দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। অন্যদিকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩টি ভোট বৈধ এবং ছয়টি ব্যালট অব্যবহৃত ছিল। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আইন অনুযায়ী চারটি ব্যালট পরিবর্তন করা হয়। ভোটের ফল ঘোষণা শেষে সিইসি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যরা একে একে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। ভোটগ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মালদ্বীপে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. এইচ. এম. সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোস্তাক ফয়েজী। সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক মাশহুদুল ইসলাম মাসুদ ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান। আলোচনা সভায় বক্তারা কুরআনের তাফসির প্রচার ও ইসলামের দাওয়াত প্রসারে সাঈদীর ভূমিকা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তার জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাজ্জাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজীর হোসেন, অর্থ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর সবুর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডা. ইসমাঈল হারুন বান্না, সমাজকল্যাণ সম্পাদক দিদারুল আলম ভূঁইয়াসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাঈদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট ঢাকায় সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুবাইয়ের একটি প্রতিনিধিদল এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। বাংলাদেশে নিয়োগের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার চালক কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের কারণে নতুন করে আরও কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদনের জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে এসএসসি পাস হতে হবে। বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ থেকে ৪৯ বছর। চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর এবং কর্মীদের আয় মূলত কমিশনভিত্তিক হবে। নির্বাচিত কর্মীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা ও এমিরেটস আইডি সংক্রান্ত খরচ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে আবাসনের ব্যবস্থাও দেওয়া হবে। সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মূল পাসপোর্ট, রঙিন ফটোকপি, ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কৃষি খাতে নতুন করে ভিসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কৃষি সংস্থার আল ধাহিরাহ শাখার আওতায় বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত কৃষি ভিসায় আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ আগস্ট। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় ও রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। গত ৯ আগস্ট থেকে দেশটির নিবন্ধিত কৃষকরা ইব্রির আল মুরতাফায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভিসার জন্য আবেদন করছেন। সরকারি কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। তবে আবেদনকারীদের বার্ষিক ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র এবং কৃষি হোল্ডিংয়ের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে বা আবেদন অসম্পূর্ণ হলে তা বাতিল করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মোট ৫ হাজার শ্রমিকের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কোটা ওমানের বিভিন্ন প্রদেশে নিবন্ধিত কৃষি সমিতির সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য কৃষি খাতে এ সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী ও দেশে থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে আবেদন করতে ইচ্ছুকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। বিশেষ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি লিবিয়ার মিসরাতা শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাস জানায়, মিসরাতায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত তিন শতাধিক বাংলাদেশি সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রবাসীদের সতর্ক করেন এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই কোনো অবস্থাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় যাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন। এই সুনাম ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের একজন প্রতিনিধি ও অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেন। প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দেন রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় কোনো বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে মন্তব্য বা তথ্য শেয়ার করার কারণে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বা জটিলতার মধ্যে না পড়েন। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রদূত নিয়মিত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন। সভায় প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রশ্ন ও পরামর্শ রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে। এসব সেবা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা দূতাবাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
মালয়েশিয়ায় পাঁচ বাংলাদেশি কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে পরিবহনের অভিযোগে ফাকরি নামে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গত জুন থেকে এ ধরনের প্রায় ১৫টি ট্রিপে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে দেশটির কোটা বারুর পেন্ডেকে একটি প্রোটন উইরা গাড়িতে পাঁচ বাংলাদেশিকে পরিবহনের সময় তাকে আটক করা হয়। মালয়েশিয়ার জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (জিওএফ) জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি দূরত্ব ও গন্তব্য অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ নিতেন। কেলান্তানের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জনপ্রতি প্রায় ৩০০ রিঙ্গিত এবং রাজ্যের বাইরে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় জনপ্রতি ৬০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি নেওয়া হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ফাকরি জিওএফ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, জুনে এ কাজে যুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রায় ১৫টি অভিবাসী পরিবহনের ট্রিপ সম্পন্ন করেছেন। তার যাতায়াতের গন্তব্যের মধ্যে কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর ও কেলান্তান ছিল। গ্রেপ্তারের পর তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সী পাঁচ বাংলাদেশি পুরুষকে পাওয়া যায়। তাদের কারও কাছে বৈধ পরিচয়পত্র বা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ছিল না বলে জানিয়েছে জিওএফ। জিওএফ দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিগেডের কমান্ডার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসীদের গন্তব্য অনুযায়ী জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাকরি আরও জানান, প্রতিটি যাত্রা শেষে তিনি নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। থাইল্যান্ডভিত্তিক এক পুরুষ ও এক নারী এজেন্ট কোটা বারুতে তাকে এই অর্থ সরবরাহ করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি। কমিশনার আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি অভিবাসীরা থাইল্যান্ডে এক নারী দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রত্যেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত দেওয়ার পর কেলান্তান নদী দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। এদিকে গ্রেপ্তার ফাকরির মাদক পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। তার বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের বিপজ্জনক মাদকদ্রব্য আইনে আগের একটি মামলার রেকর্ডও রয়েছে বলে জানিয়েছে জিওএফ। পরবর্তী তদন্তের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পাঁচ বাংলাদেশিকে কোটা বারু জেলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর আরও ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় বেনগাজীর গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাদের নিরাপদ ও মানবিকভাবে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৬টায় লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩ নারী, এক শিশু এবং ১৫ জন অসুস্থ ব্যক্তি। জানা গেছে, এসব বাংলাদেশি উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সমুদ্রপথে অভিযানের সময় তারা উদ্ধার বা আটক হন। পরে দীর্ঘ সময় লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর পরিবেশে বন্দি জীবন কাটান। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন এবং আইওএমের সার্বিক সহযোগিতায় সর্বশেষ এই ১৭৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দূতাবাস আরও জানায়, বেনগাজীর গ্যানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিয়মিত সাক্ষাৎকার গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে অবস্থানরত অবশিষ্ট বাংলাদেশিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে গত ৭ আগস্ট লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন ৩৪০ বাংলাদেশি। সর্বশেষ ১৭৪ জনসহ চলতি মাসে মোট ৫১৪ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। বাংলাদেশ দূতাবাস সকলকে দালাল ও মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনপথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদিত এবং আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে চীনের শানডং প্রদেশে পাঁচ দিনের সফর করেছে বিদেশি গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদল। ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সফরে প্রদেশটির ছিংতাও ও তোংইং শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন অংশগ্রহণকারীরা। চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সিআরআই অনলাইন, ছিংতাও পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর এবং তোংইং পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর যৌথভাবে এ সফরের আয়োজন করে। সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শানডংয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জনজীবনের উন্নয়ন এবং সবুজ অর্থনীতির বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধিমান উৎপাদন, জৈবপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক শিল্প, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছিংতাওয়ে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সমন্বয়: ছিংতাও সফরে প্রতিনিধিরা শহরটির প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রগতি এবং শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেন। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে কীভাবে আধুনিক পর্যটন ও নগরজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যক্ষ করেন তারা। গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, সাংস্কৃতিক পর্যটন ও সুস্থতা শিল্পের বিকাশ নিয়েও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। স্থানীয় খাদ্য ও চা সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলো কীভাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। হলুদ নদীকে ঘিরে তোংইংয়ের উন্নয়ন: হলুদ নদীর মোহনায় অবস্থিত তোংইং শহর সফরে নদী, স্থানীয় সংস্কৃতি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন বিদেশি সাংবাদিকরা। সফরের এ পর্বে হলুদ নদীর সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নদী ও এর আশপাশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরিদর্শন করেন তারা। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি থেকে আরও উদ্ভাবনী ও টেকসই উন্নয়নের দিকে শহরটির অগ্রযাত্রার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। শানডংয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষাকে কীভাবে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তোংইং সফরে তারও বিভিন্ন উদাহরণ দেখেন প্রতিনিধিরা। লবণাক্ত-ক্ষারীয় জমির কার্যকর ব্যবহার থেকে শুরু করে হলুদ নদীর ব-দ্বীপের জলাভূমি সংরক্ষণ—প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতাকে টেকসই উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। সফরে বাংলাদেশ, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তানের বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বন্ধুরা অংশ নেন। তাদের সরেজমিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শানডংয়ের প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও উন্নয়নের বহুমাত্রিক চিত্র উঠে আসে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মালদ্বীপে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দেশটিতে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে মালদ্বীপের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনায় বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও অবদান দেশের মানুষ স্মরণ করবে। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও সংকটের মধ্যেও তিনি দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। দেশের মানুষের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও আবেগের সম্পর্ক ছিল গভীর। তার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা। তার নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। পরে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং তার পরিবার, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত হজরত মাওলানা অধ্যক্ষ মোশতাক ফয়েজী দোয়া পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি বাবুল হোসেন, শাহ আলম, এমরান হোসেন তালুকদার, মো. ফারুক, মুক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নুরুল মোস্তফা রাফাত নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেলে দেশটির মদিনা শহরের তোফা মসজিদের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফাত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়েপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত নুরুল আবছার। চার ভাইয়ের মধ্যে রাফাত ছিলেন দ্বিতীয়। মৃত্যুকালে রাফাত স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। জানা যায়, নিহত রাফাত মদিনায় একটি গ্রোসারি দোকানে চাকরি করতেন। ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। নিহত রাফাতের চাচা মোরশেদ আলম জানান, জীবিকার উদ্দেশ্যে প্রায় চার মাস আগে সৌদি আরবে যান রাফাত। সেখানে মদিনা শহরের একটি গ্রোসারি দোকানে চাকরি নেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় ‘বিগ টিকিট’ লটারির ২৮৯তম সিরিজে এক লাখ দিরহাম করে জিতেছেন দুই বাংলাদেশি প্রবাসী। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতিজনের পুরস্কারের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ২ কোটি দিরহামের মেগা জ্যাকপট জয়ী ১০ জনের একটি দলের মধ্যেও রয়েছেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক লাখ দিরহাম জয়ীদের একজন ৩৮ বছর বয়সী আরিফুজ্জামান শুভ। তিনি গত ১৭ বছর ধরে আজমানে বসবাস করছেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত ‘বিগ টিকিটে’ অংশ নিচ্ছিলেন তিনি। শুভ জানান, প্রতি মাসে ১০ বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে মিলে টিকিট কিনতেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার জিতে তিনি উচ্ছ্বসিত। বিগ টিকিট কর্তৃপক্ষের ফোন পাওয়ার পর কিছু সময় তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। পুরস্কারের অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আরও এক বাংলাদেশির ভাগ্যে লাখ দিরহাম: একই ড্রতে এক লাখ দিরহাম সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছেন আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী সবুজ মো. দেলোয়ার মুন্সী। এই সিরিজে মোট পাঁচজন সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছেন। দুই বাংলাদেশির পাশাপাশি ভারতের কেরালার তিন নাগরিক নিখিল চন্দ্রন, সাইদালাভি ও সারথ শশীধরণও এক লাখ দিরহাম করে পেয়েছেন। অন্যদিকে এবারের মেগা ড্রতে ২ কোটি দিরহামের জ্যাকপট জিতেছেন দুবাইপ্রবাসী ফিলিপিনো নাগরিক রেনাল্ডো হারবসো। তবে তিনি এককভাবে এই অর্থ পাচ্ছেন না। ১০ জনের একটি দল মিলে টিকিটটি কিনেছিল, যার মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। ফলে জ্যাকপটের অর্থের একটি অংশ ওই বাংলাদেশি প্রবাসীরও পাওয়ার কথা রয়েছে। সামনে আরও বড় পুরস্কার: ‘বিগ টিকিট’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগস্ট মাসজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কারের সুযোগ থাকছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে দেড় কোটি দিরহাম। একই দিনে আরও পাঁচজন এক লাখ দিরহাম করে জেতার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহের ই-ড্রতে চারজন বিজয়ী ২৫ হাজার দিরহাম করে পুরস্কার পাবেন। আগস্টে টিকিট কেনা অংশগ্রহণকারীরা আগামী ৩ অক্টোবরের ‘দ্য বিগ স্পিন’ প্রতিযোগিতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যেখানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ দিরহাম জেতার সুযোগ রয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির জেনারেল সিকিউরিটি। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার ভোরে বৈরুতের জাল আল-ব্লাত এলাকার একটি ভাড়া বাসায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উচ্চস্বরে ঝগড়া শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চিৎকার-চেঁচামেচিতে বিরক্ত হয়ে স্থানীয় প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বিষয়টি জানতে সেখানে গেলে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই লেবাননে বৈধভাবে বসবাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি অবৈধভাবে বসবাসের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয়প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন প্রবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েকজনের অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে থাকা পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগেও বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও কিছু ব্যক্তি এসব নির্দেশনা অমান্য করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রবাসীদের জুয়া ও মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি অসামাজিক কর্মকাণ্ড, উচ্চস্বরে ঝগড়াঝাঁটি, জাল ভিসা ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাগতিক দেশের আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ: তবে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে। দূতালয়প্রধান বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবৈধ প্রবাসীদের শনাক্ত করতে তল্লাশি জোরদার করলেও বর্তমানে তাঁদের বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি কাজের জন্য কফিল বা নিয়োগকর্তা পেয়েছেন, কিন্তু পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বৈধ হতে পারছেন না, তাঁদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে দূতাবাস। এমনকি কারও কাছে শুধু পাসপোর্টের ফটোকপি থাকলেও নতুন পাসপোর্ট পেতে দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি দেশের প্রতিনিধি। তাই নিজেদের মধ্যে বিরোধ এড়িয়ে যেকোনো সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে গভীর রাতে উচ্চস্বরে কথা বলা, চিৎকার-চেঁচামেচি ও ঝগড়াঝাঁটি থেকে বিরত থাকার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা দুই বছর লটারির টিকিট কিনে অবশেষে ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী আরিফুজ্জামান শুভ। ‘বিগ টিকেট’-এর সিরিজ ২৮৯-এর সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে তিনি জিতেছেন ১ লাখ দিরহাম। ৩৮ বছর বয়সী আরিফুজ্জামান গত ১৭ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও চাকরি করছেন। আজমানকে তিনি নিজের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুললেও তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকে। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত ‘বিগ টিকেট’ কিনছিলেন আরিফুজ্জামান। প্রতি মাসে ১০ বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে তিনি টিকিট কিনতেন। দীর্ঘদিনের সেই চেষ্টার পর সিরিজ ২৮৯-এ এসে মিলেছে সাফল্য। বিজয়ের খবর পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিজয়ী হওয়ার খবরটি পাওয়ার পর আমি এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম যে কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না। বিষয়টি এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তবে জিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ পুরস্কারের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে কীভাবে খরচ করবেন, সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা করেননি আরিফুজ্জামান। ভবিষ্যতের জন্য অর্থটি জমিয়ে রাখতে চান তিনি। পাশাপাশি নিজের আরও স্বপ্ন পূরণের আশায় ‘বিগ টিকেট’-এ অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। অন্য প্রতিযোগীদের উদ্দেশে আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সবারই বিগ টিকেট কেনা উচিত, কারণ এটি ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগায়। বিগ টিকেট টিমকে ধন্যবাদ।’ সিরিজ ২৮৯-এ মোট পাঁচজন সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকে ১ লাখ দিরহাম করে জিতেছেন। বিজয়ীদের মধ্যে আরিফুজ্জামানের পাশাপাশি ভারতের কেরালার অখিল চন্দ্রন আর পি, সাইদালাভি কারিওদান ভারিচালিল ও শরৎ শশিধরণ রয়েছেন। অন্য বিজয়ীও একজন বাংলাদেশি নাগরিক—সবুজ মো. দেলোয়ার মুন্সি। সিরিজটিতে পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে মোট ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। সূত্র: গলফ নিউজ
কুয়েতে দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপর একটি বাসের ভারতীয় চালককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জিলিব আল-শুয়েখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সড়কের পাশে দুটি বাস পরপর থামানো ছিল। সামনের বাসটির চালক ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। বাসটিতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে যান। এ সময় পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর বাসটির ভারতীয় চালক হঠাৎ গাড়িটি সামনে এগিয়ে নেন। এতে দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়েন বাংলাদেশি চালক। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে নিহত বাংলাদেশি চালক ও আটক ভারতীয় চালকের নাম-পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফরওয়ানিয়া ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ভারতীয় বাসচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি তদন্তে কুয়েত পুলিশ একটি মামলা করেছে। দুর্ঘটনাটি বাসের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে, নাকি চালকের অসতর্কতা বা অবহেলার ফলে ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মালয়েশিয়ায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে বিএনপি মালয়েশিয়া শাখা এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সাহস, সততা, দেশপ্রেম ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে খালেদা জিয়া দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রীতে পরিণত হয়েছিলেন। বক্তারা আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনৈতিক সংগ্রামে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তারা। আলোচনা সভা শেষে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কুয়ালালামপুরের বুকিট বিন্তাং বাংলা মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আবু তাহের। অনুষ্ঠানে বিএনপি মালয়েশিয়া এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গোয়াইনঘাটবাসীদের সংগঠন গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে সম্প্রতি এক আনন্দঘন সামার ট্রিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের আবহে আয়োজিত এই ভ্রমণে সংগঠনের সদস্যরা কেমব্রিজের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল মসজিদ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজ এবং শহরের আশপাশের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। সামার ট্রিপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল ও গোলাম আজম মাশুক অংশ নেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের সভাপতি গোলাম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক সুফী সুহেল আহমদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, ট্রেজারার এফ এ কিবরিয়া, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুক্তার আহমেদ, নূর আহমদ, সালেহ আহমদ, রফিক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, হাফিজ মারুফ আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আমিরুল ইসলাম, রঞ্জন বিশ্বাস, ইহান আরিফ, হাসান আহমেদ, তাসলিম ফাতিমা, আমিন আহমেদ ও তামিম আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। ভ্রমণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত গোয়াইনঘাটবাসীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। তারা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা গোয়াইনঘাটবাসীর মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মানুষের কল্যাণে গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘জুলাই ডায়লগ-২০২৬: স্মৃতি, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐক্য, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সুদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বৃহত্তর প্যারিসের পন্তা এলাকার একটি হোটেলে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। এফবিজেএ সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মুখপাত্র ও ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-মুখপাত্র ও কালের কণ্ঠের ফ্রান্স প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তোহা। সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, অর্জন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এসব আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের উন্নত বিশ্বের মানুষের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কারকে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশ ছাড়লেও দেশের বাইরে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যেকোনো বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শফিকুল আলম জুলাই আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের সমর্থনে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি ফরাসি গণমাধ্যমে আন্দোলনের খবর প্রকাশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছে। ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য দেশের বিভিন্ন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের অর্জন সংরক্ষণ ও তা এগিয়ে নিতে আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রবাসী সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে প্রবাসী সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী সমাজের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক আরও পেশাদার ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এফবিজেএর সদস্যদের মধ্যেও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য দেন কলামিস্ট নিয়াজ মাহমুদ, দৈনিক যুগান্তরের ফ্রান্স প্রতিনিধি সরদার হাসান ইলিয়াছ তানিম, ডেইলি সানের ফ্রান্স প্রতিনিধি মুমিন আনসারী, বাংলা ভিশনের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত, কালবেলার ফ্রান্স প্রতিনিধি মামুন মাহিন, পিএনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, লেখক হাবিবুল্লাহ ফাহাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন।
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা মনোয়ারায় অগ্নিকাণ্ডে মো. ইলিয়াস নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে প্রবাসী শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইলিয়াস চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কাজের বিরতিতে কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক একটি অস্থায়ী ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় আট থেকে ১০ জন শ্রমিক দ্রুত বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ইলিয়াস ভেতরে আটকা পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইলিয়াসের বন্ধু আলমগীর মদিনা থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে সাতকানিয়ার গ্রামের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে মদিনার একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’ কিংবা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন নানা বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারকদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি ওমানি এগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমানে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ওই বিজ্ঞপ্তিকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ বা ওমানের শ্রমবাজার পুরোপুরি খুলে যাওয়ার সরকারি ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ওমানের আল ধাহিরাহ অঞ্চলে কৃষিকাজের জন্য সীমিত পরিসরে শ্রমিক চাহিদা সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ব্যাপকভাবে কর্মী নিয়োগ বা ‘ফ্রি ভিসা’ দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ওমান বর্তমানে ‘ওমানাইজেশন’ নীতির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো বিজ্ঞাপন বা দালালের কথায় বিশ্বাস করে ভিসা কিংবা চাকরির জন্য অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। বিশেষ করে ‘ফ্রি ভিসা’, ‘সরাসরি ভিসা’, ‘শ্রমবাজার সম্পূর্ণ খুলে গেছে’ বা দ্রুত বিদেশ যাওয়ার সুযোগ—এ ধরনের আকর্ষণীয় প্রচারণার বিষয়ে প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসংস্থান বা ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওমান সরকারের অনুমোদিত সরকারি সূত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে অর্থ লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিও জটিল হয়ে পড়তে পারে। তাই ওমানে চাকরি বা ভিসার সুযোগের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে সক্রিয় একটি পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের দুই বাংলাদেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গ্রেপ্তারদের একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ প্রায় এক সপ্তাহ নজরদারি চালিয়ে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি মালয়েশিয়ায় সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী প্রায় নয় বছর ধরে দেশটিতে অবস্থান করছেন। তার কাছে নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। যেভাবে কাজ করত চক্রটি: অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত এমন বিদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করত, যারা ‘ফরেন ওয়ার্কার্স মেডিকেল এক্সামিন মনিটরিং এজেন্সি’ (ফোমেমা)-এর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। জাল পাসপোর্টে মূল ব্যক্তির পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য রেখে শুধু ছবি পরিবর্তন করা হতো। এরপর একজন সুস্থ ব্যক্তি ওই পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশ নিতেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে জাল নথিতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের ইমিগ্রেশন সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনের জন্য চক্রটি ২০০ থেকে ৩০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পর্যন্ত নিত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিপুল জাল নথি ও সরঞ্জাম উদ্ধার: কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, প্রায় ৭০০ পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্ট কভার। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের স্ট্যাম্পও জব্দ করা হয়েছে। অভিবাসন কর্মকর্তারা জানান, চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিতের সন্ধান পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা উপকরণের পরিমাণ দেখে কর্তৃপক্ষের ধারণা, চক্রটি প্রায় দুই হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির উপকরণ মজুত রাখতে সক্ষম ছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি জাল পাসপোর্ট তৈরি করতে পারত। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন না দিয়ে ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত। জাল নথি তৈরিতে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এ ধরনের আরও কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য ১১ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহ সুহেল আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আশিক আহমেদ উল্লাস। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে প্যারিসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর। শাহ সুহেল আহমদ রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক। অন্যদিকে আশিক আহমেদ উল্লাস দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন অবিরাম বাংলা ডটকমের উপ-সম্পাদক ও ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি। প্রচার সম্পাদক হয়েছেন বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটিকে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও শক্তিশালী করার জন্য সংগঠনটি কাজ করবে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তারা আরও বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সাফল্য ও সম্ভাবনার খবর আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরাও সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মুসলিম দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হবে আগামী ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার)। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি এ ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) দেশটিতে রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি ছুটি ২৮ আগস্ট: ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক শনি ও রোববারের ছুটি যুক্ত হওয়ায় অনেক কর্মী টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশে সম্ভাব্য তারিখ: সাধারণত সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২৬ আগস্ট উদযাপিত হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর। ধর্মীয় কর্মসূচি: ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আমিরাতজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মিলাদ-মাহফিল, নফল নামাজ, জিকির, দরুদ পাঠ ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনটি পালন করবেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম কমিউনিটির সংগঠনগুলো ২৪ আগস্ট (সোমবার) দিবাগত রাত থেকে মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও রেস্টুরেন্টের হলরুমে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত স্মরণে মুসলিম বিশ্বে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হাসপাতালে সংরক্ষিত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহের স্বজনদের সন্ধানে ফেসবুকে জরুরি পোস্ট দিয়েছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মৃত ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, দীন মোহাম্মদ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী গত ২৫ জুলাই মালয়েশিয়ায় ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মরদেহ বর্তমানে কুয়ালালামপুর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিয়োগকর্তার দেওয়া পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য অনুযায়ী, তার পিতার নাম আব্দুল হক। ঠিকানায় উল্লেখ রয়েছে—রাজাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা। হাইকমিশন জানায়, মরদেহ দেশে পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখনো ব্যক্তিটির সঠিক ঠিকানা শনাক্ত করা যায়নি এবং তার পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধানও পাওয়া যায়নি। ফলে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি মালয়েশিয়ায় দাফন করা হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফেসবুক পোস্টে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, দীন মোহাম্মদ বা তার আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত তার পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
কুয়েতের মানগাফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবদুর রউফ মোল্লা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মানগাফ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আবদুর রউফ কুয়েতের আল তুয়েক কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে। নিহতের মেয়ের জামাই মনিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবদুর রউফ ওই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে তার মরদেহ সোবাহান হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে পরিবার জানিয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুয়েতে বাংলাদেশ কোরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুহাম্মদ রিদুয়ান তালুকদার (৪৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ভোরে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রিদুয়ান তালুকদার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব মেখলের বাকর আলী তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা এবং জালাল আহমদের ছেলে। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তার পা ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরিবারের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। শারজায় তার গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশের (স্পেয়ার পার্টস) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কারণে ব্যবসায় নিয়মিত সময় দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, দেড় মাস আগে চিকিৎসা শেষে কিছুটা অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি পুনরায় আমিরাতে ফিরে যান। ব্যবসায় লোকসান, দেনার চাপ এবং দোকানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবসায় নতুন অংশীদার নেওয়া বা দোকান বিক্রির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। এরই মধ্যে গত ২৮ জুলাই রাতে শারজায় নিজ দোকানে তিনি হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বিষয়টি কেউ টের না পাওয়ায় পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি দোকানের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শারজার আল কাসিমিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একই দিন রাতে তাকে দুবাই কুয়েত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর ৩টা ১৬ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মরহুমের ভাগিনা শরীফ ও ভাতিজা মিশু জানান, বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
লিবিয়ায় অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি অভিবাসীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ত্রিপোলীতে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে। সভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে দূতাবাস সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য লিবিয়া সরকারকে ধন্যবাদও জানান। সভায় অভিবাসীদের জন্য আকামা প্রাপ্তি সহজ করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
মালদ্বীপে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে এসব মৃত্যু ঘটে। মৃত ব্যক্তিদের বয়স ছিল ২১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা এবং একটি সন্দেহজনক আত্মহত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো: হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী— ২৫ জুলাই: রবিউল ইসলাম রোশন (২৩) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা যান। ২৭ জুলাই: হুমায়ুন কবির (৪৫) স্ট্রোকে মারা যান। ২৮ জুলাই: মকবুল মিয়া (৪৭) স্ট্রোকে মারা যান। ৩০ জুলাই: শেখ ফরিদ (৪৫) ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা থেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১ আগস্ট: সুলাইমান মাতাব্বার (২১) কাজ করার সময় ভুলবশত বিষাক্ত রাসায়নিক তরল থিনার পান করে মারা যান। একই দিন: সৈয়দ মোল্লা (৪৪) স্ট্রোকে মারা যান। ১ আগস্ট: বদিউর রহমান (৩৭) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ৩ আগস্ট: দেলওয়ারা নবী (৭০) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা, অতিরিক্ত কর্মচাপ এবং আর্থিক সংকটের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুত্তাসিম বিল্লাহ জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালদ্বীপে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। এই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম বৃহৎ অংশ।
মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে আটক হয়ে সাজা শেষে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে থাকা ৮৩ জন বাংলাদেশিকে দ্রুত দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে অননুমোদিতভাবে কাজ করা, এক প্রতিষ্ঠানের ভিসা নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তারা আটক হন। কারাদণ্ড শেষে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষায় থাকলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকা, জাতীয়তা যাচাই এবং বিমান টিকিটের জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ফিরতে পারছিলেন না তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ৩ আগস্ট পেরাক রাজ্যের লাংকাপ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। সেখানে আটক ৮৩ জন বাংলাদেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং বিমান টিকিট পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পরবর্তী ফ্লাইটে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এদিকে মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ চালু থাকলেও ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়ে সাজা ভোগের পর বহু বাংলাদেশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরাতে নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন, ট্রাভেল পাস ইস্যু এবং মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হচ্ছে।