ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি যুবক ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর গাজীপুরের কালীগঞ্জে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। উন্নত জীবন ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্নযাত্রার করুণ পরিণতি হলো কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামের মাটিতে ফেরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে আলিফের মরদেহবাহী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে ভিড় করেন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের বদলে কফিন দেখে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে উত্তরগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আলিফের মরদেহ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সহযোগিতা করেন। মাদ্রিদে জানাজা, মরদেহ সংরক্ষণ, আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই তারা পরিবারের পাশে ছিলেন। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাদ্রিদ থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ পাঠানো হয়। পরে ইস্তাম্বুল থেকে সংযোগ ফ্লাইটে তা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়। ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় মাত্র দুই মাস আগে তিনি স্পেনে যান। প্রবাস জীবনের শুরুতেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যুতে স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে কমিউনিটির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ শুক্রবার সকালে বাড়িতে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্বপ্নপূরণের আশায় যে তরুণ মাত্র দুই মাস আগে বিদেশের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, শুক্রবার সেই জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হলো নিজ গ্রামের মাটিতে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করার লক্ষ্যে কর্মীসভা করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। সংগঠনের নেতা জাকির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আমানত হোসেন ও রেজাউল আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং মিজানুর রহমান মিল্টন। নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে নিউইয়র্কের হিলটন ও শেরাটন হোটেলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনাও হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মীসভায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ সার্বিক প্রস্তুতি আরও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থান ও সময় চূড়ান্ত করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ঐকমত্য এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই অনুষ্ঠানটির স্থান ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
লিবিয়ায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল আট মাস আগে। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন স্বজনেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার বিকেলে কফিনে করে তাঁর মরদেহ পৌঁছে জয়পুরহাটে গ্রামের বাড়িতে। তরিকুল ইসলাম (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় যান। স্বজনেরা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে তরিকুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আট মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তরিকুলের মরদেহ দেশে ফিরবে কি না। শনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল হয়ে সাগরে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের নিরাপদে তীরে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাবিগ উপকূলে দায়িত্ব পালনরত সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একটি নৌযান সাগরে বিকল হয়ে পড়ার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে সাগরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর সমুদ্রযাত্রীদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সাগরে যাত্রার আগে নৌযানের ফিটনেস ও চলাচলের উপযোগিতা ভালোভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ওমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুম্মন। ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসমাইল ভূঁইয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সভাপতি এস এম হারুন রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহির রাজা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান বিএনপির সহসভাপতি জানে আলম, এহসান কবির, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, ফজলুল বারী, আল আমিন, জাকির হোসেন ও ইসমাইল রিপন। এ ছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান, কামাল উদ্দিন, জামাল সর্দার, মোজাম্মেল হক, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ শামীম, মো. মিঠুন, ইউনুস রাজন, মারুফ বিল্লা, মোহাম্মদ রবিউল, ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ, মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী, সারোয়ার উদ্দিন, আল-আমিন, আলমগীর হোসেন, মো. ফারুক, সাঈদ খোকন, হেলাল গাজী, জিয়া উদ্দিন, মো. এমরান, মোহাম্মদ সুমন ও আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ, দেশের জনগণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ কারি মো. আরিফ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম। আয়োজনে ওমান বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
কুয়েতের মোবারক আল-কবির গভর্নরেটে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। মাদক সরবরাহের একটি অভিনব কৌশল অনুসরণ করার সময় প্রথম ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কুয়েতি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সন্দেহভাজন ব্যক্তি নির্জন স্থানে মাদক রেখে তার অবস্থান অন্য ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতেন। এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থান এবং মাহবুলা এলাকায় ওই ব্যক্তির কক্ষে অভিযান চালায়। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও এক বাংলাদেশিকে মুতলা এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়েও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৩ ব্যাগে প্রায় ৪৬ দশমিক ৪ গ্রাম গাঁজা, ১৭৫ ব্যাগে প্রায় ১৮২ দশমিক ৪ গ্রাম মেথামফেটামিন এবং সাত ব্যাগে ৫ দশমিক ৮ গ্রাম হেরোইন। এ ছাড়া ৮৫টি ক্যাপটাগন ক্যাপসুল ও ১৭৮টি লাইরিকা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি রাসায়নিকযুক্ত ছয় ব্যাগ এ-ফোর (A4) কাগজ, তিনটি সূক্ষ্ম ওজন মাপার যন্ত্র এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মী ভিসায় থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সুবিধা বাতিল হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১, ও-১সহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকে। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর নাও থাকতে পারে। ফলে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হলে কিংবা তার কর্মচুক্তি শেষ হয়ে গেলে নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও পেশাদার সেবা খাতে কর্মরত বিদেশিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় প্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নিয়মটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চাকরি হারানো কর্মীদের দ্রুত নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। তবে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, বিধিনিষেধের কারণে সাময়িক কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই প্রস্তাবটিকে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবের ওপর আগামী দুই মাস ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে বর্তমানে কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এখনো বহাল রয়েছে; প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এসব অভিযোগ আসতে থাকে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান অনেক বাংলাদেশি। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরও কেউ কেউ নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ, বেতন বকেয়া, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি দেশে ফেরত পাঠানোর পরও অনেককে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকমিশনের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর Responsible Business Alliance (RBA) আয়োজিত ‘From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। সেখানে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে হাইকমিশন। একই সঙ্গে সমস্যায় থাকা কর্মীদের কল্যাণমূলক সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও হাইকমিশন সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি। হাইকমিশনের এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবের মদিনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারা বেগম (৬২) নামে এক বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে মদিনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মনোয়ারা বেগম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের প্রয়াত হোসেন মোল্লার স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছোট ভাই জালাল সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যান মনোয়ারা বেগম। মক্কায় ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা মদিনায় পৌঁছান। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মদিনায় যাওয়ার পর তার অসুস্থতা বেড়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনোয়ারা বেগমের বাবার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম সরকারের মেয়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের প্রচলিত আইন ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে মদিনাতেই মনোয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন করা হবে। তার মৃত্যুর সংবাদে কুমিল্লার দেবিদ্বারের ওয়াহেদপুর এবং ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে প্রবাসীদের অধিকার, দেশের চলমান সংকট এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পেনাংয়ের জুরু অটো সিটি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘প্রবাসীদের অধিকার এবং দেশের সংকটে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে পেনাং আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনামুল হক। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাজেদুল আলম ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব আলম রওশন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল হক দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে তাদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ—এই ধারণাকে প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফরিদুল হক আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ অতিথি আলাউদ্দিন মোহাম্মদ প্রবাসীদের মর্যাদার সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে একজন বাংলাদেশির ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি তার দেশের পরিচয়ও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে প্রবাসীদেরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তি হিসেবে না দেখে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় বক্তারা প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীদের ভূমিকা এবং জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনে তাদের অবদান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসীদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি গঠনে কাজে লাগানো যেতে পারে। সভায় কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম, সেলাঙ্গর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল হোসেন, পেনাং আঞ্চলিক কমিটির সহ-সমন্বয়ক শেখ আবদুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক রুকন বেপারী এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার এবং কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাং আঞ্চলিক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব মুশফিক চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।
মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, যৌথ ব্যবসা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা পেনাংয়ের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমআইসিসিআই) সভাপতি দাতো ব্রায়ান তান গুয়ান হুই দাতুক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সফরে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) পেনাং শাখার সভাপতি দাতো’ সেরি লি তেওং লি এবং সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি এবং পেনাংয়ে একটি ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং পারস্পরিক সফর বিনিময়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বারের ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার, পেনাংয়ে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) উপস্থিত ছিলেন। হাইকমিশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে জামাল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি। নিহত জামাল মিয়া চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার সিপাই কান্দি গ্রামের ছিডু মিয়া বেপারির ছেলে। তার বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামাল মিয়া ছয় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। পরে দেশটির রাজধানীতে ভ্যারাইটি সুপারশপে ব্যবসা করতেন। বুধবার রাতে তিনি নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আগে থেকে প্রস্তুত থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। জামালের পরিবারের দাবি, এ তাকে পরিকল্পনা মাফিক হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ মর্গে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে ওই কর্মচারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী জানান, তার ছেলে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা করছিলেন। এখন সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতের একজন সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ইতিপূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘অহন আমি কিবায় চলবাম? এই অবুজ সন্তানরে কিবায় পালবাম? আমি আমার স্বামীর লাশটা ফেরত চাই। আর যারা আমার স্বামীরে ধোঁকা দিয়া এ যুদ্ধের মুখে পাডাইছে, আমি ওই অপরাধী দালালরার বিচার চাই!’—সাড়ে তিন বছর ও মাত্র ৫ মাস বয়সী দুই দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বুকে জড়িয়ে এভাবেই বিলাপ করছেন ভাগ্যহত মহিমা আক্তার। উচ্চ বেতনে ‘ইলেকট্রনিক শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর রাশিয়ায় গত প্রায় ৫ মাস আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁর স্বামী আল মামুন (২৫)। কিন্তু দালালের নির্মম প্রতারণায় শ্রমিকের বদলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মারণাস্ত্র। বাধ্য করা হয়েছিল ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিতে। অবশেষে ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হলো ময়মনসিংহের নান্দাইলের এ যুবককে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা তাঁর পুরো পরিবার। আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মামুন। ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য এজেন্সির সঙ্গে তাঁর ৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এ বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে ব্যাংক থেকে ঋণ এবং চড়া সুদে ধারদেনা করতে হয়েছিল পরিবারটিকে। পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পর ওই প্রতারক এজেন্সি এবং একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র মামুনসহ তাঁদের ৩০ জনের দলটিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাদের কোনো কাজের সুযোগ না দিয়ে, জোরপূর্বক সামরিক পোশাক পরিয়ে ও হাতে অস্ত্র দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একেবারে প্রথম সারিতে (ফ্রন্টলাইন) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের সহকর্মী রাজন মিয়ার একটি ফোনকলে মামুনের মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার। রাজন মিয়া জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই একই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন। পরে রাশিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে কোনোমতে পালিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। মামুনের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। বাগরুদ্ধ বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম আর দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে স্ত্রী মহিমার কান্না থামছেই না। যে স্বপ্ন নিয়ে মামুন বিদেশ গিয়েছিলেন, তা এখন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চড়া সুদের ঋণের বোঝা আর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন মহিমা। এলাকাবাসীদের কথা অন্তত মামুনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ মাটিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয় এবং এই জঘন্য পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারূর ইসলাম জানান, বিষয়টি কেউ থানায় জানাননি। পরিবার যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওমান সরকার। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষি খাতে এবং বাকি ৫ হাজার নেওয়া হবে মৎস্য খাতে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদের নেতৃত্বে আসা এক প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও চুক্তি সই হয়। আগামী মাসে ওমানের আরেকটি দল এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের সময়ে নানা কারণে ওমানের ভিসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে ভিসা চালুর জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশিরা আবার নিয়মিত সেখানে যেতে পারেন। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের ওমানে পাঠাতে সরকার বেশি জোর দিচ্ছে। ওমান সরকারও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বৈঠকে ওমানের রাজপরিবারের প্রতিনিধি আল সাইয়্যেদ দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা দিতে বিশেষ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর নক্সভিলে এ সেবা দেয়া হবে। কনস্যুলেটের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ইউনিভার্সিটি অব টেনিসি নক্সভিলের (ইউটিকে) রুম নম্বর ৩০০, আইএএমএম সদর দপ্তর-ইউটি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং সদর দপ্তর, ২৬৪১ ওএসএফ ক্যাম্পাস ওয়ে, নক্সভিল, টেনেসি ৩৭৯২০’ ঠিকানায় কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা এবং ১১ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চলবে। বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে থাকছে— ই-পাসপোর্ট: অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি ও ছবি নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। আবেদন ফি অনলাইনে পরিশোধের পর কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ১০% সারচার্জসহ ফি প্রযোজ্য হবে। মেইলের মাধ্যমে নিজ ঠিকানায় পাসপোর্ট পেতে আগ্রহীদের ইউএসপিএস-এর প্রিপেইড রিটার্ন এনভেলপ সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) এনডোর্সমেন্ট ও ভিসা: প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে। ফি ৮৮ ডলার। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতা/দাতাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। অন্যান্য ডকুমেন্ট সত্যায়ন: প্রয়োজনীয় সব অরিজিনাল ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। জন্ম নিবন্ধন: বাংলাদেশী নাগরিকদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ আবেদন করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে https://bris.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাভেল পারমিট: যাদের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ যেতে হবে, তাদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ট্রাভেল পারমিটের আবেদন করা যাবে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, সব সেবা সরাসরি উপস্থিত হওয়ার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে। তবে সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফরম ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কনস্যুলার সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। তবে কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ, মিয়ামি-এর ব্যাংক পরিচালিত সেবা ফি ফেরতযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্যের জন্য কনস্যুলেটের ওয়েবসাইট https://florida.mofa.gov.bd দেখার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে পৃথক অভিযানে তিনটি কারখানা থেকে ১৫৫ বাংলাদেশিসহ ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। আটক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং অনুমোদিত পাশ বা পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি মুয়ারের পারিত জামিল এলাকায় দুটি আসবাবপত্র কারখানায় চালানো হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী ‘অপস মাহির’ অভিযানে ১৭৬ পুরুষ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ বাংলাদেশি, ২৭ নেপালি, দুজন চীনা এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা দুই স্থানীয় নারী কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। মুয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান মোহাম্মদ ইজওয়ান ওসমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে অভিযানটি চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পুরো কারখানা এলাকা ঘিরে রাখায় তারা পালাতে পারেননি। অন্যদিকে, বাতু পাহাতের জালান আয়ার হিতাম-ইয়ং পেং এলাকায় একটি কাঠের কারখানায় দুপুর ১২টার দিকে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাত নারীসহ ৫৮ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়। আটক শ্রমিকদের মধ্যে ২৪ মিয়ানমারের, ১৬ ভারতের, আটজন বাংলাদেশের, সাতজন চীনের, দুজন নেপালের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। এ অভিযানে একজন স্থানীয় লরি চালককেও আটক করা হয়েছে। বাতু পাহাত ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান ইখমাল ফাউজির নেতৃত্বে ৫৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অভিযানে অংশ নেন। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক বিদেশি শ্রমিকদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯-এর বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং নির্ধারিত পাশ বা পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযান শেষে আটক ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জোহরের পেকান নানাস, পন্তিয়ানের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত প্রবাসীরা জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। তবে নিহত অন্য দুজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকায়ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত অন্য দুজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
অচেনা দেশ, সীমিত পুঁজি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই তিনকে সঙ্গী করেই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আল-আমিন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগের পথচলা এখন প্রায় দুই দশকের। মালয়েশিয়া থেকে পর্তুগাল, এরপর স্পেন—প্রবাসে জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে আল-আমিন এখন স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে যুক্ত একটি বিস্তৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলমূল ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তার প্রতিষ্ঠান ‘Dhaka Frutas’ ইতোমধ্যে পরিচিত একটি নাম। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, পারিবারিক সহযোগিতা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মানসিকতা। ছোট উদ্যোগেই বড় স্বপ্ন: প্রবাসে ব্যবসা শুরু করার সময় আল-আমিনের সামনে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। নতুন দেশ, ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তাকে এগোতে হয়েছে। ফল ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে বাজার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন তিনি। ক্রেতাদের চাহিদা বোঝার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন। সময়ের সঙ্গে ছোট উদ্যোগটি বিস্তৃত হতে থাকে। ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে Dhaka Frutas Y Verduras Alimentacion SL। প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ফল, সবজি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য, বিপণন ও বিতরণ। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হয়েছে। সাফল্যের সূত্র লক্ষ্য ও দায়িত্ববোধ: আল-আমিনের কাছে উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা নয়। তার মতে, সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। নিজের একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষ যখন নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং লক্ষ্য থেকে সরে না যায়, তখন সাফল্য একদিন তার কাছে আসবেই।’ দ্রুত বড় হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ব্যবসার ভিত্তি শক্ত করাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিনের কাজ, মানুষের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন বলে জানান তিনি। মাদ্রিদে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার পরিচিতি: স্পেনের মাদ্রিদে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে আল-আমিনকে স্থানীয় বাজারের নিয়মকানুনের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০২৬ সালে স্পেনের সংবাদপত্র El País মাদ্রিদের অভিবাসী উদ্যোক্তাদের ফলমূল ব্যবসা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘Dhaka Frutas’-এর নাম উল্লেখ করে। আল-আমিনের জন্য এটি যেমন ব্যবসায়িক স্বীকৃতি, তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতারও একটি উদাহরণ। সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান: নিজের অর্জনকে কখনোই একক সাফল্য হিসেবে দেখেন না আল-আমিন। তার মতে, দীর্ঘ পথচলায় পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তার সহোদর আবু বকর ব্যবসার বিভিন্ন কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন। ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারিবারিক সহযোগিতাও তাদের উদ্যোগকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ২০২১ সালে আল-আমিন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আবু বকর সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ব্যবসার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পারিবারিক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। কঠিন সময়ের মানুষদের ভুলে যাননি: আল-আমিন মনে করেন, একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে শুধু নিজের শ্রম থাকে না। কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকেন, তাদের অবদানও মনে রাখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘যারা কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সাফল্যের সময় তাদের কথা মনে রাখা এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মানুষের দায়িত্ব।’ এই ভাবনা থেকেই প্রতিবছর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেন তিনি। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার বাইরে এসব আয়োজন তার কাছে সম্পর্ক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বার্তা: প্রবাসে এসে ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ। তাদের উদ্দেশে আল-আমিনের পরামর্শ—সাফল্যের জন্য তাড়াহুড়ো না করে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। তার মতে, ব্যবসায় শুধু পুঁজি থাকলেই সফল হওয়া যায় না। প্রয়োজন ধৈর্য, সততা, মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রায় ১৯ বছরের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, ছোট ছোট অর্জনই একসময় বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। পথে বাধা আসবে, ভুলও হতে পারে; কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে আবার শুরু করার মানসিকতাই একজন উদ্যোক্তাকে এগিয়ে নেয়। এক দোকান থেকে ৮০—এক দীর্ঘ পথচলা: মালয়েশিয়ায় শুরু হওয়া প্রবাসজীবন, এরপর পর্তুগাল এবং সবশেষে স্পেনের মাদ্রিদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া—আল-আমিনের পথচলায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে যাননি। একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হওয়ার এই যাত্রা একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের শ্রম, ধৈর্য, ঝুঁকি, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই। আল-আমিনের গল্প দেখায়, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা শুধু চাকরি বা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুযোগ ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে তারাও ব্যবসা গড়ে তুলে স্থানীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন। একটি ছোট দোকান থেকে আজকের বিস্তৃত ব্যবসায়িক পরিসর—আল-আমিনের এই যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রবাসে স্বপ্ন দেখা অনেক বাংলাদেশি তরুণের জন্যও অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রীতি ফুটসাল ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার নেতৃত্বাধীন সফরসঙ্গী দল বাংলাদেশি প্রবাসীদের ফুটবল ক্লাব (বিডিএফসি) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় কুয়ালালামপুরের লালাপোর্ট ফুটসাল ইনডোর স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছেলে আয়ান এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরীও খেলায় অংশ নেন। ম্যাচে প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন আমিনুল হক নিজেই। খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রবাসীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। এ সময় বিডিএফসি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিডিএফসি মালয়েশিয়ার রাফিজ রহমান রাসেল, মো. সাইফুদ্দিন, আবদুল মোবিন ভূঁইয়া, মোস্তফা ইমরান রাজু, আলী আসগর মিলন, সোহাগ আহম্মেদ, যুবায়ের রহমান, ইকবাল হুসাইন, শাহজাহান আলম ও বাপ্পী কুমার দাসসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খেলা শেষে আমিনুল হক বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফুটসাল ম্যাচে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান। প্রবাসীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে থেকেও বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের খেলাধুলা এগিয়ে নেওয়ার যে আন্তরিকতা তিনি দেখেছেন, তাতে তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, খেলাধুলা প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আমিনুল হকের মতে, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের নিয়ে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক সেবা গ্রহণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবাপ্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে দূতাবাস চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় ও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কোনো আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হবে না। বায়োমেট্রিক দেয়ার আগে দূতাবাসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এজন্য দূতাবাস আবেদনকারীদের নির্ধারিত অনলাইন লিংকের (https://passportriyadh.com/appointment) মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে যেসব প্রবাসীর ই-পাসপোর্টের আবেদন ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সহ গ্রহণ করা হয়েছে, তারা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে সেবা নিতে পারবেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেবাপ্রার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।
নোয়াখালীর লালপুর গ্রামের সন্তান হেমি হোসাইন। অস্ট্রেলিয়ায় কর্পোরেট পেশাজীবন থেকে উদ্যোক্তা, আর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও নেতৃত্বের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। এবার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে সাফল্যের সেই যাত্রায় যুক্ত করলেন নতুন এক মাইলফলক। হেমি হোসাইন নোয়াখালীর মাইজদী-সোনাপুর এলাকার লালপুর গ্রামের মরহুম আবুল কাশেমের তৃতীয় সন্তান। তার বাবা ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক। সততা, আদর্শ এবং শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই হেমি পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস ইনফরমেশন সিস্টেমস-এ ডিগ্রি অর্জনের পর শুরু হয় তার কর্পোরেট ক্যারিয়ার। কাজ করেছেন Telstra, MYOB ও ANZ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত কর্পোরেট জীবনের বাইরে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ও পরিচিত পথ ছেড়ে বেছে নেন অনিশ্চয়তাকে। আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন। কর্পোরেট পেশাজীবী থেকে তিনি হয়ে ওঠেন 'NeXgen Global Group'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। শিক্ষা, নিয়োগ, অর্থায়ন, প্রযুক্তি, এডটেক এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছে তার নেতৃত্বাধীন এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে মানুষ, পুঁজি ও উদ্ভাবনকে একসঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাজারে ভবিষ্যৎ-উপযোগী প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিই তার অন্যতম লক্ষ্য। উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যেও কাজ করছেন হেমি। তার উদ্যোগ 'Grow With Hemi' চাকরিজীবীদের চাকরি থেকে উদ্যোক্তা জীবনে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করছে। এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রকাশিত হয় তার আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই 'Fire Your Boss'—যা ব্যক্তিগত রূপান্তর ও আত্মনেতৃত্বের একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবেও এক মিলিয়নের বেশি মানুষের সামনে নেতৃত্ব, মানসিকতা ও ডিজিটাল যুগের সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিয়েও কাজ করছেন হেমি হোসাইন। তিনি গ্লোবাল ইয়ুথ মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস বা GYMHA-এর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় সম্মানসূচক ডক্টরেট অর্জন তার দীর্ঘ পথচলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। নোয়াখালীর একটি গ্রাম থেকে অস্ট্রেলিয়ার করপোরেট জগৎ, সেখান থেকে বৈশ্বিক উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের মঞ্চ—হেমি হোসাইনের গল্প মূলত পরিবর্তনকে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। তার জীবনদর্শনের চারটি শব্দ যেন পুরো যাত্রাটিকেই ধারণ করে 'Dream. Build. Grow. Inspire'। স্বপ্ন দেখুন, গড়ে তুলুন, বেড়ে উঠুন এবং অন্যকে অনুপ্রাণিত করুন।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ই-পাসপোর্টের ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে ৬৫ হাজারের বেশি আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১১ হাজার পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট করা হতো, সেখানে দূতাবাসের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। দূতাবাসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৪৩৪টি ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৬৭টি পাসপোর্ট প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পর ২১ হাজার ৬৭৮টি পাসপোর্টের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের দাম্মাম অঞ্চলে ৯ দিনব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০টি পাসপোর্ট আবেদনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রমে কিছু আবেদনকারীর পাসপোর্ট পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। আবেদনে তথ্যগত ভুল, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে অসংগতি এবং একাধিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য যাচাই ও প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব কারণে পাসপোর্ট প্রদানে বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করতে দূতাবাস সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইপোহ এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৭৫ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ইপোহ ও আশপাশের এলাকায় কাঠ কারখানা, গ্লাভস কারখানা, ফুড কোর্টসহ বিদেশি শ্রমিকদের উপস্থিতি বেশি—এমন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ইপোহের একটি দরজা তৈরির কারখানার কাছে পৌঁছালে কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে বা আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে কেউ কাঠের তক্তার স্তূপের মধ্যে, কেউ শিল্পবর্জ্যের পাত্র ও আলমারিতে লুকানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া কয়েকজন কারখানার সীমানাপ্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রাচীর উঁচু হওয়া এবং কাঁটাতার থাকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পালানোর সময় কয়েকজনের পোশাকও ছিঁড়ে যায় বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে চেমোরের বারচাম ও কানথান এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। কাঠের কারখানা, গ্লাভস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ফুড কোর্টকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। তিনি বলেন, অভিযানে মোট ৩০৫ জন শ্রমিককে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকও আটক হয়েছেন। জাকারিয়া শাবান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া অবস্থান ও কাজ করা। কারও কারও কাছে এমন কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র পাওয়া গেছে, যা তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন সেটির জন্য প্রযোজ্য নয়। কয়েকটি ঘটনায় জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ব্যবহারেরও তথ্য পাওয়া গেছে।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চারটি শিল্পাঞ্চলের ৪০টি কারখানায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ১৯৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের ৭১৫ কর্মকর্তা ছাড়াও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা অংশ নেন। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মোট ২ হাজার ১৫৯ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ১ হাজার ১৯৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৯৪৬ জন পুরুষ ও ২৫০ জন নারী। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তবে আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের কাজ দেওয়া ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৩৭ জন মালয়েশীয় নাগরিক ও নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্তের স্বার্থে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আটক বিদেশি নাগরিকদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ ভিসা, পাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের আইন মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড না করার জন্যও প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য— হটলাইন: +৯৬৫ ৬৯৯২০০১৩ হটলাইন: +৯৬৫ ৬৬৫১৬৪০৪ হটলাইন: +৯৬৫ ৫০৮৯৫১৬১ ই-মেইল: mailto:mission.kuwait@mofa.gov.bd
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত করবে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী যোগ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ভবন থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমেও যোগ্য প্রবাসীদের আবেদন করার বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিআইপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগকারী: প্রথম ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের শিল্প খাতে সরাসরি বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ জনকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতে মূলধন হিসেবে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নেওয়া হবে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী: দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সর্বোচ্চ ৭৫ জন প্রবাসী সিআইপি মর্যাদার জন্য নির্বাচিত হবেন। এ ক্যাটাগরির জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদান: তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এ ক্যাটাগরিতে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত: সিআইপি নির্বাচনের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল কিংবা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রতিবছর সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৩২৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও দেশটি থেকে আরও ১০ জন প্রবাসী সিআইপি হয়েছেন। এবার সিআইপি নির্বাচনের পরিধি বাড়িয়ে তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জনকে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ফ্রুতাসের ২০ বছরের পথচলা উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রিদের কাছালেগাস লেকের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা ফ্রুতাসের কর্মীদের পাশাপাশি স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজনকে ঘিরে লেকের পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল পারস্পরিক মতবিনিময়, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। এতে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। মিলনমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ষসেরা কর্মীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সাফল্যে বিশেষ অবদান রাখা নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সম্মাননা কর্মীদের ভবিষ্যতে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে ঢাকা ফ্রুতাসের চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া এবং আবু বকর প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের পথচলা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানোর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ঢাকা ফ্রুতাসের দীর্ঘ পথচলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রম, নিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে যারা দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তারা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা ফ্রুতাসের চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া প্রবাসে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা। তারা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনোৎসবে। হাসি-আনন্দ, গল্প, স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উপভোগ করেন উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঢাকা ফ্রুতাসের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ মিলনমেলা প্রতিষ্ঠানের অতীত সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।