দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে আগামী জুলাই মাস থেকেই বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের সুযোগ কমিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। Politics তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ। দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়েই পুরো প্রতিষ্ঠান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক সংকট এই তিন মাসে তৈরি হয়নি এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। জুলাই থেকে আমরা শিক্ষক নিয়োগ শুরু করব। শিক্ষক সংকট দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের দীর্ঘদিনের শূন্যপদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে ছিল। সরকার সেই জটিলতা নিরসনে কাজ করছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারছে না। এ সংকট দূর করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, ডিজিটাল মনিটরিং, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করছেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন এসবও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ডিজি অফিসে বসে দালালি করার দিন আর নেই। পাশাপাশি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিগত সরকারের সময়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা কেউ কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাননি। এখন ধরাও যাচ্ছে না। রাজনৈতিক কারণে কোনো কলেজ সরকারীকরণ হবে না, ঢালাওভাবে সরকারীকরণের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষক স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অযাচিত কোনো বিভাগ খোলা যাবে না, চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বুয়েটের সেকেন্ড ক্যাম্পাস পূর্বাচলে করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জাতি গঠনে যেনো সবাই কনট্রিবিউট করতে হবে, সেই জায়গায় আমরা যাচ্ছি। শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটের আউটপুট অনেক ভালো। আমার অফিসের সচিব বুয়েটের, এসপি বুয়েটের, যেখানে যাই সেখানেই বুয়েট। আমি সত্যিই আনন্দিত, এই বুয়েট শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মেধা অবারিত রয়েছে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের যদি থাকারই জায়গা না থাকে তাহলে পড়াশোনা করবে কীভাবে? আমি আবরার ফাহাদের নামে বুয়েটে হল করার জন্য অনুরোধ করবো প্রধানমন্ত্রীর কাছে। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
‘আবরার ফাহাদ’ নামে নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অপচয় বরদাশত করা হবে না। শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে নামমাত্র বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান সরকার সর্বাধিক বাজেট দিয়েছে। শিক্ষা খাতের বরাদ্দকে জিডিপির বর্তমান ২ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার বাজেট বাড়াতে প্রস্তুত, তবে শর্ত হলো সেই টাকার প্রতিটি পয়সা সততার সাথে কাজে লাগাতে হবে। যারা মেধার প্রতিযোগিতা দিয়ে আজকে উচ্চশিক্ষায় আসছে, আমরা যদি তাদের থাকার ন্যূনতম আবাসন বা হলের জায়গাটুকু দিতে না পারি, তবে সেই বড় বাজেটের কোনো অর্থ থাকে না। এহছানুল হক মিলন জানান, বুয়েটের পূর্বাচল ক্যাম্পাসের জন্য বরাদ্দকৃত জমির যে বকেয়া কিস্তির টাকা রয়েছে, তা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এককালীন পরিশোধ করে দেবে। বুয়েটকে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো নিজে আয় করে জমি কেনার চিন্তা করতে হবে না, বরং রাষ্ট্র তার একাডেমিক প্রসারে পাশে থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বুয়েটেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ‘অ্যালামনাই কন্ট্রিবিউশন ফান্ড’ গঠনের তাগিদ দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, আমরা বুয়েটের মেধার অপচয় করতে চাই না, এই মেধাকে তার সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। বুয়েটের আবাসন সংকট নিরসনে এবং ক্যাম্পাসের নির্মম স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘বুয়েটের মেধাবী ছাত্ররা যেন নষ্ট না হয় এবং যে নির্মম স্মৃতি বুয়েটের পাতা থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না, সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ নামে একটি নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই হল সুনিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হলের প্রভোস্ট, নবাগত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। উল্লেখযোগ্য কার্যক্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালু, এর মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ। তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি। এ জন্য মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের (এমএলএলআই) মাধ্যমে মানদারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেন্স ভাষা শেখানো। দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন। গ্রিন ক্যাম্পাস তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ। ৪০ লাখ শিক্ষার্থী দ্বারা আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ রোপনের লক্ষ্য নির্ধারণ। স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক। সিলেবাস সংষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণ। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন উপাচার্য। সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মূল বাজেট ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা সংশোধিত বাজেট অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ফলে ঘাটতি বাজেট ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের যুগ অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং এমন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কেবল তথ্যের ধারক নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টিকারী; যারা চাকরি প্রার্থী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী; যারা পরিবর্তনের শিকার নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী। সিনেট চেয়ারম্যানের অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিনেট সদস্যগণ। তারা নানা পরামর্শ দেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সিনেট অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয় এবং পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। তাদের স্মরণে সব সদস্য এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ। সিনেট অধিবেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রমে ‘সাংস্কৃতিক শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এতে আবৃত্তি, ক্বেরাত, নাচ, নাটক ও সঙ্গীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ থাকবে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংগীত বিভাগ আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংগীত, সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা কিংবা কেরাত-সবই শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। কোনো শিক্ষার্থী কোন মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করবে, সেটি তার ও তার পরিবারের পছন্দের বিষয়। নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য এবং সংগীতচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাদের অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের দর্শন সমাজকে আলোকিত করতে পারে।’ ‘সংগীত মানুষের আত্মিক ও মৌলিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিটি স্তরে সংগীতের প্রভাব রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু সাহিত্যিক নন, তারা আমাদের জাতীয় জীবনের চিরন্তন আইকন। তাদের সৃষ্টিকর্মের মধ্যেই বাংলা সংস্কৃতির মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে।’ সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পান, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত রাখতে সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দর্শন নতুন প্রজন্মকে আলোকিত, সহনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের এ আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’ সভাপতির বক্তব্যে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. অনিমা রায় বলেন, ‘শুদ্ধ সংগীত চর্চা এবং আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও আশাব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ আয়োজিত এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো আমাদের মহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো একটি দেশের আয়না। আমরা কেবল বিনোদনের জন্য গান করি না; সংগীত মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করে। একজন হতাশ মানুষকে সুস্থ করে তুলতে এবং পথভ্রষ্টকে সঠিক পথ দেখাতে সংগীতের সুর ও রাগ এক ধরনের থেরাপি বা মেডিটেশন হিসেবে কাজ করে। এই মহৎ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আমাদের শিক্ষার্থীদের যথাযথ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন প্রয়োজন। সংস্কৃতির এই লড়াইয়ে যারা পাশে দাঁড়ান, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।’ আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিন ‘রবীন্দ্র-পর্ব’-এ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সংগীতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনে ‘নজরুল-পর্ব’-এর মাধ্যমে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদী চেতনা এবং সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীতানুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র ও নজরুল চর্চার ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।
বুয়েনস আয়ার্স, রিও ডি জেনেইরো কিংবা গ্লাসগো নয়, হাজারো কিলোমিটার দূরের বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুটবল উন্মাদনাই জায়গা করে নিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসের একটি ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন হাজারো শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। ব্রাজিলের গোল হতেই মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন। হলুদ জার্সি, ব্রাজিলের পতাকা আর সমস্বরে উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাধে ফিফা প্রেসিডেন্টের নজরেও পড়ে। পরে তিনি সেটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উচ্ছ্বাস, বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগ, নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই পরিচিত উন্মাদনাকে ছাড়িয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফুটবলপ্রেম পৌঁছে গেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ ও সক্রিয় ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। বিশ্বকাপ কিংবা স্থানীয় খেলা সব ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসে তৈরি হয় আলাদা এক উৎসবমুখর আবহ। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগেও ড্যাফোডিলের ফুটবল উন্মাদনা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এক ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং তার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের প্রতি ম্যাচের উচ্ছ্বাসের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ও সাংবাদিকদের মধ্যে, যার মধ্যে রয়েছে ফক্স সকার, ইএসপিএন, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ড্যাফোডিলের ব্রাজিল সমর্থকদের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের এই সুন্দর খেলাটি আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ফুটবল আমাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, পরিচয় এবং ভালোবাসার আরেক নাম। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও আমাদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ফিফা সভাপতির মতো একজন ব্যক্তিত্বের নজরে আসা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইভন বলেন, নেইমারের লাইক থেকে শুরু করে আজ ফিফা সভাপতির পোস্ট এসবই প্রমাণ করে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি কতটা প্রাণবন্ত। ফুটবলই আজ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিলকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই, একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররাও বাংলাদেশের সমর্থকদের এই ভালোবাসার কথা জানুক। ফিফা সভাপতির ইনস্টাগ্রামে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উল্লাসের ভিডিও স্থান পাওয়াকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগ, ভালোবাসা ও সমর্থনের গল্প আরও বড় পরিসরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এবার থেকে নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত কোনও পোস্ট ফেসবুকে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রমাণ চাইবে। পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানোর পরও যদি আগে থেকে কেউ বইপত্র রেখে আসে, তার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে শিক্ষকদের বেশি নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। এখন র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতি যাচাই করা হবে। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী পাস হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের প্রতিটি স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করা হবে এবং এতে কোনও অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার কোনও স্তরেই সেশনজট থাকবে না। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা। গত ২০ বছরে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামীণ স্কুল থেকে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের আবার নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম তৌহিদুজ্জামান। এ সময় খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি-বেসরকারি মাদরাসার আগামী ২৮ জুনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১৯ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনিবার্য কারণে ২৮ জুনের পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) জারি করা এক অফিস আদেশে দেশে সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ১৬ জুলাই।
বোর্ড পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করলে এখন আর শুধু নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে না। বরং পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না এবং কোনো প্রশ্নে প্রাপ্য নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা হতো। কিন্তু আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে এখন মূল্যায়নপ্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এমন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অপকর্ম করার সাহস না করে শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক বলেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পর এখন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। শিক্ষকদের পেশাগত পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। কর্মসূচিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মানববন্ধনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে এই মানববন্ধন ঠিক কখন করা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এম এইচ লালন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সজিবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ও আরেকজনের মুখে মাস্ক থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছয়টি আলাদা পোস্টার দেখা গেছে। এসব পোস্টারে তাঁরা ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মাত্রই জানতে পেরেছি। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘নিরাপত্তা শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তারা (ছাত্রলীগ) কখন কী করে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে। ছাত্রলীগের মানববন্ধনের একটি ছবি আমরা দেখেছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বলেছি। ফুটেজ পেলে তারা কখন কর্মসূচি পালন করেছে, সেটি নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবে পরিপ্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ (আজীবন) দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। একই সিন্ডিকেট অধ্যাদেশ সংশোধন করে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না। বিধিবহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় এবিএম আবদুল্লাহর অধ্যাপক ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ (আজীবন) বাতিল করা হলো। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ। জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং প্রায় সমান সময় চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত। আমি মনপ্রাণ দিয়ে রোগী ও মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার লেখা বই দেশে-বিদেশে পাঠ্য। আমাকে যে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়েছিল, তা আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। আমি আরও সম্মান ও সম্মাননা পেয়েছি। কিন্তু যেভাবে এটা বাতিল করা হলো, সেটি নীতিবহির্ভূত। আমি আশা করি এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না।’
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ নম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ 'বডি-ওর্ন ক্যামেরা' ব্যবহার করবে। এছাড়া পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা কালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোন ধরনের প্রশ্ন ফাঁস হতে দেয়া যাবে না। প্রশ্ন ফাঁস করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। এমন শাস্তি দেয়া হবে যে দেশের মানুষ সারা জীবন মনে রাখবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কোন ব্যত্যয় করা যাবে না। এছাড়া একটি কন্ট্রোল রুম ও মনিটর থাকতে হবে। পাশাপাশি ভিডিওগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন অনিয়মের অভিযোগ আসলে সেগুলো যাচাই করা যায়। ড. মিলন আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক। এজন্য শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের আর গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকার সুযোগ নেই। এজন্য শিক্ষকদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন উর রশিদ, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ বৈষম্য দূর করতে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এক বোর্ডের প্রশ্ন সহজ আর অন্য বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন—এ ধরনের বৈষম্য দূর করতেই একক প্রশ্নপত্র চালু করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে।’ বিগত সরকারের শিক্ষা নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। এ সময় তিনি কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
দেশের বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে মেধাবী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ বিশেষ কোটা চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে উচ্চ শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, বর্তমানে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আসন মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে এই কোটার আওতায় মোট ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে, যাতে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনে ফাটল বিষয়ে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই হলেরই মিলনায়তনের ছাদ ঢালাই শেষে ধসে পড়েছিল। এতে ১২ শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। তখন উঠে আসে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বহুতল চারটি ভবনের নির্মাণকাজ তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ হওয়ার কথা চলতি মাসে। অথচ কাজ শেষ হয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পগুলোর নির্মাণ শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক শূন্য ৫ থেকে দশমিক ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। এই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকার জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৩৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় অপরাজিতা (সাবেক প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা) হল, বিজয় ৭১ (সাবেক প্রস্তাবিত এ এইচ এম কামারুজ্জামান) হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণ, শেখ রাসেল মডেল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে একনেক ২০১৯ সালে সংশোধিত আকারে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্মাণাধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আলোচিত মজিদ সন্স প্রকল্পের আওতায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিজয় ৭১ হলের নির্মাণকাজ পায় রূপপুরে ‘বালিশকাণ্ডে’ তুমুল আলোচিত মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর হলটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজটি সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার কথা ছিল। তবে হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়াল, পিলারের ওপরের পলেস্তারাতে ফাটল দেখা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে থাকা শের-ই বাংলা ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ব্লকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাহিব বিল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের নতুন হলে আনা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের আগেই এই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর আগে এই হলের মিলনায়তন ধসে পড়েছিল। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাবি শাখা ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা নিরাপত্তার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আরও বেশি অনিরাপদ মনে হচ্ছে। হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ হাসান জেমস বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা দরকার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভবনটির বিশেষজ্ঞ তদন্তের দাবি জানাই। এ বিষয়ে মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ভবনে ফাটলের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি তিন ভবনে মজিদ সন্স ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও পায়। বর্তমানে ওই ভবনের ১৭ তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তলার দেয়াল নির্মাণসহ একাধিক কাজ চলমান। নির্মাণাধীন অপরাজিতা হলের অষ্টম তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি তলার দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ম্যানেজার জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের এখানে ৭০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে। আমাদের আরও এক দফা মেয়াদ বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে। যা বলছেন কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রনেতারা এ বিষয়ে রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি উন্নয়নের নামে বিপুল দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। ঠিকাদারদের জবাবদিহির অন্যতম মাধ্যম জরিমানা আদায়। সেটি না করেই বিল দিয়ে সাবেক ‘নকীব প্রশাসন’ আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, মেয়াদ বাড়ানো হয়, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এই বিষয়গুলো খুব হতাশাজনক। বারবার মেয়াদ পেছালে মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা হয় আর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে, তাদের কড়া জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যে কাজ রয়েছে, তা চলমান মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের মেয়াদ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করব বাস্তবসম্মতভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে। বিজয়-৭১ হলে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল কিংবা ভিন্ন অংশে করা প্লাস্টারের কারণে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে। প্রকল্পের বিল পরিশোধে অডিট আপত্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদকালে মালপত্রের দাম বাড়লে এবং যৌক্তিক কারণে মেয়াদ বাড়ানো হলে জরিমানার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ থাকে। এখানে নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটেনি। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, করোনা ভাইরাসসহ নানা বাধা এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের চলমান মেয়াদ শেষ হবে। আমরা চেষ্টা করব আগামী মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করতে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাশাপাশি আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে।’ শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। আগামী দিনে মাদ্রাসার এবং সাধারণ শিক্ষার যেসব বিষয় কমন (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি)-সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে।’ মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে সেখানেও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ ছাড়া, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থমকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এটি হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।’ শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় ঠেকলেও তা শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকায় বেতনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। বর্তমান সরকার এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কাজ করছে। জনসংখ্যাকে অভিশাপ না ভেবে সম্পদে পরিণত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ মানুষের মাঝে মেধার কোনো বৈষম্য করেননি। উন্নত বিশ্ব মেধার চর্চা করে এগিয়ে গেছে। আমাদের শিশুদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী স্কুলগামী শিশুদের জুতো, মোজা, ড্রেস, ব্যাগ, বই এবং মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সাথে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদ্যাপন এবং ‘ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের অনগ্রসর শিক্ষাব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিয়েছিল। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দেশের ভবিষ্যত্ উন্নয়নে শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকুক। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার যেসব বিষয় অভিন্ন-যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান রয়েছে, সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সারা দেশের স্কুলগামী শিশুদের জুতা, মোজা, পোশাক, ব্যাগ, বই ও মধ্যাহ্নভোজ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ স্থানে একটি বীজ বপন করেছিলেন। সেই বীজ আজ এ অঞ্চলের শিক্ষাকে আলোকিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় সব ধরনের সহযোগিতায় করার আশ্বাস দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৫১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসির (উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট) শনিবারের পরীক্ষা নিয়ে সব জেলা প্রশাসককে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের শনিবারের পরীক্ষা ভিন্ন সূচিতে নেয়ার বিষয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সব জেলার জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে শর্ত থাকে যে, এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা শনিবার সকাল ১০টার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবে ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের সাথে প্রবেশপত্রে বর্ণিত দ্রব্যের বাইরে কিছু থাকবে না। কোন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অন্তত ২৪ শিক্ষক। কিন্তু পড়াশোনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি, ফেরতও দেননি শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া বেতন-ভাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে জাবির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি বা পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। জাবি শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকদের ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় নিজ নিজ পদে যোগ দিতে হয়। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানের সময়ের অতিরিক্ত অন্তত তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি এ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া সব বেতন-ভাতা প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদসহ এককালীন পরিশোধ করতে হয়। জাবির টিচিং সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল কবির গত ১৪ জুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনকে অবসরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশকে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে আবার বরখাস্তও করা হয়েছে। তাদের শিক্ষাছুটিতে যাওয়ার তারিখ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র জানায়, অধিকাংশ শিক্ষককে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর প্রশাসনের একাধিক নোটিশ ও ব্যাখ্যা চাওয়ার পরও সাড়া না দেওয়ায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়। রেজাউল কবির বলেন, বকেয়া অর্থ ফেরত ও ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানায় অন্তত তিনটি করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইমেইলও করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কোনো জবাব দেননি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম আবদুর রব জানান, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখব এবং বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পাওনা টাকা এখনও অপরিশোধিত ২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত জাবির পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এর অর্ধেকের বেশি বকেয়া রয়েছে মাত্র ছয়জন সাবেক শিক্ষকের কাছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার দেনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা।জাবির নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ২০১৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য তার শিক্ষাছুটি ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, তিনি ২০২২ সালের জুনে দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেন এবং কিছুদিন পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না। যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল বলেন, পড়াশোনা শেষ করে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলাম এবং কিছুদিন কাজও করেছি। পরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করি। আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম, আমার পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সঙ্গে বকেয়া সমন্বয় করে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা আগে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছে। এককালীন এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্ত। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার বকেয়া ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ভাসায় ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত প্রবাল ইমেলের মাধ্যমে বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি জাবিতে আর যোগ দেননি।তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরব এবং শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া অর্থ পরিশোধ করব। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করা তারেক ইমেলে বলেন, এখনও পুরো টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছি। একই বিভাগের আরেক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদকের ইমেলের জবাবে আজিজ বলেন, তিনি তার পরিস্থিতি রেজিস্ট্রার অফিসকে জানিয়েছেন এবং বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশে এসে বকেয়া পরিশোধ করব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক নওরীন তাবাসসুমের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার জন্য তিনি ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাছুটিতে ছিলেন। পরে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এরপর তাকে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতনহীন বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জাবিতে ফেরেননি। কম্পট্রোলার অফিসের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে তার জামিনদার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অবসরে গেলে তার গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৫ টাকা আটকে রাখা হয়। এরপরও নওরীনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭২৫ টাকা। জাবির কম্পট্রোলার মো. মোসানুল কবির বলেন, নওরীন বকেয়া পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জামিনদারের গ্র্যাচুইটির একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে ওই অর্থ অধ্যাপক আজাদকে ফেরত দেওয়া হবে। অধ্যাপক আজাদ বলেন, আমি একাধিকবার নওরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি সব যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তার স্থায়ী ঠিকানা ও ইমেলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদকের পাঠানো ইমেলেরও তিনি জবাব দেননি। জাবির আরেক সাবেক সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ফজলুর রহমানের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অনুযায়ী বকেয়া ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা। গণিতের এই শিক্ষককে ২০০৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামে বায়োস্ট্যাটিস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ফজলুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উল্লেখ করা অঙ্কটি সঠিক নয়। ইমেইলে তিনি জানান, প্রকৃত বকেয়ার তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আমি কম্পট্রোলার অফিসে একটি চিঠি দিয়েছিলাম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকা আমার সব তহবিলের বিস্তারিত হিসাব চেয়েছিলাম। সেই তথ্য পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে কম্পট্রোলার অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদ যুক্ত হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। করণীয় কী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি এবং পাওনা পরিশোধ করেননি, তারা শিক্ষক হিসেবে নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এটি প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে কেউ বিদেশে অবস্থান করলে প্রচলিত আইনের আওতায় অনুপস্থিতিতেও তাদের বিচার করা যেতে পারে। জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা অত্যন্ত অনৈতিক। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারি না। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে কেউ কেউ আর ফিরে আসতে চান না। জাবির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে শিক্ষাছুটির সুবিধা পাওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে অবদান রাখা। তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি তারা ফিরতে না পারেন, তাহলে অন্তত জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। তা না করা অনৈতিক।
শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে নরওয়ে। একই সঙ্গে বড় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোইরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জোনাস স্টোইরে জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে, অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট বয়সেই এআই ব্যবহার করলে শিশুরা পড়াশোনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। স্কুলের মূল লক্ষ্যই হলো আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে পড়তে, লিখতে ও গণিত শেখানো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ঠিক রাখতে ও পরীক্ষার ফলাফলে ক্রমাগত অবনতি ঠেকাতে ২০২৪ সালে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নরওয়ে সরকার। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শিক্ষকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এআই ব্যবহারের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে ইউরোপের দেশটি। প্রধানমন্ত্রী জোনাস স্টোইরে জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে, অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত (৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার না করার কথা। নিম্নমাধ্যমিক স্তরের (১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সঙ্গে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে (১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের উপযুক্তভাবে এআই ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো হবে, যেন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে নরওয়ে ১৯৯০-এর দশক থেকে শ্রেণিকক্ষে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে। পরে ২০১০ সালের পর আইপ্যাড চালুর মাধ্যমে ট্যাবলেটের ব্যবহার বাড়ে, ফলে বই ও হাতের লেখার ওপর নির্ভরতা কমে যায়। গত শুক্রবার প্রকাশিত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে আরও বেশি বই ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তারা নতুন আইনের প্রস্তাব করবে। এর মাধ্যমে ট্যাবলেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রবণতা থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিল নরওয়ে। এ বছরের এপ্রিলে নরওয়ে সরকার ঘোষণা দেয়, ১৬ বছর বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে অস্ট্রেলিয়া–যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের অনুসৃত নীতির ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড এখন অনেকের কাছে পড়াশোনার অন্যতম গন্তব্য। যাঁদের পছন্দের তালিকায় আছে দেশটি, তাঁদের জন্য সুখবর। পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা–ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু বিদ্যমান সুবিধার যোগ্যতা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যেসব শিক্ষার্থী নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন এবং নিউজিল্যান্ড বা বিদেশ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী, তাঁরাও পোস্ট–স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য হবেন। আবেদনকারীকে পূর্ণকালীনভাবে পুরো গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি স্নাতক সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ ছয় মাসের জন্য প্রযোজ্য। লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারীরা এক বছরের ওয়ার্ক ভিসা পেতে পারেন, তবে শর্ত হলো স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে বা কোর্সটি গ্রিন লিস্টের পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। নতুন ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছে নিউজিল্যান্ড। যেসব শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ ছয় মাস অবস্থান করে প্রায় যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। যোগ্যতার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৫ থেকে ৭ পূর্ণকালীন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে ২. কোর্সের মেয়াদ কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ হতে হবে ৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ৫,০০০ নিউজিল্যান্ড ডলার (৩,২৫,০০০ থেকে ৩,৭৫,০০০ টাকা) থাকতে হবে ৪. স্টুডেন্ট ভিসা শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তবে এই ভিসায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গ্র্যাজুয়েট ব্যক্তিরা এই ভিসার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না, পরিবারকে স্পনসর করতে পারবেন না এবং এটি একবারই পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।