বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত বিভিন্ন প্রোগ্রামের ১০ ও ১১ জুলাইয়ের (শুক্রবার ও শনিবার) অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে এমএ ও এমএসএস (প্রিলিমিনারি) প্রোগ্রামের টার্ম-২৪২-এর দ্বিতীয় সেমিস্টার, বিএজিএড প্রোগ্রামের ২৫২ টার্মের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টার, এমপিএইচ পরীক্ষার ২৫২ টার্মের প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার, মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) পরীক্ষা-২০২৫ (২৫২ টার্ম)-এর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং বিবিএ পরীক্ষা-২৪১ টার্মের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম লেভেল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তী হালনাগাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত মজিবুর রহমান মজুমদার রেজিস্ট্রার পদে ফিরেছেন। অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার দলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (সাময়িক বরখাস্ত) মজিবুর রহমান মজুমদারের আবেদন এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়ায় চলছে সমালোচনা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মজিবুর রহমান মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম ও জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার পদটি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। কিন্তু অর্গানোগ্রাম সংশোধন ছাড়াই দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি গ্রহণ করেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় নিজের পদোন্নতির ফাইলে নিজেই স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে পদোন্নতি-সংক্রান্ত রিভিউ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজের নিয়োগ, পদোন্নতি বা তদন্ত-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হতে পারেন না। এ ছাড়া শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অডিট মেমো-১০ অনুযায়ী, তৃতীয় গ্রেডের পরিবর্তে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন-ভাতা গ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা ফেরতযোগ্য। অডিট মেমো-১১তে শিক্ষা ছুটির চুক্তিপত্র ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পিএইচডি সম্পন্ন না করেই চাকরিতে যোগদান এবং ছুটিকালীন বেতন-ভাতা নেওয়ায় আরও ২০ লাখ ১৪ হাজার ১৪০ টাকা ক্ষতির তথ্য উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা ছুটি অসম্পূর্ণ রেখে যোগদান করলে ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জানা যায়, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর অফিস আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন মজিবুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বাধ্যতামূলক ছুটির আদেশের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। পরে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানা যায়। পরে তিনি পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি হাইকোর্ট থেকে রায় নিয়ে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারে। তবে পুনরায় আপিল না করা এবং কোন বিবেচনায় তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল বলেন, মজিবুর রহমান এর আগেও দুই দফা হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষার ডাটাবেজে জালিয়াতি, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে সময়োপযোগী করে হালনাগাদ করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত এ আইনটি পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ যেকোনও ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আইনে ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে সংঘবদ্ধ পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা কিংবা এমন প্রস্তাব দেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টাও একই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করে পরীক্ষা কেন্দ্র বা পরীক্ষার হলে প্রবেশ কিংবা প্রবেশের চেষ্টাকেও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ড দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতাও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনও প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে, যোগসাজশে লিপ্ত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখলে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি (ডিবারমেন্ট) বা কালো তালিকাভুক্তির (ব্ল্যাকলিস্ট) ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। সংশোধিত আইনে তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে কোনও শিশু অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার প্রাপ্তবয়স্কদের মতো না করে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশোধিত আইনের অধীন সব অপরাধকে আমলযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন। বিচার কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া, আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনটি সময়োপযোগী ছিল না। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংঘটিত অপরাধকে আইনের আওতায় আনতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে।
ক্যাডেট কলেজের আদলে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে আবাসিক এবং তাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সরকারের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। ‘নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। দেশে এখন পুরোপুরি আবাসিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। অল্প কিছু পুরোনো স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে অনেক আবাসিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সেগুলোর সংখ্যা কত, সে হিসাব পাওয়া যায়নি। ক্যাডেট কলেজ আছে ১২টি। তার মধ্যে ৯টি ছেলেদের এবং ৩টি মেয়েদের। ক্যাডেট কলেজ আবাসিক। সেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পড়াশোনা হয় এইচএসসি পর্যন্ত। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করছেন, সরকারিভাবে আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে স্বল্প ও সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে; কিন্তু কোথায় কোথায় এ ধরনের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, সেটির সমীক্ষা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের মতো হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকা এবং জনবহুল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আবাসিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা ইতিবাচক ফল দিতে পারে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, শিখনঘাটতি কাটিয়ে ওঠা, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জোরালো উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে। জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি পর্যায়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সে লক্ষ্যেও কাজ করা হবে। বেসরকারি খাতের কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাতেও একই ধরনের মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরকারি পর্যায়েই উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। জমি ৩ একর, ভবন ১০ তলা মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ৬০০টি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ভবন হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং প্রতিটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। এ খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য মোট ৬০০টি হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটির ব্যয় ১০ কোটি টাকা হিসাবে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ৬০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে পাঁচ বছরে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। এ প্রকল্পের প্রশাসনিক খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, মূলধন ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণসহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। মাউশি বলছে, দেশের সব অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামীণ, অনগ্রসর ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় এখনো সমমানের আধুনিক শিক্ষাসুবিধা পৌঁছায়নি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকল্পের ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা ও বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। মাধ্যমিকে কত শিক্ষার্থী বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ৯৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় ৭৮ লাখ; আর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংখ্যা (এসব প্রতিষ্ঠানেও মাধ্যমিক স্তরে পড়ানো হয়) ১ হাজার ৫১৪। এগুলোতে শিক্ষার্থী আছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। এর বাইরে মাদ্রাসাগুলোতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেই হিসাব সরকারি সংস্থার কাছে নেই। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে ২৯ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত পদ ১৫ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই। মাউশির পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা অর্জনে বেশ পিছিয়ে। এমনকি বাংলায়ও শিক্ষার্থীদের অবস্থা কাঙ্ক্ষিত মানের নয়। মূলত বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং ও গৃহশিক্ষকের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষকেরা ক্লাসে ভালোভাবে পড়ানোর বদলে প্রাইভেট পড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন। ফলে খরচের বোঝা পড়ে পরিবারগুলোর ওপর। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালে এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে বলেছিল, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয়ের ৭১ শতাংশই বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সব প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষকসংকট বা ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এ কারণে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে আগের উদ্যোগগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হয়তো ভালো। তবে এখানে মূল প্রশ্ন প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা নিয়ে। দেশের সব এলাকায় আবাসিক মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আছে কি না, সেটি আগে বিবেচনা করা দরকার। তাঁর মতে, বর্তমানে বিদ্যমান প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে কিছুটা সময় নিয়ে পুরো শিক্ষা খাত সামনে রেখে সমন্বিত পরিকল্পনা করা উচিত। যাতে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে বেশি সুফল পাওয়া যায়।