আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ–পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যা বলল ভারত

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়, যার লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।


শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। তাকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে কি না এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ পাকিস্তান নিচ্ছে কি না—যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি দুই দেশের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।


পাকিস্তান এই পরিস্থিতির কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন।


এ ছাড়া বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে, সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে এবং স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


আরেক প্রশ্নে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার বিষয়ে ভারত সরকার আলোচনা করেছে কি না জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়সহ সব প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।


আলাদা আরেক প্রশ্নে ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোট’ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং এসব স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।


তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে প্রতিবেশি’ নীতির আওতায় ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।
নিজস্ব নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
এশিয়ার মানচিত্র বদলে দিতে যাচ্ছে চীন, নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হচ্ছে বিশাল 'পিংলু খাল'

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করতে চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প 'পিংলু খাল' (Pinglu Canal)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান) ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার (৮৩ মাইল) দীর্ঘ এই খালের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এর প্রথম শিপিং রুটে পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে। প্রথম রুটটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিং-এর সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে।   বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত ও সময়-খরচ সাশ্রয়   পিংলু খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সরাসরি 'গলফ অব টনকিন' বা বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN)-এ পণ্য পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার (৩৪৬ মাইল) কমে যাবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথটি চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লজিস্টিক খরচ বাঁচাবে। এতদিন এই অঞ্চলের পণ্যগুলোকে ঘুরতি পথে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর হয়ে সমুদ্রে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।   ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গত বছর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমেছে, সেখানে আসিয়ান দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। এই বিশাল খালের মাধ্যমে চীন তার অন্যতম বড় এই রপ্তানি বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে।   ১০ হাজার টনের বিশাল মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত এই খালটিকে চীনের গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় 'নদী থেকে সমুদ্র' সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নাননিং-এ অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম 'চীন-আসিয়ান এক্সপো' (China-ASEAN Expo) চলাকালেই এই খালের উদ্বোধন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনে শি-পুতিন বৈঠক: ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নতুন আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী টোল ব্যবস্থা নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস

ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক বাহিনীর মহড়া চালাল রাশিয়া

ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতার এক বিশাল মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। বুধবার (২০ মে) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সামরিক মহড়ার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে মস্কো ।   মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কৌশলগত আয়োজনটি মোট তিনদিন ধরে চলবে। সম্ভাব্য যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসন বা হুমকির মুখে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত এবং দ্রুত সেটির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মূলত এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। মহড়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিচ্ছে দেশটির স্থলভিত্তিক রকেট বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর এবং বিমান বাহিনীর মোট ৬৪ হাজারেরও বেশি সেনা সদস্য। সামরিক সক্ষমতার এই প্রদর্শনীর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে মস্কো।  মহড়াটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চা্‌ ও ২০০টিরও বেশি কৌশলগত মিসাইল লঞ্চার। এছাড়াও আকাশযান, ১৪০টি যুদ্ধবিমান ও কৌশলগত বোমারু বিমান। তাছাড়াও রয়েছে নৌবহর, ৭৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন, মোট ১৩টি সাবমেরিন, যার মধ্যে ৮টিই হলো কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন। এছাড়াও সামরিক সরঞ্জাম আছে ৭ হাজার ৮০০টিরও বেশি ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ বিমানের পথ আটকালো দুই রুশ যুদ্ধবিমান

ছবি : সংগৃহীত
মাত্র ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন, চীনের বিস্ময়কর কীর্তি

সদ্য সমাপ্ত গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী দলের অংশ হিসেবে ইলন মাস্ক চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) চীনের চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। মেঝের আয়তনের দিক থেকে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন।   গণপরিবহন নিয়ে অতীতে বহুবার সংশয় প্রকাশ করা ইলন মাস্ক কেন এই ভিডিও শেয়ার করলেন— তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এর চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে স্টেশনটির নির্মাণকাহিনী। কারণ, মানুষ ও রোবটের সমন্বয়ে মাত্র ৩৮ মাসে এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করে নতুন নজির গড়েছে চীন। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের অভ্যন্তরে অবস্থিত চংকিং শহরটি জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক পরিসরের দিক থেকে দেশটির বৃহত্তম শহরগুলোর একটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দ্রুত বাড়তে থাকা যোগাযোগ চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যমান উত্তর স্টেশনের ওপর চাপ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন। এটি কেবল একটি রেলস্টেশন নয়, বরং বিশাল বহুমুখী ট্রানজিট কমপ্লেক্স। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মানুষের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে কয়েক দশক সময় নেয়, সেখানে চীন ১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই বিশাল স্টেশন নির্মাণ করেছে মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে। ১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটার আয়তনের এই স্টেশনে রয়েছে ১৫টি প্ল্যাটফর্ম ও ২৯টি ট্র্যাক, যা তিনটি পৃথক রেল ইয়ার্ডে বিভক্ত। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এর। ৮ তলা বিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সে হাই-স্পিড রেল, সাধারণ রেল, মনোরেল, বাস ও ট্যাক্সি— সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বিত সুবিধা রাখা হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৮ মাসে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মূলত এক ‘রোবট বিপ্লব’-এর কারণে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত এই নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক রোবট প্রযুক্তি। লেজার-গাইডেড ফোর-হুইল স্ক্রিড রোবট— যাতে ছিল লাইডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি— মানুষের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত এবং মিলিমিটার-নির্ভুলভাবে কংক্রিট লেভেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে শ্রম ব্যয় কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ৮০০ কেজি ওজনের কাঁচের প্যানেল বসানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ গ্লাস ইনস্টলেশন রোবট। এগুলো সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন গুণ দ্রুত কাজ করেছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। নির্মাণকাজে আরও যুক্ত ছিল অমনিডাইরেকশনাল ওয়েল্ডিং রোবট ও ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া পাহারাদার রোবট। চায়না রেলওয়ে ব্যুরোর কর্মকর্তাদের দাবি, রোবোটিক্স ব্যবহারের ফলে শ্রম ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, কাজের গতি বেড়েছে তিন গুণ এবং নিরাপত্তাজনিত দুর্ঘটনা কমেছে ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি আধুনিক রেলস্টেশন নয়; এটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য গতি প্রদর্শনের প্রতীক। আর সম্ভবত এই কারণেই বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ভিডিওটি শেয়ার না করে থাকতে পারেননি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও সিনহুয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সাপের গ্রাম ‘শেতফল’

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৫০ বছরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে যেসব দেশ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

0 Comments