জাতীয়

নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের তিন দফা কর্মসূচি

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও প্রায় ২০ হাজার প্রশিক্ষিত জনবল বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পেশাগত নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। দীর্ঘদিনের এ জটিলতার অবসান এবং পেশাগত স্বীকৃতির দাবিতে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।


রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর অধিকার বঞ্চনার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের অর্থায়নে গড়ে ওঠা দক্ষ মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার, নিরাপদ দন্তসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারী প্রায় ২০ হাজার ডিপ্লোমাধারী বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সনদ অর্জন করলেও এখন পর্যন্ত বিএমডিসির পেশাগত নিবন্ধন পাচ্ছেন না। ফলে সরকার অনুমোদিত শিক্ষা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেও তারা পেশাগত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব বলেন, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত ২৩টি সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং ৫০টির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদ প্রদান করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। প্রতি বছর আরও সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ পেশায় যুক্ত হলেও বিএমডিসির নিবন্ধনের অভাবে তাদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী সমপর্যায়ের স্বাস্থ্য পেশাজীবী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসি থেকে পেশাগত নিবন্ধন ও সীমিত পরিসরে প্র্যাকটিসের সুযোগ ভোগ করছেন। এ ছাড়া ১৯৮০ সালের বিএমডিসি আইনের ১৫(৩) ধারার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে একটি জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল, যা এখনো নবায়ন করা হচ্ছে।

 

অথচ সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি স্বাস্থ্যশিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা আজও পেশাগত নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত।
সংগঠনের নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে তাদের স্কোপ অব প্র্যাকটিস (Scope of Practice) নির্ধারণ করেছে এবং সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও মতামত দিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সুযোগ প্রদানে কোনো আইনগত বাধা নেই। ফলে বিষয়টি এখন আর আইনগত নয়, বরং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

 

সংগঠনের মহাসচিব দাবি করেন, ১৯৮৩ সালের ১ জুন বিএমডিসির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী কমিটি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

 

তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাথমিক দন্তসেবা থেকে বঞ্চিত। এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তিরা দন্তসেবা প্রদান করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা আইনগত স্বীকৃতির অভাবে জনগণের সেবায় তাদের দক্ষতা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না।

 

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারা ও পঞ্চম তফসিলে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত করে আইনটির ৩৫ ধারা অনুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি এবং বিএমডিসি থেকে পেশাগত নিবন্ধন কার্যকর করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত কাজের পরিধি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে– আগামী ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ১১ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন এবং ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয় মহাসমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা।

 

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের নিজস্ব অনুমোদিত শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তির ন্যায্য পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান করা হোক।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ সনাতন পার্টির

বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।   ‘বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।   সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।   তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।   সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।   তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকলে তা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শয়ান বালা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক ও কার্যকর সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন তিনি।   সভায় বক্তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের হাত কামড়ে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি, ১০ ঘণ্টা পর ফের আটক

ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারের সমালোচনা জামায়াত নেতার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে ধারণা থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই তারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।   আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।’   তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন মন্ত্রিসভার সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেয়া শপথ আর টেকে না। আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’   গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিরোধী দলের প্রার্থী থাকায় প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   জামায়াত নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে।’   তার মতে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে।   সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আযাদ বলেন, ‘আমরা সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই।'   আযাদের ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকারের পক্ষেই দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২১, ২০২৬

আ.লীগ আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো তৈরি হাসপাতালগুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় যোগ হতে পারেন আরও চারজন, রাতে শপথের সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ আজ, দরবার হল প্রস্তুত

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানালেন মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন মির্জা ফখরুল।   এ সময় তিনি স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন বলে জানা গেছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।   নির্বাচনের পর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুলের।   শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬

৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে ড্রোন সার্ভিলেন্স

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন ৬ জন, শপথ সন্ধ্যায়

0 Comments