সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার সব কিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এ ভরসাটুকু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার ওপর রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেব, একইসঙ্গে কেউ অন্যায়ের শিকার হোক- সেটাও চাইব না। রোববার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম প্রমুখ। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আরও বলেন, টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে। দুর্নীতির একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এক কেজি রড বা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার হয়নি। আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স। জেএমসি বিল্ডার বিতির্কিত ব্যবসায়ী ও হাসিনা আমলের অর্থ পাচারের অলিগার্ক এস আলমের মালিকানাধীন কোম্পানি হলেও শেয়ারের অধিকারী ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে। জেএমসি বিল্ডার্স কোম্পানিরই অন্যতম মালিক ও প্রতিনিধি হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনায় জড়িত ছিলেন তিনি। সেই শেয়ার কেনার অর্থও লুট করা হয় এস আলমের দখলকৃত ইসলামি ধারার আরেক ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে। এ ভুয়া কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ব্যাংকটি থেকে লুটপাট করা হয় বিপুল অর্থ। বিএফআইইউ’র তদন্তে এসব তথ্য ওঠে আসে এবং সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ কোম্পানির অন্যদেরও অভিযুক্ত করা হয়। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পুরো বিষয়টি তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসলামী ব্যাংক শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ী চুপ্পুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে করা মামলা দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা আদালত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি। তাদের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন ডিএমপিতে, একজন সিআইডিতে এবং আরেকজন নৌপুলিশে। আজ-কালের মধ্যেই তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরের সেই প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। সেখানে রয়েছেন তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার। নথিতে সবাইকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং নৌপুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম সম্পর্কে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন।’ জেসমিন সম্পর্কে নথিতে তাকে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। রেবেকা সুলতানার বিষয়ে নথিতে বলা হয়েছে, তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে যাচ্ছে। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় ওখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময় হয়েছে, তাই একটি চক্র এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিন সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পর তার নিজ দায়িত্বে সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে গাড়িতে উঠিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি একই গাড়ির দ্বিতীয় সিটে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন ডিএমপির অফিসারদের কাছ থেকে বাহবা পান এবং সবাই তার প্রশংসা করেন।’ ফরিদা বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন। বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী ও উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় রয়েছেন। সূত্র: টিবিএস
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (২০ জুলাই) বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের সততা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনি (আইনজীবী) যে মামলাটা হাতে নিয়েছেন সেটির প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিচারপ্রার্থী আপনাকে প্রফেশনালি মামলায় এঙ্গেজ করেছেন, তাই আপনি আপনার কর্তব্য পালনে বাধ্য। এটা আপনার লিগ্যাল, ইথিক্যাল ও মোরাল দায়িত্বও। বিচার করবেন বিচারপতিরা। আপনি (আইনজীবী) তার মামলাটা প্রপারলি কোর্টে প্রেজেন্ট করেন। হার-জিত অন্য বিষয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন। একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)। এছাড়াও বাবার স্মৃতি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মেয়ে নিলুফার জমির। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জমিরউদ্দীন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (এমপি) ও ব্যারিস্টার নওফেল জমির। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কর্তৃক শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে হাইকোর্টের বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের (এমপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। স্মৃতিচারণ শেষে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে (মুখের অবয়ব পরীক্ষা) ধরা পড়েছেন চারজন। শাহবাগ থানায় করা প্রতারণার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন, মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর গত ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে গত ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের ছবি ও তথ্য মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মেলান (ফেস ভেরিফিকেশন)। এতে মুখের অবয়বে মারাত্মক অসংগতি ধরা পড়ে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইনের অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এই বাপ্পি। সুব্রত বাইনকে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই বাপ্পি ও তার সহযোগীরা আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপরাধমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুদকের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ আয়েশা নাসরিনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক এতথ্য নিশ্চিত করেন। এ মামলায় দুদকের অভিযোগ— আসামি এস কে সুরের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের নামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার জন্য নোটিশ জারি করা হয়। তবে এই আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। Maps এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। পরের বছরের ৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। এ মামলায় ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে ৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনই সাক্ষ্য দিয়েছেন । উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের আগে প্রায় এক মাস ধরে তার আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের এই তদন্ত সংস্থার দাবি, অনুসন্ধানে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সিআইডি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "প্রায় এক মাস আগে আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাই।" সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে চারটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং একটি সিটি ব্যাংকে রয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি হিসাব ময়মনসিংহ শাখায়, একটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি শাখায় এবং একটি ঢাকার উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখায়। সিটি ব্যাংকের হিসাবটি পলাশবাড়ি শাখায়। এ ছাড়া দুটি বিকাশ, একটি নগদ এবং একটি রকেট অ্যাকাউন্টের তথ্যও পেয়েছে সিআইডি। মনিরুজ্জামান বলেন, এসব হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা। সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পলাশবাড়ি শাখার হিসাবে, প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখার হিসাবে, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়ে পুরো অর্থই উত্তোলন করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মনিরুজ্জামান বলেন, মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি হরিদাসের তিনটি ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন। "এ ছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর হরিদাস আমাদের বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ দিয়েছেন।" সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেশে ও বিদেশ থেকে হরিদাসের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। "যারা টাকা পাঠিয়েছেন, তারা অন্য কারও হয়ে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাসও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।" মনিরুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরিদাসকে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর সিআইডি নিজস্ব গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে। তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় অঙ্কের লেনদেন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আগে জানায়নি। গত রোববার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। পরে একই রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। মামলায় বলা হয়, লেনদেন হওয়া অর্থ ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার তথা হুন্ডির মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্জিত’—এমন প্রাথমিক সন্দেহ থেকে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনও চলছে। মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ লেনদেন না করে মন্দিরের নামে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে অর্থের উৎস ও ব্যয়ের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকত। সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশাল বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, এটি হবে এশিয়ার বৃহত্তম রাম বিগ্রহ। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন হরিদাস। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন। সিআইডি বলছে, হরিদাসরা চার ভাই। তার দুই ভাই ভারতে থাকেন এবং হরিদাসসহ দুই ভাই বাংলাদেশে বসবাস করেন।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ‘মুন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভুয়া নথি তৈরি করেন। পরে ওই নথি ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন করিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থ পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়। এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া পি কে হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পি কে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি ভারতে কারাবন্দী রয়েছেন।
সংবাদভিত্তিক বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশনের পরিচালক ও সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান, সাবেক হেড অব মার্কেটিং আহসানুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাসহ পাঁচজনের নামে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের কোর্ট এই পরোয়ানা জারি করেন। মামলাকে ভিন্নখাত নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন সময় টিভির সিইও জোবায়ের বাবু। তিনি সকাল থেকেই দলবল নিয়ে আদালতে অবস্থান নেন এবং নানা ধরনের হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সময় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ আয় করা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মার্কেটিং বিভাগের সাবেক প্রধান আহসানুল ইসলাম ও সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা। আর কাজে তাদের সহায়তা করেছেন সময় টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মো. হাসান। সময় টেলিভিশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান। সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আপন ভাই। অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার এক নম্বর আসামি আহসানুল ইসলামের কাছে ২০২৪ –২৫ অর্থ বছরের বিজ্ঞাপনের বিলের হিসাব চাইলে নানা টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। কিন্তু হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। আরেক আসামি মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাও জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ অনুসন্ধান করে জানতে পারে ২০২৪ সালে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা আদায় যোগ্য ছিল। এই টাকা মার্কেটিং বিভাগের দুই অভিযুক্ত মওকুফ করে দিয়েছেন। তাদের এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, মো. হাসান, শম্পা রহমান ও মোরশেদুল ইসলামের সিদ্ধান্তে এই টাকা মওকুফ করা হয়েছে। একটি বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে বিল মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও মো. হাসান, শম্পা রহমান এবং মোরশেদুল ইসলাম – কেউই উক্ত বোর্ড মিটিংয়ের কোনো নথি দেখাতে পারেননি। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সবাই কোম্পানিতে নিজেদের উচ্চ পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে সব আসামি আদালতে হাজির হতে ৭ জুলাই মঙ্গলবার সমন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা কেউ হাজির না হয়ে তাদের পক্ষে জোবায়ের বাবুকে কোর্টে পাঠান। জোবায়ের বাবু জানান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। এর আগে ৬ জুলাই সোমবার জোবায়ের বাবু আদালতে গোপনে মামলার বাদী পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানতে পেরে বিচারকের নজরে আনলে জোবায়ের বাবুর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। মঙ্গলবার আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে মো. হাসানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির সংকলিত তথ্যে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন বিচারাধীন এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাত জন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পাঁচ জন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। উভয় বিভাগেই মৃতদের মধ্যে চার জন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। বরিশাল বিভাগে দুই জন এবং রংপুর বিভাগে দুই জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রংপুরে মারা যাওয়া দুজনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি। সিলেট বিভাগে একজন বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আর ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। আসকের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে কারা হেফাজতে হওয়া মোট ৬১টি মৃত্যুর মধ্যে ৩৭ জনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি, যা মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি। আসক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য সংকলন করা হয়েছে।
দিনদুপুরে এক যুবককে ধাওয়া করছে একদল কিশোর। তাদের হাতে চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র, কয়েকজনের কোমরে ছিল ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। প্রাণভয়ে ওই যুবক ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি তিনি। কিশোর সন্ত্রাসীরা তাঁকে ধরে প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে। গত শুক্রবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তথ্য পুলিশের নথিতেও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাজিয়া মিছিল থেকে ধাওয়া করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা এখন প্রায়ই ঘটছে। জনাকীর্ণ সড়ক, বাজার কিংবা মহল্লায় সংঘটিত এসব অপরাধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন কিশোর গ্যাংয়ের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে। র্যাবের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর আগে বিগত সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সারা দেশে ২৩৭টি কিশোর গ্যাংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ১০২টি গ্যাং। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নতুন-পুরোনো মিলিয়ে সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। হালনাগাদ তালিকার ভিত্তিতে অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান নয়, সামাজিকভাবেও এদের নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজধানীতে বেশি তৎপরতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একই পাড়া-মহল্লার বখে যাওয়া কিশোর-তরুণরা দলবদ্ধ হয়ে গ্যাং তৈরি করছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও এসব দলে জড়িয়ে পড়ছে। বাহারি ও চটকদার নাম ব্যবহার করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রচার করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি। সাধারণত একটি গ্যাংয়ে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকে। তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত এবং ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে এবং ধীরে ধীরে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মোহাম্মদপুরে স্টার বন্ড, লাড়া দে, গ্রুপ টোয়েন্টি, ফিল্ম ঝিরঝির, দেখে ল, চিনে ল, লেভেল হাই ও কোপাইয়া দের মতো গ্যাংয়ের নাম পাওয়া গেছে। ধানমণ্ডিতে নাইন এমএম, একে ৪৭, ফাইভ স্টার, ইলেভেন স্টার ও সেভেন স্টারসহ একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। তেজগাঁওয়ে জুম্মন গ্যাং ও পাংকু গ্যাংয়ের নাম রয়েছে। উত্তরায় একসময় বিল বস, নাইন স্টার, পাওয়ার বয়েজ, সুজন ফাইটার, ক্যাসল বয়েজ, ভাইপার, আলতাফ জিরো, ত্রিগোল, তুফান ও নাইন এমএম গ্রুপের দাপট ছিল। বর্তমানে সেখানে নতুন আরও কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার তথ্য মিলেছে। মিরপুরে বিচ্ছু বাহিনী, রিপন গ্যাং ও সুমন গ্যাংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নামে নতুন গ্যাং গড়ে উঠছে। পুরান ঢাকায় কোবরা গ্যাং, জুম্মন গ্যাং ও বড় পোলা গ্যাংসহ আরও কয়েকটি গ্রুপের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। বাড়ছে নৃশংসতা গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় প্রকাশ্যে সিগারেট খেতে বারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে একদল কিশোর ছয়জনকে গুলি করে বলে অভিযোগ ওঠে। গুলিবিদ্ধরা সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, হামলা ও হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজে নানা ধরনের অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে। এদের দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধরাছোঁয়ার বাইরে পৃষ্ঠপোষকেরা কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের নেপথ্যে বড় ভাই ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে গ্যাং সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদাররা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। প্রতিবেদনে এসব গ্যাংয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও নেপথ্যের শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোরদের মধ্যে ‘হিরোইজমের’ চিন্তা-ভাবনা থেকেই গ্যাং কালচারের শুরু হয়। রাজধানীতে দেড় শতাধিক গ্যাং ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকেই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা বেশি ছড়িয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে তৈরি পুলিশের এক প্রতিবেদনে রাজধানীসহ সারা দেশে ১৭৩টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে ঢাকায় ছিল ৬৬টি এবং চট্টগ্রামে ৫৭টি। পুলিশের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনের বিভিন্ন থানা এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে সংঘটিত বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হালনাগাদ তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত আছে। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাদকে আসক্ত হয়ে তারা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতেও জড়িয়ে পড়ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণে যেসব সুপারিশ কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি সুষ্ঠু বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর অ্যাপ ও অনলাইন কনটেন্ট চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণের সুপারিশও করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করে কিশোর গ্যাংয়ের হটস্পট শনাক্ত, নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আনা হয়। পরে ২টা ৩০ মিনিটে ২১১ পৃষ্ঠার রায় পাঠ শুরু হয়। বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর মামলার আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান। এরপর বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পুরো রায় ঘোষণা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১১ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে আদালত তা আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দুজন সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হলে ১৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ২২ জুন ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, দুজন বিশেষজ্ঞ, একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, দুজন জব্দতালিকা সাক্ষী, একজন জেলার সাক্ষী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া আদালতে ২০টি সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বক্তব্য, বৈঠক ও নির্দেশনার মাধ্যমে হাসানুল হক ইনু আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন এবং তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে সমর্থন ও ভূমিকা রাখেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর নির্দেশনা ও ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। তবে এসব অভিযোগ প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগপত্রের অংশ, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়নের পর ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১'র চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চানখাঁরপুলের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তারা তিনজনই পলাতক। এ ছাড়া পলাতক রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি পঞ্চম মামলার রায়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা; একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা ও একইদিন বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলি। সেই গুলিতেই দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর রায়টি পিছিয়ে যায়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনও কথা বলতে পারছে না শিশুটি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ অনুমতি চান। এ মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন মৃধার জেরার নির্ধারিত দিন ছিল আজ। তবে আরও কিছু সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারেননি। এজন্য আমরা সময় চাই। কিন্তু তার আবেদনটি মঞ্জুর করেননি ট্রাইব্যুনাল। কার্যতালিকায় থাকা আরেকটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার জেরার কাজ শুরু হয়। এ সময় পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান তিনি। ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। এ পর্যায়ে পলকের আইনজীবী লিটনও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে এ সুযোগ নেই। শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন। তখন আইনজীবী লিটন বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী। তিনি আইন সম্পর্কে ভালো জানেন। এরপরও অনুমতি না মেলায় কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন লিটন আহমেদ। জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি বিজয় মিছিলে অংশ নেইনি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে আমার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি কাগজ দিয়েছিল। এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয়। সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন। প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে হ্যাঁ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব। এরপর সাক্ষী কবির বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। এ পর্যায়ে জেরার কার্যক্রম অসম্পন্ন রাখেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই যে, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত পড়েছি। এখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহায়তা করতে চাই। আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। এজন্য কিছু অধিকার দিলে মামলায় আমিও কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য সহায়তা চাই। পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। একপর্যায়ে তাকে আধাঘণ্টা সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে, ১৫ জুন সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী। দুটি মামলার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী। হাই কোর্টের বিচারপতি আতায়োর রহমান ও বিশ্বজিৎ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জামিন আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়। আদালতের এই আদেশের পর মামলার এজাহার ও শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে, যার একটি আইসিটিতে, একটি পল্টন থানার এবং আরেকটি বাড্ডা থানার। “পল্টন ও বাড্ডা থানার দুই মামলার দুই মামলায় তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তা ‘আউট অব লিস্ট’ করেছে।” জামিন না দিয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছে জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, "আদালত সরাসরি জামিন প্রত্যাখ্যান করেনি। দীর্ঘ শুনানির পর আবেদনটি আউট অব লিস্ট করে আদালত বলেছে, ‘লিবার্টি টু মুভ বিফোর অ্যানি আদার বেঞ্চ’ অর্থাৎ আসামিপক্ষ চাইলে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যেতে পারবে।" গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে অন্তত চারবার এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়েছে জানিয়ে শেখ আলী আহমেদ বলেন, "বিচারকদের যদি কোনো কারণে আদেশ দিতে সংকোচ থাকত, তবে তা আগেই বলা যেত। দীর্ঘ শুনানির পর এখন এটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।" তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ অগাস্ট পল্টন ও বাড্ডা থানার দুটি মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন নাকচ হয়। ঢাকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. ইব্রাহিম মিয়া একই দিনে দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন। অধস্তন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত বছরের নভেম্বরে তারা হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন। সে সময় হাই কোর্ট সরাসরি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি হয়, যার শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়। বাড্ডা থানার মামলার এজহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা থানাধীন উত্তর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশের প্রগতি সরণি রাস্তার ওপর আন্দোলনকারীদের দমনে আসামিরা ‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে’ হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. সুমন সিকদার (৩১)। ওই ঘটনার পর নিহতের মা মোছা. মাছুমা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত ১৭৯ জন আসামির মধ্যে তৌফিক-ই-ইলাহীর নাম ছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বনানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা বলে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ বলেন, "এজাহারে নাম না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হলেও রিমান্ড রিপোর্টে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।" পল্টন থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও মকবুল নামের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে মোট ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নাম ছিল ৪ নম্বরে। তার আইনজীবী বলেন, বাড্ডা মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর পল্টন থানার এই মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলার জামিনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শেখ আলী আহমেদ বলেন, “তার জামিন মেলেনি, অথচ একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ৪২ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। “তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগের কোনো পদে বা সাধারণ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হল না। অথচ আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী পল্টন থানার এই মামলায় অন্তত ৩৬ থেকে ৩৮ জন আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন।" তিনি বলেন, "ঘটনার তারিখ ২০২২ সালে; ২০২৬ সালের মে মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বিনা বিচারে এ বয়সের একটা মানুষকে প্রায় দুই বছর ধরে জেলে থাকতে হচ্ছে।” তৌফিক-ই-ইলাহীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার আইনজীবী বলেন, “উনি ৮৪ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি করা একজন প্রাক্তন সিএসপি অফিসার, যিনি মুজিবনগর সরকারের মেহেরপুরের এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।" শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, তার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘খুব দ্রুতই’ অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদন করে শুনানি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আদালতে মামলার জট হ্রাস ও বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসসকে বলেন, হাইকোর্টে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির গৃহীত এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, এটি অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে মামলা জট নিরসনে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সুপ্রিম কোর্টের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে আমি প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করে মামলা জট নিরসনে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকা দিয়েছি। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনা অনুসারে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ৭ মে থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ২৪৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৭৬৫ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৩ হাজার ৮৪২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ২৬২ টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত ১১ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মোট ৬ হাজার ১৯৯ টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া গত ১৮ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে ১ হাজার ৮৮৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চার কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে মোট ২০ হাজার ৭৪০ টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)–এর সহযোগী ও সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিত অধিকারী তির্থকে দুই ধারায় মোট ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান দোলন। রায়ের আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬(২) ধারায় অভিজিত অধিকারী তির্থকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ২৭(১) ধারায় আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে জানান, মামলার শুরু থেকেই আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিজিত অধিকারীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র্যাব সদস্যের হত্যা মামলায় আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১৮ জুন সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ জুন পৃথক অভিযানে মামলার আরেক আসামি মো. ইমরানকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানোর সময় র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় র্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব নিহত হন এবং আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম (৪) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাসসুম। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে সে। ঘটনার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। গত ১৬ জুন এই মামলায় শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় এবং আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফি উদ্দিনের ছেলে। তিনি একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশু তাবাসসুমের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহত তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন টেইলার্স কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতেও যেন আসামির এই দণ্ড বহাল থাকে, সেটাই এখন প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।