দীর্ঘ দুই যুগ পর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল রংপুর সফরে যাচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর বিভাগজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও সাজ সাজ রব। একই সঙ্গে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। সমাবেশকে সফল করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। যারা মনোনয়ন পাননি, তারাও অভিমান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। রংপুর বিভাগে মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রতিটি আসনে চার থেকে পাঁচজন করে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে কিছুটা মান-অভিমান দেখা দিলেও তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সেই দূরত্ব ঘুচেছে। প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকে শোকজ করা হলেও বর্তমানে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর চেম্বার ভবনের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এবং রংপুর বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিফলন জনসভায় দেখা যাবে।” তিনি জানান, বিভাগের ৩৩টি আসন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেবেন। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিমানবন্দর চালু, শিল্পকারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা দাবি তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসভাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের (সদর ও আংশিক সিটি) প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের প্রধানের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মহানগর পুলিশ। সভামঞ্চ, আশপাশের ভবন এবং পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। নগরীর বিভিন্ন তল্লাশি চৌকিতে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, জনসভাস্থল ও চলাচলের রাস্তাগুলো নিরাপদ রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ইউনিফর্মধারী ফোর্সের পাশাপাশি রুফটপে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সারাদেশে চলমান নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নওগাঁয় পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মাঠে প্রবেশ করে তারেক রহমান জনসভা মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি প্রধান অতিথির আসনে আসন গ্রহণ করেন। এই জনসভায় নওগাঁ জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। পরে রাত সাড়ে ৮টায় বগুড়ার একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। সকাল থেকেই নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানা ও উপজেলা ছাড়াও জয়পুরহাট ও বগুড়ার নানা এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা এটিএম মাঠে জড়ো হতে থাকেন। মানুষের ঢলে মাঠ ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। তারেক রহমানকে এক নজর দেখার ও তার বক্তব্য শোনার আশায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বড় বহর মাঠে প্রবেশ করলে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। বিপুল মানুষের সমাগমে সমাবেশস্থলের আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অনেককে গাছ, উঁচু দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে জনসভা উপভোগ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে এটিএম মাঠ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন করা হয়। সভামঞ্চের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি আকাশে ড্রোন উড়িয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনসভায় নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু ও শফিউল আজম রানা ছাড়াও নওগাঁ-১ থেকে ৬ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জয়পুরহাট জেলার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারেক রহমান রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন এবং পরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।
জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য দেশের কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল শুক্রবার টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নন্দনপুর ডিআরএস-এর জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা কুমিল্লা সদর ও উপজেলা, কুমিল্লা বিসিক, কুমিল্লা ইপিজেড এবং আশপাশের এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শামছুল হকের বাসভবনে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে শহরের পোস্ট অফিস রোডে অবস্থিত বিচারকের সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ করে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ সুপার জানান, বাসভবনের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে সামনের অংশে কৌটার মতো একটি বস্তু পাওয়া গেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এর আগে বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জনতার মুখোমুখি’ ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় রেজাউল করিমসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, বিচার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে শেরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “জামায়াত নেতার মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস ও হোমনা এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) গৌরীপুর আঞ্চলিক কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা চার উপজেলার সব এলাকায় গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। মেরামতকাজ শেষ হওয়া মাত্রই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে উল্লিখিত চার উপজেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প—সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছার পর বিকেলে জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরেন সাদ্দাম। বাড়িতে পৌঁছেই তিনি ছুটে যান তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারতে। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানের কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। স্ত্রীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ভালো স্বামী হতে না পারার আক্ষেপ করেন এবং সন্তানের কবর ছুঁয়ে ভালো বাবা হতে না পারার বেদনায় কান্না করতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাদ্দামের শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শুভ হাওলাদার, ভাই শহিদুল ইসলামসহ দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাদ্দাম বলেন, আমার মতো করুণ পরিণতি যেন আর কোনো পরিবারকে ভোগ করতে না হয়। জুলাই আন্দোলন হয়েছিল রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজ জুলাই-আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আমার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী বিনা কারণে জেলবন্দি রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলোর অবস্থাও আমার পরিবারের মতোই করুণ। তিনি আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তান হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের কাঁচাবাজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা এলাকা থেকে স্থানীয় ছয়জন কৃষককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার কোনাপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। অপহৃত কৃষকরা হলেন মোহাম্মদ জমির (৩২), শফি আলম (১৩), মোহাম্মদ আলম ওরফে মাহাত আলম (১৮), জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না (৩০) এবং মোজাহের (৬০)। তাদের মধ্যে পাঁচজন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা। অপর একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কৃষকরা পাহাড়ের পাদদেশে দিনমজুর হিসেবে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে উপস্থিত হয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের নিয়ে যায়। অপহৃত মোহাম্মদ আলমের বাবা এজাহার হোসেন জানান, তার ছেলে প্রতিদিনের মতোই কাজে গিয়েছিল। পরে জানতে পারেন পাহাড়ি অস্ত্রধারীরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে বলে জানান তিনি। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকা থেকে কয়েকজন কৃষক অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং তাদের উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি চলছে।’
টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফের চাল আমদানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারত থেকে চারটি পৃথক চালানে মোট ৫১০ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বন্দর সূত্র জানায়, ভারতীয় ১৪টি ট্রাকে করে আনা এসব চাল দুপুরে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে নামানো হয়। চালগুলো আমদানি করেছে হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স। দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের নেওয়া শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্তের আওতায় এই চালানটি এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানির এই উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৬ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর আগে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সরকার ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চের মধ্যে এসব চাল দেশে এনে বাজারে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত এই চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত গড় খরচ পড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। বেনাপোল বন্দরের বন্দর পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার ভারত থেকে ৫১০ টন নন-বাসমতি মোটা চাল বেনাপোল স্থলবন্দরে এসেছে। দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। অতীতের নির্বাচনগুলো নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও এবার একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াই লক্ষ্য। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন কুমিল্লা জেলায়। ফলে এখানে নির্বাচনী কার্যক্রমের পরিধি ও কর্মব্যস্ততা তুলনামূলকভাবে বেশি। এ কারণে জেলা প্রশাসন, নির্বাচন অফিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হবে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্রগুলো শতভাগ সিসিটিভি ফুটেজের আওতায় রাখতে হবে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, কুমিল্লা সেনানিবাসের ২৩ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ, র্যাব-১১ কুমিল্লার অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুন্ডু, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. আবু আবদুল্লাহ, ডিজিএফআইয়ের উপপরিচালক কাজী রাজীব রুবায়েতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশন এলাকায় চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর লাইন থেকে ২ নম্বর লাইনে ক্রসিং করার সময় আউটার এলাকায় একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে রেললাইন সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে পড়ে এবং ওই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৭টায় একটি উদ্ধারকারী ট্রেন (রিলিফ ট্রেন) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রেলওয়ে প্রকৌশলী ও কর্মীরা লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল এবং তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসসহ আরও বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে বা পথে আটকে আছে। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছে নির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। স্টেশন অতিক্রম করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইঞ্জিন থেকে চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কাজ শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, একটি দল নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে প্রতিহত করবে জনগণ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নাটোর সদরের দিঘাপতিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারকালে তিনি এ কথা বলেন। দুলু বলেন, ২০০১ সালে সর্বশেষ আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তারপর চারটি নির্বাচনে জেলে ছিলাম। আওয়ামী লীগ আমাকে নির্বাচন করতে দেয়নি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি নাটোরে একটি মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে; গ্যাসের লাইন আসবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করব। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, জেলা বিএনপির সদস্য আবুল কালাম, নাসিম উদ্দিন নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ রনি, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
ময়মনসিংহের নান্দাইলের পল্লীতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আবুল কালাম (৩৫) নামের এক সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে আরো পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামে। নিহত কালাম মৃত আরজ আলীর ছেলে। পুলিশ বলেছে, নিহত কালামের মাথা, দুই হাত, বুক ও পায়ে কোপানোর জখম ছিল। একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। শত শত লোকজন ছুটে আসছেন। রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির পাশেই সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে। যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘিরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা পাশেই রয়েছে। নিহত কালামের ভাতিজি শিমু আক্তার (১৮) জানান, তাঁর চাচা একজন সিএনজিচালক। পাশের মৃত হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দাঁড় করিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে প্রবেশ করেন। ওই সময় হাবিবের ছেলে আল-আমীন ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা কালামের কাছে গিয়ে জানতে চায় কেন প্রতিদিন তাদের বাড়ির সামনে সিএনজিটি রাখে। এতে তাদের অসুবিধা হয়। এসময় দুজনের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হলে আল-আমীন বসতঘর থেকে রামদা বের করে এনে আচমকা কালামকে কোপাতে থাকে। এ ঘটনা দেখে কালামের পাঁচ ভাই প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাদেরকে রামদা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আল-আমীনের তিন ভাইসহ আরো বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে কোপাতে থাকে। কালাম মাটিতে পড়ে গেলে সেখানে আল-আমীন, তার ভাই ও স্বজনরা মিলে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় নিহত কালামের ভাই ফারুক, তাহের, ভাতিজা সুমন ও রুনাসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ওসি আল-আমীন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুালিশ তৎপর রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. রাশেদ মিয়া প্রকাশ রাশেদ হাসান রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম। এর আগে গতকাল রোববার তাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাশেদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি পাঁচলাইশ থানাধীন খতিবেরহাট এলাকায় সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড দৌলত ম্যানসনে থাকেন। তিনি মৃত দৌলত মিয়ার ছেলে। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক সুজন বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তার রাশেদের বিরুদ্ধে সিআর সাজা-৬ ওয়ারেন্ট ও জিআর-২ ওয়ারেন্ট ছিল। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তার রাশেদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাকে আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে সমন্বয় সভা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় দেওয়ানবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে এ সভা হয়। এতে সভাপতির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের হত্যাকারীরা আজও বিচারের বাইরে রয়ে গেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। অবিলম্বে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না এবং জাতি কখনো দায়মুক্ত হতে পারবে না। সভায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না। চট্টগ্রাম মহানগরীর সব আসনের ১১ দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল চাঁদা-সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গঠন। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টির মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন জিয়া। আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সভাপতি সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টির মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি আলা উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এসএম লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিস মহানগরের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী মক্কা ও মদিনায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য এজেন্সি থেকে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এ সময়সীমা কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়ার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্নের নির্দেশনার কথা জানিয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সব লিড এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অংশীদার ও মোনাজ্জেমদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘোষিত সৌদি টাইমলাইন অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। গত ১৫ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এক ভার্চুয়াল সভায় জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ভাড়া করার অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে। নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মক্কায় মাত্র ৭.২৬ শতাংশ এবং মদিনায় ১১.৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১১টি লিড এজেন্সি এখনো মক্কা কিংবা মদিনায় কোনো জায়গায়ই বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম শুরু করেনি। এ অবস্থায় সৌদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবাসন ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা-মদিনার বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি ও হজযাত্রীর কোরবানিসহ সৌদি পর্বের ব্যয় নির্বাহের জন্য এজেন্সিগুলোর সৌদি আরবের আইবিএএন হিসাবে অর্থ প্রেরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মক্কার হজ কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে ৭৮,৫০০ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে হাজিদের বাড়ি ভাড়ার কাজ এখনও চলমান। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হবে।
সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে। পরিচ্ছন্ন স্কুল ড্রেস পরা দুই শিশু মায়ের হাত ধরে হাঁটছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই চেনা দৃশ্য রূপ নেয় হৃদয়বিদারক এক ট্র্যাজেডিতে। গাজীপুরের পূবাইল এলাকার একটি মোবাইল রেলগেটে তিতাস কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মা ও তার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—হাফেজা খাতুন মালা (৩৫), তার মেয়ে তাবাসসুম (৮) এবং ছেলে মারুফ (৫)। নিহত মালার স্বামীর নাম উজ্জ্বল। তাদের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মাবিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোম গ্রামে। বর্তমানে তারা পূবাইল এলাকায় বসবাস করছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে হাফেজা খাতুন মালা তার দুই সন্তানকে স্কুল ড্রেস পরিয়ে রেলগেটের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান সাত্তারের কাছে তিনি জানতে চান, ট্রেন আসছে কি না। গেটম্যান তাকে নিরাপদ পথে পার হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি ট্রেন চলাচলের লাইনের দিকেই এগিয়ে যান।ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করে হাফেজা খাতুন মালা তার দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মা ও দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটে।স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তারা ধারণা করছেন, ব্যক্তিগত কষ্ট ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।ঘটনার পর পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাচ্চাগুলো স্কুল ড্রেস পরা ছিল—এই দৃশ্য কোনোভাবেই ভুলে থাকার মতো নয়। পুরো এলাকাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা ৭ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। সরবরাহ বন্ধ থাকবে বিজেস্বর ও ভাদুঘর, কাউতলী ও পাইকপাড়া, মেড্ডা ও নাটাই, গোকর্ণঘাট, বিরাসার ও ঘাটুরা এবং সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। এই সময়ে এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের — আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প — গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। গ্যাস কোম্পানি গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা, এসআই মীর কায়েস এবং এসআই মমিনুল। আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয় এবং পুলিশের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে একটি টহল পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
খুলনা নগরীর সিএস আভা সেন্টারে তৃতীয় উপকূলীয় সম্মেলনে রবিবার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ, জলবায়ু ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত। ছবি : কালের কণ্ঠ ‘উপকূল মারাত্মক বিপদে রয়েছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রীযভাবে তেমন কাজ হচ্ছে না। সমুদ্রসীমার কর্তৃত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক চুক্তি হলেও আমাদের কোনো কাজ হয়নি। অথচ আগামী ৫০ বছর পর খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সমুদ্রের পানির মতো লবণাক্ত হয়ে যাবে।’ আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা নগরীর সিএস আভা সেন্টারে তৃতীয় উপকূলীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন পরিবেশ, জলবায়ূ ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত। দেশের ৬০টিরও বেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। তিনব্যাপী এ সম্মেলন শনিবার অংশীজন কর্মশালায় প্রথম দিন অতিবাহিত হয়। ড. আইননু নিশাত আরো বলেন, দেশের স্বার্থেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক স্থাপন দরকার। বিশেষ করে ভারত ও নেপালের পানি প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের হিস্যা আদায় করতে হবে। অথচ এত বছরেও আমাদের পানি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা নদীকে নষ্ট করে ফেলেছি। নদী শুধু পানি বহন করে না। নদী সেগিমেন্ট বহন করে, পলি বলবেন না। সেগিমেন্ট সেখানে পাথর, বালু, কাদা ও ভাসমান বস্তু থাকে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা বেড়ে সমুদ্রের রূপ নেবে। এখানে সেখানকার মতো হাঙর, মাছ থাকবে। সুন্দরবনে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আইনুন নিশাত আরো বলেন, মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন অর্ধেকে নামবে। বাঁধ দিয়ে আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। পরিকল্পনা গ্রহণকালে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয় না। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উপকূল ও বাংলাদেশকে বাঁচাতে পানি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, গত বছর ছয়টি সাইক্লোন হয়েছে, সবগুলোই মায়ানমার-ভারত উপকূল দিয়ে গিয়েছে। আমরা বেঁচে গেছি। ফ্লোডিয়ায় ১৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছে, এখানে হলে আমাদের ফরিদপুর পর্যন্ত ভেসে যেত। ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপকূলীয় পানি সম্মেলন কমিটির সদস্যসচিব শামীম আরফিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মারুফুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশেনের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সোমা দত্ত, ডরপ্’র জুবায়ের আহমেদ, জেজেএসের এ টি এম জাকির হোসেন, লোকজের দেবপ্রসাদ সরকার প্রমুখ। সম্মেলনে একাধিক বিদেশি প্রতিনিধি ভাচুর্য়াললি তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সম্মেলনের দুটি সেশনে ২০টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সোমবার এইক স্থানে দুটি সেশনে সাইড ইভেন্ট ও ‘খুলনা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।