বর্তমান সময়ে বাসাবাড়ির অন্যতম প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য হলো ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর। বিশেষ করে গরমের সময় এবং কোরবানির ঈদের মতো বড় উৎসব ঘিরে ফ্রিজের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে দুধ, ফল, মাছ-মাংস সতেজ রাখতে ফ্রিজের বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিংবা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যেকোনো সময় ফ্রিজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ হঠাৎ পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে সাধারণত কিছু আগাম সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ক্ষতি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং ব্যয়বহুল মেরামতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তাই ফ্রিজের আচরণে সামান্য অস্বাভাবিকতাও অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞরা।
১. খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া বা দুর্গন্ধ ছড়ানো
ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে খাবার সতেজ রাখা। কিন্তু যদি দেখা যায় ফ্রিজে রাখা দুধ দ্রুত টক হয়ে যাচ্ছে, রান্না করা খাবার দুই-একদিনেই নষ্ট হচ্ছে কিংবা ফল ও শাকসবজি দ্রুত পচে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে কুলিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অনেক সময় ফ্রিজের ভেতর থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা বা দুর্গন্ধও বের হতে পারে।
এটি মূলত পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত থার্মোস্ট্যাট, কুলিং ফ্যান বা কম্প্রেসরের ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি।
২. অতিরিক্ত বরফ জমা বা ডিফ্রস্ট সমস্যা
আধুনিক ফ্রস্ট-ফ্রি ফ্রিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরফ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু যদি ডিপ ফ্রিজের দেয়ালে অস্বাভাবিক পুরু বরফ জমতে শুরু করে, তবে এটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটো-ডিফ্রস্ট সিস্টেম, থার্মোস্ট্যাট বা ডিফ্রস্ট হিটার ঠিকমতো কাজ না করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় বরফ জমে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পুরো কুলিং সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ফ্রিজের ভেতরের কয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
৩. কম্প্রেসর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ
একটি স্বাভাবিক ফ্রিজ চলার সময় হালকা গুঞ্জনের মতো শব্দ হতে পারে। তবে যদি ফ্রিজ থেকে হঠাৎ করেই জোরালো ঠকঠক শব্দ, কাঁপুনি, ক্লিকিং বা একটানা খড়খড়ে আওয়াজ আসতে থাকে, তাহলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে।
এ ধরনের শব্দ সাধারণত কম্প্রেসর, মোটর বা ফ্যানের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় মোটরের ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে কিংবা লুব্রিকেশন কমে গেলে এমন শব্দ তৈরি হয়। এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কম্প্রেসর সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যেতে পারে, যা পরিবর্তন করতে বড় অঙ্কের খরচ গুনতে হয়।
৪. ফ্রিজের গায়ে অতিরিক্ত তাপ অনুভূত হওয়া
ফ্রিজ চলার সময় এর পেছনের অংশ বা পাশ সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। কারণ কম্প্রেসর এবং কনডেনসার কাজ করার সময় কিছু তাপ উৎপন্ন হয়। তবে যদি ফ্রিজের গায়ে হাত রাখা কঠিন হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক উত্তপ্ত লাগে, তাহলে এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়।
সাধারণত কনডেনসার কয়েলে ধুলো জমে গেলে অথবা ভেতরের মোটর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে ফ্রিজ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে মোটর পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
৫. ফ্রিজের নিচে পানি জমা বা লিকেজ
ফ্রিজের নিচে পানি জমে থাকা অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি বড় ধরনের ত্রুটির পূর্বাভাসও হতে পারে। সাধারণত ডিফ্রস্ট ড্রেন পাইপ বন্ধ হয়ে গেলে বা ভেতরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হলে পানি বাইরে বের হতে শুরু করে।
এছাড়া দরজার রাবার ঢিলা হয়ে গেলেও ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়ে পানি জমতে পারে। এই পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে ফ্রিজের নিচে মরিচা ধরতে পারে এবং মেঝেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্মার্ট ফ্রিজে বাড়ছে নতুন ধরনের ঝুঁকি
বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক স্মার্ট বা আইওটি ফ্রিজে ডিজিটাল ডিসপ্লে, টাচ কন্ট্রোল ও সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডিসপ্লেতে ভুল তাপমাত্রা দেখায়, ফ্রিজের লাইট নিজে থেকেই অন-অফ হয় কিংবা টাচ স্ক্রিন ল্যাগ করে, তাহলে এটি ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল বোর্ডের ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে।
ভোল্টেজ ওঠানামা বা বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এমন ত্রুটি বেশি দেখা যায়। তাই স্মার্ট ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে ফ্রিজের আয়ু বাড়াবেন?
বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজ ভালো রাখতে কিছু নিয়মিত অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের এসব ছোট ছোট লক্ষণ অবহেলা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি ও অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বর্তমান সময়ে বাসাবাড়ির অন্যতম প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য হলো ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর। বিশেষ করে গরমের সময় এবং কোরবানির ঈদের মতো বড় উৎসব ঘিরে ফ্রিজের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে দুধ, ফল, মাছ-মাংস সতেজ রাখতে ফ্রিজের বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিংবা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যেকোনো সময় ফ্রিজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ হঠাৎ পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে সাধারণত কিছু আগাম সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ক্ষতি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং ব্যয়বহুল মেরামতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই ফ্রিজের আচরণে সামান্য অস্বাভাবিকতাও অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞরা। ১. খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া বা দুর্গন্ধ ছড়ানো ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে খাবার সতেজ রাখা। কিন্তু যদি দেখা যায় ফ্রিজে রাখা দুধ দ্রুত টক হয়ে যাচ্ছে, রান্না করা খাবার দুই-একদিনেই নষ্ট হচ্ছে কিংবা ফল ও শাকসবজি দ্রুত পচে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে কুলিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক সময় ফ্রিজের ভেতর থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা বা দুর্গন্ধও বের হতে পারে। এটি মূলত পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত থার্মোস্ট্যাট, কুলিং ফ্যান বা কম্প্রেসরের ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি। ২. অতিরিক্ত বরফ জমা বা ডিফ্রস্ট সমস্যা আধুনিক ফ্রস্ট-ফ্রি ফ্রিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরফ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু যদি ডিপ ফ্রিজের দেয়ালে অস্বাভাবিক পুরু বরফ জমতে শুরু করে, তবে এটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অটো-ডিফ্রস্ট সিস্টেম, থার্মোস্ট্যাট বা ডিফ্রস্ট হিটার ঠিকমতো কাজ না করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় বরফ জমে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পুরো কুলিং সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ফ্রিজের ভেতরের কয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ৩. কম্প্রেসর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ একটি স্বাভাবিক ফ্রিজ চলার সময় হালকা গুঞ্জনের মতো শব্দ হতে পারে। তবে যদি ফ্রিজ থেকে হঠাৎ করেই জোরালো ঠকঠক শব্দ, কাঁপুনি, ক্লিকিং বা একটানা খড়খড়ে আওয়াজ আসতে থাকে, তাহলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। এ ধরনের শব্দ সাধারণত কম্প্রেসর, মোটর বা ফ্যানের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় মোটরের ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে কিংবা লুব্রিকেশন কমে গেলে এমন শব্দ তৈরি হয়। এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কম্প্রেসর সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যেতে পারে, যা পরিবর্তন করতে বড় অঙ্কের খরচ গুনতে হয়। ৪. ফ্রিজের গায়ে অতিরিক্ত তাপ অনুভূত হওয়া ফ্রিজ চলার সময় এর পেছনের অংশ বা পাশ সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। কারণ কম্প্রেসর এবং কনডেনসার কাজ করার সময় কিছু তাপ উৎপন্ন হয়। তবে যদি ফ্রিজের গায়ে হাত রাখা কঠিন হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক উত্তপ্ত লাগে, তাহলে এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। সাধারণত কনডেনসার কয়েলে ধুলো জমে গেলে অথবা ভেতরের মোটর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে ফ্রিজ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে মোটর পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ৫. ফ্রিজের নিচে পানি জমা বা লিকেজ ফ্রিজের নিচে পানি জমে থাকা অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি বড় ধরনের ত্রুটির পূর্বাভাসও হতে পারে। সাধারণত ডিফ্রস্ট ড্রেন পাইপ বন্ধ হয়ে গেলে বা ভেতরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হলে পানি বাইরে বের হতে শুরু করে। এছাড়া দরজার রাবার ঢিলা হয়ে গেলেও ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়ে পানি জমতে পারে। এই পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে ফ্রিজের নিচে মরিচা ধরতে পারে এবং মেঝেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্মার্ট ফ্রিজে বাড়ছে নতুন ধরনের ঝুঁকি বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক স্মার্ট বা আইওটি ফ্রিজে ডিজিটাল ডিসপ্লে, টাচ কন্ট্রোল ও সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডিসপ্লেতে ভুল তাপমাত্রা দেখায়, ফ্রিজের লাইট নিজে থেকেই অন-অফ হয় কিংবা টাচ স্ক্রিন ল্যাগ করে, তাহলে এটি ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল বোর্ডের ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে। ভোল্টেজ ওঠানামা বা বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এমন ত্রুটি বেশি দেখা যায়। তাই স্মার্ট ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে ফ্রিজের আয়ু বাড়াবেন? বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজ ভালো রাখতে কিছু নিয়মিত অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন— ফ্রিজের পেছনের কয়েল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে দেয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে ফ্রিজ স্থাপন করা উচিত অতিরিক্ত গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে না দরজা অপ্রয়োজনে বেশি সময় খোলা রাখা ঠিক নয় বিদ্যুৎ ওঠানামা হলে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা ভালো বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং করানো উচিত বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের এসব ছোট ছোট লক্ষণ অবহেলা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি ও অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। একটু স্বস্তির আশায় মানুষ ছুটছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের দিকে। কিন্তু বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ সংকট এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেকের কাছেই এসির স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। ঠিক এমন সময়েই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন সউদী আরবের একদল বিজ্ঞানী। তারা উদ্ভাবন করেছেন এমন এক অভিনব শীতলীকরণ প্রযুক্তি, যা চালাতে প্রয়োজন হবে না এক ফোঁটা বিদ্যুৎও। সউদী আরবের কিং আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।–এর গবেষকরা এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ‘নেসকড’। এটি এমন একটি পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থা, যা কোনো মোটর, কম্প্রেসর কিংবা প্রচলিত এসির মতো বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্র ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখতে সক্ষম। গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী শীতলীকরণ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি একটি বিশেষ তাপশোষী রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নামের এক ধরনের লবণ পানির সঙ্গে মেশানো হলে তা চারপাশের পরিবেশ থেকে দ্রুত তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিটে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ব্যবহারের পর লবণটিকে পুনরায় আলাদা করে আবার ব্যবহার করা সম্ভব। সউদী আরবের প্রখর রোদ ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি বাষ্পীভূত করা হয়, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে ওঠে আরও টেকসই ও সাশ্রয়ী। গবেষকদের মতে, প্রচলিত এসি শুধু ঘর ঠান্ডা করে না, একই সঙ্গে বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দিয়ে নগরাঞ্চলের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া অধিকাংশ এসিতে ব্যবহৃত গ্যাস পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। কিন্তু নেসকড প্রযুক্তিতে নেই কোনো ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন, নেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ। ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম অঞ্চল, শরণার্থী শিবির কিংবা দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্য এই প্রযুক্তি হতে পারে আশীর্বাদ। কম খরচে এবং সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছেও এটি সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌর প্যানেল ঠান্ডা রাখা এবং বাতাস থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের মতো আরও আধুনিক ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও করছেন। তাদের আশা, বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে এই উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এবং স্বল্প খরচের এই প্রযুক্তি এখন বিশ্ববাসীর জন্য নতুন আশার নাম। হয়তো খুব শিগগিরই এসির আরাম আর বিলাসিতা থাকবে না, বরং সবার নাগালের এক বাস্তব সুবিধায় পরিণত হবে।
গুগল বুধবার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন টুল উন্মোচন করেছে, যা মানব জিনোমের জটিল রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ডিপ লার্নিং মডেল আলফাজিনোমকে বাইরের গবেষকেরা ‘একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি বিজ্ঞানীদের কঠিন জেনেটিক রোগগুলোর মূল কারণ বিশ্লেষণ ও এমনকি সেগুলো অনুকরণ করে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুশমিত কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০৩ সালে মানব জিনোমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আমাদের হাতে “জীবনের বই” তুলে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বই পড়া তখনও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লেখা আছে’—অর্থাৎ ডিএনএর তিন বিলিয়ন নিউক্লিওটাইড জোড়ার ক্রম, যা A, T, C ও G এই চারটি অক্ষরে প্রকাশ করা হয়। তবে কোহলির মতে, ‘এই জিনোমের ব্যাকরণ বোঝা—ডিএনএতে কীভাবে তথ্য সঙ্কেতিত আছে এবং তা কীভাবে জীবন পরিচালনা করে—এই বিষয়টিই এখন গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত।’ তিনি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণাপত্রের সহলেখক। মানব ডিএনএর মাত্র প্রায় দুই শতাংশ অংশ প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। প্রোটিনই মূলত শরীর গঠন ও পরিচালনার কাজ করে। বাকি ৯৮ শতাংশ ডিএনএ দীর্ঘদিন ধরে ‘জাঙ্ক ডিএনএ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কারণ বিজ্ঞানীরা এর কাজ বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এই তথাকথিত ‘নন–কোডিং ডিএনএ’ একটি অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টরের মতো কাজ করে—আমাদের প্রতিটি কোষে জেনেটিক তথ্য কীভাবে সক্রিয় হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশগুলোর মধ্যেই এমন বহু ভিন্নতা (ভ্যারিয়েন্ট) রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আলফাজিনোম মূলত এসব জটিল জিনগত অংশ বোঝার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।