রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
পাটওয়ারীর ওপর আসল মার এখনো শুরু হয়নি’: এমপি মনজুরুল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সামনে ‘কঠিন’ সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মনজুরুল ইসলাম।   দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেছেন, “পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল। আসল মার তো শুরুই হয়নি।   “একজন এমপি হিসেবেই বলছি, ভবিষ্যৎ অনেক কঠিন তার জন্য।”   শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।   মনজুরুল ইসলামের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যেসব মন্তব্য করেন, তা বাকস্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করে।   তিনি বলেন, “সে শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, তার স্ত্রী ও কণ্যাকে নিয়ে যখন কথা বলে, তখন আমরা সহ্য করতে পারি না। কারণ তারা তো এটার কোনো অংশ না। অথচ প্রতিনিয়ত (পাটওয়ারী) এটা করছেন। ‘ফ্রিডম অব স্পিস’ কী! এটা ‘ফ্রিডম অব স্পিস’ নয়।   “তারেক রহমান সাহেব যে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন…বিশ্বাস করুন আপনারা, আমরা যেটা সহ্য করতে পারি না, সেটি উনি (পাটওয়ারী) করছেন। উনার (তারেক রহমান) সম্পর্কে যেসব বাজে ল্যাঙ্গুয়েজ করছে পাটওয়ারী, তুষার…।”   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক পিটার। এতে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহ উদ্দীন নোমান চৌধুরী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট , গিয়াস আহমেদ ও জিল্লুর রহমান জিল্লু উপস্থিত ছিলেন।   ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বলায় বের করে দেওয়া হয় একজনকে   জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এদিন বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।   সেখানে নূর হোসেন নামের এক প্রবাসী নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করেন এবং ‘ইতিহাস বিকৃত করার’ অভিযোগ তোলেন।   এ অভিযোগ তোলার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অনাকাঙ্খিত অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন।   তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে আমরা সকলেই সোচ্চার ছিলাম ফ্যাসিস্ট তাড়ানোর আন্দোলনে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে নামছে জামায়াত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে। শনিবার (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (০৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।   এ ছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ প্লাজার একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তাররা হলেন— মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), নান্নু মিয়া (৩৮), আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।   গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বৈঠক শেষে তাদের রাজধানীতে মিছিলের পরিকল্পনা ছিল। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীদের ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ বেতন চান নুর

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   নুরুল হক নুর বলেন, সংসদ সদস্যদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। অনেক অঞ্চলের সড়কব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারি গাড়ির সুবিধা থাকা প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাব দেন, দায়িত্ব পালনকালীন এমপিরা সরকারের দেওয়া একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত।  

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।   শুক্রবার(৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।   তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।   এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে পলাতক আ. লীগ নেতাদের ৫৩ সম্পত্তির সন্ধান

মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তারা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে। দুবাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে।পরে তাকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়।   তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান।   আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তার একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তার নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তার স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তার ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।   সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তার নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম। তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তারা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তার একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’ সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
বীথিকা বিনতে হোসাইন ও আসিফ মাহমুদ
বিএনপির এমপিকে আইনি নোটিশ দিলেন আসিফ মাহমুদ

‘মানহানি’র প্রতিবাদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ নিজেই।   ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আপনারা অবগত আছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিত গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিগত দুই বছর ধরেই নানা রকম অপবাদ এবং অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এখন পর্যন্ত কেউই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা প্রমাণ উত্থাপন করতে পারেনি।’   এতে উল্লেখ রয়েছে, ‘কয়েকদিন পূর্বে একটি পাবলিক প্রোগ্রামে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন অভিযোগ করেন, বিসিবির সদস্য হওয়ার জন্য তার থেকে আসিফ মাহমুদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছেন। বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পর আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ কিংবা সুনির্দিষ্ট ভাবে কে, কার থেকে অর্থ দাবি করেছেন তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি একাধিকবার তথ্য দেবেন বলেও কোনো প্রকার তথ্য দেননি। বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ‘আমাকে তো এমনটাই বলা হয়েছে’। পরবর্তীতে তিনি জানাবেন বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই ওই বক্তব্য দিয়েছেন।’   ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, এমতাবস্থায়, আসিফ মাহমুদ তার নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে তার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায়, তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি এর কোনোটিই না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদ প্রচলিত আইনে মানহানির অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।   এসব ধারাবাহিক অপপ্রচার কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে ওই পোস্টে। এতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ একা নন, জুলাইয়ের পক্ষের আরও অনেকে একই ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এখন থেকে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিটি অপচেষ্টার জবাব দেওয়া হবে আইনের মাধ্যমেই।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।   বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে ভালো। না বুঝতে পারলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।  ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়স মানে না। যেমন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই রাজপথে ছিল, তেমনি আগামী দিনেও সবাই এই আন্দোলনের অংশ হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চলবে। জেল-জুলুম ও ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতির মুক্তির জন্য যদি ফাঁসির রশিও প্রয়োজন হয়, তবে সেটিকে ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করব। ফাঁসির মঞ্চেও আমরা ভীত হব না, বরং বিজয়ের জয়ধ্বনি উচ্চারণ করবো। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারাও মজলুম ছিলেন। অথচ যেসব জুলুম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে, এখন আপনারা সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ আপনাদের ফ্যাসিবাদী বলবেই। তাই ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করুন। জনগণকে সম্মান করলে জনগণও আপনাদের ফুল দিয়ে বরণ করবে। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলছি, বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা সহ্য করবো না। শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন। ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে অপমান করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করেছে, তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আপস করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের লোভও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, আপনাদের গণরায়ের পাহারাদারি আমরা করব, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহর সাহায্যে এই দাবি আমরা আদায় করেই ছাড়ব। কোনো কিছুর বিনিময়ে, এমনকি জীবনের বিনিময়েও আমরা এই দাবি থেকে সরে আসব না। জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ছাত্র-শিক্ষক সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। গণরুম ও গেস্টরুমের সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বলব, যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। জনগণ যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন দাম বাড়িয়ে সংকট দূর করা হয়। যদি দাম বাড়ানোর পর সংকট দূর করা যায়, তাহলে আগে কেন তা করা হয় না? এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ফ্যাসিবাদী চর্চা। তিনি বলেন, অতীতে যারা জনগণের সম্পদ লুটপাট, চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের সেই প্রবৃত্তির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক নেতার বক্তব্যই তার প্রমাণ। এটি কার্যত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, জনগণের দুর্ভোগ, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদে জ্বলে উঠব। কোনো বাধা মানব না। আল্লাহ তাআলার ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা। বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা, নেতৃত্বে যারা

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণায় ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে।   সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধাদের উদ্যোগে দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।   অনুষ্ঠানে দলের সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র হিসেবে ইকবাল হোসেনের (সাম্য শাহ) নাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৩৭ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে ২১ জন সংগঠক এবং ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। সংগঠনটির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুখপাত্র ইকবাল হোসেন।   এতে জানানো হয়, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।   সংগঠনটির ভাষ্য, জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্ল্যাটফর্ম হতে চায় ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’। দেশের সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তারুণ্য। এখনো দেশের মানুষ তরুণদের দিকেই আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এখনো বিদ্যমান।’   এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সবার অংশগ্রহণে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘একটি পক্ষ গালাগালি ও বিদ্বেষকে রাজনীতির অংশে পরিণত করতে চায়, যা তরুণদের বিপথগামী করছে। বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠকদের এ ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে তরুণদের বের করে এনে আলোর পথ দেখাতে হবে এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।’   অনুষ্ঠানে গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মোহসিন রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে যাওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাবেন শেখ হাসিনা

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে আসছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন।     ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এফসিসি সাউথ এশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।     অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।     ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যমে অংশ নেননি। ফলে আসন্ন এই বক্তব্য ক্ষমতা ছাড়ার পর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।     অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব এতে অংশ নেবেন।     অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।     এ ছাড়া প্যানেলে থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার।     অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের (আইএপিসি) সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।     প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।     নতুন সরকার সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান আদালতের কার্যক্রম নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে মঞ্চে উঠলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। হবিগঞ্জে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফের ওপর হামলায় চোখ হারানোর প্রতিবাদে তিনি এ অভিনব প্রতিবাদ জানান।   সোমবার (৩ আগস্ট) এক সভায় তাকে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। বক্তব্য দেওয়ার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণার পরেই তিনি পর্দার আড়ালে চলে যান। প্রায় ১ মিনিট পরে তিনি বক্তব্য দেওয়ায় স্থানে আসলে দেখা যায় তার চোখে ব্যান্ডেজ।     মূলত হবিগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর জন্যই এই ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানা গেছে, হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলায় এক এইচএসসি শিক্ষার্থী (আলিফ) তার একটি চোখ হারান বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই দিন রাজধানীর পল্টন মোড়েও সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশ শেষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। সোমবার (৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগামী বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সব জেলায় একযোগে গণমিছিল করবে। তিনি জানান, ঢাকায় সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জোহরের নামাজের আগে সমাবেশ শেষে গণমিছিল বের হবে। রাজধানীর এ গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাদের যৌথসভায় ৫ আগস্ট রাজধানীতে সমাবেশ ও গণমিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। পরে সোমবারের বিবৃতিতে রাজধানীর কর্মসূচির পাশাপাশি দেশব্যাপী সব জেলায় একযোগে গণমিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, ‘একটাও মাইর মাটিতে পড়বে না’: মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।’   রবিবার (২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন।   এই পোস্টের কমেন্টেই তিনি আবার লিখেছেন, ‘ডান ও অ-ডানের এ কুস্তি নাগরিক কমিটি প্রকল্পের সমাপ্তির মাধ্যমে পুরোদমে শুরু হইসে। এটা শেষ হবে জুলাইকে নিয়ে কুস্তিতে জিততে উভয় পক্ষের সব কোশেশ যখন লীগ আসাকে অনিবার্য করে তুলবে, সেদিন। সব কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন!

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এলপিজির দাম বৃদ্ধি, উদ্বেগ জানাল জামায়াত

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলের পক্ষে এ উদ্বেগের বার্তা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এমনিতেই দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখিতায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে গৃহস্থালিতে ও গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য নতুন করে বাড়ানোয় ভোক্তাদের উপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে সরকার, যা খুবই উদ্বেগজনক। আমি সরকারের এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করেছে। এতে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আমি অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনগণকে স্বস্থি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আজ ২ আগস্ট ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা। তিনি বলেন, গ্যাসের এরূপ মূল্যবৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খাতসহ সবক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছি। এজন্য দেশের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এলপিজির বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে জনজীবন স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগ অনেকেই চাননি’ : নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অনেকেই শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি চাইলেও রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামোগত পরিবর্তন চাননি। এমনকি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লেও দেশ ছেড়ে চলে যান এটিও অনেকে চাননি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসেবে টিকিয়ে রাখা। তবে দেশের জনগণ উপলব্ধি করেছে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়। রোববার (০২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এসব কথা বলেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মাহথিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. ইসমাইল। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দলীয়করণ করা হয়েছে। নতুন সরকার এলেই যদি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়; তবে সেই সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে জনগণের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকার যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তাহলে সংকট আরও বাড়বে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ঐক্যের প্রধান শর্ত হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে এনসিপি কাজ চালিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য জায়গার তুলনায় কিছুটা দূরে ছিল। জুন মাস থেকেই অনেকে আন্দোলনের দাঁড়িয়েছিল। আমি নিজেও হলে থাকার জন্য ছাত্রলীগ করতাম। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের; তাদের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা সম্ভব ছিল না। আমি আলাওল হলে থাকতাম। তালাত মাহমুদ আরও বলেন, একপর্যায়ে আমাকে আলাওল হলের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। আমাকে বিভিন্ন ট্যাগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মোবাইল তল্লাশি করে কিছু না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আমরা শহরে আন্দোলন করার পরিকল্পনা করি। অনেক ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ অনেক আগেই সরে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা ৫ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত সেখানে ছিল। এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সফট পাওয়ারকে সফট পাওয়ার দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। সাধারণের ছেলে দেশ নিয়ে কথা বলবে এটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। এক-এগারোর সময় যেমন রাজনীতিকে মাইনাস করার চেষ্টা হয়েছিল তখনকার একজন বলে ইউনূস সাহেব ছাত্রদের রাষ্ট্রক্ষমতার দিকে নিয়ে গেছেন। আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চাই বৈধ উপায়ে। এটা কোনো লোভ নয়। একটি দল চলে যাওয়ার পর তাদের নিয়ে অনেকে হাহাকার করছেন। সারোয়ার আরও বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবীও এসব করছেন। আমাদের অবস্থানকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যে চুপ্পু জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে কটূক্তি করেছেন, তাকে তারা কীভাবে বিদায় দিল? আমাদের ছেলেদের চোখ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। ছাত্রশক্তি করতে হলে এমন নয় যে সবাইকে রাজনৈতিক হতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিক এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   শনিবার (১ আগস্ট) রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আজকের স্থায়ী কমিটির মিটিংটি ছিল একটি রুটিন মিটিং। সেখানে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে মাননীয় স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন যখনই তফসিল ঘোষণা করবে, তখনই দলীয় প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার সার্বিক দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানকে অর্পণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হবে। একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না; তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে স্পিকারের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের শেষ দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দল সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখছে। এর আগে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও দলের বিভিন্ন বিষয় এবং আগামী দিনের কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
‘সব ফাঁস করে দেব’—রাশেদ খাঁনকে নাসীরুদ্দীনের হুমকির অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে ফোন করে ‘সব ফাঁস করে দেব’ বলে হুমকি দিয়েছেন।   ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, গতকাল বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী হঠাৎ আমাকে কল করে বলল, আমি যাতে তার বিরুদ্ধে আর না বলি, সেও আমার বিরুদ্ধে বলবে না। আমি তাকে বললাম, তুমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী, কন্যা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করলে, আমি বিষয়টি ভেবে দেখব। সে উত্তরে বলল, সে আজকে এ বিষয়ে মিডিয়ায় বলেছে, আর এসব করবে না।     তিনি আরও লিখেন, এরপর রাতে আবার কল করে বলল, আপনি তো আমার বিরুদ্ধে বলেছেন, আমি কিন্তু সব বলে দিবো, আমাদের ( নাহিদ-আসিফ)  কাছে এসে আপনি ৫ লাখ করে টাকা নিয়ে যেতেন! আমি সব ফাঁস করে দিবো। আমি বললাম, যা আছে সব ফাঁস করে দাও! এরপর বলল, আপনি ফ্ল্যাট কিনেছেন, সব ডকুমেন্টস আছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে গিয়েছেন! উত্তরে আমি বললাম, আমার কোন ফ্ল্যাট নেই, আর কোনোদিন নাহিদ-আসিফ থেকে ১ টাকা নিইনি! তোমার কাছে আমার সম্পর্কে যা তথ্য আছে, সব ফাঁস করে দাও!   রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, যাইহোক, গতকাল তার কল পেয়ে আমি ভেবেছিলাম, ছেলেটি হয়তো তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকেই দেখলাম, সে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে গেছে। আবারও আবোলতাবোল বকা শুরু করেছে..... 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
গ্যাসের দাম বাড়ালে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নাহিদের

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এ সরকার মাত্র পাঁচ মাসে দফায় দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে। গ্যাস না থাকলেও প্রতি মাসে বিল দিতে হচ্ছে।’   শুক্রবার (৩১ জুলাই) আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে হবিগঞ্জে সংঘর্ষে চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ১৭ নেতাকর্মী

রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।    শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১২ এর মেট্রোরেলের পিলার নং-১৪০ এর পূর্ব পাশে মিছিল করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ।   গ্রেপ্তাররাদের মধ্যে মো. সুজন হোসেন (২৬), মো. নাসির (২৫), রবিউল ইসলাম (২০), মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ (২১), মো. আলমগীর ইসলাম (২০), মো. বিল্লাল হোসেন (২২), মো. মনিরুজ্জামান শাওন (১৯), মো. তারেক (২০), মো. নাঈম (২০), সৈয়দ লিমন (১৯) ও মো. ইব্রাহিম (৩৫) রয়েছেন।   ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, সকালে পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ এলাকায় মেট্রোরেলের ১৪০ নম্বর পিলারের পূর্ব পাশে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার, একটি ভাড়াকৃত মাইক্রোবাস এবং দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।   পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
অতীতের শিক্ষা থেকে সতর্ক বিএনপি: কেমন রাষ্ট্রপতি চায় দলটি?

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং দলের বাইরের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাড়াহুড়া করতে চাইছে না বিএনপি। বরং দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে দলটি। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলটি মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথমত, দেশ ও দলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। দ্বিতীয়ত, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। তৃতীয়ত, জাতীয় সংকটে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার মতো সাহসিকতা। দলটির নেতারা মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় শুধু দলীয় আনুগত্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ক্ষেত্রে দলীয় প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের কারণে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানও বিএনপিবিরোধী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য থাকলেও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নেতৃত্বের অভাব ছিল বলে বিএনপির ভেতরে মূল্যায়ন রয়েছে। অনেকের মতে, ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিণতিতে এক-এগারোর জরুরি সরকারের পথ তৈরি হয়। তবে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ভূমিকা বিএনপির কাছে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দলটির মতে, সে সময় তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি। তাই এ পদে এমন একজনকে বসানো প্রয়োজন, যিনি ব্যক্তিগত সততা, গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদার প্রতীক হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীও মনে করেন, নিছক দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সমীচীন নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেও জাতীয় সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত, যিনি কোনো দলের প্রতি অন্ধভাবে অনুগত না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যিনি প্রকৃত অর্থে দেশের অভিভাবক হতে পারবেন, তাকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত। তার মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় স্বার্থ ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি হতে হবে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি পদটি যেন কোনো দলীয় অন্ধ আনুগত্য বা কানাঘুষার কেন্দ্রবিন্দু না হয়। যিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন; জনগণ, দেশ এবং সংবিধানের প্রতি তার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে, যে কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাকে শক্ত ও অনড় অবস্থান নিতে হবে। অতীতে আমরা রাজনীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রপতি খুব কমই দেখেছি। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে, মানুষ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে সক্ষম-এমন একজন নিরপেক্ষ ও যোগ্য রাষ্ট্রপতিই প্রত্যাশা করে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। বিতর্ক এড়িয়ে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চায় বিএনপি।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আজ থেকে চুপ থাকব, সহিংস রাজনীতি চাই না: নাসীরুদ্দীন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমি আজ থেকে কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে। দেশে আর সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন এই নেতা। সভা শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চুপ থাকার কথা জানান নাসীরুদ্দীন। নিজের ‘কথা বলা’ কেন্দ্র করে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এদিন সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভেঙে যায় গাড়ির পেছনের কাচ। বিকালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দুষছেন সারজিস। বিষয়টি উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন। বলছিলেন, ‘সারজিসের গাড়িতে একটু আগে হামলা হয়েছে, ছাত্রদল হামলা করেছে এবং সেখানে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা রওনা দিচ্ছি। আমাকেও তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে। আমি কথা বলি এ জন্য। আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। মারধরে আহত হয় নেতাকর্মীরাও। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ মিছিল করতে হবিগঞ্জ যেতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে আসেন তারা। নাসীরুদ্দীন মন্তব্য করেন, ‘আমরা গতকাল অভিযোগ দিয়েছি। তবে অভিযোগে কিছু সংশোধন আসছে, কারণ একজন ব্যক্তির নাম সেখানে ছিল, যেটা ভিডিওতে ছিল না। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আজ পূর্ণ সংশোধনী চলে আসবে। আমরা আজই এফআইআরের কপি পেয়ে যাব।’ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন। হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর পরিস্থিতি তুলে ধরেন এই নেতা। ‘ইন্টারপড়ুয়া ছেলে, যে কাউকে কখনো মারতে যায়নি, তার বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী, এখন অপারেশন থিয়েটারে আছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন তার চোখটা ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা বলব প্রিয় তারেক রহমান, আলিফের চোখটা ফেরত দিন। আমরা চুপ হয়ে যাব, আর কিছু বলব না। আপনি আপনার ক্ষমতা চালান, আমরা কিছু চাই না।’ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন

ঢাবি নাটমণ্ডলে ‘শ্রাবণ বরিষণে’: কাব্যকুহুকের নান্দনিক বর্ষা উদযাপন

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬