টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নতুন এক ঝামেলায় পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) আইসিসিকে তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; এবার ডব্লিউসিএ ও আইসিসি মূলত ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অধিকার, ছবি ও তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, ২০২৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে যে নতুন শর্ত পাঠিয়েছে, তা ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে মিলে না। সংগঠনটির মতে, নতুন শর্তগুলো অনেক বেশি ‘শোষণমূলক’ এবং খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট গত ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো এক মেমোতে আটটি ক্ষেত্রে আইসিসির অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার, বাণিজ্যিক লাইসেন্স এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, আইসিসি ও সদস্য বোর্ডগুলো খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সুরক্ষাগুলো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এমনকি তাদের ‘মালিকানা’ দাবি করছে।
প্রথম চুক্তিতে বলা হয়েছিল, সব বিষয়ে খেলোয়াড়রা নিজেরা বা সংগঠনের মাধ্যমে দর-কষাকষি করতে পারবেন। কিন্তু আইসিসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, বোর্ড যা বলবে তা-ই কার্যকর হবে এবং খেলোয়াড়দের সম্মতির প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার নিয়ে নতুন শর্ত বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আইসিসি চায়, কোনো তৃতীয় পক্ষ খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহার করতে পারবে এবং বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তা বাণিজ্যিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ডব্লিউসিএ এর বিরোধী, বলছে তথ্যের মালিকানা খেলোয়াড়ের এবং তাদের অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা যাবে না।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তি কেবল আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য। এই আট বোর্ড হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলার শর্ত মেনে না নেওয়ায় এই তালিকায় নেই। বাকি ১২টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও আরব আমিরাতের বোর্ড ডব্লিউসিএকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এসব দেশের খেলোয়াড়রা সংগঠনের সদস্য নয়। অন্যদিকে ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার খেলোয়াড়রা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কোনো শর্তাবলি পাননি।
মোফাট জানিয়েছে, ডব্লিউসিএ বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চায় না। তবে আইসিসির শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর ভিন্ন শর্ত চাপানো দুঃখজনক। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টই আয় করার প্রধান উৎস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কম বেতন পাওয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড়দেরই এই শোষণমূলক চুক্তির লক্ষ্য করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত আইসিসি ডব্লিউসিএর পরবর্তী চিঠির জবাব দেয়নি। ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদনের প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই দ্বন্দ্ব বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিতর্ক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও বোর্ড উভয়ের জন্যই চাপ এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের ম্যাচ আয়োজন ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মেক্সিকো ঘোষণা দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত। গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে ইরান। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য, ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ নাও হতে পারে, বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। তার এই বক্তব্য ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাম জানিয়েছেন, যদি নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হয়, তাহলে তারা ইরানের ম্যাচগুলো নিজেদের দেশে আয়োজন করতে প্রস্তুত। এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তারা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি এবং এই আসরে অংশ নেওয়া আমাদের অধিকার। প্রয়োজনে আমরা মেক্সিকোতে ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত।’
বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নে এখনও পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেননি লিওনেল মেসি। তবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপে প্রস্তুতিপর্বের শেষ ম্যাচে তার অধিনায়কত্বেই খেলবে আর্জেন্টিনা। চলতি মাসের শেষ দিনে প্রীতি ম্যাচে গুয়াতেমালার মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। এজন্য বুধবার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। এই মাসের শেষ সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে বেশ ব্যস্ত সূচিই ছিল আর্জেন্টিনার। আগামী ২৭ মার্চ ফিনালিস্সিমা ট্রফির লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল গতবারের ইউরো জয়ী স্পেন। স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলার কথা ছিল গতবারের কোপা আমেরিকা জয়ীদের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সব ভেস্তে যায়। শেষ মুহূর্তে গুয়াতেমালার বিপক্ষে ম্যাচের আয়োজন করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ৩১ মার্চ বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি। গত বিশ্বকাপের অভিযানে যাওয়ার আগে এখানেই শেষ ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। বয়স ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও, এখনও স্বরূপে ছুটে চলেছেন তিনি। ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত গোল করছেন, ক্লাবটিকে ইতোমধ্যে তিনটি শিরোপাও জিতিয়েছেন আটবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। তাকে ঘিরেই বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনার মানুষ। তবে, গত বছরের শেষ দিকে একাধিক সাক্ষাৎকারে আসছে বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নে কখনোই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি মেসি। তবে মূল টুর্নামেন্টের আগে, শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তার উপস্থিতি নিশ্চয়ই যথেষ্ট অর্থ বহন করে। মেসির সঙ্গে প্রত্যাশিতভাবেই দলে আছেন তার ক্লাব সতীর্থ রদ্রিগো দে পল। নিয়মিতদের মধ্যে আরও আছেন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেস, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, মিডফিল্ডার এন্সা ফের্নান্দেস ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন এস্তুদিয়ান্তেসের ডিফেন্ডার তমাস পালাসিওস ও রেসিংয়ের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল রোহাস। আর গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে দলের ২-০ গোলে জেতা সবশেষ প্রীতি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা মার্কোস আকুনা দলে ফিরেছেন। চোটের কারণে আসছে ম্যাচের স্কোয়াডে অনুপস্থিত তিনটি নাম উল্লেখযোগ্য- জিওভান্নি লো সেলসো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও লাউতারো মার্তিনেস। আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুস্সো ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মোলিনা, গন্সালো মনতিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি, তমাস পালাসিওস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গাব্রিয়েল রোহাস, মার্কোস আকুনা মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তের, মাক্সিমো পেরোনে, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন বার্কো, এসেকিয়েল পালাসিওস, নিকো পাস, থিয়াগো আলমাদা ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, নিকোলাস গন্সালেস, হোসে মানুয়েল লোপেস, হুলিয়ান আলভারেস।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দূরন্ত যাত্রা অব্যাহত রেখেছে জাপান। দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে জাপান। এটি হতে যাচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালের রি-ম্যাচ। দুই বার এশিয়ার সেরা হওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপান। ২০১৮ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে জাপানের প্রথম মেজর ফাইনাল। সিডনিতে নিলস নিলসেনের দল পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল অনবদ্য। দুই অর্ধে দুটি করে গোল করে তারা সপ্তমবারের মতো মহাদেশীয় ফাইনাল নিশ্চিত করল। কোরিয়া রিপাবলিক কোচ শিন সাং-উউ উজবেকিস্তানকে ৬–০ গোলে হারানো দলে চার পরিবর্তন করেন, আক্রমণভাগে ফিরিয়ে আনেন জিওন ইউ–গিয়ংকে। অন্যদিকে নিলসেন ফিরিয়ে আনেন তার মূল খেলোয়াড়দের—ফিলিপাইন্সকে ৭–০ গোলে হারানো ম্যাচে যারা বিশ্রামে ছিলেন। গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতা, সেন্টার–ব্যাক সাকি কুমাগাই এবং আসরের এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা রিকো উয়েকি ছিলেন সাত পরিবর্তনের মধ্যে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাপান। সপ্তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি হয়—মাইকা হামানোর ব্যাকহিল থেকে হিনাতা মিয়াজাওয়া বল বাড়ান হানা তাকাহাশিকে, যার শট ফিরিয়ে দেন কিম মিন–জুং। ফিরতি প্রচেষ্টায় ইউই হাসেগাওয়া সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এটা ছিল গোলের আগমনী বার্তা। ১৫তম মিনিটে জাপান এগিয়ে যায়। হাই-প্রেসিংয়ে কিম শিন–জিকে ভুল করতে বাধ্য করে ফুকা নাগানো বল কাড়েন এবং বক্সে উয়েকির সামনে বাড়িয়ে দেন। উয়েকি সহজেই আসরে নিজের ষষ্ঠ গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন (১-০)। চার মিনিট পর কোরিয়া রিপাবলিকের বিরল এক আক্রমণে সমতার সুযোগ পান পার্ক সু–জিয়ং, তার শট পোস্টের বাইরে যায়। অন্যদিকে ফুজিনো দারুণ ড্রিবলিংয়ে জায়গা তৈরি করেও শট উড়িয়ে মারেন। ২৫তম মিনিটে আসে ম্যাচের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি—হামানো কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে তীক্ষ্ণ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালে জাপানের লিড দ্বিগুণ হয় (২-০)। চার মিনিট পর আবারও বল জড়ায় কোরিয়ার জালে—চাপের মুখে জাং সেল–গি ভুলবশত নিজ জালে হেড করেন। বল জালে যাওয়ার আগের ধাক্কার গোলরক্ষক মিন–জুংয়ের ওপর করা ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয়। ৪৩তম মিনিটে ফুজিনোর গোলও বাতিল হয় হিকারু কিতাগাওয়ার হ্যান্ডবলের কারণে। বিরতির ঠিক আগে সু–জিয়ং আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। জাপান স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েই বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোরিয়া আক্রমণ বাড়াতে নামায় উইঙ্গার ক্যাং চে–রিমকে। কিন্তু গোলের কাছাকাছি যায় জাপানই। উয়েকি–নাগানোর দারুণ সমন্বয়ে নাগানো বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু বল যায় বাইরে। ৬৩তম মিনিটে হামানোর কর্নার থেকে উয়েকির হেড বার কাঁপায়। ৭৫তম মিনিটে আসে জাপানের তৃতীয় গোল। মিন–জুং কর্নার ক্লিয়ার করতে লাফিয়ে বল ধরতে গিয়ে ভুল বিচার করেন, আর সাকি কুমাগাই অনায়াসে হেডে গোল করেন (৩-০)। তিন মিনিট পর কোরিয়া রিপাবলিক একটি গোল শোধ দেয়—সো–জিয়ংয়ের পাস থেকে চে–রিম দুর্দান্ত টার্ন নিয়ে নিচু শটে গোল করেন (৩-১)। আসরে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মত জাপান কোন গোল হজম করল। ৮১তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জাপান আবারও ব্যবধান বাড়ায়। বদলি খেলোয়াড় রেমিনা চিবা নিচু শটে মিন–জুংকে পরাস্ত করে দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে তুলে দেন (৪-১)।