বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাশক্তিকে ইরানের চ্যালেঞ্জ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশল

মারিয়া রহমান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়

 

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে মূলত দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে। একদিকে ইরান নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে; অন্যদিকে বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি এমনটাই মনে করছেন।

 

আল-জাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। সামরিক হামলার মুখে কোনো চুক্তি বা রূপরেখাই যে টিকতে পারে না, তা সবারই জানা।’

 

আলকিনানি আরও বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একধরনের শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে আমরা এটাও জানি যে এসব সামরিক তৎপরতা মূলত একটি বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ভবিষ্যতে নতুন করে দর-কষাকষির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এমনটা করা হয়।’

 

এই বিশ্লেষক বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজস্ব বৈশ্বিক মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

আলকিনানি বলেন, মনে হচ্ছে, ইরান এখন নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তিও তুলে ধরার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি এবং কল্পিত ভবিষ্যৎ থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

কৌশলগত আঞ্চলিক সম্পর্কের খোঁজ

আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা চায়, কূটনীতির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ সংঘাতের যত দ্রুত অবসান হোক।
আলকিনানি বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ দেখতে পেতে পারি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছে দেশগুলো। আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন কোনো বহুজাতিক জোট গঠনের চিন্তাও তাদের মাথায় থাকতে পারে।’

 

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এসব ভাবনার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ কীভাবে ঠেকানো যায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়েও তারা ভাববে।

 

আলকিনানি বলেন, তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে অন্য দেশগুলো হয়তো আগের পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চাইবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ

দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা বিক্ষোভে রাজধানী তিরানায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।     রয়টার্সের ভিডিওতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে পুলিশের গুলি ছোড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে রাবার বুলেটের ছররা পাওয়া গেছে। এগুলোর আঘাতে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ও কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন।       সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিরানার কেন্দ্রীয় এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ও ব্যাংকে আগুন দিয়েছেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে।     আলবেনিয়ার পুলিশপ্রধান স্কেন্ডার হিতা রাবার বুলেট ব্যবহারের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সব ধরনের উপায় সীমিতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আচরণে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।     প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দুর্নীতি, চাকরির অভাব ও শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রতিফলিত হচ্ছে। গত বছর টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা রামার সরকারের জন্য এ বিক্ষোভ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।     পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। সংঘর্ষে বহু পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।   সূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

সৌদি আরবের নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দুই ক্রু নিহত

রয়টার্স ছবি

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৪ হাজার, আহত পৌনে দুই লাখ

আর্থিক সংকটের মধ্যেও বড় ও ব্যয়বহুল উদ্যোগে নিউইয়র্কের মেট অপেরা

সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার

সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ রোববার দাবি করেছে। এ ঘটনায় একটি তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ সপ্তাহে বলেছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা শুরু করবে কিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসার মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির স্বার্থ রক্ষায় তিনি এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলেও জানান। জেলেনস্কির এ বক্তব্যের পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল।   মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   সেন্ট পিটার্সবার্গকে ঘিরে থাকা লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানান, ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।   টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, ‘বড় পরিসরে চালানো মানববিহীন আকাশযানের (ইউএভি) হামলা প্রতিহত করার অভিযান চলছে।’   তিনি জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের জানাননি তিনি।   সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। গত জুনেও ইউক্রেন এই টার্মিনালে হামলা চালিয়েছিল।   তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।’ বেগলভ আরও জানান, নিরাপত্তার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোতে কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানায়, বিমানবন্দরটিতে বিমানের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে।   রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে জানায়, এ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে তাদের একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।   এ সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আর সহ্য করবে না। রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাবে দেশটির ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানো হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয়কে লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করা হয়।   রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় জায়গাতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৮, ২০২৬

প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় মাস্ক

ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব 'বিশ্লেষণ' করতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প : রুবিও

ক্লিনটন দম্পতি ও ওবামার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের সম্পর্কে তার কাছে ‘অনেক তথ্য’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।   শুক্রবার দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সের উপস্থাপক রব ফিনার্টির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগে এই তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকলেও এখনো সে সুযোগ রয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, চাইলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে পারেন অথবা তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তার দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।   সাবেক এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি আবার অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন বলেও মন্তব্য করেন, এরপর প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৭, ২০২৬

চীনে ২৪৭ শিশুর রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় সিসা, কিন্ডারগার্টেন প্রধানের যাবজ্জীবন

শিক্ষা সংস্কারের প্রতিবাদে বেলজিয়ামে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের প্রথম ভাসমান গ্যাস উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম চালু

0 Comments