১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মরণপণ লড়াই করল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমনদের ব্যাটে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপ আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় তীরে এসে তরী ডুবল টাইগারদের। দ্বিতীয় টি২০তে বাংলাদেশকে ৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া।
চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাট রেনশর বিধ্বংসী ৮৯ এবং টিম ডেভিডের ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
১৯৭ রানের বিশাল রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ যেভাবে শুরু করেছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান মাত্র ২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেন ৩৩ রান। তবে এই বিধ্বংসী জুটি বেশি দূর এগোতে পারেনি। ৪র্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে ১৫ বলে ৩০ রান করা তানজিদকে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ম্যাট রেনশ। এরপর উইকেটে এসে সৌম্য সরকারও (৯ বলে ১৫) দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৭৭ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নিয়ে আসেন। ১২ ওভারেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান। কিন্তু থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি দুই ব্যাটারই। প্রথমে অ্যারন হার্ডির বলে কাভারে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৬ রান করা পারভেজ। এর কিছুক্ষণ পর বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসের শিকার হন ৪২ রান করা সাইফ। দ্রুত এই দুই উইকেট পতনের পর কঠিন হয়ে পড়ে সমীকরণ। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান।
বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধীরগতির হয়ে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। ক্রিজে থাকা হৃদয় শেষ বল পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৩৫ রানে ক্যাচ আউট হন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
আগামী ২১ জুন একই ভেন্যুতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ব্রাজিল জাতীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে তিনি একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলের বর্তমান পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস বিবেচনায় এনে আনচেলত্তি মূলত একটি “নতুন কম্বিনেশন” গড়ে তুলতে চাইছেন। এতে করে নিয়মিত কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে হয়তো শুরু একাদশ থেকে বাইরে রাখা হতে পারে, আবার কিছু তরুণ খেলোয়াড় পেতে পারে বড় সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ব্রাজিল দলে ভারসাম্য আনা এবং আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই আরও স্থিতিশীলতা তৈরি করা। বিশেষ করে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং দ্রুত কাউন্টার-আক্রমণের কৌশলকে আরও কার্যকর করাই তার পরিকল্পনার অংশ। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, অনুশীলনে তিনি বিভিন্ন ফরমেশন পরীক্ষা করছেন—কখনো ৪-৩-৩, আবার কখনো ৪-২-৩-১। এর মাধ্যমে তিনি বুঝতে চাইছেন কোন কম্বিনেশন আন্তর্জাতিক ম্যাচে সবচেয়ে কার্যকর হবে। ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল-এর ভক্তদের জন্য এটি একদিকে যেমন নতুন আশার বার্তা, অন্যদিকে তেমনি কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় একাদশ নির্বাচন আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোচ আনচেলত্তি মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ে তুলতে হলে এখনই কিছু পরীক্ষামূলক পরিবর্তন প্রয়োজন। তাই সামনের ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল দলে ভিন্ন চেহারা দেখা যেতে পারে—যেখানে নতুন মুখের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ই হবে মূল চাবিকাঠি।
২০২৪ ইউরো কাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। কিন্তু কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অনুরোধ এবং দেশের প্রতি টান তাকে আবারও ফিরিয়ে আনে জাতীয় দলে। দীর্ঘ দুই বছর পর ফের গ্লাভস হাতে জার্মানির জার্সিতে দেখা যায় এই কিংবদন্তিকে। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এবার নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন—২০২৬ বিশ্বকাপই হবে জার্মানির হয়ে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ফলে ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তিনি বিশ্বমঞ্চেই। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নয়্যার স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। তার ভাষায়, এটি তার শেষ টুর্নামেন্ট এবং এরপর আর ইউরো বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার পরিকল্পনা নেই। নয়্যার আরও জানান, ২০২৪ ইউরোর পর অবসরের সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক—কারণ দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের চাপ ও দায়িত্ব সামলানো তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন হয়ে উঠছিল। দল থেকে বিরতি ভেঙে ফিরে আসার পরই নিজের পুরনো ছন্দে ফিরেছেন এই জার্মান তারকা। ফেরার ম্যাচেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি, যা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। এখন ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে—২০২৬ বিশ্বকাপে নয়্যার কি পারবেন নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি রাঙিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে?
২০২৬ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের ক্লাবে একাই ছিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে প্রমাণ করেছিলেন কেন তাকে সর্বকালের সেরাদের একজন ধরা হয়। তবে ভ্যানকুভারের এক রাত সেই একক ক্লাব আর একা রইল না-নতুন সদস্য হিসেবে সেখানে জায়গা করে নিলেন কানাডার জোনাথন ডেভিড। এই আসরে এটিই এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কানাডা। ২৯ মিনিটে তাজন বুকানানের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন ডেভিড। কাতার তখনো ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, কিন্তু প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়েই লারিনের অ্যাসিস্ট থেকে আবারও গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০, আর ডেভিড তখন হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধেও কানাডার দাপট থামেনি। নাথান সিলভা ব্যবধান আরও বাড়ান, এরপর কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে স্কোর হয় ৫-০। ম্যাচ তখন কার্যত একপেশে। শেষ পর্যন্ত নব্বই মিনিটের একেবারে শেষদিকে নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড। ৬-০ ব্যবধানে এই জয় শুধু একটি বড় ব্যবধানের ম্যাচ নয়, বরং কানাডার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্তও বয়ে আনে-বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে ভ্যানকুভারের এই রাতেই। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন জোনাথন ডেভিড, যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মেসির সঙ্গে একই হ্যাটট্রিক ক্লাবে নাম ওঠা নিছকই এক কাকতালীয় মিল হলেও, কানাডার সমর্থকদের কাছে এই রাতের নায়ক নিঃসন্দেহে জোনাথন ডেভিড।