আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই সমীকরণের মূলেই রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে গড়ে ওঠা নির্বাচনী সমঝোতা। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই জোট শুধু নির্বাচনের আগ মুহূর্তেই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এনসিপি নেতাদের মতে, এবারের নির্বাচন দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতায় যাওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ ও বিভাজন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, এই জোটের মাধ্যমে দলটি তার ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাদের মতে, নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আপস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জোটপন্থি নেতারা বলছেন, এটি কোনো আদর্শিক ঐক্য নয়। বরং নির্বাচন সামনে রেখে একটি সীমিত ও কৌশলগত সমঝোতা। ভোটের মাঠে পারস্পরিক শক্তি ও সংগঠনকে কাজে লাগানোই এই বোঝাপড়ার মূল উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবেই সাধারণত এ ধরনের জোট গড়ে ওঠে, বিশেষ করে ছোট দলগুলো এই সুবিধা নেয়।
একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে জোট রাজনীতি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট হতে পারে। উচ্চকক্ষের সুযোগ থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের জোট আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপিকে তাদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি সম্পূর্ণ নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৩০টি আসন নিয়ে এই সমঝোতা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে এনসিপি প্রার্থীদের জন্য জামায়াত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে।
এনসিপির নেতারা বলছেন, নানা পক্ষ মাঠে নেমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল বলে তারা জানান। জামায়াতের সঙ্গে মূলত বিচার, সংস্কার ও মৌলিক ইস্যুতে ঐক্য হয়েছে।
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, সংস্কার, সুষ্ঠু বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক বাক্সে ভোট নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি আদর্শিক কোনো জোট নয়।
যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানও জানান, এটি শুধু নির্বাচনী কৌশল। প্রত্যেক দল নিজ নিজ আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই নির্বাচনে অংশ নেবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এনসিপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাদের মধ্যে ডা. তাসনিম জারা ও মীর আরশাদুল হক উল্লেখযোগ্য। মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের পর বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন—খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, মুশফিক উস সালেহীন, ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেলসহ অনেকে। এছাড়া কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জোটের বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে দুজন মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াত এনসিপির জন্য নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। তার মতে, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, বিচার ও সংস্কারের দর্শনের সঙ্গে জামায়াতের অবস্থান সাংঘর্ষিক।
তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, এখনো কোনো পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। পদত্যাগকারী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং তারা অনেকেই দলে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদস্য সচিব আখতার হোসেনও জানান, দলীয় ঐক্য বজায় রাখতেই পদত্যাগকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে একদিনের ব্যবধানে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এবার নিহত হয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। রোবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমশের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. নাছির উদ্দিন (৪৬) স্থানীয়ভাবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা নাছির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলিতে তার পেটে আঘাত লাগে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির উদ্দিনের শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি পেটে বিদ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির হাফেজ আবুল হাসেম এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নাছির উদ্দিন যুবদলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি। রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তবে হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। রাউজানে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাউছার উর জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামের এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে, ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহে অনেকেই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও বমিভাবের মতো সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানি ও লবণের ঘাটতি তৈরি হয়, যা থেকে মাথা ঘোরা বা হিট এক্সহসশনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তা হিটস্ট্রোকে রূপ নিতে পারে, যা জীবনঝুঁকিও তৈরি করে। কেন মাথা ঘোরে? তীব্র গরমে শরীর অতিরিক্ত ঘাম ঝরায়। এতে, শরীর থেকে পানি কমে যায়। লবণ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। ফলে মাথা হালকা লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন * হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা * অতিরিক্ত ঘাম বা একেবারে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া * বমি বমি ভাব * মাথাব্যথা * দ্রুত হৃদস্পন্দন এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন মাথা ঘোরার অনুভূতি শুরু হলেই- ১. ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা জায়গায় যান। ২. রোদ থেকে সরে গিয়ে বসে বা শুয়ে পড়ুন। ৩. পানি বা স্যালাইন পান করুন। ৪. ধীরে ধীরে ঠান্ডা পানি বা ওআরএস পান করুন। ৪. শরীর ঠান্ডা করুন। ৫. মাথা, ঘাড় ও হাতে ভেজা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। ৬. টাইট পোশাক ঢিলা করুন। শরীরে বাতাস চলাচল বাড়াতে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ৭. একা থাকলে সাহায্য চান। ৮. অবস্থা খারাপ হলে আশপাশের কারও সহায়তা নিন। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন * অজ্ঞান হয়ে গেলে * শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে * বারবার বমি হলে * কথা জড়িয়ে গেলে বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে এগুলো হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। প্রতিরোধে যা করবেন * দিনের বেলা অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া * নিয়মিত পানি পান করা * হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা * ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা * বেশি গরমে কাজ কমানো
দর্শকনন্দিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণী নিয়ে কথা বলে আলোচনায় এসেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন বিভাগের ইনচার্জ আবু আজাদ। তার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি আবু আজাদের প্রশংসা করেন। এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত আরটিভি স্টুডিওতে আয়োজিত আরটিভি প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠানে আবু আজাদ ওই আলোচনা করেন। আলোচনায় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, সংবাদ উপস্থাপন ও কনটেন্টের মান উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন। আলোচনার স্লাইডে পেশাগত ছবি বা বার্তার পাশাপাশি বাঘ, হাতি, উল্লুক, ঘড়িয়াল, ভালুক, শকুন, ডলফিন, বনরুই, সুন্দরী হাঁসসহ দেশের বেশকিছু মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণীর ছবি সচেতনভাবেই তুলে ধরেন। যদিও এসব সরাসরি আলোচ্য বিষয়ের অংশ ছিল না। তবুও তিনি সারা দেশ থেকে আসা সহকর্মী সাংবাদিকদের সামনে এই প্রাণীগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে এবং তাদের সংরক্ষণ কতটা জরুরি এ বিষয়ে একটি নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা দেন। তার এই বিষয়টিই নজরে আসে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিকের। পরে তিনি আবু আজাদের প্রশংসা করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, আজ আরটিভির জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনের একটা বিষয় নতুন করে মনে করিয়ে দিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কারও একার দায়িত্ব নয়, এটা সবার। টেকনিক্যাল সেশনে সাংবাদিক আবু আজাদ দেশের মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। এমন প্ল্যাটফর্মে এই বিষয়টা আসা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমেই সচেতনতা সবচেয়ে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়। বন অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা লেখেন, এ ধরনের উদ্যোগই দেখায় সবার অংশগ্রহণ থাকলে মানুষ আর প্রকৃতির সহাবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ বিষয়ে আবু আজাদ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশন নয়, এটি সচেতনতা তৈরিরও একটি বড় মাধ্যম; এই বিশ্বাস থেকেই আমার এই ছোট প্রয়াস। আমার এই উপস্থাপনা দেখে যদি একজন সহকর্মীও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে ভাবেন বা কাজ করতে অনুপ্রাণিত হন, সেটিই হবে আমার জন্য গভীর তৃপ্তির।