জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ আমলে দায়িত্ব পালন করা বিতর্কিত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া সেই পদক্ষেপেই অটল বর্তমানে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে গত ৩ মে পুলিশের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন ডিআইজি। এর আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আরো ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্বরত ও সংযুক্ত ছিলেন।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নিয়ে পুলিশে আলোচনা চলছে; আর কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। জানা যায়, যেসব পুলিশ কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা এখন আতঙ্কে আছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের আরো ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে ১৩ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩১ জন এসপি এবং ৯ জন এএসপি রয়েছেন। এসব এসপির মধ্যে আওয়ামী সরকারের ডামি ও রাতের ভোটে দায়িত্ব পালন করেন অনেকে। এছাড়া বিগত সময়ে এইসব পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। তারা বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চাকরির বয়স থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর দিয়ে থাকে সরকার। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার ওই কর্মচারীকে ‘জনস্বার্থে’ যেকোনো সময় অবসরে পাঠাতে পারে। এ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর প্রয়োজন নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিরিক্ত আইজিপি জানান, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী গত দেড় বছরে কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। আরো একাধিক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিষয়টি জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা জানান, বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন হলে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যাবে। যাচাই-বাছাই করে পদায়ন ও পদোন্নতি দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগার হয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুলিশের মধ্যে দলীয়করণ করলে পুরো বাহিনীর বদনাম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনে অতিউৎসাহী ছিলেন। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অযাচিত দমনপীড়ন চালিয়েছেন। এদের কিছু কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পদায়ন হওয়ায় খোদ পুলিশের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ৫ মে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা আছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন । ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, হামলা ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী সরকারের পতন হলে মাহবুবের কর্মকাণ্ড সামনে আসে।
দুটি হত্যা মামলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জ থানায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। এ ঘটনায় নিহত যুবদল নেতার বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি মাহবুব আলম খান।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে আরো একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় অপর হত্যা মামলাটি করেন। মাহবুব ওই মামলায় ৩ নম্বর আসামি।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ভোলা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেনসহ ৩৬ পুলিশ সদস্যের নামে হত্যা মামলা হয়। সেই আরমানকে সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে আর সেখানে পদায়ন করা হয়নি।
সূত্র জানায়, বিতর্কিত এসব কর্মকর্তার পদায়নে পুলিশ প্রশাসনে ঝড় ওঠে। এসব কর্মকর্তা যাতে আবার বাহিনীটির গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন না পান, এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো প্রায় ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাবে বলে জানা গেছে। পুলিশের ১১৪ কর্মকর্তা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বর্তমানে সংযুক্ত আছেন। এদের বড় অংশকেই অবসরে পাঠানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার পুলিশে পেশাদার ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ পেশাদার কর্মকর্তা আগে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকের আওয়ামী আমলে পদোন্নতি না পেয়ে মনোবল ভেঙে গেছে। প্রায় সোয়া দুই মাস আগে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী পদত্যাগ করার পর মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা সংকটের কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, এ সংকট শিগগির কেটে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাপান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে। আইবিসিএতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) হলো একটি বৈশ্বিক জোট, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে টাইগার, লায়ন, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড, পিউমা, জাগুয়ার এবং চিতা এই সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত ২৪টি দেশ এ জোটের সদস্য। আইবিসিএ’র মূল উদ্দেশ হলো সদস্যভুক্ত দেশসমূহের বিগ ক্যাটের আবাসস্থল সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হোম কান্ট্রি হওয়ায় সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় এ জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসনে জিসিএম-ন্যাপ অনুমোদন ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। বিশ্বে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র জিসিএমের পক্ষভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জিসিএম ধারণার প্রবক্তাও বাংলাদেশ। এ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে জিসিএম চ্যাম্পিয়ন কান্ট্রি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। জিসিএমের অবজেকটিভ এবং অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আইওএমের সহযোগিতায় ২০২৬-৩০ মেয়াদের জন্য খসড়া ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (জিসিএম-ন্যাপ) প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এসব জামাতে ইমামতি ও মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। বৃহস্পতিবার ইফার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এখানে মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি ইসহাক। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম হিসেবে থাকবেন ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মসজিদের চিফ খাদেম মো. নাসির উল্লাহ। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. রুহুল আমিন। চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মো. আব্দুল হাদী। পঞ্চম বা সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. আমির হোসেন। নির্ধারিত কোনো জামাতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এসব রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকেই মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় উদযাপন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছাড়াও যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদ ঘিরে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতের পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঈদের আগে ৭ দিন ও পরবর্তী ৩ দিন বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা ছাড়াও মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।