রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত করা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের রাজনীতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশ, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতীতেও শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার প্রবণতা বাড়াচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির নেতারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলায় আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি হামলার সময় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে। এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। আবেদন করবেন যেভাবে ২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব। উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।
আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চাহিদা রয়েছে। যদিও এই চাহিদা পূরণ ও বিধিসম্মতভাবে অভিবাসন নিতে প্রয়োজন দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। এছাড়া চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়সহ আরও অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিস্ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ) এর দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়াজে। এছাড়া আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার অনুরোধ জানান। উল্লেখ করা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ চিকিৎসক বসবাস করছেন। যারা অস্ট্রেলিয়াতে অতি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি দিকগুলোর উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়। জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি হরমোন ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানো নিয়ে আলোচনা করেন ডা. জামিল আহমেদ ও ডা. ময়েজুর রহমান। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ ইসলাম। আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন ডা. মুখলেসুর রহমান। এ ছাড়া আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ডা. লুতফুন্নেসা কুদ্দুস, ডা. শাহনাজ আক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস। বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই আয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারিবারিক মিলনমেলার এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। চিকিৎসক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন।
ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশা দাবি করেছেন, চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেঙ্গালুরু যান। পরদিন পুরনো বিমানবন্দর সড়কের মণিপাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তানজিলা ইসলাম আশার ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সবুজের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে হাসপাতালের দাবিমতো তিনি মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন। তিনি আরও জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলেন। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি মারা যান। আশার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর লাশ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বাবদ ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া দাবি করে। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে লাশ হস্তান্তর করা হবে না বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে তার পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আগে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ হাসপাতাল দেয়নি। এছাড়া চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট ব্যয় সম্পর্কেও তাকে আগে থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর লাশ হস্তান্তর করে। সবুজের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, লাশ ছাড়িয়ে নিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আশার পাসপোর্টও ফেরত পাওয়া যায়। এদিকে মণিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং আইসিইউতে নেওয়ার পর হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে দুইবার পুনরুজ্জীবিত করেন এবং পরে কৃত্রিম হৃদ্ফুসফুস সহায়তা ও শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যান। হাসপাতালের দাবি, পরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা ধরা পড়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করে জমাট রক্ত অপসারণ করা হয়। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজের লাশ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা বকেয়া বিলের পরিমাণ, অর্থ পরিশোধের রসিদ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি এ ঘটনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাতারে লুসাইলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রবাসী বাবুল আহমেদ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। লুসাইল থেকে দোহাতে ফেরার পথে গাড়িতে সমস্যা হওয়ায় তিনি রাস্তার পাশে গাড়িটি থামিয়ে চেক করছিলেন। এসময় আরেকটি গাড়ি এসে জোরে তাকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি একজন মিশরি ড্রাইভার চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। বাবুল আহমেদের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায়। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কাতারে ছিলেন বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলম। বাবুল আহমেদের মরদেহ বর্তমানে হামাদ হাসাপাতালের মর্গে রাখা আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। বাবুল আহমেদের দুই ছেলে ও ১ মেয়ে। তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতার প্রবাসী। এমন আকস্মিক মৃত্যু সংবাদে কাতারে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ পাওয়ায় খন্দকার এম. তালহাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে। দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, রশীদ পাটওয়ারি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, খেলাফত মজলিসের কাওছার উদ্দিন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি আলতাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বক্তারা খন্দকার এম. তালহার পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। নতুন মেয়াদে ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বক্তারা। জবাবে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্ব পালনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। খন্দকার এম. তালহা বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার চেষ্টা থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার এম. তালহা। বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়িয়ে কার্যক্রমকে গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ সেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে। এতে আরও বলা হয়, ই-মেইলে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে আবেদন বা অভিযোগগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরেজমিনে যাচাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য নির্ধারিত ই-মেইলে অভিযোগ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল মাদক জব্দ করেছে কুয়েতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫-এ তল্লাশি চালিয়ে ওই বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করা হয়। আটক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩১৯.৩ গ্রাম মেথঅ্যামফিটামিন এবং ৬ হাজার ২১১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মাদকদ্রব্য জব্দ করে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে তাকে স্থানীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, কুয়েত সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে মাদক চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ইতোপূর্বেও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনেছে কুয়েত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিমানে এত বড় মাদকের চালান কীভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্ক্যানিং পার হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কুয়েত প্রবাসী সুমন চৌধুরী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও তল্লাশি প্রক্রিয়া পেরিয়ে এত বড় চালানের বাইরে যাওয়া উদ্বেগের। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা বা চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দুই গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা-মা ও তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছেন। রোববার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা এলাকায় আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। দুর্ঘটনায় দুটি গাড়িই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম গাড়িতে থাকা একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে বাবা, মা, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন। অন্য গাড়িতে থাকা দুই তরুণও দুর্ঘটনায় নিহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হঠাৎ গাড়ির গতিপথ পরিবর্তনকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সৌদি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। গাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে তারা কাজ করে। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
দুবাই যাওয়ার আশায় ছয় মাস আগে এক দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নূর হোসাইন। দালাল টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ না করায় প্রতারণার শিকার হন তিনি। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। তবে সেই হতাশার মধ্যেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ৩৫ বছর বয়সী নূর হোসাইন। কোনো টাকা খরচ না করেই কনস্ট্রাকশন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার দুবাই যাচ্ছেন তিনি। নুর হোসেনের মতো শরীয়তপুরে হতদরিদ্র পরিবারের মোট ২১৬ জন যুবক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছেন বিনা খরচে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর ২নং আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো। নূর হোসাইন নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা নূর সাত ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার চার ভাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। নূর হোসাইন বলেন, দুবাই যাওয়ার জন্য ছয় মাস আগে দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও আর টাকা ফেরত দেয়নি। প্রতারিত হয়েছি। স্থানীয় নুসা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। টেনে-টুনে ৮০ হাজার টাকার মতো শোধ করেছি। তিনি বলেন, এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখে বিনা খরচে ১১ জন দুবাই ওয়ার্কার ভিসায় যাচ্ছি। এখানে আমার এক টাকাও লাগেনি। প্রায় দেড় মাস স্টিল ফিক্সিংয়ের কাজ শিখেছি। এবার বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো। শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজে নূর হোসাইন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার বিদেশ যাওয়ার সব খরচ বহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মোট ২১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর আগে ২২ আগস্ট ৪৬ জনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ জনের হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও ডকুমেন্টস প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনও আরও ১৫৯ জন দুবাই যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। উজ্জ্বল জানান, কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে ১২শ দিরহাম বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে। একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ১১ জন দুবাইগামী কর্মীর হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও চেক তুলে দেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। এ সময় দুবাইগামী কর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা যারা বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন, আপনারা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। যারা দুবাই যাবেন, তারা দুবাইয়ের আইন মেনে যথাযথভাবে চলার চেষ্টা করবেন। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ এড়িয়ে চলবেন। তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও আগ্রহী ব্যক্তিরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হবেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে দেওয়া স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসার বড় অংশই যাচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের কাছে। গত অর্থবছরে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের মোট ১০ হাজার ৪৪৮টি স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিদেশ থেকে মঞ্জুর হওয়া এ ধরনের ভিসার ৭০ শতাংশের বেশি পেয়েছেন এই পাঁচ দেশের নাগরিক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তাদের স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে যুক্ত করতে পারবেন না। তবে পিএইচডিসহ নির্দিষ্ট কোর্স এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য না হওয়ায় দেশভিত্তিক ওই ছাড় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে পিএইচডিসহ যেসব কোর্স ব্যতিক্রমের আওতায় থাকবে, সেসব ক্ষেত্রে যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগ করে পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হবে না। টনি বার্ক জানিয়েছেন, যাদের পরিবারের সদস্য ইতোমধ্যে ভিসায় যুক্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া ভিজিটর ভিসাতেও কড়াকড়ি আসছে। ভবিষ্যতে ভিজিটর ভিসায় সাধারণভাবে ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেশটির ভেতর থেকে অন্য ভিসার আবেদন করে ব্রিজিং ভিসায় গিয়ে অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত হবে। তবে দক্ষ কর্মীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ বহাল থাকবে। টনি বার্ক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসক ও নির্মাণকর্মীদের প্রায় অর্ধেক এবং নার্স ও এজড কেয়ার কর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করার স্বার্থে তাদের পরিবারের ওপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না। সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন কমিয়ে আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। চলতি অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং আগামী অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এদিকে বৃহস্পতিবার ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতও। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড বলেছেন, তিন থেকে চার বছরের জন্য বিদেশে পড়তে আসা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে রাখার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এই সুযোগ সীমিত হলে অস্ট্রেলিয়া মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হারাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, একজন বিবাহিত শিক্ষার্থীর জন্য কয়েক বছর পরিবার থেকে আলাদা থাকা সহজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখা যাবে কি না, বিদেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের সুযোগও বিবেচনা করতে পারেন। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক.-এর সভাপতি জায়েদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক পরিবার সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। নতুন নিয়মে কারা প্রভাবিত হবেন এবং কারা ব্যতিক্রমের সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্টসহ বিভিন্ন অভিবাসন ভিসা নিয়ে কাজ করা সিডনিস্থ স্কিলওয়েব গ্লোবাল এর পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। অনেক শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করেই অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেন। সেই সুযোগ সীমিত হলে তাদের কেউ কেউ অন্য দেশ বিবেচনা করতে পারেন। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে। শুধু পরিবারের ভিসা নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কোর্স পরিবর্তনের নিয়মেও কড়াকড়ি আনছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন ব্যবস্থায় কোর্স পরিবর্তন করতে হলে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে। একটি কোর্স শেষ করে পরবর্তী কোর্সে গেলে সেটি উচ্চতর যোগ্যতার স্তরের হতে হবে। ব্যাচেলর শেষ করে মাস্টার্সে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক শিক্ষাগত অগ্রগতিতে বাধা থাকবে না। মূলত একই বা নিম্ন পর্যায়ের কোর্সে বারবার ভর্তি হয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থান দীর্ঘ করার প্রবণতা বন্ধ করতে চাইছে সরকার। সচেতনমহলসহ সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিতে বাংলাদেশিদের স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে না। তবে পরিবারসহ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিজিটর ভিসা ও ‘ভিসা হপিংয়ের’ সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে ও বাইরে থাকা নতুন আবেদনকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসার ৭০ শতাংশের বেশি পাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থাকায় নতুন বিধিনিষেধ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নাজরান অঞ্চলে ভিক্ষা করার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটকের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই মদিনা অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগে আরেক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার তথ্য প্রকাশ করেছিল সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ। পরপর এমন ঘটনায় সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবে প্রবাসীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। জননিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীদের রাস্তাঘাট বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি ভিক্ষুকদের অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে অনুমোদিত সরকারি ও দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি আইনে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানা—দুই ধরনের শাস্তিই হতে পারে। এ ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক এ অপরাধে দণ্ডিত হলে সাজা শেষ করার পর তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় মিসাইল হামলার আতঙ্কে দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সৌরভ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলামের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তাঁর পায়ে দড়ি পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেদ্দায় কর্মরত ছিলেন সৌরভ। আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে কাজ করতেন তিনি। এক বছর আগে ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফিরে আবারও কর্মস্থলে যোগ দেন। মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসভবনের ছাদে ছিলেন সৌরভ। এ সময় ইয়েমেন থেকে জেদ্দার দিকে মিসাইল আসার খবর এবং মোবাইলে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে তাঁর সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় সৌরভকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। জেদ্দার স্থানীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সৌরভের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার বিকেলে সহকর্মীদের মাধ্যমে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা আমির ইসলাম ও মা রেনু বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। রেনু বেগম বলেন, ‘সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে। বারবার ফোন করে আমার খোঁজ নিত। আমি শেষবারের মতো আমার ছেলের মুখটা দেখতে চাই, নিজের হাতে তাকে মাটি দিতে চাই।’ পরিবারের পক্ষ থেকে সৌরভের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নিহতের স্বজন তৌহিদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া জানান, সৌরভ শান্ত স্বভাবের ছিলেন। মিসাইল আতঙ্কের মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সৌদি আরবে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের জেরে মো. মতিউর রহমান (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে রিয়াদের হারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মতিউর রহমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘারপাড় গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, হারা এলাকার একটি বাসায় আরও তিন বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে থাকতেন মতিউর। কয়েক দিন আগে ঘুমানোর জায়গা ও রান্না করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সোমবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আগের সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে এক রুমমেট রান্নাঘরে থাকা ছুরি দিয়ে মতিউরকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন রুমমেট বাসা থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। নিহতের ফুফাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম খোকন জানান, মতিউর শান্ত স্বভাবের ছিলেন। রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি তিনি আগেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। সোমবার থেকে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে একই বাসায় থাকা গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারে। বর্তমানে মতিউর রহমানের মরদেহ রিয়াদের একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরির একটি চক্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারীকে ওই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে আটক হওয়া ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নথি জাল করার কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। ‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (ই-পিএলকেএস) কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাশ ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া ই-পি এল কে এস (অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ অনুমতিপত্র) এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরির দুটি পৃথক ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে দুই ঘটনায় মোট ৩৩৭ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনই বাংলাদেশি। একদিকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে ১৭৩ বিদেশি আটক হয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই তদন্তের আওতায় এসেছে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা, নিয়োগকর্তা ও নথিপত্রের ব্যবহার। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানান, কুয়ালালামপুরের জালান চানসাউলিনের একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারের আশপাশে ‘অপস সারকাপ’ পরিচালনা করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৩ থেকে ৪৮ বছর বয়সি ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল নথি তৈরির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিটি জাল ই-পি এল কে এস তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রায় ৭০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অর্থাৎ সামান্য অর্থের বিনিময়ে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা ও পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরির ব্যবস্থা করছিল একটি চক্র। অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ১০টি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি তৈরি জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন উদ্ধার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব জাল নথি বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক পাসপোর্টের আবেদনে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট কীভাবে ও কার মাধ্যমে চক্রটির হাতে পৌঁছেছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানের আশপাশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি ১৫ পুরুষ ও একজন নারী। এ ছাড়া মিয়ানমারের একজন এবং ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী নাগরিক রয়েছেন। দুই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় তদন্ত চলছে। এদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে চালানো আরেক অভিযানে উঠে এসেছে ভিন্ন ধরনের অনিয়ম। একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত পিএলকেএস ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সেপাংয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের মোটরস্পোর্টস কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণস্থল, গুদাম এবং উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার বিভিন্ন স্থাপনায় এ অভিযান চালানো হয়। জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে। এতে অভিবাসন বিভাগের ৮৮ কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা মোট ২৬১ জনকে তল্লাশি করেন। এর মধ্যে ২১৭ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন মালয়েশীয় নাগরিক। তল্লাশির পর ২৩ থেকে ৪০ বছর বয়সি ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিক। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এমন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের পিএলকেএস অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে বিদেশিদের সামাজিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রেরও অপব্যবহার করা হচ্ছিল। আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়েছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট সহায়ক স্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করছে। বৈধ নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, তাদের আশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ায় একই সময়ে সামনে আসা এ দুটি ঘটনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও নতুন সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, পিএলকেএস বা বৈধতার সমস্যা সমাধানের নামে দালাল কিংবা অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে মূল পাসপোর্ট তুলে দেওয়া এবং জাল নথি ব্যবহার করার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করলেও কর্মী যেমন আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, তেমনি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে। দুটি অভিযানের তথ্য বলছে, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা নিয়ে অনিয়ম শুধু কর্মস্থলে নয়; নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট এবং সরকারি নথিপত্রের পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই নজরদারি জোরদার করছে মালয়েশিয়া।
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এসব অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের (ইউজেড-২২২) একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে ফেরার পর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরত এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য আইওএমের পক্ষ থেকে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত কোতারায়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী রয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাঁচশ’র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় সন্দেহভাজন আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হয়। মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে স্থানীয়ভাবে ‘বাংলা মার্কেট’ ও ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত হিসেবে পরিচিত কোতারায়া এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে প্রবাসীদের সমাগম ছিল। অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ৩৬৪ জন। এছাড়া মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ১৮, পাকিস্তানের ৭, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, ভারতের ৬, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন। কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ গণমাধ্যমকে জানান, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। এবার অভিযানে তল্লাশি করা আড়াই হাজারের বেশি অভিবাসীর মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যথাযথ তদন্ত শেষে এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য আটক ব্যক্তিদের ডিটেনশন ডিপোতে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে অবস্থান করা কর্মী ছাড়াও তাদের নিয়োগকর্তা বা আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি যুবক ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর গাজীপুরের কালীগঞ্জে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। উন্নত জীবন ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্নযাত্রার করুণ পরিণতি হলো কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামের মাটিতে ফেরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে আলিফের মরদেহবাহী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে ভিড় করেন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের বদলে কফিন দেখে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে উত্তরগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আলিফের মরদেহ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সহযোগিতা করেন। মাদ্রিদে জানাজা, মরদেহ সংরক্ষণ, আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই তারা পরিবারের পাশে ছিলেন। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাদ্রিদ থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ পাঠানো হয়। পরে ইস্তাম্বুল থেকে সংযোগ ফ্লাইটে তা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়। ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় মাত্র দুই মাস আগে তিনি স্পেনে যান। প্রবাস জীবনের শুরুতেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যুতে স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে কমিউনিটির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ শুক্রবার সকালে বাড়িতে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্বপ্নপূরণের আশায় যে তরুণ মাত্র দুই মাস আগে বিদেশের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, শুক্রবার সেই জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হলো নিজ গ্রামের মাটিতে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করার লক্ষ্যে কর্মীসভা করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। সংগঠনের নেতা জাকির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আমানত হোসেন ও রেজাউল আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং মিজানুর রহমান মিল্টন। নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে নিউইয়র্কের হিলটন ও শেরাটন হোটেলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনাও হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মীসভায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ সার্বিক প্রস্তুতি আরও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থান ও সময় চূড়ান্ত করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ঐকমত্য এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই অনুষ্ঠানটির স্থান ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
লিবিয়ায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল আট মাস আগে। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন স্বজনেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার বিকেলে কফিনে করে তাঁর মরদেহ পৌঁছে জয়পুরহাটে গ্রামের বাড়িতে। তরিকুল ইসলাম (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় যান। স্বজনেরা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে তরিকুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আট মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তরিকুলের মরদেহ দেশে ফিরবে কি না। শনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল হয়ে সাগরে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের নিরাপদে তীরে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাবিগ উপকূলে দায়িত্ব পালনরত সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একটি নৌযান সাগরে বিকল হয়ে পড়ার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে সাগরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর সমুদ্রযাত্রীদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সাগরে যাত্রার আগে নৌযানের ফিটনেস ও চলাচলের উপযোগিতা ভালোভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ওমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুম্মন। ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসমাইল ভূঁইয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সভাপতি এস এম হারুন রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহির রাজা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান বিএনপির সহসভাপতি জানে আলম, এহসান কবির, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, ফজলুল বারী, আল আমিন, জাকির হোসেন ও ইসমাইল রিপন। এ ছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান, কামাল উদ্দিন, জামাল সর্দার, মোজাম্মেল হক, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ শামীম, মো. মিঠুন, ইউনুস রাজন, মারুফ বিল্লা, মোহাম্মদ রবিউল, ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ, মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী, সারোয়ার উদ্দিন, আল-আমিন, আলমগীর হোসেন, মো. ফারুক, সাঈদ খোকন, হেলাল গাজী, জিয়া উদ্দিন, মো. এমরান, মোহাম্মদ সুমন ও আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ, দেশের জনগণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ কারি মো. আরিফ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম। আয়োজনে ওমান বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
কুয়েতের মোবারক আল-কবির গভর্নরেটে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। মাদক সরবরাহের একটি অভিনব কৌশল অনুসরণ করার সময় প্রথম ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কুয়েতি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সন্দেহভাজন ব্যক্তি নির্জন স্থানে মাদক রেখে তার অবস্থান অন্য ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতেন। এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থান এবং মাহবুলা এলাকায় ওই ব্যক্তির কক্ষে অভিযান চালায়। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও এক বাংলাদেশিকে মুতলা এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়েও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৩ ব্যাগে প্রায় ৪৬ দশমিক ৪ গ্রাম গাঁজা, ১৭৫ ব্যাগে প্রায় ১৮২ দশমিক ৪ গ্রাম মেথামফেটামিন এবং সাত ব্যাগে ৫ দশমিক ৮ গ্রাম হেরোইন। এ ছাড়া ৮৫টি ক্যাপটাগন ক্যাপসুল ও ১৭৮টি লাইরিকা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি রাসায়নিকযুক্ত ছয় ব্যাগ এ-ফোর (A4) কাগজ, তিনটি সূক্ষ্ম ওজন মাপার যন্ত্র এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মী ভিসায় থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সুবিধা বাতিল হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১, ও-১সহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকে। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর নাও থাকতে পারে। ফলে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হলে কিংবা তার কর্মচুক্তি শেষ হয়ে গেলে নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও পেশাদার সেবা খাতে কর্মরত বিদেশিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় প্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নিয়মটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চাকরি হারানো কর্মীদের দ্রুত নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। তবে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, বিধিনিষেধের কারণে সাময়িক কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই প্রস্তাবটিকে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবের ওপর আগামী দুই মাস ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে বর্তমানে কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এখনো বহাল রয়েছে; প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এসব অভিযোগ আসতে থাকে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান অনেক বাংলাদেশি। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরও কেউ কেউ নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ, বেতন বকেয়া, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি দেশে ফেরত পাঠানোর পরও অনেককে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকমিশনের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর Responsible Business Alliance (RBA) আয়োজিত ‘From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। সেখানে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে হাইকমিশন। একই সঙ্গে সমস্যায় থাকা কর্মীদের কল্যাণমূলক সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও হাইকমিশন সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি। হাইকমিশনের এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।