তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই নতুন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার কথা ভাবছেন। তবে বাজারে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষই একটি সাধারণ প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ে যান যে ইনভার্টার এসি কিনবেন নাকি নন-ইনভার্টার তথা সাধারণ স্প্লিট এসি। দুটি এসি-ই ঘর ঠান্ডা করার মূল কাজটি করলেও এদের ভেতরের প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ খরচ, দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদি খরচের হিসাব মাথায় রেখে কোন এসি নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ইনভার্টার এসির মূল শক্তি হলো এর ভেতরের স্মার্ট কম্প্রেসর প্রযুক্তি। এই কম্প্রেসরটি ঘরের তাপমাত্রা মেপে নিজের গতি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি বারবার পুরোপুরি বন্ধ বা চালু হয় না, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কম বা বেশি ক্ষমতায় একটানা চলতে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়। সাধারণত ১.৫ টনের একটি ইনভার্টার এসি চালাতে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ০.৮ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, সাধারণ স্প্লিট এসি একটি নির্দিষ্ট গতিতে কাজ করে। ঘর ঠান্ডা করার জন্য এটি পুরো শক্তিতে চলে এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর কম্প্রেসরটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘরের তাপমাত্রা আবার বেড়ে গেলে কম্প্রেসরটি নতুন করে চালু হয়। এই বারবার স্টার্ট এবং স্টপ হওয়ার কারণেই বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ ইউনিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
দামের তারতম্য ও প্রাথমিক বাজেট
দামের দিক থেকে সাধারণ স্প্লিট এসিগুলো বেশ বাজেট-ফ্রেন্ডলি হয়। বাজারে সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের নরমাল স্প্লিট এসি পাওয়া সম্ভব। অপরদিকে, উন্নত প্রযুক্তির কারণে ইনভার্টার এসির প্রাথমিক দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। একটি ভালো মানের ইনভার্টার এসির দাম শুরু হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে এবং ব্র্যান্ড ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে তা আরও বাড়তে পারে। যদিও শুরুতে ইনভার্টার এসি কিনতে পকেট থেকে কিছু বাড়তি টাকা খসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি বিদ্যুতের মাসিক বিল বাঁচিয়ে সেই বাড়তি খরচ উসুল করে দেয়।
সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ
উভয় ধরনের এসির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে নিয়মিত ফিল্টার ও কয়েল পরিষ্কার করার মতো সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। তবে মেকানিজমের দিক থেকে ইনভার্টার এসিতে আধুনিক ইলেকট্রনিক পার্টস এবং জটিল পিসিবি (PCB) সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো কারণে ইনভার্টার এসি নষ্ট হলে তা মেরামত করার খরচ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হয়। অন্যদিকে সাধারণ স্প্লিট এসির ভেতরের গঠন ও সিস্টেম বেশ সহজ সরল হওয়ায় এটি মেরামত করা অনেক সহজ এবং খরচও বেশ কম সাপেক্ষ।
আপনার জন্য ঠিক কোনটি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে
নতুন এসি কেনার আগে আপনার প্রতিদিনের ব্যবহারের ধরনটি বুঝে নেওয়া জরুরি। আপনি যদি দৈনিক মাত্র ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো কম সময়ের জন্য এসি চালাতে চান, তবে কম দামের সাধারণ স্প্লিট এসি আপনার জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। কিন্তু আপনার ঘরে যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে এসি চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে চোখ বন্ধ করে ইনভার্টার এসি কেনাই সবচেয়ে লাভজনক। এটি শুধু আপনার পকেটের বিদ্যুৎ বিলই বাঁচাবে না, বরং ঘরে কম শব্দ করে দীর্ঘক্ষণ চমৎকার কুলিং পারফরম্যান্স দেবে। তাই প্রাথমিক দামের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা চিন্তা করলে বর্তমান সময়ে ইনভার্টার এসি কেনাই হবে সবচেয়ে স্মার্ট ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই নতুন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার কথা ভাবছেন। তবে বাজারে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষই একটি সাধারণ প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ে যান যে ইনভার্টার এসি কিনবেন নাকি নন-ইনভার্টার তথা সাধারণ স্প্লিট এসি। দুটি এসি-ই ঘর ঠান্ডা করার মূল কাজটি করলেও এদের ভেতরের প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ খরচ, দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদি খরচের হিসাব মাথায় রেখে কোন এসি নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। ইনভার্টার এসির মূল শক্তি হলো এর ভেতরের স্মার্ট কম্প্রেসর প্রযুক্তি। এই কম্প্রেসরটি ঘরের তাপমাত্রা মেপে নিজের গতি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি বারবার পুরোপুরি বন্ধ বা চালু হয় না, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কম বা বেশি ক্ষমতায় একটানা চলতে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়। সাধারণত ১.৫ টনের একটি ইনভার্টার এসি চালাতে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ০.৮ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, সাধারণ স্প্লিট এসি একটি নির্দিষ্ট গতিতে কাজ করে। ঘর ঠান্ডা করার জন্য এটি পুরো শক্তিতে চলে এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর কম্প্রেসরটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘরের তাপমাত্রা আবার বেড়ে গেলে কম্প্রেসরটি নতুন করে চালু হয়। এই বারবার স্টার্ট এবং স্টপ হওয়ার কারণেই বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ ইউনিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দামের তারতম্য ও প্রাথমিক বাজেট দামের দিক থেকে সাধারণ স্প্লিট এসিগুলো বেশ বাজেট-ফ্রেন্ডলি হয়। বাজারে সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের নরমাল স্প্লিট এসি পাওয়া সম্ভব। অপরদিকে, উন্নত প্রযুক্তির কারণে ইনভার্টার এসির প্রাথমিক দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। একটি ভালো মানের ইনভার্টার এসির দাম শুরু হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে এবং ব্র্যান্ড ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে তা আরও বাড়তে পারে। যদিও শুরুতে ইনভার্টার এসি কিনতে পকেট থেকে কিছু বাড়তি টাকা খসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি বিদ্যুতের মাসিক বিল বাঁচিয়ে সেই বাড়তি খরচ উসুল করে দেয়। সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উভয় ধরনের এসির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে নিয়মিত ফিল্টার ও কয়েল পরিষ্কার করার মতো সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। তবে মেকানিজমের দিক থেকে ইনভার্টার এসিতে আধুনিক ইলেকট্রনিক পার্টস এবং জটিল পিসিবি (PCB) সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো কারণে ইনভার্টার এসি নষ্ট হলে তা মেরামত করার খরচ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হয়। অন্যদিকে সাধারণ স্প্লিট এসির ভেতরের গঠন ও সিস্টেম বেশ সহজ সরল হওয়ায় এটি মেরামত করা অনেক সহজ এবং খরচও বেশ কম সাপেক্ষ। আপনার জন্য ঠিক কোনটি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে নতুন এসি কেনার আগে আপনার প্রতিদিনের ব্যবহারের ধরনটি বুঝে নেওয়া জরুরি। আপনি যদি দৈনিক মাত্র ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো কম সময়ের জন্য এসি চালাতে চান, তবে কম দামের সাধারণ স্প্লিট এসি আপনার জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। কিন্তু আপনার ঘরে যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে এসি চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে চোখ বন্ধ করে ইনভার্টার এসি কেনাই সবচেয়ে লাভজনক। এটি শুধু আপনার পকেটের বিদ্যুৎ বিলই বাঁচাবে না, বরং ঘরে কম শব্দ করে দীর্ঘক্ষণ চমৎকার কুলিং পারফরম্যান্স দেবে। তাই প্রাথমিক দামের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা চিন্তা করলে বর্তমান সময়ে ইনভার্টার এসি কেনাই হবে সবচেয়ে স্মার্ট ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইল শেয়ারিং আরও সহজ করতে নতুন ফিচার চালু করছে গুগল। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে এখন কুইক শেয়ার ব্যবহার করে কিউআর কোডের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে ফাইল পাঠানো যাবে। সম্প্রতি ‘The Android Show: I/O Edition’ অনুষ্ঠানে গুগল এই নতুন সুবিধার ঘোষণা দেয়। কীভাবে কাজ করবে নতুন ফিচার নতুন ব্যবস্থায় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী কুইক শেয়ার দিয়ে ফাইল পাঠানোর সময় একটি কিউআর কোড তৈরি করতে পারবেন। আইফোন ব্যবহারকারী সেই কোডটি ক্যামেরা অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে ফাইলটি ডাউনলোডের সুযোগ পাবেন। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, স্ক্যান করার পর ফাইলগুলো নিরাপদভাবে ক্লাউডে আপলোড হয়ে একটি প্রাইভেট ডাউনলোড লিংকের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। পুরো প্রক্রিয়ায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করা হবে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তৈরি হওয়া ডাউনলোড লিংক অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না, ফলে নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত থাকবে। ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকবে ফাইল গুগল জানিয়েছে, শেয়ার করা ফাইলগুলো কিউআর কোড তৈরি হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ডাউনলোডের সুযোগ থাকবে। এই নতুন ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ফাইল আদান–প্রদান আরও সহজ করবে, বিশেষ করে যারা দুই ধরনের ডিভাইসই ব্যবহার করেন তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক হবে। গুগলের মতে, এই কিউআর কোডভিত্তিক শেয়ারিং সুবিধা চলতি জুন মাসের শেষের দিকে সব ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হবে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় হ্যাকারদের ফাঁদ দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার নানা কৌশল বহুদিন ধরেই সক্রিয়। লোভনীয় অফার, তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক বা এক্সক্লুসিভ ডিলের নামে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি সিকিউরিটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফিচারটির নাম ‘স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস’। এটি একটি ওয়ান-ক্লিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—একবার চালু করলেই একাধিক নিরাপত্তা ফিচার একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে যাবে। এই সেটিংস অন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ও সিকিউরিটি নোটিফিকেশন চালু হবে। ফলে কোনো পরিচিত কনট্যাক্টের এনক্রিপশন কোডে পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী সতর্কবার্তা পাবেন। এছাড়া লাস্ট সিন, অনলাইন স্ট্যাটাস, প্রোফাইল ছবি ও প্রোফাইল লিঙ্ক কেবল পরিচিত কনট্যাক্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল এলে সেটি নিজে থেকেই সাইলেন্ট হয়ে যাবে, ফলে সন্দেহজনক বা বিরক্তিকর কল এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে এই ফিচার চালু করা হবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী বা যাদের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য এই ফিচার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়—ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজ উদ্যোগেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে পারবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেটা সংস্থার কর্মীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন—এমন অভিযোগ ও বিতর্কের আবহে এই নতুন ফিচারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।