অর্থনীতি

দায়িত্ব নিয়েই আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার বার্তা বিএসইসি চেয়ারম্যানের

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং, কারসাজি ও তথ্য ফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ না দিয়ে রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিনে কমিশনের তিন নতুন কমিশনারও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।


মাসুদ খান বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭ থেকে ১৪ দিন অপেক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন থেকে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়ে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত তদন্ত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব কর্মকাণ্ড আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

 

তিনি বলেন, বিএসইসির তত্ত্বাবধানে স্টক এক্সচেঞ্জকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং, কারসাজি বা তথ্য ফাঁসের সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনে ওই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।


নতুন চেয়ারম্যান বলেন, বাজার তদারকির সময় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হলে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও বাজারের সততা রক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে বিএসইসির উদ্দেশ্য কোনোভাবেই শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নয়।

 

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন থামানো নয়। আমরা ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তথ্যের সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চাই।

 

মাসুদ খান আরও বলেন, “মূল্য নির্ধারণ করবে বাজার, কারসাজিকারক নয়। সৎ বিনিয়োগকারী ও সৎ উদ্যোক্তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যারা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করবে, বাজারে কারসাজি করবে কিংবা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের অতীতের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।


তিনি বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সিকিউরিটিজ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কমিশন সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগ বিভাগকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সমন্বয়ে একটি আধুনিক সার্ভেইল্যান্স বা বাজার নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে রিয়েল টাইমে বাজার পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা থাকবে। যদিও পুরো বাজার তদারকির আওতায় থাকবে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুষ্ঠু পুঁজিবাজার গঠনে কমিশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
খেলাপি ঋণে বিশ্বের শীর্ষে বাংলাদেশ, নীতি শিথিলতায় বাড়ছে সংকট

টাকা ফেরত না দিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়ে আসছেন শীর্ষ খেলাপিরা। বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরাই ঘুরেফিরে পুনঃতপশিলের জন্য হাজির হচ্ছেন। একের পর এক সুবিধা নেওয়ার কিছুদিন পর তারা আবার খেলাপি হচ্ছেন। প্রকৃত আদায় ছাড়া ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত দেখিয়ে আসা ব্যাংক খাত এভাবে পুনঃতপশিলের ফাঁদে পড়েছে। এতে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বের শীর্ষস্থান পেয়েছে।     কখনও বৈশ্বিক খারাপ অবস্থা, কখনও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই খেলাপিদের জন্য উপায় বের করে দিচ্ছে। সুবিধা দিয়ে খেলপি ঋণ কমানোর নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের বেশির ভাগের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধানে নীতি শিথিলতার সিদ্ধান্ত কাজ দিচ্ছে না। এ ধরনের নীতির বারবার অপব্যবহার হয়েছে।   অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। খেলাপি অনেকেই ব্যাংকের টাকায় বিলাসী জীবন, বিদেশে পাচারসহ নানা অনিয়ম করছেন। এর বিপরীতে দেশে এমন অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা খেলাপি হননি। তাই ঋণখেলাপিদের বারবার সুবিধা দিতে থাকলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন।      বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে বিশ্বে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত মার্চ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৩ সালভিত্তিক খেলাপি ঋণের দেশওয়ারি তথ্য রয়েছে। ওই সময় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ১৪ নম্বরে ছিল বাংলাদেশের নাম। তখন খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইউক্রেনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির খেলাপি নেমেছে ২৭ শতাংশে।    ২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাদ। আর আফ্রিকান দেশ গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গিনির খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩০ শতাংশে।    কারা সুবিধা পায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতপশিলসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে ১২ শতাধিক আবেদন এসেছে। এর বিপরীতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের পুনঃতপশিল চাওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধার জন্য গত বছর ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের ১২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। ২৬ ব্যাংক ও দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে।    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বেক্সিমকোর ছয় হাজার ৯১৯ কোটি টাকার পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন এসেছে। বেক্সিমকোর ঋণ পুনঃতপশিল না হলেও তাদের মালিকানাধীন খেলাপি প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকের এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বারবার বিশেষ সুবিধা নেওয়া আব্দুল মোনেম গ্রুপ এ দফায় দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে। এই গ্রুপের মালিকানার আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি মিলের খেলাপি ঋণ থাকা অবস্থায় একইভাবে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।   ব্যাংক খাতে বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের ৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার ঋণ বিশেষ সুবিধায় পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নাবিল গ্রুপ ৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করতে চেয়েছে। ১২ ব্যাংকে এসএ অয়েল রিফাইনারির এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পুনঃতপশিলের আবেদন এসেছে। আব্দুল কাদির মোল্লার মালিকানাধীন থার্মেক্স গ্রুপ চেয়েছে এক হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। সাদ মুসা গ্রুপ চেয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে এক খাতের ঋণ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। মাগুরা গ্রুপ ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার বিশেষ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।    আনন্দ শিপইয়ার্ড চেয়েছে এক হাজার ৫৬ কোটি টাকার পুনঃতপশিল। এক হাসপাতালের নামে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আলোচিত আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালও চেয়েছে বিশেষ সুবিধা। দেশবন্ধু সুগার মিল, জেএমআই গ্রুপ, সানম্যান গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, রাইসিং স্টিল, অটোবি গ্রুপ, রানকা টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ৩৬টি ব্যাংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলা হয়েছে।    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনের পর আবার বড় ঋণগ্রহীতাদের অভিনব সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে– এ রকম গ্রাহকের সুদহার কমানো, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন করে আর কখনও পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য আসবে না– এই শর্তে ১১ গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা নিয়মিত করে ব্যাংকগুলো।   পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই শেষে বেক্সিমকো, আব্দুল মোনেম, সিকদার, অ্যাননটেক্স, কেয়া গ্রুপ, থার্মেক্স, যমুনা গ্রুপ, রাইজিং স্টিল মিলস, এসএ অয়েল রিফাইনারি, রতনপুর ও এমআর গ্রুপের বিআর স্পিনিং মিলস বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা নেয়। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে যমুনা ছাড়া অন্য সবাই এখন খেলাপি।   এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন সুবিধা চেয়ে আবেদন করে তিন গ্রুপ। এর মধ্যে ৯২৮ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপ, ৮১২ কোটি টাকা রতনপুর গ্রুপ এবং ৫৭২ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে বিআর স্পিনিং মিল। বেক্সিমকো গ্রুপ ওই সময়ে পাঁচ হাজার ৬৪৩ কোটি পুনর্গঠন করে। সুদসহ বছর শেষে তাদের স্থিতি দাঁড়ায় ছয় হাজার ১৫১ কোটি টাকায়।    ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার ‘এককালীন এক্সিট ও বিশেষ পুনঃতপশিল’ নীতিমালা জারি হয়। সেখানে বলা হয়, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। আগের সুবিধা নেওয়া গ্রুপগুলো এ দফায়ও ঋণ পুনর্গঠন করে। ফলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে এ সুবিধার আওতায় পুনঃতপশিল হয় ৫২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালেই আবার খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো মেয়াদি ঋণ অনাদায়ী থাকার ছয় মাস পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাব করতে বলা হয়। এভাবে চলার পর ২০২০ সালে এক টাকাও পরিশোধ না করে খেলাপিমুক্ত দেখাতে সার্কুলার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলেই আর খেলাপি হয়নি।    ২০২৩ সালে বিশেষ সুবিধায় সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না। প্রতিবার সুবিধা পাওয়াদের তালিকায় ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দেখা যায়।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সময়ে একের পর এক বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারও খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ নীতি-সহায়তা দেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়।   বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন করে গত ২৯ জুনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে এক্সিট নীতিমালার আওতায় কোনো ঋণখেলাপি এককালীন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদ কিংবা তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বেশি মওকুফের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে।    জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, বারবার পুনঃতপশিল করা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসার চেয়ে পুনঃতপশিল ব্যবসা অনেক লাভজনক। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে তারা দেশে বা বিদেশে কোনো না কোনো সম্পদ কিনেছে। নিয়মিতভাবে ওই সম্পদের দর বেড়েছে। অথচ বছরের পর বছর সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধা নিয়ে আসছে। অনেক চাপে পড়লে এক পর্যায়ে হয়তো দেখা যাবে, এক্সিটের নামে আসল পরিশোধ করে বেরিয়ে যাবে। এরপরও ব্যবসা করে যে আয় করা যায়, তার চেয়ে সম্পদ বিক্রি করলে বেশি মুনাফা থাকবে।   আরফান আলী বলেন, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান করতে হলে খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, সরকারি কোনো সুবিধা না দেওয়া এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাতে ভালো ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।    যত টাকা পুনঃতপশিল  বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে বিশেষ সুবিধায় মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার পুনঃতপশিল করা হয় ২০২৫ সালে। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না।   আইএমএফের পদ্ধতির আলোকে এসব ঋণ ডিসট্রেস অ্যাসেট বা দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়। উচ্চ খেলাপির কারণে গত বছর ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৫ সালে দেশীয় মালিকানার ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক লোকসান করেছে।  বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে। ঋণের টাকা আদায় করতে না পারলেও আমানতকারীকে নিয়মিত সুদসহ টাকা ফেরত দিতে হয়। আবার আয় খাতে নেওয়া সুদের ওপর সরকারকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর পরিশোধ করা হয়েছে। এখন সেই সুদ মওকুফ করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। অথচ ইতোমধ্যে সুদ পরিশোধ করেছেন, এ রকম গ্রাহকও এখন রাজনৈতিক পরিচয়ে এ সুবিধার জন্য আসছেন। এভাবে চললে ব্যাংক খাত টিকবে কীভাবে– প্রশ্ন রাখেন তিনি।   বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতিমালা করে থাকে। এখন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক দেখবে, ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করছে না। সে আলোকে ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ব্যাংক যখন দেখবে ঋণ পরিশোধ না করে প্রাডো নিয়ে চলেন; ঠান্ডা লাগলেও চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড-ব্যাংকক যান– এ রকম খেলাপির জন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

মারিয়া রহমান জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে ৯২ বার সমন্বয়, বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত

শিল্প উৎপাদনে ধাক্কা: প্রবৃদ্ধি কমে ঋণাত্মক, প্রভাব পড়েছে জিডিপিতে

ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে নেপাল রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার

ছবি: সংগৃহীত
বাজার পতনের মধ্যেও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় ৯ প্রতিষ্ঠান

দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পতন হয়েছিল প্রায় ২৬ পয়েন্ট। এর ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) পতনের মাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪৪ পয়েন্টে। টানা এই পতনের মধ্যেও রোববার ৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায়, অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূল্যবৃদ্ধির ঘরে গিয়ে লেনদেন হয়েছে এসব শেয়ারের দর।   সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের, যার ইউনিট দর ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সায়। দিনভর ফান্ডটির প্রায় ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮৮টি ইউনিট হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।   এ ছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৯.৮১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৬০ পয়সায়। কোম্পানিটির দিনভর প্রায় ১৪ লাখ ৯১ হাজার শেয়ারের হাতবদল হয়, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।   ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর ৯.৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ৮.৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৮.৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকায়।   এর বাইরে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (আইএলএফএসএল) শেয়ারদর সমান হারে ৮.৩৩ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে ১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) শেয়ারদরও একই হারে ৭.৬৯ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৪০ পয়সায় উঠেছে।   বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সার্কিট ব্রেকারে স্পর্শ (হল্ট) করা তালিকার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মিউচুয়াল ফান্ড এবং তুলনামূলক কম মূল্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে কয়েকটি জেড ক্যাটাগরিভুক্ত। সার্বিক বাজারে দরপতনের মধ্যেও এসব কম মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সেগুলো দিনের সর্বোচ্চ সীমায় উঠে লেনদেন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

উৎসে কর মনিটরিং জোরদার, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এনবিআরের বিশেষ টিম

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবি

ছবি : সংগৃহীত
জাপানের বিশাল বাজারেও কেন বাড়ছে না বাংলাদেশের রপ্তানি?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলেও আরেক বড় বাজার জাপানে মোটেই ভালো করতে পারছে না।   জাপানে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় এগারো বছর ধরে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই আটকে আছে।   এমনকি জাপানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) পরও রপ্তানি বাড়ছে না; উল্টো কমেছে।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। আর রপ্তানির ওই পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম।   গেল অর্থবছর জাপানে পণ্য রপ্তানি করে পাওয়া ১৩৬ কোটি ডলারের মধ্যে ১১৬ কোটি ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে আয়ের অংক ছিল ১৪১ কোটি ১৬ লাখ (১.৪১ বিলিয়ন) ডলার। আর ২০২৫-২৬ আর্থবছরে জাপানে পণ্য রপ্তানি করে ১৬৭ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল অন্তবর্তী সরকার।   বাংলাদেশের ইতিহাসে জাপানে পণ্য রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা এসেছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। ওই আর্থবছরে জাপানে ১৪৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১২৫ কোটি ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।   বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্খিত সুফল মেলেনি। অথচ এ বাজারে তৈরি পোশাকেরই চাহিদা রয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মত। এর মাত্র ৫ শতাংশের মত রপ্তানি করতে পারেন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা।   বিশ্বের অন্যান্য বাজারের মত জাপানে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে পারলে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ অবস্থান আরও মজবুত হত।   বিগত অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর মে মাসে জাপান সফর করেন। ওই সফরে রপ্তানি বড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।   সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করে বাংলাদেশ। কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের চুক্তি এটাই প্রথম।   বাংলাদেশের তখনকার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও টোকিওতে ওই চুক্তি সই করেছিলেন।   ইপিএর ফলে জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যের শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তার পরও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে না। অথচ দেশ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তা আসে জাপান থেকেই।   তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে যতটা নজর দিয়েছি, বড় মার্কেট হওয়ার পরও জাপানের দিকে তেমন মনোযোগ দিইনি।   এতে সরকারের দিক থেকে যেমন ব্যর্থতা আছে, আমাদের রপ্তানিকারকদের দিক থেকেও আছে। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে জাপানে আমাদের রপ্তানি অবশ্যই বাড়ত; সেটা ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছত হয়ত; কিন্তু আমরা দেড় বিলিয়ন ডলারও ছাড়াতে পারিনি।   এই অবস্থা পাল্টাতে জাপানের সঙ্গে করা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি খুব বেশি সুফল দেবে বলে মনে করেন না প্লামি ফ্যাশনস ও জেসিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক।   তিনি বলেন, জাপানে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাকে আমরা আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছি। তবে এই চুক্তির ফলে পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন একটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।   ঘরে বসে থাকলে রপ্তানি বাড়বে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বড় মার্কেট হওয়ার পরও কেন এতদিন রপ্তানি বাড়েনি; কোথায় ভুল ছিল, সেটা উদঘাটন করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে আমাদের এই বাজার ধরতে হবে।   সামগ্রিকভাবে রপ্তানির অবস্থা যে ভালো নয়, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী বলেন, “ট্রাম্পের শুল্কসহ নানা কারণে গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ২ শতাংশের মত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের আগের অবস্থা আর নেই। এখন জাপানের বাজারটা যদি ভালো থাকত, তাহলে কিন্তু সামাল দেওয়া যেত।   একই সুরে কথা বললেন ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান, যিনি বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাপানে আমাদের রপ্তানি পণ্যের ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট সংযোজন করতে হবে। যেমন—জাপানে প্রচৃর স্পোর্টস আইটেমের চাহিদা রয়েছে; আমাদের সেগুলো রপ্তানি করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকায় আমরা যেসব পোশাক রপ্তানি করি, সেগুলো দিয়ে জাপানের মার্কেটে সুবিধা করা যাবে না।   অনেকে বলেন, জাপানিরা বেশি দামের পোশাক ব্যবহার করে; এ ধারণা ঠিক নয়। তারা এখন কম দামি পোশাকও কেনে। মোদ্দা কথা হল, তাদের চাহিদা ও পছন্দের পোশাক রপ্তানি করতে হবে। তাহলে রপ্তানি বাড়বে।   বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “জাপানের ফ্যাশন অগ্রগামী এবং মান সচেতন বাজার যদি আমরা ধরতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য নতুন পথ খুলতে পারে।   যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, সেটা ঠিক। কিন্তু সেবা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ইপিএর আলাদা গুরুত্ব থাকছেই।   “আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এতদিন জাপানের বাজার ভালোভাবে ধরতে পারিনি। এখন এই বাজারের দিকে নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইপিএর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।”   তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এই চুক্তিতে একটি সুখবরও রয়েছে। চুক্তির আগে জাপানের বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করতে হত। অর্থাৎ, জাপানে কোনো পণ্য রপ্তানি করতে হলে ওই পণ্যের কমপক্ষে দুটি ধাপ বাংলাদেশে সম্পন্ন হতে হত।   “এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য সিঙ্গেল-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করেই রপ্তানি করা যাবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে যে কোনো একটি উৎপাদনের ধাপ সম্পন্ন হলেই ওই তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে রপ্তানি করা যাবে। আমাদের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা।”   মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপান ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও বর্তমানে খুব অল্প পণ্যই সেখানে রপ্তানি হচ্ছে।   “বাংলাদেশকে এর পুরো সুবিধা পেতে হলে নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি।"   প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের দেশ জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ নিতে হবে সরকার ও রপ্তানিকারকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।   “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। আর সেজন্য যা যা করা দরকার তা সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে করতে হবে।   নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে ওঠা জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতির এই বিশ্লেষক।   রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইপিএ না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে সমস্যা পড়ত বাংলাদেশ। কারণ যেসব পণ্য এখন শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, চুক্তি না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হত।   তিনি বলেন, জাপান একটি উন্নত দেশ এবং বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী দেশ। তাই জাপানের সঙ্গে ইপিএ অন্য দেশগুলোকেও বাংলাদেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বেড়েছে ইন্টারনেট গ্রাহক

ছবি : সংগৃহীত

ছুটি না নিয়েই অস্ট্রেলিয়া, চাকরিচ্যুত এনবিআরের প্রথম সচিব

ছবি : সংগৃহীত

ইউএস-বাংলার ডানায় রেকর্ড বিনিয়োগের হাওয়া, বিদেশিদের টেক্কা দিতে চায়

0 Comments