ওমানের মুতরাহ কেবল কার প্রকল্প–এ নির্মাণকাজ চলাকালে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রকল্পের ডেভেলপার সাবিন ইনভেস্টমেন্ট শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের একজন ইতালীয় এবং অন্যজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকল্প এলাকার একটি সাইটে কাঠামোগত ইনস্টলেশন কাজ (structural installation) চলার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং তাদের স্বজনদের জন্য ধৈর্য কামনা করেছে।
জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনা-অনুমানের প্রেক্ষিতে সাবিন ইনভেস্টমেন্ট স্পষ্ট করেছে, ঘটনাটি কেবল কার সিস্টেমের কোনো ট্রায়াল বা অপারেশনাল টেস্টিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটি নির্মাণ বাস্তবায়ন পর্যায়ের ইনস্টলেশন কাজের সময় ঘটেছে বলেই উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। কোম্পানিটি বলেছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে এবং সরকারি তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স অথরিটিসহ সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি, সব প্রকল্প সাইটে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উত্তপ্ত বায়ুপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং রাজধানী প্যারিসে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিম শহরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এছাড়া মার্সেইয়ে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, লিওঁতে ৪১ ডিগ্রি এবং প্যারিসে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না। অতিরিক্ত গরমের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পানিতে ডুবে মারা গেছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে জলাশয়ে নামার সময় গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিম শহরে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মার্সেই ও লিওঁ শহরে হিটস্ট্রোকে তিন প্রবীণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং ফুড ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র রোদ ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করায় তাদের মধ্যে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার আশঙ্কা বেড়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা প্রবাসীদের পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শহরে শীতল কেন্দ্র ও পাবলিক পার্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান এলাকার ওয়ান সাউথ প্লাজায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৫৩ জন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ, খাবারের কিয়স্ক ও বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে এক মালয়েশীয় নাগরিককে সমন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক সব বিদেশিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থান প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পেশাগত ফিটনেস ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা নিয়মিত যাচাই করা হবে। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে নতুন কর্মীদের চাকরিতে যোগদানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের এবং পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের কর্মীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মী স্বাস্থ্য বা পেশাগত সক্ষমতার পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে তিনি তার বর্তমান দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য উপযুক্ত অন্য কোনো পেশা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া কাজে যোগদানের সুযোগ থাকবে না। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, পেশাগত অসুস্থতা, কাজের ধরন পরিবর্তন অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মীদের পুনরায় স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদেরও নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।