খেলাধুলা

আজ থেকে বাংলাদেশি বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়াঙ্গনের মাইলফলকের দিন আজ। হকির যে কোনো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে নামছে বাংলাদেশ। ‘এফ’ গ্রুপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাল-সবুজের যুবাদের স্বপ্নের বিশ্বকাপে অভিষেক হবে। অনূর্ধ্ব-২১ আসরেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হচ্ছে।

 

আগামীকাল দক্ষিণ কোরিয়া ও ২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশি যুবারা। শক্তির বিচারে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই হারার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও, বিশ্বকাপে নাম লেখানোয় এটাই দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। হকির যেকোনো আসরে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে এ নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। দেশের বাইরে বিশ্বকাপ হওয়ায় অনেকে হয়তো জানেন না যে বাংলাদেশ খেলছে। তবু আলোচনা হোক বা না হোক, সত্য হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দল বিশ্বকাপে খেলছে এবং এটি গৌরবের। ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাইয়ে এবারের যুব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শেষ হবে ১০ ডিসেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ আজ বিকাল ৪টায়।

বাংলাদেশের দল ১৮ নভেম্বর ভারতে পৌঁছে। সেখানে অনুশীলন এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে তারা জোর বাড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে চিলিকে ৩-০ এবং পরের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে। যদিও চিলি ও সুইজারল্যান্ড হকিতে খুব শক্তিশালী দল নয়, জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে।

অধিনায়ক মেহরাব হোসেন বলেন, ইউরোপের দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আমাদের পারফরম্যান্স ও মনোবলে শক্তি যোগাবে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব হকির পরাশক্তি, তবে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চেষ্টা করব। তিনটি ম্যাচই কাছাকাছি সময়ে, তাই সতর্ক থাকতে হবে এবং ইনজুরি এড়িয়ে চলতে হবে।

সহকারী কোচ মশিউর রহমান বলেন, তিন প্রতিপক্ষই আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। তবে আমরা সেরাটা প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। প্রথম বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। সবাই সুস্থ এবং কোনো সমস্যা নেই। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা।

 

গত বছর ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে পঞ্চম হওয়ার সুবাদে এই সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াও জুনিয়র দলের পাঁচ খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্লে-অফ ম্যাচ খেলেছেন। তাই বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে দলের প্রস্তুতি এবং অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
৫ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ইমন

গতকাল আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ষোড়শ আসরে সুপার সিক্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন বাংলাদেশের ডান-হাতি পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। যুব ওয়ানডেতে এই নিয়ে তৃতীবার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার করলেন ইমন। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। বাঁ-হাতি স্পিনার সালেহ আহমেদ শাওনও যুব ওয়ানডেতে ইনিংসে ৩বার পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছিলেন। এবার শাওনের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইমন। যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারে শাওন ৪০ ম্যাচে মোট ৭৬ উইকেট শিকার করেছেন। ইমনের শিকার ৫৫ ম্যাচে ৮৯ উইকেট। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে যুব ওয়ানডেতে দু’বার করে ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার, আবুল হাসান, আল ফাহাদ ও সঞ্জিত সাহা। এবারের বিশ্বকাপের সুপার সিক্স থেকে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ যুব দল। গ্রুপ পর্ব থেকে যোগ হওয়া ২ ও সুপার সিক্সের ২ ম্যাচ মিলিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে ছিল তারা। সেমিফাইনালে খেলতে হলে সুপার সিক্সের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে হত বাংলাদেশকে। সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানে হারায় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবার পর টানা তিন আসরের সেমিফাইনালের গন্ডি টপকাতে পারল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করছে পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

স্টেডিয়ামে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি, নতুন নীতিমালা কার্যকর করল বিসিবি

সংগৃহীত ছবি

ভুটানের জালে ১২ গোলের উৎসব বাংলাদেশের মেয়েদের

ছবি : সংগৃহীত
আড়াই কোটি টাকার নতুন টুর্নামেন্টের কোচ-অধিনায়ক যারা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফলে দেশের ক্রিকেটাররাদের এখন কোন কাজ নেই। এই সময়ে তাদের খেলার মধ্যে রাখতে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। দেশের সেরা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপ ২০২৬। টুর্নামেন্টে তিনটি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। যেখানে ধুমকেতু একাদশের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। দুর্বার একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দুরন্ত একাদশের নেতৃত্বে থাকবেন আকবর আলি। এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও পুরস্কার মিলিয়ে সর্বমোট খরচ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোচিং বিভাগেও রয়েছে তারকা সব কোচরা। ধুমকেতু একাদশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তার সহকারী হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দুর্বার একাদশের কোচিং প্যানেলে প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও সহকারী কোচ তুষার ইমরান। আর দুরন্ত একাদশের প্রধান কোচ হান্নান সরকার, সহকারী কোচ হিসেবে আছেন রাজিন সালেহ আলম। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম, যা ম্যাচের কৌশল ও পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে বিসিবি। টি–টোয়েন্টি কাপের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো, আর ৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন ম্যাচের আগে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে পরিবেশনা, এরপর সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে দিনের খেলা। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ইস্টার্ন গ্যালারির জন্য ১০০ টাকা, নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ডের ২০০ টাকা, ক্লাব হাউসের টিকিট ৫০০ টাকা এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ১,০০০ টাকা।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
উইকেট লাভের পর ইমনের উদযাপন। ছবি : বিসিবি

জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান সমাপ্তি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাব দিয়ে উগান্ডার পোস্ট- ‘পাসপোর্ট গরম’

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসিসি ও ক্রিকেটার সংগঠনের সংঘাত তীব্র

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নতুন এক ঝামেলায় পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) আইসিসিকে তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; এবার ডব্লিউসিএ ও আইসিসি মূলত ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অধিকার, ছবি ও তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, ২০২৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে যে নতুন শর্ত পাঠিয়েছে, তা ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে মিলে না। সংগঠনটির মতে, নতুন শর্তগুলো অনেক বেশি ‘শোষণমূলক’ এবং খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট গত ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো এক মেমোতে আটটি ক্ষেত্রে আইসিসির অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার, বাণিজ্যিক লাইসেন্স এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, আইসিসি ও সদস্য বোর্ডগুলো খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সুরক্ষাগুলো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এমনকি তাদের ‘মালিকানা’ দাবি করছে। প্রথম চুক্তিতে বলা হয়েছিল, সব বিষয়ে খেলোয়াড়রা নিজেরা বা সংগঠনের মাধ্যমে দর-কষাকষি করতে পারবেন। কিন্তু আইসিসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, বোর্ড যা বলবে তা-ই কার্যকর হবে এবং খেলোয়াড়দের সম্মতির প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার নিয়ে নতুন শর্ত বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আইসিসি চায়, কোনো তৃতীয় পক্ষ খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহার করতে পারবে এবং বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তা বাণিজ্যিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ডব্লিউসিএ এর বিরোধী, বলছে তথ্যের মালিকানা খেলোয়াড়ের এবং তাদের অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা যাবে না। আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তি কেবল আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য। এই আট বোর্ড হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলার শর্ত মেনে না নেওয়ায় এই তালিকায় নেই। বাকি ১২টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও আরব আমিরাতের বোর্ড ডব্লিউসিএকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এসব দেশের খেলোয়াড়রা সংগঠনের সদস্য নয়। অন্যদিকে ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার খেলোয়াড়রা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কোনো শর্তাবলি পাননি। মোফাট জানিয়েছে, ডব্লিউসিএ বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চায় না। তবে আইসিসির শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর ভিন্ন শর্ত চাপানো দুঃখজনক। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টই আয় করার প্রধান উৎস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কম বেতন পাওয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড়দেরই এই শোষণমূলক চুক্তির লক্ষ্য করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইসিসি ডব্লিউসিএর পরবর্তী চিঠির জবাব দেয়নি। ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদনের প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই দ্বন্দ্ব বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিতর্ক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও বোর্ড উভয়ের জন্যই চাপ এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
পাকিস্তান ক্রিকেট দল । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর সময় পেরিয়ে গেছে

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে নীরবতা ভাঙল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফে আবার মুখোমুখি রিয়াল ও বেনফিকা

0 Comments