প্রথমে চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসার কথা থাকলেও গতিপথ পরিবর্তন করেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এটি এখন জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি, ভূমিধস এবং বন্যার আশঙ্কা করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড় হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরের দিকে টাইফুন বাভি তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। তবে সামগ্রিকভাবে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত এই টাইফুনের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ১৯৮৭ সালের পর এই অঞ্চলে আঘাত হানতে যাওয়া এটি আকারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।
বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ঝড়ের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। এ বছর ‘এল নিনো’র সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এতে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ঘন ঘন ও আরও শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন, পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমে আরও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে।
টাইফুনটি প্রথমে চীন ও তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছিল, ঝড়টি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুবই বিরল।’
তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর বাভি দ্বীপটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুন হতে পারত। রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটিই দেশটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারত। ওই টাইফুনে তিনজন নিহত হন। চীনে বিভিন্ন উপকূলে কিছুদিন আগে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যে এই নতুন বড় ঝড়ের বার্তা এসেছিল। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পাশাপাশি প্রায় ২৯ হাজার সেনা প্রস্তুত রেখেছিল তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাইপেই সিটি গভর্নমেন্ট বাসিন্দাদের জন্য বালুর বস্তা সংগ্রহের স্টেশন স্থাপন করেছিল। তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের একটি বড় অংশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পাশাপাশি আর্থিক বাজারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, টাইফুন বাভি হয়তো সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত হানবে না। তবে শুক্রবার শেষ রাত থেকে সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। এরপর ঝড়টি চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। সতর্কতাস্বরূপ তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোও তাইপেইয়ের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আগামীকালের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
এদিকে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ঝড়টি আসায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সুরক্ষিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের ডজনখানেক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে আগামীকালের ফ্লাইটও রয়েছে। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ ‘ইশিগাকি’–তে বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলো থেকে শুকনো খাবার প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া পাবলিক বিচ, উপকূলীয় পার্ক এবং স্থানীয় ফেরি টার্মিনালগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। যদি ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে এক্ষেত্রে আমাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’ ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী এক বছর এবং প্রয়োজনে তারও বেশি সময় ধরে ইরানের সব এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে প্রস্তুত ও সক্ষম।’ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে, তাহলে তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ আগেই দিয়ে রেখেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই ওদের হিটলিস্টে আছি। যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে আক্ষরিক অর্থেই ইরানের ওপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’ সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পকে হত্যার একটি কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এটি নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘না, ইসরায়েল নতুন কিছু পায়নি। আমি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের লক্ষ্যবস্তু।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান যদি আমাকে হত্যা করে, তাহলে আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’ ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে আসছে তেহরান। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনায় একটি গুলি তার কান ঘেঁষে চলে যায়। পরে আরও কয়েকটি কথিত হত্যাচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার জানাজায় অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর দেওয়া ছাড়ও প্রত্যাহার করেছে। পরে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তবে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তেহরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রভাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল রপ্তানি দৈনিক ৩৭ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। খবর শাফাক নিউজ এজেন্সির। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যা তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আইইএর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে বিশ্বে দৈনিক তেল সরবরাহ ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, চলতি বছরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলের ঘাটতি থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বে তেলের চাহিদাও দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৭৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছে আইইএ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই পথের নিরাপত্তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।