অর্থনীতি

ঢাকায় আগামীকাল শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

দেশের সম্ভাবনাময় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্যে আগামীকাল রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো ২০২৬।

আয়োজকরা জানান, এই এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প সক্ষমতা প্রদর্শন, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক্সপো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইআইওএ) সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসি৪জে) প্রকল্পের সহায়তায় আগামী ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক্সপোটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ইসি৪জে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম খান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এফবিসিসিআই, বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বার ও সংগঠনের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

খাতটির গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, কৃষি, বস্ত্র, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল এবং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সরবরাহ করে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে ৩ লাখেরও বেশি দক্ষ শ্রমিক কর্মরত।

এই খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলারের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেকই দেশীয়ভাবে পূরণ করা হচ্ছে। যেখানে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি ধরনের যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ, টুলস, ডাইস, মোল্ডস ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং উপকরণ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে এখনও যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি হলেও প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনও ১ শতাংশের নিচে।

বর্তমানে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত থেকে রপ্তানি আয় প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার। যথাযথ নীতি সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রপ্তানি আয় ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই এক্সপো কেবল প্রদর্শনী নয়, এটি একটি কার্যকর সোর্সিং ও নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে। যা নির্মাতা, ক্রেতা, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সরাসরি সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর, ব্যবসায়িক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

এক্সপোতে নির্মাণ ও প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি, কৃষিযন্ত্র, বৈদ্যুতিক পণ্য, পাট ও বস্ত্র যন্ত্রাংশ, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ডাইস ও মোল্ডসসহ হাজারো শিল্পপণ্য প্রদর্শিত হবে। এতে ৫০টির বেশি স্টলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।

এক্সপোর পাশাপাশি দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একটি সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে এবং অন্যটিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআইওএ সভাপতি খাতটির টেকসই উন্নয়নে বেশ কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তিনি রপ্তানি উপযোগী হতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পণ্য বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তি স্থানান্তর ছাড়া উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। এ জন্য নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরকারি সহায়তা জরুরি। তিনি কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো এবং সহজ আমদানি সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন, ভারত এবং ভিয়েতনামের থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নকশা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ও ডাই ডিজাইন সুরক্ষার জন্য সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী পেটেন্ট ও ডিজাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি নারী ও তরুণ কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া, রপ্তানিমুখী ও রপ্তানিযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নগদ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অগ্রাধিকার সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কাঁচামাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং আশা করছেন সরকার শিগগিরই সমাধান দেবে।

তিনি শুল্ক কাঠামোর বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, যেখানে প্রস্তুত পণ্যের আমদানি শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ, সেখানে একই পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত। এই বৈষম্য দূর করে দেশীয় উৎপাদন সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এই এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের দৃশ্যমানতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বিইআইওএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালকরা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইসি৪জে প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সোমবার প্রস্তাব দেবে শ্রমিকপক্ষ

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মজুরি বোর্ডের সভায় প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে শ্রমিকপক্ষ। তবে এখনো নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি মালিকপক্ষ, এ বিষয়ে তারা কাজ করছেন।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ সভায় উভয় পক্ষকে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল মজুরি বোর্ড। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিক— উভয় পক্ষই পরবর্তী সভায় নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপনে সম্মত হয়।   সেই অনুযায়ী, সোমবারের সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব তুলে ধরবে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সভায় তাদের অবস্থান কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।   ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, আগামীকালের সভায় উপস্থাপনের জন্য আমরা এখনো ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করে মজুরি বোর্ডে উপস্থাপন করবো।   তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, যা শ্রমিকদের বর্তমান দাবি; অথবা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সুপারিশ এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পোশাকশিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে মজুরির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।   এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে রোববার ৪০টি কারখানা বন্ধ থাকায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। তবে আমরা সভায় রয়েছি এবং মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আলোচনার পর আমাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। সেটি সোমবার জমা দেওয়া হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে।   পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৪ নভেম্বর। ওই সভায় উভয় পক্ষকে মজুরি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়।   শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার এর আগে শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত মজুরি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান।   বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ মজুরি কাঠামোয় এ মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শ্রমিকপক্ষের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।   ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইদ আজাদ সুবহানি। বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও রয়েছেন।   এর আগে নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কথা জানা যায়। সে অনুযায়ী, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে জানুয়ারি মাসে শ্রমিকেরা নতুন হারে বেতন পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মাথাপিছু বিদেশি ঋণ ৮০ হাজার ৩৩০ টাকা: বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি

রোজায় ১০ পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এল ঋণের চিত্র, ১০ বছরে তিন গুণ বাংলাদেশের বিদেশি দেনা

শেয়ারবাজারের এক প্রান্তে পতন, অন্য প্রান্তে উত্থান

শেয়ারবাজারে মূল মার্কেটের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে যখন দুর্বলতার চিত্র দেখা গেছে, তখন বিপরীত পথে হেঁটেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনি কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম এসএমই বোর্ড। প্রধান ‍ শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান তিন সূচক কমলেও সপ্তাহজুড়ে এসএমই বোর্ডের সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা ০.৬১ শতাংশ। ডিএস৩০ সূচক ০.৭৯ শতাংশ এবং ডিএসইএস সূচক ১.৮৪ শতাংশ কমেছে। তবে এর বিপরীতে এসএমই বোর্ডের সূচক ডিএসএমইএক্স ৯৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ০.৬৩ শতাংশ বেশি। বাজারের এই ভিন্ন চিত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, মূল বাজারের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে চাপ থাকলেও এসএমই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। যদিও সূচকের এই বৃদ্ধি দিয়ে সামগ্রিক এসএমই বাজারে শক্তিশালী প্রবণতা তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, মূল বাজার ও এসএমই বোর্ডের সূচকের বিপরীতমুখী অবস্থান বিনিয়োগকারীদের বাজারে অংশগ্রহণের ধরন ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করেছে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে: প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন

চামড়াশিল্পে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।   এর আগে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব ওয়ালীউল দামান। এর ফলে ৭ নভেম্বর দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সাধারণ ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিবসটি প্রতিবছর সরকারি ছুটির আওতায় পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

ঋণের বাইরে কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ, সম্ভাব্য তহবিল ২ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

মানি চেঞ্জারদের কাস্টডিয়াল হিসাব খোলার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

0 Comments