বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যেকার দ্বিপক্ষীয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিশেষ বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রাত সোয়া ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি অবতরণ করলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষ করে ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসা হাকান ফিদানের এই সফরটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। একই সাথে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো শক্তিশালী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার সকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর শুক্রবার দুপুরের পর তিনি সরাসরি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও তুর্কি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন।
সফর শেষ করার আগে আগামী শনিবার (৬ জুন) তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আঙ্কারায় এক সফল দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই ফিরতি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তুরস্ক দ্রুত ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে। বিশেষ করে, সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দেশ।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআইটি’ এর সাবেক প্রধান হাকান ফিদানকে দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তার এই ঢাকা সফরকে কেবল সাধারণ কূটনৈতিক প্রোটোকল হিসেবে না দেখে, দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে আগে থেকে নির্ধারিত কোনো কঠোর আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা নেই। তবে দুই দেশের গভীর হৃদ্যতার কারণে এই মুক্ত আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সমন্বয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রসঙ্গগুলো জোরালোভাবে সামনে আসতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন, সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে তুরস্কের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক বাংলাদেশকে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের একটি অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এক সম্ভাবনাময় কৌশলগত পার্টনার হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আঙ্কারা আন্তর্জাতিক প্রতিটি ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি তাদের সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান সমর্থন জানিয়ে আসছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হাই-প্রোফাইল সফরের মধ্য দিয়ে তুরস্ক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঢাকা ও আঙ্কারা তাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে সাধারণ বাণিজ্যিক সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিসরে নিয়ে যেতে চায়। ফলে হাকান ফিদানের এই ঢাকা সফরকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার বলেছেন, ‘আমরা সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে সেটি আরও উন্নত করতে আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে যাবো।’ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট সংলগ্ন ডাকবাংলোয় হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের আয়োজনে বন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, জনগণের সঙ্গে জনগণের কন্টাক্ট আছে, দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আছে, সেই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য দুই দেশের আমদানি ও রফতানিকারকদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা খুব ভালো কাজ করছেন। আমাদের যে সম্পর্ক বিশেষ করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ, পিপল টু পিপল সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনারা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে দারুণ কাজ করছেন। ভবিষ্যতে আপনারা এটি অব্যাহত রাখবেন আমরা আপনাদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১২০ থেকে ১২২ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে এই সংখ্যা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় দুই দেশের আমদানি ও রফতানি ব্যবসায়ীরা সেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এটি একটি ভালো চিন্তা, এটি একটি ভালো অগ্রগতি যে উভয় পক্ষই বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি অর্জিত হবে। নিয়ত বা উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার ভালো, আর উদ্দেশ্য ভালো হলে ফলাফলও ভালো হবে।’ এর আগে দুপুর ১টায় তিনি হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটে আসেন তিনি। এ সময় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে হিলি সীমান্তের জিরোপয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে তাকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। তিনি ডাকবাংলোয় এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভারত অভ্যন্তরে হিলিতে কোয়ারেন্টাইন অফিস না থাকা, ঊর্ধ্বতন কাস্টমস কর্মকর্তার অফিস না থাকা, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা পণ্য দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করাসহ ভিসা জটিলতা নিরসন করে ব্যবসায়ীদের সহজে যেন বিজনেস ভিসা দেওয়া হয় সেই দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রফিকুল ইসলাম। তাকে বদলিপূর্বক প্রেষণে এ পদে পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. মো. রফিকুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশাধীন ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আজ (রবিবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি জাতীয় সংসদ সংসদ ভবন লেকে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি পোনামাছ অবমুক্তকরণে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে হুইপবৃন্দ, সংসদ-সদস্যসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সংসদ ভবন লেকে পোনা মাছ অবমুক্তকরণে অংশগ্রহণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর 'রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে লেকে রুই, কাতলা ও কালিবাউশ জাতীয় ৪৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংসদ সচিবালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।