অন্যান্য

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের যুক্ত না করার আহ্বান বিএনপির

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো একটি জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা সমীচীন নয়। এতে তারা এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হয়ে পড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা উচিত।

 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানায় বিএনপি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান।

 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানিয়েছি—অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের এমন জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা ঠিক হবে না। এ কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংক্রান্ত আইনে যাদের দায়িত্ব নির্ধারিত আছে, নির্বাচনী কাজে তাদেরই ব্যবহার করা উচিত। আমরা জানতে পেরেছি, শিক্ষার্থীদের পর স্কাউটদেরও যুক্ত করার চিন্তা করা হতে পারে। কমিশন আমাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।

 

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচনি এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের একটি গুঞ্জন আমরা শুনেছি। ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। পাশাপাশি আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। আইনে সরাসরি বাধা না থাকলেও, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ত্যাগ করা উচিত। কমিশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রায় ৫৫ হাজারেরও বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আমরা কমিশনকে বলেছি, বিষয়টি তারা যথাযথভাবে যাচাই করেছেন কি না। আমাদের মতে, যাদের পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে, তাদেরই এ দায়িত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যেন নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটায়, সে দিকেও নজর দিতে হবে।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। যদিও কমিশনের মতে এ সংখ্যা মাত্র দুই থেকে তিন হাজার, তবে আমরা এ তথ্যে সন্তুষ্ট নই। আমাদের ধারণা, কমিশনকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। অনেক হোল্ডিং নম্বরে যেখানে চার-পাঁচজন ভোটার থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার থাকার অভিযোগ রয়েছে। আমরা আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য জানতে চেয়েছি এবং কমিশন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমিশনকে সাংবিধানিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি এলাকায় ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেও সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের কাছে এর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। এ কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এআই যুগে চিন্তার গভীরতা কেন আরও জরুরি: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ, লেখা তৈরি, কোডিং কিংবা নকশা প্রণয়নের মতো বহু কাজ এখন অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মানুষের হাতে অতিরিক্ত সময় তৈরি হচ্ছে, যা নতুন করে ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি কাজের গতি বাড়াতে পারলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী শিক্ষাও মানুষের চিন্তা, আত্মসমালোচনা এবং সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।   ইসলামী পরিভাষায় কাজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—একটি হলো বাস্তব কর্ম বা ‘আমল’, অন্যটি হলো গভীর চিন্তা, পরিকল্পনা ও উপলব্ধি, যা ‘তাদাব্বুর’ নামে পরিচিত। আধুনিক প্রযুক্তি আমলের গতি বাড়াতে সক্ষম হলেও তাদাব্বুর বা প্রজ্ঞাভিত্তিক চিন্তার দায়িত্ব মানুষেরই।   চিন্তাকে গভীর করার পাঁচটি অভ্যাস:   ১. নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা: ইসলামে প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা—কেন এই কাজটি করছি—তা সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।   ২. নির্জনে চিন্তার সময় রাখা: কোরআনে বারবার চিন্তা ও আত্মমন্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় একান্তে চিন্তার জন্য বরাদ্দ রাখা সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞা বাড়াতে সহায়ক।   ৩. পরামর্শ গ্রহণের অভ্যাস: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শ বা ‘মশওয়ারা’ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী মানুষের পরামর্শ অনেক সময় প্রযুক্তিগত তথ্যের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করা: ইস্তিখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সব জ্ঞান ও পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।   ৫. ধীরস্থিরতা বজায় রাখা:  তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সময় নিয়ে চিন্তা করা এবং তাড়াহুড়া এড়িয়ে চলা ইসলামে প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে বিবেচিত। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বিরতি আরও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।   বেঁচে যাওয়া সময়ের সঠিক ব্যবহার:   প্রযুক্তি মানুষের সময় সাশ্রয় করছে, কিন্তু সেই সময় কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে সময় একটি আমানত, যার সঠিক ব্যবহারের জন্য মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে।   পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া, আত্মউন্নয়ন কিংবা ইবাদতের জন্য সময় ব্যয় করা—এসবই সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার হতে পারে।   প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করছে, তবে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং গভীর চিন্তার বিকাশ ছাড়া সেই অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না। তাই এআই যুগে প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রজ্ঞা, সচেতনতা ও আত্মিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিন্তাবিদরা।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
ফাইল ছবি

দিল্লি বিমানবন্দর ইস্যুতে ভারতের জবাবে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা

ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ৪ দিনেই হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরনো মামলার নিষ্পত্তি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা।

‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না’: যুবদল নেতারা

ছবি : সংগৃহীত
ইউপি মেম্বার থেকে এমপি হওয়ার এক অবিরাম যাত্রার গল্প

ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল গফুর।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   আব্দুল গফুর বলেন, তিনি সবচেয়ে নিচু স্তর থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে পরে চেয়ারম্যান, এরপর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে কোনও বিরতি ছিল না বলেও সংসদকে জানান তিনি।   বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল গফুর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন।   তিনি বলেন, এই বাজেটে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে। বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর, বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এতে রয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা একেবারেই অসম্ভব।   শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আব্দুল গফুর বলেন, শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হলেও আগের বক্তাদের সূত্র ধরে তিনি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিপুল অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের নির্বাচনি এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা নেই। বর্ষাকালে চাল দিয়ে পানি পড়ায় খাতা-পত্র ও বসার স্থান রক্ষায় প্লাস্টিক বা ওয়েল পেপার ব্যবহার করতে হয়। অথচ কতটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।   স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে ১ থেকে দেড় হাজার রোগী সেবা নেন।   ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে রোগীরা তো বটেই, সুস্থ মানুষও গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের এই দুরবস্থা দূর করতে তিনি অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   এছাড়া ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার এলাকার এক দরিদ্র রোগীর দিনের পর দিন বারান্দায় পড়ে থাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসা খাতের এই অনিয়মগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।   নিজের এলাকার নদীভাঙন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ভেড়ামারা ও মিরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর একটি অংশে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। কিছুদিন আগে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি নিজেও পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন। গত বছর থেকেই ভেড়ামারার চারটি ইউনিয়ন নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   আব্দুল গফুর আক্ষেপ করে বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধে যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন, প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ২ জনের একাডেমিক দায়িত্ব স্থগিত

সংগৃহীত ছবি

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি বিএনপি এমপির

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়ের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী: জাহাজ থেকে নামা পণ্যের অনন্য মার্কেট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এখন শুধু জাহাজভাঙা শিল্পের জন্যই পরিচিত নয়, বরং কম দামে বিদেশি ও মানসম্পন্ন ব্যবহৃত পণ্য কেনার জন্যও ক্রেতাদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভাঙা জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা নানা ধরনের আসবাব, ইলেকট্রনিকস ও শৌখিন সামগ্রীর বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে এখানে।   ভাটিয়ারীর বিভিন্ন দোকানে ঘুরলে দেখা যায়, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, সোফা, ডাইনিং টেবিল, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে পুরোনো কম্পাস, জাহাজের স্টিয়ারিং, পিতলের বাতি, দেয়ালঘড়ি ও বিদেশি চিত্রকর্ম পর্যন্ত পাওয়া যায়। অনেক পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ইতিহাস।   জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন জাহাজের আসবাব, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নাঘরের উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলো ভাটিয়ারীর বাজারে আসে এবং ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়।   ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশি জাহাজ থেকে আসা এসব পণ্যের মান সাধারণত ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। নতুন পণ্যের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সম্ভব হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।   ক্রেতাদের ভাষ্য, ভাটিয়ারীতে একবার এলে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেরা কঠিন। কারণ নানা ধরনের ব্যতিক্রমী ও সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী সহজেই নজর কাড়ে। বিশেষ করে ঘর সাজানোর শৌখিন পণ্যগুলোর প্রতি অনেকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে।   স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক দশকের ব্যবধানে ছোট আকারের এই বেচাকেনা এখন বড় একটি বাজারে রূপ নিয়েছে। জাহাজভাঙা শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাটিয়ারীও হয়ে উঠেছে পুরোনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য বিদেশি পণ্যের অন্যতম বড় কেন্দ্র।   কম দামে ঘর সাজানোর সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস কিংবা ব্যতিক্রমী সংগ্রহযোগ্য জিনিস খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য ভাটিয়ারী হতে পারে একটি ভিন্নধর্মী কেনাকাটার গন্তব্য।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পিকে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের জেল

ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

নতুন কর্মসূচি দিল ১১ দলীয় জোট

0 Comments