প্রবাসী

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ 7 দিন: মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের লারনাকা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ আছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

 

তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, গত ১২ জুন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসমেইলের এক খবরে বলা হয়, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের ২২ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও মেলেনি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল।

 

নিখোঁজ এই শিক্ষার্থী সাইপ্রাসের তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত উত্তর অংশে চলে গেছেন, নাকি দ্বীপরাষ্ট্রটিই ত্যাগ করেছেন, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।

 

তবে সাইপ্রাসের ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ইমনের চলে যাওয়ার কোনো রেকর্ড বা নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি অবৈধ উপায়ে উত্তর অংশ পার হয়েছেন নাকি সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের ভেতরেই আছেন, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।

 

সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

পুলিশ বলছে, ইমনের মোবাইল ফোনের শেষ সিগন্যালটি কোফিনু পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু সেখানে তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন বাসে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল, কারণ তার নিজের কোনো বাহন নেই। ওই এলাকার বাস রুটগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ভিডিও খুঁজছে।

 

এরইমধ্যে ইমনের বাবা ছেলের সন্ধান চেয়ে গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ইমনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে সিআইডি লারনাকা অথবা ১৪৬০ নম্বরে সিটিজেনস লাইনে যোগাযোগ করার জন্য পুলিশ অনুরোধ করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসের ‘জুলাই ডায়লগে’ ঐক্য ও সংস্কারের আহ্বান

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘জুলাই ডায়লগ-২০২৬: স্মৃতি, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐক্য, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।   তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সুদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বৃহত্তর প্যারিসের পন্তা এলাকার একটি হোটেলে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।   এফবিজেএ সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মুখপাত্র ও ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-মুখপাত্র ও কালের কণ্ঠের ফ্রান্স প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তোহা।   সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।   বক্তারা জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, অর্জন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।   ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এসব আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।   সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের উন্নত বিশ্বের মানুষের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কারকে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশ ছাড়লেও দেশের বাইরে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যেকোনো বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   শফিকুল আলম জুলাই আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের সমর্থনে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি ফরাসি গণমাধ্যমে আন্দোলনের খবর প্রকাশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছে।   ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য দেশের বিভিন্ন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের অর্জন সংরক্ষণ ও তা এগিয়ে নিতে আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।   আলোচনায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রবাসী সাংবাদিকতার নানা চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে প্রবাসী সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী সমাজের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক আরও পেশাদার ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।   অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।   এফবিজেএর সদস্যদের মধ্যেও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য দেন কলামিস্ট নিয়াজ মাহমুদ, দৈনিক যুগান্তরের ফ্রান্স প্রতিনিধি সরদার হাসান ইলিয়াছ তানিম, ডেইলি সানের ফ্রান্স প্রতিনিধি মুমিন আনসারী, বাংলা ভিশনের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত, কালবেলার ফ্রান্স প্রতিনিধি মামুন মাহিন, পিএনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, লেখক হাবিবুল্লাহ ফাহাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর

ছবি: সংগৃহীত

ওমানের ভিসার নামে প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে সতর্ক থাকার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের সন্ধান, দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন, সভাপতি সুহেল ও সম্পাদক আশিক

ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য ১১ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহ সুহেল আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আশিক আহমেদ উল্লাস।   বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে প্যারিসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর।   শাহ সুহেল আহমদ রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক। অন্যদিকে আশিক আহমেদ উল্লাস দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।   নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন অবিরাম বাংলা ডটকমের উপ-সম্পাদক ও ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন।   এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি। প্রচার সম্পাদক হয়েছেন বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার।   ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ।   কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন।   সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটিকে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।   নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও শক্তিশালী করার জন্য সংগঠনটি কাজ করবে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   তারা আরও বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সাফল্য ও সম্ভাবনার খবর আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরাও সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদে মিলাদুন্নবী ২৫ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় হাসপাতাল মর্গে বাংলাদেশির মরদেহ, স্বজনদের খুঁজছে দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ব্রেন স্ট্রোকে আমিরাত প্রবাসী মুহাম্মদ রিদুয়ান তালুকদারের মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুহাম্মদ রিদুয়ান তালুকদার (৪৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।   মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ভোরে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   রিদুয়ান তালুকদার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব মেখলের বাকর আলী তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা এবং জালাল আহমদের ছেলে। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তার পা ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরিবারের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়।   শারজায় তার গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশের (স্পেয়ার পার্টস) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কারণে ব্যবসায় নিয়মিত সময় দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   পরিবারের সদস্যরা জানান, দেড় মাস আগে চিকিৎসা শেষে কিছুটা অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি পুনরায় আমিরাতে ফিরে যান। ব্যবসায় লোকসান, দেনার চাপ এবং দোকানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবসায় নতুন অংশীদার নেওয়া বা দোকান বিক্রির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি।   এরই মধ্যে গত ২৮ জুলাই রাতে শারজায় নিজ দোকানে তিনি হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বিষয়টি কেউ টের না পাওয়ায় পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি দোকানের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শারজার আল কাসিমিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একই দিন রাতে তাকে দুবাই কুয়েত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর ৩টা ১৬ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   মরহুমের ভাগিনা শরীফ ও ভাতিজা মিশু জানান, বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ায় অপেক্ষমাণ বাংলাদেশিদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চাইলেন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে ১০ দিনে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় আটক ৮৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাতে হাইকমিশনের তৎপরতা

0 Comments