ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার থেকে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার বিকেলে ৩ থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে আসন রয়েছে ৪৪৯৮টি। ২৩ হাজার ৩৬৫ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। প্রতি আসনে লড়বেন ৫ জন পরীক্ষার্থী।
যেসব নির্দেশনা মানতে হবে
পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত ৭ কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর প্রয়োজন।
তবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় পেতে হলে নির্ধারিত বিষয়ে অন্তত ৫ নম্বর পেতে হবে। ব্যবসা শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা দুই শিফটে ১৭ জুলাই হবে। এ দিন সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিজ্ঞান ইউনিটের আর বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আসন বিন্যাস ১৪ জুলাই থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
আবেদনের মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটে মোট পড়েছে ৩১ হাজার ৫৫৩টি যা মোট আবেদনের ৪৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় মোট আবেদনের ১১ হাজার ২৪৪টি যা মোট আবেদনের ১৭শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান, কলা ও সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা এই তিন ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগে ৪ বছর মেয়াদি প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
ভর্তিচ্ছুরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.dcu.ac.bd) থেকে সব তথ্য জানতে পারবে। মোট আসন ১১ হাজার ২৯০টি। এর মধ্যে কলাও সমাজ বিজ্ঞানে ৪৪৯৮ টি, বিজ্ঞানে ৪৭৯৫ টি, ব্যবসায় ১৯৯৭ টি আসন রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার থেকে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার বিকেলে ৩ থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে আসন রয়েছে ৪৪৯৮টি। ২৩ হাজার ৩৬৫ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। প্রতি আসনে লড়বেন ৫ জন পরীক্ষার্থী। যেসব নির্দেশনা মানতে হবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত ৭ কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর প্রয়োজন। তবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় পেতে হলে নির্ধারিত বিষয়ে অন্তত ৫ নম্বর পেতে হবে। ব্যবসা শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা দুই শিফটে ১৭ জুলাই হবে। এ দিন সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিজ্ঞান ইউনিটের আর বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আসন বিন্যাস ১৪ জুলাই থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আবেদনের মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটে মোট পড়েছে ৩১ হাজার ৫৫৩টি যা মোট আবেদনের ৪৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় মোট আবেদনের ১১ হাজার ২৪৪টি যা মোট আবেদনের ১৭শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান, কলা ও সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা এই তিন ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগে ৪ বছর মেয়াদি প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ভর্তিচ্ছুরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.dcu.ac.bd) থেকে সব তথ্য জানতে পারবে। মোট আসন ১১ হাজার ২৯০টি। এর মধ্যে কলাও সমাজ বিজ্ঞানে ৪৪৯৮ টি, বিজ্ঞানে ৪৭৯৫ টি, ব্যবসায় ১৯৯৭ টি আসন রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত বিভিন্ন প্রোগ্রামের ১০ ও ১১ জুলাইয়ের (শুক্রবার ও শনিবার) অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে এমএ ও এমএসএস (প্রিলিমিনারি) প্রোগ্রামের টার্ম-২৪২-এর দ্বিতীয় সেমিস্টার, বিএজিএড প্রোগ্রামের ২৫২ টার্মের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টার, এমপিএইচ পরীক্ষার ২৫২ টার্মের প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার, মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) পরীক্ষা-২০২৫ (২৫২ টার্ম)-এর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং বিবিএ পরীক্ষা-২৪১ টার্মের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম লেভেল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তী হালনাগাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১২৮ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ১৮ জনের ছুটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কয়েকজন ছুটির জন্য আবেদন করেছেন। আর কয়েকজন এখনো ছুটি বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করেননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া এই ১৮ জন শিক্ষকের ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় এসে পৌঁছেনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসে আরও ৪৪ জন শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হবে। ছুটিতে থাকা ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ১১১ জন পিএইচডি, ৭ জন পোস্টডক্টরাল, ৬ জন মাস্টার্স, ২ জন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম এবং ২ জন কোনো ধরনের ডিগ্রি প্রোগ্রামে না থেকেও ছুটিতে রয়েছেন। পদমর্যাদা অনুযায়ী ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন অধ্যাপক, ৩৫ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৮ জন প্রভাষক। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১০ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৮ জন করে, রসায়ন ও অর্থনীতি বিভাগে ৭ জন করে, চারুকলা, ব্যবস্থাপনা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৬ জন করে এবং ফার্মেসি বিভাগে ৫ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জনের কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, ‘অনেকেই ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ফিরে আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বারবার ছুটির সময় বৃদ্ধি করেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইসকান্দর সিরাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক পিএইচডির জন্য বেতনসহ ৪ বছর ও বেতন ছাড়া আরও অতিরিক্ত ২ বছর ছুটি নিতে পারেন। এছাড়া ১ বছরের মাস্টার্সের জন্য ২ বছর এবং ২ বছরের মাস্টার্সের জন্য ৩ বছর ছুটি নিতে পারেন। বর্তমানে নিয়মের বাইরে কেউ ছুটিতে নেই। তবে যাদের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য আসেনি, এর মূল কারণ হতে পারে এটা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। আমাদের কাছে তাদের তথ্যটা এখনো আসেনি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কারও ছুটি শেষ হয়, তাকে ১ মাসের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বেতন বন্ধ বা চাকরিচ্যুতও করা হয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখিয়েছি।’ উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘কারও ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরও যদি তিনি কর্মস্থলে না ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনের বাইরে গিয়ে ছুটিতে থাকার সুযোগ নেই।’