থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শেষ হয়েছে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল। রোববার এই টুর্নামেন্টের মধ্যেই সাফের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পরই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ড্র সম্পন্ন হয়। ড্রয়ে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে পড়ে, যেখানে অন্য দুই দল হলো শক্তিশালী ভারত ও পাকিস্তান।
আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্ট, যা মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে ৩ এপ্রিল। এই আসরে সাফের সাত দেশের সব দলই প্রতিনিধিত্ব করবে।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাবিকে আইসিসি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটি ভারতে খেলতে যাচ্ছে না। পাকিস্তানও বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বিশ্বকাপ বয়কটের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টে তিন দেশ একই গ্রুপে পড়েছে।
অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনালে উঠবে।
মালদ্বীপ এবারই প্রথম আয়োজক হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই পর্যায়ে এর আগে দুইবার সাফের আসর বসেছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল ভারত, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
অনূর্ধ্ব-২০, ১৯ ও ১৮ পর্যায়ের আসরগুলো যুব সাফ হিসেবে বিবেচিত হয়। অ-১৮ ও অ-১৯ পর্যায়ে ভারত দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের এই দুই আসরে এখনও শিরোপা নেই, যদিও চারবার রানার্সআপ হয়েই তারা শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অবশেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিসিবি প্রধান। যেখানে মহসিন নাকভি নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের সবরকম বিকল্প নিয়ে ভাবতে বলেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার বা সোমবার জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সমর্থন করে এসেছে তারা। শুধু তাই নয়? বাংলাদেশের প্রতি এমন অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদস্বরূপ বিকল্প পরিকল্পনারও সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেজন্য পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে যেতে রাজি না হওয়ায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় এনেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বয়কট করলে আইসিসির বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। সবমিলিয়ে সরাসরি বয়কটের পরিবর্তে বিকল্প প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়েও ভাবনা চলছে পিসিবির ভেতরে। প্রথম বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা কালো বাহুবন্ধনী (ব্ল্যাক আর্মব্যান্ড) পরে মাঠে নামতে পারেন। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আচরণকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল যে ম্যাচগুলোতে জয় পাবে, সেগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে জায়গা করে দিয়েছে আইসিসি। এ নিয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আলোচনা চলছেই। এই তালিকায় এবার যোগ দিলেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া; আইসিসির সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়? বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্যও করেন তিনি। তার ধারণা, বাংলাদেশ সম্ভবত পাকিস্তানের প্ররোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না।’ বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক বলে মনে করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। তিনি বলেন, একটি ভুলের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলো, তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। মদন লাল মনে করেন, বাংলাদেশের মতো একটি দলের জন্য বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ বর্জন করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। আপনি যদি এত বড় একটি ইভেন্ট মিস করেন, তবে আইসিসি কোনো না কোনো অবস্থান তো নেবেই। তারা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে একদম সঠিক কাজ করেছে।’ কারণটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মদন লালের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল এই বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরে আসরগুলোতেও বাংলাদেশকে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ, আইসিসি যদি আগামী বিশ্বকাপেও তাদের খেলতে না দেয়, তবে বাংলাদেশ বোর্ড সম্ভবত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটি একটি বিশাল ক্ষতি এবং বর্তমান সময়ে খেলাধুলা মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পরিচালিত হয়।’ আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে মদন লাল দাবি করেন, বিসিবির কূটনৈতিক ব্যর্থতা এখানে স্পষ্ট। তার কথা, ‘যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হতো, তবে তা অনেক ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল। ১৪টি ভোটের বিপরীতে আপনাদের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়েছে। মিটিংয়ের আগেই আপনাদের কিছুটা ধারণা নেওয়া উচিত ছিল যে আপনারা কতগুলো ভোট পাবেন। অন্তত ৫-১০টি ভোট পেলেও নাহয় একটি কথা ছিল।’