প্রথমবারের মতো নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চলেছে বাংলাদেশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসরটি।
এবারের টুর্নামেন্টে স্বাগতিকসহ ১১ টি দেশ অংশ নিতে চলেছে। রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে তাঁর বাসভবন যমুনায় বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচন করা হবে। সেখানে অংশগ্রহণকারী ১১ টি দেশের অধিনায়কেরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, ২০১২ সালে প্রথম নারী কাবাডি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঢাকায় টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন নারী কাবাডি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করলো বাংলাদেশ। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দুই সেমিফাইনালে তিনটি দলই দেড়শোর বেশি রান করলেও একশোও পার করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ফলে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। নিগার সুলতানা জ্যোতি এত বড় হার নিয়ে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য অনেক বেশি। তবে আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’ ব্যাটিং-বোলিং কোনো বিভাগেই বাংলাদেশ ভালো করতে পারেনি। ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলাদেশের অধিনায়কের কাছে বেশ স্বাভাবিক, ‘এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম ব্যাটিং বিপর্যয় হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তোবা আরও কিছু কম রান হতো।’ এই উইকেটে আগের ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া বড় রান তাড়া করেছে শ্রীলঙ্কা। সেই উইকেটে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। অধিনায়ক বড় রান তাড়ায় বিপর্যয় স্বাভাবিক বললেও এই ব্যাটিং গ্রহণযোগ্য নয় তার কাছেও। জ্যোতি বলেন, ‘একদমই না। দেখেন, যেখানে এত অল্প রানে একটা টিম কলাপস করে, সেখানে আসলে আমরা ব্যাটাররা কোনো দায়িত্বই নিতে পারিনি।’ এশিয়া কাপের পর টি টোয়েন্টি থেকে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন জ্যোতি। আজকের হারের পর সেই প্রসঙ্গ জ্যোতি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় একজন ব্যাটার এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি সেদিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই ডিসিশন।’ এদিকে ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর বলেন, ‘আমরা নিজেদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করছিলাম, তাই পেয়েছি। আশা করছি, আমরা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখব।’ ভারতের নারী দল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও গত কয়েক বছর দুদলের ম্যাচে অনেক ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে ভারতের অধিনায়ক বলেন, ‘বিশেষ কিছু নয়। আমরা কেবল আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই। সামনে কে প্রতিদ্বন্দ্বী, সেটা কোনো বিষয় নয়। আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
শেষের একটু সময় ছাড়া বাকিটা সময় ম্যাচের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকল আর্সেনাল। গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে তাদের কঠিন পরীক্ষা নিল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন। চমৎকার ফিনিশিং ও জমাট রক্ষণের সৌজন্যে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিল তারা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শনিবার একপেশে ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে ব্রাইটন। মৌসুমে এটাই আর্সেনালের প্রথম হার। শুরু থেকে আর্সেনালকে চেপে ধরে ব্রাইটন। প্রথম কয়েক মিনিট সেভাবে নিজেদের অর্ধ ছেড়েই চ্যাম্পিয়নদের বের হতে দেয়নি তারা। প্রথম সুযোগ পায় ব্রাইটনই। চারালাম্বস কোস্তোউলাসের শট ঝাঁপিয়ে আঙুলের ছোঁয়ায় কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া। এরপর একটু গা ঝাড়া দেয় মিকেল আর্তেতার দল। তবে ব্রাইটনের রক্ষণে খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা। গতিময় ফুটবলে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাইটন। ৩১তম মিনিটে দূরপাল্লার গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন পাসকাল গোস। কোস্তোউলাসের কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে একটু সময় নিয়ে শট নেন তিনি। কাছের পোস্টের ভেতরে লেগে বল জড়ায় জালে। সবশেষ পাঁচ ম্যাচে এটি গোসের চতুর্থ গোল। ৪৫তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন বুকায়ো সাকা। খুব কাছ থেকে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি তিনি। বল যায় ব্রাইটন গোলরক্ষকের গ্লাভসে। প্রথমার্ধে তিনটি শট নিয়ে এই একটিই কেবল লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে সতীর্থদের পা ঘুরে ডি-বক্সের বাইরে বল পান কোস্তোউলাস। বুলেট গতির শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। তেমন কিছু করার ছিল না গোলরক্ষকের। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো শুরু করে আর্সেনাল। আক্রমণাত্মক ফুটবলে চেপে ধরার চেষ্টা করে ব্রাইটনকে। কিন্তু লিগে আগের চার ম্যাচে ১৩ গোল করা দলটি রক্ষণে গুটিয়ে যায়নি। বরং পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়নি। ৫৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন চিমা আন্দ্রেস। গোসের দারুণ কর্নারে চমৎকার হেডে কাছের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর খুব ভালো একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কাই হাভার্টজ। ডি-বক্স থেকে তার শট পা বাড়িয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটন গোলরক্ষক। ৮৭তম মিনিটে ম্যাট ও’রাইলির চেষ্টা ঠেকিয়ে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি রায়া। একজনের শট রাইলির মাথায় লেগে জালের দিকে যাচ্ছিল। দারুণ রিফ্লেক্সে মাঝপথে থামান আর্সেনাল গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর আবার রাইলির চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন রায়া। পরে মালিক ইয়ালকুর শট ব্যর্থ হয় ক্রসবারে লেগে! ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নেমে গেছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটি সমান পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি তাদের সামনে। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তিন নম্বরে আছে ব্রাইটন।
দুর্দান্ত ফিনিশিং ও শক্তিশালী রক্ষণভাগের ওপর ভিত্তি করে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে গেল অ্যাস্টন ভিলা। আজ (শনিবার) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩-২ গোলে জিতেছে তারা। স্বাগতিকরা বেশিরভাগ সময় বলের দখল রাখলেও স্কোরবোর্ডে আধিপত্য ছিল ভিলার। হাফটাইমে তারা ১-০ তে এবং ৭৯ মিনিটের মধ্যে ৩-০ তে এগিয়ে যায় তারা। তারপর স্পাররা দুটি গোলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমিয়ে তুললেও ফলাফল পাল্টে দিতে পারেনি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে বোবাকার কামারার বানিয়ে দেওয়া বলে বাঁ পায়ের শটে জোহান মানজাম্বি গোল করেন। তার পাস ধরে ৬৭ মিনিটে ভিলাকে দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে দেন নিকোলাস জ্যাকসন। ১০ মিনিট পর এমিলিয়ানো বুয়েন্দি ডানপায়ের স্ট্রাইকে স্কোর ৩-০ করেন। এই সময়ের মধ্যে ভিলা লক্ষ্যে ৬টি শট নিয়েছিল। টটেনহ্যাম পাল্টা জবাব দিয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে সময়ের স্রোত অনেক দূর গড়িয়েছে। ৮৬তম মিনিটে মোহাম্মদ কুদুসের দারুণ কাজের পর কনর গ্যালাঘার একটি গোল শোধ দেন। লিগে ৪৪৬ মিনিট পর চলতি মৌসুমে প্রথম গোল করে স্পাররা। ইনজুরি টাইমে অ্যান্ডি রবার্টসনের বাড়িয়ে দেওয়া বলে জ্যান ফল ফন হেক হেড করে শেষটা জমিয়ে দেন। স্পাররা ৬৪ শতাংশ বলের দখল রেখেছিল। তাদের শট ছিল ২০টি, বিপরীতে ভিলার ১৫টি। টটেনহ্যাম ভিলার একটির বিপরীতে কর্নার পেয়েছিল ১১টি। ফাইনাল থার্ডে তারা ৬৪ বার আক্রমণ চালিয়েছিল, কিন্তু ভিলার জমাট রক্ষণভাগ স্বাগতিকদের বোতলবন্দি করে রাখে। ৩৭টি ক্লিয়ারেন্স ও ১৫ ইন্টারসেপশনই তাদের দারুণ রক্ষণের প্রমাণ দিচ্ছে। আর গোলপোস্টের নিচে ভিলার জিওন সুজুকি ছিলেন দুর্দান্ত। পাঁচটি সেভ করেন, হাই ক্লেইম ছিল চারটি, পাঞ্চ তিনটি। বক্সের মধ্যে তার আধিপত্যের প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। কিন্তু শেষ দিকে তাদের রক্ষণভাগ চিড়ে ফেলতে সফল হয় টটেনহ্যাম। লিগের পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেও তৃতীয় হার বরণ করে নিতে হয়। পাঁচ ম্যাচে দুই ড্র ও তিন হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশন অঞ্চলে টটেনহ্যাম। ১৮ নম্বরে তারা। আর প্রথম জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে ১৫তম ভিলা।