চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি ২০১৭ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় সরঞ্জামের স্বল্পতা এবং পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে টার্মিনালটির সক্ষমতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জামের প্রাপ্যতা যেখানে প্রায় ৯৩ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন, সেখানে এনসিটিতে বর্তমানে তা প্রায় ৭০ শতাংশ। একইভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে হ্যান্ডলিং হচ্ছে ২০ থেকে ২২টি। ফলে জাহাজের অবস্থানকাল বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে ৮০টিরও বেশি টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের। বাংলাদেশে লজিস্টিকস ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বের আওতায় এনসিটিতে আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, স্মার্ট সফটওয়্যার এবং পরিবেশবান্ধব পরিচালনা ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আনতে উৎসাহিত করা হবে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অংশীদারিত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এর আওতায় বন্দরের জমি, জেটি ও অবকাঠামোর মালিকানা সরকারের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুধুমাত্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা, বহির্নোঙর পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার হাতে। টার্মিনালের তথ্য ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের সুবিধাও জাতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য নিশ্চিত করা হবে। সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স উৎস। দেশটি থেকে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে আসে। একই সঙ্গে দুই দেশের বর্তমান প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততা শুধু একটি টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; বরং এটি চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার সুযোগ এবং নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে দেশটির সরকার। মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ থেকে পুনরায় কর্মী নিয়োগ এবং বর্তমানে দেশটিতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টায়ও দেশটি সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে আরও দৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চীন সফর নিয়ে তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে বেইজিং। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের এই সফরগুলো বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ হাইনানের উন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে ছয় দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ট্যুর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Howai China: Walking Lingshui’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত আয়োজিত এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল হাইনানের উন্নয়ন কার্যক্রম, মুক্ত বাণিজ্য বন্দরের অগ্রগতি, চিকিৎসা পর্যটন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া। হাইনান প্রাদেশিক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কেন্দ্র এবং লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে চায়না নিউজ সার্ভিস (বেইজিং) ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপের হাইনান শাখা এবং লিংশুইয়ের পর্যটন, সংস্কৃতি, বেতার, টেলিভিশন ও ক্রীড়া ব্যুরো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, অনেকেই হাইনানকে কেবল একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে জানেন। তবে বর্তমানে এটি চীনের উচ্চমানের সংস্কার, উন্মুক্ত অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম পরীক্ষাগার হিসেবে গড়ে উঠেছে। সে বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ চীন সাগর উপকূলের লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি। সমুদ্র, পাহাড়, বনাঞ্চল ও আদিবাসী সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ অঞ্চল বর্তমানে পর্যটন, সামুদ্রিক অর্থনীতি, শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ছয় দিনের সফরে প্রতিনিধিরা ফেনচিয়েঝৌ দ্বীপ, দিয়াওলুওশান জাতীয় বন উদ্যান, হাইফেং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন কেন্দ্র, লি'আন আন্তর্জাতিক শিক্ষা উদ্ভাবন অঞ্চল, হাইনান ওশান অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, শুয়াং ফানশি মেরিন স্পোর্টস সেন্টার, নানওয়ান মাঙ্কি আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন পর্যটন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জানান, হাইনান সম্পর্কে তাদের পূর্বধারণার তুলনায় বাস্তবে অঞ্চলটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনা অনেক বেশি। মুক্ত বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ এখানে দেখা যাচ্ছে, তা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। এই আন্তর্জাতিক মিডিয়া ট্যুরে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ১২টি দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাইনানের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্রান্স সফররত বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ফ্রান্স বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে মন্ত্রী জানান, ফ্রান্স বিএনপির আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি দুঃখিত। পরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সময়ে ফ্রান্স বিএনপির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারবিরোধী অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সচেষ্ট থাকবেন। সাক্ষাৎ শেষে ফ্রান্স বিএনপির নেতারা এবং সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিরা সময় দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় পরকীয়াজনিত বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের পার্কসংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে অয়ন (১৮), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আবদুল আহাদের ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে থাকাকালীন সময় থেকেই কামাল উদ্দিন বাবুলের স্ত্রী আরজুর সঙ্গে শাহাদাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে কয়েক বছর আগে কামাল উদ্দিন স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নিয়ে যান। অন্যদিকে, প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে পারিবারিক বিচ্ছেদের পর তিনি ইতালিতে চলে যান। সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী আরজু এবং তাদের সন্তানদের উপস্থিতিতে শাহাদাতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে কামাল উদ্দিন, আরজু ও তাদের মেয়ে আরিশা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অয়ন পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাত তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’ শনিবার (২৭ জুন) ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহাদাতের ছবি প্রকাশ করে তাকে ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে রোম পুলিশের মোবাইল ইউনিটকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহাদাতের বড় ভাই, সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন বলেন, ‘চার বছর আগে শাহাদাত তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। আমি দুই মাস আগে দেশে এসেছি। এই সময়ের মধ্যেও তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’ নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে কামালের পরিচিত ও একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত জড়িত। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে পার্ক এলাকা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন, বিষয়টি তিনি ফেসবুকে দেখেছেন। এ বিষয়ে তার তেমন কিছু জানা নেই। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিল।’
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স বিএনপির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান। নির্ধারিত সময়ে প্রতিনিধিদল উপস্থিত হলে মন্ত্রী তাদের আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তিনি ফ্রান্স বিএনপির আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন। ফ্রান্সে অবস্থিত দূতাবাস কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন সংকটময় ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফ্রান্স বিএনপির ভূমিকা ও কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে পূর্বের ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে মনে করলেই চলবে না; যারা পূর্বে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছে কিংবা তাদের সহযোগীরা দলের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রত্যাশিত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎ শেষে ফ্রান্স বিএনপি ও ফ্রান্স প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।
ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশে এ ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজনের নাম শাহাদাত হোসেন, তার বাড়ি বাংলাদেশে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোম শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৃদয়নগর এলাকার লন্ডনফেরত সিরাজ মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৫০), তার স্ত্রী হোসনে জাহান মমতাজ ওরফে আরজু (৪০) এবং তাদের কন্যা আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হন তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন, যিনি বর্তমানে ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং আশঙ্কামুক্ত। জানা গেছে, কামাল উদ্দিন বাবুল প্রায় ১২ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান। পরে ৪-৫ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানদেরও সেখানে নিয়ে যান। পরিবারের সবাই রোমেই বসবাস করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাবা, মা ও মেয়ে নিহত হয়। আহত অয়ন প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইলে হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও কারাবিনিয়ারি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত অয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাৎ নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ইতালীয় কর্তৃপক্ষও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহত তিনজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দূতাবাস কাজ করছে বলেও তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহত অয়নের চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও দূতাবাস খোঁজখবর রাখছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত হামলা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে—সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিখোঁজ এক বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতের নাম রত্না। পরিবার জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গতকাল (স্থানীয় সময়) রিয়াদের মারকাব এলাকার একটি বাসার ডিপ ফ্রিজের ভেতর থেকে রত্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রত্নার বাড়ি ঢাকায়। তাঁর নিকটাত্মীয় বলতে শুধু একজন খালা রয়েছেন। দেশে তাঁর একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের চিকিৎসা এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় তিনি সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সৌদি পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মোহাম্মদ আরিফ (২৩)। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। ওমানের আল বিদায়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ প্রবাসী। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে আল বিদায়া এলাকার গালিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসার পাশের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে ফেরার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। নিহতের মামা মিনহাজুল আবিদ, যিনি ওমানে আরিফের সঙ্গে থাকতেন, জানান, খবর পেয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরিফকে উদ্ধার করে স্থানীয় কাবুরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের ধারণা, গভীর রাতে কুয়াশার কারণে গাড়িচালকের সামনে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ওমানি চালক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরিফের জীবনের শুরু থেকেই ছিল নানা প্রতিকূলতা। জন্মের আগেই বাবাকে হারান তিনি। পরে নানা-নানির স্নেহে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ পাইন্দং গ্রামে বেড়ে ওঠেন। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। বর্তমানে আরিফের মরদেহ ওমানের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দেশটির সরকারি দপ্তর খোলার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মালদ্বীপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ওয়াজ, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা মো. ইসরাফিল হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ইসলামী ইতিহাসে এর তাৎপর্য এবং আত্মত্যাগ, ধৈর্য, আত্মশুদ্ধি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ধর্মীয় আলোচনা করেন হযরত মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, হাফেজ মো. রিফাতুল ইসলাম, মো. মোস্তফা হোসাইন সুন্নী, মো. নুরুল আমিন সুন্নী এবং মদিনার জামাতের খাদেম মো. ইসমাইল হোসেন। বক্তারা বলেন, পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য সত্য, ন্যায় ও ত্যাগের আদর্শ ধারণ করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ দিনের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং আল্লাহভীতির চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক। আলোচনা শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ, ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ়করণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাট এলাকার বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি কন্যাশিশু। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ১৮ বছর বয়সি ছেলে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাংলাদেশি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিহত হন কামাল, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সি কন্যা। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের ১৮ বছর বয়সি ছেলে। তবে হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত তরুণকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি পূর্বশত্রুতার জের, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে— সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে ফরেনসিক ও পুলিশ দল (Polizia Scientifica) ঘটনাস্থলটি সিলগালা করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করছে। ভবনের আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসীকে সাদা কাগজে সই কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বুধবার (২৪ জুন) কনস্যুলেটের কাউন্সেলর মো. মেহবুব জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কিংবা নির্দেশনায় সাদা কাগজে কোনও ধরনের সই ও টিপসই দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এমনটা না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অসতর্কতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণা, জাল দলিলপত্র প্রস্তুত, অবৈধ লেনদেন বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফৌজদারি মামলা, আর্থিক ক্ষতি, জেল-জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। এই অবস্থায় কোনও লিখিত কাগজপত্র বা ডকুমেন্টে সই কিংবা টিপসই দেওয়ার আগে তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণরূপে বুঝে ও যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উত্তপ্ত বায়ুপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং রাজধানী প্যারিসে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিম শহরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এছাড়া মার্সেইয়ে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, লিওঁতে ৪১ ডিগ্রি এবং প্যারিসে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না। অতিরিক্ত গরমের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পানিতে ডুবে মারা গেছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে জলাশয়ে নামার সময় গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিম শহরে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মার্সেই ও লিওঁ শহরে হিটস্ট্রোকে তিন প্রবীণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং ফুড ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র রোদ ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করায় তাদের মধ্যে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার আশঙ্কা বেড়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা প্রবাসীদের পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শহরে শীতল কেন্দ্র ও পাবলিক পার্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত আইনের নির্বাহী বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান। একই সঙ্গে বিদেশিরা কোন কোন এলাকায় সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আইন প্রথমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে বিধিমালাটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো লাভ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কৃষিজমি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সম্পত্তি ক্রয় ও মালিকানা অর্জনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশি নাগরিকরা নির্ধারিত এলাকায় সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। এ ছাড়া বৈধ লাইসেন্সধারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সৌদি আরবে ব্যবসা পরিচালনাকারী এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস, কারখানা, গুদামঘর কিংবা অন্যান্য স্থাপনার জন্য জমি বা ভবন কিনতে পারবে এবং সেগুলোর পূর্ণ মালিকানা ভোগ করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিধিমালা সৌদির রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সম্পত্তি মালিকদের জন্য ভিসা ও আবাসন সুবিধা আরও সহজ করেছে ওমান। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরা কোনো স্থানীয় স্পনসর বা কফিল ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা এবং বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পাবেন। সম্প্রতি ওমান পুলিশ আবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী বিধিমালায় সংশোধনী এনে এ সুবিধা চালু করেছে। সংশোধিত বিধিমালা ইতোমধ্যে দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওমানে জমি বা আবাসিক ইউনিটের মালিক বিদেশি নাগরিকরা সরাসরি রেসিডেন্সি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যেসব সম্পত্তির নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সনদ থাকলে ভিসা ও বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। এই সুবিধা শুধু মূল সম্পত্তি মালিকের জন্যই নয়, তার প্রথম স্তরের পরিবারের সদস্য—যেমন স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানাধীন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কিন্তু অনুমোদিত সম্পত্তির ভিত্তিতে ইস্যুকৃত ভিসাগুলোর মেয়াদ সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়ন করা যাবে। ভিসাধারীরা প্রতিবার ওমানে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ওনার ভিসা’ বা সম্পত্তি মালিকানা-ভিত্তিক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এখন বিদেশি সম্পত্তি মালিক ও কোম্পানির অনুমোদিত প্রতিনিধিরা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। তবে নতুন নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। ভিসা অনুমোদনের পর তিন মাসের মধ্যে আবেদনকারীকে অবশ্যই ওমানে প্রবেশ করতে হবে। ওমান সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ দেশের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটিকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে।
কুয়েতে অসুস্থতা ও মানবিক সংকটে থাকা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছান। দেশে ফেরা তিন প্রবাসী হলেন তছিরন বিবি, সানজিদা আক্তার এবং মো. ইসমাইল। উন্নত জীবনের আশায় কুয়েতে গেলেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি দূতাবাসের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, ট্রাভেল পাস ইস্যু, আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহসহ দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের যেকোনো সংকটে সহায়তা দিতে সরকার ও দূতাবাস সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দেশে ফেরার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই মানবিক উদ্যোগ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান এলাকার ওয়ান সাউথ প্লাজায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৫৩ জন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ, খাবারের কিয়স্ক ও বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে এক মালয়েশীয় নাগরিককে সমন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক সব বিদেশিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থান প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ একমত হয়েছে। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে না। শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই দেশই একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ও ২২ জুন অনুষ্ঠিত ওই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের (কেপিডিএন) যৌথভাবে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গানের ওয়ান সাউথ প্লাজা এলাকায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের এ অভিযানে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন ব্রাঞ্চ ও এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ৫৩ কর্মকর্তা এবং কেপিডিএনের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহব্যাপী গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ, খাদ্যের কিয়স্ক, বিক্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমতি ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। জেআইএম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালার বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহার উল্লেখযোগ্য। একই অভিযানে তদন্তে সহযোগিতার জন্য এক মালয়েশীয় নাগরিককে ফরম-২৯ সমন জারি করা হয়েছে। এছাড়া কেপিডিএন পরিদর্শনের সময় শনাক্ত হওয়া একটি অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইনে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছে। আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। জেআইএম বলছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী কিংবা সরকারের দেওয়া পাস সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিভাগটি আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতালিতে কাজ না পেয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিন্নাত খান খোকন (৪০) নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তিনি পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে ইউরোপে পাড়ি জমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনি বুলগেরিয়ায় পৌঁছান এবং পরে অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৈধ কাজ বা স্থায়ী আয় না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। পাশাপাশি দেশে থাকা ঋণদাতাদের চাপও তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তারা জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ব্যয় বহন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানায়, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পেশাগত ফিটনেস ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা নিয়মিত যাচাই করা হবে। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে নতুন কর্মীদের চাকরিতে যোগদানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের এবং পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের কর্মীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মী স্বাস্থ্য বা পেশাগত সক্ষমতার পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে তিনি তার বর্তমান দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য উপযুক্ত অন্য কোনো পেশা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া কাজে যোগদানের সুযোগ থাকবে না। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, পেশাগত অসুস্থতা, কাজের ধরন পরিবর্তন অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মীদের পুনরায় স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদেরও নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার লারনাকা জেলার কোফিনু এলাকার একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পচনধরা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ১২ জুন নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন। ফাইলিনিউজ ও সাইপ্রাস টাইমসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, গত ১২ জুন কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় নিজের প্রথম কর্মদিবসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ইমন। নিজের কোনো যানবাহন না থাকায় তিনি বাসে করে রওনা হয়েছিলেন। ওইদিন রাতেই তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন পাঠান এবং গ্রিসে অবস্থানরত তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাইপ্রাস ও গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। নিখোঁজের পরদিন থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমনের ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারী মূলত অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করার পর স্থানীয় পুলিশ, সিআইডি এবং গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ ও বাস রুট ধরে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি অভিযুক্ত যুবক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। অভিযুক্তের দাবি, “ওই সময় ইমন তাকে অপমান করেছিলেন এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরেক্লিনি এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে লাশ উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে রেখেছে সাইপ্রাস পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ এবং তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত চলছে।
মালদ্বীপের শিক্ষা খাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী। শনিবার (২১ জুন) রাজধানী মালের ইমাজউদ্দিন স্কুল অডিটোরিয়ামে মিয়ানজু কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষা সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য তাকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, মালদ্বীপের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিদা মোহাম্মদ। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তব্যে ফার্স্ট লেডি বলেন, মিয়ানজু কলেজ স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে প্রতিষ্ঠানটির অবদান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে আহমেদ মুত্তাকী বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি মালদ্বীপে কর্মরত সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন সম্মান পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।” সংশ্লিষ্টদের মতে, আহমেদ মুত্তাকীর এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা, সুনাম ও সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, কল্যাণ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২১ জুন) রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসীদের সমস্যা-সম্ভাবনা, শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। দূতাবাসের কনস্যুলার সহকারী মো. ইবাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ হামজাদ আলী। সভায় হাইকমিশনার প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাধারণ প্রবাসী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং হাইকমিশনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় এ মামলাটি করা করে দলটির এক কর্মী। হাসনাত হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমকে। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়া অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের নামে মামলা করেছে। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এ বিষয়টি দেখছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের “বেধড়ক পেটানোর” অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের পাঁচজনই বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন আগতালুক নিবাসী জসিম উদ্দিন, আমরপুর নিবাসী জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক নিবাসী মস্তাক আহমদম, মাঝতালুক নিবাসী জুবায়ের আহমদ এবং গাছবাড়ী নিবাসী কাদের আহমদ। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানান আহমেদ মালেক। তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছাড়তে না পারা প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)-এর বরাতে জানানো হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ধরনের ওভারস্টে জরিমানা ছাড়াই তাদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন অথবা চাইলে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন। আইসিপির ঘোষণায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। মূলত যেসব প্রবাসী বা ভ্রমণকারী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে পারেননি, তারাই এ সুবিধার আওতায় পড়বেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুযোগ নিতে আলাদা কোনো আবেদন বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। যারা দেশটিতে অবস্থান বৈধ করতে চান, তারা এই সময়ের মধ্যেই ভিসা বা কর্মসংস্থানের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তারা স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্থান করতে পারবেন। আইসিপি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই আইনগতভাবে অবস্থান ঠিক করতে পারেন বা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।