জাতীয়

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তালিকায় আরও ৫৩ পুলিশ কর্মকর্তা, পাঠানো হতে পারে বাধ্যতামূলক অবসরে

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ আমলে দায়িত্ব পালন করা বিতর্কিত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া সেই পদক্ষেপেই অটল বর্তমানে সরকার।

এরই অংশ হিসেবে গত ৩ মে পুলিশের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন ডিআইজি। এর আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আরো ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্বরত ও সংযুক্ত ছিলেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নিয়ে পুলিশে আলোচনা চলছে; আর কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। জানা যায়, যেসব পুলিশ কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা এখন আতঙ্কে আছেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের আরো ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে ১৩ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩১ জন এসপি এবং ৯ জন এএসপি রয়েছেন। এসব এসপির মধ্যে আওয়ামী সরকারের ডামি ও রাতের ভোটে দায়িত্ব পালন করেন অনেকে। এছাড়া বিগত সময়ে এইসব পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। তারা বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন।

সূত্র জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চাকরির বয়স থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর দিয়ে থাকে সরকার। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার ওই কর্মচারীকে ‘জনস্বার্থে’ যেকোনো সময় অবসরে পাঠাতে পারে। এ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর প্রয়োজন নেই।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিরিক্ত আইজিপি জানান, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী গত দেড় বছরে কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। আরো একাধিক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা জানান, বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন হলে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যাবে। যাচাই-বাছাই করে পদায়ন ও পদোন্নতি দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগার হয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুলিশের মধ্যে দলীয়করণ করলে পুরো বাহিনীর বদনাম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনে অতিউৎসাহী ছিলেন। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অযাচিত দমনপীড়ন চালিয়েছেন। এদের কিছু কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পদায়ন হওয়ায় খোদ পুলিশের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সূত্র জানায়, মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ৫ মে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা আছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন । ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, হামলা ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী সরকারের পতন হলে মাহবুবের কর্মকাণ্ড সামনে আসে।

দুটি হত্যা মামলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জ থানায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। এ ঘটনায় নিহত যুবদল নেতার বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি মাহবুব আলম খান।

এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে আরো একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় অপর হত্যা মামলাটি করেন। মাহবুব ওই মামলায় ৩ নম্বর আসামি।


জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ভোলা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেনসহ ৩৬ পুলিশ সদস্যের নামে হত্যা মামলা হয়। সেই আরমানকে সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে আর সেখানে পদায়ন করা হয়নি।

সূত্র জানায়, বিতর্কিত এসব কর্মকর্তার পদায়নে পুলিশ প্রশাসনে ঝড় ওঠে। এসব কর্মকর্তা যাতে আবার বাহিনীটির গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন না পান, এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো প্রায় ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাবে বলে জানা গেছে। পুলিশের ১১৪ কর্মকর্তা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বর্তমানে সংযুক্ত আছেন। এদের বড় অংশকেই অবসরে পাঠানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার পুলিশে পেশাদার ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ পেশাদার কর্মকর্তা আগে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকের আওয়ামী আমলে পদোন্নতি না পেয়ে মনোবল ভেঙে গেছে। প্রায় সোয়া দুই মাস আগে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী পদত্যাগ করার পর মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা সংকটের কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, এ সংকট শিগগির কেটে যাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন মাইলফলক অর্জন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।   তিনি জানান, গতকাল (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি শুরুর অনুমোদন দেন।    অনুমোদন পাওয়ার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১-এ পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।   স্টেজ সি হলো ইউনিট-১-এর কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে বিভিন্ন প্ল্যান্ট সিস্টেমের কার্যক্ষমতা ও সমন্বিত পরিচালনা পরীক্ষা ও যাচাই করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সিস্টেম, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ইন্সট্রুমেন্টেশন ও কন্ট্রোল, রিঅ্যাক্টর প্রোটেকশন এবং সেফটিসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম।    রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। বিশেষভাবে টারবাইন কন্ট্রোল ও প্রোটেকশন সিস্টেম, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে।   স্টেজ সি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ইউনিট-১-এর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিঙ্ক্রোনাইজ করা এবং স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে অগ্রসর হওয়া। এ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও কমিশনিং রিকোয়ারমেন্টস পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি-এর অনুমোদন এবং কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সব কার্যক্রমে নিউক্লিয়ার সেফটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দ্বীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করল পিবিআই

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত
তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দীপের তথ্যে ধোঁয়াশা

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান।   অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন জানান, তারা কেন তুরাগ নদ-সংলগ্ন বাজার বস্তি মাঠে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন দীপ। ওই মাঠে যাওয়ার কারণ ছাড়াও তাদের সঙ্গে কোনো নারী কিংবা অন্য কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না তিনি।     এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে মাদক ও নারী সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে রেখেও তদন্ত করছে পিবিআই। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া কোনো তথ্যই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা হচ্ছে না। পাশাপাশি তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।   পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা দীপের কাছে জানতে চান, তারা তুরাগ নদ-সংশ্লিষ্ট বাজার বস্তি মাঠে কেন গিয়েছিলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে দীপ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি তদন্তকারীদের বলেন, তিনি ওই মাঠে যাননি। তাহসিফ তাকে বলেছিলেন, তিনি ওই মাঠে যাবেন।   এরপর তদন্তকারীরা দীপকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি যদি ওই মাঠে না গিয়ে থাকেন, তাহলে মোটরসাইকেলটি মাঠের কোন জায়গায় ছিল, তা কীভাবে জানেন? এই প্রশ্নের জবাবে দীপ আবারও বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তখন তিনি বলেন, তিনি মাঠে গিয়েছিলেন। তাহসিফ তাকে মোটরসাইকেলে করে ওই মাঠে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আগে থেকে ওই মাঠ চিনতেন না।   তবে মাঠে কেন গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সঠিক কোনো উত্তর দিচ্ছেন না দীপ। এছাড়া তাদের সঙ্গে কোনো নারী বা আরও কোনো লোকজন ছিলো কি না, সে বিষয়েও তথ্য না দিয়ে একই কথা বারবার বলছেন তিনি। এতে তদন্তকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে দীপ খুবই ঠান্ডা মাথায় ও শান্ত স্বভাবে তদন্তকারীদের সব প্রশ্নের উত্তর নিজের মতো করে দিচ্ছেন।    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, টঙ্গী মাজার বস্তি-সংলগ্ন ওই মাঠে মাদক সেবন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই স্থানে এর আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। তাহসিফ ও দীপ মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন, এমন কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ওই সময় তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মাদক সেবনের জন্য ঢাকা থেকে বের হয়ে তারা টঙ্গীর ওই মাঠে কেন যাবেন, তা নিয়ে দীপকে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিভিন্ন উত্তর দিচ্ছেন। এসব উত্তর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা আরেক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাহসিফের সঙ্গে ওই রাতে একজন নারীও ছিলেন। তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় যান তিনি। ওই নারী শেষ পর্যন্ত ওই মাঠে গিয়েছিলেন কি না, নাকি মাঠে যাওয়ার আগে তাকে তার বাসায় দিয়ে এসেছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া মাদকের বিষয়টি জোর দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কারণ, তাহসিফের মাদক সংশ্লিষ্টতার কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে।   এদিকে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর নিজ বাসা থেকে বের হয়ে তাহসিফ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, তা প্রযুক্তির সহায়তায় জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া তার ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ২৭ অক্টোবর দীপের সঙ্গে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ১০ থেকে ১২ বার কথা হয়। এসব কলের কোনোটি কয়েক সেকেন্ডের, আবার কিছু কলের দৈর্ঘ্য কয়েক মিনিট ছিল। এছাড়া ওই দিন রাতে তাহসিফের ফোনে আরও একাধিক নম্বর থেকে কল আসে এবং তিনিও বিভিন্ন নম্বরে কল করেন। এসব কল ও যোগাযোগের তথ্য ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছে পিবিআই।   মামলা না হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিহতের পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। মামলা হলে সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হবে। এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হলে নিহতের পরিবারের মামলা করার বিষয়ে বর্তমান অবস্থানও তদন্ত করা হবে। নিহতের পরিবার কেন মামলা করছে না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে।   এদিকে শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে দীপের বাবা, ছোট ভাই ও মামাকে দেখা যায়। দীপের বিষয়ে তার বাবা কোনো কথা বলতে চাননি। তবে দীপের মামা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহসিফ ও দীপের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। তাহসিফ দীপের মোহাম্মদপুরের বাসায় যাতায়াত করতেন। ওই বাসায় দীপের ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও থাকতেন। তাদের সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল।   তাহসিফের জানাজা ও দাফনে দীপ বা তার পরিবারের কেউ অংশ নিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীপ বা তার পরিবারের কেউ যাননি।   বন্ধুত্ব ও পারিবারিক পরিচয় থাকার পরও দীপ বা তার পরিবারের কেউ জানাজা ও দাফনে যাননি কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে দীপের মামা কোনো উত্তর দেননি।   তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার সার্বিক তদন্তের বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকসংক্রান্ত বিষয় ও নারীসংক্রান্ত বিষয়। এছাড়া এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। আমরা বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। এছাড়া দীপ আমাদের যা বলছে, সব কথাই আমরা বিশ্বাস করছি না। আমরা তার দেওয়া তথ্য যাচাই করছি।’   ময়নাতদন্তের নমুনা পরীক্ষায় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সময় অর্গান নমুনা হিসেবে তার পাকস্থলী ও কিডনি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরদেহটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্ভুলভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না।    ওই কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সাধারণত তার সাঁতার জানার কথা। সে ক্ষেত্রে তিনি এমন অবস্থায় পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে তার সাঁতার দেওয়ার সক্ষমতা ছিল না, সেটিও বিবেচনায় আসছে। তবে এসব তথ্য সঠিক কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।   রক্ত, পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুর কারণ জানতেই এসব নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মাদক সেবন করে থাকলে বা কোনো ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণ করে থাকলে পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যেতে পারে। শনিবার(৩১ অক্টোবর) প্রতিবেদন আসার কথা রয়েছে।   যেভাবে সামনে আসে তাহসিফের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা  বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। দীপের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশের মতো দুজনকে দেখে তারা দৌড় দেন। তবে ওই দুজন আসলেই পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা যাচাই করছে পিবিআই।   শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, তাহসিফ যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তার সঙ্গে বন্ধু দীপ ছিলেন। দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পিবিআই। তার দেওয়া সব তথ্য বিশ্বাস না করে প্রতিটি বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।   দীপের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দীপ জানিয়েছেন, সেখানে পুলিশের মতো দুজনকে দেখে তারা দৌড় দিয়েছেন। এখন ওই দুজন কারা, তা যাচাই করে দেখা হবে। আদৌ কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ছিলেন কি না কিংবা কারও দায়িত্ব ছিল কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হবে।   পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, দীপ আগের দিন তাদের জানিয়েছিলেন, রাত ১২টার দিকে হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের সঙ্গে আলাদা হয়ে তারা দুজন দুদিকে চলে যান। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাহলে রাত ২টার দিকে তারা কেন ওই এলাকায় এসেছিলেন এবং গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাওয়ার কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।   এনায়েত হোসেন মান্নান আরও বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা জানানো হবে।   এর আগে তাহসিফের বাবা একে এম এনায়েতুল করিম দাবি করেন, তার ছেলে সাঁতার জানতেন। শুধু তা-ই নয়, পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্সও করেছিলেন তিনি। ছিল সেই কোর্সের সনদও। তাই পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার’ তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা। তার দাবি, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।   তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’   ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’   তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ছোট ভাই দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সেই দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থলে) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর আমি পালিয়ে আসি।’   জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।   এদিকে তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।   পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, ‘দীপের দেখানো মতে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’   তাহসিফের মরদেহ বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানটি উত্তরখান থানার অধীন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থানটি টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুটি স্থানের সঙ্গেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।   তাহসিফের বাবা একে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, বাসায় ফিরছেন।   তবে ওই বার্তায় তাহসিফকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ওই বার্তা পাওয়ার পর থেকে তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।   এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য যেন প্রশাসন ও সরকার বের করে সবার সামনে তুলে ধরে, সেই দাবি তিনি ঘটনার পর থেকে জানিয়ে আসছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: পিআইডি

নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে বিধিনিষেধ: ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

সংগৃহীত ছবি
সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিতকরণ: সঠিক ব্যবস্থাপনায় পর্যটন বৃদ্ধির আশ্বাস

পরিবেশ সুরক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করেছে সরকার। চলতি মৌসুমে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে দ্বীপটিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর নজরদারি, নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশও সম্ভব। এ জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।     শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকেরা।     ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট অন সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড : দ্য রিয়েলিটি’। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পর্যটন খাতের গবেষক ফারুক হাসান। তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার ফলে দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটনশিল্প সংকটে পড়েছে। অথচ এ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে।   ফারুক হাসানের মতে, সেন্ট মার্টিনের উপকূলের মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ এলাকায় প্রবাল কলোনি রয়েছে। মালদ্বীপ ও ইতালির অনেক দ্বীপের তুলনায় সেন্ট মার্টিনের আয়তন বড়। সেসব দ্বীপের তুলনায় এখানকার স্থানীয় জনসংখ্যা ও পর্যটকের চাপও কম।     তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে পর্যটন পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।     তবে পরিবেশ সংরক্ষণের নামে পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।     নিয়ম ভাঙলে জরিমানার সুপারিশ সেন্টমার্টিনে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন ফারুক হাসান। তিনি বলেন, দ্বীপের অনেক হোটেল-মোটেল নিয়ম মেনে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান ও পর্যটকের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা রয়েছে। ফলে পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে।     মালদ্বীপে পর্যটনের নামে পরিবেশের ক্ষতি করলে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার আগে পর্যটকদের কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তা লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।     আলোচকরা বলেন, বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রে গেলে অনেক বাংলাদেশি পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু দেশের পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে তাদের কেউ কেউ নিয়ম মানতে চান না। এ মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।     তারা আরো বলেন, দ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পয়োনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে পোড়া মবিল সাগরে ফেলা বন্ধ করে তা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে।     পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ সেন্ট মার্টিনে স্মার্ট পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ওপর চাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।     প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, কোথায় কী করা যাবে এবং কোন কাজ নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক তথ্য ও নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। এতে নিয়মের প্রয়োগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।     সেমিনারে প্রধান অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দ্বীপটির পর্যটনও টিকবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ সেখানে অর্থ ও সময় ব্যয় করে কেন যাবে?     তিনি বলেন, টেকসই পর্যটনের কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবেও তা অনুসরণ করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার পালন করবে।     মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার আরো বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সেন্টমার্টিনে এক হাজারের বেশি মানুষ নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিবেশের ক্ষতি না করে এই সংখ্যার পর্যটক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।     টোয়াবের সহসভাপতি (১) মো. মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. মাহফুজা পারভীন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী।     ছুটির দিনে বিটিটিএফে দর্শনার্থীদের ভিড় এদিকে বিটিটিএফের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মেলার বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।     মেলার ১৪তম আসরে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ ২০টি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।     এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শম্ভুগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র চালু: বাড়বে বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমবে সিস্টেম লস

ছবি: সংগৃহীত

নৌবাহিনীর ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও ইলিশ জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

টোকিওতে অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক: বিকল্প অর্থায়নে গুরুত্ব জাপানের

0 Comments