছু থাকলেও যেন কিছুই নেই তার। ঈদের দিনটি নিজের কক্ষেই কাটান তিনি। সন্ধ্যায় হালকা নাশতা সেরে পত্রিকা পড়েন, এরপর কম্পিউটারে ইউটিউবে খবর দেখেন। সময় কাটাতে বই, পত্রিকা আর ইন্টারনেটই তার ভরসা।   নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে সলিমুল্লাহ বলেন, কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই শেষ বয়সে এই বাস্তবতায় পড়তে হয়েছে তাকে। তার ভাষায়, এখানে সবারই আলাদা গল্প আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় সত্য হলো—একাকীত্ব।   তিনি জানান, আগে ঢাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন, তখন আরও বেশি নিঃসঙ্গ লাগত। মারা গেলেও হয়তো কয়েক দিন কেউ জানত না। এখানে অন্তত সেই ভয় নেই। খাওয়া-দাওয়ার চিন্তাও করতে হয় না। তবে সংসারের মতো আনন্দ আর কোথাও নেই—দিনশেষে তিনি একাই।   ঈদের প্রসঙ্গ আসতেই তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে স্মৃতির ভার। শৈশবে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে দারিদ্র্যের মধ্যেও ঈদের আনন্দ ছিল অন্যরকম। নতুন কাপড় না থাকলেও গুড় দিয়ে রান্না করা সেমাইয়ের স্বাদ ছিল অমলিন। এখন সব থাকলেও সেই আনন্দ নেই।   জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার কণ্ঠে জমে ওঠে নিঃশব্দ হাহাকার। তিনি বলেন, কেউ যেন কখনও বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে বাধ্য না হয়। এখানে থাকা মানে যেন মৃত্যুর অপেক্ষা। পরিবারের সঙ্গে থাকলে হয়তো আরও কিছুদিন বেশি বাঁচা যেত। এখন শুধু চান সুস্থভাবে জীবনের শেষটা কাটাতে।   একই নিবাসে সত্তরোর্ধ্ব এক নারী প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। তার দুই ছেলে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে থাকেন। তারা নিয়মিত খরচ পাঠালেও মায়ের সঙ্গ দিতে পারেন না। দীর্ঘদিনের একাকীত্ব এখন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।   আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত নারী আইনজীবীও এখানে বসবাস করছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর আর নতুন করে সংসার শুরু করেননি। সন্তান না থাকায় আত্মীয়দের ওপর নির্ভর না করে নিজেই প্রবীণ নিবাসকে নিজের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অবসরের পরও সময় পেলেই আদালত অঙ্গনে যান তিনি।   তার মতে, এখানে যারা থাকেন তারা অধিকাংশই সচ্ছল পরিবারের। অর্থের অভাব নয়, বরং পারিবারিক দূরত্ব ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই তাদের এখানে নিয়ে এসেছে।   সব মিলিয়ে, ঈদের মতো আনন্দের দিনও এই প্রবীণদের কাছে হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গতা আর স্মৃতির ভারে ভরা এক দীর্ঘ সময়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন

ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আট জেলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫ জন। শনিবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে দুজন, চট্টগ্রামের পটিয়া ও মিরসরাইয়ে দুজন, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন।   ময়মনসিংহ :  ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুইজন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কে উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন খিচা বান্ডারির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন- নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আলীর ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২০) ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাউন্ডারী রোড এলাকার মো. গোলাম মাওলার মেয়ে রীতি আক্তার (৮)। নিহত দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।   চট্টগ্রাম :  চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার বাইপাস মহাসড়কের পটিয়া ভাটিখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বাসের অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক যাত্রী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ যাত্রী। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস মহাসড়কের পটিয়া ভাটিখাইন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়িটি আইল্যান্ডে তুলে দেয়। বাসটি ধাক্কা লেগে কাত হয়ে যায়। এতে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন এবং বাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।   এদিকে, মিরসরাইয়ে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক নিহত হয়েছেন। সকাল ছয়টায় উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকা-মুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক (আইয়ুব) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাঘ গ্রাম এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।    কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রাব্বানী বলেন, এনামুল হক আইয়ুব তার প্রাইভেট কার চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।   নড়াইল:  নড়াইল সদর উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বেলা তিনটার দিকে উপজেলার ধোন্দা কাজীপাড়া মসজিদ এলাকায় মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   নিহত তরুণের নাম রাব্বী মোল্যা (২০)। তিনি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার পান্নু মোল্যার ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নিজেরাই পড়ে যান তারা। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   ঝিনাইদহ :  ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল গফুর (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের নগরবাথান বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের বাগআঁচড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।   পুলিশ জানায়, সকালে ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয় আব্দুল গফুর। দুপুর ১২টার দিকে তারা ইঞ্জিনচালিত নসিমন করে ঝিনাইদহ জোহান পার্কে আসছিল। পথে ঝিনাইদহ সদরের নগরবাথান বাজারে পৌঁছালে তাদের বহনকারী নসিমন থেকে আব্দুল গফুর সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্তের পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।   মাদারীপুর :  শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. শাহাদাত খলিফা (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে শিবচরের এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুর সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।   নিহত শাহাদাত খলিফা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়াখন্ড নিয়ামতকান্দি গ্রামের হিরু খলিফার ছেলে। সে ওই এলাকার দ্বিতীয়াখন্ড নূর ই আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ভ্যানে চড়ে ঘুরতে বের হয় শাহাদাত। এসময় কুতুবপুর সীমানা নামক স্থানে আসলে ভ্যানটিকে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায় শাহাদাত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   ফরিদপুর :  ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানায় ঈদের দিনে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে জিহাদ শেখ (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার আরাজী বানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জিহাদ শেখ উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে। জিহাদ একই ইউনিয়নের শিয়ালদী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন ইটভাটার ট্রলিতে পরিবাহনকৃত মাটি ঝরে পড়ায় দুদিনের বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিচ্ছিল সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন জিহাদ। তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন রায় বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই জিহাদ শেখ মারা যান।   চুয়াডাঙ্গা :  চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুরুজ (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামের আরও এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলাম পাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে। আহত হৃদয় একই পৌর এলাকার শ্মশান পাড়ার বাসিন্দা।   পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়েছিলেন দুই যুবক। তারা মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত হৃদয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।   চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারটি নিয়ে কেউ থানায় অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনায় কবলিত মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।   গোপালগঞ্জ :  গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফুল ইসলাম (৩০) ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্স কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কোটালিপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের মোকসেদ আলী শেখের ছেলে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদে ভিড়ে ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান সেতু উল্টে ভাই-বোনসহ নিহত ৪

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভাসমান সেতুতে ঈদের দিনে ঘুরতে আসা মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ে সেতু উল্টে পানিতে ডুবে সহোদর ভাই-বোনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।   শনিবার বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঝালুরচর এলাকার শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) ও ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০) এবং গামারিয়া এলাকার আবির (১৬)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতুর মাধ্যমে চর এলাকায় যাতায়াত ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঈদের দিন হওয়ায় সেখানে প্রচণ্ড ভিড় জমে। বিকেলে অতিরিক্ত চাপের কারণে সেতুটি মাঝখান থেকে উল্টে ভেঙে পড়ে, এতে অনেকেই পানিতে পড়ে যান। অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
রাজবাড়ীর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের অন্যরকম ঈদ

ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাসি-খুশির সময়। কিন্তু সেই আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না। কিছু শিশু আছে যাদের কাছে ঈদ মানে শূন্যতা। তবু সেই শূন্যতার মাঝেই ছোট ছোট আনন্দ খুঁজে নেয় তারা। রাজবাড়ীর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের জন্য এবারের ঈদ ছিল তেমনই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে শহরের বিনোদপুর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। শিশুদের হাতে তুলে দেন নতুন উপহার। ছিল উন্নত খাবারের আয়োজন।   পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক সরকারি শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় তিনি কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের হাতে ঈদ সালামি তুলে দেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের এই ভালোবাসাপূর্ণ সৌহার্দ ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্যকে অর্থবহ করে তোলে। শিশু পরিবারের কয়েকজন শিশু জানায়, নতুন পোশাক পরে তারা আনন্দ করেছে, ভালো খাবার খেয়েছে। তবু ঈদের দিনে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়েছে বারবার। রাজবাড়ী সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, বিশেষ দিনগুলোতে শিশুদের জন্য বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এভাবে কাছে এসে সময় দেওয়াটা তাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ তৈরি করেছে।   রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, 'আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার জন্য আনন্দ-খুশির দিন। আজ এই খুশির দিনে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য এসেছি। কারণ তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদেরই একজন।' এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২১, ২০২৬ 0
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
শোলাকিয়ার মুসল্লিদের জন্য ঈদ স্পেশাল ট্রেন

প্রতি বছরের মতো এবারও শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামাতে মুসল্লিদের অংশ নিতে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি ট্রেন থাকছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে ঈদ জামাত শেষে আবার ময়মনসিংহে ফিরবে। অন্যটি ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জে এসে জামাত শেষে আবার ভৈরবে ফিরে যাবে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জংশন থেকে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে বিশেষ একটি ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে ভোর পৌনে ৬টায় ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছাবে এবং ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত শেষে ওই ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহে পৌঁছাবে। ট্রেনটি চলাচলের পথে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটের শম্ভুগঞ্জ, বিসকা, গৌরিপুর, বোকাইনগর, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, আঠারবাড়ী, নান্দাইল রোড, মুসুল্লি, নীলগঞ্জ স্টেশনে দুই মিনিট করে যাত্রাবিরতি করবে। অপরদিকে ভৈরব জংশন থেকে ভোর ৬টায় আরেকটি ঈদ স্পেশাল ট্রেন কিশোরগঞ্জ অভিমুখে ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছাবে এবং ঈদ জামাত শেষে আবার দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ ছেড়ে দুপুর ২টায় ভৈরব পৌঁছাবে। পথে কালিকা প্রসাদ, ছয়সূতি, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, সরারচর, হালিম মকসুদপুর, মানিকখালি ও গচিহাটা স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। এবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতে যেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের মুসল্লিরা অংশ নিতে পারেন, এজন্য প্রতি ঈদে এমন বিশেষ ট্রেন চালু করে আসছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
শেখ রেজওয়ান। ছবি : সংগৃহীত
গুরুতর অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান কালবেলাকে বলেন, এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার দাবি, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোক ছিল তারা নেতৃত্বে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বিপ্লবীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যারা বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না। জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেলা কমিটির সদস্য সচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে তার পদ থেকে সরানোর পর সেই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্য সচিব হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের দ্বন্দ্বের কারণে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে শেখ রেজওয়ান বলেন, দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না, দলীয় শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনসিপির সদস্যসচিব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এ বিষয়ে জানতে জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিরা জামাতে দাঁড়ান বন্দুকের গুলির আওয়াজে। ছবি : সংগৃহীত
গুলির শব্দে শুরু ঈদ জামাত, বিশ্বে এক অনন্য রেওয়াজ

বিশ্বের বুকে এ যেন এক অভূতপূর্ব এবং অনন্য রেওয়াজ বা বিরল ঐতিহ্য। সব জায়গায় সকল ধরনের নামাজেই মুসল্লিরা জামাতে দাঁড়ান ইমামের একামতের মাধ্যমে। কিন্তু কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দুই ঈদের জামাতেই মুসল্লিরা জামাতে দাঁড়ান বন্দুকের গুলির আওয়াজে। গুলির আওয়াজে জামাত শুরুর এই রেওয়াজ চলে আসছে সুদীর্ঘকাল ধরে। জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর সঙ্কেত দেওয়া হয়। প্রথম গুলিটি ছোঁড়েন দায়িত্বরত পুলিশ সুপার। ঈদগার পশ্চিম পাশে একটি টেবিলে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয় বেশ কয়েকটি গুলি ভর্তি শর্টগান। শোলাকিয়ায় এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এতে ইমামতি করবেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। যদিও ঈদগাহটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৭৫০ সালে। সেই হিসেবে ঈদগাহর বর্তমান বয়স ২৭৬ বছর। তখন থেকে প্রতি বছরই এখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু কথিত আছে, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়ালাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে তখনকার সময়ে সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় থেকে জামাতের সংখ্যা গণনায় এবারের জামাতকে ধরা হচ্ছে ১৯৯তম। আর ‘সোয়ালাখ’ সংখ্যাটি থেকেই শব্দগত বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পরবর্তীতে এলাকাটির নামকরণ হয়েছে শোয়ালাখিয়া থেকে শোলাকিয়া। জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ঈদ জামাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ এলাকা পর্যবেক্ষণে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ১১শ’ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি চার প্লাটুন সেনা সদস্য, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ছয়টি দল ও পাঁচ প্লাটুন আনসার সদস্য এবং এপিবিএন মোতায়েন থাকবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখবে। থাকবে টিউবওয়েল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়াশরুমও স্থাপন করা হয়েছে। মোতায়েন থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ও মেডিক্যাল টিম। জামাতে দূরবর্তী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে সকালে দু’টি ঈদ স্পেশাল ট্রেন যাতায়াত করবে। ভৈরব থেকে ট্রেন রওনা দেবে সকাল ৬টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। আর ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন রওনা দেবে সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে, কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। জামাত শেষে ট্রেন দু’টি আবার মুসল্লিদের নিয়ে ফিরে যাবে। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদগাহ ময়দানে চারটি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে পুলিশের, দু’টি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে র‌্যাবের। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকবে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রীয়করণ দল। থাকবে ক্যামেরাবাহী ড্রোন ও বাইনোকুলার ও স্নাইপার। এখানে ঈদুল ফিতরের জামাতে কিশোরগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, গতবছর ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেছেন। ঈদগাহ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। সদস্য সচিব থাকেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৬ সালে এখানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল। এর পর থেকেই শোলাকিয় ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহ পরিপূর্ণ হয়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে আশপাশের রাস্তা, পুকুরপাড়, পার্শ্ববর্তী বাসাবাড়ির আঙিনা, বাড়ির ছাদ, পতিত জমি, নদীর সুপ্রশস্ত সেতুসহ সকল খালি জায়গায় জামাতে কাতার বাঁধতে হয়। যে কারণে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে বহু বছর ধরেই ঈদগাহটি সম্প্রসারণের জোরালো দাবিও আছে। এছাড়া মূল ঈদগাহের পাশেই পর্দা ঘেরা স্থানে মহিলাদেরও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের আগের দিন থেকেই অন্যান্য জেলা থেকে প্রচুর মুসল্লি চলে আসেন। তাঁদের জন্য আশপাশের স্কুল ও মসজিদে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও বাইরের মুসল্লিদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা চেম্বার অব কমার্স সহযোগিতা করে থাকে।  ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইদগাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদকে আনন্দময় করে তোলার জন্য শহরকে বেশ কিছু তোরণ ও উৎসব পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। ঈদের দিন ভোরবেলা থেকেই মুসল্লিদের স্রোত বইতে থাকে ঈদগাহ অভিমুখে। সকাল ১০টায় জামাত শুরু হলেও সকাল ৯টার আগেই লাখ লাখ মুসল্লির সমাগমে পুরো ঈদগাহ যেন হয়ে ওঠে এক বিশাল জনসমুদ্র।

মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
নাফ নদী থেকে আবারও ৭ জেলেকে অপহরণ, আরাকান আর্মির তৎপরতা বৃদ্ধি

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা থেকে মাছ ধরার সময় দুটি নৌকাসহ সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল ও এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক ঘটনায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম। অপহৃত জেলেরা হলেন- মো. রাসেল (১৮) ও মো. শরিফ (১২), মো. আবুল কালাম (৫০), মো. ছাদেক (৩০), আবদুর শুকুর (৪০), মো. রবি আমল (১১) ও মঞ্জুর আলম (২৭)। তারা টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচরসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় একটি নৌকাসহ তিন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে একই এলাকা থেকে আরেকটি নৌকাসহ চার মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করা হয়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, এভাবে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের মধ্যে চরম দুর্দশা নেমে আসবে। তিনি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। এতে স্থানীয় জেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নৌকার মালিকদের কাছ থেকে জানা গেছে। তাদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়।

মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চার বছরের শিশুকন্যা খুন, চুলার ভেতর মিলল লাশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত শিশুটির নাম মরিয়ম, ডাকনাম সিয়া। তার মরদেহ পাশের বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইয়াসিন (১৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।   বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম ওই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে মরিয়ম নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রতিবেশী রুকিয়া বেগমের রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মরিয়মের গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের উপদ্রব রয়েছে। তাদের ধারণা, নেশার অর্থ জোগাড় করতে দুর্বৃত্তরা চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার পর শিশুটিকে হত্যা করেছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মারুয়াখালী গ্রামের সাদ্দামের ছেলে ইয়াসিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একটি দল কাজ করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাকিব হত্যায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার সাগর রিমান্ডে

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে (২৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন।  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার সহযোগী গোলাম রসুল শিহাব, রাফিন শেখ, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাগর ফকিরসহ অন্যদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানে সে বিরত থাকছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।  এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে পিস্তল ও গুলিসহ সালাউদ্দিন সাগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই আসামি শিহাব ও সাগর (ফকির) গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাফিন ও জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিব মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  এই ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত আক্রোশ থেকে খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালিত হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কারাগারে মৃত্যু, ৩৮ দিন পর ফিরল খাইরুজ্জামালের লাশ

ভারতে গিয়ে কারাগারে মৃত্যুর ৩৮ দিন পর খাইরুজ্জামালের (৪২) লাশ ফেরত দিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।   বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খাইরুজ্জামাল কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল্লার ছেলে। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে খাইরুজ্জামাল জীবিকার সন্ধানে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। সেখানে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করছিলেন। কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরে আনতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। টানা ৩৮ দিনের প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ গ্রাম কালুডাঙায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। উলিপুর থানার ওসি সাইদ ইবনে সিদ্দীক বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে খাইরুজ্জামালের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতে বাদ এশা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন ওসি।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের টেরিবাজারে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারে একটি ১০তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরো একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কে বি অর্কিড প্লাজা নামের ওই ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়ার বধুপুর মির্জাবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খালিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২)। চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন বোয়ালখালী ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকার মামুনুল কাদেরের ছেলে মো. সোলাইমান। এছাড়া, মোহাম্মদ মামুন (২৮) নামে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বি অর্কিড প্লাজার চতুর্থ তলায় অবস্থিত একটি টেইলার্স দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফিয়াল ফারুক জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সংবাদ পাওয়ার পরপরই তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাহরির পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ আসার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ গচ্ছিত ছিল, যা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১০ তলা বিশিষ্ট কে বি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচতলায় শপিংমল, ব্যাংকের শাখা, জুয়েলারি ও টেইলার্স দোকান রয়েছে এবং ওপরের পাঁচতলায় আবাসিক ফ্ল্যাট অবস্থিত।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
লঞ্চঘাট।
পদ্মায় জাহাজ-লঞ্চ সংঘর্ষে আহত ১০

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে একটি তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন লঞ্চটিতে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘এমভি রেজোয়ান’ লঞ্চটি মাঝ নদীতে পৌঁছলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চের মাস্টারের গাফিলতির কারণেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহত ১০ যাত্রীর মধ্যে কেউ হাতে-পায়ে, আবার কেউ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ সময় আতঙ্কে দুই যাত্রী নদীতে পড়ে যান। পরে তারা সাঁতরে পুনরায় লঞ্চে উঠতে সক্ষম হন। দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো.জিল্লুর রহমান প্রামাণিক বলেন, মাঝ নদীতে সংঘর্ষের পর আহত যাত্রীরা দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছলে আমরা তাদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়ে স্বজনদের হাতে তুলে দিই।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
সর্বশেষ

মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেনের চরম দুর্ভোগ

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৭, ২০২৬ 0