জাতীয়

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সরকার

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরকার যেকোনো মূল্যে জনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

 

এতে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দেখা দেয়। যেটি কোনোভাবে সরকারের কাম্য নয়। এ জন্য জনসেবা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর হচ্ছে সরকার।

 

জনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে বাধ্যতামূলক অবসর, ২৫ বছর পূর্ণ না হলে সাময়িক বরখাস্তের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত, আদেশ বা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যসহ বিবৃতি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী।

 

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০-এ নম্বর বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী— (এ) সরকারের অথবা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ পালনে জনসমক্ষে আপত্তি উত্থাপন করিতে বা যেকোনো প্রকারে বাধা প্রদান করিতে পারিবেন না, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে তাহা করার জন্য উত্তেজিত বা প্ররোচিত করিতে পারিবেন না।

 

(বি) সরকারের বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো অসন্তুষ্টি বা বিরক্তি প্রকাশ করিতে অথবা অন্যকে তাহা করার জন্য প্ররোচিত করিতে অথবা কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিতে বা অন্যকে অংশগ্রহণ করার জন্য প্ররোচিত করিতে পারিবেন না।’

 

সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তর সচিবালয়ে দেখা গেছে, সচিবালয়ের কর্মচারী নেতারা বিভিন্ন সময় সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা ও কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁরা তাঁদের কর্মসূচির মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা, সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দলবদ্ধভাবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার মতো কর্মসূচিও দিচ্ছেন। এই পদক্ষেপগুলো সরকারি সেবায় সরাসরি ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক কর্মীকে তাঁর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়।

 

কিন্তু কর্মচারী নেতারা প্রায়ই নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যৌক্তিক বা অযৌক্তিক দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতির ডাক দেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে এবং বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করছেন। 

 

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন পদমর্যাদার কিছু সরকারি কর্মচারী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন, কলমবিরতিসহ বিবিধ কর্মসূচি পালনের কারণে সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির কারণে সচিবালয়ের বাইরে বিশেষ করে ডিসি অফিস এবং ইউএনও অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। 

 

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন কারণে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুধু পে স্কেল নয়, বিভিন্ন  রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সমন্বয়ে একাধিক সংগঠন সচিবালয়ের অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে। সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাঁদের জোর করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে সব নিয়ম মেনেই কর্মচারীদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হয় বলে মনে করি না।’  

 

জানা গেছে, কর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা রোধে সরকার আইন আরো কঠোর করছে। এর অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে সরকারি চাকরি আইন বা সংশোধিত অধ্যাদেশ। যার অধীনে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বেআইনি ধর্মঘট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করা সরাসরি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবে কাজ বন্ধ রেখে বা অন্য সহকর্মীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের নামে আইন লঙ্ঘন করতে পারেন না। সরকার এসব বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিধান রেখে এর আওতায় দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বরখাস্তের মতো কঠোর শাস্তির আইন রাখা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সরকার কর্মচারীদের পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

 

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি। সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের পাইলট কর্মসূচির সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইভাবে খাল কাটার পাইলট কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে জনসেবা ব্যাহত হয়।’

 

অর্থমন্ত্রী জানান, যেকোনো মূল্যে দ্রুততম সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূইয়া জানান, সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবেই বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ রেখে বা অন্য সহকর্মীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের নামে আইন লঙ্ঘন করতে পারেন না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ নম্বর বিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। জনসেবা প্রদান এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকারি কর্মচারীদের সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণের ওপর জনপ্রশাসনের সফলতা নির্ভর করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
তীব্র লোডশেডিং নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সব ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আর তখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।    বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের সমাধান যদি বিরোধী দল দিতে পারে, সরকার তা গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি ও হঠকারী রাজনীতি বাদ দিন। জনগণের উপকার হবে সে রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।   প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত এবং অসহায় দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সমালোচনাকারীদের প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে কথা বলেছে।   তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ নয়; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।   তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে ছিল। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কীভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।   তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ’৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলব, এসব উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।   প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। 

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬

‘হারিকেন সামনে, পেছনে ফ্যান’ তারেক রহমানের মন্তব্যে যা বললেন আসিফ

ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ শিক্ষকের কাছে নিজেই নেমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে দিলেন অবসর ভাতা ও স্মারক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সংসদে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ছবি: সংগৃহীত
একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭০, হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২৮ জনের শরীরে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭০ জন।       শনিবার (১৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।       প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে।       গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৭০ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৭ হাজার ৮০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।       এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২৮ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জনে।       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কাটছাঁটের শঙ্কায় কর্মচারীদের তীব্র ক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা: ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে তামাকমুক্ত রেলসেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

রেলওয়ের স্টেশন ও ট্রেনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করে তামাকমুক্ত রেলসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের সিআরবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ রেলওয়েকে তামাকমুক্ত করার উদ্যোগের (আইএমবিআরটিএফ) তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।   প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেলসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও ট্রেনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।   তিনি বলেন, স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে ধূমপান বন্ধ করা সম্ভব হলে যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা যাবে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশ রেলওয়ের মিশন ও ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।   প্রশিক্ষণে স্টেশন, রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং চলন্ত ট্রেনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।   এ সময় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫-এর সংশোধনী আইন, ২০২৬, রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকমুক্ত সেবায় রূপান্তরের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।   প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেলওয়ে হাসপাতাল, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), বিভিন্ন স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো, আসতে পারেন নতুন মুখ

সংগৃহীত ছবি

তিস্তার পানি বাড়ার পূর্বাভাস, তিন জেলায় প্লাবনের শঙ্কা

ভরা মৌসুমেও ইলিশের বাজারে নেই স্বস্তি

0 Comments