আন্তর্জাতিক

মাত্র ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন, চীনের বিস্ময়কর কীর্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী দলের অংশ হিসেবে ইলন মাস্ক চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) চীনের চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। মেঝের আয়তনের দিক থেকে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন।

 

গণপরিবহন নিয়ে অতীতে বহুবার সংশয় প্রকাশ করা ইলন মাস্ক কেন এই ভিডিও শেয়ার করলেন— তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এর চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে স্টেশনটির নির্মাণকাহিনী। কারণ, মানুষ ও রোবটের সমন্বয়ে মাত্র ৩৮ মাসে এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করে নতুন নজির গড়েছে চীন।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের অভ্যন্তরে অবস্থিত চংকিং শহরটি জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক পরিসরের দিক থেকে দেশটির বৃহত্তম শহরগুলোর একটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দ্রুত বাড়তে থাকা যোগাযোগ চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যমান উত্তর স্টেশনের ওপর চাপ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন।

এটি কেবল একটি রেলস্টেশন নয়, বরং বিশাল বহুমুখী ট্রানজিট কমপ্লেক্স। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মানুষের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে কয়েক দশক সময় নেয়, সেখানে চীন ১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই বিশাল স্টেশন নির্মাণ করেছে মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে।

১ দশমিক ২২ মিলিয়ন বর্গমিটার আয়তনের এই স্টেশনে রয়েছে ১৫টি প্ল্যাটফর্ম ও ২৯টি ট্র্যাক, যা তিনটি পৃথক রেল ইয়ার্ডে বিভক্ত। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এর। ৮ তলা বিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সে হাই-স্পিড রেল, সাধারণ রেল, মনোরেল, বাস ও ট্যাক্সি— সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বিত সুবিধা রাখা হয়েছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৮ মাসে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মূলত এক ‘রোবট বিপ্লব’-এর কারণে।

৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত এই নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক রোবট প্রযুক্তি। লেজার-গাইডেড ফোর-হুইল স্ক্রিড রোবট— যাতে ছিল লাইডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি— মানুষের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত এবং মিলিমিটার-নির্ভুলভাবে কংক্রিট লেভেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে শ্রম ব্যয় কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এ ছাড়া ৮০০ কেজি ওজনের কাঁচের প্যানেল বসানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ গ্লাস ইনস্টলেশন রোবট। এগুলো সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন গুণ দ্রুত কাজ করেছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। নির্মাণকাজে আরও যুক্ত ছিল অমনিডাইরেকশনাল ওয়েল্ডিং রোবট ও ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া পাহারাদার রোবট।

চায়না রেলওয়ে ব্যুরোর কর্মকর্তাদের দাবি, রোবোটিক্স ব্যবহারের ফলে শ্রম ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, কাজের গতি বেড়েছে তিন গুণ এবং নিরাপত্তাজনিত দুর্ঘটনা কমেছে ৯০ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চংকিং ইস্ট রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি আধুনিক রেলস্টেশন নয়; এটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য গতি প্রদর্শনের প্রতীক। আর সম্ভবত এই কারণেই বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ভিডিওটি শেয়ার না করে থাকতে পারেননি।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও সিনহুয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
নেপালে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, ৩ সাংবাদিক আটক

নেপালে সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস খুঁজে বের করার কথা বলে কয়েকটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকদের আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের আটকের কারণ স্পষ্ট করেনি পুলিশ।   এ ঘটনায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ। সমালোচকদের মধ্যে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিও (আরএসপি) রয়েছে। সমালোচকদের মতে, কোনো সংবাদ প্রকাশ নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা পুলিশের হস্তক্ষেপে নয়, নেপাল প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ‘নেপাল প্রেস’-এর বিশ্বমণি সুবেদি, ‘মোটিভ নিউজ’-এর সম্পাদক শোভরাজ বারাল এবং ‘ডিএনএ খবর’-এর প্রধান সম্পাদক ধীরাজ বাসনেতকে আটক করে।   এ ছাড়া ‘নয়া পত্রিকা ডেইলি’র কার্যালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে সাংবাদিক নবরাজ মাইনালিকে আটক করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে রাত আটটার দিকে তারা সেখান থেকে চলে যায়। একই দিন পুলিশের আরেকটি দল আনামনগরে ‘দিয়ো পোস্ট’-এর কার্যালয়েও যায়। তবে প্রধান সম্পাদক সুদীপ বিশ্বকর্মাকে না পেয়ে ফিরে আসে।     সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ফেডারেশন অব নেপালি জার্নালিস্টস। সংগঠনটির সভাপতি নির্মলা শর্মা বলেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করতে পুলিশকে ব্যবহার করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।     তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে দায় এড়াতে পারে না। এর পেছনে সরকারের হাত না থাকলেও গণমাধ্যমের কাজে এই হস্তক্ষেপের জন্য কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।শুধু একটি বিবৃতি দিয়ে সরকার দায় এড়াতে পারে না।’     নির্মলা শর্মা বলেন, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের প্রবেশ ২০০৫ সালে রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের ক্ষমতা দখলের সময়কার স্বৈরাচারী শাসনের কথা মনে করিয়ে দেয়।     ফেডারেশন অব নেপালি জার্নালিস্টসের সাবেক সভাপতি শিব গাওনলেও পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তিনি ‘কান্তিপুর’ পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশ যেভাবে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে ঢুকে সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে, তা আমাদের জ্ঞানেন্দ্র শাহের শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়।’     তার মতে, সাংবাদিকদের তথ্যের উৎস জানার জন্য আটক করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার লড়াই শুরুর আগেই আমাদের সংবিধান রক্ষার জন্য লড়তে হচ্ছে।’   যে প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের একটি দল প্রথমে নতুন বানেশ্বরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘নেপাল প্রেস’-এর কার্যালয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমটির প্রধান সম্পাদক মাত্রিকা পাউডেল জানান, সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে বিশ্বমণি সুবেদির কাছে গিয়ে বলেন, তারা তাঁর এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। সুবেদি কার্যালয়ের বাইরে এলে কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। তখন অন্য সাংবাদিকেরা বুঝতে পারেন, তাকে আটক করা হচ্ছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা ‘কান্তিপুর’ পত্রিকাকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা তিনজনকে ডেকেছিলাম।’     সুবেদি যে সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন, সেই ‘নেপাল প্রেস’ গত ২৮ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সচিবালয় নেপাল পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দান বাহাদুর কার্কিকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি পদত্যাগে রাজি না হলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কার্কির সঙ্গে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা ইনাম সাপকোটার যোগাযোগকে এ চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।     কার্কির নেতৃত্ব নিয়ে সরকারের অসন্তোষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে কাঠমান্ডুতে কর্মরত জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ও ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করা বা বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।       এদিকে ‘নয়া পত্রিকা’ ইনাম সাপকোটা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হরি ফুয়ালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, সাপকোটা একটি রিট আবেদন খারিজ করার জন্য বিচারপতিকে অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ অনুরোধ করেছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যাংকিং অপরাধে অভিযুক্ত রোহিত গুপ্তের পক্ষে করা অবৈধ আটকসংক্রান্ত রিটের শুনানির আগে সাপকোটা বিচারপতিকে লেখেন, ‘স্যার, দয়া করে এটি খারিজ করে দিন।’ পরে বিচারপতি ফুয়াল তার সঙ্গে হোটেল হিমালয়ে দেখা করার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে ‘দিয়ো পোস্ট’ একটি নথি প্রকাশ করে, যেখানে প্রধান বিচারপতি মনোজ কুমার শর্মা ও ক্ষমতাসীন আরএসপির আইনপ্রণেতা বিশ্বরাজ পোখারেলের নাম রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাপকোটার ফোন থেকে উদ্ধার করা ওই নথিতে আর্থিক লেনদেনের হিসাব ছিল। এতে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সিলও ছিল। তবে নথি প্রকাশের পর শর্মা ও পোখারেল পৃথক বিবৃতিতে সাপকোটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। ‘মোটিভ নিউজ’ও কার্কি ও সাপকোটাকে নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পুলিশের পদক্ষেপের নিন্দা ক্ষমতাসীন দলের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আরএসপি। দলটির মুখপাত্র জগদীশ খারেল বলেন, ‘যে অজুহাতেই হোক, গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো, মানসিক চাপে রাখা বা তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।’     দলটি আরো বলেছে, পুলিশকে ব্যবহার করে স্বাধীন গণমাধ্যমকে আতঙ্কিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বা তার কার্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানোও হয়নি।       প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর দীপা দাহাল বলেন, ঘটনা জানার পর প্রধানমন্ত্রী আটক সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে প্রবেশ না করতে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।     প্রেস কাউন্সিলের উদ্বেগ নেপাল প্রেস কাউন্সিলও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাউন্সিল জানায়, সাংবাদিকদের আটকের কারণ স্পষ্ট করা হয়নি, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়নি এবং আদালতের অনুমোদনের বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।     কাউন্সিলের সভাপতি উমেশ শ্রেষ্ঠা ‘কান্তিপুর’ পত্রিকাকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের বিবৃতিতে সংবাদ প্রতিবেদন ও মন্তব্যের বিষয়ে তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর পরদিনই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রেস কাউন্সিল আইন’ অনুযায়ী, প্রকাশিত সংবাদ বা সাংবাদিকদের পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব প্রেস কাউন্সিলের। তাই পুলিশের এ ধরনের আচরণ অনুচিত।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদির আকাশসীমায় ফের ড্রোন হামলা, প্রতিহতের দাবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের সফর বাতিল ও পুনর্বহাল ঘিরে নাটকীয়তা

হরমুজে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায় আরও ভয়ংকর হতে পারে: মিসর

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হলে পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদেলাত্তি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার সংঘাত আরও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হবে এবং এর মাধ্যমে কোনো সমাধান আসবে না। অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’ মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, সংঘাতের পুনরাবৃত্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সামরিক শক্তি দিয়ে ইরান যুদ্ধের সমাধান হবে না: জার্মান চ্যান্সেলর

রিয়াদ অঞ্চলে ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের

উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের

আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে তদন্ত জোরদার করেছে মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর নামের সঙ্গে মিল রেখে একই নামের এক ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগ তদন্তে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার।    তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। এদিকে, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল খারাপ ফল করতে পারে— এমন ধারণার মধ্যে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।   শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি মাইকেল হেইম্যান বলেন, ‘প্রতিটি আলাস্কাবাসীরই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা তা পাবেন।’   তিনি আরও বলেন, ‘আপনার দেওয়া ভোট যেন আপনার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী গণনা করা হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আমার এক পাশে রয়েছে আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্স ও অন্য পাশে এফবিআই।’   হেইম্যান জানান, এ ঘটনায় একই সঙ্গে ফৌজদারি ও দেওয়ানি— দুই ধরনের তদন্ত চলছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগের পর তদন্তে নতুন গতি আসে।    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী মেরি পেল্টোলার সহযোগীরা গোপনে কয়েকজন বিকল্প প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে ড্যান সুলিভান নামের একজনও রয়েছেন, যার নাম রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে মিলে যায়।   হেইম্যান বলেন, ‘নতুন এই তথ্যের কারণে আলাস্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আমার দপ্তরের কয়েকজন আইনজীবীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’   এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল সাধারণত আইনত বৈধ। আলাস্কায় অতীতেও ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় দলই এ কৌশল ব্যবহার করেছে।   জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়া, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির কারণে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।    এর ফলে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতছাড়া হতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আলাস্কার নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি তদন্তে মার্কিন সরকার দাবি করছে, ভোটার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন— এমন দশ হাজার ব্যক্তির নাম রয়েছে।   তবে বিভিন্ন গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।    এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে না বলেও গবেষণাগুলোতে উঠে এসেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩১, ২০২৬

ইউক্রেনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিং, ৬৩০ কোটি ডলার চুরি

নেসেটে প্রথম দিনই স্পিকার ওহানাকে হাটাতে একমত নেতানিয়াহু বিরোধীরা

0 Comments