নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এদিকে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে এক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনও চেম্বার জজ আদালতে স্থগিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আইভীর জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৯ মার্চ এবং বদির বিষয়ে শুনানির জন্য ২০ এপ্রিল দিন ঠিক করে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। এর আগে, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি আইভীকে জামিন দেয়। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। সেগুলো হলো ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি বদিকে জামিন দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কক্সবাজারের টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহিন আলমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন, তবে আদালত পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি মো. মাকসুদুর রহমান রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে বলেন, এটা নৃশংস পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি। শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, হত্যাকাণ্ড নৃশংস ও পরিকল্পিত। আসামি ও ভিকটিম রুমমেট ছিলেন। হত্যার সময় ভিকটিম কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন আসামি ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কোপ দেন। তিনি জানান, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি বাসায় চাপাতি রেখে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেছেন। পরে ভিকটিমের শরীর বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। শাহরিন হোসেন আরও জানান, ভিকটিমের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে দুই অংশ এখনো নিখোঁজ। বাকি অংশ উদ্ধার এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা বের করতে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আদালতে আসামিকে হত্যার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “মারার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, আমি সাধারণ মানুষ।” এছাড়া ভিকটিমের সঙ্গে মনোমালিন্য ও টাকা বিষয়ক ঝগড়া থাকলেও, হত্যার নৃশংসতা স্বীকার করেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ঢাকার মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি চিলেকোঠায় দুই রুমের মেসে শাহিন আলমসহ ভাড়া থাকতেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ওবায়দুল্লাহর ছোট ভাই জলিলের সঙ্গে তার ফোনালাপের পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পল্টন থানাধীন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি বিচ্ছিন্ন পা, বায়তুল মোকারম মসজিদের পূর্ব গেটের পাশে দুটি হাত এবং শাহজাহানপুর থানাধীন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে আরেকটি বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ভাড়া মেস থেকে রক্তমাখা চাপাতি ও বাইসাইকেল উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং লাশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার কথা জানান। ভুক্তভোগীর বাবা মো. ওবায়দুল্লাহর হামিদ মিঞা রোববার (১ মার্চ) মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রোজা ফারসি শব্দ। আরবি ভাষায় শব্দটিকে ‘সাওম’ বলা হয়। সাওম শব্দের বহুবচন ‘সিয়াম’। আরবি সাওম শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা, পানাহার পরিহার, উপবাস থাকা ইত্যাদি। আমাদের দেশে রোজা শব্দটি বহুল প্রচলিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রচারিত পবিত্র ইসলাম ধর্ম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে রোজা মূল স্তম্ভের অন্যতম। আল্লাহ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর ও নারীর জন্য রোজা পালন ফরজ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা মোত্তাকি হতে পারো’ (সুরা আল বাকারা-১৮৩)। সব নবী-রসুলের যুগে রোজার বিধান প্রচলন ছিল। রসুল (সা.) বলেন, ‘হজরত নুহ (আ.) ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছর সিয়াম পালন করতেন’ (ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১২৩)। হাদিসে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি হজরত দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন কর, যা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং পরের দিন বাদ দিতেন’ (মুসলিম শরিফ প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৭)। অতি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন নবীর আমলে মুমিন বান্দাদের অন্তরের কলুষতা দূর করার জন্য রোজার বিধান চালু ছিল। ইসলাম ধর্মে অনুসারীদের জন্য আল্লাহ রমজানের রোজা এক মাস ফরজ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে এ (রমজান) মাস পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে’ (সুরা আল বাকারা-১৮৫)। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও কামাচার হতে বিরত থাকাকে রোজা বলে। রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ লোভলালসা, হিংসাবিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কাম-মানসিকতা পরিহারের মাধ্যমে আত্মিক দোষত্রুটি সংশোধন করে পরিশুদ্ধ হতে পারে। রোজা একজন ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢালস্বরূপ। রসুল (সা.)-এর ফরমান, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ’ (বোখারি প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৪)। রোজা আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। রোজা পালনের মাধ্যমে যারা আত্মশুদ্ধি লাভ করে, আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন, তারাই সফলতা অর্জন করে থাকে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব’ (আর প্রতিদান হলো মহান আল্লাহ নিজেই) (বোখারি প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৪)। রোজা মানুষের আমিত্বকে দূর করে আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়। রোজার মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়ার অর্থ হলো নিজের মাঝে আল্লাহর চরিত্র বিকশিত হওয়া। অন্তরের পাপকালিমা বিদূরিত করে হৃদয় মাঝে বিরাজমান আল্লাহর সুপ্ত নুর বিকশিত করার লক্ষ্যে শুদ্ধভাবে রোজা পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ রোজার মাধ্যমে বান্দাকে পরিশুদ্ধ করতে চান এবং পুরস্কার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা রোজা রাখো; তবে তা হবে তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর; যদি তোমরা তা বুঝতে’ (সুরা আল বাকারা-১৮৪)। আল্লাহর রসুল (সা.) রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল ১০ থেকে ৭০০’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এরপর আল্লাহ যতদূর ইচ্ছা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তার সিয়াম, তা আমার জন্য; আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সে প্রবৃত্তি এবং পানাহার আমার জন্যই বর্জন করে।’ সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং অন্য আনন্দটি হচ্ছে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। সিয়াম পালনকারীর মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিশকের ঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিময় (সুনানু ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১১৮)। রসুল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতের একটি দরজার নাম “রায়্যান”। কিয়ামতের দিন সেখান থেকে এ বলে আহ্বান করা হবে; সাওম পালনকারীগণ কোথায়? যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী হবে, সে ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যে ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না’ (সুনানু ইবনে মাজাহ্, পৃষ্ঠা ১১৮)। রোজার সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে, ফলে তার মধ্যে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। রোজা পালনকারী ব্যক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে এবং হানাহানি থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। এ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একে অন্যকে সাহরি ও ইফতার করিয়ে থাকে এবং অভাবীকে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এভাবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানও রোজা রাখার উপকারিতা স্বীকার করে নিয়েছে। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা-তিনি যেন দয়া করে আমাদের হাকিকতে রোজা পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ দিন ধার্য করেন। এদিন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।এ জন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তী সময়ে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন— প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।
বেকারিতে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য রাখা হয়েছে ডালডা। সেই ডালডার ভিতরে মরে ভাসছিল ইঁদুর। এ ডালডা দিয়েই তৈরি হচ্ছিল নানান রকমের মুখরোচক খাবার। চুয়াডাঙ্গা শহরতলির বঙ্গজপাড়ায় ‘মৌসুমি ফুড’-এর কারখানায় অভিযান চালালে এ চিত্র দেখতে পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শহরের রেলবাজার এলাকার ‘অনন্যা ফুড’-এ জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, যা বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভেজাল পণ্যে সয়লাব বাজার। ইফতারে বাহারি শরবত, রকমারি খাবারে ফুড গ্রেডের নামে ব্যবহার করা হচ্ছে কারখানায় ব্যবহৃত রং। দীর্ঘদিনের পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে বেগুনি, পিঁয়াজু, চাপ। এসব রাসায়নিক উপাদানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্ত করি। সম্প্রতি কেওড়া জল, গোলাপজল পরীক্ষা করে অননুমোদিত রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এসব ক্ষতিকর পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে ব্যবসায়ীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক উপাদান, রঙে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের বেশ কিছু সংকট আছে। প্রতি জেলায় মাত্র একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ল্যাবরেটরি না থাকায় বাইরে থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়। এসব ল্যাবরেটরির সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এর সমাধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনায় ল্যাব স্থাপন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সে আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে ১ লাখ ২৫ হাজার। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর দেশে ৩ লাখ লোক ক্যানসারে, ২ লাখ কিডনি রোগে, দেড় লাখ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভবতী মা ১৫ লাখ বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেন। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভার ও ফুসফুস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও দিনদিন বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালে দিনাজপুরে কীটনাশক-মিশ্রিত লিচুর বিষক্রিয়ায় আট এবং ২০১২ সালে ১৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের অধ্যাপক স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে থেকে কেনা খাবারে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানো হয়। শরীরের জন্য ক্ষতিকর রং, প্রিজারভেটিভ, ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। মুখরোচক করার জন্য অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে। লিভারের সমস্যার পাশাপাশি কিডনির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এসব খাবার। অনেক উপাদান দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে এবং দুরারোগ্য রোগ জন্ম দেয়। তাই এসব খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানানো খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।’ ব্যবসায়ীদেরও খাবারে ভেজাল দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজাল দেওয়া এবং ভেজাল খাদ্য বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ১৪ বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে এ আইনে। জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ২০১৮ সালে সারা দেশে ৪৩টি ভোগ্যপণ্যের (খাদ্যদ্রব্য) ৫ হাজার ৩৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর এই ৪৩ পণ্যেই ভেজাল পাওয়া গেছে। বর্তমানে বাজারে খাদ্যসামগ্রীর মানের অবস্থা একই। এ ব্যাপারে শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘ভেজাল খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধে রোগব্যাধি। ক্ষতিকর রং, বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান, পোড়া তেল খাওয়ার ফলে পেটে সমস্যা হয়। ধীরে ধীরে আলসার হয়, একটা সময় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব খাবার খেলে হার্ট, কিডনি সমস্যা এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হয়। গর্ভবতী নারীর জন্য এসব ভেজাল খাবারের ক্ষতি কয়েক গুণ বেশি। গর্ভের শিশু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেজাল খাবারে। এটা প্রাণিকুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে রমনা মডেল থানার মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন। এদিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে কোন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।এজন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলে নতুন দিন ধার্য করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এর আগে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হয়।
চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই রোধের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদাবাজি ও গণছিনতাইয়ের প্রতিকার চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন। এ ঘটনায় রাত ১টার দিকেও ব্যবসায়ী ও জনতার থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় নানা স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। এদিকে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভের বিষয়ে শনিবার রাত ১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। অপরাধী যে হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মামলায় শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বরাবর এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। তার সেই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি হবে। এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ মোট আসামি সাতজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তবে এই মামলার সব আসামি পলাতক। এদিকে, এ মামলায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক। তবে শেষ না হওয়ায় তার অবশিষ্ট জবানবন্দি আজ (বুধবার) গ্রহণ করার কথা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে দুজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমনপীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ ডট শপের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী গাজী হাসান মাহমুদ বলেন, আদালতে মামলাটি দায়ের করলে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি হয় ৷ পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হয়। তবে আসামি আমানুল্লাহ আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেও অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ করেন। অন্য আসামিরা হলেন, সোনিয়ার স্বামী ই-অরেঞ্জ ডটশপের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমন, পৃষ্ঠপোষক শেখ সোহেল রানা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমানুল্লাহ চৌধুরী এবং পরিচালক জায়েদুল ফিরোজ ও নাজনিন নাহার বিথী। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর রাজধানীর পুরানো পল্টনের গাজী ফিরোজ কায়ছার বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ই-অরেঞ্জ শপের কর্মকর্তারা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলোভিত করেন। ওই প্রলোভনের শিকার হয়ে বাদী ২০২১ সালের ২৩ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপ করার জন্য মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আসামিদের প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও তারা আর পূর্ণ সরবরাহ করেননি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও আসামিরা পণ্য সরবরাহ না করায় ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর ই-অরেঞ্জের অফিসে গেলে টাকা না দিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এগারো বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের মধ্যে সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন, তার স্ত্রী বীথিকে সাত দিন, গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকে পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন, অন্যদিকে ভুক্তভোগীর পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। আদালত শুনানি শেষে চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা ও পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে শিশুটিকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি কোথায় রাখা হয়েছে, তা তারা জানেন। শিশুর শরীরে থাকা ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অন্য ধরনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। মামলার বাদী ওই শিশুর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। তিনি অভিযোগ করেন, আসামি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথির বাসায় তার মেয়ে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি শিশুকে অসুস্থ দেখানোর অজুহাতে পরে মারাত্মক জখম অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাফিকুর রহমানকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার করা অপর আসামিরা হলেন বাসার অন্য দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
আওয়ামী শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আজ শুনানির শুরুতেই মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) দেবেন প্রসিকিউশন। এরপর এক নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে মূল সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ারও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের। ওই দিন রাতে গাজীপুরের পুবাইলে তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। এ সময় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার দায় আনা হয়েছে তার ওপর। তৃতীয় অভিযোগটিও একই ধরনের, যেখানে আরও ৫০ জনকে হত্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদরাসায় এক ছাত্রীকে (৫) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার মো.রুহুল আমিন (২৩) সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের হাজেরার বাপের বাড়ির মো. আবুল কালামের ছেলে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে আসামিকে উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে, গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের একটি মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ক্লাস চলাকালীন মধ্যবর্তী বিরতির সময় মাঠে খেলছিল। ওই সময় মাদরাসার শিক্ষক মো. রুহুল আমিন তাকে মাদরাসার অফিস রুমের পশ্চিম পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর ভিকটিম বাড়িতে ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তিনি সুধারাম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। দায়ের হওয়া মামলায় আসামিকে আজ বুধবার সকালে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাজধানীর মুগদা এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে পণ্যবাহী পিকআপ থামিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যানের কেটে ফেলা সম্পূর্ণ অংশ এবং লুট হওয়া অ্যালুমিনিয়ামের মালামাল উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মুগদা থানা পুলিশের একটি দল যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ও ডেমরা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি জামালপুরের ব্যবসায়ী মো. মুন্না মিয়া (৪০) ঢাকা থেকে ১০ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামের মালামাল (সার্কেল, পাতিল ও কেতলি) কিনে একটি মিনি পিকআপে (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-৯২৫৮) করে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মুগদা থানাধীন টিটিপাড়া এনএস সিএনজি পাম্পের সামনে পৌঁছালে একটি কালো রঙের হাই-এস গাড়ি তাদের গতিরোধ করে। ওই গাড়ি থেকে ৮-১০ জন ব্যক্তি নেমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। চালক আল আমিন (২৬) কাগজপত্র দেখালে তাকে এবং ব্যবসায়ী মুন্না মিয়াকে জোরপূর্বক নামিয়ে ডাকাতদের গাড়িতে তুলে চোখ-হাত বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে ফেলে দিয়ে পণ্যবোঝাই পিকআপ নিয়ে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুন্না মিয়া বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি মুগদা থানায় একটি ডাকাতি মামলা (মামলা নম্বর-০৬) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিরস্ত্র) মো. সাখাওয়াত হোসেন। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের দলটি যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকার ‘নজরুল বডি বিল্ডার্স’ নামক গ্যারেজে অভিযান চালায়। সেখানে ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. রাব্বি (২৩), মো. রুমান (২৭), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) ও মো. পলাশ ওরফে হাসানকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয় এবং পিকআপের খণ্ডিত অংশ জব্দ করা হয়। পরবর্তিতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরার বড়ভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কাদির (৫০) ও মো. হাসান আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুনরায় মাতুয়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৩টি বড় অ্যালুমিনিয়ামের ডেক-পাতিল, একটি কলস ও একটি জগ উদ্ধারসহ ডাকাত দলের আরো তিন সদস্য মো. আব্দুল হালিম (৩০), মো. মামুনুর রশিদ (৪২) ও মো. নয়ন বেপারীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকত দলের সক্রিয় সদস্য। দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে কালো রঙের হাই-এস গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ৫ ফেব্রুয়ারি। চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার ১৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন আটজন। তাঁরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার। ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ এনে গত বছরের ১৯ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন একজন। মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডাল ভ্যানে তোলা হয়। পরে ভ্যানটি থেকে তোলা হয় পুলিশের একটি গাড়িতে। এক পর্যায়ে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। গত বছরের ২১ আগস্ট মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন’ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেয়। পরে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। গত ২০ জানুয়ারি এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) হ্যাক হওয়ার ঘটনার সঙ্গে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয় ও কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিয়েই গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণও আমাদের হাতে রয়েছে। ডিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইন্স অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়। প্রসঙ্গত, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায়। পরে জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি (সাবেক টুইটার) হ্যাকডের ঘটনায় যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল আইডি হ্যাকডের বিষয়ে গ্রেপ্তার ছরওয়ারে আলমের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ডিএমপি। তার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ আরও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অনুমতি নিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা সরঞ্জামগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মোবাইল ডিভাইসও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এদিকে জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০২৬ এর সদস্য ও ক্যাম্পেইন ডিভিশনের সমন্বয়ক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মধ্যরাতে অভিযান শুরু করেছে। রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে এই অভিযান চলছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক উর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাককারীকে ধরতে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে অভিযান চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এর আগে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৪টার দিকে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এই জিডি করেন। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, বিকেল ৪টার দিকে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয় এবং সাড়ে ৪টার দিকে হ্যাকড অ্যাকাউন্ট থেকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতের সাইবার টিম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে কাজ শুরু করে। বিকেল ৫টার সময় অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, হ্যাকড অবস্থায় দেওয়া পোস্টটি নারীদের অবমাননাকর ছিল, যা আমিরের চিন্তা-চেতনা ও পূর্বের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা। জামায়াতের পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করতে এবং শুধুমাত্র অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করতে।
সাভারের রাজাশন–আকরাইন সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি চলাকালে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজাশন–আকরাইন আঞ্চলিক সড়কের কালিয়াকৈর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে কয়েকজন ডাকাত জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাভার পৌর এলাকার রাজাশন গ্যারেজ মহল্লার তোফাজ্জলের ছেলে সানি মিয়া (৩৫), বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে রাসেদ মিয়া (৩২), একই এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা (৩১), আবুল হাসেমের ছেলে রিপন মিয়া (৩৩), সামাইর এলাকার চান মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (৩১), তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সোহাবান মিয়া (২৩), একই এলাকার আবু মিয়ার ছেলে নুর নবী (২৭) ও উত্তর মেটকা এলাকার হাছেনের ছেলে ইমন মিয়া (২৫)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে দুইটি রামদা, একটি ধারালো ছুরি ও তিনটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন বলেন, ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করছিল। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি ভোরে একই সড়কের কালিয়াকৈর এলাকায় গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজন ডাকাত একটি প্রাইভেটকার থামানোর চেষ্টা করলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত চলে যান। এ সময় ডাকাতদের হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় ২১ হাজার ৮৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ পরিচালনা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৮৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে ৪৫৩টি। এছাড়া, ২৭৭০ রাউন্ড গুলি, ৭৮৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৩৭টি ককটেল ও ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী ও পল্লি চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাসকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ধানুকা মনসা বাড়ি মন্দিরের সামনে এ মানববন্ধন হয়। এতে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষ খোকন চন্দ্র দাসের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত। তারা দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এদিকে খোকন দাসের ওপর হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে আলোচিত এ হামলার ঘটনার দুদিন পেরিয়ে তৃতীয় দিন গতকালও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের আটকে তৎপরতা চলছে বলে ভাষ্য ডামুড্যা থানার ওসি রবিউল হকের। বাদী হয়ে বাবার মামলা, তৃতীয় দিনেও অধরা দুর্বৃত্তরা ‘আমরা থানা পুড়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’, বৈষম্যবিরোধী নেতার হুমকি ডামুড্যার কেউরভাঙ্গা বাজারের ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিলই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনজন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। শুক্রবার মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নৃশংস হামলাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অমিত ঘটক চৌধুরী বলেন, খোকন চন্দ্র দাসের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আহত খোকন দাসকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন এবং তার চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সমীর কিশোর দে, জেলা শাখার উপদেষ্টা অরুণ সাহা, সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দত্ত, যুব ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি নিলয় ভট্টাচার্যসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মামলায় আসামি তিন : খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ডামুড্যা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আহত খোকন চন্দ্র দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা ও পলাশ সরদার। অভিযুক্ত তিনজনই ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ বিশেষ অভিযানে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ ছাড়া পুলিশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে ৩৬ হাজার ৭২১টি মোটরসাইকেল ও ৪৮ হাজার ৩৮৪টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় ২৭১টি অবৈধ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।