নতুন বাজেট ঘোষণার পর ভারতের শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ফিউচার্স ও অপশন (এফ অ্যান্ড ও) ট্রেডে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (এসটিটি) বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি হ্রাস পেয়েছে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) দ্য ইকোনোমিকস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৮০ হাজার ৭২২ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৪৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে লেনদেন শেষ হয়েছে। এই পতনকে গত কয়েক বছরের মধ্যে বাজেট দিনের সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার মূলধনের ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপির কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মূলধন ৯ লাখ ৭২ হাজার কোটি রুপি কমে ৪৫০ দশমিক ১৫ লাখ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ফিউচার্সে এসটিটি শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ করা হবে। অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজে এসটিটি ০ দশমিক ১০ শতাংশ ও ০ দশমিক ১২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য এফ অ্যান্ড ও সেগমেন্টে অতিরিক্ত স্পেকুলেশন কমানো এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু এতে ব্রোকারেজ, এক্সচেঞ্জ ও ট্রেডিং-সংশ্লিষ্ট স্টকগুলোতে তীব্র বিক্রি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনসেক্সের ৩০টি স্টকের মধ্যে এসবিআই, আদানি পোর্টস, বিএইএল, আইটিসি, টাটা স্টিল, হিন্ডালকো, ওএনজিসি-সহ অনেকগুলো ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ব্রোকারেজ ফার্ম যেমন অ্যাঞ্জেল ওয়ান, বিএসই, গ্রো-এর শেয়ার ৮ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেট ভারতের সংস্কারের পথে নতুন গতি যোগ করেছে। যুবসমাজের জন্য মুক্ত আকাশ খুলে দিয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি কমানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি বিকশিত ভারতের দিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদন দিলেই হামলা হতে পারে বলে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের একটি মিত্র দেশের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন মার্কিন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই হামলা শুরু হবে বলে মিত্র দেশটিকে জানানো হয়েছে। আরব সরকারগুলোর পরামর্শক এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনানুষ্ঠানিক এক উপদেষ্টা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজকে বলেছেন, এই হামলার মূল লক্ষ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়, বরং শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করে দেশটিতে রেজিম পরিবর্তন ঘটানো। কারণ মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীরা মনে করছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে পারলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক, ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান সরকার ও বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্ব ও সক্ষমতা ধ্বংস করাও দেশটির লক্ষ্য। ড্রপ সাইটকে দুজন জ্যেষ্ঠ আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী যে কোনো মুহূর্তে হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প নিজেও শুক্রবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে বিশাল মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো এখন চরম সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আজারবাইজান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় ইরানও নজিরবিহীন পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, আমেরিকানরা যদি মনে করে দুই ঘণ্টার অপারেশন চালিয়ে টুইট করে যুদ্ধ শেষ করে দেবে, তবে তারা ভুল স্বর্গে বাস করছে।
সামরিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাধ্যমে ইরানকে আবার পারমাণবিক আলোচনায় ফেরাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই কৌশল উল্টো ফল দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইভান সাশা শিহান। ওয়াশিংটনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করতে চাইলেও বাস্তবে এতে সরকার আরও সংহত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, দীর্ঘদিনের বাইরের চাপের মধ্যেও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রা ধসের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও ইরান সরকার স্বীকার করেছে প্রায় তিন হাজার মৃত্যুর কথা। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জোরদার ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে শিহান বলেন, শুধু অর্থনৈতিক সংকট বা বিক্ষোভ দিয়ে শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়, যদি না ভেতর থেকে সংগঠিত বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। তিনি সতর্ক করেন, সামরিক হামলা হলে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়তে পারে, যার ফলে সরকার বিরোধীদের দমন আরও সহজে করতে পারবে। তার মতে, সামরিক পথের বদলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ ও আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পন্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে এবং চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মূলত দেশের ভেতরের পরিস্থিতির ওপর। বাইরের চাপ পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে পারে, কিন্তু তা পরিবর্তন এনে দিতে পারবে না।
গাজা উপত্যকাজুড়ে শনিবার ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খবর বিবিসির। হামাস পরিচালিত গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণের খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর পর এটিই সবচেয়ে জোরালো হামলা। গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আগের দিন হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুপক্ষই। ইসরায়েল জানায়, পূর্ব রাফায় ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো থেকে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি বের হতে দেখা যাওয়ার পর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অস্ত্রের গুদাম, উৎপাদন কেন্দ্র ও হামাসের কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। হামাস এ হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এসব হামলা প্রমাণ করে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয়। এদিকে গাজা নগরীর শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশু ও দুই নারী নিহত হয়েছেন।