বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের কুমিরের হামলায় ৮ বছরের ফাতেমা বিদায় নিল দুনিয়া থেকে। কিন্তু ছোট্ট এই শিশুটির প্রাণ বিসর্জনের কারণেই তার মানসিক ভারসাম্যহীন মা ফজিলা বেগম ফিরে পেলেন নিজের পরিচয়। ফিরলেন আপন ঠিকানা ময়মনসিংহে স্বামী সন্তানের কাছে।
কয়েক বছর আগে এক শুক্রবার বিকালে ঝড়ের সময় মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম। তখন ফাতেমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ৩ বছর। ঠিকানা হারিয়ে ভবঘুরে হিসেবে মা ও মেয়ের ঠাঁই হয় বাগেরহাটে।
প্রথমদিকে বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছুদিন এবং পরে খানজাহানের মাজারে ফাতেমাকে নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলার কষ্টের পথচলা শুরু হয়। এ অবস্থায় ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসলে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয় ফাতেমা। মায়ের চোখের সামনে পা ধরে টেনে নিলেও মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলার কিছুই করার ছিল না- নির্বাক চেয়ে থাকা ছাড়া।
এ বিষয়ে প্রতিবেদন ও ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে (৪৭) চিনতে পারেন পরিবারের লোকজন। পরে যোগাযোগ করে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান তার মা ও স্বজনরা।
এদিকে শিশু ফাতেমাকে মাজারের দীঘিরপাড়ের কবরস্থানে রেখেই মা ফজিলা বেগম পরিবারের কাছে আজ ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশু ফাতেমার মা ফজিলাকে হস্তান্তর করেন।
এ সময় ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও জুয়েল মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফজিলা বেগমের পরিবার জানায়, মাজারের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। পরে পরিবারের ছয় সদস্য বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছান।
ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ফাতেমার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর। ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন জীবিত আছে। তাদের বাবা মমরুজ আলী রিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত, তবে ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।
ফজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি সময় আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।
মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলা বেগমের পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে এক সময় চট্টগ্রাম জেলার ‘আধিক্য’ থাকলেও এখন তা পিছিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে কুমিল্লা জেলা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি ঝোঁক, সব ধরনের পেশায় সম্পৃক্ত না হওয়া এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বিদেশ গমনে আগ্রহ কমছে চট্টগ্রামের মানুষের। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। এরপরে চট্টগ্রামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি নিম্নগামী। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্লাটফর্মের (ওইপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে চাকরির জন্য বিদেশ গেছে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন এবং চাঁদপুর থেকে বিদেশ গেছে ৮৪ হাজার ৯২৪ জন। তবে ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানির হিসাব ধরলে চট্টগ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে চাঁদপুর। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গেছে ৭ হাজার ৪০৮ জন, কুমিল্লা থেকে ১৫ হাজার ১৩৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১৪ হাজার ৬৫৩ জন ও চাঁদপুর থেকে ১ হাজার ৪৪ জন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৩৮ হাজার ১৬২ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৩ হাজার ৭৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৯ হাজার ৯২৭ জন এবং চাঁদপুর থেকে ৪০ হাজার ৭৫৪ জন বিদেশ গেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৪১ হাজার ৮৩৩ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৬ হাজার ৫০১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬৭ হাজার ২১৭ জন ও চাঁদপুর থেকে ৪২ হাজার ৯৮২ জন বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে গেছেন ১২১ জন, কুমিল্লা থেকে ২৬১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৪১ ও চাঁদপুর থেকে ১৪৪ জন গেছেন। জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের লোকজন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও ওমানে যেতে বেশি আগ্রহী। সেখানে চট্টগ্রামের লোকজন বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যারা নতুন করে বিদেশে যেতে চায়, তারাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার প্রতি আগ্রহী। এই দুই দেশে ভিসা বন্ধ ও ধীরগতির কারণে বিদেশযাত্রা অনেকটা কমে এসেছে। তবে ইদানীং সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারে যাচ্ছেন অল্প কিছু বিদেশগামী। এছাড়াও চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় চট্টগ্রামের অনেক লোক এখন বিদেশে চাকরির খোঁজে যেতে চান না। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন জহিরুল আলম মজুমদার। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মী যায়। তবে চট্টগ্রামের লোক যায় মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু দেশে, যেগুলোর মধ্যে অন্যতম ওমান ও দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। এসব দেশে ভিসা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে জনসংখ্যা রপ্তানি কমেছে।” ওমানে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের জানিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের লোকজন আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেয়। অন্য জেলার লোকজন কাজের সুবাদে যেকোনো দেশে যেতে আগ্রহী। “তবে সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজন একটু ব্যতিক্রম। তারা নিজ এলাকার লোকজন যে দেশে বেশি, সেখানেই মূলত যেতে চান।” জহিরুল আলম মজুমদারের পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রামের লোকজন সচরাচর সব ধরনের কাজ করতে চান না। তারা মূলত ব্যবসা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী। দুবাই, ওমানে চট্টগ্রামের লোকজন বেশি থাকায় সেদিকে যাবার প্রবণতাও বেশি। এদিকে নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামী কর্মী কমার বিষয়টিও বলছেন জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর এ কর্মকর্তা। জহিরুল বলেন, “চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে কাজের ক্ষেত্রও বেড়েছে। “কেউ এক পেশায় থাকলে, সে অন্য পেশায় সহজেই যেতে পারছে। যেটা অন্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না।” জহিরুল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকজন তুলনামূলক কম পরিশ্রমী। বিদেশে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমের চেয়ে, নিজ দেশে থেকে আয় রোজগারের বিষয়টিও এখন তাদের ভাবনায় যুক্ত হয়েছে।” এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রামের লোকজন মূলত যেতে চান ওমান, দুবাই কুয়েত ও সৌদি আরব। এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজনের সংখ্যা কমেছে। “চট্টগ্রামের লোকজন সব ধরনের পেশায় কাজ করতে চান না। আর চাকরির উদ্দেশ্যে কম যান। তারা যেতে চান ব্যবসা করতে। আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তারা গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে যান।” আবু জাফর বলেন, “চট্টগ্রামে কাজের বিভিন্ন সোর্স আছে, যেটা অন্য জেলার লোকজনের নেই। অনেক দেশ আছে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে কাজ করতে হয়। “এসব দেশে চট্টগ্রামের লোকজন যায় না, কারণ দেশে তার আয় রোজগার আরও বেশি হয়।”
লালমনিরহাট, ৪ জুন: দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্দরের সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। স্থলবন্দর চেয়ারম্যান বলেন, “মোগলহাট স্থলবন্দর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। একসময় এই বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। বর্তমানে এটি অচল থাকলেও সরকার এর সম্ভাবনাকে নতুন করে কাজে লাগাতে আগ্রহী।” তিনি আরও বলেন, “বন্দরটি পুনরায় চালু করা গেলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এজন্য আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছি এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।” মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, মোগলহাট বন্দরের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামো, পুরোনো স্থাপনা, সংযোগ সড়ক এবং সম্ভাব্য কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবন্দর হিসেবে পরিচিত মোগলহাট স্থলবন্দর দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী এ বন্দর আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বছরের হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট অবতরণ করেছে। বুধবার (৩ জুন) জেদ্দা থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট মোট ৩৭৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ফ্লাইটটি অবতরণের পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা, বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেলা ব্যবস্থাপক, স্টেশন ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি হজ ফ্লাইটে ৪ হাজার ৭৪৮ জন এবং অন্যান্য ফ্লাইটে আরও ৮২৬ জনসহ মোট ৫ হাজার ৫৭৪ জন হাজি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব গমন করেন। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামি কয়েকদিন ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।